বৃহস্পতিবার, ৩ আগস্ট, ২০২৩
বইস্মৃতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস
রবিবার, ৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২২
##এটুকুই ।। অনুগল্প।। ## শর্মিষ্ঠা ভট্ট
*এটুকুই*
©শর্মিষ্ঠা ভট্ট🍁
তোর বারান্দা থেকে আমার বারান্দা লাফিয়ে পার হতে পারতাম। কিন্তু কখনও পেরোতে চায়নি মন। তোর অচীনপুরের রাজকন্যাদের মতো ভঙ্গি, আমার বিস্মিত চোখ উপভোগ করতো। আমার স্বপ্নের গোলাপের পাপড়ি উড়ত তোকে ঘিরে। তোর চুলের সুগন্ধি ভেসে আসত বুঝি বাতাসে, আমি বুক ভরে শ্বাস নিতাম। দীর্ঘ শ্বাস। বুকের ভেতর দিয়ে শরীরের গলি বেয়ে ছোটাছুটি করত তারা। বারান্দা টপকানোর ইচ্ছা হয়নি কখনও। ভরে ছিলাম।
মনে আছে ইচ্ছা করে যখন বৃষ্টির ফোঁটা হাত বাড়িয়ে ছুঁতিস , ওই তোর জলপাই রঙের বারান্দার বাইরে। আর একটু হাত বাড়ালেই ছুঁতে পারতাম তোর আঙুল। তোকে মনের আনন্দে ভিজতে দিয়ে ঘরে আসতাম চলে।
ভারী বাজে ছিলে তুমি। বারান্দা এত কাছে ছিল। তবু তোমার বারন্দার বাগান থেকে একটাও গোলাপ ছুঁড়ে দিতে না। যদি কিশোরী সুলভ নিষ্পাপ প্রশ্ন করতাম
" অভিদা একটা গোলাপ দাও না ।" তুমি গম্ভীর হয়ে বলতে
" ওগুলো এখনও বড়ো হয়নি। "
"তো কি গোলাপই তো দাও না, এই এখানে লাগবো। "
চোখ না তুলে বলতে " কুঁড়ি ছিঁড়তে নেই। "
তোমার গোলাপ যে প্রাপ্ত বয়স হতে হতে মাড়িয়ে গেলো। এই বারান্দার পেছনে যে বিশাল বাড়ী তার খবর তুমি রাখোনি কখনও। কখনও তাকিয়ে দেখোছো আমার চোখ কি বলে? বারান্দা ছিল দুইজনার নীরব বসন্ত কুঞ্জ। হয়ত এমন করেই খুশি থেকে যেতাম, যদি শাঁখা পলা সিঁদুরের বন্ধন না থাকতো। আজও সাদা থানের নিরব শাসন বারান্দার বাইরে আসতে দেবে না।
মৃন্ময়ী এ বাড়ীর কিশোরী বৌ ছিল, বয়সের উজানে কখন হারিয়েছে সব। এখন বহিঃ দৃশ্য তার পক্ষে নিষিদ্ধ, স্বামী থাকায় তবু এই বারান্দা ছিল, বন্ধ এখন। তবু হলির আনন্দে যখন সবাই ব্যস্ত, অনেক দিন পর দরজা খুলে বারান্দার দুপুরের রোদে দাঁড়িয়ে এসব ভাবছিল। কখনও যা ভেবেছিল মন, কিংবা ভাবেনি হঠাৎ অভি বারান্দা টপকে লাল আবীরের ভরিয়ে দিল তাকে। আচমকা এক উত্তাল ঢেউ বারান্দাটাকে অজনা সমুদ্রে ভাসিয়ে নিয়ে গেলো।। 🌹🌷🌹🌷🌹🌷
বৃহস্পতিবার, ১ জুলাই, ২০২১
# নাম - মরা জোছনা। ✍ - শর্মিষ্ঠা ভট্ট।
# চিত্র লিখন : *মরা জোছনা*(অনুগল্প)
শনিবার, ৯ জানুয়ারি, ২০২১
বিষয় :: আধ্যাত্মিক আলোচনা # নাম :: দ্বিষো জহি # লেখায় :: শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বিষয় : আলোচনা # নাম : দ্বিষো জহি # লেখায় শর্মিষ্ঠা ভট্ট।
তনয়া রায় ,
একুশ বাইশ বছরের মেয়ের মা। সংসার করেন মন দিয়ে। এত নামী কলেজে ভর্তি হয়েছে তার মেয়ে শুধু ঈশ্বরের ইচ্ছাতে। এত ভালো রেজাল্ট তাঁর কৃপা ছাড়া আর কি! এসব মনে করলেই বিগলিত হয়ে জান। যদিও মেয়ে কর্মযোগে বেশি বিশ্বাসী। এবং মায়ের অতিরিক্ত ভক্তিমূলক কর্মকাণ্ডের শিকার হয়ে বিদ্রোহ করে। এমন করে দুই মতবাদে বেশ চলে যাচ্ছে ওদের ছোট সংসারটি । মেয়ে জানে বাবার কাছে মার বিরুদ্ধে নালিশ চলবে না। বাবা তৎক্ষণাৎ মাথায় হাত ঠেকিয়ে বলবে " মা যা করেন ভালোর জন্য। " মেয়ে ঠিক মতো বোঝে না আসলে কার কথা বলল বাবা দেবী মা! না তার মা তনয়া! মার এই পূজা অর্চনার ফলেই কি ভালো আছে তারা, এটা বলতে চাইছে বাবা! এত ভাবার মতো ধৈর্য্য ওদের কোথায়! স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ে থ্যালাসেমিয়া রোগীদের জন্য রক্ত দিতে, যা সে প্রায়শই দিয়ে থাকে।
তনয়া মনে মনে সংকল্প করেছে এই নতুন কলেজে যদি মেয়ের অসম্ভব ভালো রেজাল্ট হয়, সপরিবারে পায়ে হেঁটে দশ কিলোমিটার পথ মন্দির আসবেই। " রূপ দেহি ধনং দেহি, যশং দেহি....... " গানটি মনে পড়ে যায়। তিনিই তো এক মাত্র, তিনিই পারেন দিতে। মানুষ তো নিমিত্ত মাত্র। সমস্ত কিছু তাঁর কাছে সমর্পিত, ঈশ্বর ছাড়া কে এমন করে দেন! তনয়ার সুখী পরিবার তার নির্দেশেই চলছে, তাঁর অপার দানে তনয়ার সুখী পারিবারিক জীবন! 🙏শত কটি প্রনাম তাঁকে। ফোন বেজে উঠল, এখনও মেয়েটা এল না! চিন্তা নিয়ে এগিয়ে গিয়ে ফোনে হাত দিয়ে পাথর হয়ে যান। হসপিটাল থেকে ফোন.... প্রচন্ড আঘাত পেয়ে মেয়ে হসপিটাল, রক্তদানের পর ফেরার পথে এ্যাক্সিডেন্ট! হাতের ওপরের ভাগের হাড় টুকরো হয়েছে। বিশাল ব্যান্ডেজ, মেয়েকে সেবা করা ছাড়া ঠাকুর ডাকতে ভুলেই গেল তনয়া। লোহার রড দিয়ে ঠিক করা হয়েছে। হাত চলছে না, আর তিনমাস নেই পরীক্ষার। অসাধারণ প্রিপারেশন করা মেয়েটা একবছর পিছিয়ে যাবে! না তানিয়া রাগ করতেও ভুলে গেছে। এত পূজার এই ফল!! এই প্রতিদান!!
হাত একে বারে ঠিক দুবছর পর। লোহার রড বের করা হয়ে গেছে। মেয়ে প্রচন্ড আত্মবিশ্বাস নিয়ে প্লাস্টার সমেত পরীক্ষা দিয়েছিল। ডাক্তার কে অনুরোধ করাই ছিল আঙুল যেন চলে এমন করে প্লাস্টার হোক। ইউনিভার্সিটি টপার গোল্ড মেডেলিস্ট
তনয়ার মেয়ে। তিনি দেন, তিনি নেন..... তনয়া আবার রক্ষা করার জন্য তাঁকেই ডাকেন। মেয়ে ভাবে তার ভালো কর্মের ফল হয়ত। বাবা বলেন " মা যা করেন ভালোর জন্যই করেন। " যাই হোক ঘটনা ঘটবেই আর পজেটিভ চিন্তার সাথে গ্রহণ করতে হবে। হয়ত এই শক্তিকেই "তিনি বা ঈশ্বর বলতে পারি, কিংবা কর্মযোগ কিংবা বিশ্বাস।" যাই হোক ভালো ভাবে সুন্দর চিন্তার সাথে বাঁচতে তো হবেই।
©কপিরাইট সর্বাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট 🙏🙏
সোমবার, ৪ জানুয়ারি, ২০২১
বিষয় : অনুগল্প # নাম : তোমার দেশ আমার দেশ লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বিষয় # অনুগল্প
(বদলে যাওয়া দিন, বদলে যাওয়া সময় )
নাম# তোমার দেশ আমার দেশ
লেখায়# শর্মিষ্ঠা ভট্ট
দলপ্রীত রিটায়ার্ড করল এবার। বৌ ছেলে নিয়ে ঘুরেছে এ রাজ্য থেকে ও রাজ্যে এবার থিতু হতে চায়। নিজের ঘর লুধিয়ানায় ফিরেছে সে। মনে অনেক আশা অনেক আবেগ ভরে আছে তার। সেই কোন বিশ বছর বয়সে ঘর ছেড়েছিল। তখন কত খেলার সাথী কত প্রিয় জিনিস কত প্রিয় লোক ছেড়ে গেছে।
পয়সার জন্য চাকরি। সেনাবাহিনীর চাকরি পেল সে। গর্বিত বাবা মা আত্মীয়, মহল্লা। আর সে নিজে ধীরে ধীরে গর্বিত হতে শিখলো ঠিক তখন, যখন সে দেশকে ভালবেসে ফেলল। ভালবেসে ফেলল ওই বর্দিটাকে। ভালোবাসল নিজের কাজটাকে। দেশের সেনা সে গর্বিত, মুখে জয় হিন্দ।
অনেক অভ্যাস বদলে যাচ্ছিল। সেই গ্রামের সাধারণ ছেলে অনুভব করছিল তার মধ্যে এক আগুন আছে। পুরো দেশ যখন উৎসবে ব্যস্ত, সে সতন্ত্র প্রহরী, তার ছুটি নেই,কর্তব্য করে চলে। কোন বিরক্তি নয় ।উপর মহলের কোন চাপ সে প্রকাশ করবে না , তার চওড়া বুকে বেঁধে দেবে আবেগ। এমন তাদের শেখানো হয়েছে। তরুণ দলপ্রীত কত কত দিন বৌ ছেড়ে দূরে থেকেছে। গ্রামে পাঠিয়েছে , ছেলে সমেত। কত দিন অভুক্ত মনকে বুঝিয়েছে। সামান্য পয়সায় দিন চালিয়েছে, পরিবারকে পয়সা পঠিয়েছে। সন্তানের দেখা শোনা তাও সে করতে পারেনি ঠিক মতো। আজ সিয়াচেন কাল রাজস্থান মরু। তার ব্যাটেলিয়ন এর সাথে সে ছুটেছে। কত কত গুলি কাশ্মীর সামলে এসেছে। বৌ বলে " দেওয়ালী, আসবে না? ঘর যে অন্ধকার থাকবে" ।এক দিন সেও বুঝে গেছে এ কর্তব্য, একটা ঘর নয় হাজার ঘরে আলো জ্বালতে হবে দলপ্রীতকে। সেও একদিন বলা ছেড়ে দিয়েছে। যেমন দলপ্রীতকে ওর মা অনেক দিন হল বলে না "বেটা এক মাস হয়ে গেল, তোর মুখ দেখি না । " যেমন ওর বনেরা বলা ছেড়ে দিয়েছে ক 'বে... " ভাইয়া রাখিতে আসবি না? " এমন করে একদিন ওর প্রথম প্রেম বলা ছেড়ে অন্যের ঘরে চলে গেল... " প্রীত, চিঠিতে আর যে চলে না। "
সময় - দেশ - কাজ এগিয়ে চলে। গ্রামে আসে ছুটি ছাটায় অনেক আদর পেয়ে ফিরে যায়, সংসারের অনেক মার প্যাচ সে বোঝে না। হাত ভরে জিনিস দেয়, মন ভরে ফিরে যায়। রেশন ক্যান্টিন কার্ডের জন্য পরিবার আত্মীয় বন্ধুরা এসে দাঁড়ায় তার সামনে। মন খুলে খুশি করেছে তাদের। মা বাবা হসপিটাল কার্ড পেতে পেতে এমন অভ্যাস হয়েছে, ঠিক সময় তা হলে বার বার ফোন এসে যায়। দলপ্রীত হয়ত একটা সরকারি স্ট্যাম্প কার্ড ছাড়া আর কিছু নয়। ফেলে আসা সেই কুড়ি বছর থেকে আবার শুরু করতে চাইলে ফিরবে না বহমান দিন। বালির মতো তার হাত থেকে গড়িয়ে চলে গেছে। দলপ্রীত বোঝে না। জীবন ট্রেন স্টেশন ছেড়ে চলে গেছে দলপ্রীত দৌড়ে ধরতে পারবে না। তবু দলপ্রীত ছোটে..........
