বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছরের শুরু মানেই রেজোলিউশন নেওয়া যে এই করবো,সেই করবো। এখন তো আবার দুবার করে রেজোলিউশন নেওয়া চলে,ইংরেজি বছরের শুরুতে আর বাংলা বছরের শুরুতে। তবে বাঙালী বলে নববর্ষের শুরুতেই বেশি করে অঙ্গীকারবদ্ধ হই। ভালো হয়ে থাকবো,কারোর মনে কষ্ট দেবোনা এগুলো দিয়ে শুরু হয় অঙ্গীকার নেওয়া। পেশেন্ট পার্টি যতই খারাপ হোক তাদের সাথে হাসিমুখে বলল বলবো। পঞ্চম বার সিজার হতে আসা পেশেন্ট দের প্লাসেন্টা ইউটেরাসে আটকে গিয়ে হেবি ব্লিডিং হলেও খুশি মনে ম্যানেজ করবো। কিন্তু রাগ করবোনা যতই যাই হয়ে যাক। গ্যাংরিন হয়ে যাওয়া পেশেন্ট অনিয়ন্ত্রিত শর্করা নিয়ে এলে তাকে বকাঝকা না দিয়ে বোঝাবো ভালোভাবে। জুনিয়র দের মাথায় উঠতে দেবোনা। এতো গেলো কাজের জায়গার কথা,এরপর আসা যাক অন্য কথায়। গল্পের বই বেশী কিনবোনা। আগে বুক সেলফ বানাতে হবে সেটা মাথায় রাখবো। ৩-৪ টে বই একসাথে পড়বোনা। একটা বই পড়া শেষ করে আরেকটা বই পড়া শুরু করবো। নতুন জামাকাপড় কিনবো,পুরোনোগুলো বের করে আলমারি পরিষ্কার রাখবো। কসমেটিকস কিছু কিনবো,বই না কেনার জন্য কিছু টাকা বাঁচলে। সাজুগুজুতে মন দেবো। বাইরের খাবার বেশী খাবোনা, বাড়ীর খাবার খাবো ভালো করে। চকোলেট আইসক্রিম খাওয়া কমিয়ে দেবো। লেখালিখিটা নিয়মিত করার চেষ্টা করবো। জার্নালে আরো পাবলিকেশন করবো। পড়ার বই থেকে কম দুরত্ব বজায় রাখবো। অপ্রিয় সত্য কথা কম বলবো। আর কেউ ইনসাল্ট করে কিছু বললে হাসিমুখে বেরিয়ে আসবো কারণ এটা তাঁর নীচু ও বিষাক্ত মানসিকতার পরিচয়। অনেক কিছু অঙ্গীকারের কথা লিখলাম কিন্তু কতটা পালন করতে পারবো জানিনা। তাও তো ইচ্ছে করে বছরের শুরুতে কিছু প্রমিস করতে নিজের জন্য। আর ভালোমানুষ হবার জন্য চেষ্টা করবো,এটাই সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। 

"বছর শুরুতে করি ভালো কিছু অঙ্গীকার,নিজেকে শোধরাতে
তবেই না বছর শেষে সেটার ফলাফল যে পাবে হাতে নাতে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৯ এপ্রিল, ২০২৬

শিরোনাম - ছুটছি মিছে কীসের পানে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ছুটছি মিছে কীসের পানে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সকলে মিলে ছুটছি মিছে কিসের পানে
            শান্তি যে নেই কোনোখানে।
ব্যস্ত সবাই যে যার নিজের কাজে
             রয়েছে টাকার সুখে সবাই মজে।
কেউ বন্দী ল্যাপটপে,কেউ বা আবার ফোনে
             যান্ত্রিক হয়েছে সবাই,ভুলেছে আপনজনে।
ক্লান্ত সবাই সুখের পেছনে ছুটে ছুটে
            লাভ হয়নি কিছুই,শান্তির ঘুম গেছে উঠে।
সুখ পেতে সবাই,ছোটে মরীচিকার পিছনে
           ভুলে গেছে তাই,সুখ যে আছে নিজের মনে।
তাই কলম সঙ্গী করে স্ট্রেস হোক দূর দিনের শেষে 
       আর গল্পের বইতে থাকে স্লিপিং পিল যে মিশে।
সুখের পিছনে মিছেই ছোটা সবই যে শুধু মায়া
           দিনের শেষে সঙ্গী কেবল নিজের ই ছায়া।
বন্ধ হোক তবে মিছে এই ছোটাছুটি
           সুখ পেতে তাই শুধু নিজেকে নিয়ে মাতি।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 
            
            
              
             
             

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

অদৃশ্য ক্ষত✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 অদৃশ্য ক্ষত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সকলের চোখে যা দৃশ্যমান সেই ক্ষত নিরাময় খুব সহজে হয়ে যায়। বাহ্যিক ক্ষত মেরামতির জন্য দরকার সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও ওষুধের প্রলেপ। কিন্তু যেই ক্ষত দেখা যায়না,যা অদৃশ্য সেই ক্ষত নিরাময় কিন্তু সহজে হয়না। মনের গভীরে থাকা ক্ষত শারীরিক ক্ষতের চেয়ে অনেকগুণ বেশী মারাত্মক। মানুষের মন ই যদি ভালো না থাকলো তাহলে কিসের ভালো থাকা! কথার খোঁচা, কোনো বিরূপ ঘটনা কিংবা কোনো আবেগপ্রবণ ঘটনা মনকে ক্ষতবিক্ষত করতে যথেষ্ট। আর এই ক্ষতের প্রলেপ দেওয়া কিন্তু সহজ নয়। অনেক সময় এমন কিছু ট্রমা হয়ে যায় যে সেটা নিরাময় করতে যথাযথ কাউন্সেলিং দরকার হয় কিনমা পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার এর জন্য প্রয়োজন ট্রমা থেরাপি দরকার হয়। তাই মনের কথা চেপে রেখে ক্ষত না বাড়তে দেওয়া উচিত। যারা অন্তর্মুখী স্বভাবের তারা লেখার মাধ্যমে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে। বিশ্বাস করে কাউকে বলা যাবে এমন কাউকেও মনের কথা বলতে পারে কিন্তু অন্তরে ক্ষত লালন করে নিজের ক্ষতি করা যে কোনো রোগের চেয়েও বেশী মারাত্মক। ধীরে ধীরে এই ক্ষত এমন শাখা প্রশাখা বিস্তার করে যে সেই ক্ষত নিরাময় করা একসময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আজকাল তাই মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ওপরে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন ঠিক থাকলে সব ঠিকঠাক চলবে। তাই কথা বলার সময় বা কারোর কোনো ব্যবহারে অন্য কাউকে আঘাত করা উচিত নয়। বাইরের হাসিমুখ দেখে কারোর ভেতরের কষ্টটা হয়তো বোঝা যায়না। সবাই লড়াই করছে নিজেকে ভালো রাখার জন্য,ক্ষত গুলোকে লুকিয়ে প্রতিদিন হাসিমুখে লড়াই করছে,তাই কোনোভাবেই তাদের অদেখা লড়াইকে অসম্মান করা উচিত নয়। 

"কথা দিয়ে হোক বা আচরণ দিয়েই হোক কোরোনা করো মনের ক্ষতি
অদৃশ্য ক্ষত হয়না নিরাময়,মনে রেখো ব্যবহারই মানুষের পরিচিতি।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১ এপ্রিল, ২০২৬

এপ্রিল ফুল✍️ ডা: অরুণিমা দাসএপ্রিল ফুল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এপ্রিল ফুল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শুধু এপ্রিলের প্রথম দিনটাই কেনো ফুল বা বোকা বানানোর জন্য বরাদ্দ? আর অন্য দিনগুলো নয় কেনো? এ নিয়ে অনেক ইতিহাস রয়েছে। 
পয়লা এপ্রিল। বছরের ৯২ তম দিন। পথ চলা তখনও অনেক বাকি। ১৫৬২,পোপ গ্রেগরি খ্রিস্টানদের জন্য আনলেন নতুন ক্যালেন্ডার। এর আগে পর্যন্ত নতুন বছর পালিত হতো এপ্রিল ১ এ। এই পরিবর্তনের খবর গোটা পৃথিবীর জানতে লেগে গিয়েছিল বিস্তর সময়। মানুষ তখনও এপ্রিল ১ কে কেন্দ্র করেই পাঠিয়ে চলেছে শুভেচ্ছা বার্তা। আর সেগুলোই জমা হয়েছে মজার দিনের গল্প হিসাবে।
এই ছিল গল্প এক। গল্পই বটে! কারণ ইতিহাস আজও এই ঘটনার কোনও জ্যান্ত দলিল প্রকাশ করে উঠতে পারেনি। 
এটা তো গেলো ইতিহাস! কিন্তু বাস্তব? সেটা তো অন্য কিছু বলে। যখন ছোট ছিলাম তখন বড় হবার লোভ আমাদের বোকা বানায়। বলা হয় যখন ভালো করে পড়াশোনা করো, মাধ্যমিক পরীক্ষা জীবনের প্রথম বড় পরীক্ষা! তখন কি বোকা হইনা আমরা? উচ্চমাধ্যমিকের পরে ভালো কলেজে ভর্তি হয়ে গেলেই লাইফ সেট। এগুলো আসলে বোকা বানানোর দুর্দান্ত ফন্দি। এই ট্র্যাপে পা দিয়েই বছরের পর বছর আমরা বোকা হচ্ছি। বসের টার্গেট পূরণের ট্র্যাপ সেটাও আরেকটা বড় ট্র্যাপ। আর বিজ্ঞাপনে একটা প্রোডাক্ট কিনলে গাড়ি বাড়ি ফ্রী,লাকী ড্রতে বড় ইনাম! এসব তো বোকা বানানোর জন্য যথেষ্ট। চটকদার জীবনের হাতছানি,জীবনে সুখ শান্তি ঐশ্বর্যে থাকতে হলে প্রচুর পরিশ্রম করতে হবে,এটাও একটা ফাঁদ। মরীচিকার পেছনে ছুটে ছুটে ছোট থেকে বড় হই, বুড়ো হই। কিন্তু চালাক ও পরিণত হতে পারি কয়জন? কেউ ভাবছে নেশায় আসক্ত হয়ে দুঃখ ভোলা যাবে,কিন্তু নেশার জন্য তার শরীরের কতটা ক্ষতি হচ্ছে সেটা ভাবছেনা একবারও! বোকা কি হচ্ছে না সে? আবার কেউ ভাবছে অন্যের লেগপুল করে এগিয়ে যাবে। কিন্তু এটা ভাবেনা যে তার অসৎ কর্মের জন্য সে কতটা পিছিয়ে পড়বে! তাই এমন ভাবে কাউকে বোকা বানানোর দরকার নেই যাতে নিজেই জ্যাক অ্যাস হয়ে যেতে হয়। বোকা বানাও মজাদার উপায়ে কিন্তু কারোর ক্ষতি না করে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - অপেক্ষা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - অপেক্ষা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অপেক্ষা মানেই মনের কোণে একবিন্দু আশার আলো। অপেক্ষা মানেই বেঁচে থাকা,জীবনচক্রের চক্রবুহে থেকেও ভালো কিছু হবে,খারাপ সময়ে মনে করা ভালো দিন নিশ্চয়ই আসবে, সব বাধা কেটে কালো মেঘ সরে গিয়ে আবার সোনালী দিনের দেখা মিলবে। ছোটবেলার সময়ে বড়ো হবার অপেক্ষা,মাধ্যমিকের পর অপেক্ষা উচ্চমাধ্যমিকের, উচ্চমাধ্যমিকের পর অপেক্ষা কলেজে ভর্তির,কলেজ জীবন পেরিয়ে গেলে চাকরির অপেক্ষা। আবার বড়ো হয়ে গেলে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু সরে এসে ছুটি নিয়ে নিজেকে আনন্দ দেওয়া সেটাও একটা অপেক্ষা। চিকিৎসকের জীবনে অপেক্ষা রোগীর ভালো হয়ে ওঠার আর রোগীর বাড়ীর লোকের অপেক্ষা সুস্থ করে তাকে বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সেনাবাহিনীর বাড়ীর লোকের অপেক্ষা কখন তাদের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে অক্ষত অবস্থায়। বিদেশে থাকা লোকেদের অপেক্ষা কবে দেশে ফিরবে তারা। হুমায়ুন আহমেদের 'অপেক্ষা' উপন্যাসটিও বলে "অপেক্ষা মানুষের বেঁচে থাকার এক টনিক।" অপেক্ষা মানুষকে ধৈর্যশীল করে তোলে,নমনীয় করে তোলে আবার কোনো সময়ে কঠিন করে তোলে। অপেক্ষা বাঁচতে শেখায় আর বাঁচাতেও শেখায়। 

