বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্যের অনুভূতি গুলো একটু বেশিই আলগা হয়ে পড়েছে। এখন রাস্তায় দেখা হয়ে সুপ্রভাত বা অন্য কিছু অভিবাদন জানানোর চেয়ে মোবাইলে উইশ করাটা বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাস্তায় কোনো কিছু ঘটলে সেটা নিয়ে এগোনোর আগে মানুষ সেলফি তুলে ধরছে। কাউকে কিছু দান করলে আগে ফেসবুকে জানানো চাই। নিজের মনে খুশি হবার থেকে সো অফ করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়াটা শ্রেয় মনে করছে আজকাল। মি টাইম এখন স্ক্রীন টাইমে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। আর ফ্রী টাইমে মোবাইল আইপ্যাড ঘাটছে কিন্তু একটু কাছে পিঠে হেঁটে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। এতে শুধু সমাজ থেকে দূরে থাকছে শুধু তাই নয়, অনেক কিছু ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধছে। ব্যস্ততা বেড়েছে অনেকটাই কিন্তু তার মধ্যেও যে প্রাণ খুলে বাঁচা যায় সেটাই ভুলতে চলেছি আমরা। ছোট ছোট খুশীর মুহূর্তগুলো সেগুলো শুধু ক্যামেরাতেই বন্দী থাকেনা, ইন্সটাগ্রামে রিল না বানানো অব্দি যেনো মনে একটা অশান্তি থাকে। তাই বড্ড বেশী সামাজিক হচ্ছি মনে হচ্ছে কিন্তু আদপে মানুষের সাথে যোগাযোগ কমছে। ব্যস্ততা শুধুই অজুহাত, ইচ্ছে করলেই খোঁজ খবর নেওয়া যায় কিন্তু নেই সময় আর মানসিকতা সেসব করার। সহানুভূতি গুলো যেটুকু রয়েছে তাও হয়তো একদিন আদিযুগের না শোনা শব্দে পরিণত হবে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে সকলকে।

"মানসিক দূরত্ব বেড়েছে,অধিকমাত্রায় হতে গিয়ে সামাজিক
সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে তাই অনুভূতির সাথে সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কনফিউশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কনফিউশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

হ্যাঁরে হাসো সব রেডী তো? বেরোতে হবে তো এবার। হ্যা সরু দি সব রেডী। তা এই বড়ো ব্যাগটা নিয়েছিস কেনো? আরে এই ব্যাগেই তো তোমার ভক্তদের পাপ পূণ্যের হিসেব আছে। সবাই ওই অঞ্জলীর সময়ে এসে দেবী এই বছর পাশ করিয়ে দাও,পরের বছর ভালো করে পড়বো এসব বলবে আর তুমিও গলে যাবে এসব হবেনা। না রে হাসো, এবারে আমি স্ট্রিক্ট হয়ে গেছি,তাই ওসব কথায় ভুলবোনা ভেবেছি। হাসো বললো এই তো কদিন আগে ঘুরতে গেছিলাম ওখানকার হাল হকিকত দেখতে,তো কিছু বাড়িতে উঁকি মেরে দেখি কিছু খোকা খুকী ফোন নিয়ে ব্যস্ত,এক জায়গায় তো দেখি বই থেকে আলো ঠিকরে এক খুকীর মুখে পড়ছে,ভাবলাম লেডি বিদ্যাসাগর হবে বোধহয়! ওমা কাছে গিয়ে দেখি সে ট্যাবে ওয়েব সিরিজ দেখছে তাও বইয়ের মাঝে লুকিয়ে। এদিকে দুদিন পরে তার নাকি ফাইনাল পরীক্ষা। কিকরে বুঝলি যে ওর পরীক্ষা? তা তো খুব সহজ দিদি,ওনারা যে যেমন দাবী জানান আমিও ডায়েরীতে নোট করি। তাদের লিস্টও বানিয়েছি। কেউ বলছে কুল খেয়েছি ক্ষমা করে দাও দেবী! তোমায় আরো বড় কুল দেবো শুধু পাশটুকু করিয়ে দাও। কেউ আবার বইপত্রে ফুল রেখে দিয়েছে তোমার পুজোর,এসব করে তোমাকে ফুল বানিয়ে পাশ করে যাওয়ার ধান্দা। আর এই মামনি যে ট্যাব দেখছেন বইয়ের ভেতরে তিনি দুসপ্তাহ আগেই জানিয়েছেন পড়া ভালো হয়নি,এবারটা শুধু উতরে দাও দেবী। সেই দু সপ্তাহ হিসেব করেই বুঝেছি পরশু ওনার পরীক্ষা।
-বা হাসো তুই তো বেশ স্মার্ট হয়ে উঠেছিস দেখছি।
- হে হে,তা হয়েছি তোমার সাথে থেকে।
- আসলে কি বলতো? আমায় বোকা ওরা বানাচ্ছে,সে বানাক কিন্তু নিজেদের যেনো বোকা না বানায়। আর ওদের কি দোষ দেবো বলতো? এখন তো পড়াশোনা ধরন ধারণ এত চেঞ্জ হয়েছে ওরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে পড়াশোনার প্রতি। আগেকার দিন কি আর আছে বল! ওদের উচিত বইপত্র আমার কাছে না দিয়ে ফোন ট্যাব জমা রাখা। কিন্তু বাবুদের তো ওসব ছাড়া চলবেনা। ওনারা আমায় দেখার নাম করে বাড়ী থেকে বেরোবেন তারপর বাইক করে ঘুরবেন নিজেরা আর ইচ্ছে হলে প্যান্ডেলে ঢুকে দয়া করে সেলফিতে আমায় জায়গা দেবেন। আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে যাই আমি কি বিদ্যার দেবী নাকি প্রেমের দেবী! এদিকে বিশ্বকর্মাদা এসে বলে গেছেন মোবাইল জমা নাকি ওনার পুজোর দিন করা উচিত। উনি নাকি ওসব নিয়ে ডিল করেন। তাই আমিও বেশী কথা বাড়াইনি। যে যা ভালো বোঝে তাই করুক।
- তা ঠিক বলেছো দিদি।
- তার চেয়ে চল আমরা বরং পুজোটা ভালো করে কাটিয়ে আসি। ওদের জ্ঞানচক্ষু যাতে খোলে সেই আশীর্বাদ করি। হ্যা আর ফলমূল দেখে খেতে হবে বুঝলি! মৌচাক সিনেমার নীপা নাম শুনেছিলাম,
এখন নাকি সেই নামের ভাইরাস এসেছে শুনলাম। তাই সাবধানে থাকতে হবে সবাইকে। আর ওখানে নাকি বইমেলা শুরু হয়েছে, তাই যখন ফিরবো তোর এই বড়ো ব্যাগে বিভিন্ন স্বাদের বইপত্র নিয়ে ফিরবো।
হ্যা দিদি তাই চলো,প্যান্ডেল সব রেডী আমাদের আসার অপেক্ষায় সবাই বসে আছে।
সবাইকে জানাই সরস্বতী পুজোর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ডিজিটালাইজেশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 ডিজিটালাইজেশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আগেকার দিনের কথা মনে পড়লে দেখা যায় তখন এত আধুনিক প্রযুক্তি ছিলোনা বলে মানুষের মধ্যে একটা আবেগ ছিলো,পরস্পরের মধ্যে কুশল বিনিময় হোক কিংবা নিজেদের খবরাখবর রাখা সবটাই হতো অযান্ত্রিক ভাবে। বিজ্ঞান যত উন্নত হয়েছে,তত মানুষকে দিয়েছে বেগ আর কেড়েছে আবেগ। এখনকার দিনে একটু কিছু হলেই রিলসের বন্যা চলে। ভিডিও কলের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেওয়া চলে। আত্মিক টানটা কোথাও যেনো একটু থমকে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত সবাই,মোবাইল আর ট্যাব হয়ে উঠেছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। বাচ্চারা খেলাধুলো ভুলে মাঠে যাওয়া ভুলে মোবাইলে গেম নিয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে যাচ্ছে,এতে চোখ ও মন দুই ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি জিনিস প্রতিফলিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। খুব কম জন আছে যারা নিজের কথাগুলো নিজের মধ্যে রাখে,শো অফ করেনা। সত্যি কোথাও একটা যেনো একাকীত্ব গ্রাস করছে আজকের জেনারেশনকে,মোবাইলকে তারা বন্ধু ভেবে অনেকের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। স্ক্রীন টাইমটা বেশী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সরাসরি সাক্ষাতের সময় কম হচ্ছে। এক ফোনেই খোঁজ নিয়ে ডিজিটাল সৌজন্যবোধ প্রদর্শন করা হয়। চিঠির যুগ এখন আর নেই,ডাকবাক্সগুলো একাকী দাঁড়িয়ে থাকে ধুলো মেখে। দূর হয়তো কাছে এসেছে যান্ত্রিক ভাবে,কিন্তু মনের দূরত্ব বেড়েছে মাইল খানেক। তাই মানুষ একা হয়ে পড়েছে বড্ড, মিশতে ভুলে যাচ্ছে ডিজিটাল হয়ে গিয়ে। আগেকার মতো আড্ডা চলেনা,চলে গুগল মিট। তাই একা থাকাটা অভ্যেস হয়ে গেছে কিন্তু সংজ্ঞা কিছুটা বদল হয়েছে ডিজিটাল যুগের ভরসায়। 

"উন্নত মানের যান্ত্রিক জীবন যাপনে একাকীত্বের সংজ্ঞা বদলে গেছে 
দিনের শেষে বন্ধু মোবাইল ট্যাব,আত্মিকতা সৌজন্য সাক্ষাত সব দূর হটেছে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

