প্রবন্ধ রচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
প্রবন্ধ রচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ২৪ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয় # আধ্যাত্মিকতা (রবীন্দ্র চেতনায় আধ্যাত্মিকতা) লেখায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 বিষয় # আধ্যাত্মিকতা (রবীন্দ্র চেতনায় আধ্যাত্মিকতা) 

লেখায় # শর্মিষ্ঠা ভট্ট



রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের  সাহিত্যে তাঁর চেতনার রঙ পান্না হয়ে উৎভাসিত হয়েছে। সে পান্নার দ্যুতি সুন্দর থেকে সুন্দরতমের দিকে ধাবিত। সৌন্দর্য ও প্রকৃতি প্রেম তাঁর আধ্যাত্মিক বোধের নিরন্তর অভিযাত্রা। তাইই প্রকাশ পেয়েছে তাঁর কাব্য সাহিত্যে। মানবতার উদার দৃষ্টি মেলে তাই বলেছেন " যদি প্রেম দিল না প্রানে, কেন ভোরের আকাশ ভরে দিলে এমন গানে গানে। "

তাই আধ্যাত্মিক বোধের সাথে মানবতা প্রকৃতি সৌন্দর্য প্রেম ও ভারতীয় সংকৃতিবোধ একেকার হয়ে গেছে। আধ্যাত্মিক বলতে তিনি নির্গুণ আনন্দ এক সত্ত্বাকে সর্বদা খুঁজে ফিরেছেন, সেই সত্ত্বা যা তাঁকে চালনা করায়। যে সত্ত্বা তাঁকে অসীম অনন্তের দিকে নিয়ে যায়। বিশ্বায়নের পথের পথিক তিনি। রবীন্দ্র সাহিত্যে এই সত্ত্বা  "জীবনদেবতা "হয়ে তাঁর সকল চিন্তাকে বয়ে নিয়ে গেছে রূপ থেকে অরূপের পথে। 

ব্রাম্ভ চিন্তাধারায় পালিত রবীন্দ্র মনন আকারহীন নিরাকারে ধাবিত হয়েছে। বৈষ্ণব চিন্তনের প্রভাব তাঁর প্রেম পর্বের কবিতা , বলতে গেলে সারা সাহিত্যে এক এবং অদ্বিতীয় এক পুরুষোত্তমের দিকে ধাবিত। বৌদ্ধ আধ্যাত্মিক ভাবনার ধ্যান ও কল্যাণকামী মানবতা বৈষম্যহীন উদারতা তাঁকে আকৃষ্ট করেছে। শান্তিনিকেতনে তাঁর শিক্ষা দর্শনে সেই আশ্রম ধ্যান ও বিশ্বচেতনার প্রতিচ্ছবি দেখা যায়। রবীন্দ্র দর্শনে তাই

এক কল্যাণময় স্নিগ্ধ চেতনা উন্নতর কোন এক অচীন পথে এগিয়ে নিয়ে চলে। দুঃখের থেকে পলায়ন নয়, দুঃখ থেকে দুঃখে কর্ম এবং জীবনের স্তরে স্তরে উৎসারিত আলোর পথে তাঁর যাত্রা। দেহকে তিনি মন্দির করে সেখানে খুঁজেছেন দেবতা, তাঁর মনে , " আমার মাঝে তোমার লীলা হবে, তাই তো আমি এসেছি এই ভবে। " 

অনেক বড়ো হয়ে যাচ্ছে। এখানেই শেষ করি। উপনিষদের মন্ত্রে জাগ্ৰত সেই ঋষি ধীমানের আধ্যাত্মিক চেতনা শান্ত এক যাত্রা। যেখানে সৃষ্টির মাঝে ছুঁতে চেয়েছেন অসীমকে "দাঁড়িয়ে আছো তুমি আমার গানের ওপারে/আমার সুর গুলি পায় চরন, আমি পাইনে তোমারে। " তাই চলতে হবে। তিনি চরৈবতী মন্ত্র দিয়ে গেছেন। 

ধন্যবাদ🙏

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

মঙ্গলবার, ১২ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয় : (প্রবন্ধ) মাস্টারদা সূর্য্য সেন #লেখায়::শর্মিষ্ঠা ভট্ট:

 বিষয় : (প্রবন্ধ) মাস্টারদা সূর্য্য সেন


বিনোদ বিহারী জেলে বসে গান ধরেছেন মাস্টারদার ইচ্ছায়...... যদি তোর ডাক শুনে কেউ না আসে তবে একলা চলো রে। ১৯৩৩ ধরা পড়ে জান। অমানবিক অত্যাচার সয়েও উৎসাহ দিয়ে গেছেন জেলে, তাঁর সহকর্মীদের। তাঁর শেষ বানী ময়লা চিরকুটে ছড়িয়ে পড়ে জেলে..... আদর্শ আর একতা। ১৬ ই ফেব্রুয়ারি ফাঁসি। 


কেন এই কৃচ্ছ্রসাধন! না তিনি কোন সন্ন্যাসী নন। না সাধন তত্ত্বের উঁচুতে যাওয়া অতি মানব। কেবল ভালোবাসা। দেশ মাতৃকাকে ভালোবাসা। স্বাধীনতার স্বপ্ন দেখেছিলেন, আমাদের জন্য। ভাবলাম দু এক লাইন লিখেই ফেলি এই অগ্নি পুরুষের জন্য। সমাজে কখনও হারিয়ে যায় প্রচার বিমুখ কিছু নাম। এই মানুষটি সেই সময় এতোই দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিলেন যে ১০০০০ টাকা ছিল ধরিয়ে দেবার পুরস্কার। গৈরোলা গ্রামের নেত্র বিশ্বাসঘাতকতা করে ধরিয়ে দিল মাস্টারদাকে। বিনা যুদ্ধে অবশ্যই নয়, তবু আহত স্বদেশীদের জেলে এনে ফেলা হল। 