অতি সামান্য পয়সায় কি ভাবে আনন্দে থাকতে হয় সেনা জানে। বাইরে দুনিয়া তাদের কাছে ধূসর পাণ্ডুলিপি। যেখানে অজস্র পরিচিত নাম লেখা হয়ে থাকে। দলপ্রীত অসংখ্যর মাঝে এক। সম্মান দেখায় দেশবাসী সেনাবাহিনী বলে। আর সেনা দলপ্রীত লাইনে দাঁড়ায় সামান্য কটা পয়সা বাঁচাতে রেশন ক্যান্টিন হসপিটালের লাইনে। একক দলপ্রীত সিয়াচেন থেকে ফিরেও ট্রেনে রিজার্ভ সিটি না পেলে মাটিতে শুয়ে ঘরে ফেরে। দামের এদিক ওদিক সামাজিক অন্যায়ে চেঁচামেচি করলে লোক বলে "সেনার বুদ্ধি তো ঘুটনো (হাঁটু) মে। " হ্যাঁ হয়ত তাই.... তাই দলপ্রীত চীনি সেনাটার নাকে ঘুঁশি মেরেছিল।কিন্তু ঘাড় নীচু করেনি।এ লড়াইটা কিন্তু নিজের জন্য ছিল না। তবু' মাথা গরমে' বলে সিভিল লাইফে তার পরিচয় আছে। সেনাবাহিনীর জীবন কাটিয়ে এসে দলপ্রীত অনুভব করে বড়ো বেমানান সে।
দুবছর আগে ঘরে ফেরার কথা বলতে কালো হয়ে গেল ভাইয়েদের মুখ। জমিজমা বাড়ির অংশ দিতে হবে!! প্রায় নাকোচ করে দিয়েই ছিল। মাও বলে "এত বাচ্ছা কাচ্ছা নিয়ে এরাই বা কি করে... সরকার তোকে বাড়িঘর দেবে না!? " সত্যি সে তো সরকারের কাজ করেছে, দেওয়া তো তাদের উচিত। কিন্তু দলপ্রীত সরকারের মাথা হাত পা কিছু দেখেনি, চিনবে কি করে।চাইবে কার কাছে? বৌ ছেলে তেড়ে মেড়ে একটু জমি উদ্ধার করেছে। ছোট্ট একটা ঘর তুলতে জমানো পয়সা ঢেলেছে দলপ্রীত।বৌ ছেলে তবু ওখানে জমে বসেছে। কিন্তু সে?? আজ সে ফিরে এসেছে, তার এতদিনের শেখা ফৌজি চলন বলনে বৌ ছেলেই হেসে ফেলে। সকালে ওঠা, হাঁটা ছোটা। তাড়াতাড়ি শোয়া এদের কাছে অদ্ভুত, জোরে কথা বলা, দিল খুলে ব্যবহার করা অবাক হয় ওরা। সমাজের অন্যায়ে ঝাঁপাতে ছেলেই বিরক্ত হয়ে বলে " আঃ বাবা একটু শান্ত হয়ে বসো তো, পঞ্চায়েতের সাথে ঝামেলায় জড়িয়ে বিপদ ডেকো না। দেশ দেশ করে কিছু সুরাহা তো করো নি, অন্ততঃ চুপ করে আমার একটা উপকার করো। " দলপ্রীত এখন কেবল রিটায়ার্ড এর পয়সা তোলে, হাসপাতালে যায়। কিন্তু নিজস্ব পরিচয়হীন। ওর জীবন যেন অন্যের নিয়ন্ত্রণ। সেই উষ্ণতা আর কেন উপলব্ধি করতে পারে না।মাত্র পঞ্চাশ পেরিয়েছে সে। তারুণ্যের জোস এখনও বুকে।
দলপ্রীত একা পথ চলে, হাঁটতে হাঁটতে সে অনেক পথ চলে এসেছে। শুধু একটা দিন একা ঘরের বাইরে লালচে পথে চলতে চলতে নিজেকে ঘুরিয়ে ফিরিয়ে দেখতে থাকে । খিদে পেলে পথের পাশে বসে খাচ্ছে আর হাঁটছে। দূর দূর চলা তার অভ্যাস আছে। বেরিয়ে পড়েছে তাই। দু দিকের আঁখ আর সর্ষের ক্ষেত । চোখ ভরে দেশ কে দেখছে । শ্বাস নিচ্ছে জোরে..... তাদের তৈরি ভারতের মাটির গন্ধ বড়ো মায়া ভরা। সন্ধ্যা হয়ে এলো পাখিগুলো নিচু হয়ে উড়ছে, পশ্চিম আবীর রাঙা...... ঘর ফেরা দলপ্রীত গান ধরেছে....." মেরা দেশ কা মিট্টি "......🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳🇮🇳বদলে যায় দিন, বদলে যায় সময়, দলপ্রীত বোঝে। মনে একটাই ছবি । গান জোর হয়, খোলা পথ দুভাগ হয়ে সর্ষে ক্ষেতে...
©copyright reserved for Sharmistha Bhatt
শনিবার, ২৬ ডিসেম্বর, ২০২০
বিষয় : সমলোচনা (গল্প) # নাম : আর্সি# লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
আর্সি।। (গল্প)
'আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।' মানে বাঙলায় যাকে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বলে ১৯৪০ থেকেই চেষ্টা চলছে মানুষের বুদ্ধির অনুরূপ মেশিন করে দেখানোর। এফ বি তে যে ভাষা রূপান্তরিত হয় এই পদ্ধতি প্রয়োগেই। বলতে গেলে গুগল থেকে নিয়ে সব সফট ওয়ারের কাজই তাই। মানুষের বুদ্ধির অনুকরণ বা অতিক্রমন। আমি শখের লেখিকা , তাই বিজ্ঞানের খিটপিট ছেড়ে গল্পে চলে যাই। সাহিত্য আমার বিচরণ ক্ষেত্র, আমি কমফোর্ট ফিল করি।
২০১৫ তখন , পৃথিবী ব্যাপি নেট ও কম্পিউটার এক্সপ্লোরাররা নতুন পথের দিশা দিচ্ছে। আমার সায়েন্স কলেজের বন্ধু অবনীশ বলল - শর্মিষ্ঠা, কলকাতা আয় আমার ঘর রাজার হাটে, নতুন ডিজাইন করেছি নিজে। অবনীশ মানেই নতুন। সে বছর গরমের ছুটিতে চলে গেলাম ওর বাড়ি। ভাই রে কি বলবো। দরজা খুলতেই মাইক কম্পিউটার ও সি সি টিভি ক্যামেরার সে কি কামাল। বাড়ীতে দামী দারোয়ান রাখলেও হার মানাতো । খাবার নিয়ে রবট টাইপের এক টেবিল, ডাকছে। মানে তাতে খাবার রেখে টাইম ফিক্স করে দিলে সে ডাকবে। " আমি বললাম এ তো কিছু ই না" কি আর 'আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।' ও বলল - ওকে চল ওপরে। বাথরুমে ম্যাসেজ পার্লার। তবু মন ভরেনি । শেষে হার মেনে নিজের এক বছরের বাচ্ছা ছেলের সাথে আমায় খেলতে বসিয়ে গেল। বাচ্ছাটা খুবই কিউট। খেলতে ভালো লাগছে। কাঁদে না। কিন্তু বেটা গেল কোথায়! বৌ এ সব পাগলামীর জন্য ডিভোর্স নিয়েছে। কাজের কেউ নেই। এই অল্প শিক্ষিত রবট গুলো সামলায় । ক্যারে পড়লাম। বাড়ী ফিরতে হবে। আমি কি ভাই তোর ঘরে আয়াগিরি করতে এসেছি? মনে মনে চটে লালা। আমার ওপরে ডিম ফাটিয়ে দিলে পোঁচ হয়ে বেরিয়ে আসবে।
অগত্যা দু ঘন্টা পর ফিরে বলল - কিরে কেমন এন জয় করলি আমার 'আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স।'
অবাক আমার মুখ বন্ধ করে, মিচেল হেসে দেখলাম বাচ্চাটাকে শুইয়ে পটাপট ওকে ল্যাপটপের রূপ আনলো ডাইপারের কাছে। চোখ দুটো সামনের দেওয়ালে ছবি ফেলল এ্যাজ আ প্রজেক্টর। ওমা যত কিছু করেছি ,বিচ্চু ছবি তুলে রেখেছে। এমন কি অবনীশকে দেওয়া গালাগালি গুলো বিভিন্ন ভাষায় ট্রান্সলেশন করছে। একটু লজ্জা পেলাম, সামান্য অবাক। ধরতে পারলাম না। এতক্ষণ নাড়াচাড়া করে ওটা ওর ছেলে নয় মনে হল না একবারও। তবু বলি - আর একটু উন্নত কিছু। এ বছর ডেকে ছিল। মিঃ19 জন্য কোলকাতা যাচ্ছি না। নয়ত 'আর্টিফিসিয়াল ইন্টেলিজেন্স ' বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও দেখিয়ে ছাড় তো। মনে মনে ভাবি নিজের বুদ্ধিমত্তা ধাঁ ধাঁ খাবার থেকে যাক বেঁচে গেলাম।
মোবাইল টেনে লিখতে গিয়ে দেখলাম.. এই মেশিন তো সব চেয়ে বড়ো নিদর্শন। প্রতি দিন ক্যালকুলেটর থেকে এফ বি গুগল হোয়াটসঅ্যাপ ইত্যাদিতে আমার সাথে বুদ্ধিমত্তার টক্কর দিয়ে জিতে যাচ্ছে। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার এই যন্ত্রের নাম দিয়েছি " আর্সি "।
©copyright reserved for Sharmistha Bhatt.
মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০
🙂নিজেকে চেনা!!🙂
✍- অঙ্কিতা পাল
শুনেছি মানুষ চেনা খুব কঠিন কাজ। আমরা দিনের পর দিন, মাসের পর মাস এক একজন মানুষ চিনতেই কাটিয়ে দিই, কিন্তু নিজেদের চিনি কতটুকু?
আমরা সবসময় চেষ্টা করি বাইরেটাকে সাজানোর, সুন্দর করার, কিন্তু ভিতর সাজাই কতটুকু?
আমরা নিজেদের প্রত্যাশাই সবসময় পূরণ করে উঠতে পারি না, তবে অন্যের কাছে নিজের প্রত্যাশা পূরণের আশা রাখি কেন?
আমরা অন্যের বিপদে-আপদে সাহায্যের জন্য এগিয়ে যাই, তবে নিজের বিপদে অন্যকে পাশে চাই কেন?
আমরা অন্যের ইচ্ছেগুলোকে গুরুত্ব দিয়ে থাকি, তাহলে নিজের ইচ্ছেগুলোকে "লোকে কি ভাববে" ভেবে এড়িয়ে যাই কেন?
অন্যের জন্য নিজেদের কাছে অঢেল সময় থাকে আমাদের, তবে নিজেকে নিয়ে ভাবার জন্য, নিজের সাথে নিজে সময় কাটানোর জন্য একটুও সময় পাই না কেন?
মুখে ভয়কে জয় করার কথা বলে 'চেনা ভয়' কে আমরা ভয় পাই কেন?
আজ এই প্রশ্নগুলোই আপাতত থাক না হয় নিজের কাছে, নিজের জন্য...
মাঝে মধ্যে নিজের দিকে আঙুল তোলাটাও জরুরী হয়ে পড়ে।
All right ©rights reserved.
বিষয় : চিত্রলিপি(প্রবন্ধ) # নাম দৃষ্টি কোন # লেখা : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।
দৃষ্টি কোন। মানে একই দৃশ্যকে বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করা। ঈশ্বর তত্ত্ব বিভিন্ন মুখী। তবে আজ অন্য বিষয়ে আলোচনা করি। যেমন ধরুন কোন ব্যক্তি আমার চোখে ভালো, আবার অনেকের বিচারে নয়। মানে ব্যক্তিটির কিছু গুনকে আমি দেখতে পাচ্ছি এবং আকর্ষিত হচ্ছি। অনেকের কাছে সেই গুনাবলীর কোন মূল্যই নেই। খুব সোজা উদাহরণ.....
বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করল সোমা রহিতকে । রহিত মাহিষ্য অপূর্ব সুন্দর শিক্ষিত কিন্তু পাকা চাকরি নেই এবং পরিবার প্রায় দরিদ্র, অনেক ভাইবোন। সোমা ব্রাম্ভণ একমাত্র মেয়ে শিক্ষিকা শহরের বিত্তশালী পাড়ায় বাস। সোমা কি দেখে বিয়ে করল?
সবার প্রশ্ন।। এই "দেখে " মানে দৃষ্টিকোন।। কথা এমন হবে " সোমা কোন দৃষ্টিকোন দিয়ে বিচার করল? " হয়ত এই প্রশ্ন করলে সোমাকে ভালো করে বোঝা যেত। কি যে দেখেছে সে!! একেই হয়ত প্রেম বলে। কিছু না দেখা কিংবা একটি দুটি গুনকে নিজের মনের আলোতে অনেক বড়ো করে দেখা। কাউকে এই দৃষ্টিকোন দিয়ে দেখেই আমরা নিজের করি। কারো তুলতুলে বিড়াল পছন্দ, কারো বাঘের তেজ।
🧸আজ এইটুকু থাক? অনেক ধন্যবাদ। একটা কবিতা দিলাম সুপ্রভাত জানিয়ে, হয়ত আমার উপস্থিত এখানের সব বন্ধুর কাছেই তার মানে আলাদা আলাদা হবে। আর এটাই নিজস্ব বিচার শক্তি বা দৃষ্টিকোন 🧡
✡✡✡✡✡✡✡✡
উৎসবী আঘ্রাণ
শীত ঘুম দেবার ঠিক আগে
অচৈতন্য আবেদন নিয়ে
হেমন্ত ঘরে ফেরে,
বিষন্ন দুপুরে পাতা ঝরা
আওয়াজে পথটুকু চলা
উদাসীন তৃপ্তির সাথে।
শরতের উৎসবী আঘ্রাণ
গায়ে মেখে না চাইতেও আবার
একবার মন চায় কুয়াশায়
রহস্যময় দুর্ভেদ্য একাকী হতে।
হেমন্ত এসেছে ফিরে রাতুলের গাঁ
ফিরতে নিষেধ জেনেও
অগ্রাহ্য নীরব বারন আর
বয়ে যাওয়া নিয়ম।।
✡✡✡✡✡✡✡✡
@copyright reserved for Sharmistha Bhatt
শনিবার, ১২ ডিসেম্বর, ২০২০
বিষয় : বিশ্বাস ( অনুগল্প)# নাম :স্টেলা পবিত্র আলো # লেখা : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
স্টেলা পবিত্র আলো
" কি ম্যাম হোটেল চাই? " কানে দুল পরা ছেলেটা অনেক্ষণ থেকে পিছনে ঘুরছে। হোটেলের দালাল। ছোট যায়গায় অনলাইনে সব হয় না। কটা চোখ সোনালী চুল , নীল ফাটা জিন্স , ওপরে ইন্ডিয়ান পাঞ্জাবি। ঘুরে দেখছে পাহাড়ি গ্রামটা। ওর মনে হয় না এখানে থাকার দরকার আছে। ভারতের পূবের কোন থেকে সে উদিত সূর্য দেখবে। ভেনিজুয়েলার অখ্যাত শহর থেকে এই উদ্দেশ্যে সে পথে পাড়ি জমিয়েছে। ওর পূর্ব নির্ধারিত স্থানে পৌঁছাতে পৌঁছাতে সে ছোট দর্শনীয় ভিউ পয়েন্ট গুলো ছুঁয়ে যাচ্ছে। নিজেই 🚙গাড়ী চালাচ্ছে । দুবার তিনবার "নো" বলার পর শুনছে না দেখে , চুপচাপ দেখে তাড়াতাড়ি জায়গাটা ছাড়তে চায়। দূরের অসাধারণ প্রকৃতি, ওকে সব ভুলিয়ে দিয়েছে। ছেলেটার প্রতি বিরক্তি সরে গেছে মন থেকে। সবুজ সমুদ্রে ছোট বোটের মতো দেখতে লাগছে বিস্তৃতি পাহাড়ের বুকে সাদা ছোট বাড়িগুলো। অবাক চোখে দেখে মানুষ আর সৃষ্টিকর্তার অসাধারণ স্থাপত্যকে।স্টেলা ব্রাউনের চোখে নৈসর্গিক সৌন্দর্য্যের মাদকতা, সৌন্দর্য্যে পিপাসু সাতাশ বছরের মাক্রো বায়োর সদ্য তরুণী প্রফেসর । নিষ্পাপ চোখ মেলে দেখে এই ইন্ডিয়া নামের দেশটির অপরূপ অনন্য রূপ। নীল আকাশ দেখে নিয়ে পরিতৃপ্ত সে চোখ ঘোরায়। আর ঠিক সামনেই ছেলেটা। মনটা খিঁচড়ে যাচ্ছে, তবু একবার ভাবলো......... গরীব দেশ ভারতের এমন যুবক অনেক আছে। হয়ত ভাত বিতের কারনেই এমন পেছনে পড়ে আছে। সোজা তাকালো এবার। ইংরেজি ভেঙে ভেঙে বলল " নাম কি? কি চাই? হোটেল নেব না বললাম তো। অন্য কাউকে দেখ না? "...... ছেলেটা আর ওকে হোটেলের জন্য বলেনি, তবে কেমন যেন হাসিটা! এরা কি এমন করে বিদেশি দেখে? হ্যাঁ, ওর বন্ধু পিটারসন এমন বলেছিল বটে। বিদেশি দেখলে হাঁ করে দেখে। প্রতি কাজ লক্ষ্য করে , সামান্য কারনে গায়ের কাছে সরে এসে ব্যক্তিগত বিষয়ে মাথা গলায়।অবশ্য এ সব ওদের গেঁও কৌতূহল মাত্র। বিপদে পড়লে ওরাই তোমায় সাহায্য করে দেবে। ব্যাপারটা একটু বিরক্তিকর। শান্তিতে হ্যান্ডেল করলে,ব্যাপারটায় আনন্দ নেওয়া যায়।
রাত অনেক হল ফিরেয়েই আসতে হল। লাঞ্চের পরেই ছোট পাহাড়ি গ্রাম ছেড়েছিল। কিন্তু এমন রোড ব্লক!! ঘন্টার পর ঘন্টা অপেক্ষা করে একটু গাড়ির সারি এগোতেই পারল না। পেছন থেকে খালি হয়ে যের যার ফেরা পথ ধরল। অগত্যা স্টেলাকে ফিরতে হল। ছেলেটা কি জানতো ও আসবে? বসে আছে পথের মোড়ে। এবার ছেলেটা আর কিছু বলল না । স্টেলা কাঁচ নীচু করে গলা চড়ালো " হেই ফ্রেন্ড , রুম পাবো?"
