অণুপ্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুপ্রবন্ধ লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আর পুরোনো যুগে পড়ে থাকতে চাইছে না। সবাই আধুনিক হতে চাইছে। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উন্নয়নের পথে চলতে গিয়ে সংযোগ ছিন্ন হচ্ছে প্রকৃতি থেকে। আজকাল কেউ সবুজ পরিবেষ্টিত বাগান ঘেরা বাড়ী পছন্দ করেনা,বরং সুইমিং পুল,জিম যেখানে আছে সেরকম বহুতল ফ্ল্যাটে থেকে নিজের স্ট্যাটাস বাড়ানোকে আধুনিকতা তকমা দিয়েছে। আজকাল বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরে মাঠে গিয়ে খেলতে অস্বস্তি বোধ করে,কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও গেমে চোখ রাখতে কোনো কষ্ট হয়না তাদের। আধুনিকতা আসলে মানুষকে প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে শেখাচ্ছে কিন্তু তাদের জীবন যাপনকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলেছে। এটাও দেখা গেছে গত কয়েক বছরে বই পড়াতে আগ্রহ কমেছে। সেই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটফ্লিক্স, প্রাইম এসবে চোখ থাকছে তাদের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মানুষের ভাবনা শক্তির বিকাশ ঘটাতে না দিয়েই এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তাকে স্পুন ফিড করছে। শুধু শারীরিক ভাবেই নয় মানসিক ভাবেও প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আধুনিকতার কবলে পড়ে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করলে যেমন মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে,উদ্বেগ কম হয় সেটা আজকাল আর হয়না। মানুষ ভুগছে নেচার ডেফিসিট ডিসঅর্ডার ব্যাধিতে। আধুনিকতা মানুষকে বিলাসবহুল জীবন ধারণের সুযোগ দিলেও প্রকৃতির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণ শারীরিক ও মানসিক দুভাবেই। তাই সময় থাকতেই নিজেদের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া উচিত ও প্রকৃতির সাথে ভারসাম্য রেখে চলা দরকার নয়তো একদিন প্রকৃতির রোষানলে পড়বো আমরা সবাই তখন প্রকৃতির ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবার সাহস মানুষ পাবেনা, হেরে যাবে তখন আধুনিকতা। 

"আধুনিকতা নিশ্চিত করেছে দুরত্ব,মানুষ আক্রান্ত নেচার ডেফিসিট ডিসঅর্ডারে
সমাধান হোক সময় থাকতে,যথাযথ ব্যবস্থা করো সামলে রাখতে প্রকৃতিরে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩০ এপ্রিল, ২০২৬

শিরোনাম - অ্যাডাপটেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - অ্যাডাপটেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিবর্তন জীবনের জন্য অপরিহার্য। পরিবর্তন না হলে একঘেয়েমি থেকে বেরিয়ে আসা যায়না। পরিবর্তনের সাথে মানিয়ে নেওয়াটাই আসল চ্যালেঞ্জ। আর এই চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হতে অনেকেই ইতস্ততঃ বোধ করে তাই পরিবর্তনকে গ্রহণ করতে অনীহা প্রকাশ করে। ঝড় উঠলে যেমন সবাই ভয় পায় সব নষ্ট হয়ে যাওয়ার তেমন আরেকটি দিক দিয়ে ভেবে দেখলে ঝড় কিন্তু পথের বাধা গুলোকে দূর হটিয়ে দেয়। চলার পথ সুগম করে তোলে। তাই পরিবর্তনকে সবসময় নেতিবাচক হিসেবে না ভাবাই উচিত। কিংবা কেউ যখন বাসস্থান পরিবর্তন করে নতুন জায়গায় এসে মানিয়ে নেওয়ার একটা চিন্তা কাজ করে। কিছুদিন পর নতুন পরিবেশে ঠিক খাপ খাইয়ে নেয়। জীবনে যখন বন্ধুদের স্বরূপ প্রকাশ পায় তখন নিজেকে পরিবর্তন করার দরকার পড়ে আত্মসম্মান বজায় রাখার জন্য। আর আত্মসম্মান রক্ষা করার মানে কিন্তু নিজেকে অহংকারী করে তোলা নয় বরং যারা কাউকে ছোট করে সেখান থেকে নিজেকে দূরে রাখা। ডারউইনের বিবর্তনবাদ তত্ত্বও বলে পরিবর্তন অবশ্যম্ভাবী। ভয় না পেয়ে খুশি মনে পরিবর্তনকে আলিঙ্গন করা দরকার। তবেই আজ হোমো সেপিয়েন্স এসেছে। ভয় তো লাগবেই কিন্তু ভয়ের আগে যে জয় অপেক্ষা করতে পারে সেটা ভেবেই নিজেকে মানিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া দিয়ে নিজের অভিজ্ঞতাকে সম্মান প্রদর্শন করা উচিত।সব পরিস্থিতিতে নিজেকে মানিয়ে নিতে পারলে জীবন সুন্দর হয়ে ওঠে।

"মানিয়ে নিতে হবে পরিবর্তনের সাথে নিজেকে, ভয়কে দূরে সরিয়ে 
জয় আছে অপেক্ষায়,বাধা পেরিয়ে এগোলেই দেবে বিজয়মাল্য পরিয়ে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২৬