মাঠের আত্মকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মাঠের আত্মকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমি এক ফাঁকা মাঠ এখন, একাই রয়েছি কয়েক বছর হলো। আগে কিন্তু এরকম ছিলো না জানেন! সকাল বিকেল হই হই করতো এখানে বাচ্চা আর বুড়োদের দল। বাচ্চারা খেলতে আসতো,কেউ ব্যাট বল কেউ ডাং গুলি কেউ বা কবাডি হাডুডু। তাদের লাফালাফিতে হাসির কলতানে সবসময় মুখর হয়ে থাকতাম। ধীরে ধীরে ওদের আসা কমতে লাগলো আর সাথে কমতে লাগলো আমার পরিসীমাও। এখন আমি অনেকটা ছোটো হয়ে গেছি, একপাশে আমার বুক ফুঁড়ে উঠে এসেছে বড় বড় ফ্ল্যাট বাড়ি তো আরেকপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ। বাচ্চা গুলো আর আসেনা, লাফিয়ে বেড়ায় না। তারা সব দামী দামী মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত, ব্যাট বল ডাঙ গুলি এগুলো ওদের কাছে পুরোনো যুগের খেলা হয়ে গেছে। ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে বসে যখন ফোন ঘাটে তারা, ভিডিও গেম খেলে কখনো বা ভারী ব্যাগ পিঠে করে স্কুল টিউশন ছুটছে। তখন কত ইশারা করে বলি ওদের, যে আয় তোরা খেলতে আয়, একা থাকতে আর ভালো লাগেনা। কানে কি যায় তাদের এসব কথা! সব মনোযোগ তখন স্ক্রীনের দিকে। আজকাল সবাইকে কেমন অচেনা লাগে, মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় সবাই। কেউ দু দণ্ড এসে বসেও না। কাকে বলি আর মনের কথা তাই লিখে চলি ফাঁকা বুকের ওপর নিজের জীবনের কথা। 

"বড্ড ফাঁকা মাঠ আজ, খেলা ধুলা সব মোবাইলে বন্দী
আবার যাতে ভরে ওঠে এই প্রান্তর, জানা কি রয়েছে কোনো ফন্দি?"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আশাপূর্ণা দেবী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আশাপূর্ণা দেবী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আশাপূর্ণা দেবী নামটি শুনলেই মনের এক কোণে আশার সঞ্চার হয় কোথাও। আজ এই বিশিষ্ট লেখিকার জন্মদিনে কিছু লিখতে গিয়ে কোথাও যেনো কলম থমকে দাঁড়াচ্ছে। এত বড় মনের লেখিকা জন্মেছিলেন কোলকাতাতে, কিন্তু কোনোদিন বিদ্যালয়ের মুখ দেখেননি। পরিবারে শিল্পচর্চা ছিলো বলেই হয়তো তাঁর কলম এত বলিষ্ঠ ছিলো। প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও মানবিকতার শিক্ষায় তিনি দীক্ষিত ছিলেন। তাইতো তার কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছিলো প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা,বকুলকথার মতন উপন্যাস। যদিও তিনি ছোটোদের গল্প লেখার মধ্যে দিয়ে লেখার জগতে প্রবেশ করেছিলেন,তারপর ধীরে ধীরে উপন্যাস বড়গল্প এইসব লেখার মধ্যে ডুব দিয়েছিলেন। বাইরে না বেরিয়েও নারী জীবনের অনেক কথাই তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়, তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা,ত্যাগ এসবের কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। পুরুষের মনের অন্তর্দ্বন্দ্বও প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কলমের আঁচড়ে। তবে সব লেখাই ছিলো সহজ সরল ও বোধগম্য।
তাঁর লেখা 'প্রথম প্রতিশ্রুতি' এই উপন্যাসের জন্য তিনি জ্ঞাপীঠ পুরস্কার পান। এছাড়াও পদ্মশ্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্য পুরস্কার, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার এবং এরকম আরও অনেক কিছু উপাধি পেয়েছিলেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য আজও বাঙালী তাঁকে মনে রেখেছে আর ভবিষ্যতেও রাখবে এই আশা রাখি।

"বিশিষ্ট লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন
প্রতিশ্রুতি থাক গল্পপড়া ও সাহিত্যচর্চার,নিয়োজিত হোক প্রাণমন"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম-শুভারম্ভ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-শুভারম্ভ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছর শেষে আবার এক নতুন বছরের আগমন। ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলা এক এক ধাপ করে। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে আগের বছরের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার একটা সুযোগ। সময় মতো খাওয়া দাওয়া করা। বেশী করে ফল ও জল খাওয়া,কেউ কিছু বাজে মন্তব্য করলে উত্তেজিত না হওয়া এসব রেজোলিউশন নিয়েছি। পড়াশোনায় ফাঁকি দেবোনা,বেশী গল্পের বই কিনবোনা,আরও বেশি কেস রিপোর্ট পাবলিশ করতে হবে,লিখতে হবে সুযোগ পেলে এসব অনেক কিছুই ভেবেছি জানিনা কতটা রাখতে পারবো কথাগুলো! বদমাইশি বুদ্ধিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখবো,জাঙ্ক ফুড,ফ্রায়েড ফুড কম খাবো এসব হরেক রকম চিন্তাভাবনা করে চলেছি। এক বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে,মানিয়ে নিয়েছি কিছুটা আর বাকিটা চেষ্টা চলছে। নতুন জায়গায় নিজেকে সেফ মার্ক করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
আজ আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন,কল্পতরু উৎসব। এইদিন শ্রীরামকৃষ্ণদেব কল্পতরু ভাব নিয়ে সকলের ইচ্ছে পূরণ করেন।
সকলকে জানাই হ্যাপি নিউ ইয়ার ও কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা। ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে ভালো কাটুক সবার এই আশাই রাখি।

"অধরা স্বপ্নেরা দিক ধরা,ইচ্ছেডানারা পাখনা মেলো
পূরণ হোক সবার স্বপ্ন,মনের কথাগুলো বলেই ফেলো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

আমার অকাজের লিস্টি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার অকাজের লিস্টি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়।

তালিকা নিম্নরূপ -

অতঃপর মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি - সাতোশি ইয়াগিসাওয়া
আরক্ত ভৈরব - হিমি মিত্র রায়
কে সেই হত্যাকারী - মহুয়া ঘোষ
কালিগুণীন ও বজ্রসিন্দুক রহস্য - সৌমিক দে
কামোগাওয়া রেস্তোরায় আপনাকে স্বাগতম - হিসাশি কাশিওয়াই
একডজন পৌরাণিক - সমুদ্র বসু
হাসতে হাসতে খুন - পূর্ণেন্দু পত্রী
কুসুমপুরে কিডন্যাপ - সুমন্ত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
গোয়েন্দা শিখা - প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
দধীচি - তমোঘ্ন নস্কর
ফারাওয়ের অভিশাপ - নন্দিতা মুখোপাধ্যায়
চতুষ্পাঠী - স্বপ্নময় চক্রবর্তী
বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত
কপিলাবস্তুর কলস - প্রীতম বসু
রামায়ণ রহস্য - সিজার বাগচী
চিলেকোঠার ঘর - রাস্কিন বন্ড

এছাড়াও রয়েছে পূজাবার্ষিকি - সর্বভূতেষু,
মাসিক পত্রিকা,কিছু অর্ধসমাপ্ত বই। আগামীতে আরো পড়ার ইচ্ছে রইলো।


সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - প্রাপ্য✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - প্রাপ্য
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি তখন মনে পড়ে আরে!মূল্যবান মানুষকেই তো সময় দেওয়া হলোনা। দৌড়ঝাঁপ,ওটি,রাউন্ড,
পেশেন্ট পার্টি মিট এতকিছুর পরেও কিছু সময় তো নিজেকেও দেওয়া দরকারী। তখন খুলে ফেলি ডায়েরীর পাতা,লেখা হয় দিনলিপি। আয়নার সামনে দাড়িয়ে তাই খানিক কথা বলি নিজের সাথে,এর চেয়ে ভালো সঙ্গী কেউ যে হতেই পারেনা। আত্মোপলদ্ধির খুব দরকার যে,নাহলে নিজের ভুলত্রুটি গুলো সংশোধন করার সুযোগ হারিয়ে ফেলবো। তাই চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত নিজের সাথে,নিজেকে আরও উন্নত করতে হবে,কারোর থেকে এগিয়ে বা কাউকে ঠকিয়ে নয়,নিজের বর্তমান অবস্থার থেকে আরো উন্নতির পথে নিয়ে যেতে হবে নিজেকে। নিজেকে ভালো রাখতে না পারলে অন্যদেরও ভালো রাখা যায়না। এভাবেই প্রাপ্য সময় নিজেকে দিয়ে কিছু অসমাপ্ত গল্প লেখা হবে,রোজকার মতন। 

"কলমের কালি খানিক হলেও বাঁচিয়ে রেখো
রঙিন খামে আপনার ঠিকানায় চিঠি লিখো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপরিবর্তিত✍️ ডা: অরুণিমা দাস



 শিরোনাম - অপরিবর্তিত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে চলার পথে নানা রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সকলকেই। সেটা মেনে নিতে গিয়ে নিজের পরিবর্তন করা যাবেনা কোনোদিন। কোনকিছুর বিনিময়ে নিজের সোজা মেরুদন্ডকে নত হতে দেওয়া যাবেনা। এসবের জন্য অনেক কথায় শুনতে হতে পারে কিন্তু অবিচল থাকতে হবে নিজেকে। একটা প্রিন্সিপাল থাকা উচিত জীবনে, যেটা কোনোদিন পরিবর্তন হবেনা। রোজকার জীবনে এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে সেটা কাজের জায়গায় হোক বা একান্ত নিজস্ব হোক,তাতে নিজের ব্যবহার পরিচয় কোনোটা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়না। সবশেষে নিজের কাছে সৎ থাকাটা খুব জরুরী,যাতে দর্পণে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে চমকে উঠতে না হয়। 

