অণু প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণু প্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল, ২০২৬

শিরোনাম - রে'স ক্রিয়েশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - রে'স ক্রিয়েশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সত্যজিৎ রায় ছিলেন বিখ্যাত কবি ও লেখক সুকুমার রায়ের সন্তান। তবে তিনি পিতার পরিচয়ে নয় নিজের অসামান্য ও কালজয়ী সৃষ্টির মাধ্যমে আজও বাঙালির মনে শ্রেষ্ঠত্বের আসন লাভ করেছেন। সত্যজিৎ রায় শুধু বিশ্ববরেণ্য বাঙালি চলচ্চিত্র পরিচালক ছিলেননা,ছিলেন লেখক,
চিত্রনাট্যকার ও শিল্পী। পথের পাঁচালী ও অপু ট্রিলজির মাধ্যমে ভারতীয় সিনেমাকে বিশ্বের দরবারে তুলে ধরেন ও বিশ্বজোড়া খ্যাতি এনে দেন। এছাড়া গুপী বাঘাকে নিয়ে তাঁর বানানো সিনেমাগুলো বারবার দেখলেও কোনোদিন পুরোনো হয়না। ভারতীয় চলচ্চিত্র পরিচালক হিসেবে তিনি প্রথম অস্কার বিজয়ী হয়েছিলেন এবং তাঁর হাতে পুরস্কারও তুলে দেওয়া হয় অন্যভাবে। চলচ্চিত্রের পাশাপাশি সাহিত্যেও তাঁর কিছু কালজয়ী সৃষ্টি রয়েছে। ফেলুদা,প্রফেসর শঙ্কু ও তারিণী খুড়ো এরা কখন যে ছোট থেকে বড় সব প্রজন্মের জন্য প্রিয় হয়ে উঠেছেন তা শুধু সত্যজিৎ রায়ের সৃষ্টির জন্য। শিশুদের জন্যও তাঁর অবদান অবিস্মরণীয়। নানারকম কল্পবিজ্ঞান কাহিনী,রহস্য ও গোয়েন্দা গল্প শিশুমনকে কল্পনার জগতে নিয়ে যেতে অনুপ্রেরণা জোগায়। চলচ্চিত্রে বাস্তবতা ও আধুনিক শৈল্পিকতার ছোঁয়া এনেছিলেন তিনি। নানারকম পোস্টার ও গ্রাফিক ডিজাইন করতেন খুব সুন্দরভাবে ও যত্ন সহকারে। ভবিষ্যতের চিত্র পরিচালকদের জন্য তিনি এক অন্যতম অনুপ্রেরণা। মার্টিন স্কোরসেজি,আকিরা কুরোসাওয়া এবং ওয়েস অ্যান্ডারসনের মতো বিশ্ববিখ্যাত পরিচালকরা সত্যজিৎ রায়ের কাজ দ্বারা অনুপ্রাণিত হয়েছেন। সত্যজিৎ রায়কে নিয়ে অনেক অজানা তথ্যপ্রকাশ হয় নিয়মিত ভাবে,  'বিচিত্রপত্র' নামক এক পত্রিকায়,যার উপদেষ্টা ওনার পুত্র সন্দীপ রায় যিনি আরেকজন বিখ্যাত চলচ্চিত্র পরিচালক। বিচিত্রপত্রের এক প্রবন্ধ বার্ষিকী সংখ্যায় সোনার কেল্লা সিনেমার সমস্ত শিল্পীদের জানা অজানা অনেক তথ্য দেওয়া ছিলো এবং ওই সিনেমা পরিচালনা করার সময়কার অনেক গল্প বলা হয়েছিলো। আজও বিচিত্রপত্র সত্যজিৎ রায়ের সমস্ত ঐতিহ্য বহন করে চলে কখনো গল্পের মাধ্যমে,কখনো বা প্রবন্ধের মাধ্যমে। 
তাঁর সৃষ্টি ও সাহিত্যকীর্তি পাঠকবর্গের মনের বিকাশ ঘটিয়ে চলেছে ও ভবিষ্যতেও চালাবে। 

"তাঁর অনন্য ও অসাধারণ সৃষ্টি করেছে যে তাঁকে অবিস্মরণীয়
রে'স ক্রিয়েশন,আট থেকে আশি সবার মনে প্রভাব ফেলে চলেছে আজও।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১ এপ্রিল, ২০২৩