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছরের শুরু মানেই রেজোলিউশন নেওয়া যে এই করবো,সেই করবো। এখন তো আবার দুবার করে রেজোলিউশন নেওয়া চলে,ইংরেজি বছরের শুরুতে আর বাংলা বছরের শুরুতে। তবে বাঙালী বলে নববর্ষের শুরুতেই বেশি করে অঙ্গীকারবদ্ধ হই। ভালো হয়ে থাকবো,কারোর মনে কষ্ট দেবোনা এগুলো দিয়ে শুরু হয় অঙ্গীকার নেওয়া। পেশেন্ট পার্টি যতই খারাপ হোক তাদের সাথে হাসিমুখে বলল বলবো। পঞ্চম বার সিজার হতে আসা পেশেন্ট দের প্লাসেন্টা ইউটেরাসে আটকে গিয়ে হেবি ব্লিডিং হলেও খুশি মনে ম্যানেজ করবো। কিন্তু রাগ করবোনা যতই যাই হয়ে যাক। গ্যাংরিন হয়ে যাওয়া পেশেন্ট অনিয়ন্ত্রিত শর্করা নিয়ে এলে তাকে বকাঝকা না দিয়ে বোঝাবো ভালোভাবে। জুনিয়র দের মাথায় উঠতে দেবোনা। এতো গেলো কাজের জায়গার কথা,এরপর আসা যাক অন্য কথায়। গল্পের বই বেশী কিনবোনা। আগে বুক সেলফ বানাতে হবে সেটা মাথায় রাখবো। ৩-৪ টে বই একসাথে পড়বোনা। একটা বই পড়া শেষ করে আরেকটা বই পড়া শুরু করবো। নতুন জামাকাপড় কিনবো,পুরোনোগুলো বের করে আলমারি পরিষ্কার রাখবো। কসমেটিকস কিছু কিনবো,বই না কেনার জন্য কিছু টাকা বাঁচলে। সাজুগুজুতে মন দেবো। বাইরের খাবার বেশী খাবোনা, বাড়ীর খাবার খাবো ভালো করে। চকোলেট আইসক্রিম খাওয়া কমিয়ে দেবো। লেখালিখিটা নিয়মিত করার চেষ্টা করবো। জার্নালে আরো পাবলিকেশন করবো। পড়ার বই থেকে কম দুরত্ব বজায় রাখবো। অপ্রিয় সত্য কথা কম বলবো। আর কেউ ইনসাল্ট করে কিছু বললে হাসিমুখে বেরিয়ে আসবো কারণ এটা তাঁর নীচু ও বিষাক্ত মানসিকতার পরিচয়। অনেক কিছু অঙ্গীকারের কথা লিখলাম কিন্তু কতটা পালন করতে পারবো জানিনা। তাও তো ইচ্ছে করে বছরের শুরুতে কিছু প্রমিস করতে নিজের জন্য। আর ভালোমানুষ হবার জন্য চেষ্টা করবো,এটাই সবচেয়ে বড় অঙ্গীকার। 

"বছর শুরুতে করি ভালো কিছু অঙ্গীকার,নিজেকে শোধরাতে
তবেই না বছর শেষে সেটার ফলাফল যে পাবে হাতে নাতে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২ এপ্রিল, ২০২৬

অদৃশ্য ক্ষত✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 অদৃশ্য ক্ষত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সকলের চোখে যা দৃশ্যমান সেই ক্ষত নিরাময় খুব সহজে হয়ে যায়। বাহ্যিক ক্ষত মেরামতির জন্য দরকার সঠিক সময়ে চিকিৎসা ও ওষুধের প্রলেপ। কিন্তু যেই ক্ষত দেখা যায়না,যা অদৃশ্য সেই ক্ষত নিরাময় কিন্তু সহজে হয়না। মনের গভীরে থাকা ক্ষত শারীরিক ক্ষতের চেয়ে অনেকগুণ বেশী মারাত্মক। মানুষের মন ই যদি ভালো না থাকলো তাহলে কিসের ভালো থাকা! কথার খোঁচা, কোনো বিরূপ ঘটনা কিংবা কোনো আবেগপ্রবণ ঘটনা মনকে ক্ষতবিক্ষত করতে যথেষ্ট। আর এই ক্ষতের প্রলেপ দেওয়া কিন্তু সহজ নয়। অনেক সময় এমন কিছু ট্রমা হয়ে যায় যে সেটা নিরাময় করতে যথাযথ কাউন্সেলিং দরকার হয় কিনমা পোস্ট ট্রমাটিক ডিসঅর্ডার এর জন্য প্রয়োজন ট্রমা থেরাপি দরকার হয়। তাই মনের কথা চেপে রেখে ক্ষত না বাড়তে দেওয়া উচিত। যারা অন্তর্মুখী স্বভাবের তারা লেখার মাধ্যমে নিজের মনের কথা প্রকাশ করতে পারে। বিশ্বাস করে কাউকে বলা যাবে এমন কাউকেও মনের কথা বলতে পারে কিন্তু অন্তরে ক্ষত লালন করে নিজের ক্ষতি করা যে কোনো রোগের চেয়েও বেশী মারাত্মক। ধীরে ধীরে এই ক্ষত এমন শাখা প্রশাখা বিস্তার করে যে সেই ক্ষত নিরাময় করা একসময় অসম্ভব হয়ে পড়ে। আজকাল তাই মানসিক স্বাস্থ্য ঠিক রাখার ওপরে বেশী গুরুত্ব দেওয়া হয়। মন ঠিক থাকলে সব ঠিকঠাক চলবে। তাই কথা বলার সময় বা কারোর কোনো ব্যবহারে অন্য কাউকে আঘাত করা উচিত নয়। বাইরের হাসিমুখ দেখে কারোর ভেতরের কষ্টটা হয়তো বোঝা যায়না। সবাই লড়াই করছে নিজেকে ভালো রাখার জন্য,ক্ষত গুলোকে লুকিয়ে প্রতিদিন হাসিমুখে লড়াই করছে,তাই কোনোভাবেই তাদের অদেখা লড়াইকে অসম্মান করা উচিত নয়। 

"কথা দিয়ে হোক বা আচরণ দিয়েই হোক কোরোনা করো মনের ক্ষতি
অদৃশ্য ক্ষত হয়না নিরাময়,মনে রেখো ব্যবহারই মানুষের পরিচিতি।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - অপেক্ষা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - অপেক্ষা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অপেক্ষা মানেই মনের কোণে একবিন্দু আশার আলো। অপেক্ষা মানেই বেঁচে থাকা,জীবনচক্রের চক্রবুহে থেকেও ভালো কিছু হবে,খারাপ সময়ে মনে করা ভালো দিন নিশ্চয়ই আসবে, সব বাধা কেটে কালো মেঘ সরে গিয়ে আবার সোনালী দিনের দেখা মিলবে। ছোটবেলার সময়ে বড়ো হবার অপেক্ষা,মাধ্যমিকের পর অপেক্ষা উচ্চমাধ্যমিকের, উচ্চমাধ্যমিকের পর অপেক্ষা কলেজে ভর্তির,কলেজ জীবন পেরিয়ে গেলে চাকরির অপেক্ষা। আবার বড়ো হয়ে গেলে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু সরে এসে ছুটি নিয়ে নিজেকে আনন্দ দেওয়া সেটাও একটা অপেক্ষা। চিকিৎসকের জীবনে অপেক্ষা রোগীর ভালো হয়ে ওঠার আর রোগীর বাড়ীর লোকের অপেক্ষা সুস্থ করে তাকে বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সেনাবাহিনীর বাড়ীর লোকের অপেক্ষা কখন তাদের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে অক্ষত অবস্থায়। বিদেশে থাকা লোকেদের অপেক্ষা কবে দেশে ফিরবে তারা। হুমায়ুন আহমেদের 'অপেক্ষা' উপন্যাসটিও বলে "অপেক্ষা মানুষের বেঁচে থাকার এক টনিক।" অপেক্ষা মানুষকে ধৈর্যশীল করে তোলে,নমনীয় করে তোলে আবার কোনো সময়ে কঠিন করে তোলে। অপেক্ষা বাঁচতে শেখায় আর বাঁচাতেও শেখায়। 

