শব্দালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শব্দালোচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম - ধনতেরাস✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ধনতেরাস
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

রেডী হলে তুমি? ঘনাদাকে বললো পপি বৌদি।
- না হচ্ছি হচ্ছি। 
- এখনো রেডী হওনি? গোল্ড কেনার শুভ সময় যে পেরিয়ে যাবে, তোমায় নিয়ে আর পারি না!
আড় চোখে বৌদিকে দেখে ঘনা দা রেডী হতে শুরু করলো! ওদিকে বৌদি ঘন ঘন ঘড়ি দেখছে। 
পাঁচ মিনিট পর ঘনাদা রেডী হয়ে এসে বললো চলো বেরোই। অনেক কিছু গোল্ড কেনার আছে। 
বাজারের ব্যাগ নিয়েছ কেনো? বৌদি অবাক হয়ে জিজ্ঞেস করলো! 
-এতেই তো সব গোল্ড নেবো। 
-মানে? 
- মানে আবার কি? আমূল গোল্ড, টাটা টি গোল্ড, মারী গোল্ড এসব কিনে আনবো। ফেরার পথে তোমায় রেস্টুরেন্টে গোল্ডেন চিকেন ফ্রাই খাওয়াবো। এতো রকম গোল্ড কিনলে আমাদের সংসারের শান্তি বজায় থাকবে আর সারা বছর গোল্ড আসবে। বৌদি বললো তুমি গোল্ড কিনবে না তাহলে? কেনো কিনবো না? গোল্ড ফ্লেক ও কিনবো একটা, ওটা খেয়েই তো বুদ্ধি খোলে আমার। 
আর ওসব সোনাদানা! ওসব মায়া। বরং ওই টাকায় একদিন চলো মন্দিরে গরীবদেরকে খাওয়াই। আশা করি এতে কুবের দেবতা আমাদের ওপর রুষ্ট হবেন না! বরং খুশি হবেন যে আমরা জীবের সেবার মধ্যে দিয়ে ঈশ্বরের সেবা করছি। বৌদি বলে তোমার সাথে কথায় আমি পারবোনা! ঘনাদা গোল্ড ফ্লেকে এক টান দিয়ে মনে মনে হেসে বলে গিন্নি কেমন জব্দ! 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২৪ আগস্ট, ২০২২

শিরোনাম- গিভিং স্ট্রেস অন স্ট্রেস হরমোন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শব্দালোচনা
 শিরোনাম- গিভিং স্ট্রেস অন স্ট্রেস হরমোন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অন্ত:ক্ষরণ শব্দটির মানে হয়তো অন্তরের ক্ষরণ। এই শব্দটির সঙ্গে মিল রেখেই হয়তো অন্ত:ক্ষরা গ্রন্থির নাম এসেছে। আর এই গ্রন্থি হলো আমাদের শরীরে হরমোনের উৎসস্থল। আজ শব্দালোচনার দিনে একটু না হয় এন্ডোক্রিন গ্ল্যান্ড বা অন্ত:ক্ষরা গ্রন্থির কাজ কর্ম নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করা যাক। স্ট্রেস মানুষের জীবনে অঙ্গাঙ্গী ভাবে জড়িয়ে আছে, তাই আজ স্ট্রেস হরমোন নিয়ে দু চার কথা বলা যাক।

