অনুকবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অনুকবিতা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

##এটুকুই ।। অনুগল্প।। ## শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 *এটুকুই*

©শর্মিষ্ঠা ভট্ট🍁



তোর বারান্দা থেকে আমার বারান্দা লাফিয়ে পার হতে পারতাম। কিন্তু কখনও পেরোতে চায়নি মন। তোর অচীনপুরের রাজকন্যাদের মতো ভঙ্গি, আমার বিস্মিত চোখ উপভোগ করতো। আমার স্বপ্নের গোলাপের পাপড়ি উড়ত তোকে ঘিরে। তোর চুলের সুগন্ধি ভেসে আসত বুঝি বাতাসে, আমি বুক ভরে শ্বাস নিতাম। দীর্ঘ শ্বাস। বুকের ভেতর দিয়ে শরীরের গলি বেয়ে ছোটাছুটি করত তারা। বারান্দা টপকানোর ইচ্ছা হয়নি কখনও। ভরে ছিলাম। 


মনে আছে ইচ্ছা করে যখন বৃষ্টির ফোঁটা হাত বাড়িয়ে ছুঁতিস , ওই তোর জলপাই রঙের বারান্দার বাইরে। আর একটু হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারতাম তোর আঙুল। তোকে মনের আনন্দে ভিজতে দিয়ে ঘরে আসতাম চলে। 


ভারী বাজে ছিলে তুমি। বারান্দা এত কাছে ছিল। তবু তোমার বারন্দার বাগান থেকে একটাও গোলাপ ছুঁড়ে দিতে না। যদি কিশোরী সুলভ নিষ্পাপ প্রশ্ন করতাম 

" অভিদা একটা গোলাপ দাও না ।" তুমি গম্ভীর হয়ে বলতে

" ওগুলো এখনও বড়ো হয়নি। "

"তো কি গোলাপই তো দাও না, এই এখানে লাগবো। "

চোখ না তুলে বলতে " কুঁড়ি ছিঁড়তে নেই। "


তোমার গোলাপ যে প্রাপ্ত বয়স হতে হতে মাড়িয়ে গেলো। এই বারান্দার পেছনে যে বিশাল বাড়ী তার খবর তুমি রাখোনি কখনও। কখনও তাকিয়ে দেখোছো আমার চোখ কি বলে? বারান্দা ছিল দুইজনার নীরব বসন্ত কুঞ্জ। হয়ত এমন করেই খুশি থেকে যেতাম, যদি শাঁখা পলা সিঁদুরের বন্ধন না থাকতো। আজও সাদা থানের নিরব শাসন বারান্দার বাইরে আসতে দেবে না। 


মৃন্ময়ী এ বাড়ীর কিশোরী বৌ ছিল, বয়সের উজানে কখন হারিয়েছে সব। এখন বহিঃ দৃশ্য তার পক্ষে নিষিদ্ধ, স্বামী থাকায় তবু এই বারান্দা ছিল, বন্ধ এখন। তবু হলির আনন্দে যখন সবাই ব্যস্ত, অনেক দিন পর দরজা খুলে বারান্দার দুপুরের রোদে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিল। কখনও যা ভেবেছিল মন, কিংবা ভাবেনি হঠাৎ অভি বারান্দা টপকে লাল আবীরের ভরিয়ে দিল তাকে। আচমকা এক উত্তাল ঢেউ বারান্দাটাকে অজনা সমুদ্রে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো।। 🌹🌷🌹🌷🌹🌷

বুধবার, ৩ মার্চ, ২০২১

বিষয় : চিত্রে লেখন # নাম : চলো যাই # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

চিত্রে লেখন # নাম : চলো যাই # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
আর কিছু ঘন্টা পরে মোহনায় মিশে যাবে নদীটা। দুকুল তখন অনন্ত জলরাশির মাঝে হারাবে। রাতের অপেক্ষা রত নৌকা একটা একটা করে নদী বন্দর ছাড়ছে। গঙ্গাসাগর মেলায় যাবার জন্য নীপা বসে আছে এরমধ্যে কোন এক নৌকায়। কুয়াশার পর্দা ফুঁড়ে সকালের আকাশে সোনালী রদ্দুর ছড়িয়ে দিয়েছে। নৌকার ছাউনির নীচে থেকে চারিদিকে তাকিয়ে অসীম পরিতৃপ্তি ওকে ভরিয়ে দিল । পিছনে ফেলে দেয়া না পাওয়া অনেক স্মৃতি এই বিপুল বিশাল নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের কাছে মৃয়মান । নীপা ভাবে সময় আর পরিবেশ মানুষকে নদীর ধারার মতো ধীরে বয়ে নিয়ে চলে। একঘাট থেকে অন্য ঘাটে। সামনের জন্য অপেক্ষা ছাড়া আর কিছু ভাবার থাকে না। কবিতা মনে আসে নীপার.... চলছি সোনালী স্রোতে ভেসে, অনির্দিষ্ট আলোকময় ভবিষ্যৎ পথে। চিদানন্দ আনন্দের নাওয়ে, অদৃশ্য তর্জনীর অসীম মোহে। চলেছি ঘাট থেকে ঘাটে, জীবনের চৌম্বকীয় টানে। ©কপিরাইট সর্তাধিকার শর্মিষ্ঠা ভট্ট