"অপেক্ষা করছে সবাই, আছে আশা নিরাশার দোলাচলে
সময় বদলে দিতে পারে সবকিছু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না করাই হয়তো ভালো। এমনও হতে পারে যে অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে হয়তো শত্রুকে জিতিয়ে দেবার রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। কর্ম জীবনে অনেক কিছুই দেখা যায় আর বোঝাও যায় কিন্তু সেখানে খারাপ লাগার ব্যাপার গুলো সর্বসম্মুখে প্রকাশ না করাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের মতো কাজ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আর সব সত্যি কথা বলতে পারলে কোনো মানুষই বন্ধু থাকবেনা, মুখোশ খুলে আসল রূপ বেরিয়ে পড়বে। যাদের থেকে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। আবার অনেকসময় কেউ ভালো কিছু করলো কিন্তু তাকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়না, সেই অনুভূতি অন্যরকম হয়। তখন তাকে মনে মনে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে। অপ্রকাশের জন্য সেসব অনুভূতি যাতে মনের ভার না হয়ে ওঠে সেজন্য কিছু কথা লেখা থাক বরং খাতার পাতায়। এতে মনের ওপর চাপও পড়বে না আর অপ্রিয় সত্য বলে শত্রু বাড়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে। অপ্রকাশের মাধ্যমে যে এক অন্যরকম ভালোলাগা আছে তার ছাপ থেকে যাক। টক্সিক মানুষদের কাছে অনুভূতি প্রকাশ না করে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করাতে নিজের ভালো। আর নিজেকে কীভাবে ভালো রাখতে হবে এটা নিজে ছাড়া কারোর পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। 

"কিছু অনুভূতি থাক একান্ত আপন,সযত্নে মনের কোণে 
সব কিছু বুঝেও প্রকাশ্যে তা ভুল করেও এনোনা টেনে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

হিংসাত্মক প্রতিবাদের চেয়ে অহিংসার পথ অনুসরণ করা অনেকাংশে শ্রেয়। অপরপক্ষে যে থাকবে তার বিবেক জাগ্রত করতে হলে হিংসার পথ নয় বরং অহিংসভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অহিংসতার কাজের সাথে রেডিয়ামের অনেকটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়। একটি মারাত্মক বৃদ্ধিতে মিশে থাকা কোষের ওপর রেডিয়াম ক্রমাগত নীরবে এবং অবিরামভাবে কাজ করে যতক্ষণ না এটি রোগাক্রান্ত কোষকে একটি সুস্থ কোষে রূপান্তরিত করে। একইভাবে এমনকি সামান্য পরিমাণ প্রকৃত অহিংসাও নীরব,সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য উপায়ে কাজ করে এবং মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ,হিংসা আর বিদ্বেষকে সমূলে উৎপাটন করতে সাহায্য করে। 
অন্যভাবে ভাবতে গেলে অহিংসাকে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানও বলা যায়। বিজ্ঞানের শব্দভাণ্ডারে 'ব্যর্থতা' শব্দটির কোনও স্থান নেই।
অহিংসার মূল তাৎপর্য হল,আমাদের মধ্যে থাকা অহিংসা আমাদের প্রতি আমাদের প্রতিপক্ষের মনোভাবকে নরম করে তুলবে,কঠোর নয়। এটা তার মনে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সুরে আঘাত করবে। যদিও সেই আঘাতে তার শারীরিক কোনো ক্ষতি হবেনা,কিন্তু মননশীল চিন্তার উন্নতি হবে কয়েকগুণ। 
গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলন আর সত্যাগ্রহ আন্দোলন অহিংসা নীতির প্রয়োগ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি অত্যাচারীর তরবারির ধার ভোঁতা করতে চেয়েছেন কিন্তু সেটা কোনো অস্ত্রপ্রয়োগে নয় বরং তার মনের পরিবর্তন ঘটিয়ে অহিংসতার মাধ্যমে তার হিংস্র মনোভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে চেয়েছেন। 
আরও একটি অহিংসা সর্ম্পকিত উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করে নেওয়া যাক। ১৯৬০-এর দশকে আফ্রিকান ও আমেরিকানদের সমতার জন্য লড়াই করা ছিল লুথার কিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। ২০১৭ সালের হিসাবে কলম্বিয়া,ইয়েমেন, এল সালভাদর,পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ।
কলম্বিয়া মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি। পাকিস্তান একটি ধর্মীয় যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে যেখানে নিরীহ পথচারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নাইজেরিয়া দুটি চরমপন্থী গোষ্ঠী বোকো হারাম এবং পশ্চিম আফ্রিকার আইসিস দ্বারা আতঙ্কিত। তবে সহিংসতা কেবল এই দেশগুলিতেই নয় বরং বিশ্বের একটি বিশাল অংশে একটি সাধারণ প্রবণতা। ক্যারিবিয়ান থেকে আফ্রিকা এমনকি এশিয়ার কিছু অংশেও সহিংসতা একটি মহামারী।
সহিংসতা একটি চলমান চক্র যা ভাঙা কঠিন,এবং লুথার কিং এর চেয়ে বেশি কেউ এটি বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়। তিনি অহিংস কর্মকাণ্ডের শক্তি এবং সেই শক্তি সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং অন্যান্য অহিংস প্রতিবাদ প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে। 
বর্তমানে যেমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অহিংসা নীতির প্রয়োগ হলে অনেক ক্ষেত্রে হিংসা হানাহানি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজ হবে। 