"অপেক্ষা করছে সবাই, আছে আশা নিরাশার দোলাচলে
সময় বদলে দিতে পারে সবকিছু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না করাই হয়তো ভালো। এমনও হতে পারে যে অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে হয়তো শত্রুকে জিতিয়ে দেবার রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। কর্ম জীবনে অনেক কিছুই দেখা যায় আর বোঝাও যায় কিন্তু সেখানে খারাপ লাগার ব্যাপার গুলো সর্বসম্মুখে প্রকাশ না করাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের মতো কাজ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আর সব সত্যি কথা বলতে পারলে কোনো মানুষই বন্ধু থাকবেনা, মুখোশ খুলে আসল রূপ বেরিয়ে পড়বে। যাদের থেকে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। আবার অনেকসময় কেউ ভালো কিছু করলো কিন্তু তাকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়না, সেই অনুভূতি অন্যরকম হয়। তখন তাকে মনে মনে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে। অপ্রকাশের জন্য সেসব অনুভূতি যাতে মনের ভার না হয়ে ওঠে সেজন্য কিছু কথা লেখা থাক বরং খাতার পাতায়। এতে মনের ওপর চাপও পড়বে না আর অপ্রিয় সত্য বলে শত্রু বাড়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে। অপ্রকাশের মাধ্যমে যে এক অন্যরকম ভালোলাগা আছে তার ছাপ থেকে যাক। টক্সিক মানুষদের কাছে অনুভূতি প্রকাশ না করে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করাতে নিজের ভালো। আর নিজেকে কীভাবে ভালো রাখতে হবে এটা নিজে ছাড়া কারোর পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। 

"কিছু অনুভূতি থাক একান্ত আপন,সযত্নে মনের কোণে 
সব কিছু বুঝেও প্রকাশ্যে তা ভুল করেও এনোনা টেনে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

হিংসাত্মক প্রতিবাদের চেয়ে অহিংসার পথ অনুসরণ করা অনেকাংশে শ্রেয়। অপরপক্ষে যে থাকবে তার বিবেক জাগ্রত করতে হলে হিংসার পথ নয় বরং অহিংসভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অহিংসতার কাজের সাথে রেডিয়ামের অনেকটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়। একটি মারাত্মক বৃদ্ধিতে মিশে থাকা কোষের ওপর রেডিয়াম ক্রমাগত নীরবে এবং অবিরামভাবে কাজ করে যতক্ষণ না এটি রোগাক্রান্ত কোষকে একটি সুস্থ কোষে রূপান্তরিত করে। একইভাবে এমনকি সামান্য পরিমাণ প্রকৃত অহিংসাও নীরব,সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য উপায়ে কাজ করে এবং মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ,হিংসা আর বিদ্বেষকে সমূলে উৎপাটন করতে সাহায্য করে। 
অন্যভাবে ভাবতে গেলে অহিংসাকে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানও বলা যায়। বিজ্ঞানের শব্দভাণ্ডারে 'ব্যর্থতা' শব্দটির কোনও স্থান নেই।
অহিংসার মূল তাৎপর্য হল,আমাদের মধ্যে থাকা অহিংসা আমাদের প্রতি আমাদের প্রতিপক্ষের মনোভাবকে নরম করে তুলবে,কঠোর নয়। এটা তার মনে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সুরে আঘাত করবে। যদিও সেই আঘাতে তার শারীরিক কোনো ক্ষতি হবেনা,কিন্তু মননশীল চিন্তার উন্নতি হবে কয়েকগুণ। 
গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলন আর সত্যাগ্রহ আন্দোলন অহিংসা নীতির প্রয়োগ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি অত্যাচারীর তরবারির ধার ভোঁতা করতে চেয়েছেন কিন্তু সেটা কোনো অস্ত্রপ্রয়োগে নয় বরং তার মনের পরিবর্তন ঘটিয়ে অহিংসতার মাধ্যমে তার হিংস্র মনোভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে চেয়েছেন। 
আরও একটি অহিংসা সর্ম্পকিত উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করে নেওয়া যাক। ১৯৬০-এর দশকে আফ্রিকান ও আমেরিকানদের সমতার জন্য লড়াই করা ছিল লুথার কিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। ২০১৭ সালের হিসাবে কলম্বিয়া,ইয়েমেন, এল সালভাদর,পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ।
কলম্বিয়া মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি। পাকিস্তান একটি ধর্মীয় যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে যেখানে নিরীহ পথচারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নাইজেরিয়া দুটি চরমপন্থী গোষ্ঠী বোকো হারাম এবং পশ্চিম আফ্রিকার আইসিস দ্বারা আতঙ্কিত। তবে সহিংসতা কেবল এই দেশগুলিতেই নয় বরং বিশ্বের একটি বিশাল অংশে একটি সাধারণ প্রবণতা। ক্যারিবিয়ান থেকে আফ্রিকা এমনকি এশিয়ার কিছু অংশেও সহিংসতা একটি মহামারী।
সহিংসতা একটি চলমান চক্র যা ভাঙা কঠিন,এবং লুথার কিং এর চেয়ে বেশি কেউ এটি বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়। তিনি অহিংস কর্মকাণ্ডের শক্তি এবং সেই শক্তি সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং অন্যান্য অহিংস প্রতিবাদ প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে। 
বর্তমানে যেমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অহিংসা নীতির প্রয়োগ হলে অনেক ক্ষেত্রে হিংসা হানাহানি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজ হবে। 

"প্রতিবাদ হোক নম্র,কোনো হানাহানি আর অস্ত্র প্রয়োগ নয়
হিংস্র নয়, অহিংসতার নীতি প্রয়োগে কোমল হোক শত্রুর হৃদয়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সিদ্ধান্ত খুব ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু গভীরতা অনেক বেশী। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভাবতে হয় অনেক কিছু, হয়তো কোনোকিছু বা সবার বিপক্ষে গিয়ে নিতে হয় কিংবা নিজের ভালো করতে নিতে হয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখতে গিয়ে কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা মনে পড়ছে। সেগুলোকেই গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছি। স্কুলজীবনে ব্যাকবেঞ্চার ছিলাম ফাইভ সিক্স অবদি। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা পাত্তাই দিতো না,কথা বলতে গেলে একটা অহংভাব বোঝা যেতো ওদের মধ্যে। নোটস চাইলে কিছু বাহানা দিয়ে এড়িয়ে যেতো। তাই আমরা কয়েকজন ব্যাক বেঞ্চাররা ঠিক করলাম নিজেরাই যা পারবো নোটস নেবো,কারোর কাছে চাইবোনা। সেই বন্ধুদের কিছুজন যারা আমরা শেষ দশে পাকাপাকি ভাবে থাকতাম তারা কিছুটা এগিয়ে এলাম। মিডল বেঞ্চার হলাম আমরা কিছুজন। সেই বন্ধুদের একজন আজ বেশ বড়ো মাপের গায়িকা, গান শুনে মনে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা এখন মাঝে মাঝে দেখা হলে নিজেরাই কথা বলে। সবার সাথে ভালোভাবেই কথা বলা হয়। যে যেমন ভাবে ভেবেছে সেরকম হয়েছে হয়তো। 
কলেজ জীবনে প্রবেশ করে সেকেন্ড ইয়ারে দুজন ভালো বন্ধু পেয়েছিলাম। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এমবিবিএস এর ফাইনাল পরীক্ষার বৈতরণী গুলো উতরে যাওয়া যেতো। এরপর ইন্টার্নশিপে সবার পোস্টিং আলাদা ওয়ার্ডে হলো। তাও দিনের শেষে পাঁচ দশ মিনিট হলেও কথা বলার চেষ্টা চলতো। একজন বন্ধু ইন্টার্নশিপ শেষ করে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে জয়েন করলো,এখন কথা হলে যেমন ও বলে তখন তোদের সাথে একসাথে পড়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনটা করে নিলেই হতো। ওকে বোঝানো হয় তখনকার সিদ্ধান্ত তোর যেটা ভালো মনে হয়েছিলো নিয়েছিলি,এখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কর। ও বলতো এই বয়সে আবার পড়াশোনা! এম সি কিউ করা কি পোষাবে! যাইহোক ও সিদ্ধান্ত নিলো আবার পড়া শুরু করবে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স এক্সামও দিয়েছে সদ্য। দেখা যাক কি হয়! সিদ্ধান্ত কোন দিকে নিয়ে যায় ওকে। আশা করি ভালোই হবে। সুমন ছিলো আরেকজন খুব ভালো বন্ধু,ইন্টার্নশিপের পর যখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন এর পরীক্ষা দিচ্ছি আমরা সবাই,ও পেলো পাবলিক হেলথ নিয়ে এম ডি করার সুযোগ। সবাই বললো এই সাবজেক্ট না নিয়ে ক্লিনিক্যাল কিছু নে। সুমন বললো না আবার ওই চব্বিশ সাবজেক্ট পড়ে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব। পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়লো সুমন। এখন বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের সাথে প্রজেক্ট এ লিড করে সুমন আর দু বছরে একবার বিদেশ সফর করতেই হয়,
অর্গানাইজেশনের কাজে। কাজও হয় বিদেশ ঘোরাও হয়ে যায়। ও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার দায় ওর। যারা বড় বড় কথা বলেছিল তাদের দায়ও তাদের নিজস্ব। সুমন যে বছর চান্স পেয়েছিল সেই বছর আমি কোনো সাবজেক্ট নিতে পারিনি। আবার পরীক্ষা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার দায় ও আমার,আজ তা বুঝতে পারি। তারপর এম ডি করতে ঢুকে বন্ধুদের স্বরূপ চিনে তাদের থেকে দূরে সরে এসে কলম তুলে নিয়েছিলাম,আমার সেই সিদ্ধান্তের দায়ও আজ আমার। আর কলম তুলে নিয়েছিলাম বলেই আজ সবার কথাগুলো একজায়গায় লেখার চেষ্টা করছি। কলমকে বন্ধু করেছিলাম বলে লেখক ও লেখনী গ্রুপে যুক্ত হতে পেরেছি। চেষ্টা করি নিয়মিত লেখারও। সব রকম সিদ্ধান্ত, ভুল ঠিক যাই হোক দায়ভার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকেই নিতে হয়,আর সাথে নিতে হয় নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব।

"ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু বেশ কয়েক গুণ বেশি তার গভীরতা 
পরিণত হোক চিন্তাধারা,গ্রাস না করুক সিদ্ধান্তহীনতা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দেশপ্রেম - আবেগ না দায়িত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 দেশপ্রেম - আবেগ না দায়িত্ব
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

দেশের প্রতি ভালোবাসা সকল মানুষেরই থাকে। সেই ভালোবাসার প্রকাশ শুধু আবেগ দিয়ে হয়না, তার জন্য দেশের প্রতি সবার যা কর্তব্য সেটা পালন করা উচিত। দেশের দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে নৈতিক শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সবার উচিত দেশের উন্নতির জন্য সচেষ্ট থাকা। আর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে সততার সাথে কাজ করলে দেশের উন্নতি হতে বাধ্য। ইঞ্জিনিয়াররা যেমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের নাম বিদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে, চার্টার্ড অ্যাকাউ্ট্যান্ট, অর্থনীতিবিদ এরা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার কাজে নিয়োজিত,ডাক্তাররা মানুষকে সুস্থ রেখে মরবিডিটি কমিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করছে, সেনাবাহিনীতে যারা আছেন তারা শত্রুদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছেন। এভাবে সবাই গঠনমূলক কাজ ও সংঘবদ্ধতার মাধ্যমে দেশের জন্য ভালোবাসা পোষণ করছেন। তাই শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, সুচারুভাবে ও নিপুণতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে সবাইকে। কোনোকাজে অবহেলা করা যাবেনা। সুনাগরিক হিসেবে এগুলো আমাদের সকলের দায়িত্ব আর শুধু স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন নয় সবদিনই সচেতন ভাবে দায়িত্ব পালন করে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা যাবে। 


"নাগরিক হিসেবে সুপ্রচেষ্টা থাকুক,চিন্তাধারার হোক বিকাশ
আবেগ নয় শুধু,দায়িত্ব ও কর্তব্যের সম্মিলনে থাকুক দেশপ্রেমের প্রকাশ।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নেতা ও নেতৃত্ব✍️ ডা:অরুণিমা দাস

নেতা ও নেতৃত্ব
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

নেতা মানেই যে শুধু শাসক হবেন এমন হওয়া কাঙ্ক্ষিত নয়। শাসন তার কাজের একটা অংশ অবশ্যই কিন্তু তার সাথে এমন ভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে যাতে তার অধীনে থাকা সকলে আত্মবিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। তাঁর শেখানো চেতনার পাঠ সবাইকে স্বনির্ভর করে তুলবে,সবাই মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেই শক্তিতে বলীয়ান করবে। নেতা মানে সমাজের মাথা আর তার সব কথা শুনে চলতে হবে এরম সম্পর্ক যেনো জনগণের সাথে তার না হয়। ভয়ে শুধু নেতাকে সম্মান করতে হবে, তেল দিয়ে চলতে হবে, তবেই নেতা জনগণের জন্য কাজ করবেন, মন থেকে তাকে সম্মান দেওয়া যাবেনা এরম নেতা কখনো কাম্য নয়। প্রকৃত নেতা কখনোই এসবের ধার ধারেন না,তিনি স্বমহিমায় নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে জনগণের কাছে সেরার স্থান অর্জন করেন। 
আজ মারাঠারাজ শিবাজীর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এই মহান নেতার কর্মকান্ডের কিছু অংশকে বর্তমান সমাজের শাসকদল আদর্শ করতেই পারেন। মারাঠাদের উত্থান মূলত হয়েছিল শিবাজী মহারাজের হাত ধরে। একজন নেতা হিসেবে তিনি শুধু এক জাতির উত্থানই করেননি সেই জাতিকে সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন তার আদর্শ,সামরিক শাসনশৈলী ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। অবশ্য এর পেছনে তাঁর শিক্ষাগুরু দাদোজা কোন্ডোদেবের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর প্রভাবেই শিবাজী মহারাজ এক সাহসী সৎ নেতৃত্ববান ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। 
তাই মাঝে মাঝেই ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে অতীতের কিছু ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে সমাজ চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে হয়তো ভালোই হবে, মঙ্গল হবে সমাজ ও সংস্কারক সকলের। 

"নেতার কর্মকান্ডের কাহিনী হোক ভবিষ্যতের জন্য  
 অনুপ্রেরণা
শুধু কথায় নয় কাজেও দেখিয়ে দিক বর্তমান,
জাগুক সমাজ চেতনা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম - আলিঙ্গন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - আলিঙ্গন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে টিকে থাকতে হলে হাজারো ঝড় ঝাপটা সামাল দিয়ে এগোতে হবে। সেই আদিম যুগ থেকে চলছে সংগ্রাম, চার্লস ডারউইনের অরিজিন অফ স্পিসিসে আছে স্ট্রাগল ফর এক্সিস্টেন্স মানে জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম। এই জন্যই হয়তো বিবর্তনবাদের উৎপত্তি হয়েছে। আদিম যুগে চার হাত পা ওয়ালা মানুষ থেকে দু পায়ে হাঁটা, দু হাত দিয়ে লড়াই করা "হোমো সেপিয়েন্স" হতে দিনের পর দিন লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। 
তাই পরিবর্তন এলে তাকে দূরে না সরিয়ে আলিঙ্গন করতে হবে। "জীবন প্রাকৃতিক এবং স্বতস্ফূর্ত পরিবর্তনের একটি সিরিজ"। জীবনে চলার পথে চ্যালেঞ্জ আসা মানে বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন হওয়া। বিবর্তনবাদ শুধু বইতে নয়, সবার জীবনেও পরিলক্ষিত হয়। সাথে মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন যখন অবশ্যম্ভাবী তখন তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত, কিন্তু লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে সর্বদা। আবার পরিবর্তনের হওয়াতে গা ভাসিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়াটাও ঠিক নয়। 

"বিবর্তন বাদ শেখায় সবাইকে,পরিবর্তনকে করো আলিঙ্গন
এগোনোর পথে থেমে থেকোনা,হোক চিন্তাধারার উন্নয়ন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পাওয়ার অফ থিঙ্কিং✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 পাওয়ার অফ থিঙ্কিং
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্বাধীন ভাবে চিন্তা ভাবনা করতে হলে অবশ্যই মনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকাল মানুষের কাছে সময়ের বড় অভাব। নতুন কিছু টপিক এলে সেটা নিয়ে ভাবার আগেই গুগল বা উইকিপিডিয়া দেখে নিচ্ছে। হাতের কাছে যখন যন্ত্র রয়েছে তখন মাথা খাটিয়ে কি লাভ! এরকম চিন্তা মনে পোষণ করে রেখেছে। আসলে জীবনে ক্রমবর্ধমান চাপ মানুষকে স্বাধীন ভাবে ভাবার সময়টুকু দেয়না। তাই ইন্টেলিজেন্ট কোশেন্ট যাই থাক পেশেন্স আজকাল বড্ড কমে গেছে সবার। 
ভাইরাল ট্রেন্ড হোক বা রিলসই হোক এগুলো সবার চিন্তাধারাকে নিয়ন্ত্রণ করেনা। কেউ কেউ নিজের মতন করে ভাবতে চায়। ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে জীবন চলবেনা এগুলো অনেকেই জানেন কিন্তু মানেন না হয়তো।
তবে যতই গুগল উইকি থাক জীবনে চলার পথে কোনো বাধা এলে সেটা থেকে উদ্ধার হতে মাথা খাটাতেই হবে। অভ্যাসের দাস হলেও তখন উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে নিজেকে আর পরিস্থিতিকে সামলাতে হবে। 
মডার্ন হয়ে ট্রেন্ডি হবার চক্করে নিজের ভাবনা চিন্তার বিকাশ বন্ধ হতে দিয়ে লাভ নেই। চারপাশের পরিবেশ যেমনই থাক নিজেকে প্রভাবিত হতে না দিলে কেউই সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা। তাই দিনে একটু সময় হলেও নিজের সাথে কাটানো উচিত, যাতে সবকিছুর থেকে আলাদা হয়ে নিজেকে খুঁজে বের করা যায়। 