চট্টগ্রামের ছেলে সূর্য কুমার সেন বহরমপুর থেকে স্নাতক হয়ে স্বগ্রামে ফিরে যান। উমা তারা উচ্চ ইংরেজি বিদ্যালয়ে অঙ্কের শিক্ষক। পুষ্প কুন্তলার সাথে বিয়ে হলেও ফুলশয্যার রাতে গৃহত্যাগ এবং বিপ্লবী আন্দোলনে যোগ। কি কারণে এই ত্যাগ!  এই দ্রুতার দিনে অন্য অনেক বিষয়ে আলোচনা হলেও মানুষের কাছে হয়ত এঁরা গুরুত্ব হারিয়েছেন। সন্ত্রাসবাদী আন্দোলনের ঐতিহাসিক গুরুত্ব বিচার হয়। তবু ...... দেশটাকে ভালোবেসে দিয়ে গেছে প্রান। 

১৮৯৩ অনুশীলন সমিতি অরবিন্দ ঘোষের ছত্রছায়ায় বিপ্লব। যামিনী মহিন্দ্র অম্বিকা কে সাথী করে চট্টগ্রাম সাম্য আশ্রমে বিপ্লব দানা বাঁধতে থাকে। নাগরখানা মারপিট ও লুন্ঠনের মামলায় রত্নগিরি বোম্বাই জেল। ফিরত এসে ইন্ডিয়ান রিপাবলিকান আর্মিতে সক্রিয় সশস্ত্র সঞ্চালক। ১৯৩০ চট্টগ্রাম অস্ত্রাগার লুন্ঠন। প্রিতীলতা ওয়াদ্দেদার ও কল্পনা দত্তকে এই সশস্ত্র দলের এ্যাকশনে রেখে সেই সময়ের স্বাধীনতা আন্দোলনে  নারী শক্তির স্বীকৃতি ও মনোবল বৃদ্ধি করেছিলেন। বেলা শেষে সংক্ষিপ্ত ছোট একটি প্রদীপ আজ নিবেদন করলাম দেশপ্রেমিক কঠিন প্রতিজ্ঞ মাস্টারদা সূর্য্য সেনের জন্য। আজ যৌবনের আরতি হোক এই চির যৌবনে উদ্দিপ্ত মানুষটির জন্য। 


বেশি বলার কিছু নেই, এই লেখা পড়ে ভালো লাগলে গুগলে সব পেয়ে যাবেন। যদি তাঁর জন্য একটা তথ্য পড়া হয় ,চর্চা হয়। এত বছর পর উত্তরসূরীদের কাছে তাঁর এটুকুই পাওনা। যদি সমস্বরে বলি 

" বন্দেমাতরম "। 

ধন্যবাদ আমার বন্ধুরা 🙏

©কপিরাইট অধিকার শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

রবিবার, ৩ জানুয়ারি, ২০২১

বিষয়য: আলোচনা আধ্যাত্মিক#নাম : সবুজ জমি ফুঁড়ে # লেখা : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 

সবুজ জমি ফুঁড়ে


ধরো যদি হঠাৎ সন্ধ্যে নামে...
এই পৃথিবীর এই কোণ ছুঁয়ে ,
যদি একাকার অন্ধকার নামে...
হৃদপিণ্ড হীন নির্মম জোঙ্গী আক্রমণে!
কবেই তো হারিয়ে গেছো ,
সেই কোন এক গোধূলি বেলায়।
তবু কোন তারা খসা রাতে ,
অসংখ্য যান্ত্রিক আওয়াজে ,
ভেসে আসে তোমার আর্তনাদ।
আমার ক্যাম্পের সীমা ঘেষে,
কোন দেশ কোন সে কাঁটা তারে...
ভাগ হয়ে হয়ে গেছি আমাতে তোমাতে ,
তবু রাঙা আকাশকে সাক্ষি রেখে
দামামার মাঝে খুঁজব প্রিয়...
যতক্ষণ দেহে প্রান আছে।
ধরো যদি হঠাৎ সন্ধ্যে নামে ;
রক্তাক্ত শহীদ হয়ে
তোমায় দেখে যাব ।
গোলাপ বাগানে অপেক্ষায় থেকো,
তোমার নরম কোলের স্পর্শে ...
হয়ত আবার সবুজ জমি ফুঁড়ে,
নতুন আমি জন্ম নেব।
আমার আত্মসমর্পণ প্রেম ,
নয়ত দেশের কাজে।


বুধবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয় :: শব্দ আলোচনা (মীরাবাঈ)নাম::হার মানা হার পরাবো তোমার গলে # লেখায় :: শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 হার মানা


হার পরাবো 🌸

তোমার গলে


১৫২৭ চিত্তড়ের রাজা ভোজ আকবরের সেনা দ্বারা নিহত হলেন। আমি চিত্তড়ের সেই মীরা বাঈ শার "ঠাকরজী" মন্দিরে দাঁড়িয়ে অনুভব করছি ভক্তিবাদী সাধনার সেই যুগকে। কোথায় যেন সেই প্লাবনে ভাসছি শুনছি বাঁশির মৃদু সুর...... নুপুরের ঝুনু ঝুনু নিক্কোন। সেই পরমাত্মার প্রতি আপ্লুত বিশ বছরের মীরা। অতিন্দ্রিয়বাদী সেই ভক্তি রসে ভাসছি আমি। শুনছি  🌸 মীরা কে প্রভু গিরিধারী নাগরো............ 