ছেলেটা শুনতে পাইনি নাকি....এমন একটা ভাব করল যেন সকালের শোধ তুলছে।ওখানে বসে খৈনিরগড়ায়,
স্টেলা আরও দুবার বলতেই জানলার গা ঘেসে দুটো ছেলে হঠাৎ এগিয়ে এলো। স্টেলা চমকে একটু মুখটা পিছিয়ে নিল। ছেলে দুটো ওর গাড়িতে গা এলিয়ে বলে ওঠে " মেমসাব, কেমন ঘর চাই ? সব রকম ঘর খালি আছে।" উঠে এসে দাঁড়াল এবার আগের ছেলেটা।
" এই জগদীশ, মেমসাব আমার খদ্দের। সকালে বলে রেখেছে। " " তবে এতক্ষণ কি করছিলি? মালটা ফ্রেন্ড ফ্রেন্ড করে চেঁচিয়ে মরছে। " বাজে ভাবে অট্টহাস্য করে সরে গেল ওরা। আবার চলে যাচ্ছিল ছেলেটা। স্টেলা গাড়ি থেকে তাড়াতাড়ি নেমে বলল " স্টপ! থামো, ঘর হবে? " " না নেই... রোড বন্ধ হতে সবাই নিয়ে নিয়েছে । এত রাতে আর কিছু হবে না। " " আমি কি করবো? তবে ওদের তাড়ালে কেন? " ছেলেটা বেশ কিছুক্ষন ওকে দেখে বলল " আমার ঘর আছে যাবে? মা আর বোন থাকে। " " কতদূর? " বিশ্বাস হয় তো চলো " । " অগত্যা "....... ছেলেটার চেনা এক দোকানের সামনে গাড়ি রেখে হাঁটা লাগালো ওর পিছু পিছু। মনে খটকা নিয়ে হাঁটছে স্টেলা। নীরবতা পাহাড়ি পায়ে চলা পথে বিরক্তিকর লাগছে। তাই জিজ্ঞেস করল " নাম কি? " " মনি" আর কি বলবে? কেমন যেন লাগছে, তাই আবার বলে.. "কতটা আর" "ওই ঘরটা".. ঢালের গায়ে একটা কুঁড়ে দেখালো। ভালো করে দেখার আগেই "আঁক্" করে শব্দ হল। মনি! " স্টেলা আর্ত চিৎকার করে ওঠে। ওর মুখ চেপে ওরা ততক্ষণ গাড়িতে তুলছে ওকে। অজ্ঞানের জন্য কিছু ব্যবহার করেছে।নিদ্রালু চোখে দেখে ছিল মনি রক্তাক্ত। রাস্তায় শুয়ে ।
ওরা চার পাঁচ দিন ওর ওপর পাশবিক অত্যাচার করে ছিবড়ের মতো পাহাড় থেকে ফেলে দেবার ধান্দায় আছে। স্টেলা জানে তার দেহ রক্তাক্ত, ছেঁড়া কাঁথার মতো থেতলানো দুমড়ে মুচড়ে নোংরা করে ফেলে রেখেছে। এখনও কি কিছু বাকি! "হে শয়তান, আমায় পূবের সূর্য্য দেখতে দে একবার। " এখনো অসংলগ্ন বিড় বিড় করে চলেছে সে। কিসের চেঁচামেচি? অনেক মানুষ! সে কি স্বপ্ন দেখছে? শুয়ে থাকা চটটা টানাটানি করে দূর্বল হাতে।ও চায় না যদি আরও কেউ আসে! ওর উলঙ্গ দেহটা দেখে। ঠান্ডায় জমে গেছে তার শরীর। অনেক মানুষ আর অনেক টর্চ এগিয়ে আসছে। ও কাউকে দেখছে না অনেক টর্চের আলো ওকে দেখছে।
মনি আজ পনের দিন পরে অরুণাচলের শেষ বিন্দুতে স্টেলার পরিচিত সেই জায়গায় ওকে নিয়ে এসেছে। এখনও দুর্বল সে।তবু ফুলের মতো পবিত্র মেয়েটাকে একা ছাড়তে পারেনি ওর মা।ওকে সাথে পাঠিয়েছে। উদিয়মান সূর্য্যর দিকে হাত ছড়িয়ে শ্বাস নিচ্ছে স্টেলা। প্রচন্ড খুশি সে।তাকে দেখে বোঝা যাবে না কিছু ঘটে গেছে।প্রকৃতিকে বুক ভরে নিচ্ছে...মনের কোনায় কোনায় পূবের সূর্য্য কিরন ধৌত করছে তাকে।অপূর্ব অপার্থিব সে দৃশ্য যেন স্টেলার উপস্থিতিতে স্বর্গীয় আবেশে ভরিয়ে তুলেছে।স্টেলা বিড় বিড় করে বলছে " হে পরম সত্য, জীবন এত সুন্দর! ধন্যবাদ সব কিছুর জন্য ধন্যবাদ। মানুষের প্রতি বিশ্বাস হারাতে দাওনি।আমি বিশ্বাস করতে পারি এখনও, এখনও আশায় বুক বাঁধতে পারি। হে অপরূপ , 🌸 পৃথিবী তোমার আলোয় আলোকিত করো। আমি বাঁচতে চাই এই সুন্দর পৃথিবতে। বাঁচাতে চাই। "
বুধবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২০
নাম : শান্তাবাঈ # বিষয় : অনুগল্প লেখেনে : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
নাম : শান্তাবাঈ
বিষয় : অনুগল্প
লেখেনে : শর্মিষ্ঠা ভট্ট
রজত কুলকার্নি আমার কলিগ। মুম্বাই এ জমিয়ে বসেছি আমরা প্রায় দশ বছর হল। বিভিন্ন অনুষ্ঠানে অফিস পার্টিতে জমিয়ে আড্ডা চলে। আমাদের বেঙ্গলী সোসাইটির দূর্গাপূজায় টেনে নিয়ে যাই ওকে।ও আনন্দে আপ্লুত হয়ে বাঙলা শেখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। বাঙালী অবিবাহিত মেয়েদের ঝাড়ি মারে। অত সুন্দর চেহারার উঁচু পোস্টের ছেলে জামাই করতে অনেক বাঙালী মা লালায়িত। আমার কাছে অনুরোধ আসে, " অমল একটু দেখো না প্লিজ। আমার ঋতুর বায়োডাটা তোমার হোয়াটসঅ্যাপ এ পাঠাই ?" রজত আমাকে ওর আইয়ের হাতের পম্পপ্লেটের অসাধারণ পদ খাইয়ে কৃতজ্ঞতা জানায়।
এমন অবস্থায় দেওয়ালীর এক অনুষ্ঠানে এক অতিব সুশ্রী তরুণী বগলদাবা করে সুসজ্জিত রজত পার্টিতে ঢুকল। পার্টির মূল আকর্ষণ ছিল ওরা দুই দৃষ্টি মুগ্ধ জোড়ি। মেয়েরা তো হৈ হৈ করে রজতের এই গোপন ব্যবহারের প্রতিবাদ করল । কত অবিবাহিত মেয়ে নীরবে সরে গেল। আমার বৌ ক্ষুব্ধ গলায় বলল,
" রজত এটা কিন্তু ঠিক নয় , প্রেম করলে আর জানতে পর্যন্ত দিলে না। এখন বলছো এন্গেজ করেছো। " রজত ভাঙা বাংলায় বলল " আরে বৌদি রাগ করবেন না , ছোটবেলা থেকে ওদের আই কথা দিয়ে রেখে ছিল , তাই হঠাৎ.....।" সবাই চেপে ধরল পার্টি চাই। রজত পোলাইটলি বলল " তাতে কি! এই রবিবার আমার ফ্ল্যাটে চলে আসুন। স্বপ্নম্ নিজের হাতে খাওয়াবে। কি তাই না স্বপ্নম্? " পঁচিশ বছরের মেয়েটা উচ্ছসিত হয়ে বলল - " অফ কোর্স, আমি একেবারে স্টার ট্রিটমেন্ট দেব। আসুন রজতের ঘরে।" বাচ্ছা মেয়েটাকে দিয়ে কাজ করানোর ইচ্ছা ছিল না। তবু মেয়েটার আত্মবিশ্বাসে আঘাত করতে পারলাম না। বুঝলাম রবিবার আধুনিক তরুণী কি যে রাঁধবে কে জানে, ভালো তো হবেই না। আবার সেই অনলাইন অর্ডার। রজতকে অফিসে বললাম আগে থাকতে অর্ডার করে দিতে। রজত হেসে বলল " চিল দাদা । " নতুন প্রেমে গদগদ পুরুষদের কিছু বলো, শুনবে না জেনে চুপ থাকলাম। আর গাঁই গুঁই করে রবিবার খেতে গেলাম রজতের কোলাবার ফ্ল্যাটে। ও মা বাবা দাদার পরিবারের সাথে দাদরে থাকে, কিন্তু এই পার্টি হলে কিছুক্ষন একা থাকার মন করলে ও এখানে চলে আসে। এন্গেজ হবার পর থেকে ও নাকি স্বপ্নম্এর সাথে এখানে থাকছে, লিভ ইন বলা যায়। দারুন খেলাম। তা প্রায় পঁচিশ ত্রিশ জনের রান্না ও দিব্বি করেছে। মেয়েটা বেশ মিষ্টি। তবে কথাগুলোয় ওদের মধ্যে এখনও দূরত্ব আছে বোঝা যায়।সেদিন যেমন বলেছিল "রজতের ফ্ল্যাট" । আজ বলল " রজতের লাইব্রেরিতে আমি থাকি। " বাবা এত সংযম! আধুনিক ছেলে মেয়েরা লিভ ইনে এত মানে! আমার বৌ বলল, এত দূরে থাকতে হবে না এই অগ্রহায়ণে বিয়ে করে ফেলো। রজত বেশ থতমত খেয়ে বলল - " "একটু অসুবিধা আছে বৌদি। আর কটা মাস যেতে দিন। " " কি অসুবিধা? আমি তোমার আইকে ফোন করছি। " আমাদের সবচেয়ে সিনিয়র বৌদি রেহানা বললেন। রজত প্রায় কেঁদে ফেলার মতো হাত জোড় করল। ওর মাকে না বলতে। এ নিয়ে বাড়িতে নাকি অশান্তি আছে। কারো ব্যক্তিগত ব্যাপারে আমরা যাই না। ঘটনাটা এখানে শেষ করলাম।
কিভাবে রজতের মা মানে আই জানতে পেরেছে রজত একটা অবিবাহিত মেয়ের সাথে থাকে। তেড়ে এসেছে অফিসেই। দলের কোন পেট পাতলা মহিলা হলি আসার আগেই জানিয়েছে নিশ্চয়ই। রজত আমার কেবিনে হন্তদন্ত হয়ে এসে সব বলল। ওর কাজগুলো একটু দেখতে বলে, অফিসের বসকে পটিয়ে মাকে নিয়ে বেরিয়ে গেল। তারপর রাতে ফোন করে যা জানলাম স্বপ্নম্এর আদরে ওর মা গলে ঘরে গেছে। বিয়ে দু সপ্তাহ পরে নিশ্চিত। কিন্তু ডিটেকটিভ আমার বৌ বলল " রজত তো বলেছিল ওর মা কথা দিয়েছিল আগে থেকে.... তবে? কফি কাপ এগিয়ে ডিটেকটিভ দৃষ্টি মেললো। " বললাম পাঁচ কান না করতে, নিশ্চয়ই কিছু আছে রজতের প্রিয় দাদা কলিগ আমিই, সময় হলে বলবে একটু সবুর করো।