"ভাবনা চিন্তার বিকাশ হোক স্বতন্ত্র,কারোর হাতে না থাক তার নিয়ন্ত্রণ
ভাইরাল ট্রেন্ডকে দূর হটাও মনের সাথে মস্তিষ্কের ঘটাও মিলন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্যের অনুভূতি গুলো একটু বেশিই আলগা হয়ে পড়েছে। এখন রাস্তায় দেখা হয়ে সুপ্রভাত বা অন্য কিছু অভিবাদন জানানোর চেয়ে মোবাইলে উইশ করাটা বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাস্তায় কোনো কিছু ঘটলে সেটা নিয়ে এগোনোর আগে মানুষ সেলফি তুলে ধরছে। কাউকে কিছু দান করলে আগে ফেসবুকে জানানো চাই। নিজের মনে খুশি হবার থেকে সো অফ করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়াটা শ্রেয় মনে করছে আজকাল। মি টাইম এখন স্ক্রীন টাইমে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। আর ফ্রী টাইমে মোবাইল আইপ্যাড ঘাটছে কিন্তু একটু কাছে পিঠে হেঁটে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। এতে শুধু সমাজ থেকে দূরে থাকছে শুধু তাই নয়, অনেক কিছু ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধছে। ব্যস্ততা বেড়েছে অনেকটাই কিন্তু তার মধ্যেও যে প্রাণ খুলে বাঁচা যায় সেটাই ভুলতে চলেছি আমরা। ছোট ছোট খুশীর মুহূর্তগুলো সেগুলো শুধু ক্যামেরাতেই বন্দী থাকেনা, ইন্সটাগ্রামে রিল না বানানো অব্দি যেনো মনে একটা অশান্তি থাকে। তাই বড্ড বেশী সামাজিক হচ্ছি মনে হচ্ছে কিন্তু আদপে মানুষের সাথে যোগাযোগ কমছে। ব্যস্ততা শুধুই অজুহাত, ইচ্ছে করলেই খোঁজ খবর নেওয়া যায় কিন্তু নেই সময় আর মানসিকতা সেসব করার। সহানুভূতি গুলো যেটুকু রয়েছে তাও হয়তো একদিন আদিযুগের না শোনা শব্দে পরিণত হবে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে সকলকে।

"মানসিক দূরত্ব বেড়েছে,অধিকমাত্রায় হতে গিয়ে সামাজিক
সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে তাই অনুভূতির সাথে সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কনফিউশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কনফিউশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

হ্যাঁরে হাসো সব রেডী তো? বেরোতে হবে তো এবার। হ্যা সরু দি সব রেডী। তা এই বড়ো ব্যাগটা নিয়েছিস কেনো? আরে এই ব্যাগেই তো তোমার ভক্তদের পাপ পূণ্যের হিসেব আছে। সবাই ওই অঞ্জলীর সময়ে এসে দেবী এই বছর পাশ করিয়ে দাও,পরের বছর ভালো করে পড়বো এসব বলবে আর তুমিও গলে যাবে এসব হবেনা। না রে হাসো, এবারে আমি স্ট্রিক্ট হয়ে গেছি,তাই ওসব কথায় ভুলবোনা ভেবেছি। হাসো বললো এই তো কদিন আগে ঘুরতে গেছিলাম ওখানকার হাল হকিকত দেখতে,তো কিছু বাড়িতে উঁকি মেরে দেখি কিছু খোকা খুকী ফোন নিয়ে ব্যস্ত,এক জায়গায় তো দেখি বই থেকে আলো ঠিকরে এক খুকীর মুখে পড়ছে,ভাবলাম লেডি বিদ্যাসাগর হবে বোধহয়! ওমা কাছে গিয়ে দেখি সে ট্যাবে ওয়েব সিরিজ দেখছে তাও বইয়ের মাঝে লুকিয়ে। এদিকে দুদিন পরে তার নাকি ফাইনাল পরীক্ষা। কিকরে বুঝলি যে ওর পরীক্ষা? তা তো খুব সহজ দিদি,ওনারা যে যেমন দাবী জানান আমিও ডায়েরীতে নোট করি। তাদের লিস্টও বানিয়েছি। কেউ বলছে কুল খেয়েছি ক্ষমা করে দাও দেবী! তোমায় আরো বড় কুল দেবো শুধু পাশটুকু করিয়ে দাও। কেউ আবার বইপত্রে ফুল রেখে দিয়েছে তোমার পুজোর,এসব করে তোমাকে ফুল বানিয়ে পাশ করে যাওয়ার ধান্দা। আর এই মামনি যে ট্যাব দেখছেন বইয়ের ভেতরে তিনি দুসপ্তাহ আগেই জানিয়েছেন পড়া ভালো হয়নি,এবারটা শুধু উতরে দাও দেবী। সেই দু সপ্তাহ হিসেব করেই বুঝেছি পরশু ওনার পরীক্ষা।
-বা হাসো তুই তো বেশ স্মার্ট হয়ে উঠেছিস দেখছি।
- হে হে,তা হয়েছি তোমার সাথে থেকে।
- আসলে কি বলতো? আমায় বোকা ওরা বানাচ্ছে,সে বানাক কিন্তু নিজেদের যেনো বোকা না বানায়। আর ওদের কি দোষ দেবো বলতো? এখন তো পড়াশোনা ধরন ধারণ এত চেঞ্জ হয়েছে ওরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে পড়াশোনার প্রতি। আগেকার দিন কি আর আছে বল! ওদের উচিত বইপত্র আমার কাছে না দিয়ে ফোন ট্যাব জমা রাখা। কিন্তু বাবুদের তো ওসব ছাড়া চলবেনা। ওনারা আমায় দেখার নাম করে বাড়ী থেকে বেরোবেন তারপর বাইক করে ঘুরবেন নিজেরা আর ইচ্ছে হলে প্যান্ডেলে ঢুকে দয়া করে সেলফিতে আমায় জায়গা দেবেন। আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে যাই আমি কি বিদ্যার দেবী নাকি প্রেমের দেবী! এদিকে বিশ্বকর্মাদা এসে বলে গেছেন মোবাইল জমা নাকি ওনার পুজোর দিন করা উচিত। উনি নাকি ওসব নিয়ে ডিল করেন। তাই আমিও বেশী কথা বাড়াইনি। যে যা ভালো বোঝে তাই করুক।
- তা ঠিক বলেছো দিদি।
- তার চেয়ে চল আমরা বরং পুজোটা ভালো করে কাটিয়ে আসি। ওদের জ্ঞানচক্ষু যাতে খোলে সেই আশীর্বাদ করি। হ্যা আর ফলমূল দেখে খেতে হবে বুঝলি! মৌচাক সিনেমার নীপা নাম শুনেছিলাম,
এখন নাকি সেই নামের ভাইরাস এসেছে শুনলাম। তাই সাবধানে থাকতে হবে সবাইকে। আর ওখানে নাকি বইমেলা শুরু হয়েছে, তাই যখন ফিরবো তোর এই বড়ো ব্যাগে বিভিন্ন স্বাদের বইপত্র নিয়ে ফিরবো।
হ্যা দিদি তাই চলো,প্যান্ডেল সব রেডী আমাদের আসার অপেক্ষায় সবাই বসে আছে।
সবাইকে জানাই সরস্বতী পুজোর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ডিজিটালাইজেশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 ডিজিটালাইজেশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আগেকার দিনের কথা মনে পড়লে দেখা যায় তখন এত আধুনিক প্রযুক্তি ছিলোনা বলে মানুষের মধ্যে একটা আবেগ ছিলো,পরস্পরের মধ্যে কুশল বিনিময় হোক কিংবা নিজেদের খবরাখবর রাখা সবটাই হতো অযান্ত্রিক ভাবে। বিজ্ঞান যত উন্নত হয়েছে,তত মানুষকে দিয়েছে বেগ আর কেড়েছে আবেগ। এখনকার দিনে একটু কিছু হলেই রিলসের বন্যা চলে। ভিডিও কলের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেওয়া চলে। আত্মিক টানটা কোথাও যেনো একটু থমকে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত সবাই,মোবাইল আর ট্যাব হয়ে উঠেছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। বাচ্চারা খেলাধুলো ভুলে মাঠে যাওয়া ভুলে মোবাইলে গেম নিয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে যাচ্ছে,এতে চোখ ও মন দুই ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি জিনিস প্রতিফলিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। খুব কম জন আছে যারা নিজের কথাগুলো নিজের মধ্যে রাখে,শো অফ করেনা। সত্যি কোথাও একটা যেনো একাকীত্ব গ্রাস করছে আজকের জেনারেশনকে,মোবাইলকে তারা বন্ধু ভেবে অনেকের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। স্ক্রীন টাইমটা বেশী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সরাসরি সাক্ষাতের সময় কম হচ্ছে। এক ফোনেই খোঁজ নিয়ে ডিজিটাল সৌজন্যবোধ প্রদর্শন করা হয়। চিঠির যুগ এখন আর নেই,ডাকবাক্সগুলো একাকী দাঁড়িয়ে থাকে ধুলো মেখে। দূর হয়তো কাছে এসেছে যান্ত্রিক ভাবে,কিন্তু মনের দূরত্ব বেড়েছে মাইল খানেক। তাই মানুষ একা হয়ে পড়েছে বড্ড, মিশতে ভুলে যাচ্ছে ডিজিটাল হয়ে গিয়ে। আগেকার মতো আড্ডা চলেনা,চলে গুগল মিট। তাই একা থাকাটা অভ্যেস হয়ে গেছে কিন্তু সংজ্ঞা কিছুটা বদল হয়েছে ডিজিটাল যুগের ভরসায়। 

"উন্নত মানের যান্ত্রিক জীবন যাপনে একাকীত্বের সংজ্ঞা বদলে গেছে 
দিনের শেষে বন্ধু মোবাইল ট্যাব,আত্মিকতা সৌজন্য সাক্ষাত সব দূর হটেছে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

মাঠের আত্মকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মাঠের আত্মকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমি এক ফাঁকা মাঠ এখন, একাই রয়েছি কয়েক বছর হলো। আগে কিন্তু এরকম ছিলো না জানেন! সকাল বিকেল হই হই করতো এখানে বাচ্চা আর বুড়োদের দল। বাচ্চারা খেলতে আসতো,কেউ ব্যাট বল কেউ ডাং গুলি কেউ বা কবাডি হাডুডু। তাদের লাফালাফিতে হাসির কলতানে সবসময় মুখর হয়ে থাকতাম। ধীরে ধীরে ওদের আসা কমতে লাগলো আর সাথে কমতে লাগলো আমার পরিসীমাও। এখন আমি অনেকটা ছোটো হয়ে গেছি, একপাশে আমার বুক ফুঁড়ে উঠে এসেছে বড় বড় ফ্ল্যাট বাড়ি তো আরেকপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ। বাচ্চা গুলো আর আসেনা, লাফিয়ে বেড়ায় না। তারা সব দামী দামী মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত, ব্যাট বল ডাঙ গুলি এগুলো ওদের কাছে পুরোনো যুগের খেলা হয়ে গেছে। ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে বসে যখন ফোন ঘাটে তারা, ভিডিও গেম খেলে কখনো বা ভারী ব্যাগ পিঠে করে স্কুল টিউশন ছুটছে। তখন কত ইশারা করে বলি ওদের, যে আয় তোরা খেলতে আয়, একা থাকতে আর ভালো লাগেনা। কানে কি যায় তাদের এসব কথা! সব মনোযোগ তখন স্ক্রীনের দিকে। আজকাল সবাইকে কেমন অচেনা লাগে, মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় সবাই। কেউ দু দণ্ড এসে বসেও না। কাকে বলি আর মনের কথা তাই লিখে চলি ফাঁকা বুকের ওপর নিজের জীবনের কথা। 