সাধক রবিদাস, ছিল সামান্য মানুষ। জাতিতে কুমোর। মীরার গুরু হল সেই মানুষ। কৃষ্ণ নামে যে সবার অপরম পার। আজকের সমাজে বসে আমরা এই অসম্ভব জাগরণকে হয়ত অনুভব করতে পারবো না। সেই ষোড়শ শতাব্দীর প্রথম ভাগে দিশাহারা ভারত। একদিকে তার ভগ্নপ্রায় প্রাচীন ধর্মীয় আদর্শ , অন্যদিকে বারবার বীধর্মীয় বিদেশী শক্তির আক্রমনে বিদ্ধস্ত ভারতীয় রাজনৈতিক মহল। মানুষের সোনালী দিনগুলো গত প্রায়। পেটে খুধা বুকে অবিশ্বাস হতবুদ্ধি  ভারতের সাধারণ মানুষ। এই সময় উঠে এসেছেন এই সব নীম্ন জাতির উচ্চমানের মানুষ সুরদাস কবীর নানক। সহজ কথায় যাঁরা জনসাধারণকে ঈশ্বরের সঙ্গে বন্ধুত্বের বন্ধনে বেঁধেছেন। সে যে বন্ধনহীন বন্ধুত্ব। গান দোঁহা কবিতার স্রোতে ভেসে গেছে  অবিশ্বাস, না পাওয়ার ব্যথা। রাঠোর কন্যা চিত্তোর কুলবধূ যদি তার কান্ডারী হয়। ডুবন্ত নৌকার মাঝি । সে যে প্রানের বন্ধন হয়ে দাঁড়ায়। বাঁশি বাজে মরুভূমির বুকে বৃন্দাবনের কোলে। ভারতের গ্রাম গলি মহল্লা জেনেছে রানা সঙ্ঘের বড়ো পুত্রবধূ সুন্দরী সুশীলা কোমল যুবতী পথে নেমেছে। সমাজকে তুড়ি মেরে কৃষ্ণ নামে বিলীন হয়ে ভুলেছে পতিশোক, ভুলেছে পরিবারের নোঙরা খেলা, ভুলেছে ইহকাল ,ভুলেছে রাজনৈতিক গোলক ধাঁধা ......... ....🌸 পায়ো রে ম্যায়নে রাম রতন ধন পায়ো .... শত শত মানুষ সেদিন এই রস সাধনায় বিলীন হয়ে মুক্তির পথ খুঁজে নিয়েছে। ঈশ্বর মন্দিরে থাকা এক পুতুল নয়। রক্তমাংসের মানুষের মত  ইন্দ্রিয়ের মাঝে তার বসত। তাকে ভালোবাসা যায়, ছোঁয়া যায়। বুকে জড়িয়ে কাঁদা যায়। ঈশ্বর প্রেম নিজের রঙে রাঙানো যায়। তাকে খাওয়াতে পরাতে চান করাতে মন্ত্র নয় ব্রাম্ভণ নয়। অন্তর্গত বন্ধু, বঁধুয়া যে সে।কেবল প্রেম চাই। বন্ধন যে জন্মান্তরের। বৃন্দাবনে  কৃষ্ণ পাগল ললিতা যে মীরা। এমনই লোকের মুখে ঘোরে। সংসারের কুটিলতা জানে না যে নারী তার যে কেবল ঠাকরজী আছে। সব ছেড়ে পথকে বলে মীরা.... তুঁহী মম শ্যাম সমান। 


চলে বিভোর মীরা । বৃন্দাবন যায়..... ঘোরে ভারতের পথে ঘাটে । ঈশ্বরের যে রূপ নেই , সে যে অরূপ রতন।তবে মন্দিরেও যে সে থাকে না। তাকে অন্তরে পেয়েছে। তেরশো  মীরা ভজন ঘুরে বেড়ায় মানুষের মুখে মুখে। মীরা তবে কি কেবল  এক সাধিকা? ঘর ছাড়া সন্ন্যাসিনী? 🌸আমি বলি মীরা এক সমর্পণের নাম। দেশের জন্য মীরার ত্যাগ কেউ হয়ত মনে রাখেনি। চিত্তড় আর মালবের শক্তির সামনে অসহায় পিতা ও ভ্রাতাকে সেদিন মীরার ত্যাগ যোধপুর রাজা রতন সিং কে বাঁচিয়ে দিয়েছিল। বড়ো বোনের আত্মহত্যার পর মীরাকেই বধূ রূপে চিত্তড় যেতে হল।  অন্যের জন্য আসা বরযাত্রী , তাকে নিয়ে ঘরে ফিরল। তের চোদ্দো বছরের শিশু সুলভ বুদ্ধি নিয়ে রাজ অন্তঃপুরে মীরা। নারী মীরা। সংসারী মীরা। পতি ভোজের প্রেয়সী মীরা। কিন্তু মীরা কি করে ভুলবে এই মানুষের স্বপ্ন কিছু দিন আগেও তার দিদিশার চোখে ছিল। কেমন করে সব ভুলে মীরা প্রেমে পড়ে! তার ওপর ঠাকুর জী তার জীবনে বিশাল যাগায় আছে। কিশোরী থেকে যুবতী হতে হতে ভোজের মন জয় করছিল সাধাসিধে ভগবান বিশ্বাসী এই মেয়েটি। তাই তো তার সহস্র ভুলেও পরম আদরে পর্দা দিয়েছে রানা ভোজ। মীরা তাই তার গানে রানাকে অস্বীকার করতে পারেনি।ভোজের সাথে মীরার বন্ধনহীন বন্ধুত্ব গড়ে উঠছিল। সংসারের কুটিলতা তাদের দুজনের মধ্যে বিশাল দেয়াল হয়ে দাঁড়িয়েছে। মীরা সরে গেছে দূরে, হয়ত নারী মন অভিমানী হয়েছে। হয়ত আরও গাড় সম্পর্ক মন চাইতো। ভোজের সঙ্গে মীরার বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক । ভোজের দেখাশোনা মন দিয়ে করেছে যতদিন তাকে কাছে পেয়েছে। মীরা রাজার কাছে সমর্পিত ছিল ।ভোজ কিংবা কৃষ্ণের প্রতি তার সমর্পণ...... এক বন্ধহীন বন্ধন। 


মীরা ঐতিহাসিক চরিত্র। ঘটনা অক্ষুন্ন রেখে একটি ষোড়শ শতকের স্বভিমানী নারীকে ব্যাখ্যা করেছি। এক বহ্নিশিখা..... কুসংস্কারগ্ৰস্ত সমাজে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তুলতে চেষ্টা করেছে সেই নারী। শ্রেনী বৈষম্যের বীরোচিত সোচ্চার এক নারী।  ভালবাসার মাঝে বিদ্রোহিনী বিরাঙ্গনা। প্রতিটি আবেগী নারীর সাথে মীরার বন্ধহীন বন্ধন।

©copyright reserved for Sharmistha Bhatt. 