হলির অনুষ্ঠান তুঙ্গে। রজত এল। স্বপ্নম্ ছাড়াই। সে নাকি একটু অসুস্থ। দেখতে যাব, রজত ঠিক যেন ইচ্ছা নয়। এবার কেমন যেন সন্দেহ আমার মনে বীজ পুঁতছে । এ দিকে দেখলাম তানিয়া, ব্যানার্জীদার মেয়ে, আমাদের অফিসে রিসেন্ট জয়েন করেছে তার সঙ্গে আরামে রঙ মাখামাখি করছে। আর পারলাম না মন তেতো হয়ে গেল। রজতের এত চেন্জ! ভাবতে পারি না হাসিখুশি রজত এমন প্লে বয় হবে। হলির সান্ধ্যকালীন পার্টিতে দেখি সেই তানিয়াকে নিয়ে বারান্দায়।কোলাবাতেই ব্যানার্জী ভিলায় পার্টি হচ্ছে। গাড়ি নিয়ে বেরিয়ে গেলাম। কাছেই রজতের ফ্ল্যাট। বেল বাজালাম। স্বপ্নম্ বেরিয়ে এল। সব বললাম। ও যেন একটু করুন হল, বললাম "চলো"। বলল " আর গিয়ে কি হবে? " "আমি মিথ্যা তো বলতে পারি।" বলল " মিথ্যা ধরার ক্ষমতা আমার মধ্যে ফিট করা আছে। " বাক্যটি একটু খটমটো। তবু ওর ধৈর্য্যকে সেলাম জানালাম। লোকের সামনে তামাশা করতে চায় না। কম বয়সী মেয়েটির প্রতি বড়ো মায়া হল। তেমনি রজতের প্রতি ঘৃনা।
পরের দিন কেবিনে হতাশ রজতকে বসে থাকতে দেখে, মনে মনে খুব খুশি হলাম। মেয়েটা টাইট মেরেছে তবে। ব্যানার্জীদার মেয়ে তানিয়া আমার কেবিনে ঢুকে বলল - "অমল কাকু একটা কথা বলবো? রজতের সাথে এটা আপনি ঠিক করেননি। আপনি রজতের ফ্ল্যাটে দশটা আঠারো মিনিট বাহান্ন সেকেন্ডে রাতে গিয়ে ছিলেন,পারলে রজতের সাথে দেখা করুন। ওর মনের অবস্থা খুব খারাপ।" শান্ত ভাবে বেরিয়ে গেল মেয়েটা। আমি বিদ্যুৎ তাড়িতের মতো ছুটলাম দীর্ঘদিনের বন্ধু রজতের কেবিনে। আমাকে ঝড়ের বেগে ঢুকতে দেখে ও উঠে দাঁড়িয়ে বলল -" বসো দাদা। " ও যে এটুকু আপ্যায়ন করবে ভাবিনি। বললাম " কি হয়েছে? " আমার মতো রজতের গলা কাঁপছিল বলল " সি ইজ নো মোর " । আঁৎকে উঠলাম। আমার একটা অন্যায় ওদের জীবন এমন ছারখার করবে স্বপ্নেও ভাবিনি। আমি তো ভালো করতে চেয়ে ছিলাম। " কখন? " ভাঙ্গা গলায় বললাম। " তুমি বেরিয়ে আসার আধা ঘন্টা পরে "। আমার চোখ দিয়ে জল পড়ছে, এত অপরাধ বোধ মাথা নীচু করে নিঃশব্দে ওর কেবিন থেকে বেরিয়ে গেলাম।
ছুটির সময় প্রায় জোর করে রজত ওর ফ্ল্যাটে নিয়ে গেল। অটমেটিক দরজায় ছবি থেকে বায়োডাটা আছে, স্ক্যান করে তবেই দরজা ঢুকতে দেয়। আমার আসা যাওয়া তাই এই বাড়িতে বাঁধা নেই। অপরিচিত হলে 🚨সাইরেন বাজবে। তারপর ওর বেডরুমে যেখানে স্বপ্নম্ ..... এখানে সুইচে নিজের কড ঢুকিয়ে একে একে সব সার্কিট নষ্ট করেছে। তবু ব্ল্যাক বক্সে যা পাওয়া গেছে। তাতে আমাদের কথোপকথন আছে। আছে ওর ভেতরে চলা তরঙ্গের রেটিং। তাতে টেলিগ্রাফের মতো ভাষা উঠে আসে।যাকে বলে সাইকো গ্র্যাফিক্স। ভালবাসে রজতকে, তানিয়া মানুষ তবে ওর প্রয়োজন কি? তারপরেই বিদায় নিয়েছে। নিজেকে ধ্বংস করা ,ওর সুরক্ষা আর বিজ্ঞানকে বাঁচাতে প্রোগ্রাম করেছিল রজত। সে যে এমন ব্যাবহার করবে কে জানত? রজতকে "সরি" বলতে পারলাম না, মুখ নেই। বারান্দায় খোলা হাওয়ায় গিয়ে বসলাম। রজত দুকাপ বড়ো মগ কফি এনে বলল, " জানো দাদা, যা হয়েছে ভালো হয়েছে। আমিও ওকে ডিস মেটাল করতে পারতাম না। ওর মুখটা আমার বাচ্ছা বয়সের প্রেম রিনার মুখ। ও নিজেকে এত ডেভেলপমেন্ট করেছিল মনে হত সত্যিই আমার সাথে ওর কিছু হৃদয় বৃত্তি আছে। কেবল সৃষ্টির প্রতি টান নয়, ওর প্রতি আকৃষ্ট হচ্ছিলাম। তানিয়াকে একদিন এনেছিলাম, ওকে সব বলেছিলাম। ওই বুদ্ধি দিল এন্গেজ বলতে। অন্য মেয়েদের হাত থেকে বাঁচতে। কিন্তু আমি স্বপ্নম্ এর সামনে কখনও সহজ হতে পারছিলাম না তানিয়ার সাথে। স্বপ্নম্ আমার নিত্যদিনের মনের সঙ্গিনী হয়ে উঠছে। এই অনুভূতি আমি তানিয়াকে বললাম, ও হেসে উড়িয়ে দিল। মজাও করে বলে "রোবট বৌ"। কালরাতে তানিয়াকে নিয়ে ঢুকে এসব দেখে কেঁদে ফেলেছি। তানিয়া সব বোঝে, সব সামলে নেবে ও। বুদ্ধিমতী। থ্যাংকস দাদা। তোমার জন্য আমি আগে বাড়তে পারছি। বুকে জড়িয়ে ধরলাম। অপরাধ কে ঢাকা দিল ছেলেটা, আমায় লজ্জা মুক্ত করল। আসার সময় দেখলাম বিকৃত চেহারার বিকল স্বপ্নম্ পুতুল তার লোহালক্কড় বেরকরা দেহ নিয়ে দেয়ালে ঠেস দিয়ে দাঁড় করানো।
রজত তানিয়ার সেই নির্দিষ্ট দিনে বিয়ে হয়ে গেছে। মারাঠি ছেলে, এখানকার বাঙালিরা খুব মজা করেছি। হানিমুন থেকে ফিরে পার্টি রেখেছে। ঘরেই খাবার রেঁধেছে শান্তা বাই। সার্ভ ও ওই করছে। আমাকে কাবাবের একটুকরো তুলে দিল মাঝ বয়সী সামান্য শ্যামলা কাজের মহিলা, শান্তাবাঈ। ফ্যাসফ্যাসে গলায় বলল " আর একটু দি অমল দাদা"। চমকে তাকালাম। স্বপ্নম্ এমন উচ্চারণ করত ..... আর ও তো আজ প্রথম দেখল আমায়, চিনল কি করে? যদিও এবারে রজত আগেই বলেছে শান্তাবাঈ রবট, স্বপ্নম্ এর বডি পার্টস থেকে বানানো। তবে কি সে এখনও মনে রেখেছে? মানে ওর মেমোরি তে অমল দাদা আছে!!
সোমবার, ৭ ডিসেম্বর, ২০২০
বিষয় # অনুগল্প নাম# সময়ে আছি লেখা# শর্মিষ্ঠা ভট্ট
বিষয় # অনুগল্প
নাম# সময়ে আছি
লেখা# শর্মিষ্ঠা ভট্ট
" তমা ও তমা এই গরম পানীয়টা খেয়ে নেয় মা। " তমার খুব রাগ হয়েছে এই কয়দিন ওকে যেন অস্তিত্ব হীন করে রাখা হয়। আলাদা খাট আলাদা বিছানা, এমনকি এটা ছুঁয়ো না ওটা ছুঁয়ো না। কত কি নিয়ম। দাদাভাই এই সময় পুরো বিছানা জুড়ে আরামে থাকে। সেবার সবাই এলো অত মজা ওকে ঠাকুর ছুঁতে দেওয়া তো দূরের কথা সামান্য ফুলের মালা তেও হাত দিতে দেওয়া হয়নি। একটু সবাই দূরত্ব রাখছিল। যদি ছোঁয়া হয়ে যায়। তার ওপর খাবারের এই গরম কাড়া প্রতিবার, যত্ত সব গেয়ো মেন্টালিটি।
আজ সে খুব রাগ করে আছে, কারন কাল বাদে পরশু অনুদির বিয়ে তখনও ওর সাথে এমন ব্যবহার হবে সে জানে। চোখ দিয়ে বড়ো বড়ো জল পড়ে।
মা সব বোঝেন কিন্তু পুরানো নিয়ম। সত্যি বলতে সব ভাঙা যায়, একটু নিয়ম কম করা যায়, কিন্তু পূজা বা লৌকিক শুভ কাজে নিয়ম ভাঙতে সাহস হয় না। তার ওপর অনু , বড়ো জার মেয়ে। পিতৃহীন মেয়েটির কোন ক্ষতি হোক তিনি চান না। অন্যদিকে মেয়ে তমা এতটাই রাগ করেছে যে খাওয়া দাওয়া বন্ধ। বিয়ের বাড়ী, লোকজন ভর্তি। গানবাজনা হচ্ছে, সব মেহেন্দী করছে হৈহৈ করে, তা একটু রাগ তো হবেই। পিসিমা বুদ্ধি দিয়েছিল, "কে অত জানছে যেতে দাও বৌমা"। তমার মা, সুবর্ণা। বীণাপাণি হাইস্কুলের শিক্ষিকা.... অনুর কথা ভেবে আর এগোতে পারেননি। তাই সব রকম খাবার সাজিয়ে মেয়ের কাছে এসে বসল।
একুশ বছরের মেয়ে একমাত্র দিদির বিয়েতে মজা যে করবে এটাই স্বাভাবিক। ল্যাপটপ নিয়ে খুটখাট করছে। সুবর্ণাকে ঘরে ঢুকতে দেখে আরও গম্ভীর হয়ে গেল। - "নে খেয়ে নেয় সোনা রাগ করতে নেই। তুই তো তোর নেটে সব পেয়ে যাস, এ সম্মন্ধে সব জানিস, তবু রাগ কেন? বুঝি মন খুব খারাপ হয়, তবু অনুর কথা তো ভাব। ছোট থেকে মেয়েটা বাবার আদর পেল না। মায়া হয় না দি ভাইয়ের ওপর?".... নিজের হাতে খাইয়ে দেয়, তমা এবার একটু যেন নরম হয়েছে। " তুই জানিস এই সময় মেয়েরা দূর্বল থাকে, তাই আদর যত্ন করা হয়, আগেকার দিনে ছোট মেয়েরা বিয়ে হয়ে পরের বাড়ি যেত। তা এই কদিন যা আরাম পেত । বন্দী ভাবলেই বন্দী। না ভাবলে নয়, তুই একটু দূরে বসেও ওদের সাথে গান নাচ করতে পারতিস। রাগে কেবল সময় নষ্ট হয় তমা। " "আমার অস্তিত্বহীন মনে হয় নিজেকে, তোমার হয় না? সব কাজে বাদ। কেন? পরিস্কার তো থাকি, তবু বারন কেন? এই উৎসবে কত মুশকিল, বের হলে এখুনি ঠিক মতো কিছু না ছুঁলে পিসির মাসির ছেলেরা বলবে তমা কিছু করছিস না, কি লজ্জা, কি বলব ! " সুবর্ণা বলে" নিজেদের এই অচল আয়তন ভাঙতে হবে। লজ্জা পাবি কেন? এতো গর্বের, তুমি এক পূর্ণাঙ্গ নারী। উর্বর জমির মতো তুমিও ধারন করার ক্ষমতা রাখো। বলবে ভাইদের যে তুমি সময়ে আছো। এতে লজ্জা পেয়ো না। ইজি হয়ে যাও । সুন্দর করে সাজো, আর ওখানে যাও। সব থেকে নিষেধাজ্ঞা সহবাসের, এই সময় অশক্ত ডিম্বাণু তে বাচ্ছা হলে তা পঙ্গু কিংবা নানা অসুখের শিকার হয় তাই..... এ নিয়ম আরোপিত। " " সেই তো মানবো কেন? " সুবর্ণা বলে " অনেক নিয়ম তো কাটা ছাঁটা হয়েছে, আরও অনেক হবে, সময়ের ওপর ছেড়ে দিয়ে মজা কর । তবে না ছুঁয়ে। অনু সুখে থাক।
তমা দেখল সারাদিন না খেয়েও তেমন কোন পথ বের হল না। হতাশ তমা পরের দিন আর রাগ করবে না। একবার মন্দির চড়লে কি ক্ষতি??