এপ্রিল ফুল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এপ্রিল ফুল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এপ্রিল ফুল হলো ইংরাজী বছরের এমন একটা দিন(১ লা এপ্রিল),যখন এক মুহূর্তের জন্য হলেও বোকা হতে ভালোবাসেন পৃথিবীবাসী। এ এক সার্বজনীন বোকা বানানোর উৎসব। প্রশ্ন ওঠে? একটাদিন। তারপর সেই পরশ ধরেই এগিয়ে চলে স্মৃতির বস্তা বোঝাই গাড়ি।
পয়লা এপ্রিল। বছরের ৯২ তম দিন। পথ চলা তখনও অনেক বাকি। ১৫৬২। পোপ গ্রেগরি খ্রিস্টানদের জন্য আনলেন নতুন ক্যালেন্ডার। এর আগে পর্যন্ত নতুন বছর পালিত হতো এপ্রিল ১ এ। এই পরিবর্তনের খবর গোটা পৃথিবীর জানতে লেগে গিয়েছিল বিস্তর সময়। মানুষ তখনও এপ্রিল ১ কে কেন্দ্র করেই পাঠিয়ে চলেছে শুভেচ্ছা বার্তা। আর সেগুলোই জমা হয়েছে মজার দিনের গল্প হিসাবে।
এই ছিল গল্প এক। গল্প, কারণ ইতিহাস আজও এই ঘটনার কোনও জ্যান্ত দলিল প্রকাশ করে উঠতে পারেনি।

এবারে গল্প দুই - রোমান মৃত্যুর দেবতা প্লুটো স্ত্রী পারসিফনকে অপহরণ করে আনলেন। এবারে পারসিফনের মা দেবী সেরিস মেয়েকে অনেক খোঁজার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাননা। মেয়ের ঠিকানা তখন পাতালপুরী। সেরিস দেবী হলেও পেরে ওঠেননি মেয়েকে খুঁজতে। এক মায়ের বোকামি স্মরণ করে ১ এপ্রিল পালন করা হয় বলে অনেকে মনে করেন।

ব্রিটিশ লোককথা- ব্রিটেনের নটিংহ্যামশায়ারের 'গথাম' শহর, বোকাদের শহর। তেরো শতকের দিকে নিয়ম ছিল,ব্রিটেনের রাজা যেখানে যেখানে পা রাখবেন তা রাষ্ট্রের সম্পত্তি। গথামবাসীরা শুনলেন রাজা আসছেন শহরে। ঠিক হলো বন্ধ হবে রাজ যাত্রা। তাঁরা কিছুতেই গথামকে হারাবে না। রাজার কানে খবর গেলো। সৈন্য পাঠালেন।
সৈন্যরা এসে দেখেন প্রবেশদ্বার থেকেই সারা শহরে হুলস্থূল কাণ্ড। সব বাসিন্দা বোকার মতন কাজ করে চলেছেন। রাজা বললেন, এমন বোকাদের শাস্তি দেওয়া যায় না। তাই মাফ করে দিলেন। গথাম থেকে গেলো চিরতরে মুক্ত। এই "ট্রিক" স্মরণেই এপ্রিল ফুল। ১৫৩০ সালের ১ এপ্রিল। জার্মানির অগসবারগ শহরে একটা আইনি মিটিং হওয়ার কথা। এই মিটিং নিয়ে তোড়জোড় চলছিল জোরকদমে। কিন্তু মিটিংয়ের দিন তারা জানতে পারলেন খবরটা ভুয়ো।
মিটিং এর ফলাফল নিয়ে সাধারণ মানুষের মাথায় ছিল এক আকাশ চিন্তা। যতই হোক আগামী দিনের আইনি স্বাধীনতা কতটা সাধারণ মানুষের ঝুলিতে, এই নিয়েই ছিল আলোচনা? কিন্তু আমলারা কই? কিছু অত্যন্ত চালাকরা আগে থাকতে এই মিটিং এর ফলাফল জানতে চেয়ে অনেক টাকা এক বাজিকরের কাছে পারিশ্রমিক হিসেবে দিয়ে বসে। পাওয়া গেলো না তাঁকেও। অর্থাৎ টাকা গচ্চা গেলো। এই ঘটনাও হতে পারে এপ্রিল ফুলের উৎস লেখনী।