"স্বচ্ছ থেকো নিজের কাছে,কোনো পরিবর্তন যেনো না হোক
সমুখ পানে এগিয়ে চলো,তবেই হবে তুমি সঠিক পথ প্রদর্শক!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫

শিরোনাম - আঁধারনাশিনী✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - আঁধারনাশিনী
✍️ডা: অরুণিমা দাস

পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি,আর ব্যাগ গোছানোতে ব্যস্ত শ্যামা। মহাদেব এসে বলছেন কিগো হলো? বলি আমার বাঘছালগুলো নিয়েছো তো?
- হ্যা গো নিয়েছি।
- কতগুলো এক্সট্রা নিয়ে নিও। তোমার ঐ বুকের ওপর আলতা পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আমার পোশাকগুলো রেঙে ওঠে। বাঘছাল ছাড়া অন্য পোশাক ঠিক পোষায় না আমার।
- আমি তো ইচ্ছে করে দাঁড়াইনা বাপু। সে তো অনেক যুগ আগের গল্প,লোডশেডিং হয়ে গেছিলো তাই ভুল করে তোমার ওপরে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। আলো আসাতে লজ্জায় আমার জিভ কাটা যায় আর কি! এই গল্পই তো বহুবছর ধরে চলে আসছে।
- আমার ওপরে তোমার অধিকার,মুণ্ড থেকে মন সবখানেতে  তুমি বিরাজমান শ্যামা।
গণেশের প্রবেশ,
ও মাম্মা! দেখোনা দিদিরা বলছে এবারে তোমরা দুজনে যাবে,আমায় নিয়ে যাবেনা। কেনো গো? আমিও যাবো।
-না গনু সোনা,এবারে তুমি নয়। পরের বছর আবার যেও।
-কেনো মাম্মা?
এই গনু কথা শুনতে হয় বড়োদের,মহাদেব বললেন। তুমি কদিন আগেই ঘুরে এসেছো আর নয়। এবার তোমরা চার ভাইবোন বাড়ী সামলে রাখবে। আমি আর মাম্মা ঘুরে আসবো। অনেক লাড্ডু মিষ্টি আনবো তোমার জন্য। এখন যাও,আমরা একটু প্যাকিং করে নিই।
মুখ গোমড়া করে গনু চলে গেলো দিদিদের কাছে।
-চলো গিন্নী সব গুছিয়ে নাও। তোমার জন্য একটু সাজগোজের জিনিস এনেছি।
-দূর আমি কালো,সাজ কি আমায় মানায়?
কি যে বলো? ওই কালো রূপেই মজেছি আমি। রূপ দিয়ে কি হয় বলো? গুণটাই আসল।
-তাও তো ছেলেরা ফর্সা মেয়ে খোঁজে।
-মন কালো না হলেই হবে গিন্নী।
-তবে আমায় বরং আত্মরক্ষার অস্ত্র দিয়ো কিছু। ওখানে যা অবস্থা কসমেটিকসের চেয়ে লড়াইয়ের কসরত শিখে নেওয়াটা বেটার।
-তা ঠিক গিন্নী।
-দেখো তোমার সাথে কথা বলতে বলতে আমার প্যাকিং কমপ্লিট। এরপর বেরোবার পালা।
চলো সব প্যান্ডেল সেজে উঠেছে। আলোর মেলা চারিদিকে। তোমার পুজোয় সব আঁধার কেটে আলোর দিশা দেখুক সবাই। সকল কষ্ট ঘুচুক সবার।
সকলকে জানাই শ্যামাপুজো ও দীপাবলির শুভেচ্ছা। আলোর জোয়ারে ভেসে উঠেছে শহর, আমরাও সামিল হই এই আনন্দঘন মুহূর্তে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫

শিরোনাম - নাড়ু কাহিনী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নাড়ু কাহিনী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ও দেবী! চলো তাড়াতাড়ি। পুজো শুরু হয়ে যাবে তো! পেচুটা তাগাদা দিচ্ছে লক্ষী দেবীকে। 
-দাড়া আগে বাক্স প্যাটরা গুলো দেখে নিই ভালো করে। রেইনকোট নিয়েছি আবার ছাতা নিয়েছি। একদিকে বৃষ্টিতে খারাপ অবস্থা আরেকদিকে কেউ নেচে গেয়ে বেড়াচ্ছে। 
-হ্যা দেবী! ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি একদম জ্বাজ্জল্য প্রমাণ দেখছি। চলো এগোই। 
লক্ষীদেবীর হাত ধরে পেচু সব ঘরে ঘরে যেতে লাগলো। সব জায়গায় আয়োজন দেখে পেচুর তো জিভে জল এসে যাচ্ছে। লক্ষী দেবী বললেন আড়ম্বর দেখিসনা পেচু! দেখ যেসব জায়গায় সারল্যের ছোঁয়া সেখানে অনাড়ম্বর ভাবে আয়োজন সেখানে কি তারা মন থেকে ডাকছে না? সবাই ডাকছে, কেউ ভালোবেসে ডাকছে তো কেউ বাহ্যিক আড়ম্বর দেখাতে ব্যস্ত। বেশী খাওয়াদাওয়া করিসনা,রাত জাগতে হবে আবার!
পুজোর শেষে,
হ্যা রে পেচু নাড়ু তো অনেকগুলো ছিলো রে! কম হলো কি করে? তোকে না বলেছি বেশী মিষ্টি খাবিনা! দাঁত খারাপ হলে তোকে ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে যেতে পারবোনা বাপু। আমার অনেক কাজ আছে পেচু। বাড়ী ফিরলে পড়তে বসতে হবে,সরু দিদি বকবে নয়তো। 
- না দেবী! আমি বেশি নাড়ু খাইনি গো। সত্যি বলছি।
- তাহলে গেলো কোথায়? কিছু নাড়ু আমি ভাই আর দিদিদের জন্য এক্সট্রা নিয়ে যেতাম। 
- দেখো না থালাতে আছে আরো,নিয়ে নাও। 
- দেখি তোর পেছনে! কি লুকোচ্ছিস রে? 
- কই দেবী? কিছু না তো?
- কিছু না বললেই হবে? দেখি দেখা। 
আরে একটা প্যাকেট! খোল দেখি। 
- তেমন কিছু নয় দেবী। কয়েকটা নাড়ু নিয়েছি এক্সট্রা আর সাথে একটু মুড়কি। 
- কার জন্য শুনি একটু? 
- আমার পেচির জন্য নিয়েছি একটু। তবে হ্যা তোমার ভাগ থেকে নয় পুরোটা। কিছুটা আমার ভাগের আর কিছুটা তোমার ভাগের থেকে নিয়েছি। 
- বুঝেছি। তোদের ভালোবাসা এরম অটুট থাকুক। 
তোমাদের দেখেই তো শিখছি দেবী। লক্ষী নারায়ণ হলেন আমার আইডল। 
- হয়েছে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছো! রাত জেগেছো, গিয়ে ঘুমোতে হবে এবার। চলো আসি আমরা। তোমার পেচি অপেক্ষা করে আছে তোমার জন্য। 
- হ্যা চলো। এই দিনের জন্য আবার এক বছরের অপেক্ষা করতে হবে।

কোজাগরী লক্ষী পুজোর শুভেচ্ছা জানাই সকলকে। সকলের মঙ্গল হোক,ভাবনাচিন্তা সমৃদ্ধ হোক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - প্ল্যান অফ পুজো✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - প্ল্যান অফ পুজো
✍️ডা: অরুণিমা দাস

অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে লো টোনে মিউজিক প্লেয়ার চালিয়ে দিলো বিশাল। একটু পরেই কাজ নিয়ে বসতে হবে ল্যাপটপে। এবারের টার্গেট কমপ্লিট না করতে পারলে পুজোতে ছুটি দেবেননা বস বলেই দিয়েছেন। তাই একটু স্ট্রেসেই আছে বিশাল। এক কাপ কফি নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো বিশাল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলটা বেজে উঠলো। বসের ফোন ভেবে তাড়াতাড়ি রিসিভ করতে গিয়ে দেখে স্ক্রীনে ভাসছে অঙ্কুরের নাম! ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো করে বিশু কি খবর তোর?এখন তো তোর পাত্তা পাওয়াই মুশকিল।
- আর পাত্তা? বস যা টার্গেট দিয়েছে খুব চাপে আছি রে! কমপ্লিট করতে না পারলে পুজোতে নো ছুটি। সেই জন্য ঘাড় গুঁজে ল্যাপটপের সামনে বসে আছি সারাদিন। তোর খবর বল অঙ্কু।
- আমার আবার কি খবর? তোর তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম আর আমার ওয়ার্ক আউট অফ হোম। পুজোতেও ডিউটি বাড়বে,আমি জুনিয়র মোস্ট বলে পুজোর চারদিনে দুদিন তো ডিউটি দেবেই। আর তখন পেশেন্ট লোড ও বাড়বে,কি যে করবো জানিনা!
- কি আর করবি? পেশেন্ট দেখবি অফলাইনে আর অনলাইনে দেখবি ঠাকুর।
অঙ্কুর হেসে ফেললো। তারপর বললো,
- ছাড় তো এসব! পুজো প্ল্যান কিছু করেছিস?
বিশাল - প্ল্যান? ধুর ওসব করে কি করবো বল তো? বস ছাড়বে কিনা তার ঠিক নেই।
অঙ্কুর - এক কাজ করি চল,আমরা বরং এবারে একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। একটু অন্যরকম হবে। বেশ নাটক,নাচ গান,আবৃত্তি আর খাওয়াদাওয়া থাকবে। কোথাও যখন সেরকম বেরোতে পারবনা তখন বাড়ীতেই কিছু হোক।
বিশাল - আইডিয়াটা মন্দ নয় বুঝলি! আমার বাড়ির বৈঠক খানাতে একটা ছোট্ট আয়োজন হতেই পারে। ডিউটি শেষ করে রাতের বেলা না হয় আয়োজন হবে।
অঙ্কুর - ছোটবেলাতে পুজোর আগে যেমন কদিন স্কুলে প্রোগ্রাম হতো সেটা মাথায় রেখেই কিছু ভাবি বুঝলি!
বিশাল - হ্যা ভাব সেরকম কিছুই। আর হয়তো ম্যাক্স ১০ মিনিট আমি কথা বলতে পারবো। তারপর আবার ল্যাপটপে বসতে হবে।
অঙ্কুর - একটা ভালো নাটক ভেবেছি,'চোখে আঙুল দাদা!' আমাদের স্কুলের গ্রুপে দিয়ে দেবো। আরো কিছুক্ষন নিশ্চয়ই রাজী হবে। বেশ একটা মজার পরিবেশ তৈরি হবে।
বিশাল - হ্যা তাই কর। আর যারা নাটকে অভিনয় করবেনা তারা গান বা আবৃত্তি করতে পারবে। পুজোতে বেরোতে না পারলেও মনমরা হয়ে থাকবোনা কেউ।
অঙ্কুর - ঠিক বলেছিস। ওই জন্য এখন থেকে প্ল্যান করা শুরু করলাম। আর পুজোতে ট্রিপ যেটা আমরা প্ল্যান করেছিলাম আগে ওটা না হয় পুজোর পরে টার্গেট ফুলফিল হলে ডিসেম্বরে করা যাবে।
বিশাল - এখন যা মার্কেট,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর যুগে সবাই রিপ্লেসেবল। তাই বসের দেওয়া টার্গেট যেমন করেই হোক কমপ্লিট করে আমায় দুটো দিন পুজোতে ম্যানেজ করতে হবে। সাথে নাটকের জন্য রিহার্সালও আছে।
অঙ্কুর - হ্যা ওই শনি বা রবিবার করে রিহার্সাল করতে হবে। আর তো সময় পাবোনা অন্যদিন গুলো। তাও আমার রোববার রোটেশন ডিউটি পড়ে গেলে মুশকিল।
বিশাল - দেখ যেটুকু বুঝলাম ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর গেট টুগেদার ওটাই পুজোতে আমাদের আসল প্ল্যান। এর মধ্যে দিয়েই আমরা নিজেদের খুশী রাখবো। মা দুর্গা আসছেন বলে কথা! মন খারাপের কোনো অবকাশ নেই। প্যান্ডেল হপিং করতে না পারলেও অনলাইন শপিং আর টিভিতে ঠাকুর দেখতে কোনো বাধা তো নেই।
অঙ্কুর - একদম। বাড়ী বসে ঠাকুর দেখার মধ্যেও আনন্দ আছে। আশীর্বাদ নিশ্চই কম কিছু পাবোনা এতে। আর রোগী সেবা মানেই ঈশ্বর সেবা।
বিশাল - যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু সরে গিয়ে যেটুকু আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবো সেটাই অনেক। এই বছর টার্গেট ফিল করে কে বলতে পারে পরের বছর হয়তো চারদিনই ছুটি পেলাম।
কাজের মধ্যে দিয়েই নয় এই বছর ঈশ্বর কৃপা লাভ করবো।
অঙ্কুর - নে তোর দশ মিনিট প্রায় শেষ হয়ে এলো। মন দিয়ে কাজ কর। ইনিশিয়াল প্ল্যান তো হলো, বাকিটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আপডেট হবে সময় মতন।
বিশাল - হ্যা,এখন ফোনটা রাখি। কাজ নিয়ে বসি। দেখি কতদূর এগোতে পারি। ভালো থাকিস। তোর সাথে কথা বলে মনটা ভালো হয়ে গেলো। একরাশ ভালোলাগা জন্ম নিলো। আশা রাখি প্ল্যানমাফিক অনুষ্ঠানটা ভালোই হবে।
অঙ্কুর - চল বাই,পরে আবার কথা হবে।

কর্মব্যস্ততা আর চাপের মাঝেও দুই বন্ধু যে প্ল্যান করলো পুজোর জন্য সেটা যেনো সাকসেসফুল হয় তার জন্য শুভকামনা রইলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সূচনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সূচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কাল সারারাত ডিউটি করার পর,সকালে ভাবলাম একটু মহালয়া শুনবো। কিন্তু ঘুমের জন্য শোনা হলো না। ২-৩ ঘন্টা ঘুমের পর সকালে আবার একটা কেস উঠলো। ওটিতে স্যার মহালয়ার গান চালিয়েছিলেন। বেশ একটা অন্যরকম অনুভূতি। তার মধ্যেই একটা সিজার হলো। স্যার হেসে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে? দুর্গা না মহিষাসুর? হেসে বললাম দুর্গা,কিন্তু!
-কিন্তু কি রে?
- স্যার বাচ্চাটার ক্লেফট লিপ আর প্যালেট আছে। সত্যিই দুর্গা,ওকে এরপর কতগুলো অপারেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কাটা তালু আর কাটা ঠোঁট ঠিক করতে। তবুও পূণ্য লগ্নে জন্মেছে মেয়েটা! সবাই বলছে ঠিক লড়বে কিন্তু ওর মায়ের মন খারাপ কারণ প্রথম সন্তান মেয়ে আবার দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে তাও আবার একটু ত্রুটিপূর্ণ। বোঝানো হলো ছেলে মেয়ে সবাই সমান মন খারাপ কোরোনা তাও এরকম দিনে। বাচ্চাটাকে নবজাতক বিভাগে পাঠিয়ে ওটি শেষে সবাই ফিরলাম যে যার মতো,বুঝলাম  দেবীপক্ষের সূচনা বোধহয় এভাবেও হয়। ভালো থাকুক বাচ্চাটা,বড়ো হোক নিজের জীবনীশক্তি দিয়ে লড়াই করে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

 

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - বসু কথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বসু কথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাজনারায়ণ বসু সম্পর্কে লিখতে গেলে ওনার একটা কথা খুব মনে পড়ে। ওনার অনেক উক্তির মধ্যে একটি ছিলো 'আমার মতে ছাত্রদের নীতিশিক্ষা না হলে কোনো শিক্ষাই হলোনা।' ছাএদরদী এই মহামানব উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বড়াল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় এক স্কুলে পড়াশোনা করার পর শিক্ষকতা শুরু করেন। কিছুসময় মেদিনীপুরে কলিজিয়েট স্কুলে হেডমাস্টার পদে আসীন ছিলেন। মেদিনীপুরে তিনি নারীশিক্ষার প্রচলন করেন। মেদিনীপুরে একটি লাইব্রেরীও চালু করেছিলেন যা আজ ঋষি রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগার নামে পরিচিত। ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে সর্বাগ্রে ছিলেন তিনি। তিনি যেমন ঋষি অরবিন্দের মাতামহ ছিলেন তেমনি ব্রাহ্মধর্ম সমর্থনের কারণে তাঁকে 'ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পিতামহ' উপাধি দেওয়া হয়। 'তত্ত্ববোধীনি' পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি করতেন। দীর্ঘসময় শিক্ষকতা করার পর তিনি অবসর নেন এবং জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি দেওঘরে কাটিয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান আর অসামান্য গুণের জন্য মানব হৃদয়ে ও ইতিহাসের পাতায় আজও তিনি অমলিন। 