মঙ্গলবার, ২৯ ডিসেম্বর, ২০২০

# বিষয় - সান্ধ্য আলোচনা (অনুগল্প) নাম - ম্যানেজমেন্ট#লেখায় - শর্মিষ্ঠা ভট্ট

নাম - ম্যানেজমেন্ট


বড়ো ঘুম বড়ো ঘুম। বেলা নটার আগে চোখ খুলতে চায় না আয়নার। অফিসের কাজ ঘরে হলে যা হয়। তার ওপর রাত ভোর পড়া। সামনের ইউ পি এস সি কমপ্লিট করতে চায়। এই সময় তো নিজেকে নিকড়ে দেবার।ক্লাস টেন দেবার আগে কার কাছে যেন শুনেছিল, আগে যারা ছোটে শেষে বসে খায়।তাই যদি হয়, তাই রাত দুটো আড়াইটা হয়ে যায়। সকালে ওঠা অন্তত দশটা ধরে রেখেছে। ওর বন্ধুরা তো দুপুর বারোটাও করে ফেলে। তবে আয়নার যোগা আছে একটু আগে ওঠার চেষ্টা করে। লেট নাইট নিয়ে বড়োদের কাছে প্রায় লেকচার শুনতে হয়। কিন্তু ওদের কে বোঝাবে সময় পাল্টে যাচ্ছে। আগে আইটি সেক্টর ছিল? ছিল এত কম্পিটিশন কিংবা সময়ের দাম। লেটরাইজার কুঁড়ে বা অলস নয় সব সময়।শরীরের আট ঘন্টা ঘুম তো চাই। একে সময় ম্যানেজমেন্ট  বললে মন্দ হয় না। কে কি বলল কি এসে যায় ! কুল থাকাটা দরকারী। আর ওরা এখনের জেনারেশন বলে " চাপ নিও না" । 


আয়নার মা মৃদু হেসে মেয়েকে তুলে দেয়, ওদের এই "বিন দাশ " ভাবটা ওনার পছন্দ। আয়না কাজের বিষয়ে কিন্তু অনেক এক্টিভ ও স্ট্রঙ্গ। সে যে যা বলুক মা মাথা খায়, কি এসে যায়। এদেরও পরিশ্রম অনুসারে বিশ্রাম চাই। আগে শুনেছে ঠাকুমার সময় চারটেতে উঠত, আর সন্ধ্যা হতে না হতে ঘুম। তারপর লাইট টিভি পড়াশোনা কর্মজীবনের চাকায় ঘড়িও বদলাচ্ছে, আরও বদলে গেলে ক্ষতি কি! কর্মব্যস্ত জীবন হবে আরও। 

©কপিরাইট অধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০

বিষয় : অনু কবিতা # নাম : প্রিয়তমেষু# লেখায়: শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 প্রিয়তমেষু



ডাক দিয়েছো আলোর দিশায়

প্রদীপ হাতে নেমেছি পথে, 

বাতাসটাকে থামিয়ে রাখো

পথ চলার এই দারুণ দিনে। 

ঝড়ের রাতে হাতটি দিও

আড়াল হতে প্রিয়তমে।

©কপিরাইট সর্বাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

শনিবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২০

নাম: আসবে না ফিরে🦋(কবিতা) #লেখা : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 আসবে না ফিরে 🦋


©কপিরাইটের সর্তাধিকার  শর্মিষ্ঠা ভট্ট


ছাতিম তলায় অপেক্ষারত  সাইকেলের চাকায় ক্লান্ত রাঙ্গামাটি। 

হঠাৎ করে মান অভিমান একদিকের বেনী ধরে টান, 

তোর শার্টের পকেটে লুকিয়ে রাখা পলাশের পাপড়ি

দেখে ফেলেছি। 

চঞ্চল করেছি মন একটু আঙুলের স্পর্শ পেতে, 

তুই বুঝিস না এই সময়টা হারিয়ে গেলে আর আসে না ফিরে। 

একবার ভাঙা মনে রিপিট লাগালেও ফিরবে না অবুঝ সতেরো আবার। 

সমস্ত শরীর দিয়েও ওই আঙুল ছোঁয়া অনুরণন

ফিরবে কি আর বুকে, 

ছাতিম তলার সেই আবেশ মাখা দুপুর ফিরে কি কখনও আসে!

সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০

 🥀অ-শুচির পবিত্রতা🥀

--------------------------------------

✍ অঙ্কিতা


যে‌‌ রক্তে মোদের প্রাণ সঞ্চার

তাকেই দাও অশুচির অপবাদ;

মূর্খ তুমি, মূর্খ সমাজ‌‌ জানেও না 

সেই অশুচি‌ রক্তের কত গুনমান।।


কাম্যাক্ষায় কামরুপের পূজা হয় যার

তাকে ভক্তি ভরে দিচ্ছো পূজা, 

আমরা তবে করি কি দোষ, মোদের দাও লাগিয়ে 

কেন পাঁচ দিনের জন্য অপবিত্রের টিকা।।


সবার শরীরেই বহিছে সেই অ-পবিত্রের রক্ত 

যাদেরকে করে রেখেছে সমাজ পদতলে সিক্ত,

দাও স্থান তাদের ভগবানের আসনে

বংশের ধারার রক্ষিতাদের করো রক্ষা;

উদার হোক মানসিকতা, জ্ঞানের হোক জয়

আসলে সবই বিজ্ঞান, কোনো অশুভ, 

অশুচির পাঠ নয়।। 


ধর্মীয় কুসংস্কার থেকে বেরিয়ে এসে, 

ভাবা হোক মুক্ত মনে 

সবই সমাজের গোঁড়ামি যত, 

মিছেই দোষ দেয় যত নারীর সনে।।


©reserved.




শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...