"বড্ড ফাঁকা মাঠ আজ, খেলা ধুলা সব মোবাইলে বন্দী
আবার যাতে ভরে ওঠে এই প্রান্তর, জানা কি রয়েছে কোনো ফন্দি?"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আশাপূর্ণা দেবী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আশাপূর্ণা দেবী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আশাপূর্ণা দেবী নামটি শুনলেই মনের এক কোণে আশার সঞ্চার হয় কোথাও। আজ এই বিশিষ্ট লেখিকার জন্মদিনে কিছু লিখতে গিয়ে কোথাও যেনো কলম থমকে দাঁড়াচ্ছে। এত বড় মনের লেখিকা জন্মেছিলেন কোলকাতাতে, কিন্তু কোনোদিন বিদ্যালয়ের মুখ দেখেননি। পরিবারে শিল্পচর্চা ছিলো বলেই হয়তো তাঁর কলম এত বলিষ্ঠ ছিলো। প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও মানবিকতার শিক্ষায় তিনি দীক্ষিত ছিলেন। তাইতো তার কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছিলো প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা,বকুলকথার মতন উপন্যাস। যদিও তিনি ছোটোদের গল্প লেখার মধ্যে দিয়ে লেখার জগতে প্রবেশ করেছিলেন,তারপর ধীরে ধীরে উপন্যাস বড়গল্প এইসব লেখার মধ্যে ডুব দিয়েছিলেন। বাইরে না বেরিয়েও নারী জীবনের অনেক কথাই তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়, তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা,ত্যাগ এসবের কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। পুরুষের মনের অন্তর্দ্বন্দ্বও প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কলমের আঁচড়ে। তবে সব লেখাই ছিলো সহজ সরল ও বোধগম্য।
তাঁর লেখা 'প্রথম প্রতিশ্রুতি' এই উপন্যাসের জন্য তিনি জ্ঞাপীঠ পুরস্কার পান। এছাড়াও পদ্মশ্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্য পুরস্কার, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার এবং এরকম আরও অনেক কিছু উপাধি পেয়েছিলেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য আজও বাঙালী তাঁকে মনে রেখেছে আর ভবিষ্যতেও রাখবে এই আশা রাখি।

"বিশিষ্ট লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন
প্রতিশ্রুতি থাক গল্পপড়া ও সাহিত্যচর্চার,নিয়োজিত হোক প্রাণমন"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম-শুভারম্ভ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-শুভারম্ভ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছর শেষে আবার এক নতুন বছরের আগমন। ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলা এক এক ধাপ করে। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে আগের বছরের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার একটা সুযোগ। সময় মতো খাওয়া দাওয়া করা। বেশী করে ফল ও জল খাওয়া,কেউ কিছু বাজে মন্তব্য করলে উত্তেজিত না হওয়া এসব রেজোলিউশন নিয়েছি। পড়াশোনায় ফাঁকি দেবোনা,বেশী গল্পের বই কিনবোনা,আরও বেশি কেস রিপোর্ট পাবলিশ করতে হবে,লিখতে হবে সুযোগ পেলে এসব অনেক কিছুই ভেবেছি জানিনা কতটা রাখতে পারবো কথাগুলো! বদমাইশি বুদ্ধিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখবো,জাঙ্ক ফুড,ফ্রায়েড ফুড কম খাবো এসব হরেক রকম চিন্তাভাবনা করে চলেছি। এক বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে,মানিয়ে নিয়েছি কিছুটা আর বাকিটা চেষ্টা চলছে। নতুন জায়গায় নিজেকে সেফ মার্ক করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
আজ আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন,কল্পতরু উৎসব। এইদিন শ্রীরামকৃষ্ণদেব কল্পতরু ভাব নিয়ে সকলের ইচ্ছে পূরণ করেন।
সকলকে জানাই হ্যাপি নিউ ইয়ার ও কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা। ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে ভালো কাটুক সবার এই আশাই রাখি।

"অধরা স্বপ্নেরা দিক ধরা,ইচ্ছেডানারা পাখনা মেলো
পূরণ হোক সবার স্বপ্ন,মনের কথাগুলো বলেই ফেলো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ৩১ ডিসেম্বর, ২০২৫

আমার অকাজের লিস্টি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার অকাজের লিস্টি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়।

তালিকা নিম্নরূপ -

অতঃপর মরিসাকি বইঘরের দিনগুলি - সাতোশি ইয়াগিসাওয়া
আরক্ত ভৈরব - হিমি মিত্র রায়
কে সেই হত্যাকারী - মহুয়া ঘোষ
কালিগুণীন ও বজ্রসিন্দুক রহস্য - সৌমিক দে
কামোগাওয়া রেস্তোরায় আপনাকে স্বাগতম - হিসাশি কাশিওয়াই
একডজন পৌরাণিক - সমুদ্র বসু
হাসতে হাসতে খুন - পূর্ণেন্দু পত্রী
কুসুমপুরে কিডন্যাপ - সুমন্ত কুমার বন্দ্যোপাধ্যায়
গোয়েন্দা শিখা - প্রভাবতী দেবী সরস্বতী
দধীচি - তমোঘ্ন নস্কর
ফারাওয়ের অভিশাপ - নন্দিতা মুখোপাধ্যায়
চতুষ্পাঠী - স্বপ্নময় চক্রবর্তী
বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত
কপিলাবস্তুর কলস - প্রীতম বসু
রামায়ণ রহস্য - সিজার বাগচী
চিলেকোঠার ঘর - রাস্কিন বন্ড

এছাড়াও রয়েছে পূজাবার্ষিকি - সর্বভূতেষু,
মাসিক পত্রিকা,কিছু অর্ধসমাপ্ত বই। আগামীতে আরো পড়ার ইচ্ছে রইলো।


সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - প্রাপ্য✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - প্রাপ্য
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি তখন মনে পড়ে আরে!মূল্যবান মানুষকেই তো সময় দেওয়া হলোনা। দৌড়ঝাঁপ,ওটি,রাউন্ড,
পেশেন্ট পার্টি মিট এতকিছুর পরেও কিছু সময় তো নিজেকেও দেওয়া দরকারী। তখন খুলে ফেলি ডায়েরীর পাতা,লেখা হয় দিনলিপি। আয়নার সামনে দাড়িয়ে তাই খানিক কথা বলি নিজের সাথে,এর চেয়ে ভালো সঙ্গী কেউ যে হতেই পারেনা। আত্মোপলদ্ধির খুব দরকার যে,নাহলে নিজের ভুলত্রুটি গুলো সংশোধন করার সুযোগ হারিয়ে ফেলবো। তাই চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত নিজের সাথে,নিজেকে আরও উন্নত করতে হবে,কারোর থেকে এগিয়ে বা কাউকে ঠকিয়ে নয়,নিজের বর্তমান অবস্থার থেকে আরো উন্নতির পথে নিয়ে যেতে হবে নিজেকে। নিজেকে ভালো রাখতে না পারলে অন্যদেরও ভালো রাখা যায়না। এভাবেই প্রাপ্য সময় নিজেকে দিয়ে কিছু অসমাপ্ত গল্প লেখা হবে,রোজকার মতন। 

"কলমের কালি খানিক হলেও বাঁচিয়ে রেখো
রঙিন খামে আপনার ঠিকানায় চিঠি লিখো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপরিবর্তিত✍️ ডা: অরুণিমা দাস



 শিরোনাম - অপরিবর্তিত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে চলার পথে নানা রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সকলকেই। সেটা মেনে নিতে গিয়ে নিজের পরিবর্তন করা যাবেনা কোনোদিন। কোনকিছুর বিনিময়ে নিজের সোজা মেরুদন্ডকে নত হতে দেওয়া যাবেনা। এসবের জন্য অনেক কথায় শুনতে হতে পারে কিন্তু অবিচল থাকতে হবে নিজেকে। একটা প্রিন্সিপাল থাকা উচিত জীবনে, যেটা কোনোদিন পরিবর্তন হবেনা। রোজকার জীবনে এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে সেটা কাজের জায়গায় হোক বা একান্ত নিজস্ব হোক,তাতে নিজের ব্যবহার পরিচয় কোনোটা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়না। সবশেষে নিজের কাছে সৎ থাকাটা খুব জরুরী,যাতে দর্পণে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে চমকে উঠতে না হয়। 

"স্বচ্ছ থেকো নিজের কাছে,কোনো পরিবর্তন যেনো না হোক
সমুখ পানে এগিয়ে চলো,তবেই হবে তুমি সঠিক পথ প্রদর্শক!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৫

শিরোনাম - আঁধারনাশিনী✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - আঁধারনাশিনী
✍️ডা: অরুণিমা দাস