"পুঁথিগত শিক্ষার চেয়েও নৈতিক শিক্ষা ছাত্রদের খুব প্রয়োজন
যাঁর এই চিন্তাধারা তাঁকে নিয়েই আজ 'বসু কথা' করি নিবেদন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও বিশুদা কি করছো গো? তৈরি হবেনা? আজ যেতে হবে তো। হাতিবাবু এসে জিজ্ঞেস করলো। এই জিনিসপত্র গুলো গোছালাম। ভালো কিছু ইয়ার প্যাড নিলাম বুঝলি হাতিশ্বর। আমার ভক্ত দের ওই সিসে কি উম্র আর সাত সমুন্দর শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। সাথে কিছু এক্সট্রা হাতুড়ি নিলাম বুঝলি। হাতুড়ি কেনো গো? হাতিবাবু একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো। আর কেনো? তোকে মারবোনা চাপ নিসনা। যখনি ওই প্যান্ডেলে বাবুরা আকন্ঠ সুরাপান করে উদ্দাম নৃত্য করতে করতে বিশ্বকর্মা মাইকি জয় বলবে তখনি একটা হাতুড়ি দিয়ে ঠোক্কর দেবো মাথায়। বাবুরা ওসব খেয়ে নাচবেন আবার পরে গাড়ি চালিয়ে এক্সিডেন্ট করবেন আর ভিড় জমাবেন হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে,অভব্য আচরণ করবেন সেটি হতে দেবোনা। যারা ডিউটি করে ওখানে,কোনোদিন মুখ ফুটে কিছু বলেনা। কিন্তু সারারাত এই মাতাল গুলোর বাঁদরামি সহ্য করতে করতে কাহিল হয়ে পড়ে। এই স্টিচ করছে তো এই ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। তারাও তো মানুষ। আর যা সম্মান তাদের দেওয়া হয় সবই তো দেখছিস হাতিশ্বর। আর কি বলবো তোকে নতুন করে?
কিন্তু তা বলে তোমার পুজোতে ওরা একটু হাসি মজা করবেনা বিশুদা? 
-কেনো করবেনা? নিশ্চয়ই করবে। এই জন্যই তোর মাথায় মোটা বুদ্ধি। মজা আনন্দ সব করবে কিন্তু সেটা আনলিমিটেড নয়,আর পাগলামি করে নয়। যাতে সবার ক্ষতি না হয় সেরকম ভাবে আনন্দ উল্লাস করবে। 
- ওহ বুঝলাম। 
- কত রকম আনন্দ আছে। ঘুড়ি ওড়াবে, মিষ্টি খাবে,খিচুড়ি খাবে। গান করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। এতে তো কারোর ক্ষতি হচ্ছে না। 
ওই উঁচু ডেসিবেল এর গান আর গলা ভর্তি পান করে বাইক চেপে,হাতির পিঠে চেপেছি ভাবা এসব বন্ধ করতে হবে। নয়তো হাতুড়ির ঘা খেতে হবে। প্রতিবার ওদের গানের ঠেলায় কান প্রাণ সব যা অত্যাচার সহ্য করে সেটা এইবার মানবোনা। অনেক হয়েছে। চল এবার। নে তোর সানগ্লাস। রোদে ঘুরবি চোখ খারাপ যাতে না হয় তাই দিলাম। সত্যি বিশুদা,কত ভালো তুমি। আমার কথা কত ভাবো। আমি সবার কথাই ভাবি তাই দেখছিস না কত পন্থা অবলম্বন করেছি এবার। নাও নাও ওঠো আমার পিঠে। তাড়াতাড়ি বেরোই, অনেকটাই যেতে হবে। হ্যা চল,ভালো ভাবে ঘুরে আসি। 
আসছেন ওনারা, আপনারা সবাই তৈরি তো? জয় বিশ্বকর্মা দেবের জয়। সকলের মঙ্গল হোক। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলসলেখক - প্রীতম বসু ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পাঠ প্রতিক্রিয়া 
বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলস
লেখক - প্রীতম বসু 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 


বেশ কিছু মাস আগে পড়েছিলাম হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্তের লেখা বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে বইটি। অসম্ভব ভালো লেগেছিল বইটি যার জন্য ভাতঘুম কেও অগ্রাহ্য করেছিলাম। তেমনি আজ রাতের ঘুম কে অগ্রাহ্য করে পড়ে শেষ করলাম কপিলাবস্তুর কলস বইটি। ৪০০ পাতার বইটিতে ছত্রে ছত্রে রয়েছে থ্রিলারের ছোঁয়া। বিষয়বস্তু বুদ্ধদেবের পবিত্র অস্থি নিয়ে। সেই অস্থি নিয়ে বেআইনি ব্যবসার জন্য কত লোকে কতরকম প্ল্যান করেছিল। উদ্দেশ্য ছিলো মুনাফা লোটার। কিন্তু কপিলাবস্তু নেপাল না ভারতের এই দ্বন্দ্বে ইউ এন নিউইয়র্কে যে বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা হয় সেই সভাতে আসার জন্য ড: উইকিস এর ছাত্রী রিধিমা যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তাতে বোঝা যায় পিতরাওয়া তে পাওয়া অস্থি কপিলাবস্তুর নয়। আর এটা সত্যি প্রমাণ করতে গিয়ে খুন হন ড উইকিস ও তার সহকারী ড হফম্যান আর প্রফেসর রিচার্ড। আসল কলসের সন্ধান দিয়ে গেছিলেন রিধিমার দাদা ড: সিদ্ধার্থ বোস তাঁর লেখা ডায়েরীতে, আসল কলসের উদ্ধারকর্তা ছিলেন দেবচরণ, তার স্ত্রী তুলসী আর মেয়ে রাজকুমারী। আর সিদ্ধার্থ বে আইনী কাজে লিপ্ত না হতে চাওয়ায় কু কীর্তির অধিকারী লি ঝেন তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো তার পোষা গুন্ডাদের দিয়ে। কিন্তু গুন্ডারা সিদ্ধার্থ কে ড্রাগ ইনজেক্ট করে এক বৌদ্ধ মঠে লিনপোচে নামক লামার হাতে তুলে দেয়। লামা তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে প্রচার করে যে বোধিসত্ত্ব মঞ্জুশ্রী লামা ফিরে এসেছেন মঠে আর সকলের কাছে ভগবান হিসেবে পূজিত হন। লিনপঁচে এর আসল উদ্দেশ্য ছিলো বুদ্ধের হাড়গুলো একে একে সংগ্রহ করে একটা কাঠামো বানিয়ে চড়া দামে বিক্রি করার। তাই লি ঝেন কে দিয়ে এক জিগস পাজলারকে নিয়ে আসেন মঠে যার নাম ছিলো হরিপরসাদ। হরিকে নিয়ে যাওয়া হয় মঞ্জুশ্রী লামা এর সামনে। মঞ্জুশ্রী ওরফে সিদ্ধার্থ সেও পাজল সলিউশনে বেশ চোস্ত ছিলো। সে হরিকে ওয়ার্ড জাম্বল দিয়ে পালাবার পথ বলে দেয় যা লিনপঁচে বুঝতে পারে না। এদিকে রিধিমাকে লি ঝেন এর লোকেরা কব্জা করে অনেক বিপদে ফেলে। উদ্ধারকর্তা হয় সুনয়ন,ড: উইকিস এর ছেলে। নিউইয়র্কের বেস্ট হ্যাকারদের মধ্যে একজন ছিলো সুনয়ন। সুনয়নের মা  ভক্তি দেবী সেই দেবচরণের বংশধর ছিলেন। রিধিমা কিছু তথ্য ভক্তিদেবীর থেকেও পেয়েছিল। রিধিমাকে সমস্ত বিপদ থেকে সুনয়ন উদ্ধার করে ফাইনালি ডিবেট সভাতে লি ঝেন এর আসল স্বরূপ প্রকাশ করে দেয়। এদিকে হরি মঞ্জুশ্রী লামার সংকেত অনুসরণ করে পালিয়ে যায় ও পুলিশের সাহায্যে মঞ্জুশ্রী লামাকে উদ্ধার করে। রিধিমা ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া দাদা সিদ্ধার্থকে। সাহসিকতার জন্য সুনয়ন পুলিৎজার পুরস্কার পায়। ভক্তির থেকে বুদ্ধাপট সংগ্রহ করে এক মিউজিয়ামে রেখেছিলেন ড: উইকিস্। সেটা সিদ্ধার্থ উদ্ধার করতে সাহায্য করে। সব শেষে রিধিমা সিদ্ধার্থ আর সুনয়ন রওয়ানা দেয় ভারতের উদ্দ্যেশ্যে। সুনায়ন যাবে তরাই অঞ্চলে গবেষণা করতে যেখানে তার পূর্বপুরুষ দেবচরন এক সময় থাকতেন। আর সিদ্ধার্থকে নিয়ে রিধিমা দিল্লী ফিরে গিয়ে সুনয়নের জন্য অপেক্ষায় থাকবে। 
আর পাঠকেরা যারা বইটি পড়েননি আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেলুন টানটান উত্তেজনা আর গবেষণা মূলক থ্রিলার এই বইটি। দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে,এটুকু বলতে পারি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - নাচ না জানলে উঠোন বাঁকা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - নাচ না জানলে উঠোন বাঁকা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অন্যের দোষ দেখতে পাওয়া যায় খুব সহজেই, নিজের দোষ খুঁজতে হলে ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগে। এটাই আজকের দুনিয়ার নিয়ম। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে খুব বেশী কষ্ট করতে হয়না। নেই কোনো আত্মবিশ্লেষণ,নেই কোনো আত্মগ্লানি। কাজটা পারলাম না মানে কাজটার দোষ কিন্তু আমার কোনো দোষ হতেই পারেনা,এই মানসিকতা দিন দিন মানুষকে অপদার্থ করে তুলছে। এরম অদ্ভুত চিন্তার ঘেরাটোপ থেকে নিজেকে বের করে আনতে না পারলে উন্নতি কোনোদিন সম্ভবপর নয়। তাই আত্মসমালোচনা খুব প্রয়োজন। কোথায় ত্রুটি আছে সেটা খুঁজে বের করে নিজেকে সংশোধন করার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে। আর বিষাক্ত মানসিকতার মানুষ তো সব সময় নিজেকে ভিকটিম বানিয়ে অন্যকে দোষী সাব্যস্ত করতে ব্যস্ত থাকে। এরম মানুষের দেখা রোজ মেলে কিন্তু সহজ সরল মানুষ যে অন্যকে দায়ী করেনা সেসব মানুষ কমই আছে দুনিয়াতে। কমের দলে নাম লেখাতে চাইলে নিজের ভুল ত্রুটি দেখা উচিত,অন্যের নয়। তাতে নিজেরও ভালো, অন্যেরও মঙ্গল। 

"উঠোনের দোষ না দেখে বরং নাচটা শেখো ভালো করে
তাহলেই দেখবে নিশ্চিন্তে হেঁটে চলেছো উন্নতির পথ ধরে"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫

চিঠিপত্র - ল্যান্ডিং ইন ধরাধাম লেটার টু ফ্যামিলি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 চিঠিপত্র - ল্যান্ডিং ইন ধরাধাম
 লেটার টু ফ্যামিলি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