সোমনাথে তাকে শেষ দেখা যায়। 


(১৪৯৮ - ১৫৪৬) মীরা র সময়কাল।

বৃহস্পতিবার, ২৪ ডিসেম্বর, ২০২০

#বিষয় - আলোচনা (প্রবন্ধ)# নাম : স্মৃতির ২৫ # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

বিষয় - *বাঙালিয়ানার মধ্যে বড়দিন কাটানোর বিগত অভিজ্ঞতা দাও সবাই। 


✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝✝


আজ খুব ভালো লাগবে লিখে। কারন এই ২৫শে ঘরে নিজেকে বন্দী করেছি। বন্দী কথাটা এই প্যান্ডামিকে একদিনও বলিনি। আজ বলছি। কারণ আজ সেদিন যেদিন বাঙালী, মূলত কোলকাতা ও তার আশেপাশের মানুষ আনন্দে মাতে। ছোট থেকে এমন দেখেই বড়ো হয়েছি। প্রাকৃতিক হিমেল আবহাওয়ার জন্য হোক বা ছুটি ছুটি ভাবের জন্য হোক, এই দিনটি খুশির দিন। 🍊কমলালেবু কেক চকলেট পিকনিকের দিন। আমরা মফস্বলে বড়ো হয়েছিলাম তবুও তখন এই আগ্রহ প্রবল ছিল। আগের দিন কোলকাতা বা ওখানের বড়ো দোকানে অডার দেওয়া থাকত। ওই সময় এ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হত, পিসির ছেলে মেয়েরা আসতো। সে এক হৈ হৈ ব্যাপার। তারপর পিকনিক, নদীর ধারে, সুন্দরবন বকখালি ফ্রেজার গঞ্জ, কিছু না পেলে নিজেদের বিশাল বাগান।আলিপুর চিড়িয়াখানা, সর্কাস।এ সব

মজা 😃 আনন্দ আজও ছুঁয়ে যায়, লিখতে বসে সেই চেঁচামেচি শুনতে পাচ্ছি। সেই ব্যস্ততা, সেই বাচ্ছা আমাদের হুটপাটি। কাকা কাকিমাদের অনাবিল হাসির আওয়াজ। বাঙালির বড়ো দিন এমন হাসির মহল না হলে হয় না। বাঁধনহারা একটা দিন। ফ্রাইরাস ফিসফ্রাই ভেজিটেবল চপ চিকেনের প্রিপারেশন আর খাবার ও মিষ্টি। নলেনগুড়ের সন্দেশ মোয়া একটা করে হাতে যদি দিয়ে যায়। খেলবো এক্কাদোক্কা সারা দুপুর জুড়ে। ব্যাডমিন্টন ভাইবোনদের সাথে, মা কাকিমা পিসিরা। এমন দিন অনেক পেয়েছি ,অন্ততঃ কলেজ যাওয়া পর্যন্ত। কখনও মাসি মামাদেরর দলের সাথে চন্দননগর, বেথুয়াডহরি, নীমপিঠ। বিশাল ট্রাকে গান চালিয়ে বেরিয়ে পড়া ত্রিশ জনের দল, আহা!! মনে হয় স্বর্গে আছি। 

একটু বড়ো হলাম বন্ধুবান্ধব, বড়ো দিন পার্ক স্ট্রিট, হোটেলগুলো, কিন্তু এসব সকালে, রাতে এলাউ ছিল না। তাই সন্ধ্যায় ফিস্টে পরিবারের সাথে আমি।  সখের বাজার সাহেবের মাঠে বাজি পোড়ানো দেখা, সাবর্ণ রায়চৌধুরীদের চন্ডিরমেলা দেখা।আমার বিয়ে হওয়া পর্যন্ত। তারপর অন্য ইনিংস, অন্য কোন দিন। এরমধ্যে নৌকায় পিকনিক করেছিলাম সারাদিন, ফলতা থেকে ডায়মন্ডহারবার। সারাদিন নৌকা ভাড়া করে হৈচৈ। আমার এমন হতো পরিবার আর বন্ধুরা এক হয়েও মজা হয়েছে।সত্যি এখন ভাবি এখনকার বাচ্ছারা এই সব দিন দেখছে, ভয় সাবধানতা, সেই অনাবিল সোনালী দিন গুলোতে তাদের হাত ধরে নিয়ে যেতে ইচ্ছা করে। এখন ধর্মীয় গোঁড়ামির অসহিষ্ণু মুহুর্তে মনে হয় চিৎকার করে বলি খ্রিষ্টমাস 🍰আমার তোমার ছিল না। সব বাঙালীর বড়ো দিন ছিল। খুব ছোট যখন জানতাম না আমি খ্রীষ্টান নোই। মার হাত ধরে চার্চে গেছি বাবা উৎসাহ দিয়েছে ঘর সাজাতে। দাদু কিছু না হলে বলত- বড়ো দিন ছোট কেন?  করুনাময় ঈশ্বরের কাছে বলবো আনন্দে ভরে থাক বাঙালী , কিছু না ভেবে। 

রবিবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০২০

বিষয় : সমালোচনা (আধ্যাত্মিক) #নাম : খন্ডিতা # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 


আমার বধুঁয়া আন বাড়ী যায় আমার আঙিনা দিয়া... রাধিকা ক্ষুব্ধ কৃষ্ণের প্রতি। মনে মনে ভেবে নিয়েছেন এতো প্রত্যাখ্যান। বৈষ্ণব পদাবলী ও সাহিত্য অনুসারে কৃষ্ণকে পাবার রস বিভাজনের সর্বোচ্চ পর্যায় মধুর। বাৎসল্য সাখ্য ইত্যাদি পেরিয়ে মাধুরে ভক্ত পূর্ণাঙ্গ রূপে সমর্পিত এবং সাধন স্তরের শেষ পর্যায়ে উপনিত হয়। মানুষের জীবন চক্রের মধ্যদিয়ে জীবন সত্য বা বৈষ্ণব সাধনা তত্ত্ব তুলে ধরা হয়েছে। অতি সহজ করে বলা হয়েছে বলেই হয়ত সাধারনের কাজে সহজে গ্রহণ সম্ভব হয়েছে। তাই সাধারণ মানবী প্রেমিকার মতো মান অভিমান চাওয়া পাওয়া ইর্ষা অভিযোগ দিয়ে ভরা রাধা। মাধুর রসে এসে রাধাকে পাই। ধীরে ধীরে কৃষ্ণের নামে দর্শনে অনুভবে কৃষ্ণকে মন মন্দিরে স্থাপন করেছে। নিত্য তার অভিসার। এমন ভাবেই বৈষ্ণব পদগুলি ভাগ করা হয়েছে রাধার আবেগের পর্যায়ে। আক্ষেপ অনুরাগের পর্যায়ে জ্ঞানদাসে রাধা সমাজ ও ভক্তির মাঝে দ্বিধান্দোলিতা। প্রম গর্বিনী এখানে অশ্রুসিক্তা। এত কলঙ্ক মেখে যার জন্য ঘর ছাড়ল সেই যদি অন্য ভক্তে আশ্রিত হয় তবে তো ক্ষুব্ধ হবেই রাধা। বিদ্যাপতি অভিসারিনী রাধার কষ্টকর পথচলাকে গভীর ভাবে এঁকেছেন। সেই কষ্টের পথ পাড়ি দিয়ে, সেই উৎকন্ঠা সয়েও তুমি যখন আমার নিও তখন নায়িকার যে ক্ষুব্ধ রূপ বর্নিত তাই খন্ডিতা , মান ও কলহান্তরিতা নামে পরিচিত। এই অবস্থায় রাধা বেশ কিছু পথ চলে এসেছে কিন্তু এখনও বাকি। মনের মাঝে এখনও ঈর্ষা মান অভিমানের ঢেউ বাকি। এখানে সে বারে বারে নিজেকে উপেক্ষিত ও প্রত্যাখ্যাত মনে করেছে। কিন্তু সব থেকে কাছে যে তাকে কি ফেলা যায়? কৃষ্ণ বলেছেন রাধা আছে তাই তার অস্তিত্ব। রাধার মধ্যে কৃষ্ণ বিরাজমান। এসব কিছু শুনতে চায় না রাধা। এখানে বাঙলা ভাষার পদাবলী সাহিত্যকে কয়েক ধাপ এগিয়ে দিয়েছেন জয়দেব " দেহি পদ পল্লবমুদারম্। "