হরমোন  হচ্ছে এক প্রকার রাসায়নিক তরল যা শরীরের কোনো কোষ বা গ্রন্থি বিশেষতঃ অন্ত: ক্ষরা গ্রন্থি থেকে শরীরের একটি নির্দিষ্ট অংশে নিঃসৃত হয়। হরমোনের মাধ্যমে শরীরের অন্যান্য অংশের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গে পরিবর্তনের সংকেত পাঠানো হয়। যেমন বিপাকক্রিয়ার পরিবর্তনের জন্য অল্প একটু হরমোনই যথেষ্ট। এটি একটি রাসায়নিক বার্তাবাহক হিসেবে কাজ করে যা এক কোষ থেকে অপর কোষে বার্তা বহন করে। প্রায় সকল বহুকোষীয় জীবই হরমোন নিঃসরণ করে। গাছের হরমোনকে ফাইটোহরমোন বলে। প্রাণীর ক্ষেত্রে বেশির ভাগ হরমোনই রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়। কোষ হরমোনের সংস্পর্শে প্রতিক্রিয়া করে যখন সেগুলোর ঐ হরমোনের জন্য স্পেসিফিক রিসেপ্টর রয়েছে । হরমোন হচ্ছে একধরনের রাসায়নিক পদার্থ যা এন্ডোক্রাইন গ্ল্যান্ড হতে নিঃসৃত হয়ে বিভিন্ন শারীরিক ক্রিয়া,বৃদ্ধি, রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রন, ব্রেস্ট মিল্ক তৈরী, পিউবার্টি  ইত্যাদি ক্ষেত্রে প্রত্যক্ষ ভূমিকা রাখে৷ সাধারণ ভাষায় হরমোন বলতে আমরা বুঝি মানুষ বা অন্য যে কোনো বহুকোষী প্রাণীর কোষগুলোর মধ্যে একটা ব্যালান্স তৈরি করা,কর্মকাণ্ডের একটা ক্রোনোলজি পূরণ করার একটা কন্ট্রোলিং সিস্টেম। হরমোন সমুহ নিঃসরণ হয় যে সব গ্রন্থি বা গ্ল্যান্ড থেকে সেগুলো নিয়ে একটু জেনে নেওয়া যাক। অন্ত: মানে অভ্যন্তরীণ আর ক্ষরন মানে হচ্ছে নিসঃরন করা। আমাদের শরীরে অনেক প্রকারের গ্রন্থি রয়েছে, সে জন্য ক্ষরন এর উপর ভিত্তি করে গ্রন্থি দু প্রকার। এক্সোক্রাইন বা বহিঃক্ষরা গন্থি ও এন্ডোক্রাইন বা অন্ত ক্ষরা গ্রন্থি।অন্ত:ক্ষরা মানে যেসব গ্রন্থি নালি বিহিন এবং নিঃসৃত রস রক্তে ক্ষরিত হয়ে কাজের জায়গায় পৌছায় এবং রক্তের মাধ্যমে পরিবাহিত হয়ে নির্দিষ্ট স্থানে গিয়ে তার নির্দিষ্ট কাজ করে – যেমন পিটুইটারি, থাইরয়েড এবং অ্যাড্রেনাল গ্রন্থি – এরাই হরমোন নি:সরন করে। বহি:ক্ষরা গ্রন্থি – এই গ্রন্থি নালি যুক্ত এবং নালির মাধ্যমে তার উৎপাদিত রস নিকটের কোন ক্রিয়া স্থলে যায় – যেমন লালা , যকৃৎ এবং ঘাম গন্থি এবং এরা মুলত এনজাইম নি:সরনের কাজ করে । (যকৃৎ থেকে পিত্ত রস, লালা গ্রন্থি থেকে লালা রস নামে অভিহিত )আবার কিছু গ্রন্থি আছে এনজাইম ও হরমোন দুটি এক সাথে নি:সরন করে এদেরকে মিক্সড বা মিশ্রগ্রন্থি বলে যেমন- অগ্নাশয়(প্যানক্রিয়াস), ডিম্বাশয় (ওভারি) এবং শুক্রাশয়(টেস্টিস)। অন্যদিকে