স্মৃতির ছেঁড়া পাতায়
কিরে ওঠেছিস?
-হ্যাঁ! উফ তুই এতো সকালে উঠিস কি করে!
-ওঠ্!! যাবি তো আজকে কলেজ?
-হ্যাঁ! অপেক্ষা করিস।
সকাল ৭টা বাবিনকে ডেকে তুলে তুয়া চলে যায় বাথরুমে ফ্রেস হতে। শাওয়ার নিতে নিতে ভাবে দীর্ঘ ১৪বছর আগের কথা! তাদের বন্ধুত্বের শুরুর কথা। কিভাবে বাবিন এতো কাছে এসে তুয়ার প্রিয়বন্ধু হয়ে ওঠলো, সেইসব ভাবতে ভাবতেই বাইরে এসে দেখে ঘড়িতে ৮:৩০টাবাজে, তাড়াতাড়ি করে প্রাতঃরাশ সেরেই কলেজের উদ্দেশ্যে রওনা দেয়। বাসে যেতে যেতে বাবিনের মেসেজ!
-কিরে, কতদূর?
-এই তো বাসে! আর ৩০মিনিট।
-ওকে! সাবধানে আসিস।
ফোনটা রেখে সেই ক্লাস সেভেনের কথা ভাবতে থাকে, তুয়ার গার্লস স্কুল ছিল, তুয়া যতটা শান্ত, নরম, বাবিন ততটাই চঞ্চল, চংমনে, জেদি। বাবিন নিজেই এসেছিল তুয়ার সাথে বন্ধুত্ব করতে। তারপর বছর যায়, দিন যায় তাদের বন্ধুত্বের ধাগা আরো শক্ত হতে থাকে। এযেন এক বন্ধুত্বের ভালোবাসা, নিখাদ, আশাহীন। ভালোবেসে একমাত্র তুয়া ডাকে বাবিন ওরফে ইমন চ্যার্টাজীকে আর ভালোবেসে বাবিন তুয়া ডাকে ওরফে কমলিকা চৌধুরিকে। এইভাবেই স্কুল পেরিয়ে কলেজে ওঠে, সেখানেও দুজনে জার্নালিজম এন্ড মাস্ কমিউনিকেসন্ নিয়ে ভরতি হয়।
যথারীতি বাস থেকে নেমে তুয়া হাটা দেয় কলেজের দিকে, দূর থেকে দেখে বাবিন দাড়িয়ে আছে। তুয়া আসতেই একসাথে হাত ধরে ঢুকে গেল, বরাবরই এইভাবেই বাবিন, তুয়াʼকে নিজের সাথে আগলে রাখে।
বাবিনের একটাই ভয় ওকে যেন হারিয়ে না ফেলে। দুজনের একে অপরের প্রতি ভালোবাসা চরম, চোখে হারানোর মতো, একদিন ফোন না করলে বাবিনের আদরের তুয়া রাগ করে বসে থাকতো। তুয়া যেন বাবিন'কে আদরের চাদরে জড়িয়ে নিয়েছিল। নাহ্ এরমধ্যে কোনো নোংরামি ছিল না , ছিল না কোনো লেসবিয়ানিজম্। শুধুই ভালোবাসা আর ভালোবাসা, দুজনেই জানতো তারা একে অপরের থেকে আলাদা হলে বাঁচাটাও অসহনীয় হয়ে ওঠবে। দিন থেকে রাত এইভাবেই কখন কেটে যেত খেয়ালই থাকতো না।
তুয়ার ছোটো থেকে শখ মডেলিং করবে, আর কলেজ শেষে এমনই সুযোগ আসলো, হাত ছাড়া করা যাবে না। বাবিন চাকরি পেল একটা নিউজ্ রিপোটারের। বাবিন কে বলতেই সে রেগে বোম্ব, পছন্দ করতো না বাবিন মডেলিং জিনিসটা। না করাতে প্রায় একমাস তুয়া কথা বলে নি। শেষে মানতে রাজি হল কিন্তু অনেকটা দেরি হয়ে গেল।
ততদিনে তুয়া মডেলিং শুরু করে দিয়েছে, নাম জাদা প্রোডিউসারের কাছে বেশ রসেকসে কাজও পেল। চলতে থাকে বছর ঘুরে যায় পাঁচটা। বাবিন ফোন করে তুয়া বিভিন্ন রকম বাহানায় ফোন কেটে দেয় কথাও বলে না সেভাবে। এদিকে বাবিন নিজের মনে রাগে ক্ষোভে নিজেকে ভাঙতে শুরু করে। তুয়া আর ভাবেই না সে নিজের কাজ নিয়েই ব্যস্ত, ফ্ল্যাট কিনেছে, গাড়ি কিনেছে, বন্ধু-বান্ধব প্রচুর।
এদিকে বাবিন এমন ভেতর থেকে ভাঙলো, চাকরিটাও তার গেল, এতো পায়রার মতো বকম্ বকম্ করা বাবিন কথাও বলে না আজকাল, মনমরা হয়ে থাকে সারাদিন। হৃদয়ে লিখিত নাম মোছা যে কি কঠিন, যারা লিখছে হয়তো তারা জানে। আর যোগাযোগ নেই বাবিনের সাথে, বাবিনের ও স্মৃতির পাতায় ধুৄুলো জমে। টুকরো স্মৃতি নিয়েই বাবিন আবার উঠে দাড়ায়। নিজের জন্য বাঁচবে সে। তাও আজও বাবিন তার জন্মদিনে অপেক্ষা করে সারাটা দিন যদি একটা ফোন অন্তত আসে!!
অভিযোগ নেই, আবদার নেই
ভালোবাসা হয়তো কবেই গেছে চলে,
পর বলে তো কেউ নেই আমার;
আদতে জেনো "সমমেরু কিন্তু বির্কষন করে"।
ফিরে আসে মানুষ বারবার খালি হাতে,
যেখানে এমন কিছুই নেই;
সেখানেই মানুষ সবটা রেখে আসে।।
©অঙ্কিতা পাল।
রাত যখন বাকি(অনু গল্প) 🌷শর্মিষ্ঠা ভট্ট
রতন কুমার নতুন চাকরিতে। বিহার থেকে ভাগ চাষী জমি হারিয়ে প্রান হাতে অখ্যাত এক স্টেশন থেকে হাওড়াগামী ট্রেনে বসে পড়ে। কলকাতার মানিকতলায় এক আত্মীয়ের জানা শোনার কারনে এই ন্যাশনাল লাইব্রেরীর রাতের পাহারার কাজ পেয়েছে। শীতের রাতে কলকাতা বড়ো জনশূন্য এবং ঠান্ডা কুয়াশায় ভরে যায়। অদ্ভুত এক নিঃশব্দ গা ছমছমে ভাব আলিপুরের এই অঞ্চলে। ঘুরে ঘুরে পাহারা দিতে দিতে শেষ রাতে একটু বসে পড়েছিল শ্বেত পাথরের সিঁড়িতে। তবে চোখ বন্ধ করেনি, করবেও না। প্রথম দিন ভারী হাতের চাঁটা খেয়েছিল। মনের ভুল হলেও এখানে সে মন দিয়ে কাজ করতে চায়। ভালো অঙ্কের মাইনে , কোন মূল্যেই ছাড়তে চায় না। বসে বসে বিশাল গেটটার দিকে তাকিয়ে গ্রামের কথা ভাবছে। শয়তান রাজপুতের লালসার শিকার হয়েছে তার জমি বোন আর সে নিজে। বৃদ্ধা মাকে ফেলেই পালিয়েছে। সাহেব নেই তবু অন্যায় অত্যাচার তো রয়ে গেছে। অন্ধকারে বসে জোদ্দারের ভয়ঙ্কর মুখ মনে পড়ে গেল। সোনার গমের ক্ষেতে আগুন লাগিয়ে তার গুন্ডারা বোনটাকে তুলে নিয়ে গেল। এদিকে হুহু করে পুড়ছে তার জমি, তার এত মাসের শ্রম অন্য দিকে বোনটাকে.....জানে না সে কোথায়। নিষ্ফল আক্রশ উথাল পাথাল মনে অন্যমনস্ক হয়ে পড়েছে, সেই সুযোগে কে যেন ঢুকেছে গেটের ভেতর। তালা লাগা তবু কে ঢুকবে? বই চুরি কেউ করে! আর কি আছে এই গাছগাছালি ভরা বিশাল পুরোনো জায়গায় চুরি করার মতো! তবে নকশাল যুবক যুবতী মাঝে মাঝে এই সব অন্ধকার খোঁজে নিজেদের লোকাতে , শলা পরামর্শ করতে। রতন এবার একটু এগিয়ে গেল।
পাল্কি? সামনের রাস্তা দিয়ে এগিয়ে চলে যাচ্ছে, একি রক্ত.... এক দু ফোঁটা রক্ত এগিয়ে যাচ্ছে। একটা হাত ঝুলে আছে পাল্কির দরজা দিয়ে। সাদা চাদরে মোড়া এ কার দেহ? জেলের রাস্তায় বেঁকে গেল। আবার আসছে অন্য দিক দিয়ে এক ই দৃশ্য। চিৎকার করে রতন " কার লাশ গো বেহারা? " উত্তর নেই। আবার চেষ্টা করে, গলা বন্ধ হয়ে যায়। কুয়াশায় হারিয়ে যায়। রতনকে অজ্ঞান অবস্থায় লোক পরের দিন পায়।হেস্টিংসের সাথে ডুয়েল লড়ে গুলি খাওয়া প্রেমিক যুবা ফ্রান্সিস আসে রাত্রে,রক্তমাখা তার দেহ হেস্টিংস হাউসের আসেপাশে ঘোরে। ভয়াবহ সে ক্ষত বিক্ষত দেহে যন্ত্রনা স্পষ্ট।
শনিবার, ৫ ডিসেম্বর, ২০২০
