শনিবার, ২৯ জুলাই, ২০২৩

স্বপ্ন যদি সত্যি হতো✍️ডা: অরুণিমা দাস

স্বপ্ন যদি সত্যি হতো
✍️ডা: অরুণিমা দাস

সকাল বেলা ঘুম থেকে উঠেই তাতান বললো,গুড মর্নিং বাঘু! উঠে পড়ুন এবার। বাঘুর কোনো সাড়া না পেয়ে তাতান বিছানা থেকে নেমে ওকে খুঁজতে গেলো। দেখলো বারান্দায় বসে আছে বাঘু, লেজটা খালি নাড়ছে। কিরে? চল! ব্রেকফাস্ট করবি। বাঘু চুপ করে রইলো। তাতান গিয়ে ওর গলা জড়িয়ে বললো চল রে! দেখলো ওর চোখ টা ভিজে আছে। কিরে? বনের কথা মনে পড়ছে? ঘাড় নাড়লো বাঘু। তাতান বললো চল টেবিলে চল। তোর জন্য সারপ্রাইজ আছে, কাল বাবা বলছিলো। তাতানের পিছন পিছন চলতে লাগলো বাঘু। টেবিলের কাছে আসতেই সক্কলে বাঘুকে বললো হ্যাপি টাইগার্স ডে।
দেখ সোনা, তোর জন্য কত আয়োজন, মুখ ভার করে থাকিসনে কিন্তু। বাঘু কেঁদে ফেললো, বললো এসব করে কি হবে বলো তো? সেই ছোটবেলা থেকে তোমরা আমায় মানুষ করছো! গুলির আঘাতে লুটিয়ে পড়া এই অবলা বাঘকে তোমরা বাড়িতে এনে সেবা করে বাঁচিয়ে তুলেছো! এটাই আমার জন্য অনেক গো। আজ আলাদা করে টাইগার্স ডে পালন করে আমার পুরনো দিনগুলো মনে করিয়ে দিও না। তাতান যখন পড়ে, দিনদিন বাঘের সংখ্যা কমে আসছে, সুন্দরবন আর অন্য অভয়ারণ্য গুলোতে, খুব কষ্ট হয় শুনে। মানুষকে বড্ড ভয় লাগে,ভয় লাগে যদি তোমাদের থেকে আমায় কেউ ছিনিয়ে নিয়ে চলে যায়! কে ছিনিয়ে নিয়ে যাবে তোকে? আমি যতদিন আছি ফরেস্ট অফিসারের পদে, কেউ তোকে কোথাও নিয়ে যাবে না, তাতানের বাবা বললেন। এখন আয় তোর জন্য খাবার গুলো রান্না করেছে তোর মা, খেয়ে নিবি আয়। আগে আয় কেকটা কাট। একদম দুঃখ করবিনা। আমরা চেষ্টা চালাচ্ছি যাতে তোদের প্রজাতিটা বিলুপ্ত না হয়ে যায়। বাঘের সংখ্যা যাতে না কমে তার চেষ্টা চলছে বুঝলি বাঘু। তোমাদের কাছে আছি বলেই হয়তো এখনো ইতিহাসের পাতায় ঠাই হয়নি আমার, কৃতজ্ঞ আমি তোমাদের কাছে। অনেক বড়ো বড়ো কথা হলো,কেকটা কাট এবার। তাতানের স্কুল, আমার অফিস যাওয়ার আছে। বাঘু আর তাতান দুজনে মিলে কেক কেটে সবাইকে খাওয়ালো। আসছে রবিবার আমরা সুন্দরবনের ইলিশ উৎসবে যাচ্ছি,সবাই খুব মজা করবো। বাঘুকেও ওর বন্ধুদের সাথে কিছুক্ষন সময় কাটাতে দেবো। বাঘু আনন্দে তাতানের পায়ে মাথা ঘষতে লাগলো, তাতানের ঘুমটা ভেঙে গেলো হঠাৎ! এটা কি স্বপ্ন ছিলো তাহলে? উঠে দেখলো পায়ের কাছে টেডি বাঘ টা পড়ে আছে। কাল তাহলে সুন্দরবন নিয়ে পড়ছিল, বাঘের সংখ্যা কমে আসছে, সেটাই বোধয় স্বপ্ন হয়ে দেখা দিলো। মায়ের ডাকে স্কুল যাওয়ার জন্য তৈরি হতে বিছানা থেকে নামলো। মনে মনে ভাবলো সব স্বপ্ন যদি সত্যি হতো কতই না ভালো হতো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ২২ জুলাই, ২০২৩