ধন্যবাদ🙏সুপ্রভাত বন্ধুরা🌼

©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

মঙ্গলবার, ১৫ ডিসেম্বর, ২০২০

বিষয় : চিত্রলিপি(প্রবন্ধ) # নাম দৃষ্টি কোন # লেখা : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।

 


দৃষ্টি কোন। মানে একই দৃশ্যকে বিভিন্ন দিক থেকে বিচার করা। ঈশ্বর তত্ত্ব বিভিন্ন মুখী। তবে আজ অন্য বিষয়ে আলোচনা করি। যেমন ধরুন কোন ব্যক্তি আমার চোখে ভালো, আবার অনেকের বিচারে নয়। মানে ব্যক্তিটির কিছু গুনকে আমি দেখতে পাচ্ছি এবং আকর্ষিত হচ্ছি। অনেকের কাছে সেই গুনাবলীর কোন মূল্যই নেই। খুব সোজা উদাহরণ..... 

বাড়ির অমতে পালিয়ে বিয়ে করল সোমা রহিতকে । রহিত মাহিষ্য অপূর্ব সুন্দর শিক্ষিত কিন্তু পাকা চাকরি নেই এবং পরিবার প্রায় দরিদ্র, অনেক ভাইবোন। সোমা ব্রাম্ভণ একমাত্র মেয়ে শিক্ষিকা শহরের বিত্তশালী পাড়ায় বাস। সোমা কি দেখে বিয়ে করল?

সবার প্রশ্ন।। এই "দেখে " মানে দৃষ্টিকোন।। কথা এমন হবে " সোমা কোন দৃষ্টিকোন দিয়ে বিচার করল? "  হয়ত এই প্রশ্ন করলে সোমাকে ভালো করে বোঝা যেত। কি যে দেখেছে সে!! একেই হয়ত প্রেম বলে। কিছু না দেখা কিংবা একটি দুটি গুনকে নিজের মনের আলোতে অনেক বড়ো করে দেখা। কাউকে এই দৃষ্টিকোন দিয়ে দেখেই আমরা নিজের করি। কারো তুলতুলে বিড়াল পছন্দ, কারো বাঘের তেজ। 


🧸আজ এইটুকু থাক? অনেক ধন্যবাদ। একটা কবিতা দিলাম সুপ্রভাত জানিয়ে, হয়ত আমার উপস্থিত এখানের সব বন্ধুর কাছেই তার মানে আলাদা আলাদা হবে। আর এটাই নিজস্ব বিচার শক্তি বা দৃষ্টিকোন 🧡


✡✡✡✡✡✡✡✡

উৎসবী আঘ্রাণ


শীত ঘুম দেবার ঠিক আগে 

অচৈতন্য আবেদন নিয়ে 

হেমন্ত ঘরে ফেরে, 

বিষন্ন দুপুরে পাতা ঝরা

আওয়াজে পথটুকু চলা

উদাসীন তৃপ্তির সাথে। 

শরতের উৎসবী আঘ্রাণ

গায়ে মেখে না চাইতেও আবার

একবার মন চায় কুয়াশায়

রহস্যময় দুর্ভেদ্য একাকী হতে। 

হেমন্ত এসেছে ফিরে রাতুলের গাঁ

ফিরতে নিষেধ জেনেও

অগ্রাহ্য নীরব বারন আর 

বয়ে যাওয়া নিয়ম।। 

✡✡✡✡✡✡✡✡

@copyright reserved for Sharmistha Bhatt

রবিবার, ৬ ডিসেম্বর, ২০২০

হ্লাদিনী (প্রবন্ধ) 🌷শর্মিষ্ঠা ভট্ট

 হ্লাদিনী



মধু বনে রাধিকা নাচে রে........ ছম্   ছম্   নুপুরের আওয়াজ ভেসে আসে বনের মাঝে মন্দির থেকে। এই কম্পিউটার রকেট পরমাণু বোমার অত্যাধুনিক যুগেও ওই মন্দির আর ওর আসে পাশের বনানীকে ভক্তি ভয়ে এড়িয়ে চলে মানুষ। 


