আলোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
আলোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২

ধৈর্য্যের মাস্টার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ধৈর্য্যের মাস্টার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনের পথে চলতে গিয়ে অনেক ঘটনার সম্মুখীন হয়ে থাকি আমরা। কোনো কোনো সময় জীবন আমাদের মাস্টার হয় তো কোনো সময় আমরা জীবনের মাস্টার হই। ধৈর্য্য আর সময় এই দুটোর থেকে বড়ো মাস্টার বোধহয় আর কেউ হয়না। প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলতে চলতে যখন হতাশার অন্ধকারে ডুবে যাবো মনে হয় তখনই শুরু হয় ধৈর্য্যের পরীক্ষা। এই পরীক্ষায় পাস করতে পারলে জীবনে নতুন এক অধ্যায়ের সূচনা হয়। আর এরকম অনেকবার পরীক্ষা দিতে দিতে কখন যে ধৈর্য্যের মাস্টার হয়ে যাই বুঝতে পারিনা। উদাহরণ স্বরূপ প্রথম প্রথম দিন গুনতাম কবে এসব ডিউটি প্রেসার শেষ হবে,পড়াশোনা শেষ হবে! এক সময় মনে হতো আর পারবোনা চাপ নিতে। কিন্তু ওই যে ধৈর্য্য সব সময় মনে করিয়ে দিত আমি আছি, পারতে তোমাকে হবেই। থেমে গেলে চলবে না! ব্যাস ওভাবেই অনেক পরীক্ষা দিতে দিতে মাস্টার হবার সুযোগ পেলাম। এখন জুনিয়র দের পরীক্ষা নেবার পালা, ওদেরকে ধৈর্য্যবান করে তোলার চ্যালেঞ্জ এবার শুরু। এখন আর ডিউটিকে চাপ মনে হয় না, বরং বাড়ীতে বসে থাকতে বোর লাগে। ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করি ধৈর্য্যের হাত ধরে যাতে সুপার স্পেশালিটি টা উতরে যাই, যদিও সে এক লম্বা যুদ্ধের প্রস্তুতি তবুও দেখা যাক কী হয়!

যেদিন মানুষ অভ্যাসের দাস হয়ে ওঠে সেদিন থেকে তার ধৈর্য্যচ্যুতি হবার সম্ভাবনা অনেক কমে যায়। মাথা উচু করে চলতে শেখে, কোনো কিছুই তাকে আর দমিয়ে রাখতে পারেনা। জীবনের চড়াই উতরাই পার হয়ে যায় নিমেষেই। অন্ধকারে চলতে চলতে অভ্যাস হয়ে যায় আর একদিন আলোর দেখা ঠিক ই মিলে। ধৈর্য্য আর সময় এই দুটো হাতিয়ারই জিতিয়ে দেয় তাকে।

"জীবনে পরীক্ষা দিতে দিতে ছাত্র থেকে যখন হবে ধৈর্য্যের মাস্টার
বুঝবে কোনো পরিস্থিতিই টলাতে পারবেনা তোমায়, পাবে না ভয় আর!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৮ জুলাই, ২০২১

বিষয় : ফ্যাশন। লেখায় : ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় : ফ্যাশন। 

লেখায় : ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট



ঠাকুর বাড়ী, মানে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের বাড়ীর ফ্যাশন এখন বাঙলার স্টাইল। কেমন সেটা? আমাদের বাঙালী সমাজে আটপৌরে শাড়ী পরার রেয়াজ ছিল। অন্তর বাস ছাড়াই। বড়ো জোর বক্ষবন্ধনী বা চোলী ছিল। ঠাকুর বাড়ীর মহিলা প্রথম ব্লাউজ নিয়ে আসে। তার আগে পেটিকোট  বা সেমিজের ব্যাবহার তারা করতো। সেমিজ ব্লাউজ ও সায়ার মিলনে তৈরী। বলতে গেলে বাবু সমাজের সব থেকে উৎকৃষ্ট ফসল নতুন ফ্যাশানে মেতে ওঠা বাঙালী সমাজ। তখন ব্রাম্ভ সমাজের মেয়েরা যেহেতু স্বাধীন চেতা ছিলেন, তার ফলে পরিধানের মধ্যে নতুনত্ব ও আধুনিকতা নিয়ে এসেছিল বলতে গেলে তাই বাঙালী সমাজের  স্টাইল হয়ে গেছে। তখনকার মহিলা দের পামসু আজও সমান জনপ্রিয়। এবার সেই সময়ের ফ্যাশনের দিশা দেখানো এক মহিলার নাম বলি, বাঙলার ফ্যাশন জগতে আজও তার অবদান অনস্বীকার্য। 