প্রযুক্তি বনাম ছাপা বই✍️ডা: অরুণিমা দাস

প্রযুক্তি বনাম ছাপা বই
✍️ডা: অরুণিমা দাস

প্রযুক্তির ধাক্কা যতই আমাদেরকে উন্নয়নের পথে এগিয়ে দিক, ছাপা বইয়ের ভূমিকা কখনোই কম হবে না। বই পড়লে যখন চোখের সামনে অক্ষর গুলো ভেসে ওঠে, মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা বৃদ্ধি পায়, কল্পনা শক্তি প্রখর হয়ে ওঠে। আর ওই আইপ্যাড, মোবাইলে যতই পড়ি না কেনো, ব্রেইনে কোনো ইম্প্রেশন সেভাবে তৈরি হয় না। চিন্তা শক্তি, উদ্ভাবনী শক্তির বিকাশ ঘটেনা খুব একটা। সাদা পাতায় কালো অক্ষর সেগুলো মস্তিষ্কে গেঁথে যায় একরকম, কিন্তু কালার ফুল আইপ্যাডের লেখা বেশিদিন ব্রেইনে টিকে থাকে না। আর তাতে মস্তিষ্কের কর্মক্ষমতা হ্রাস পায়, দেখা দেয় আলজাইমার্স এর মত স্মৃতি বিস্মৃত প্রায় রোগ। তাই মস্তিষ্ককে উর্বর রাখতে ছাপা বইয়ের ভূমিকা অনেকাংশে বেশি প্রযুক্তির চেয়ে। আর নতুন বইয়ের গন্ধ নেওয়ার মত আনন্দ কিন্তু কোনো  গ্যাজেট দিতে পারবেনা। তাই নতুন প্রযুক্তি কখনোই ছাপা বইকে ছাপিয়ে যেতে পারবেনা। 

উন্নয়নের পথে চলেছি আমরা ভুলতে বসেছি ছাপা বইকে
মস্তিষ্ক সচল রাখতে হলে আইপ্যাড ট্যাব - প্লীজ  জারা হাটকে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২০ জুলাই, ২০২৩

শিরোনাম - সমস্যা ও তার মোকাবিলা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সমস্যা ও তার মোকাবিলা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সমস্যা নেই, তাহলে কি থাকলো জীবনে? জীবনে চলার পথে অনেক বাধা বিপত্তির সম্মুখীন হতে হয়। প্রধানত সমস্যা ছাড়া জীবনে বড়ো হওয়া যায় না, এগোনো যায় না। সমস্যা আসাটাই স্বাভাবিক, আর সেটার সমাধান করা মানে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়া। চ্যালেঞ্জ নেওয়া মানে নিজেকে বড়ো করা, আরো বেশী পরিণত করা। চলার পথ মসৃণ হলে সেই পথে চলে যেমন আনন্দ নেই, তেমন জীবনে বাধা না থাকলে সেই জীবন খানিকটা মূল্যহীন ও বটে। সমস্যা আসবে, ভেঙে না পড়ে হাসিমুখে তার মোকাবিলা করে এগিয়ে যাওয়াটা লক্ষ্য হওয়া উচিত। তাতে যেমন একটা জয়ের আনন্দ পাওয়া যায়, তেমন আত্মবিশ্বাসও অনেকাংশে বেড়ে যায়। তাই সমস্যা থাকুক, সাথে থাকুক সমাধান ও। তবেই জীবনে কিছু করলাম মনে হবে, আর লড়াই করার ইচ্ছেটাও দ্বিগুণ বেড়ে যাবে। 

"সমস্যা বিনে বৃথা জীবন,থাকুক সাথে সমাধান ও
এগিয়ে চলো জীবন পথে, তুমি যে এক ও অনন্য।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৫ জুলাই, ২০২৩