যে গ্রন্থি থেকে হরমোনগুলো তৈরী হয় সেই গ্রন্থির নামানুসারে হরমোনগুলোর নাম দেওয়া হয়েছে। যেমন থায়রয়েড গ্রন্থির নাম অনুসারে থাইরয়েড হরমোন , অ্যাড্রিনাল হরমোন, পিটুইটারি হরমোন ইত্যাদি। তেমনি হরমোনকে তার কাজের ভিত্তিতে চার ভাগে বিভক্ত করা যায় – যেমন দেহ বৃদ্ধি করতে সহায়ক হরমোনকে গ্রোথ এবং ডেভলপমেন্ট হরমোন, সেই ভাবে দেহের সামগ্রিক শক্তি উৎপাদন বা শক্তির ব্যবহারে সাহায্যকারী হরমোন,শরীরের ভেতরে যে জল আছে, ইলেকট্রোলাইট মেনটেন করার হরমোন এবং রিপ্রোডাকশন বা সেক্স হরমোন। বিশেষ করে রিপ্রোডাকশন হরমোন নিয়ে ভাল ভাবে জানলে একেবারে নিশ্চিত হয়ে বলতে পারি,দাম্পত্য জীবন বা অন্যান্য কুসংস্কার জাতীয় কিছু ভুল শিক্ষা আছে তা থেকে দূরে থাকতে পারা যাবে, অনেক অজানাকে জানা হবে আর সেই সাথে সদ্য আবিষ্কৃত নতুন নতুন কিছু হরমোনের তথ্যও জানা যাবে। এবারে জেনে নেওয়া যাক মানুষের শরীরের গুরুত্বপূর্ণ কিছু গ্রন্থি ও তার নিঃসরণ সম্পর্কে।
পিটুইটারি গ্ল্যান্ড:  পিটুইটারি গ্রন্থিই যেহেতু হরমোন নিঃসরণ সব চেয়ে বেশী করে তাই এ বিষয়ে জানলেই মনে হয়  অনেক কিছু বোঝা সহজ হবে, সে জন্য একটু বিস্তারিত আলোচনার দরকার । হরমোন নিঃসরনের প্রধান গ্রন্থি হলো পিটুইটারী যা মানুষের মস্তিষ্কের নীচের দিকে হাইপোথ্যালামাস নামক জায়গা হতে ঝুলে থাকে৷ হাইপোথ্যালামাসে যে হরমোন প্রস্তুত হয় তা পিটুইটারী গ্রন্থিকে সংকেত দেয় হরমোন নিঃসরন করার জন্য এবং শারীরিক বিভিন্ন কাজে পিটুইটারী গ্রন্থি হরমোন নিঃসৃত করে৷ সেজন্য পিটুইটারী গ্রন্থিকে মাস্টার গ্ল্যান্ড বা প্রভু গ্রন্থিও বলা হয়৷ ওজন মাত্র পাঁচশো মিলিগ্রাম। পিটুইটারী গ্রন্থি দুই ভাগে বিভক্ত, সামনের দিকে পিটুইটারী গ্রন্থি (অ্যান্টেরিওর) এবং এবং পিছনের দিকে পিটুইটারী গ্রন্থি (পস্টেরিওর)। সম্মুখভাগের পিটুইটারি গ্রন্থি নিঃসৃত হরমোনগুলি হল  অ্যাড্রেনোকর্টিকো ট্রপিক হরমোন, গ্রোথ হরমোন, থাইরয়েড স্টিমুলেটিং হরমোন -থাইরয়েড গ্রন্থির কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রক, গোনাডোট্রোপিক হরমোন - জনন গ্রন্থির (শুক্রাশয় ও ডিম্বাশয়) বৃদ্ধি ও কার্যকারিতা নিয়ন্ত্রক। অ্যাডরিনো কর্টিকোট্রফিক হরমোন :- এই হরমোন পিটুইটারি গ্রন্থি থেকে নিঃসৃত হয়। এই হরমোন ঘাটতির কারনে সাধারন ভাবে যে সব সমস্যা দেখা দিতে পারে সেগুলি হলো পেশী দুর্বলতা, মাথা ঘোরা, ওজন কমে