প্রিয় বাড়ীর সবাই উইথ নন্দী ভৃঙ্গি,

                     পৌঁছে গেছি আমি ধরাধামে। বৃষ্টি পড়ছে অল্প বিস্তর। তবে আবহাওয়া ভালোই। বাবাইকে এস এম এস করেছি কিন্তু তিনি যদি নেশায় ভুলে গিয়ে মাম্মাকে জানাতে ভুলে যায় তাই সবাইকে লিখছি এই চিঠি যাতে সবাই আমার পৌঁছনোর খবর জেনে যায়। এখানে তো এলাহী আয়োজন করেছে ভক্তরা। র‍্যাটস তো এক দৃষ্টে খাবার গুলো দেখছে খালি,আর ভাবছে কখন খেতে বসবে!এসেই আমি আগে শপিং মল গুলোতে ঘুরেছি বুঝলি সরু দিদি এই লক্ষী দিদিরা। তোমরা ঠিক বলতে,একটু মধ্যপ্রদেশটা কমাতে হবে নইলে ড্রেস গুলো ভুড়িতে এসে আটকে যাচ্ছে। নেক্সট ইয়ার পাক্কা ১৫ কেজি কমাবো ওজন। তবেই মডার্ন টি শার্ট গুলো পরা যাবে। তবে সব কিছুর মাঝেও থমথমে পরিবেশ। শিক্ষকদের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট,শিক্ষার সঠিক পরিবেশের অভাব, ছাত্রছাত্রী গুলো তো খালি সেলফি তুলছে আর আমায় দেখার নাম করে টিউশন ফাঁকি দিয়েছে। ভেবেই ভালো লাগে আমরা কোনো স্মার্ট ফোন নিয়ে বড় হয়নি। নয়তো আমরাও এরকম লাগামছাড়া জীবন যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। সরু দিদি তোমাকেই কিছু একটা করতে হবে। এদের মাথায় একটু সুবুদ্ধি সফট্ওয়ারটা দিও প্লিজ। আর লক্ষী দিদি তুমি যখন আসবে পুজোতে একটু উদ্যোক্তাদের বলো কম খরচ করে বাকি টাকা যেনো একটু দুঃস্থ অসহায়দের কাজে লাগায়। আমাদের তো সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত করেছে মাম্মা,তাই আমাদের লাক্সারি পোষায়না। এখানে ছোঁড়াগুলো যা সেজে গুজে ঘুরছে আমার তো ভয় লাগে কাতু টা আবার ওদের পাল্লায় পড়ে বিগড়ে না যায়। এই দেখো পৌঁছনোর খবর লিখতে গিয়ে কত কি লিখে ফেললাম। যাই একটু মোদক আর লাড্ডু খেয়ে আসি, পেট টা খিদে খিদে করছে। র‍্যাটসকে পাঠাই চিঠিটা পোস্ট করে দিতে। তোমরা সবাই ভালো থেকো। আমার জন্য চিন্তা করো না। সাবধানে ফিরে আসবো আমি পুজো শেষে। তারপর নেক্সট প্ল্যান হবে সবাই মিলে আসার। এখনকার জন্য টা টা বাই। 
                                            
                                              ইতি          
                                 তোমাদের প্রিয় গণু সোনা
            
                                                
তারিখ : ২৭.০৮.২০২৫                          

বৃহস্পতিবার, ২১ আগস্ট, ২০২৫

Title: MiddleMen: Bridging Justice

In our increasingly unequal world, where justice often feels out of reach for the most vulnerable, MiddleMen, founded by Sree Krishna Seelam, stands as a beacon of hope—making legal access affordable, humane, and equitable.

MiddleMen operates as a non-profit arm under the WeDidIT foundation, both established by the visionary Sree Krishna Seelam . While WeDidIT fosters humanity and empathy in society, MiddleMen focuses its mission on delivering justice—especially to those marginalized by systemic inequities .

At its core, MiddleMen harnesses artificial intelligence to dismantle legal barriers for the underprivileged. Their platform uses AI tools such as:

Lexum: A tool for accessing relevant legal precedents and case data.

AI Lawyer: Serves as a virtual legal assistant.

Ferret.ai: A dedicated research companion.

DoNotPay: A consumer rights advocate in digital form .


This suite of AI not only streamlines legal support—it composes a justice ecosystem that’s both accessible and far-reaching.


Justice isn't about privilege—MiddleMen’s platform reflects that belief. They offer:

An interactive dashboard for real-time case tracking, fostering full transparency for clients.

Lawyer matchmaking based on case specifics and legal specialization, ensuring relevance and efficacy.This model reframes justice not as an expensive right but as a fundamental human need.

In an “inhumane world” marked by growing materialism and disparity, MiddleMen's mission is revolutionary: Justice is only equal if even the poorest get resolution with dignity . By leveraging digital innovation, Sree Krishna Seelam’s initiative empowers individuals traditionally excluded from legal redress, restoring faith and fairness where it’s needed most.

বুধবার, ২০ আগস্ট, ২০২৫

WeDidIT: Cultivating Compassion and Leadership Through Volunteering

In the midst of the COVID-19 pandemic in March 2020, Sree Krishna Seelam, a visionary social entrepreneur, launched WeDidIT Foundation, a youth-centric non-profit based in Vijayawada, India. 


Despite starting with just seven volunteers operating from a residence within a containment zone, WeDidIT experienced explosive growth. This remarkable progress culminated in WeDidIT being honored with the Economic Times Award for Excellence in Social Entrepreneurship in 2021—a testament to its lasting impact .

WeDidIT's ethos is deeply rooted in the belief that volunteering is not just an act of service but a path to personal transformation and leadership.

During the pandemic lockdown, volunteers were encouraged to feed birds or animals at home, share photos on social media, and tag friends—creating a ripple effect of simple acts of kindness. startupindiamagazine.com


Another notable initiative involved youth interviewing senior citizens (75+) in their circles, compiling responses and videos. These intergenerational exchanges fostered empathy, wisdom, and strengthened bonds between generations .


Beyond localized projects, WeDidIT aligns with the United Nations Sustainable Development Goals—addressing issues such as No Poverty, Quality Education, Gender Equality, Clean Water and Sanitation, and Climate Action, among others . The foundation’s deeper mission is to cultivate volunteers into empathetic, purpose-driven leaders who carry the spirit of service beyond any single initiative . rebelmindset.blogspot.com


With the rallying cry, “To leave this planet a better place than it was before we arrived,” WeDidIT extends an open invitation to individuals of all walks of life—students, professionals, artists, and activists—to join a movement rooted not in perfection, but in shared humanity and purposeful action. 

#WeDidIT #youthleadership #volunteering 
 




বৃহস্পতিবার, ১৪ আগস্ট, ২০২৫

সাফল্য দেবে ধরা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সাফল্য দেবে ধরা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সফলতার গোপন মন্ত্র লুকিয়ে রয়েছে নিজের মধ্যেই। এর জন্য কারোর সাহায্যের দরকার পড়ে না। খালি নিজেকে হেরে যেতে দেওয়া যাবেনা। নিজবুদ্ধিতে বলীয়ান হয়ে এগোতে হবে। সুপ্ত প্রতিভা সকলের মধ্যেই রয়েছে, খালি তাকে জাগিয়ে তুলতে হবে। সমস্ত দুনিয়া তোমার ওপর ভরসা না করলেও নিজের ওপর নিজের ভরসাটাই আসল। হার মানলে চলবে না। এতেই লুকিয়ে রয়েছে সফলতার চাবিকাঠি। জীবনে বড় হতে গেলে আত্মবিশ্বাসী হতে হবে। আত্মবিশ্বাসী হলে তবেই সফল হওয়া যায়। আমি এই কাজটা পারবোই, যদি আমি না পারি তাহলে কেউ পারবেনা এরকম ভাবনা নিজের মধ্যে জাগিয়ে রাখতে হবে। মনের গভীরে সফলতার বীজ পুঁতে রাখলে একদিন ঠিকই সেই চারা বৃক্ষে পরিণত হবে, গর্বে বুকটা ভরে যাবে। মন প্রাণ খুলে বিজয়ী হবার আস্বাদ নেওয়া যাবে। শুধু চাই সঠিক সময়ের জন্য অপেক্ষা আর দৃঢ় প্রত্যয়।

"সফল হওয়ার সব রকম সম্ভাবনা রয়েছে নিজের মধ্যেই লুক্কায়িত
বিশ্বাস রেখো নিজের ওপর,বিজয়ী হবার বাসনা কোরোনা অবদমিত।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ৮ আগস্ট, ২০২৫

কবিগুরুর সৃষ্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 কবিগুরুর সৃষ্টি 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কবিগুরুকে নিয়ে লিখতে গেলেই কোথা থেকে শুরু করবো কিছুই বুঝতে পারিনা। বড্ড বেশী দুঃসাহসী মনে হয় নিজেকে। তাঁর সৃষ্টির ছোঁয়া কোথায় না নেই? ছোটগল্প, উপন্যাস, বড়গল্প, কবিতা, নাটক,গান সবকিছুতে তাঁর উজ্জ্বল উপস্থিতি স্বমহিমায়। শিশু ভোলনাথের কবিতা দিয়ে প্রথম রবীন্দ্রনাথের সৃষ্টির সাথে আলাপ। তারপর বাকী স্রষ্টার সাথে পরিচয় হলো ধীরে ধীরে। অমল ও দইওয়ালা থেকে শুরু করে শিশুমনে দাগ কেটে,কাবুলিওয়ালাতে এক অটুট পিতা পুত্রী বন্ধন,তোতাকাহিনীতে লেখাপড়ার এক অনন্য দিক খুলে দেনা পাওনাতে নারী জীবনের দুর্ভোগ ও অসহায় গরীব পিতার হাহাকার পাঠকের মনে গভীর ছাপ ফেলে যায়। অচলায়তন পড়ে তো কুসংস্কার বিরুদ্ধ চিন্তাভাবনা প্রোথিত হয় হৃদয়ে। আর মন ভালো করার জন্য ওনার গান তো সর্বক্ষণের সঙ্গী। গীতবিতানটা খুলে দেখি যখন, তখন মনে হয় স্কুলের ফটক পার না করেও যে এত কিছু সৃষ্টি করা যায়! এটা সত্যিই খুব অবাক করে দেয়। শুধু কলমকে সঙ্গী করে কবিগুরু অসামান্য সৃষ্টি দিয়ে আমাদের সবাইকে ভরিয়ে তুলেছেন,সমৃদ্ধ হয়েছি আমরা সকল বিশ্ববাসী। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার সময় সকলের বুক গর্বে ভরে ওঠে, শিহরণ জাগে সারা শরীরে। ওনার সৃষ্টি এভাবেই যুগান্তরিত হোক,সাহিত্যের প্রতি সকলকে অনুরক্ত করুক। 