"প্রতিবাদ হোক নম্র,কোনো হানাহানি আর অস্ত্র প্রয়োগ নয়
হিংস্র নয়, অহিংসতার নীতি প্রয়োগে কোমল হোক শত্রুর হৃদয়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সিদ্ধান্ত খুব ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু গভীরতা অনেক বেশী। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভাবতে হয় অনেক কিছু, হয়তো কোনোকিছু বা সবার বিপক্ষে গিয়ে নিতে হয় কিংবা নিজের ভালো করতে নিতে হয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখতে গিয়ে কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা মনে পড়ছে। সেগুলোকেই গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছি। স্কুলজীবনে ব্যাকবেঞ্চার ছিলাম ফাইভ সিক্স অবদি। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা পাত্তাই দিতো না,কথা বলতে গেলে একটা অহংভাব বোঝা যেতো ওদের মধ্যে। নোটস চাইলে কিছু বাহানা দিয়ে এড়িয়ে যেতো। তাই আমরা কয়েকজন ব্যাক বেঞ্চাররা ঠিক করলাম নিজেরাই যা পারবো নোটস নেবো,কারোর কাছে চাইবোনা। সেই বন্ধুদের কিছুজন যারা আমরা শেষ দশে পাকাপাকি ভাবে থাকতাম তারা কিছুটা এগিয়ে এলাম। মিডল বেঞ্চার হলাম আমরা কিছুজন। সেই বন্ধুদের একজন আজ বেশ বড়ো মাপের গায়িকা, গান শুনে মনে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা এখন মাঝে মাঝে দেখা হলে নিজেরাই কথা বলে। সবার সাথে ভালোভাবেই কথা বলা হয়। যে যেমন ভাবে ভেবেছে সেরকম হয়েছে হয়তো। 
কলেজ জীবনে প্রবেশ করে সেকেন্ড ইয়ারে দুজন ভালো বন্ধু পেয়েছিলাম। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এমবিবিএস এর ফাইনাল পরীক্ষার বৈতরণী গুলো উতরে যাওয়া যেতো। এরপর ইন্টার্নশিপে সবার পোস্টিং আলাদা ওয়ার্ডে হলো। তাও দিনের শেষে পাঁচ দশ মিনিট হলেও কথা বলার চেষ্টা চলতো। একজন বন্ধু ইন্টার্নশিপ শেষ করে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে জয়েন করলো,এখন কথা হলে যেমন ও বলে তখন তোদের সাথে একসাথে পড়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনটা করে নিলেই হতো। ওকে বোঝানো হয় তখনকার সিদ্ধান্ত তোর যেটা ভালো মনে হয়েছিলো নিয়েছিলি,এখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কর। ও বলতো এই বয়সে আবার পড়াশোনা! এম সি কিউ করা কি পোষাবে! যাইহোক ও সিদ্ধান্ত নিলো আবার পড়া শুরু করবে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স এক্সামও দিয়েছে সদ্য। দেখা যাক কি হয়! সিদ্ধান্ত কোন দিকে নিয়ে যায় ওকে। আশা করি ভালোই হবে। সুমন ছিলো আরেকজন খুব ভালো বন্ধু,ইন্টার্নশিপের পর যখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন এর পরীক্ষা দিচ্ছি আমরা সবাই,ও পেলো পাবলিক হেলথ নিয়ে এম ডি করার সুযোগ। সবাই বললো এই সাবজেক্ট না নিয়ে ক্লিনিক্যাল কিছু নে। সুমন বললো না আবার ওই চব্বিশ সাবজেক্ট পড়ে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব। পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়লো সুমন। এখন বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের সাথে প্রজেক্ট এ লিড করে সুমন আর দু বছরে একবার বিদেশ সফর করতেই হয়,
অর্গানাইজেশনের কাজে। কাজও হয় বিদেশ ঘোরাও হয়ে যায়। ও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার দায় ওর। যারা বড় বড় কথা বলেছিল তাদের দায়ও তাদের নিজস্ব। সুমন যে বছর চান্স পেয়েছিল সেই বছর আমি কোনো সাবজেক্ট নিতে পারিনি। আবার পরীক্ষা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার দায় ও আমার,আজ তা বুঝতে পারি। তারপর এম ডি করতে ঢুকে বন্ধুদের স্বরূপ চিনে তাদের থেকে দূরে সরে এসে কলম তুলে নিয়েছিলাম,আমার সেই সিদ্ধান্তের দায়ও আজ আমার। আর কলম তুলে নিয়েছিলাম বলেই আজ সবার কথাগুলো একজায়গায় লেখার চেষ্টা করছি। কলমকে বন্ধু করেছিলাম বলে লেখক ও লেখনী গ্রুপে যুক্ত হতে পেরেছি। চেষ্টা করি নিয়মিত লেখারও। সব রকম সিদ্ধান্ত, ভুল ঠিক যাই হোক দায়ভার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকেই নিতে হয়,আর সাথে নিতে হয় নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব।

"ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু বেশ কয়েক গুণ বেশি তার গভীরতা 
পরিণত হোক চিন্তাধারা,গ্রাস না করুক সিদ্ধান্তহীনতা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

দেশপ্রেম - আবেগ না দায়িত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 দেশপ্রেম - আবেগ না দায়িত্ব
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

দেশের প্রতি ভালোবাসা সকল মানুষেরই থাকে। সেই ভালোবাসার প্রকাশ শুধু আবেগ দিয়ে হয়না, তার জন্য দেশের প্রতি সবার যা কর্তব্য সেটা পালন করা উচিত। দেশের দায়িত্ববান নাগরিক হিসেবে নৈতিক শিক্ষাকে কাজে লাগিয়ে সবার উচিত দেশের উন্নতির জন্য সচেষ্ট থাকা। আর অঙ্গীকারবদ্ধ হয়ে সততার সাথে কাজ করলে দেশের উন্নতি হতে বাধ্য। ইঞ্জিনিয়াররা যেমন প্রযুক্তিগত দক্ষতা কাজে লাগিয়ে দেশের নাম বিদেশে ছড়িয়ে দিচ্ছে, চার্টার্ড অ্যাকাউ্ট্যান্ট, অর্থনীতিবিদ এরা দেশের অর্থনীতি চাঙ্গা রাখার কাজে নিয়োজিত,ডাক্তাররা মানুষকে সুস্থ রেখে মরবিডিটি কমিয়ে আনার প্রচেষ্টায় সাফল্য অর্জন করছে, সেনাবাহিনীতে যারা আছেন তারা শত্রুদের হাত থেকে দেশকে রক্ষা করছেন। এভাবে সবাই গঠনমূলক কাজ ও সংঘবদ্ধতার মাধ্যমে দেশের জন্য ভালোবাসা পোষণ করছেন। তাই শুধু আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, সুচারুভাবে ও নিপুণতার সাথে কাজ করতে হচ্ছে সবাইকে। কোনোকাজে অবহেলা করা যাবেনা। সুনাগরিক হিসেবে এগুলো আমাদের সকলের দায়িত্ব আর শুধু স্বাধীনতা দিবস বা প্রজাতন্ত্র দিবসের দিন নয় সবদিনই সচেতন ভাবে দায়িত্ব পালন করে দেশের প্রতি ভালোবাসা প্রদর্শন করা যাবে। 