কুন্তীর প্রতি দ্রৌপদী (অনুগল্প) @শর্মিষ্ঠা ভট্ট
মাগো,
আমি দ্রৌপদী। তোমার সন্তানের ....না...তোমার সন্তানদের অর্ধাঙ্গিনী। তোমার কুলবধূ, লক্ষ্মী। সংসারের শ্রী আমি। আমি সেই নারী যে অজস্র প্রশ্ন অজস্র কুটিল ভ্রুকুটি। হ্যাঁ মাতে, আমি এক অপূর্ব শ্যামাঙ্গিনী আগুন 🔥 জলন্ত কাম। আমি সেই নারী যার জন্ম বিশ্লেষণের উর্ধ্বে ,তাই আমি দ্রোহী অজনি সংহিতা। মাতৃ পরিচয়হীনা দ্রুপদ দুহিতা। অমি রাজ নন্দিনী, বৈভব বিলাসিনী । আমি মাতৃহারা।
আমার মায়ের কোন পরিচয় নেই, আমি যজ্ঞ থেকে আবির্ভূতা। কিন্তু আমার মন সে যে মানবীর মন। জানো কত কত রাত, আধো ঘুমে মায়ের স্বপ্ন দেখেছি। ঊষা কালে অবগুণ্ঠন নিয়ে সামনে দাঁড়িয়েছে। মার উষ্ণ আদর কত মূল্যবান ... ...সে কেবল এক অনূঢ়াই বোঝে। না মা, পুত্র সন্তান নয়, এক কন্যা সন্তানের থাকে সেই কতরতা । কেউ কখনও বোঝে না। কেউ বুঝতে চায় না। কত গোপন কথা সবার জন্য নয়, শুধু মা আর মেয়ের গোপন গল্প গাথা সে। যাকে পাইনি, যাকে মন থেকে চেয়েছি, তাকে পাবো এমন সুক্ষ্ম আশা মনের মাঝে ছোট্ট মেঘের মতো তুলতুলে নরম অবয়ব নিয়ে ধীরে ধীরে বাড়ছিল। তোমার গান্ডিবধারীকে মালা দিলাম, কর্ণের মতো প্রেম পূজারীকে দূরে সরিয়ে দিয়ে। বর্ন সমাজ পিতা সামনে এসে দাঁড়াল। সবার সামনে হৃদয়ে এসে দাঁড়ালো তোমার শ্যামাঙ্গ ঋজু সৌম্য কান্তি পুত্র অর্জুন। ভালবাসলাম।। সত্যি ভালবাসলাম তাকে, সেই দিবালোকে সভার মাঝে। আমার যৌবনের প্রথম ভালবাসা, প্রথম পুরুষ। তাকে যখন প্রথম দেখলাম। রাজ সাজে নয়। সামান্য দ্বিজ সে তখন। তোমরা আত্মগোপন করছিলে, জ্ঞাতি শত্রুদের কাছ থেকে। তখন জতুগৃহ থেকে সবে বেঁচে নিঃসহায় দরিদ্র । বাঁচতে গিয়ে নানা রূপ বদল করে ভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করে নিজেদের লোকাচ্ছিলে। বাঁচার তাগিদে অভিনয়। আমি তখন প্রজাপতির পাখায় উড়ে সামান্য ব্রাম্ভণের পেছনে বৈভব ত্যাগ করে এসে দাঁড়ালাম তোমার কুটির দ্বারে। তোমার ছেলেরা উৎসাহে ডেকে উঠলো " মা" ........ আমার সেই মায়ের স্বপ্নের নরম কালো মেঘ থেকে বর্ষা পড়বে ভাবলাম। আকন্ঠ মাতৃস্নেহ এসে ভেজাবে গো আমায়। না...... হল না...... বুক ভেঙে কানে বাজল দুই শব্দ ....." ভাগ করে নে " । ভাগ হলাম আমি। তোমার একটা সমান্য বাক্য আমায় সামান্য নারী থেকে অসামান্যা করে দিল। মার আঁচল হয়ে গেল শশ্রূমাতার বরন ডালা। চিরায়ত এক প্রতিদ্বন্দ্বিতা এক অভিনয় লুকিয়ে রইল ওই পরিচয়ে। যে পরিচয়ে নারী নিজের সন্তানের স্বার্থ সব কিছুর প্রথমে রাখে, যে পরিচয়ে শত চেষ্টা করেও কখনও বধূ সন্তানের থেকে বা সন্তানের মতো সমান প্রিয় হতে পারে না। একটা অভিনয় চলেতে থাকে দীর্ঘ পথে অগ্রসর হতে হতে। আমার জন্য একবার ভাবলে না তাই বিলিয়ে দিলে। আমার প্রথম প্রেম সরে গেল জীবন থেকে। প্রথম স্পর্শ .......তোমার এক বাক্য মা গো। তুমি আমার মা হতে পারলে না। তুমি অনেক দূরে সরে গেলে। তবু সমাজ - দায়বদ্ধতা ।।কেউ লক্ষ্য করল না আমার আর তোমার কি বিশাল একটা ফাঁক তৈরি হয়েছে। কি বিশাল অভিনয় আশ্রয় করে সম্ভ্রান্ত কুলের দুই নারী বসবাস করেছি এক ছাদের নিচে।তর্ক বিতর্ক ছাড়াও দুজনের দুরত্ব বড়ো গভীর।
তুমি কি পারতে না এই অনর্থ থেকে বাঁচাতে? বলতে পারতে না.. না দেখে ভুল করে..... না তুমি তা বলোনি।
বলতে চাওনি। কারন একটা বড়ো শক্তির সাথে আঁতাত চাইছিলে। আমি একটা কারন , একটা পাশার ঘুটি। তোমার পান্ডবদের রক্ষা কবচ। আমার দেহের আগুন দেখে চমকে ছিলে। ন্যায় দন্ড শ্রদ্ধা সহনশীলতা আর ভক্তির পরাকাষ্ঠা তোমার পরিবারের ঐক্যের জন্য দরকার আমার রূপ গুন বৈভব । আমার পেছনে থাকা হাজার শক্তিশালী হাত।
তুমিও তো নারী। দেবতাদের কাছে বরপ্রাপ্ত সন্তান পেয়ে পেয়ে সতীত্ব নিয়ে ভাবাই কি বন্ধ করে দিয়েছিলে?কেবল পান্ডুর পত্নী এটুকু পরিচিতি প্রাপ্তিতে তুমি নিজেকে কি গুটিয়ে নিয়েছিলে? কেবল পান্ডব জননী তুমি! আর নিঃশব্দ চারিনী কুরু কুলবধূ। তোমার সন্তানদের দুঃখের কারণ যারা, সেই ধীতরাষ্ট্র গান্ধারীর সেবায় বৃদ্ধ বয়সে কাটিয়ে দিলে। এত যদি উদার তোমার মন আমায় কেন একবার নিয়ম থেকে মুক্তি দিলে না। যৌবনের প্রথমে অর্জুনকে একবার অধিক সময় আমার সাথে..... না মা আজ তোমায় অনুযোগ করবো না। তোমায় বোঝার চেষ্টা করছি। তোমার সমস্ত সততা আমার মাথায় ঝরে পড়ল না। "বেশ্যা " আমি পাঁচ স্বামী গমনকারিনী ..... সভায় ওরা যখন টেনে নিয়ে গেল একটি প্রতিবাদ নেই কেন মা!! আমার মন তোমায় ডেকে ছিল মা.............
তাই আর তুমি নও, পঞ্চপাণ্ডব আমার অনুগামী। বনে জঙ্গলে রাজসিংহাসনে আমি নিজেকে ছেয়ে দিয়েছি। বলতে পারো এ অস্তিত্বের লড়াই। তুমি হারিয়ে গেছো বৃদ্ধদের ভীড়ে। তোমার কথার আর কোন দাম নেই। নেই তোমার থাকা না থাকার ফারাক , বৃদ্ধাশ্রমে তোমরা। আমি ইন্দ্রপ্রস্থের রানী। কুরু কুলমনী দ্রৌপদী। আমি লজ্জা আমি ত্যাগ আমি ভোগ আমি সত্য আমি পরিপূর্ণ নারী। আমি দ্রোহী । এক বিশাল অভিনয়ের আমরা দুই নটী।। রাজবধূ রাজকন্যা আর নিঃস্ব জীবন পথের পথিক। । 🌸🌸
শুক্রবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০২০
শুনতে চাই
আজ অনেক দিন পর রূপসা বেরিয়েছে। ঋতমের সাথে আলাদা আর লকডাউন একসাথে হয়ে বদ্ধ মন আজ উন্মুক্ত হয়েছে তারাইয়ের বুকে। উদয় কালের সূর্যকে দেখছে মুগ্ধতায় মুড়ে। কুয়াশার মধ্য থেকে ধীরে রোদ্দুর আলতো আদরে উপত্যকাকে নিয়ে উঠে আসছে। প্রান জেগে উঠছে, জীবনে আরও কিছু বাকি আরও কিছু চায় মন। অবুঝের মতো উতলা আবেগে প্রকৃতিকে দুহাত ছড়িয়ে আলিঙ্গন করে রূপসা, দূরের ধুম্র পাহাড়কে বলে - ভালোবাসি!
বসে থাকে প্রতিধ্বনির আশায়।।
না চাওয়ার ভূমি🖌
চাইলেই তো দিতে হবে, তাই চাই না।
চাইলেই আকাশ ছুঁতে পারি
তারা সমেত দিতে পারবে?
চাই না , তাই চাই না কিছুই আমি।
নদীর বুকে শব্দ ছুঁড়ে
যদি বলি ধরে দিতে ! পারবে?