রবীন্দ্রনাথের ঠাকুরের  মেজ বৌঠান ও সত্যেন্দ্রনাথের স্ত্রী  জ্ঞানদানন্দিনী দেবী প্রথম আমাদের এখানে শুরু করেন 'বম্বে স্টাইল'-এ  শাড়ি পরা। স্বামীর সঙ্গে অনেকটা সময় তিনি বম্বেতে (বর্তমানে মুম্বই) কাটিয়েছিলেন। সেখানকার শাড়ি পরার স্টাইল এবং গুজরাটি,পার্সি মহিলাদের শাড়ি পরার ধরনে তিনি আকৃষ্ট হন। কুচি দিয়ে পরা শাড়ি এবং বাঁদিকে  আঁচল তিনিই  প্রথম ঠাকুর বাড়িতে আমদানি করেন। এই স্টাইল খুব তাড়াতাড়ি ঠাকুর বাড়ির মহিলা সহ  শিক্ষিত, উন্নত, রুচিশীল  ব্রাহ্মসমাজের  মহিলাদের মধ্যে অত্যন্ত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। পাশাপাশি সাধারণ বাঙালি সমাজের মধ্যেও এই ভাবে শাড়ি পরার প্রচলন শুরু হয়। এবং আজও সেই স্টাইলই  ‘ফ্যাশন ইন’। অন্য কোনও শাড়ি পরার ধরন আজও টেক্কা দিতে পারেনি রবীন্দ্রনাথের মেজ বৌঠানকে।


এমন ভাবে বললে টোপরের বাঙালী স্টাইল। যা গোটা দুনিয়ার কাছে বিশেষ মাত্রা পায়, সেই স্টাইল ,মানে তখনকার হাল পরিধান শিল্প কে পথ দেখিয়ে ছিলেন ভগবান শিব। যোগী শিব বিয়ে করতে যাবেন। কিন্তু ভারতীয় নিয়ম অনুযায়ী শিরস্ত্রাণ চাই। তিনি রেশমি কাপড়ের পাগড়ীর বদলে হল্কা কাঠের মাথার ঢাকা পরতে চাইলেন। বিশ্বকর্মার মাথায় হাত। লোহা লক্করের কাজ করে, এই হল্কা কাজ কেমন করে হবে। অগত্যা মালাকর নামে এক ব্যক্তি জলজ হালকা শর জাতীয় গাছের মধ্যের নরম অংশ দিয়ে গড়ে দিলেন মুকুটের মতো হাল্কা শিরস্ত্রাণ। ওদিকে পার্বতী ও সাদা কিছু পবিত্র মুকুট পরতে চাইলেন। শুরু হল নতুন স্টাইল টোপর আর মুকুট। ভারতের বিভিন্ন যায়গায় বিবাহের সময় এমন কিউ মাথা ঢাকা ব্যবহার হয় সংস্কৃতি হিসেবে। ঠিক তেমনি বাঙলায় ও। কিন্তু কেউ ভাবে না এটি শিব পার্বতী র স্টাইলের ফলে সৃষ্ট একটা চলমান পোশাকের ধারা। 


এমনভাবে জীবনের স্টাইল কোন বিশেষ মুহুর্তে বিশেষ রূপ নেয়। বহুচর্চিত হতে হতে তাই সংস্কৃতি বা স্টাইল অফ ইন্ডিয়া / বেঙ্গল হয়ে যায়। 


শুধু পোশাক নয় নানা বিষয়ে নতুনভাবে কিছু ট্রেন্ড আসে। যেমন এই মুহূর্তে ফ্যাশন বাঙালী সমাজে ঝোলা ব্যাগ কোলাপুরি চপ্পল হাতে সিগারেটের বদলে স্যাক ব্যাগ স্পোর্টস শু । হাতে.... না থাক ওটা নাই বা বললাম। তবে আগের নেশার ফ্যাশন ও এখান পাল্টে ছে । আসলে জীবন বিবর্তন মেনে এসেছে ফ্যাশন । তাই.  .হেতা হুয়া নদী মে হাত ধোলো । (বয়া জলে হাত ধুয়ে নেওয়া) ধন্যবাদ🙏💕

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...