"নাগরিক হিসেবে সুপ্রচেষ্টা থাকুক,চিন্তাধারার হোক বিকাশ
আবেগ নয় শুধু,দায়িত্ব ও কর্তব্যের সম্মিলনে থাকুক দেশপ্রেমের প্রকাশ।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

নেতা ও নেতৃত্ব✍️ ডা:অরুণিমা দাস

নেতা ও নেতৃত্ব
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

নেতা মানেই যে শুধু শাসক হবেন এমন হওয়া কাঙ্ক্ষিত নয়। শাসন তার কাজের একটা অংশ অবশ্যই কিন্তু তার সাথে এমন ভাবে নেতৃত্ব দিতে হবে যাতে তার অধীনে থাকা সকলে আত্মবিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হতে পারে। তাঁর শেখানো চেতনার পাঠ সবাইকে স্বনির্ভর করে তুলবে,সবাই মাথা উঁচু করে চলতে পারে সেই শক্তিতে বলীয়ান করবে। নেতা মানে সমাজের মাথা আর তার সব কথা শুনে চলতে হবে এরম সম্পর্ক যেনো জনগণের সাথে তার না হয়। ভয়ে শুধু নেতাকে সম্মান করতে হবে, তেল দিয়ে চলতে হবে, তবেই নেতা জনগণের জন্য কাজ করবেন, মন থেকে তাকে সম্মান দেওয়া যাবেনা এরম নেতা কখনো কাম্য নয়। প্রকৃত নেতা কখনোই এসবের ধার ধারেন না,তিনি স্বমহিমায় নিজের কাজের মধ্যে দিয়ে জনগণের কাছে সেরার স্থান অর্জন করেন। 
আজ মারাঠারাজ শিবাজীর জন্মজয়ন্তীতে শ্রদ্ধা জ্ঞাপন করে এই মহান নেতার কর্মকান্ডের কিছু অংশকে বর্তমান সমাজের শাসকদল আদর্শ করতেই পারেন। মারাঠাদের উত্থান মূলত হয়েছিল শিবাজী মহারাজের হাত ধরে। একজন নেতা হিসেবে তিনি শুধু এক জাতির উত্থানই করেননি সেই জাতিকে সংঘবদ্ধ ও শক্তিশালী করে তুলেছিলেন তার আদর্শ,সামরিক শাসনশৈলী ও বুদ্ধিমত্তা দিয়ে। অবশ্য এর পেছনে তাঁর শিক্ষাগুরু দাদোজা কোন্ডোদেবের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাঁর প্রভাবেই শিবাজী মহারাজ এক সাহসী সৎ নেতৃত্ববান ব্যক্তিত্বে পরিণত হয়েছিলেন। 
তাই মাঝে মাঝেই ইতিহাসের পাতায় চোখ রেখে অতীতের কিছু ঘটনা থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমানে সমাজ চালানোর হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করলে হয়তো ভালোই হবে, মঙ্গল হবে সমাজ ও সংস্কারক সকলের। 

"নেতার কর্মকান্ডের কাহিনী হোক ভবিষ্যতের জন্য  
 অনুপ্রেরণা
শুধু কথায় নয় কাজেও দেখিয়ে দিক বর্তমান,
জাগুক সমাজ চেতনা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম - আলিঙ্গন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - আলিঙ্গন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে টিকে থাকতে হলে হাজারো ঝড় ঝাপটা সামাল দিয়ে এগোতে হবে। সেই আদিম যুগ থেকে চলছে সংগ্রাম, চার্লস ডারউইনের অরিজিন অফ স্পিসিসে আছে স্ট্রাগল ফর এক্সিস্টেন্স মানে জীবন যুদ্ধে বেঁচে থাকার জন্য সংগ্রাম। এই জন্যই হয়তো বিবর্তনবাদের উৎপত্তি হয়েছে। আদিম যুগে চার হাত পা ওয়ালা মানুষ থেকে দু পায়ে হাঁটা, দু হাত দিয়ে লড়াই করা "হোমো সেপিয়েন্স" হতে দিনের পর দিন লড়াই চালিয়ে যেতে হয়েছে। 
তাই পরিবর্তন এলে তাকে দূরে না সরিয়ে আলিঙ্গন করতে হবে। "জীবন প্রাকৃতিক এবং স্বতস্ফূর্ত পরিবর্তনের একটি সিরিজ"। জীবনে চলার পথে চ্যালেঞ্জ আসা মানে বাধা কাটিয়ে এগিয়ে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন হওয়া। বিবর্তনবাদ শুধু বইতে নয়, সবার জীবনেও পরিলক্ষিত হয়। সাথে মানুষের মানসিকতারও পরিবর্তন হয়। পরিবর্তন যখন অবশ্যম্ভাবী তখন তার সাথে নিজেকে মানিয়ে নিয়ে এগিয়ে যাওয়া উচিত, কিন্তু লক্ষ্য স্থির রাখতে হবে সর্বদা। আবার পরিবর্তনের হওয়াতে গা ভাসিয়ে লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়াটাও ঠিক নয়। 

"বিবর্তন বাদ শেখায় সবাইকে,পরিবর্তনকে করো আলিঙ্গন
এগোনোর পথে থেমে থেকোনা,হোক চিন্তাধারার উন্নয়ন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