পুরোদমে চলছে প্রস্তুতি,আর ব্যাগ গোছানোতে ব্যস্ত শ্যামা। মহাদেব এসে বলছেন কিগো হলো? বলি আমার বাঘছালগুলো নিয়েছো তো?
- হ্যা গো নিয়েছি।
- কতগুলো এক্সট্রা নিয়ে নিও। তোমার ঐ বুকের ওপর আলতা পায়ে দাঁড়ানোর জন্য আমার পোশাকগুলো রেঙে ওঠে। বাঘছাল ছাড়া অন্য পোশাক ঠিক পোষায় না আমার।
- আমি তো ইচ্ছে করে দাঁড়াইনা বাপু। সে তো অনেক যুগ আগের গল্প,লোডশেডিং হয়ে গেছিলো তাই ভুল করে তোমার ওপরে দাঁড়িয়ে পড়েছিলাম। আলো আসাতে লজ্জায় আমার জিভ কাটা যায় আর কি! এই গল্পই তো বহুবছর ধরে চলে আসছে।
- আমার ওপরে তোমার অধিকার,মুণ্ড থেকে মন সবখানেতে  তুমি বিরাজমান শ্যামা।
গণেশের প্রবেশ,
ও মাম্মা! দেখোনা দিদিরা বলছে এবারে তোমরা দুজনে যাবে,আমায় নিয়ে যাবেনা। কেনো গো? আমিও যাবো।
-না গনু সোনা,এবারে তুমি নয়। পরের বছর আবার যেও।
-কেনো মাম্মা?
এই গনু কথা শুনতে হয় বড়োদের,মহাদেব বললেন। তুমি কদিন আগেই ঘুরে এসেছো আর নয়। এবার তোমরা চার ভাইবোন বাড়ী সামলে রাখবে। আমি আর মাম্মা ঘুরে আসবো। অনেক লাড্ডু মিষ্টি আনবো তোমার জন্য। এখন যাও,আমরা একটু প্যাকিং করে নিই।
মুখ গোমড়া করে গনু চলে গেলো দিদিদের কাছে।
-চলো গিন্নী সব গুছিয়ে নাও। তোমার জন্য একটু সাজগোজের জিনিস এনেছি।
-দূর আমি কালো,সাজ কি আমায় মানায়?
কি যে বলো? ওই কালো রূপেই মজেছি আমি। রূপ দিয়ে কি হয় বলো? গুণটাই আসল।
-তাও তো ছেলেরা ফর্সা মেয়ে খোঁজে।
-মন কালো না হলেই হবে গিন্নী।
-তবে আমায় বরং আত্মরক্ষার অস্ত্র দিয়ো কিছু। ওখানে যা অবস্থা কসমেটিকসের চেয়ে লড়াইয়ের কসরত শিখে নেওয়াটা বেটার।
-তা ঠিক গিন্নী।
-দেখো তোমার সাথে কথা বলতে বলতে আমার প্যাকিং কমপ্লিট। এরপর বেরোবার পালা।
চলো সব প্যান্ডেল সেজে উঠেছে। আলোর মেলা চারিদিকে। তোমার পুজোয় সব আঁধার কেটে আলোর দিশা দেখুক সবাই। সকল কষ্ট ঘুচুক সবার।
সকলকে জানাই শ্যামাপুজো ও দীপাবলির শুভেচ্ছা। আলোর জোয়ারে ভেসে উঠেছে শহর, আমরাও সামিল হই এই আনন্দঘন মুহূর্তে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



সোমবার, ৬ অক্টোবর, ২০২৫

শিরোনাম - নাড়ু কাহিনী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নাড়ু কাহিনী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ও দেবী! চলো তাড়াতাড়ি। পুজো শুরু হয়ে যাবে তো! পেচুটা তাগাদা দিচ্ছে লক্ষী দেবীকে। 
-দাড়া আগে বাক্স প্যাটরা গুলো দেখে নিই ভালো করে। রেইনকোট নিয়েছি আবার ছাতা নিয়েছি। একদিকে বৃষ্টিতে খারাপ অবস্থা আরেকদিকে কেউ নেচে গেয়ে বেড়াচ্ছে। 
-হ্যা দেবী! ইউনিটি ইন ডাইভারসিটি একদম জ্বাজ্জল্য প্রমাণ দেখছি। চলো এগোই। 
লক্ষীদেবীর হাত ধরে পেচু সব ঘরে ঘরে যেতে লাগলো। সব জায়গায় আয়োজন দেখে পেচুর তো জিভে জল এসে যাচ্ছে। লক্ষী দেবী বললেন আড়ম্বর দেখিসনা পেচু! দেখ যেসব জায়গায় সারল্যের ছোঁয়া সেখানে অনাড়ম্বর ভাবে আয়োজন সেখানে কি তারা মন থেকে ডাকছে না? সবাই ডাকছে, কেউ ভালোবেসে ডাকছে তো কেউ বাহ্যিক আড়ম্বর দেখাতে ব্যস্ত। বেশী খাওয়াদাওয়া করিসনা,রাত জাগতে হবে আবার!
পুজোর শেষে,
হ্যা রে পেচু নাড়ু তো অনেকগুলো ছিলো রে! কম হলো কি করে? তোকে না বলেছি বেশী মিষ্টি খাবিনা! দাঁত খারাপ হলে তোকে ডেন্টিস্টের কাছে নিয়ে যেতে পারবোনা বাপু। আমার অনেক কাজ আছে পেচু। বাড়ী ফিরলে পড়তে বসতে হবে,সরু দিদি বকবে নয়তো। 
- না দেবী! আমি বেশি নাড়ু খাইনি গো। সত্যি বলছি।
- তাহলে গেলো কোথায়? কিছু নাড়ু আমি ভাই আর দিদিদের জন্য এক্সট্রা নিয়ে যেতাম। 
- দেখো না থালাতে আছে আরো,নিয়ে নাও। 
- দেখি তোর পেছনে! কি লুকোচ্ছিস রে? 
- কই দেবী? কিছু না তো?
- কিছু না বললেই হবে? দেখি দেখা। 
আরে একটা প্যাকেট! খোল দেখি। 
- তেমন কিছু নয় দেবী। কয়েকটা নাড়ু নিয়েছি এক্সট্রা আর সাথে একটু মুড়কি। 
- কার জন্য শুনি একটু? 
- আমার পেচির জন্য নিয়েছি একটু। তবে হ্যা তোমার ভাগ থেকে নয় পুরোটা। কিছুটা আমার ভাগের আর কিছুটা তোমার ভাগের থেকে নিয়েছি। 
- বুঝেছি। তোদের ভালোবাসা এরম অটুট থাকুক। 
তোমাদের দেখেই তো শিখছি দেবী। লক্ষী নারায়ণ হলেন আমার আইডল। 
- হয়েছে অনেক ভালো ভালো কথা বলেছো! রাত জেগেছো, গিয়ে ঘুমোতে হবে এবার। চলো আসি আমরা। তোমার পেচি অপেক্ষা করে আছে তোমার জন্য। 
- হ্যা চলো। এই দিনের জন্য আবার এক বছরের অপেক্ষা করতে হবে।

কোজাগরী লক্ষী পুজোর শুভেচ্ছা জানাই সকলকে। সকলের মঙ্গল হোক,ভাবনাচিন্তা সমৃদ্ধ হোক।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - প্ল্যান অফ পুজো✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - প্ল্যান অফ পুজো
✍️ডা: অরুণিমা দাস

অফিস থেকে ফিরে ফ্রেশ হয়ে লো টোনে মিউজিক প্লেয়ার চালিয়ে দিলো বিশাল। একটু পরেই কাজ নিয়ে বসতে হবে ল্যাপটপে। এবারের টার্গেট কমপ্লিট না করতে পারলে পুজোতে ছুটি দেবেননা বস বলেই দিয়েছেন। তাই একটু স্ট্রেসেই আছে বিশাল। এক কাপ কফি নিয়ে সোফায় হেলান দিয়ে বসলো বিশাল। কিছুক্ষণের মধ্যেই মোবাইলটা বেজে উঠলো। বসের ফোন ভেবে তাড়াতাড়ি রিসিভ করতে গিয়ে দেখে স্ক্রীনে ভাসছে অঙ্কুরের নাম! ফোনটা ধরতেই ওপাশ থেকে আওয়াজ এলো করে বিশু কি খবর তোর?এখন তো তোর পাত্তা পাওয়াই মুশকিল।
- আর পাত্তা? বস যা টার্গেট দিয়েছে খুব চাপে আছি রে! কমপ্লিট করতে না পারলে পুজোতে নো ছুটি। সেই জন্য ঘাড় গুঁজে ল্যাপটপের সামনে বসে আছি সারাদিন। তোর খবর বল অঙ্কু।
- আমার আবার কি খবর? তোর তো ওয়ার্ক ফ্রম হোম আর আমার ওয়ার্ক আউট অফ হোম। পুজোতেও ডিউটি বাড়বে,আমি জুনিয়র মোস্ট বলে পুজোর চারদিনে দুদিন তো ডিউটি দেবেই। আর তখন পেশেন্ট লোড ও বাড়বে,কি যে করবো জানিনা!
- কি আর করবি? পেশেন্ট দেখবি অফলাইনে আর অনলাইনে দেখবি ঠাকুর।
অঙ্কুর হেসে ফেললো। তারপর বললো,
- ছাড় তো এসব! পুজো প্ল্যান কিছু করেছিস?
বিশাল - প্ল্যান? ধুর ওসব করে কি করবো বল তো? বস ছাড়বে কিনা তার ঠিক নেই।
অঙ্কুর - এক কাজ করি চল,আমরা বরং এবারে একটা ঘরোয়া অনুষ্ঠানের আয়োজন করি। একটু অন্যরকম হবে। বেশ নাটক,নাচ গান,আবৃত্তি আর খাওয়াদাওয়া থাকবে। কোথাও যখন সেরকম বেরোতে পারবনা তখন বাড়ীতেই কিছু হোক।
বিশাল - আইডিয়াটা মন্দ নয় বুঝলি! আমার বাড়ির বৈঠক খানাতে একটা ছোট্ট আয়োজন হতেই পারে। ডিউটি শেষ করে রাতের বেলা না হয় আয়োজন হবে।
অঙ্কুর - ছোটবেলাতে পুজোর আগে যেমন কদিন স্কুলে প্রোগ্রাম হতো সেটা মাথায় রেখেই কিছু ভাবি বুঝলি!
বিশাল - হ্যা ভাব সেরকম কিছুই। আর হয়তো ম্যাক্স ১০ মিনিট আমি কথা বলতে পারবো। তারপর আবার ল্যাপটপে বসতে হবে।
অঙ্কুর - একটা ভালো নাটক ভেবেছি,'চোখে আঙুল দাদা!' আমাদের স্কুলের গ্রুপে দিয়ে দেবো। আরো কিছুক্ষন নিশ্চয়ই রাজী হবে। বেশ একটা মজার পরিবেশ তৈরি হবে।
বিশাল - হ্যা তাই কর। আর যারা নাটকে অভিনয় করবেনা তারা গান বা আবৃত্তি করতে পারবে। পুজোতে বেরোতে না পারলেও মনমরা হয়ে থাকবোনা কেউ।
অঙ্কুর - ঠিক বলেছিস। ওই জন্য এখন থেকে প্ল্যান করা শুরু করলাম। আর পুজোতে ট্রিপ যেটা আমরা প্ল্যান করেছিলাম আগে ওটা না হয় পুজোর পরে টার্গেট ফুলফিল হলে ডিসেম্বরে করা যাবে।
বিশাল - এখন যা মার্কেট,আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স এর যুগে সবাই রিপ্লেসেবল। তাই বসের দেওয়া টার্গেট যেমন করেই হোক কমপ্লিট করে আমায় দুটো দিন পুজোতে ম্যানেজ করতে হবে। সাথে নাটকের জন্য রিহার্সালও আছে।
অঙ্কুর - হ্যা ওই শনি বা রবিবার করে রিহার্সাল করতে হবে। আর তো সময় পাবোনা অন্যদিন গুলো। তাও আমার রোববার রোটেশন ডিউটি পড়ে গেলে মুশকিল।
বিশাল - দেখ যেটুকু বুঝলাম ওই সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আর গেট টুগেদার ওটাই পুজোতে আমাদের আসল প্ল্যান। এর মধ্যে দিয়েই আমরা নিজেদের খুশী রাখবো। মা দুর্গা আসছেন বলে কথা! মন খারাপের কোনো অবকাশ নেই। প্যান্ডেল হপিং করতে না পারলেও অনলাইন শপিং আর টিভিতে ঠাকুর দেখতে কোনো বাধা তো নেই।
অঙ্কুর - একদম। বাড়ী বসে ঠাকুর দেখার মধ্যেও আনন্দ আছে। আশীর্বাদ নিশ্চই কম কিছু পাবোনা এতে। আর রোগী সেবা মানেই ঈশ্বর সেবা।
বিশাল - যান্ত্রিক জীবন থেকে একটু সরে গিয়ে যেটুকু আনন্দ ভাগ করে নিতে পারবো সেটাই অনেক। এই বছর টার্গেট ফিল করে কে বলতে পারে পরের বছর হয়তো চারদিনই ছুটি পেলাম।
কাজের মধ্যে দিয়েই নয় এই বছর ঈশ্বর কৃপা লাভ করবো।
অঙ্কুর - নে তোর দশ মিনিট প্রায় শেষ হয়ে এলো। মন দিয়ে কাজ কর। ইনিশিয়াল প্ল্যান তো হলো, বাকিটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে আপডেট হবে সময় মতন।
বিশাল - হ্যা,এখন ফোনটা রাখি। কাজ নিয়ে বসি। দেখি কতদূর এগোতে পারি। ভালো থাকিস। তোর সাথে কথা বলে মনটা ভালো হয়ে গেলো। একরাশ ভালোলাগা জন্ম নিলো। আশা রাখি প্ল্যানমাফিক অনুষ্ঠানটা ভালোই হবে।
অঙ্কুর - চল বাই,পরে আবার কথা হবে।