বৃন্দাবনের নিধি বনে এমন অদ্ভুতুড়ে রহস্যময় বাঁকেবিহারীর মন্দির ঘিরে প্রাচীন আধ্যাত্মিক উপলব্ধি মানুষের কাছে আজও অপার বিষ্ময়। সন্ধ্যার ঠিক আগেই শেষ আরতি সেরে কাপড় মিষ্টি চুড়ি নিবেদন করে মন্দিরের সকল দরজা জানালা বন্ধ করে সব ভক্তদের মন্দির অঞ্চল থেকে বের করে গেটে তালা দিয়ে চলে যায় পুরোহিতরা। কারণ সূর্য্য ঢুবলে , একটি দুটি তারা আকাশের বুকে ভেসে উঠলে, সহস্রাধিক বছরের পুরনো সত্য ....নাটকের মতো প্রতি রাতে পুনরায় ঘটতেই থাকে। বাঁকেবিহারী শ্রী কৃষ্ণের সঙ্গে গোপীদের সেই রাস লীলা। সেই কৃষ্ণের সুমধুর বাঁশি আজও বাজে নিধিবনের মন্দিরে। আর শাখাপ্রশাখা ঝুলিয়ে শান্ত গাছগুলো, যাদের দেখলে মনে হবে মাথা নীচু করে নিবেদনের ভঙ্গিতে শত সহস্র সবুজ উদ্ভিদ বসে আছে। সেই তারা ললিতা বিশাখা চদ্রাবলী রূপে সহস্র গোপিনী হয়ে মন্দির ঘিরে রাস লীলায় মেতে ওঠে। কত বার এই দৃশ্য দেখার প্রবল আগ্ৰহ কিংবা নিয়মের অবমাননা করার গোপন উত্তেজনায় অন্ধ পাগল , নয়ত মৃত্যু হয়েছে অনেকের। তবু মানুষ অনুসন্ধান চালায়। রহস্য উদঘাটনের জন্য। মেলে না দেখা মেলে না। মন্দিরের দরজায় কান পেতে বাঁশি নয়ত  নুপুরের আওয়াজ শুনতে পেয়েছে কেউ কেউ, এমনই প্রবাদ ঘিরে আছে মন্দির ঘিরে। এমন কি সকালে মন্দির পরিস্কার করতে এসে পুরহিত দেখে মিষ্টি নেই। শাড়ি চুড়ি ঘেঁটে ছড়িয়ে আছে। কতটা সত্য এই আধ্যাত্মিক উপলব্ধিতে? মানো তো ঈশ্বর, না মানো তো এ পাথর ছাড়া কিছু নয়। আধ্যাত্মিকতা উপলব্ধির বিষয়, অনুভূতির গাঁটছড়া। মনই ধর্ম ।আর মনের ভাব আধ্যাত্ম। আত্মার অধীনে যা অনুভূত। 


এই মন এই আত্মা এই চিত্ত উপলব্ধিই ঈশ্বর। কেমন করে পায় সেই ঈশ্বর, চেনা কি যায়? বৈষ্ণব দর্শনে দেখায় এই আত্মার ভেতর যে আত্মা বসে আছে, সেই পরম আত্মাই পরম আত্মীয় বলা হয়েছে। সেই ই পরম ব্রম্ম, পুরুষকার, নাম কৃষ্ণ। অনন্ত প্রেমিক তিনি। তাঁর মধ্যেই সমস্ত ব্রহ্মাণ্ড মিলন প্রত্যাশি। তাই তিনি একমাত্র পুরুষ, আর  ব্রহ্মান্ডের জীবিত ও জড়ো সব নারী। প্রেমিকের সাথে মিলনের বাসনা তাই অনু পরমাণুর মধ্যে পরিদর্শিত হয়। যেমন নদীর সমুদ্রকে ছুঁয়ে বিলীন হবার শিঘ্রতা। সেই মিলনের তিন পথ বৈষ্ণব দর্শনে দেখতে পাওয়া যায়। তার মধ্যে সবচেয়ে শেষ এবং উচ্চতম মিলনের ইচ্ছা আনন্দ শক্তিরূপী। তখন পুরুষত্তম নিজেও মিলনের আগ্ৰহ অনুভব করে। সেই শক্তি, হ্লাদিনী শক্তি। যা আনন্দ স্বরূপা। তিনিই রাধা। রাধাই অসংখ্য বিভাজনে গোপিনীবৃন্দ। এই আধ্যাত্মিক প্রেম গাথা তর্ক বা তত্ত্বের ওপর কেবল দাঁড়িয়ে নেই। এ মানুষের বিশ্বাসের মাঝে বিরাজমান। 



🌸🌸                 🛐🛐🛐🛐🛐                   🌸🌸


শর্মিষ্ঠা ভট্ট

বৃহস্পতিবার, ৩ ডিসেম্বর, ২০২০

বিকালের ডাকে মাকে


 আমার মা, 


তোমায় গালভরা সম্মোধন করলাম না।পূজনীয় বা প্রিয় সব কিছুর ওপরে তুমি বন্ধু,তুমি আনন্দ।।


তুমি কেমন আছো? অনেক দিন তোমায় দেখিনি। আঁটকে গেছি অসভ্য এই সংক্রামক দিনে। তোমার বয়সের হিসাবে, তুমি যে এখানে আসবে তাও হয় না। আমির যাওয় "না"। মা নিয়ে লিখতে গেলে কি লিখি বলো তো? মা মানেই নস্টাজিয়া। মা মানেই হাসি। মা মানে বকুনি আর তারপর সেধে আদর করে ভালো ভালো খাবার খায়ানো। মা মানে অ আ ক খ। মা মানে কিশোরী বয়সে লুকোনো দিন। মা মানে বারন শাসন, আর অনেক চিন্তা নিয়ে শুধু সন্তানের জন্য ভালো চাওয়া। মনে আছে দূর্গা ষষ্ঠী করে হলুদ ফোঁটা দিতে। মনে মনে বলতে " সন্তান থাকে মোর দুধে ভাতে " । 


আচ্ছা তোমার মনে আছে? আমার প্রবল জ্বরের দিনে, আফছা আঁধারে ঘুম ভেঙে দেখেছি মাথার পাশে বসে। "মা" বললেই তোমার সেই সজাগ উত্তর "আছি মামনি এই তো আমি"। আজও সেই আওয়াজ আমি শুনি, যখন জীবনে লড়তে গিয়ে একা হয়ে জ্বর আসে আমার সারা গায়ে। নিজেকে অসুস্থ ভাবার ঠিক আগে তুমি এসে সামলে নাও। 


তুমি সাঁতার জানতে না। আমি জানতাম। পুকুর ঘাটে ঠায় দাঁড়িয়ে থাকতে আমার পাড়ে ফেরার আসায়। আজ হয়ত এমন করে উদগ্রীব দৃষ্টি মেলে বসে আছো তোমার  সময়ের তালে সাঁতারে যাওয়া সন্তান কবে ফিরবে? কিংবা ঠিক মতো ফিরতে পারবে কি না। সন্ধ্যার শাঁখ বাজাও, মাথায় কাপড় গড় হয়ে পড়ো ভগবানের পায়ে জানি তাতে অর্ধেকের বেশি আমি জুড়ে আছি। 