পাওয়ার অফ থিঙ্কিং✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 পাওয়ার অফ থিঙ্কিং
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্বাধীন ভাবে চিন্তা ভাবনা করতে হলে অবশ্যই মনের সহযোগিতা প্রয়োজন। আজকাল মানুষের কাছে সময়ের বড় অভাব। নতুন কিছু টপিক এলে সেটা নিয়ে ভাবার আগেই গুগল বা উইকিপিডিয়া দেখে নিচ্ছে। হাতের কাছে যখন যন্ত্র রয়েছে তখন মাথা খাটিয়ে কি লাভ! এরকম চিন্তা মনে পোষণ করে রেখেছে। আসলে জীবনে ক্রমবর্ধমান চাপ মানুষকে স্বাধীন ভাবে ভাবার সময়টুকু দেয়না। তাই ইন্টেলিজেন্ট কোশেন্ট যাই থাক পেশেন্স আজকাল বড্ড কমে গেছে সবার। 
ভাইরাল ট্রেন্ড হোক বা রিলসই হোক এগুলো সবার চিন্তাধারাকে নিয়ন্ত্রণ করেনা। কেউ কেউ নিজের মতন করে ভাবতে চায়। ট্রেন্ডে গা ভাসিয়ে জীবন চলবেনা এগুলো অনেকেই জানেন কিন্তু মানেন না হয়তো।
তবে যতই গুগল উইকি থাক জীবনে চলার পথে কোনো বাধা এলে সেটা থেকে উদ্ধার হতে মাথা খাটাতেই হবে। অভ্যাসের দাস হলেও তখন উপস্থিত বুদ্ধি দিয়ে নিজেকে আর পরিস্থিতিকে সামলাতে হবে। 
মডার্ন হয়ে ট্রেন্ডি হবার চক্করে নিজের ভাবনা চিন্তার বিকাশ বন্ধ হতে দিয়ে লাভ নেই। চারপাশের পরিবেশ যেমনই থাক নিজেকে প্রভাবিত হতে না দিলে কেউই সেটা নিয়ন্ত্রণ করতে পারবেনা। তাই দিনে একটু সময় হলেও নিজের সাথে কাটানো উচিত, যাতে সবকিছুর থেকে আলাদা হয়ে নিজেকে খুঁজে বের করা যায়। 

"ভাবনা চিন্তার বিকাশ হোক স্বতন্ত্র,কারোর হাতে না থাক তার নিয়ন্ত্রণ
ভাইরাল ট্রেন্ডকে দূর হটাও মনের সাথে মস্তিষ্কের ঘটাও মিলন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্যের অনুভূতি গুলো একটু বেশিই আলগা হয়ে পড়েছে। এখন রাস্তায় দেখা হয়ে সুপ্রভাত বা অন্য কিছু অভিবাদন জানানোর চেয়ে মোবাইলে উইশ করাটা বেশি জনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। রাস্তায় কোনো কিছু ঘটলে সেটা নিয়ে এগোনোর আগে মানুষ সেলফি তুলে ধরছে। কাউকে কিছু দান করলে আগে ফেসবুকে জানানো চাই। নিজের মনে খুশি হবার থেকে সো অফ করে সবাইকে জানিয়ে দেওয়াটা শ্রেয় মনে করছে আজকাল। মি টাইম এখন স্ক্রীন টাইমে রূপান্তরিত হয়ে যাচ্ছে। আর ফ্রী টাইমে মোবাইল আইপ্যাড ঘাটছে কিন্তু একটু কাছে পিঠে হেঁটে আসতে অনীহা প্রকাশ করছে। এতে শুধু সমাজ থেকে দূরে থাকছে শুধু তাই নয়, অনেক কিছু ব্যাধি শরীরে বাসা বাঁধছে। ব্যস্ততা বেড়েছে অনেকটাই কিন্তু তার মধ্যেও যে প্রাণ খুলে বাঁচা যায় সেটাই ভুলতে চলেছি আমরা। ছোট ছোট খুশীর মুহূর্তগুলো সেগুলো শুধু ক্যামেরাতেই বন্দী থাকেনা, ইন্সটাগ্রামে রিল না বানানো অব্দি যেনো মনে একটা অশান্তি থাকে। তাই বড্ড বেশী সামাজিক হচ্ছি মনে হচ্ছে কিন্তু আদপে মানুষের সাথে যোগাযোগ কমছে। ব্যস্ততা শুধুই অজুহাত, ইচ্ছে করলেই খোঁজ খবর নেওয়া যায় কিন্তু নেই সময় আর মানসিকতা সেসব করার। সহানুভূতি গুলো যেটুকু রয়েছে তাও হয়তো একদিন আদিযুগের না শোনা শব্দে পরিণত হবে। তাই সময় থাকতেই সতর্ক হতে হবে সকলকে।

"মানসিক দূরত্ব বেড়েছে,অধিকমাত্রায় হতে গিয়ে সামাজিক
সোশ্যাল মিডিয়ার চাপে তাই অনুভূতির সাথে সম্পর্ক ব্যস্তানুপাতিক।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২২ জানুয়ারি, ২০২৬

ডিজিটালাইজেশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 ডিজিটালাইজেশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আগেকার দিনের কথা মনে পড়লে দেখা যায় তখন এত আধুনিক প্রযুক্তি ছিলোনা বলে মানুষের মধ্যে একটা আবেগ ছিলো,পরস্পরের মধ্যে কুশল বিনিময় হোক কিংবা নিজেদের খবরাখবর রাখা সবটাই হতো অযান্ত্রিক ভাবে। বিজ্ঞান যত উন্নত হয়েছে,তত মানুষকে দিয়েছে বেগ আর কেড়েছে আবেগ। এখনকার দিনে একটু কিছু হলেই রিলসের বন্যা চলে। ভিডিও কলের মাধ্যমে খোঁজ খবর নেওয়া চলে। আত্মিক টানটা কোথাও যেনো একটু থমকে দাঁড়িয়েছে। সারাক্ষণ গ্যাজেট নিয়ে ব্যস্ত সবাই,মোবাইল আর ট্যাব হয়ে উঠেছে সর্বক্ষণের সঙ্গী। বাচ্চারা খেলাধুলো ভুলে মাঠে যাওয়া ভুলে মোবাইলে গেম নিয়ে বেশি আগ্রহী হয়ে যাচ্ছে,এতে চোখ ও মন দুই ই ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। ব্যক্তিগত জীবনের প্রতিটি জিনিস প্রতিফলিত হচ্ছে সোশ্যাল মিডিয়াতে। খুব কম জন আছে যারা নিজের কথাগুলো নিজের মধ্যে রাখে,শো অফ করেনা। সত্যি কোথাও একটা যেনো একাকীত্ব গ্রাস করছে আজকের জেনারেশনকে,মোবাইলকে তারা বন্ধু ভেবে অনেকের থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। স্ক্রীন টাইমটা বেশী হয়ে যাচ্ছে কিন্তু সরাসরি সাক্ষাতের সময় কম হচ্ছে। এক ফোনেই খোঁজ নিয়ে ডিজিটাল সৌজন্যবোধ প্রদর্শন করা হয়। চিঠির যুগ এখন আর নেই,ডাকবাক্সগুলো একাকী দাঁড়িয়ে থাকে ধুলো মেখে। দূর হয়তো কাছে এসেছে যান্ত্রিক ভাবে,কিন্তু মনের দূরত্ব বেড়েছে মাইল খানেক। তাই মানুষ একা হয়ে পড়েছে বড্ড, মিশতে ভুলে যাচ্ছে ডিজিটাল হয়ে গিয়ে। আগেকার মতো আড্ডা চলেনা,চলে গুগল মিট। তাই একা থাকাটা অভ্যেস হয়ে গেছে কিন্তু সংজ্ঞা কিছুটা বদল হয়েছে ডিজিটাল যুগের ভরসায়। 