কর্মব্যস্ততা আর চাপের মাঝেও দুই বন্ধু যে প্ল্যান করলো পুজোর জন্য সেটা যেনো সাকসেসফুল হয় তার জন্য শুভকামনা রইলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




রবিবার, ২১ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

সূচনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সূচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কাল সারারাত ডিউটি করার পর,সকালে ভাবলাম একটু মহালয়া শুনবো। কিন্তু ঘুমের জন্য শোনা হলো না। ২-৩ ঘন্টা ঘুমের পর সকালে আবার একটা কেস উঠলো। ওটিতে স্যার মহালয়ার গান চালিয়েছিলেন। বেশ একটা অন্যরকম অনুভূতি। তার মধ্যেই একটা সিজার হলো। স্যার হেসে জিজ্ঞেস করলেন কি হয়েছে? দুর্গা না মহিষাসুর? হেসে বললাম দুর্গা,কিন্তু!
-কিন্তু কি রে?
- স্যার বাচ্চাটার ক্লেফট লিপ আর প্যালেট আছে। সত্যিই দুর্গা,ওকে এরপর কতগুলো অপারেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হবে কাটা তালু আর কাটা ঠোঁট ঠিক করতে। তবুও পূণ্য লগ্নে জন্মেছে মেয়েটা! সবাই বলছে ঠিক লড়বে কিন্তু ওর মায়ের মন খারাপ কারণ প্রথম সন্তান মেয়ে আবার দ্বিতীয় সন্তানও মেয়ে তাও আবার একটু ত্রুটিপূর্ণ। বোঝানো হলো ছেলে মেয়ে সবাই সমান মন খারাপ কোরোনা তাও এরকম দিনে। বাচ্চাটাকে নবজাতক বিভাগে পাঠিয়ে ওটি শেষে সবাই ফিরলাম যে যার মতো,বুঝলাম  দেবীপক্ষের সূচনা বোধহয় এভাবেও হয়। ভালো থাকুক বাচ্চাটা,বড়ো হোক নিজের জীবনীশক্তি দিয়ে লড়াই করে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

 

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - বসু কথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বসু কথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাজনারায়ণ বসু সম্পর্কে লিখতে গেলে ওনার একটা কথা খুব মনে পড়ে। ওনার অনেক উক্তির মধ্যে একটি ছিলো 'আমার মতে ছাত্রদের নীতিশিক্ষা না হলে কোনো শিক্ষাই হলোনা।' ছাএদরদী এই মহামানব উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বড়াল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় এক স্কুলে পড়াশোনা করার পর শিক্ষকতা শুরু করেন। কিছুসময় মেদিনীপুরে কলিজিয়েট স্কুলে হেডমাস্টার পদে আসীন ছিলেন। মেদিনীপুরে তিনি নারীশিক্ষার প্রচলন করেন। মেদিনীপুরে একটি লাইব্রেরীও চালু করেছিলেন যা আজ ঋষি রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগার নামে পরিচিত। ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে সর্বাগ্রে ছিলেন তিনি। তিনি যেমন ঋষি অরবিন্দের মাতামহ ছিলেন তেমনি ব্রাহ্মধর্ম সমর্থনের কারণে তাঁকে 'ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পিতামহ' উপাধি দেওয়া হয়। 'তত্ত্ববোধীনি' পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি করতেন। দীর্ঘসময় শিক্ষকতা করার পর তিনি অবসর নেন এবং জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি দেওঘরে কাটিয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান আর অসামান্য গুণের জন্য মানব হৃদয়ে ও ইতিহাসের পাতায় আজও তিনি অমলিন। 

"পুঁথিগত শিক্ষার চেয়েও নৈতিক শিক্ষা ছাত্রদের খুব প্রয়োজন
যাঁর এই চিন্তাধারা তাঁকে নিয়েই আজ 'বসু কথা' করি নিবেদন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - স্ট্র্যাটেজি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও বিশুদা কি করছো গো? তৈরি হবেনা? আজ যেতে হবে তো। হাতিবাবু এসে জিজ্ঞেস করলো। এই জিনিসপত্র গুলো গোছালাম। ভালো কিছু ইয়ার প্যাড নিলাম বুঝলি হাতিশ্বর। আমার ভক্ত দের ওই সিসে কি উম্র আর সাত সমুন্দর শুনে কান ঝালাপালা হয়ে যায়। সাথে কিছু এক্সট্রা হাতুড়ি নিলাম বুঝলি। হাতুড়ি কেনো গো? হাতিবাবু একটু ভয়ে ভয়ে জিজ্ঞেস করলো। আর কেনো? তোকে মারবোনা চাপ নিসনা। যখনি ওই প্যান্ডেলে বাবুরা আকন্ঠ সুরাপান করে উদ্দাম নৃত্য করতে করতে বিশ্বকর্মা মাইকি জয় বলবে তখনি একটা হাতুড়ি দিয়ে ঠোক্কর দেবো মাথায়। বাবুরা ওসব খেয়ে নাচবেন আবার পরে গাড়ি চালিয়ে এক্সিডেন্ট করবেন আর ভিড় জমাবেন হাসপাতালের ইমারজেন্সিতে,অভব্য আচরণ করবেন সেটি হতে দেবোনা। যারা ডিউটি করে ওখানে,কোনোদিন মুখ ফুটে কিছু বলেনা। কিন্তু সারারাত এই মাতাল গুলোর বাঁদরামি সহ্য করতে করতে কাহিল হয়ে পড়ে। এই স্টিচ করছে তো এই ইনজেকশন দিতে হচ্ছে। তারাও তো মানুষ। আর যা সম্মান তাদের দেওয়া হয় সবই তো দেখছিস হাতিশ্বর। আর কি বলবো তোকে নতুন করে?
কিন্তু তা বলে তোমার পুজোতে ওরা একটু হাসি মজা করবেনা বিশুদা? 
-কেনো করবেনা? নিশ্চয়ই করবে। এই জন্যই তোর মাথায় মোটা বুদ্ধি। মজা আনন্দ সব করবে কিন্তু সেটা আনলিমিটেড নয়,আর পাগলামি করে নয়। যাতে সবার ক্ষতি না হয় সেরকম ভাবে আনন্দ উল্লাস করবে। 
- ওহ বুঝলাম। 
- কত রকম আনন্দ আছে। ঘুড়ি ওড়াবে, মিষ্টি খাবে,খিচুড়ি খাবে। গান করবে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান করবে। এতে তো কারোর ক্ষতি হচ্ছে না। 
ওই উঁচু ডেসিবেল এর গান আর গলা ভর্তি পান করে বাইক চেপে,হাতির পিঠে চেপেছি ভাবা এসব বন্ধ করতে হবে। নয়তো হাতুড়ির ঘা খেতে হবে। প্রতিবার ওদের গানের ঠেলায় কান প্রাণ সব যা অত্যাচার সহ্য করে সেটা এইবার মানবোনা। অনেক হয়েছে। চল এবার। নে তোর সানগ্লাস। রোদে ঘুরবি চোখ খারাপ যাতে না হয় তাই দিলাম। সত্যি বিশুদা,কত ভালো তুমি। আমার কথা কত ভাবো। আমি সবার কথাই ভাবি তাই দেখছিস না কত পন্থা অবলম্বন করেছি এবার। নাও নাও ওঠো আমার পিঠে। তাড়াতাড়ি বেরোই, অনেকটাই যেতে হবে। হ্যা চল,ভালো ভাবে ঘুরে আসি। 
আসছেন ওনারা, আপনারা সবাই তৈরি তো? জয় বিশ্বকর্মা দেবের জয়। সকলের মঙ্গল হোক। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


সোমবার, ৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলসলেখক - প্রীতম বসু ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পাঠ প্রতিক্রিয়া 
বইয়ের নাম - কপিলাবস্তুর কলস
লেখক - প্রীতম বসু 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 