"কবিগুরুর সৃষ্টি সকল পাঠকের মনে জাগায় গভীর আলোড়ন
জন্মান্তর বলে যদি কিছু থাকে,ধরায় তোমাকে ফিরে পেতে চায় মন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৫

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


বন্ধু হবে নাকি তুমি?পায়ের কাছে এসে পড়ল ছোট্ট চিরকুট
কে পাঠালো এটা! ছাদে দাঁড়িয়ে বললো মেয়েটা, বড়ই অদ্ভুত।

নজর গেলো একটু দূরে পাশের বাড়ির ছাদের কোণে
রুগ্ন এক মেয়ে দাড়িয়ে, একদৃষ্টে তাকিয়ে তার পানে।

খানিক পরে এসে পড়লো আবার একটি কাগজের দলা
লেখা তাতে অসুস্থ আমি,তাই পারি নে বাইরে যেতে হয়না কারোর সাথে কথা বলা।

এবার যে উত্তর দেওয়ার পালা,লিখলো মেয়েটি সাদা পাতায়
আজ থেকে তুমি হলে আমার সই, মনের কথা সব বোলো আমায়।

বন্ধু পেয়ে ভীষণ খুশি হলো যে রুগ্ন মেয়ে,লিখলো নামটি কী তোমার? 
লিখলো বন্ধু,নাম আমার মাধবী,সই বলেই ডেকো না হয়।

রুগ্ন মেয়ের নাম ছিল কল্যাণী, মাধবী আর তার মধ্যে গড়ে উঠেছিল সখ্যতা
চিঠি চালাচালি করেই হতো তাদের সব মনের কথা।

বন্ধুত্বের পরশ আর ডাক্তারের পথ্য নিয়মিত পেয়ে
পেয়েছিল মনের জোর কল্যাণী,ছিলনা আর রুগ্ন মেয়ে।

একদিন ছিঁড়ে গেলে বন্ধুত্বের বাঁধন, পরিবার সহ কল্যাণী গেলো অন্য বাসায়
যাওয়ার আগে মাধবীকে বলে গেলো দেখা করিস নতুন ঠিকানায়।

চোখের জলে বিদায় জানিয়েছিল মাধবী তার প্রাণের সই কে
পুরনো দিনের সেই কথাগুলো মাধবী বলছিল তার ছেলেকে।

ছেলে বললো কোরোনা দুঃখ,এখন চিঠি না থাকলেও আছে তো তোমার ফেসবুক ইনস্টা
তোমার প্রাণের সই কে পাই কি না খুঁজে,চলো করি চেষ্টা।

মিলল অনেক নাম আর ছবি ফেসবুক খুলে সার্চ করে
মাধবী দেখতে লাগলো সব ছবি গুলো উৎকণ্ঠা ভরে।

একটা সময় ফোনের স্ক্রীনে আটকে গেলো চোখ তার
এই তো সইয়ের ছবি, সাথে নিয়ে তার ভরা সংসার।

চোখের জল বাঁধ মানে না,ছেলে বললো পাঠাই তবে  রিকোয়েস্ট
মা বললো হ্যাঁ,একদিন সে বাড়িয়েছিল বন্ধুত্বের হাত,আজ হোক ওর টেস্ট।

চলে গেলো রিকোয়েস্ট খানি, অধীর আগ্রহে বসে আছে মাধবী
এতদিন পরে চিনতে কি পারবে কল্যাণী তার সইয়ের বন্ধুত্বের দাবী?

অ্যাকসেপ্ট হলো রিকোয়েস্ট ভীষণ খুশি মাধবী
মেসেজ পাঠালো সে,কল্যাণী আমায় চিনতে কি পারবি!

উত্তর এলো হ্যাঁ পেরেছি চিনতে, তুই যে আমার প্রাণের সই
ছোট্ট কাগজে যে বন্ধুত্ব শুরু হয়েছিল,আজ তা রিনিউ হোক ডিজিটাল মাধ্যমেই।

কতদিন খুঁজেছি তোকে,জানতাম না তোর নতুন ঠিকানা
আজ ফেসবুক মিলিয়ে দিল আমাদের,তবে ধন্যবাদ আমার ছেলের পাওনা।

উত্তর দিলো কল্যাণী,আজ চিঠির যুগকে খুব মিস করি
দেখি যদি আমরা ধীরে ধীরে মডার্ন যদি হতে পারি!

মায়ের মুখে দেখে হাসি ছেলে আজ বড়ই খুশি যে
কিছু বন্ধুত্ব যে নিখাদ ভালোবাসায় ভরা,বুঝেছে সেও।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 

বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫

বেদুইন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 বেদুইন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

"ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুইন!
চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন।"

বেদুইন শব্দটা শুনে প্রথমেই মনে এলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা দুরন্ত আশা কবিতাটি। বেদুইনদের জীবনযাত্রা আর সব স্বাভাবিক মানুষের মতন নয়। বেদুইন মানে মরুভূমির অধিবাসী। এদের ঘর বাড়ি সবকিছুই মরুভূমিতে। পশুপালন করেই এদের জীবিকা নির্বাহ হয়। এদের জীবনযাত্রা দেখে মনে হয় মাঝে মাঝেই, যে বেদুইন হলেই ভালো হতো। যাযাবর বা জিপসি দের মত জীবন চলতো। আজ এখানে, তো কাল সেখানে। কোনো জায়গায় একটানা থাকতে হতো না। বেশ বিস্তৃত মরুভূমিতে আর খোলা আকাশের নীচে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে থাকা যেতো। সুখে থাকতে ভূতে কিলায় এরকম ভাবনা না এলে কেউ এরম ধরনের চিন্তা করে না। বেদুইনদের জীবনে কষ্ট ও অনেক। খোলা আকাশের নীচে থাকা তো খুব ভালো কথা নয়। মরুভূমির ওই ঠান্ডায় খোলা আকাশে থাকা খুব সহজ উপায় নয়। ১-২ দিন ভালো লাগবে তিনদিনের দিন মনে হবে না বাড়ীতেই আরামে ছিলাম। বেদুইন দের এই কষ্টকর জীবন যাত্রা থেকে শেখার আছে অনেককিছু। এরা কঠোর পরিশ্রমী,সাহসী হয়। এদের জীবন যাত্রা আমাদের মত সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহলের উদ্রেক করে সর্বদাই। এদের নিয়ে বেশ কিছু লেখা ইতিহাসে বই রয়েছে। আজকের বিষয় এদের সম্বন্ধে জানতে আরো বেশি ঔৎসুক্য জাগায় মনেতে। দেখা যাক কোনোদিন মরুভূমিতে পাড়ি দিয়ে যদি বেদুইনদের সাথে সেলফি নিতে পারি!

"একঘেঁয়ে জীবন থেকে সরে এসে বেদুইন যদি হতে পারতাম 
খোলা আকাশের নীচে মরুতে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে থাকতাম।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫

লেটার টু বৃষ্টি দি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 লেটার টু বৃষ্টি দি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ও বৃষ্টিদি,

           অনেকদিন তো হলো তুমি এসেছো,এবার প্লিজ ফিরে যাও। গতবছর ঘটা করে বিয়ে হলো আমার মিস্টার ফ্রগের সাথে শুধু তোমায় আনার জন্য। এবছর তুমি এতবার এসে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছো যে তারা আমার সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য ডিভোর্স প্ল্যান করছে। একবছর ফ্রগের সাথে সংসার,নিজেদের মধ্যে সখ্যতা ভালোবাসা এগুলো ছেড়ে সব ভুলে কি দূরে চলে যাওয়া যায় বলো? এবার প্লিজ একটু কম করে পড়ো। আমার সংসারটা ভেস্তে যেতে দিওনা। দয়া করো আমার ওপরে। নিজের বোন ভেবে একটু রক্ষা করে যাও আমায় আর আমার সংসার কে। মিস্টার ফ্রগকে ছেড়ে আমি এক মুহুর্তও থাকতে পারবনা। প্লীজ তুমি তোমার অঝোর ধারায় ঝরে পড়া বন্ধ করো। করুণা করো আমার ওপরে। আনিভার্সারী টা পালন করবো,তোমারও নিমন্ত্রণ রইলো,হালকা ধারায় এসো। 

                                                  ইতি
                                 বিনতি সহকারে মিসেস ফ্রগ

ঠিকানা - ছতরি লেন

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

স্বপ্ন সফলে প্রয়াস✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 স্বপ্ন সফলে প্রয়াস
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