"উন্নত মানের যান্ত্রিক জীবন যাপনে একাকীত্বের সংজ্ঞা বদলে গেছে 
দিনের শেষে বন্ধু মোবাইল ট্যাব,আত্মিকতা সৌজন্য সাক্ষাত সব দূর হটেছে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

মাঠের আত্মকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মাঠের আত্মকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমি এক ফাঁকা মাঠ এখন, একাই রয়েছি কয়েক বছর হলো। আগে কিন্তু এরকম ছিলো না জানেন! সকাল বিকেল হই হই করতো এখানে বাচ্চা আর বুড়োদের দল। বাচ্চারা খেলতে আসতো,কেউ ব্যাট বল কেউ ডাং গুলি কেউ বা কবাডি হাডুডু। তাদের লাফালাফিতে হাসির কলতানে সবসময় মুখর হয়ে থাকতাম। ধীরে ধীরে ওদের আসা কমতে লাগলো আর সাথে কমতে লাগলো আমার পরিসীমাও। এখন আমি অনেকটা ছোটো হয়ে গেছি, একপাশে আমার বুক ফুঁড়ে উঠে এসেছে বড় বড় ফ্ল্যাট বাড়ি তো আরেকপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ। বাচ্চা গুলো আর আসেনা, লাফিয়ে বেড়ায় না। তারা সব দামী দামী মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত, ব্যাট বল ডাঙ গুলি এগুলো ওদের কাছে পুরোনো যুগের খেলা হয়ে গেছে। ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে বসে যখন ফোন ঘাটে তারা, ভিডিও গেম খেলে কখনো বা ভারী ব্যাগ পিঠে করে স্কুল টিউশন ছুটছে। তখন কত ইশারা করে বলি ওদের, যে আয় তোরা খেলতে আয়, একা থাকতে আর ভালো লাগেনা। কানে কি যায় তাদের এসব কথা! সব মনোযোগ তখন স্ক্রীনের দিকে। আজকাল সবাইকে কেমন অচেনা লাগে, মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় সবাই। কেউ দু দণ্ড এসে বসেও না। কাকে বলি আর মনের কথা তাই লিখে চলি ফাঁকা বুকের ওপর নিজের জীবনের কথা। 

"বড্ড ফাঁকা মাঠ আজ, খেলা ধুলা সব মোবাইলে বন্দী
আবার যাতে ভরে ওঠে এই প্রান্তর, জানা কি রয়েছে কোনো ফন্দি?"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৮ জানুয়ারি, ২০২৬

আশাপূর্ণা দেবী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আশাপূর্ণা দেবী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আশাপূর্ণা দেবী নামটি শুনলেই মনের এক কোণে আশার সঞ্চার হয় কোথাও। আজ এই বিশিষ্ট লেখিকার জন্মদিনে কিছু লিখতে গিয়ে কোথাও যেনো কলম থমকে দাঁড়াচ্ছে। এত বড় মনের লেখিকা জন্মেছিলেন কোলকাতাতে, কিন্তু কোনোদিন বিদ্যালয়ের মুখ দেখেননি। পরিবারে শিল্পচর্চা ছিলো বলেই হয়তো তাঁর কলম এত বলিষ্ঠ ছিলো। প্রথাগত শিক্ষায় শিক্ষিত না হলেও মানবিকতার শিক্ষায় তিনি দীক্ষিত ছিলেন। তাইতো তার কলম থেকে সৃষ্টি হয়েছিলো প্রথম প্রতিশ্রুতি, সুবর্ণলতা,বকুলকথার মতন উপন্যাস। যদিও তিনি ছোটোদের গল্প লেখার মধ্যে দিয়ে লেখার জগতে প্রবেশ করেছিলেন,তারপর ধীরে ধীরে উপন্যাস বড়গল্প এইসব লেখার মধ্যে ডুব দিয়েছিলেন। বাইরে না বেরিয়েও নারী জীবনের অনেক কথাই তিনি তুলে ধরেছেন তাঁর লেখায়, তাদের জীবনে ঘটে যাওয়া ঘটনা,ত্যাগ এসবের কথাও উঠে এসেছে তাঁর লেখায়। পুরুষের মনের অন্তর্দ্বন্দ্বও প্রতিফলিত হয়েছে তাঁর কলমের আঁচড়ে। তবে সব লেখাই ছিলো সহজ সরল ও বোধগম্য।
তাঁর লেখা 'প্রথম প্রতিশ্রুতি' এই উপন্যাসের জন্য তিনি জ্ঞাপীঠ পুরস্কার পান। এছাড়াও পদ্মশ্রী, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সাহিত্য পুরস্কার, সাহিত্য একাডেমি পুরস্কার এবং এরকম আরও অনেক কিছু উপাধি পেয়েছিলেন তিনি। বাংলা সাহিত্যে অবদানের জন্য আজও বাঙালী তাঁকে মনে রেখেছে আর ভবিষ্যতেও রাখবে এই আশা রাখি।

"বিশিষ্ট লেখিকা আশাপূর্ণা দেবীর জন্মদিনে জানাই সশ্রদ্ধ অভিবাদন
প্রতিশ্রুতি থাক গল্পপড়া ও সাহিত্যচর্চার,নিয়োজিত হোক প্রাণমন"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১ জানুয়ারি, ২০২৬