মনে আছে আমবাগানে বৃষ্টি ভেজা, আরাম করে দুষ্টুমিতে অংশ নিতে আমি দেখতাম ছোট্টো আর এক আমি তোমার মাঝে। ক্যারাম ব্যাটমিন্টন আল্পনা ।উৎসাহ দিতে আঁকার তুলিতে হিজিবিজি রঙ ভরে। ইউনিভার্সিটি থেকে অত বড়ো মেয়ে ফিরতে একটু দেরি হলে গরদ ধরে দাঁড়িয়ে থাকতে। উৎসাহ দিতে আজও দাও অনেক বই পড়ার। মনে আছে যৌথ পরিবারের হাজার কাজ সেরে রাতের বেলা দেয়াল গিরির আলোয় পূজা সংখ্যা শেষ করছো। শিশু মনে ওই বেজান বস্তুর প্রতি টান, এনে দিতে তুমি। কি আছে ওতে এমন ঘুম জড়ানো চোখে ক্লান্ত হয়ে কি করে মা বইগুলোর সাথে? পড়ি আমিও পড়ি। তুমি খুঁজে দিয়েছিলেন সেই বন্ধু যে আমায় আজও সাথ দেয়। তুমি কেবল আমার না, বড়ো মা হয়ে যখন কাউকে খাবার কাউকে কাপড় কাউকে আনন্দ বিলি করতে আমার মনের মুগ্ধতায় কখন যেন দেবী হয়ে উঠতে। মনে মনে মন্ত্র পড়তাম .... মাতৃবন্দন সে। 


তুমি আমায় নাচতে শেখাচ্ছিলে, আমি তাল লয় কিছু না বুঝে গোলমাল করছি, তুমি মাথায় হাত দিয়ে বললে " সবার জন্য সব না" কত বড়ো দূরদর্শী ছিলে। মা রা হয়ত তাই হয় দূর দেখে। তাই সাবধান করে, শেখায় নীতি ন্যায় অন্যায়। এখনও অন্যায় করতে মন চায় না। তুমি বিদ্রহী হতে শিখিয়েছিলে, দেখো তাই নিয়মের বাইরে একটা ছোট ঘর বেঁধেছি তাতে রাত্র দিন কেবল অদ্ভুত পথের আবিষ্কার করে চলেছি। প্রচলিত ধারায় মাথা নুইয়ে গড্ডালিকায় বয়ে যেতে পারলাম না। 

আমার প্রেমের প্রথম শ্রোতা তুমি ছিলে। বিশ্লেষক ও তুমি।তোমার স্নেহ জালে তিনি ও আবদ্ধ। মা কথাতে কেবল দীর্ঘ সুখ আছে। ধূপের মতো জ্বলে গন্ধ দিয়ে যাও। আরও কত কি লিখতে মন চায়। তুমি স্মৃতি আগলাতে শিখিয়ে ছিলে, কতকাল পূর্ব স্ট্যাম্প ছবি যখন জমা করতাম,তোমার আগ্ৰহ ছিল অনেক বেশি। উৎসবে মেতে উঠতে বলেছ তুমি,নতজানু হয়েছি সুন্দর ভালো সততার কাছে।তোমার নীরব কাজ ছুঁয়ে দিতে একটা সন্তানকে বড়ো করতে।হৃদয় বৃত্তির কাজে কখনও তুমি কিচ্ছু দূর ছাই করোনি,প্রত্যেক সম্পর্ক অমূল্য মতির মতো সামলে রাখতে।লোকে বলে বাবা হাজারে এক মা।তুমি বলতে " উনি ছাড়া আমি কে রে! কালীকে শিব ছাড়া দেখেছিস কখনও? আমার বাগানে তিনিই যে সিঞ্চিত করেছেন। তাই বাগানের এত বাহার।আমি মা শব্দে অবাক হয়ে শুধু অনুভব করি কতকিছু।।কিন্তু আর নয় বড়ো হয়ে যাবে , একটা কবিতা লিখি ✍


বিষন্ন বিকাল 

গাঙ্গচিল হয়ে মরিস

আমায় ঘিরে। 

আমার কান্না

পৌছতে পারিস  

আমার মায়ের কাছে...।।

সূর্য্য মুখে ডালপালা

নিয়ে সমুদ্রে ডোবে

গাঙ্গ চিল কাঁদিস

কেন আমায় ঘিরে ঘিরে।।. 


............. ইতি


................. শর্মিষ্ঠা ভট্ট। 🖋

বুধবার, ২ ডিসেম্বর, ২০২০

খড়ের চালায় টপছে জল

 বিষয় # প্রবন্ধ  

❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣❣




গ্রাম মানেই অপূর্ব সবুজ

গ্রাম মানেই দৃষ্টি মধুর

গ্রাম মানে কুঁড়ে চালা ঘর, 

পুকুর ভরা শাপলা ফুলে

শরতের হাঁক ডাক। 


খড়ের চালায় টপছে জল

পুকুর ভরা সোনা টলমল, 

ঘোমটা দেয়া কলসী যায়

সাঁঝ বেলা শাঁখের ফুক

ওরে আমার বাউরী মেয়ে

মনে কেন এত দুখ? 


ঠিক তাই গ্রাম শুধু সৌন্দর্যের স্বপ্ন ঘেরা জাদু বাক্স নয়। আছে ছোট  দুখের গল্প ভরা। আছে ঘৃনা বিতৃষ্ণা রাজনীতি চেঁচামেচি হতাশা। আছে ভালবাসার বৈধ অবৈধ গল্পে ভরা যাপন গাথা। আছে বেঁচে থাকার নিরলস প্রচেষ্টা। আছে আবেগ আছে জয় আছে চিতা। 