যাওয়া, পেটের বিভিন্ন ধরণের ব্যথা, নিম্ন রক্তচাপ ও নিম্ন লেভেলের সেরাম সোডিয়াম অথবা মারাত্মক ইনফেকশন বা সার্জারির কারনেও দেখা দিতে পারে,শেষ পর্যন্ত কোমাও হতে দেখা যায়। গঠনগত দিক দিয়ে,অ্যাডরিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি নিয়ন্ত্রণ করে । অ্যাডরিনাল গ্রন্থির কর্টেক্স অঞ্চলকে উদ্দীপিত করে তার ক্ষরণ নিয়ন্ত্রণ করে কিন্তু যদি অ্যাডরিনাল কর্টেক্সের ক্ষরণ বেড়ে যায় তা হলে কুশিং সিনড্রোম হতে পারে। কুশিং সিন্ড্রোম - রক্তে কর্টিসলের মাত্রার এই অস্বাভাবিকতা আবিষ্কার হয় ১৯৩২ সালে। হার্ভে কুশিং এই অস্বাভাবিকতা আবিষ্কার করেন বলে তার নাম অনুযায়ী একে কুশিং সিনড্রোম বলে। এটি কেবল যে মানুষের মধ্যেই সীমাবদ্ধ তা নয়, এই রোগ ঘোড়া, গৃহপালিত কুকুর, বিড়ালের মধ্যেও দেখা যায়। কর্টিসল হরমোনের নিয়ন্ত্রণহীন বৃদ্ধির ফলে সকল সমস্যা দেখা দেয়। উচ্চমাত্রায় গ্লুকোকর্টিকয়েড ড্রাগ গ্রহণ কিংবা অতিরিক্ত কর্টিসল, অ্যাড্রেনোকর্টিকোট্রপিক হরমোনের কারণেও হতে পারে। পিটুইটারি গ্রন্থিতে টিউমার হলে অতিরিক্ত ACTH ক্ষরণ হয় যা অ্যাড্রেনাল গ্রন্থিকে কর্টিসল তৈরিতে উদ্বুদ্ধ করে। কর্টিসল হল একটি হরমোন যাকে অনেকে স্ট্রেস হরমোন বলে থাকেন। গ্লুকোকর্টিকয়েড হরমোন- এর কাজ হল দেহের শর্করা, ফ্যাট জাতীয় খাদ্যের বিপাক ঘটানো। রক্তে কর্টিসল বেশি থাকলে - হাত পায়ের মানশ পেশীতে টান ধরা, মুখের মধ্যে চাপ চাপ ভাব বা দেখতে বৃত্তাকার মনে হওয়া(মুন ফেস), বাতের ব্যাথার মত ব্যাথা হওয়া,ত্বকে পিম্পল, রক্তবর্ণ লম্বা দাগ দেখা দেওয়া, পেশী দুর্বলতা – দুশ্চিন্তা,বিষণ্নতা বা বিরক্ত হিসাবে দেখতে লাগা। জলতেষ্টা বৃদ্ধি এবং ইউরিন ফ্রিকোয়েন্সি বেশি হওয়া। দীর্ঘ দিন কর্টিসল হরমোন বেশি নিঃসরণ হলে যৌনক্ষমতা হ্রাস পাওয়া, মহিলাদের বিভিন্ন শারীরিক অসুবিধা বা ইত্যাদি সহ পুরুষ মহিলা উভয়ের ক্ষেত্রে সাময়িক বন্ধ্যাত্ব দেখা দিতে পারে । সেই সাথে হতে পারে উচ্চরক্তচাপ,ডায়াবেটিস,মাইগ্রেনের মত মাথা ব্যাথা ইত্যাদি আরও অনেক জঠিল সমস্যা। সবসময় ক্লান্ত, অবসন্ন,নিদ্রাহীনতা ইত্যাদি হতে দেখা যায় । এই জন্য বিজ্ঞানিরা দেখিয়েছেন  , মানুষ যে মুহূর্তে খুব খুশি থাকে এবং মানসিক ভাবে সুন্দর অনুভূতিগুলো জাগ্রত হয় তখন কর্টিসল নামের স্ট্রেস হরমোন কম নিঃসৃত হয়। আর এই হরমোন নিয়ন্ত্রণে রাখা গেলে দীর্ঘায়ু লাভ করা