শিরোনাম-শুভারম্ভ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম-শুভারম্ভ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বছর শেষে আবার এক নতুন বছরের আগমন। ইচ্ছে পূরণের লক্ষ্যে পূর্ণ উদ্যমে এগিয়ে চলা এক এক ধাপ করে। নতুন বছরে নতুন আশা নিয়ে আগের বছরের ভুলগুলো শুধরে নেওয়ার একটা সুযোগ। সময় মতো খাওয়া দাওয়া করা। বেশী করে ফল ও জল খাওয়া,কেউ কিছু বাজে মন্তব্য করলে উত্তেজিত না হওয়া এসব রেজোলিউশন নিয়েছি। পড়াশোনায় ফাঁকি দেবোনা,বেশী গল্পের বই কিনবোনা,আরও বেশি কেস রিপোর্ট পাবলিশ করতে হবে,লিখতে হবে সুযোগ পেলে এসব অনেক কিছুই ভেবেছি জানিনা কতটা রাখতে পারবো কথাগুলো! বদমাইশি বুদ্ধিগুলোকে নিয়ন্ত্রণে রাখবো,জাঙ্ক ফুড,ফ্রায়েড ফুড কম খাবো এসব হরেক রকম চিন্তাভাবনা করে চলেছি। এক বছরে অনেক কিছু পরিবর্তন হয়েছে,মানিয়ে নিয়েছি কিছুটা আর বাকিটা চেষ্টা চলছে। নতুন জায়গায় নিজেকে সেফ মার্ক করাটাও একটা চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়েছি।
আজ আরো একটা গুরুত্বপূর্ণ দিন,কল্পতরু উৎসব। এইদিন শ্রীরামকৃষ্ণদেব কল্পতরু ভাব নিয়ে সকলের ইচ্ছে পূরণ করেন।
সকলকে জানাই হ্যাপি নিউ ইয়ার ও কল্পতরু উৎসবের শুভেচ্ছা। ঈশ্বরের আশীর্বাদ নিয়ে ভালো কাটুক সবার এই আশাই রাখি।

"অধরা স্বপ্নেরা দিক ধরা,ইচ্ছেডানারা পাখনা মেলো
পূরণ হোক সবার স্বপ্ন,মনের কথাগুলো বলেই ফেলো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২২ ডিসেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - প্রাপ্য✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - প্রাপ্য
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে যখন ক্লান্ত হয়ে পড়ি তখন মনে পড়ে আরে!মূল্যবান মানুষকেই তো সময় দেওয়া হলোনা। দৌড়ঝাঁপ,ওটি,রাউন্ড,
পেশেন্ট পার্টি মিট এতকিছুর পরেও কিছু সময় তো নিজেকেও দেওয়া দরকারী। তখন খুলে ফেলি ডায়েরীর পাতা,লেখা হয় দিনলিপি। আয়নার সামনে দাড়িয়ে তাই খানিক কথা বলি নিজের সাথে,এর চেয়ে ভালো সঙ্গী কেউ যে হতেই পারেনা। আত্মোপলদ্ধির খুব দরকার যে,নাহলে নিজের ভুলত্রুটি গুলো সংশোধন করার সুযোগ হারিয়ে ফেলবো। তাই চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত নিজের সাথে,নিজেকে আরও উন্নত করতে হবে,কারোর থেকে এগিয়ে বা কাউকে ঠকিয়ে নয়,নিজের বর্তমান অবস্থার থেকে আরো উন্নতির পথে নিয়ে যেতে হবে নিজেকে। নিজেকে ভালো রাখতে না পারলে অন্যদেরও ভালো রাখা যায়না। এভাবেই প্রাপ্য সময় নিজেকে দিয়ে কিছু অসমাপ্ত গল্প লেখা হবে,রোজকার মতন। 

"কলমের কালি খানিক হলেও বাঁচিয়ে রেখো
রঙিন খামে আপনার ঠিকানায় চিঠি লিখো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপরিবর্তিত✍️ ডা: অরুণিমা দাস



 শিরোনাম - অপরিবর্তিত
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনে চলার পথে নানা রকম পরিস্থিতির সম্মুখীন হতে হয় সকলকেই। সেটা মেনে নিতে গিয়ে নিজের পরিবর্তন করা যাবেনা কোনোদিন। কোনকিছুর বিনিময়ে নিজের সোজা মেরুদন্ডকে নত হতে দেওয়া যাবেনা। এসবের জন্য অনেক কথায় শুনতে হতে পারে কিন্তু অবিচল থাকতে হবে নিজেকে। একটা প্রিন্সিপাল থাকা উচিত জীবনে, যেটা কোনোদিন পরিবর্তন হবেনা। রোজকার জীবনে এরকম অনেক ঘটনা ঘটছে সেটা কাজের জায়গায় হোক বা একান্ত নিজস্ব হোক,তাতে নিজের ব্যবহার পরিচয় কোনোটা পরিবর্তন করার প্রয়োজন হয়না। সবশেষে নিজের কাছে সৎ থাকাটা খুব জরুরী,যাতে দর্পণে নিজের প্রতিবিম্ব দেখে নিজেকে চমকে উঠতে না হয়। 

"স্বচ্ছ থেকো নিজের কাছে,কোনো পরিবর্তন যেনো না হোক
সমুখ পানে এগিয়ে চলো,তবেই হবে তুমি সঠিক পথ প্রদর্শক!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

শিরোনাম - বসু কথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - বসু কথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রাজনারায়ণ বসু সম্পর্কে লিখতে গেলে ওনার একটা কথা খুব মনে পড়ে। ওনার অনেক উক্তির মধ্যে একটি ছিলো 'আমার মতে ছাত্রদের নীতিশিক্ষা না হলে কোনো শিক্ষাই হলোনা।' ছাএদরদী এই মহামানব উত্তর চব্বিশ পরগনা জেলার বড়াল গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। কলকাতায় এক স্কুলে পড়াশোনা করার পর শিক্ষকতা শুরু করেন। কিছুসময় মেদিনীপুরে কলিজিয়েট স্কুলে হেডমাস্টার পদে আসীন ছিলেন। মেদিনীপুরে তিনি নারীশিক্ষার প্রচলন করেন। মেদিনীপুরে একটি লাইব্রেরীও চালু করেছিলেন যা আজ ঋষি রাজনারায়ণ বসু স্মৃতি পাঠাগার নামে পরিচিত। ব্রাহ্মধর্ম প্রচারে সর্বাগ্রে ছিলেন তিনি। তিনি যেমন ঋষি অরবিন্দের মাতামহ ছিলেন তেমনি ব্রাহ্মধর্ম সমর্থনের কারণে তাঁকে 'ভারতীয় জাতীয়তাবাদের পিতামহ' উপাধি দেওয়া হয়। 'তত্ত্ববোধীনি' পত্রিকায় নিয়মিত লেখালিখি করতেন। দীর্ঘসময় শিক্ষকতা করার পর তিনি অবসর নেন এবং জীবনের বাকি দিনগুলো তিনি দেওঘরে কাটিয়েছিলেন। শিক্ষাক্ষেত্রে তাঁর অবদান আর অসামান্য গুণের জন্য মানব হৃদয়ে ও ইতিহাসের পাতায় আজও তিনি অমলিন। 

"পুঁথিগত শিক্ষার চেয়েও নৈতিক শিক্ষা ছাত্রদের খুব প্রয়োজন
যাঁর এই চিন্তাধারা তাঁকে নিয়েই আজ 'বসু কথা' করি নিবেদন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...