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

চিন্তাশক্তি,বুদ্ধি কিংবা বিশ্লেষণ ক্ষমতা মানুষের সহজাত। কিন্তু একটি যন্ত্রকে মানুষের মতো বুদ্ধিমত্তা দিয়ে, সেটিকে চিন্তা করানো কিংবা বিশ্লেষণ করানোর ক্ষমতা দেওয়ার ধারণাটিকে সাধারণভাবে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলা হয়। 
কিছুদিন আগেও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স ছিল দূর ভবিষ্যতের একটি কাল্পনিক বিষয়। কিন্তু সম্প্রতি এই দূরবর্তী ভবিষ্যতের বিষয়টি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের অংশ হতে শুরু করেছে। তার প্রধান কারণ, পৃথিবীর মানুষ ডিজিটাল বিশ্বে এমনভাবে অভ্যস্ত হয়েছে যে, হঠাৎ করে অচিন্তনীয় পরিমাণ ডেটা সৃষ্টি হয়েছে এবং সেই ডেটাকে প্রক্রিয়া করার মত ক্ষমতাশালী কম্পিউটার আমাদের হাতে চলে এসেছে। এই ডেটা বা তথ্যকে প্রক্রিয়া করার জন্য বিজ্ঞানী এবং প্রযুক্তিবিদরা এমন একটি পদ্ধতি বেছে নিয়েছে যেটি মানুষের মস্তিষ্কের মতো করে কাজ করে। এটা নিউরাল নেট নামে পরিচিত। সহজভাবে বলা যায় এর একটি ইনপুট স্তর এবং আউটপুট স্তর রয়েছে যার মাঝখানের স্তরটি হচ্ছে ‘লুকোনো’ স্তর।
প্রথমে এই নিউরাল নেটকে ইনপুট এবং তার সাথে যুক্ত আউটপুট ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়। তখন ‘লুকোনো’ স্তরটি এমনভাবে পরিবর্তিত হতে থাকে যেন প্রশিক্ষণের জন্য দেওয়া ইনপুটের জন্য সত্যি আউটপুটটি পাওয়া যায়। একবার প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েগেলে এই নিউরাল নেটকে সম্পূর্ণ নতুন ইনপুট দিলেও সেটি সম্ভাব্য সঠিক আউটপুটটি দিতে পারবে। যত বেশি ডেটা দিয়ে প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে,নিউরাল নেটটি তত ভালো কাজ করবে। একটি স্তর না রেখে একাধিক স্তর দিয়ে এই নেটকে আরো অনেক বুদ্ধিমান করা সম্ভব। তখন নেটটি নিজেই ডেটা ব্যবহার করে শিখে নিতে পারবে। এই প্রক্রিয়ার নাম ‘ডিপ লার্নিং’ এবং বলা যেতে পারে একটি সত্যিকারের আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সবচেয়ে কাছাকাছি একটি প্রক্রিয়া।
কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা প্রয়োগের ক্ষেত্রে প্রধানত  Java, Python, SHRDLU, LISP, CLISP ইত্যাদি প্রোগ্রামিং ল্যাংগুয়েজ ব্যবহার করা হয়।
কার্যকারিতা ও প্রয়োজনীতার ভিত্তিতে ডেভলপাররা তাদের পছন্দসই প্রোগ্রাম ব্যবহার করে থাকেন।
কদিন আগেও আমার পরীক্ষার আগে আমার এক বন্ধু চ্যাট জি পি টি নামক আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর নাম বলে। ওখানে প্রশ্ন টাইপ করে উত্তর পাওয়া যায়। কিন্তু উত্তর গুলো দেখে আমার ঠিক ভালো লাগলো না। ওকে বললাম নিজের ইন্টেলিজেন্স কাজে লাগিয়ে এর চেয়ে অনেক ভালো উত্তর দিতে পারবো আমরা। আর এসব চ্যাট জি পি টি মানুষেরই আবিষ্কার। তো এসব না করে বই পড়ে উত্তর তৈরি করাটাই আসল ক্রেডিট। এসব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স শুনতে বেশ ভালো লাগে কিন্তু ইনবর্ন ইন্টেলিজেন্স এর ভ্যালু অনেক, তাই এসব ভুলে পড়ায় মন দিই চল। পরে বই পরে বন্ধু বলেছিল অনেক ভালো উত্তর দেওয়া আছে।
ওসব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স কাজে না লাগিয়ে নিজের পছন্দের কাজগুলো করলে এমনি ব্রেইন অনেক ডেভেলপড হয়, ইন্টেলিজেন্স বাড়ে।

"ডিভাইস অনেক রয়েছে,পাল্লা দিচ্ছে মানব বুদ্ধিকে
মস্তিষ্ক প্রসূত চিন্তাধারা কিন্তু ইউনিক সবদিক থেকে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 


শুক্রবার, ৭ জুলাই, ২০২৩

শিরোনাম-স্বপ্ন সব সত্যি হোক✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম-স্বপ্ন সব সত্যি হোক
✍️ ডা:অরুণিমা দাস 


নির্ঘুম চোখে স্বপ্নের ভিড়,রাত্রি যেনো কাটে না
যার তরে দেখি স্বপন,সে তো কিছু বোঝে না। 

ছুটছে যে সে টাকার পিছে,মত্ত হয়ে উল্লাসে
তার কথা ভেবে ভিজে আসে চোখ,মুখখানি হয় ফ্যাকাসে।

ক্লান্ত লাগে ভোরের বেলা ভীষণ,ইচ্ছেগুলো হয় না পূরণ
আশায় থাকি বুঝবে একদিন সে, ব্যর্থ না হোক রাতের স্বপন।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১ জুলাই, ২০২৩

কবিতা: বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্মরণে মননে ডা: বিধান চন্দ্র রায়                            কবিতা: বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে কোলকাতা
পায়ে হেঁটে এলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন তাঁর সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতো না মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করতে মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই কিন্তু হাল ছাড়েননি ডা:বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করলেন টানা আবেদন
দুবছরে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরলেন দেশে,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম তাঁর মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যখিত হয় এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...