যায়। শুধু মানসিক সুখই নয়, যাদের কর্টিসেল হরমোনের প্রভাব কম থাকবে তাদের রোগ সংক্রমণের বিরুদ্ধে লড়াই করার ক্ষমতা বেশি থাকে বা স্বাভাবিক কোন ধরনের সমস্যায় তেমন ভয় হয় না বা চিন্তামুক্ত মানুষ বলা হয়। এমনিতেই যে যত বেশি মানসিক দুশ্চিন্তা করবে তার কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বৃদ্ধি পাবে। তাই কর্টিসল হরমোন থেকে মুক্ত থাকতে হলে যতটা সম্ভব চিন্তামুক্ত বা যে কোন মানসিক চাপ মুক্ত থাকতে হবে । সে জন্য হাই প্রেসার, ডায়াবেটিস ইত্যাদি যেকোন রোগীকে মানসিক চিন্তা মুক্ত থাকতে বলা হয়। রক্তে স্বাভাবিক মাত্রা ৬- ২৩ মাইকোগ্রাম/ডেসিলিটার হচ্ছে নর্মাল ভ্যালু । স্ট্রেস হরমোন হলো তিনটি। কর্টিসোল (একে স্ট্রেস হরমোনও বলে), এপিনেফ্রিন (অ্যাড্রিনালিন নামেও পরিচিত) এবং ডোপাক, একটি ডোপামিন ক্যাটবলাইট (মস্তিষ্কের এই রাসায়নিক এপিনেফ্রিন তৈরিতে সহায়ক) । প্রমান স্বরূপ দেখানো হয়েছে মানুষের এই হরমোন সমুহ হ্রাস করে ৩৯ -৭০% দুশ্চিন্তা মুক্ত করে রাখা সম্ভব। প্রতিরোধ হিসাবে হাসি মজায় থাকলে এই তিনটি স্ট্রেস হরমোনের মাত্রা কমে আসে ৩০-৪০%।  (মেডিক্যাল ইনফো টেক এন্ড স্ট্রেস রিলিভ মেথড) তাই যাদের রক্তের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেশি থাকে তাদের কুশিং সিনড্রোম হয় । যদিও অনেক সময় পিটুইটারী গ্ল্যান্ডের টিউমারের কারণেও বাড়তে দেখা যায় অর্থাৎ যেকোনো ধরনের শারীরিক বা মানসিক চাপ শরীরে কর্টিসল হরমোনের নিঃসরণ বাড়ায় এবং ক্রমে তা কুশিং সিনড্রোম অসুখে পরিণত হয়। (করটিসল গ্রন্থি রস স্থায়ীভাবে নিঃসরণে অভ্যাস হয়ে গেলে বা স্ট্রেস স্থায়ী ভাবে হয়ে গেলে ২০- ৫০ বয়সের যে কোনো মানুষের মধ্যে ক্রনিক স্ট্রেস দেখা দেয়। রক্ত পরীক্ষায় যদি প্রতি লিটারে পঞ্চাশ ন্যানো মোল -এর চেয়ে এর মাত্রা কম কম থাকে তা হলে মনে করা হয় তা কুশিং সিনড্রোম নয় বা বা ইউরিন পরীক্ষায় যদি চব্বিশ ঘণ্টার ইউরিন নমুনায় কর্টিসোলের মাত্রা ২৫০ হয় তাহলে কুশিং সিনড্রোম নয়। সাধারণত এক মিলিগ্রাম ডেক্সামিথাসোন ট্যাবলেট মুখে খাইয়ে দিয়ে আবার কর্টিসোলের রক্ত-মান নিরূপন করার কথা বলা হয়ে থাকে বা ৪৮ ঘণ্টার ডেক্সামিথাসোন সাপ্রেশান টেস্ট এবং কর্টিসোল নিঃসরণের সারকাডিয়ান ছন্দ অনুমান করে কুশিং সিনড্রোম শনাক্ত করণ করা হয়ে থাকে । তবে অ্যাড্রেনাল গ্রন্থির টিউমারের বেলায় (এন্ডোজেনাস কুশিং সিনড্রোম) প্রয়োজনে সার্জারির প্রয়োজন হয় অনেকের।  