প্রতি ধ্বনি হয়ে ফিরবে তুমি,
শব্দ রয়ে যাবে ওপারে
সে আমার না চাওয়ার ভূমি।
👒
এইভাবে ওর সাথে দেখা হবে, ভাবেনি কখনও। আবার নিলাদ্রী ছয় বছর পরে। একদিন কবি সমাজ থেকে ঠিকরে গিয়েছিল, আজ আবার কেন্দুলি মেলায়। মনে পড়ে কি সেই রাঙা ফুল বেছানো পথ, সেই সাঁওতালি বোল! কাছে আসা দুই ছোটো কবিতার লাইন? ইচ্ছা করে আর একবার ডাক দিতে, প্রতিধ্বনি যদি না ফিরে আসে! ভয় হয় স্মৃতি হারানোর ভয়। কবি সম্মেলনের বৃত্তের মাঝে বসে তিয়াসা। কোলের ওপর অলস হাত পাঠ করে বলতে আশা কবিতা খানা, বলা হয়না বলতে চাওয়া কথা।
বৃত্তের মধ্য
বৃত্তের মধ্যে থাকতে চেষ্টা করি
গতি স্লথ হলে ছিটকে যায়।
ছড়ায় আদরে আগলে রাখা
অমূল্য একমুঠো সম্মান।
তবু কখনও পালাতে চায় মন
শহুরে সভ্যতার তর্জনী হেলন।
একটু পা হেলে গেলে
পাব না অর্ধেক পৃথিবী,
চাওয়া হয় যেমন।
শর্মিষ্ঠা ভট্ট.................. 🖋
মঙ্গলবার, ১ ডিসেম্বর, ২০২০
নীল রঙের স্বপ্ন
দিল্লি ইউনিভার্সিটির লনে নীল অগ্নিহোত্রীর সাথে দেখা হয়েছিল। গ্রুপ থিয়েটারের রিহার্সাল করছিল। পথ নাটিকায় তাদের অসম্ভব সুন্দর পার্ফরমেন্স দেখে নীলাঞ্জনা মুগ্ধ হয়েছিল। যদিও ছেলেটার সাবজেক্টের সাথে তার জমিন আসমান ফারাক ছিল, তবু কেমন যেন আকর্ষণ অনুভব করত । আজন্ম বাঙলার বাইরে থাকা প্রবাসী বাঙালী নীলাঞ্জনার হোম সিটি ইন্দোর। মধ্যপ্রদেশ ওর নিশ্বাসের সাথে মিশে গেছে। তাই "নন বেঙ্গলি " ব্যবধান বা ধারনা তার মধ্যে ঠিক আসেনা। নীলাঞ্জনারা দাস।
ইউনিতে থাকতে দু বছরের সিনিয়র নীল একটু কাছে এসেছিল, ঠিক বন্ধু আর প্রেম সম্পর্কের মধ্য এক লালা ল্যান্ডে। ভালো লাগত ওর গা ছুঁয়ে বসে রিহার্সাল দেখা, কিংবা হস্টেলের গেটে পৌঁছে দেওয়া, কিংবা ক্যান্টিনে তুমুল ঝড় তোলা মুহুর্তে চোখাচোখি, ব্যাস ওই টুকুই। আর্টের ছেলে... শিল্প জীবন করে নীল অগ্নিহোত্রী ভেসে গেল প্যারিস নিউইয়র্ক করে পৃথিবীর অলিতে গলিতে। কখন ধুলো পড়ে গেছে সেই অর্ধপরিবাহী সম্পর্কে। আদৌ কি সম্পর্ক ছিল! নীলাঞ্জনা জীবনের লড়াইয়ে ভুলে গেছে।
এমবিএ, অফিস, প্রমোশনের সাথে নীলাঞ্জনা একটা ঝাঁ চকচকে অফিসের চিফ এক্সিকিউটিভ। নামের সাথে গর্জাস জীবন মুম্বাই কোলাবা। অফিসের ভেতরে এক স্থাপত্য নতুন বসানো হবে, তার প্রয়োজনে নীল অগ্নিহোত্রী আবার নীলাঞ্জনার সামনে। একটু বেশি স্মার্ট আর চুপ হয়েছে। আরও হ্যান্ডসাম বলা যায়। চোখটা তেমন আছে আবেগী। তবে আরও উদাস হয়েছে। অফিসের কাজে দেখা আবেগ চেপে রাখে নীলাঞ্জনা। ফোন নম্বর পেল, অফিস থেকে ফিরে ফোন লাগায়। ওপাশ থেকে আওয়াজে সামান্য শ্লেষ.... " চিনেছো তবে"
"না চেনার কি আছে? একই তো আছো। "
" তুমি কিন্তু অনেক চেঞ্জ হয়েছো, অনেক আকর্ষণীয়া। "
" ডিনার করবে? "
" তোমার লেবেলে যদি ঘা না লাগে "
" যাঃ, অফিসে গসিপ চাইনি তাই, এত দিন পরে দেখা! "
" মনে আছে কিছু? "
" আছে, তোমার সান্নিধ্যে একটা আকর্ষণ ছিল, তুমি তখন তুমুল শিল্পী, আমাদের হার্টথ্রব। আমরা তখন শিশু গন্তব্যে নেই। তুমি মনে রাখবে ভাবিনি নীল। ভাবলাম ফোন করলে চিনতে অসুবিধা হবে। "
" যদি বলি তোমার চুলের মিষ্টি গন্ধ এখনও মনে আছে, অবাক হবে? রিহার্সালে আমায় ছুঁয়ে তোমার খোলা চুল কথা বলত। মনে পড়ে। "
আজ ও দীর্ঘ আট বছর পরেও এই কথায় বুক কাঁপে। কেন যে বত্রিশ বছরের নীলাঞ্জনা এখনও বিয়ে করেনি জানে না। আসলে এ বিষয়ে তেমন করে ভাবেই নি। পদ আর অর্থের পেছনে কি সে তবে বৃথাই দৌড়েছে! না তা কেন? এই পরিচয়ের তো দরকার ছিল। কিন্তু আজকাল বড়ো একা লাগে, মনে হয় কারও জন্য ঘরে ফিরতে। কেউ তার অপেক্ষায় থাকুক, কেউ তার চুলের গন্ধে বলুক থাকনা ওটা খোলাই থাক না। " কোথায় আসবে? কটায়?খোলা চুলে এসো " নীলের গলার আওয়াজ, নীলাঞ্জনা যেন ঘোরের মধ্যে বলে, " এ্যাঁ নটা ঠিক হবে না? তুমি গেস্ট হাউসে আছো তো, ওখান থেকে তুলে নেব? "
অনেক অনেক দিন পর নিজেকে দেখে নীলাঞ্জনা। সত্যি সে আকর্ষণীয় হয়েছে! লাল মেরুন সিফন স্লিভলেস ব্লাউজ হল্কা সাজ। নীল পাশে। একটা মায়াবী সন্ধ্যা , ছাড়তে ইচ্ছা করে না এ সময় আর নীলকে। এমন কটা ডিনার, নীলকে এখন নীলাঞ্জনা ফ্ল্যাটে নিয়ে এসেছে । ওর বিদেশে শিল্প ওয়ার্কশপ আছে, দেশ বিদেশের ভষ্কর্য তৈরি কেনা বেচা সেই নিয়ে পড়াশোনা সেমিনার ও নতুন শিল্পীদের জায়গা করে দেওয়া নীল অগ্নিহোত্রীর কোম্পানির কাজ। নীলাঞ্জনা বিস্মিত হয় শিল্প নিয়ে ওর চিন্তা ভাবনা দেখে। কখনও ও কোন ইন্সটিটিউশনে লেকচার দিতেও যায়। নাটক চলছে পাশাপাশি। ল্যাপটপ খুলে নীলাঞ্জনার খাটে ওর খোলা পেটে মাথা দিয়ে বোঝায় সব। নীল নেশা এনে দিয়েছে জীবনে। ওর চুলে বিলি কাটছে নীলাঞ্জনা। দুজনেই বেড সেয়ার করেছে আনন্দে, গভীর আবেগে। কোন বন্ধন ছাড়া এক রিলেশন বিশ্বাস করে নীল, নীলাঞ্জনা মেনে নিয়েছে। না কোন বন্ধন নয়, এক অবাধ মিলন আর নেশা ডোবা দৈহিক মানসিক আকর্ষণ ছাড়া জীবনের পাত্র পূর্ণো হয়ে উথলে উঠবে কি করে! বেশ কিছু মাস নীল অগ্নিহোত্রীর আদরে লতপত হয়ে তাকে মুক্তি দিল। মন খারাপ ছিল কিন্তু আঁটকায়নি। তেমন প্রটেকশন কিছু না নিলেও পিল নিত নীলাঞ্জনা। অবাঞ্ছিত কোন বন্ধন তারা চায়নি। এ বেশ ভালো হল। আবার কোন ঝড়ের রাতে হয়ত নীল কড়া নাড়বে! নীলাঞ্জনা এখন কানায় কানায় পূর্ণ, নতুন উদ্যোগে অফিসের নতুন ব্রাঞ্চের সর্বাধিকারী হতে পারবে। ভালো লাগছে স্বপ্ন নীল এই দিনগুলোকে বার বার উলটে পলটে দেখতে।
হঠাৎ সব ব্ল্যাঙ্ক। অফিস থেকেই হসপিটালে দিল। নীলাঞ্জনা অন্য কিছুর জন্য ভয় পাচ্ছিল। অনাকাঙ্খিত মাতৃত্ব!! না রেজাল্টে ওকে এইচ আই ভি পজিটিভ বলা হয়েছে। অফিস জেনেছে। ফিসফিস, গুজ গুজ। অনেক পরিচিত জন সরে যাচ্ছে। একঘরে হয়ে থাকে। কিন্তু কি ভাবে? রিপোর্ট , সেক্সকে আঙুল তুলে দেখিয়েছে। নীল! ওকি জানতো? নাকি ও বেচারাও অসুস্থ হয়েছে । খোঁজ নিতে চায় পরিচিত সব পথ বন্ধ। নীলাঞ্জনা ধীরে ধীরে শেষ হয়ে যাচ্ছে। অকাল ধূসরতা ছেয়ে গেছে ওর জীবনে। ঠিক সেই সময় একটা লেখা পেল। নীল কালি নিয়ে হিজিবিজি করত যে পেপারে। তা ওর ঘরের এক কোনে। কি লেখা? চোখের দৃষ্টি কম হচ্ছে.... লেখা --- কখনও কাউকে সরি বলবো না, কেন বলবো!! ওদের আমি যৌন সুখদি। ওদের খিদে মেটাই। শুকনো এই পৃথিবীতে ভালবাসাদি। না নীলাঞ্জনাকে কখনও বলব না, আমি শেষ স্টেজ মরতে চলেছি। মৃত্যু ওর ও আসুক। কি এসে যায়! আমাদের প্রেমের মুহুর্ত ও কখনও অস্বীকার করতে পারবে?
( এইডস দিবসে। সাবধান ও সংযত থাকুন । দৈহিক ও মানসিক সুস্থ্য থাকুন)
শর্মিষ্ঠা ভট্ট✍
সোমবার, ৩০ নভেম্বর, ২০২০
আবার (অনুগল্প)
ঠান্ডা চলেছে, অসম্ভব হালকা বৃষ্টি ঘিরে ধরেছে শহরটাকে। বড়ো একা নিঃসঙ্গ লাগে স্যাৎ স্যাতে ভিজে দিনগুলোতে। কারো উষ্ণ আলিঙ্গন খোঁজে মন। মিলি, মিলি ফার্নান্দো গত মাসেই হারিয়েছে জিমিকে। ওর সন্তানের পিতা। ওর হাম সফর, জীবন সাথী, হাজব্যান্ড। ওদের নবনির্মিত বাড়ির কাঁচে শহরটাকে গলে পড়তে দেখছে , হাতে উদাসী কফির ধোঁয়া সুগন্ধ নিয়ে উড়ে বেড়াচ্ছে। বড়ো একা লাগে। বড়ো একা।
আসলে জিমির হাত ধরে যখন ঘর বসিয়েছিল তখন ও রাবেয়া ছিল, ছিল ঘর ভর্তি আত্মীয় আপনজন। তখন মনে হয়নি একদিন এসবের দরকার হতে পারে। কিন্তু মিলি ফার্নান্দো হারিয়ে ফেলেছে ফিরে যাবার দরজা🚪। সব ছিল হঠাৎ উবে গেল। দুবছরের ছেলেটা পায়ের কাছে টলতে টলতে এসে ওকে ধরতেই মিলির খেয়াল হল। বুকে তুলে নিল ছেলেকে। আবার নতুন লড়াই, বাঁচতে হবে ।ভালবাসা জীবনে বারবার আসে। ছেলে পেত্রো ডাকে - মাম্মা । হাসে মিলি।
মিলি জানে না অনেক দূরে একটা ফ্ল্যাট থেকে তার কাঁচ ভিজে অবয়ব দেখছে কোন জানলায় বসা দুই চোখ। রোজ দেখে, আরও দেখে আজকাল জিমির বন্ধু সায়ন। গিটারে ধূন বাজে ....রেন অন দ্যা ফ্লোর।।
*********************
শর্মিষ্ঠা ভট্ট🖋
শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...