১৫৭২ সালের ১ এপ্রিল। হল্যান্ডের ডেন ব্রিয়েল শহরটাকে লর্ড আল্ভার স্প্যানিশ শাসন থেকে মুক্ত করে ডাচ বিদ্রোহীরা। এইদিন তারা লর্ড আল্ভাকে পুরো বোকা বানিয়ে ছাড়ে। তাঁকে  স্মরণ করেও এপ্রিল ফুল পালিত হতে পারে। মূলত এই ঘটনার পর অনেক জায়গায় বিদ্রোহ সোচ্চার হয় আর স্পেনের কাছ থেকে স্বাধীনতা আদায় করে হল্যান্ড। 
বড়ো বড়ো দেশে এরকম ছোট ছোট ঘটনা ঘটেই থাকে। এরকম ছোট ছোট ঘটনাই আজ একত্র হয়েছে। রিইউনিয়ন। অনেকাংশ সহমত হবেন কি না জানিনা,এরকম বোকা বনে যাওয়ার ঘটনা গুলোই দু কলি হাসিয়ে তোলে কখনও,মনের অজান্তেই।
তবে বর্তমানে এই দিবস পালনের যৌক্তিকতা কি আদৌ আছে? প্রশ্ন যুক্তিবাদীদের। মানুষকে মিথ্যা বলে ঠকানো বা বোকা বানিয়ে মজা পাওয়া মানেই বোকামি। মিথ্যা বলা কোনও সভ্য সমাজ মেনে নেয়না। তাই মিথ্যা বলে মানুষকে বোকা বানানো কোনও উৎসবের নামান্তর হতে পারেনা। পরিশেষে খেয়াল রাখতে হবে এত্ত রোম্যান্টিসিজম অন্য কারও আবেগে আঘাত না করে বসে। যাঁরা অধীর আগ্রহে থাকেন কীভাবে এই দিনে কাছের জনকে বোকা বানাবেন, তাঁদের জন্যে এই শেষটুকু।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

শিরোনাম -যোগ বিয়োগ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম -যোগ বিয়োগ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

জীবনে প্রাপ্তি অপ্রাপ্তির খাতা খুলে বসতে গেলে মনে হয় যোগের খাতাটা যদি পূর্ণ থাকতো, আর বিয়োগের খাতা যদি ফাঁকা থাকতো কতই না ভালো হতো। কিন্তু শুধু প্রাপ্তির আনন্দে মেতে থাকলে অপ্রাপ্তির দুঃখটা অনুভূত হয়না ঠিক। প্রাপ্তিতে যেমন আনন্দ থাকে, তেমনি অপ্রাপ্তির দুঃখটাও অনেক কিছু শিখিয়ে যায়। জীবনে সব পেয়ে গেলে, সব আনন্দ যোগ হতে থাকলে বিয়োগের হিসেবে যে গরমিল থেকে যাবে। তাই জীবনে কিছু জিনিস যা নিজের জন্য ক্ষতিকর সেটা বিয়োগ হয়ে যাওয়াই শ্রেয়। যোগ আর বিয়োগের হিসেবে কখন যে পরিণত হয়ে সিড়িভাঙ্গা অঙ্ক কষে ফেলবো সেটাও বুঝতে পারা যাবেনা। ঝড় ঝাপটা সামলে জীবনে বড়ো হতে হতে বয়সের অঙ্কের যোগ বিয়োগে কেউ সাবলীল হয়ে উঠবে সেটাও একটা বড়ো ব্যাপার। জীবনে শেখার কোনো শেষ নেই, তাই যোগ বিয়োগ করতে করতে যখন কোনো অপ্রাপ্তি উপরওয়ালা পুষিয়ে দেন দ্বিগুণ ভাবে তখন যোগ বিয়োগ ছাড়াও গুণের অঙ্ক টাও শেখা হয়ে যায় নিজের অজান্তে। ভরসা থাক নিজের ওপরে, ঈশ্বরের উপরে। ঈশ্বরের সাহায্য ছাড়া জীবনে যোগ বিয়োগ গুণ ভাগ কোন কিছুই করা সম্ভব নয়। 

"যোগ বা বিয়োগ হোক কিম্বা হোক সিড়িভাঙ্গা শক্ত হিসেব
নির্ভয়ে কষে যাও,তবেই শিখবে জীবনের মানে- এই তো বাস্তব।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...