যারা অনেক দিন এই জাতীয় অসুখে আক্রান্ত তারা চিকিৎসা বা মন মেজাজের পরিবর্তন না ঘটালে হাড় ভেঙ্গে যাওয়ার মত অসুখ (অস্টিওপোরোসিস ) উচ্চ রক্ত চাপ, ডায়াবেটিস, ঘন ঘন বা অস্বাভাবিক সংক্রমণ – পেশী পাতলা বা শক্তি ক্ষয় ও যৌন ক্ষমতা স্থায়ী ভাবে হ্রাস সহ যে কোন মারাত্মক অসুখে ভুগতে পারেন
প্রিভেনশন - মোটা হওয়ার জন্য অনেকেই স্টেরয়েড খেতে চান – এটা খুব মারাত্মক কারণ দীর্ঘদিন স্টেরয়েড খাওয়ার ফলে মারাত্মক কুশিং সিনড্রোমে আক্রান্ত হতে হয়। যারা অ্যাস্থমা বা অন্যান্য অসুখের কারনে স্টেরয়েড খেয়ে থাকেন তাদের  চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া একটা ট্যাবলেটও না খাওয়া ভালো। 

 "সুখী থাকুন আর জীবন উপভোগ করুন
 খেয়াল রাখুন যাতে দূর হটে স্ট্রেস হরমোন।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১১ আগস্ট, ২০২২

হাসির আড়ালে শিরোনাম_ জীবন সংগ্রাম. ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


হাসির আড়ালে
শিরোনাম_ জীবন সংগ্রাম
✍️ডা: অরুণিমা দাস

সার্জারীতে ইন্টার্নশিপ চলছে তখন। প্রথম দিনই নাইট ডিউটি পড়েছে। সিনিয়র দের কাছে শুনেছি রাতে বেশির ভাগ খারাপ পেশেন্ট আসে। মাতাল থেকে শুরু করে সব রকমের পেশেন্ট, কারোর মাথা ফাটা তো কারোর হাতে পায়ে স্টিচ লাগবে। আর বেশির ভাগ লোকের হুশ থাকে না, অভব্য ব্যবহার ও করে অনেক লোক। প্রথম দিন, বলা ভালো প্রথম রাতে ডিউটি তে গেছি বেশ ভয় নিয়েই, কো ইন্টার্ন বললো শোন আমার রাতে তিন ঘণ্টা অফ লাগবে। কি রাজকার্য করবি শুনি? বললো আমার নামাজ পড়তে যেতে হবে। মনে মনে বললাম হতচ্ছাড়া। মুখে বললাম যাস,কিন্তু খারাপ পেশেন্ট এলে কী করবো? বললো স্বপন দাকে ডেকে নিস এসে হাসি মুখে সব সামলে দেবে। স্বপন দা কে রে? গ্রুপ ডি দাদা আমাদের ওয়ার্ডের, ভালো মানুষ খুব। কথা বলতে বলতেই ডিউটি রুমের দরজায় কড়া নাড়ল কেউ। খুলে দেখি একজন রোগা মত লোক দাঁড়িয়ে আছে এক মুখ হাসি নিয়ে। বুঝলাম ইনি স্বপনদা। ঢুকে বললো ম্যাডাম স্যার নতুন পেশেন্ট এসেছে। গেলাম ওয়ার্ডে, একটা ছেলে হাত কেটে ফেলেছে কাজ করতে গিয়ে,তাই স্টিচ করাতে এসেছে। স্টিচ করে ড্রেসিং করে ছেড়ে দিলাম ওকে। তারপর ওয়ার্ডে পেন্ডিং কাজ করতে ব্যস্ত হয়ে পড়লাম। সিস্টার দিদিরা নিজেদের মধ্যে গল্প হাসি ঠাট্টা করছিল। কথায় কথায় স্বপনদার