বেশ কিছু মাস আগে পড়েছিলাম হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্তের লেখা বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে বইটি। অসম্ভব ভালো লেগেছিল বইটি যার জন্য ভাতঘুম কেও অগ্রাহ্য করেছিলাম। তেমনি আজ রাতের ঘুম কে অগ্রাহ্য করে পড়ে শেষ করলাম কপিলাবস্তুর কলস বইটি। ৪০০ পাতার বইটিতে ছত্রে ছত্রে রয়েছে থ্রিলারের ছোঁয়া। বিষয়বস্তু বুদ্ধদেবের পবিত্র অস্থি নিয়ে। সেই অস্থি নিয়ে বেআইনি ব্যবসার জন্য কত লোকে কতরকম প্ল্যান করেছিল। উদ্দেশ্য ছিলো মুনাফা লোটার। কিন্তু কপিলাবস্তু নেপাল না ভারতের এই দ্বন্দ্বে ইউ এন নিউইয়র্কে যে বিতর্ক সভা অনুষ্ঠিত হবার ঘোষণা হয় সেই সভাতে আসার জন্য ড: উইকিস এর ছাত্রী রিধিমা যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করে তাতে বোঝা যায় পিতরাওয়া তে পাওয়া অস্থি কপিলাবস্তুর নয়। আর এটা সত্যি প্রমাণ করতে গিয়ে খুন হন ড উইকিস ও তার সহকারী ড হফম্যান আর প্রফেসর রিচার্ড। আসল কলসের সন্ধান দিয়ে গেছিলেন রিধিমার দাদা ড: সিদ্ধার্থ বোস তাঁর লেখা ডায়েরীতে, আসল কলসের উদ্ধারকর্তা ছিলেন দেবচরণ, তার স্ত্রী তুলসী আর মেয়ে রাজকুমারী। আর সিদ্ধার্থ বে আইনী কাজে লিপ্ত না হতে চাওয়ায় কু কীর্তির অধিকারী লি ঝেন তাকে সরিয়ে দিতে চেয়েছিলো তার পোষা গুন্ডাদের দিয়ে। কিন্তু গুন্ডারা সিদ্ধার্থ কে ড্রাগ ইনজেক্ট করে এক বৌদ্ধ মঠে লিনপোচে নামক লামার হাতে তুলে দেয়। লামা তাকে প্রাণে বাঁচিয়ে প্রচার করে যে বোধিসত্ত্ব মঞ্জুশ্রী লামা ফিরে এসেছেন মঠে আর সকলের কাছে ভগবান হিসেবে পূজিত হন। লিনপঁচে এর আসল উদ্দেশ্য ছিলো বুদ্ধের হাড়গুলো একে একে সংগ্রহ করে একটা কাঠামো বানিয়ে চড়া দামে বিক্রি করার। তাই লি ঝেন কে দিয়ে এক জিগস পাজলারকে নিয়ে আসেন মঠে যার নাম ছিলো হরিপরসাদ। হরিকে নিয়ে যাওয়া হয় মঞ্জুশ্রী লামা এর সামনে। মঞ্জুশ্রী ওরফে সিদ্ধার্থ সেও পাজল সলিউশনে বেশ চোস্ত ছিলো। সে হরিকে ওয়ার্ড জাম্বল দিয়ে পালাবার পথ বলে দেয় যা লিনপঁচে বুঝতে পারে না। এদিকে রিধিমাকে লি ঝেন এর লোকেরা কব্জা করে অনেক বিপদে ফেলে। উদ্ধারকর্তা হয় সুনয়ন,ড: উইকিস এর ছেলে। নিউইয়র্কের বেস্ট হ্যাকারদের মধ্যে একজন ছিলো সুনয়ন। সুনয়নের মা  ভক্তি দেবী সেই দেবচরণের বংশধর ছিলেন। রিধিমা কিছু তথ্য ভক্তিদেবীর থেকেও পেয়েছিল। রিধিমাকে সমস্ত বিপদ থেকে সুনয়ন উদ্ধার করে ফাইনালি ডিবেট সভাতে লি ঝেন এর আসল স্বরূপ প্রকাশ করে দেয়। এদিকে হরি মঞ্জুশ্রী লামার সংকেত অনুসরণ করে পালিয়ে যায় ও পুলিশের সাহায্যে মঞ্জুশ্রী লামাকে উদ্ধার করে। রিধিমা ফিরে পায় হারিয়ে যাওয়া দাদা সিদ্ধার্থকে। সাহসিকতার জন্য সুনয়ন পুলিৎজার পুরস্কার পায়। ভক্তির থেকে বুদ্ধাপট সংগ্রহ করে এক মিউজিয়ামে রেখেছিলেন ড: উইকিস্। সেটা সিদ্ধার্থ উদ্ধার করতে সাহায্য করে। সব শেষে রিধিমা সিদ্ধার্থ আর সুনয়ন রওয়ানা দেয় ভারতের উদ্দ্যেশ্যে। সুনায়ন যাবে তরাই অঞ্চলে গবেষণা করতে যেখানে তার পূর্বপুরুষ দেবচরন এক সময় থাকতেন। আর সিদ্ধার্থকে নিয়ে রিধিমা দিল্লী ফিরে গিয়ে সুনয়নের জন্য অপেক্ষায় থাকবে। 
আর পাঠকেরা যারা বইটি পড়েননি আর অপেক্ষা না করে পড়ে ফেলুন টানটান উত্তেজনা আর গবেষণা মূলক থ্রিলার এই বইটি। দুর্দান্ত এক অভিজ্ঞতা হবে,এটুকু বলতে পারি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৪ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - নাচ না জানলে উঠোন বাঁকা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - নাচ না জানলে উঠোন বাঁকা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অন্যের দোষ দেখতে পাওয়া যায় খুব সহজেই, নিজের দোষ খুঁজতে হলে ম্যাগনিফাইং গ্লাস লাগে। এটাই আজকের দুনিয়ার নিয়ম। অন্যের ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিতে খুব বেশী কষ্ট করতে হয়না। নেই কোনো আত্মবিশ্লেষণ,নেই কোনো আত্মগ্লানি। কাজটা পারলাম না মানে কাজটার দোষ কিন্তু আমার কোনো দোষ হতেই পারেনা,এই মানসিকতা দিন দিন মানুষকে অপদার্থ করে তুলছে। এরম অদ্ভুত চিন্তার ঘেরাটোপ থেকে নিজেকে বের করে আনতে না পারলে উন্নতি কোনোদিন সম্ভবপর নয়। তাই আত্মসমালোচনা খুব প্রয়োজন। কোথায় ত্রুটি আছে সেটা খুঁজে বের করে নিজেকে সংশোধন করার মধ্যেও একটা আনন্দ আছে। আর বিষাক্ত মানসিকতার মানুষ তো সব সময় নিজেকে ভিকটিম বানিয়ে অন্যকে দোষী সাব্যস্ত করতে ব্যস্ত থাকে। এরম মানুষের দেখা রোজ মেলে কিন্তু সহজ সরল মানুষ যে অন্যকে দায়ী করেনা সেসব মানুষ কমই আছে দুনিয়াতে। কমের দলে নাম লেখাতে চাইলে নিজের ভুল ত্রুটি দেখা উচিত,অন্যের নয়। তাতে নিজেরও ভালো, অন্যেরও মঙ্গল। 

"উঠোনের দোষ না দেখে বরং নাচটা শেখো ভালো করে
তাহলেই দেখবে নিশ্চিন্তে হেঁটে চলেছো উন্নতির পথ ধরে"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৭ আগস্ট, ২০২৫

চিঠিপত্র - ল্যান্ডিং ইন ধরাধাম লেটার টু ফ্যামিলি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 চিঠিপত্র - ল্যান্ডিং ইন ধরাধাম
 লেটার টু ফ্যামিলি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

প্রিয় বাড়ীর সবাই উইথ নন্দী ভৃঙ্গি,

                     পৌঁছে গেছি আমি ধরাধামে। বৃষ্টি পড়ছে অল্প বিস্তর। তবে আবহাওয়া ভালোই। বাবাইকে এস এম এস করেছি কিন্তু তিনি যদি নেশায় ভুলে গিয়ে মাম্মাকে জানাতে ভুলে যায় তাই সবাইকে লিখছি এই চিঠি যাতে সবাই আমার পৌঁছনোর খবর জেনে যায়। এখানে তো এলাহী আয়োজন করেছে ভক্তরা। র‍্যাটস তো এক দৃষ্টে খাবার গুলো দেখছে খালি,আর ভাবছে কখন খেতে বসবে!এসেই আমি আগে শপিং মল গুলোতে ঘুরেছি বুঝলি সরু দিদি এই লক্ষী দিদিরা। তোমরা ঠিক বলতে,একটু মধ্যপ্রদেশটা কমাতে হবে নইলে ড্রেস গুলো ভুড়িতে এসে আটকে যাচ্ছে। নেক্সট ইয়ার পাক্কা ১৫ কেজি কমাবো ওজন। তবেই মডার্ন টি শার্ট গুলো পরা যাবে। তবে সব কিছুর মাঝেও থমথমে পরিবেশ। শিক্ষকদের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট,শিক্ষার সঠিক পরিবেশের অভাব, ছাত্রছাত্রী গুলো তো খালি সেলফি তুলছে আর আমায় দেখার নাম করে টিউশন ফাঁকি দিয়েছে। ভেবেই ভালো লাগে আমরা কোনো স্মার্ট ফোন নিয়ে বড় হয়নি। নয়তো আমরাও এরকম লাগামছাড়া জীবন যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। সরু দিদি তোমাকেই কিছু একটা করতে হবে। এদের মাথায় একটু সুবুদ্ধি সফট্ওয়ারটা দিও প্লিজ। আর লক্ষী দিদি তুমি যখন আসবে পুজোতে একটু উদ্যোক্তাদের বলো কম খরচ করে বাকি টাকা যেনো একটু দুঃস্থ অসহায়দের কাজে লাগায়। আমাদের তো সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত করেছে মাম্মা,তাই আমাদের লাক্সারি পোষায়না। এখানে ছোঁড়াগুলো যা সেজে গুজে ঘুরছে আমার তো ভয় লাগে কাতু টা আবার ওদের পাল্লায় পড়ে বিগড়ে না যায়। এই দেখো পৌঁছনোর খবর লিখতে গিয়ে কত কি লিখে ফেললাম। যাই একটু মোদক আর লাড্ডু খেয়ে আসি, পেট টা খিদে খিদে করছে। র‍্যাটসকে পাঠাই চিঠিটা পোস্ট করে দিতে। তোমরা সবাই ভালো থেকো। আমার জন্য চিন্তা করো না। সাবধানে ফিরে আসবো আমি পুজো শেষে। তারপর নেক্সট প্ল্যান হবে সবাই মিলে আসার। এখনকার জন্য টা টা বাই। 
                                            
                                              ইতি          
                                 তোমাদের প্রিয় গণু সোনা
            
                                                
তারিখ : ২৭.০৮.২০২৫                          

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বছরের শুরু মানেই রেজোলিউশন নেওয়া যে এই করবো,সেই করবো। এখন তো আবার দুবার করে রেজোলিউশন নেওয়...