আমার গ্রাম বাংলা এমন একটা জীবন্ত চালচিত্র। ঘটে চলা ঘটনার নিরবিচ্ছিন্ন মালা। প্রতি নিয়ত তার স্বতঃস্ফুর্ত বিকাশ। এক সময় শিক্ষিতের সংখ্যা খুব কম ছিল। শুনেছি ম্যাট্রিক পাশ একজনকে আশে পাশের অনেক গ্রাম থেকে প্রচুর মানুষ দেখতে এসে ছিল।  সেই গ্রাম এখন ঘরে ঘরে স্কুল কলেজে যাওয়া গ্রামবাসী অনেক নতুন নতুন দিশার দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। গ্রাম তখন কিছু মানুষের হাতে চলত কিছু মানুষ তার রূপায়নে বুদ্ধি এবং পয়সা ঢালত।তখনকার পরিবেশে পারিবারিক বোধ সম্বন্ধে স্বাধীনতা ছিল  আবেগ ছিল। হয়ত জন সংখ্যা কমের কারনে একটা সুন্দর আঙ্গীক দিতে পেরেছিল। দূর্গা পুজার শৈল্পিক উৎসব পরিচালনা তার প্রমাণ। এখনও দূর্গা আসেন হৈ চৈ প্রানের আবেগ সব আছে। তবে সেই  মৌলিক শিল্পবোধে কোথাও যেন ঘাটতি চোখে পড়ে, সহুরে রুচিবোধের অনুকরণ যেন। আমার কাছে বেসুরা লাগে। মনে হয় এখনকার গ্রামীন জীবনে সহুরে  ছায়া। সাঁওতাল মেয়ে খোঁপায় কাঠের চিরুনির বদলে প্লাস্টিকের চিরুনি দেয়। কেমন যেন একটা বেখাপ্পা ভাব। গ্রামের সেই সতেজতা চলে গিয়ে রাজনৈতিক থাবা। আবেগের বদলে মেকি হৃদ্যতা যায়গা করেছে। 


গ্রামের ক্লাব ঘরে লাইব্রেরি হবে। ঠিক করা হল সর্বক্ষণ থাকবে গোবেচারা গৌর , লাইবেরিয়ান বলা হবে। সেই সামান্য লাইব্রেরি, বুর্জোয়া দখলদারি হিসেবে চিহ্নিত করে ভাগ হয়ে গেল দুই দল। উঠতি গ্রামীণ মানুষ আর পুরানো গ্রাম কল্যাণ শাখা।আগের বছর যারা দশমীতে একে অন্যের বাড়ি গিয়ে মিষ্টি প্রনাম বিনিময় করেছে। তারাই হয়ে উঠল একে অন্যের শ্রেণী শত্রু। সেই প্রথম রাজনীতি আঁচড় দিল গ্রামটায়। এখন শ্রেণী নেই কেবল শত্রুই শত্রু " তোরা আমরা" । সুবিধার্থে আমার তোমার। না পোশালে  কে কার? ঘর যা। রবীন্দ্রসঙ্গীত এখন হাজুর নতুন তোলা কোঠা বাড়ি, যার চাল টিনের ওখানে বাজে। ক্লাস তৈরির আপ্রাণ চেষ্টা। খোলা সমাজ একে একে অনুসরনের থেকে অনুকরনের দিকে নজর দেয় বেশি। তোমার আছে আমার নেই থেকে এই মনোভাবের প্রাদুর্ভাব ঘটে। আমাদের চাষ করা চাচার কিছুই ছিল না। "বাবু" বলত কিন্তু তার নিজস্ব একটা আত্মসম্মান ছিল। এবং  নানা সম্বোধনে সবাই তা রক্ষা করে চলা হত। চাচা কখনও অন্ধ অনুকরনে নিজেকে হাস্যকর করেননি। অনেকে প্রশ্ন করবেন তবে কি নীচু হয়ে হত দরিদ্র হয়ে কাটিয়ে দেবে, পরিবর্তন আসবে না! ঠিকই তো যুগের সাথেই তাল মিলিয়ে চলাই তো জীবন। 


এখনকার গ্রাম কাদায় হাঁটি না। সিমেন্টের পথ এগিয়ে গেছে অনেক ভেতর। বাল শিক্ষা ব্যবস্থা চলছে। ছেলে মেয়েদের হাতে মোবাইল। ঘরে টিভি। প্রত্যেকে বাংলা নয় ইংরেজিতেও সাক্ষর করে দিতে পারে। হিন্দিগানে গুনগুনায়। সাত পুরুষের নাম ভুলে যায় শ্রাদ্ধে মন্ত্র পড়ে ' এঃ বচ'। সামান্য একটু পয়সা হলেই বিশাল বিবাহ অনুষ্ঠিত হয়। জীবন এখন দেখাদেখির ওপর বিরাজমান। তবু যা আজও অক্ষুন্ন গ্রামের হাওয়া। কার ঘরে কি হল ভেসে বেড়ায়। জীবন চরৈবতি । কত ঘটনা মুড়ে তৈরি হচ্ছে মর্ডান গ্রাম। আমার গ্রাম তোমার গ্রাম। 


তবু ভালবাসা আছে। তবু প্রেম করে ময়না, পথের ধারে সাইকেলের হান্ডেলে হাত দিয়ে। ছোট নদী পলি পড়ে বর্ষায় টোইটুম্বুর হয়ে বান ডাকে। খাল ভরে গেছে প্লাস্টিকে, চাষের জন্য জল কি করে আসবে ভাববে পঞ্চায়েত। ভোট দি ভাই.... গ্রাম নিয়ে ভাবুক ওরা। অবৈধ পোল করে খাল বন্ধ... দরকার বা কি! চাষাবাদই একে একে উঠে যাচ্ছে। জল নালী ঠিক থেকে লাভ কি? গ্রামের চড়ক বৈশাখের মেলার থেকে মহকুমায় হস্তশিল্প মেলার চাউমিন বেশি স্বাদের হয়। ওখানে ছুটি নতুনের খোঁজে। গ্রাম জীবন এখন ফুল স্পিড নিয়েছে সভ্যতার নেশা। ছুঁতে হবে মায়ামৃগকে। সম্পূর্ণভাবে ছুঁলে আমার গ্রাম হয়ত হারিয়ে যাবে। 


আমার গ্রামের আটচালায় মা দুগ্গা আসে

আমার গাঁয়ে শালুক বনে ফ্ল্যাট গজিয়ে ওঠে। 

রাশোন মিয়াঁর গোয়াল ফাঁকা 

বাঁঝা চাষ চলছে বারো মাস, 

কালো ধোঁয়ায় বুক ভরেছে.. 

বুকের ভেতর কেবল হাঁপোর টান।। 


ধন্যবাদ....... 


শর্মিষ্ঠা ভট্ট 🖋

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...