'জিন্দেগী মে হার কর জিতনে ওয়ালো কো হি বাজিগর ক্যাহতে হ্যায়!'
জীবনে সফল সকলেই হতে চায়,তার জন্য স্বপ্নের জাল বুনতেও শুরু করে অনেকেই। কিন্তু শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবেনা,তাকে বাস্তবায়িত করতে হবে। তার জন্য চাই শ্রম ও অধ্যবসায়। কঠোর শ্রমের পরও অনেক স্বপ্নই পূরণ হয়না,অধরা থেকে যায়। কিন্তু তাতে দমে গিয়ে সফলতার পথ থেকে পিছিয়ে আসা চলবেনা। বরং আত্মবিশ্লেষণ করে দেখতে হবে কোথায় গলদ ছিলো,কোথায় চেষ্টার খামতি ছিলো! এতে হয়তো পরিশ্রম অনেকটাই বাড়বে কিন্তু এর জন্য যে সফলতা আসবে তার আস্বাদ নিতে গিয়ে মনে হবে ঠিক সময়ে যদি উঠে না দাঁড়াতাম,নিজেকে অনুপ্রেরণা না দিতাম তাহলে হয়তো এই দিনটা দেখতে পেতাম না। স্বপ্ন সেটা নয় যেটা কেউ ঘুমিয়ে দেখে বরং স্বপ্ন সেটাই যেটা বাস্তবে রূপান্তর করতে গিয়ে করোর চোখের ঘুম উড়ে যায়। সাজানো গোছানো বাগান বাড়ীর স্বপ্ন সবাই দেখতে পারে কিন্তু যারা সেই বাড়িতে থাকতে পারে তারাই আসল স্বপ্ন সফলের বান্দা। হেরে গিয়ে পিছিয়ে আসা নয়, বরং সেখান থেকে শুরু করে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়াই হলো জীবন। জীবন চলবে নিজের ছন্দে, তাল মেলাতে না পারলে বিশ্রাম নাও,অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ো, ভিডিও দেখো কিন্তু নিজের এগোনোর গতি রুদ্ধ কোরোনা, নিজেকে হেরে যেতে দিওনা। স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলো,হারতে হারতে দেখবে একদিন ঠিক জিতে গেছো,বিজয়ীর মুকুট উঠেছে শিরে। 

"স্বপ্ন বিফলে হোয়োনা ম্রিয়মাণ, লড়াই চালিয়ে যেও দ্বিগুণ জেদে 
একদিন বিজয়ীর শিরোপা মিলবে দেখো,মিটবে  সফল হওয়ার খিদে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

তেল কারে কয়?✍️ ডা:অরুণিমা দাস

তেল কারে কয়?
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

একটা কথা আছে না, "বাটার লাগানে বালে কি হাত মে হামেশা চাক্কু রহতা হ্যায়।" কথাটা বাস্তবে সবসময় যুক্তিযুক্ত। যন্ত্রের কোনো অংশ শব্দ করে প্রতিবাদ জানালেই তাকে তেল দেওয়া হয় যাতে আর শব্দ না করে, কিন্তু তার সাথে এটাও সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয় যাতে এটা আর পুনরাবৃত্তি না হয়। মুখ বুজে নিঃশব্দে কাজের বোঝা টেনে যাও, তাহলেই তুমি সবার চোখে সেরা। যেই না আওয়াজ করেছো তখনি জেনে নিও তোমার বদলের জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগবে। তেল তোমায় ততদিন দেবে যতদিন তার নিজের স্বার্থ আছে। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে আর এক ফোঁটা তেল খরচ করতেও তার বিবেকে বাঁধবে। তখন বরং সে ভাববে পরিবর্তনের কথা, নতুন কাউকে আনলে সে বরং আগের লোকের থেকে ভালো কাজ দেবে। সবাই শুধু মুনাফা লোটার খেলায় মত্ত কেউ অন্যের ভালো চায় না। যতদিন পর্যন্ত তুমি সার্ভিস দিতে পারবে ততদিন পর্যন্ত তুমি সবার চোখে ভালো। যেদিন থেকে কলরব শুরু করবে সেদিন থেকেই তুমি বাতিলের খাতায়। যন্ত্র আর যন্ত্রাংশ একটি প্রতীক মাত্র, বর্তমান সময়ে এই ভাবেই সবকিছু চলছে। যুগের সাথে এসব বাতিল তালিকার সংখ্যা আরও বাড়বে বই কমবেনা।


"তেলের কদর বুঝবে, যতদিন পর্যন্ত মুখবুজে করে যাবে কাজ

পরিত্যক্ত ঘোষণা করবে সেদিন, যেদিন করবে তুমি আওয়াজ!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 


শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫

চাওয়া পাওয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 চাওয়া পাওয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমি তো লাইব্রেরীতে ডিরেক্টর হতে চাইবো। দিন রাত বইয়ের মাঝে থাকবো। দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সংগ্রহ যেখানে থাকবে সবচেয়ে বেশী। বুকওয়ার্মদের নিয়ে একটা বুকক্লাব বানাবো। সবাই ফোন ছেড়ে বইয়ের নেশায় যাতে বুঁদ হয়ে থাকে তার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাবো। দশতলা লাইব্রেরী হবে যার প্রতি কোণায় থাকবে ভিন্নস্বাদের বই যা মানুষকে এক অমোঘ আকর্ষণে আকর্ষিত করবে। সাথে থাকবে এলাহী খাওয়াদাওয়া করার জন্য ক্যাফে। একটা এনসাইক্লোপিডিয়া লিখবো যাতে সব রোগের চিকিৎসা থাকবে। সাথে 
আর একটা প্রাইভেট জেট বিমান রাখবো। যাতে চড়ে বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারবো। যখন যেখানে ইচ্ছে চলে যাবো। আজ আরব সাগর তো কাল দুবাই। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবো। বই পড়া আর বিশ্ব ভ্রমণ করেই কাটিয়ে দেবো। আর প্লেনে যেতে যেতে যেখানে দেখবো মানুষের কষ্ট সেখানে নিজের সাধ্যমতো তাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবো। 

"মাতাল চাওয়া পাওয়া গুলোকে গুরুত্ব দিও,উড়তে দিও স্বপ্নাবেশে 
কান দিও না লোকের কথায়, সে তো সদাই হাওয়ায় ভাসে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

গুরুপূর্ণিমা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 গুরুপূর্ণিমা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

গুরুপূর্ণিমা সাধারণত প্রতি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট তিথিতে পালিত হয়। 'গুরু' শব্দের অর্থ যিনি জ্ঞানের আলোতে চালিত করে আধ্যাত্মিকতার বীজ মনে প্রোথিত করেন। ভক্ত ও গুরুর মধ্যে সেতুবন্ধন এই দিনটি। অনেকে মনে করেন এই দিনটি মহাভারত রচয়িতা ব্যাসদেবের প্রতি উৎসর্গীকৃত যিনি জ্ঞানের এক ভান্ডার ছিলেন তাই এই দিনটিকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। জন্মের পর পিতা মাতা আমাদের গুরু,আস্তে আস্তে যখন বড় হই আমরা তখন শিক্ষক আমাদের শিক্ষা দিয়ে জ্ঞানের আলোতে চালিত করেন। ছাত্ররা এই দিন তাদের শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে প্রার্থনা, আচার অনুষ্ঠান ও ভক্তির মাধ্যমে। যদিও গুরুকে সম্মান জানানোর কোনো বিশেষ দিন হয়না, তাও হিন্দুধর্ম মতে এই দিনটি সবার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে গুরু মন্ত্র জপ করলে মন শুদ্ধ হয়, ঈশ্বরের কৃপা লাভের পথ প্রশস্ত হয়। তাই বৈদিক যুগ থেকেই গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে গুরুকে সম্মান জ্ঞাপন করলে অক্ষয় আশীর্বাদ প্রাপ্তি হয়। 

"গুরুমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গুরুকে করো সম্মান প্রদর্শন 
চলার পথে বাঁধা দূর হোক,গুরুই হোক ধ্যান জ্ঞান।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫

 শিরোনাম - সৌভাগ্য
 ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


জীবনে সারাসময় ভাগ্য এক রকম থাকে না। কখনও ভালো বা কখনো খারাপ সময় চলে। তবে যে রকম সময় চলুক থেকে থাকা যাবেনা। চলতে থাকতে হবে। ভালো সময়ে খুশি মনে নিজের কাজ করে যেতে হবে। আর সময় যখন ভালো যাবে না, মনকে শান্ত রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সৌভাগ্য দুর্ভাগ্য সব আপেক্ষিক ধারণা। নিজের চেষ্টায় ভাগ্য তৈরী হয়। তাই নিজের কাজটুকু ভালোভাবে করে যাওয়া উচিত যাতে জীবনে চলার পথে ভাগ্য সাথ না দিলেও মনে যেনো কোনো খেদ না থাকে। লড়তে লড়তেই এগোতে হবে। জ্যোতিষ বিশ্বাস না করলেও কোনো এক জ্যোতিষী আমায় বলেছিলেন সারা জীবন স্ট্রাগল করতে হবে,কোনো কিছুই সহজে আপনার জন্য আসবে না। ওনার এই কথা টা অক্ষরে অক্ষরে মিলেছে। তাই সৌভাগ্য কম সময়ের কি বেশী সময়ের এটা আর ভাবার সময় নেই আমার। শুধু নিজের কর্তব্য টুকু মন দিয়ে করার চেষ্টা করি। আর মনে হয় সকলেরই তাই করা উচিত। 

"নিজের কর্ম আর প্রচেষ্টায় সকলের ভাগ্য করে নির্ভর
তাই হাতের রেখায় নয়,বিশ্বাস রেখো আপন কর্মের উপর।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...