প্রসঙ্গ আসাতে একজন সিস্টার বলে উঠলো মানুষটা এত হাসি খুশি থাকে,সবাইকে ভালো রাখতে চেষ্টা করে, রোগীদেরকে ভালোবাসে কিন্তু একবুক কষ্ট ওনার জমে আছে যা কমার নয় কোনোদিন। জিজ্ঞেস করলাম কি হয়েছিল দিদি? বললেন স্বপনদার ছেলে দুটো যখন বেশ ছোটো, তখন ওনার স্ত্রীর ক্যান্সার ধরা পড়ে। অ্যাডভান্সড স্টেজ ছিল, মাস ছয়েক উনি বেঁচে ছিলেন। তারপর ছেলে দুটোকে নিয়ে একার লড়াই শুরু হয় ওনার। শতকষ্টের মধ্যে দিয়ে গেলেও কোনোদিন দ্বিতীয় বিয়ের কথা ভাবেননি যদি নতুন কেউ এসে সংসারে ভাঙন ধরিয়ে দেয়। হাসি মুখে ঘরে বাইরে লড়ে গেছেন। এখন ছেলে গুলো বেশ বড়ো হয়েছে, একজনকে ওষুধের দোকান করে দিয়েছেন আর একজন কলেজে পড়ে। শুনে বেশ খারাপ লাগছিলো, জীবন যে কখন কাকে কোথায় নিয়ে যাবে কেউ জানেনা। এসব গল্প গুজব করতে করতে নেক্সট পেশেন্ট এসে হাজির। সাথে সাথে স্বপনদাও হাজির হাসি মুখে। পেশেন্ট ছিলো মাতাল, বাইক থেকে পড়ে গিয়ে হাত পা কেটেছে, ভুলভাল বকছেও। উঠে গিয়ে আগে পেশেন্টের মাথায় চোট আছে কিনা দেখলাম। সাথে আসা লোক দুটো বলে উঠলো আগে হাত পা দেখ, পরে মাথা দেখিস। আমি কিছু বলার আগেই স্বপন দা বলে উঠলো আগে ঠিক করে কথা বলুন নয়তো আপনার রোগী কে দেখা হবে না। তখন চুপ করলো তারা। একটা সি টি স্ক্যান এডভাইস দিয়ে আর ড্রেসিং করে ডিউটি রুমে এলাম। কো ইন্টার্ন তখন নামাজ পড়ে ফিরে এসেছে। বললাম স্বপন দা মানুষটা বেশ ভালো। মিষ্টি করে হাসে আর সেই হাসির আড়ালে জমে থাকে অনেক না বলা কথা। শুনে ঘাড় নাড়লো কো ইন্টার্ন। দুমাস সার্জারি পোস্টিং বেশ ভালোই কেটেছিল। ভালো খারাপ যেমন পেশেন্টই আসুক না কেনো হাসি মুখে স্বপনদা হাজির হতো। অনেকদিন হয়ে গেছে আর পুরনো কলেজে যাওয়া হয় না, আশা করি ভালোই আছেন স্বপনদা। এসব মানুষের জন্য হেকটিক ইন্টার্নশিপ অনেকটা হালকা হয়ে যেতো। 

সত্য ঘটনা অবলম্বনে

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১৩ জুলাই, ২০২২

নক আউট ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পরিত্রাণ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কুয়াশা ঘেরা পাহাড়টা নন্দিনীদের হোটেলের 
বারান্দা থেকেই দেখা যাচ্ছিল। চাদরটা গায়ে জড়িয়ে বারান্দায় এসে বসেছিল নন্দিনী। একদৃষ্টে তাকিয়েছিলো বাইরের দিকে। বাড়ীর কথা খুব মনে পড়ছিলো ওর। মায়ের ওষুধ, ভাইয়ের পড়াশোনা সব কিছু চালাতে ও মেনে নিয়েছিল জামাইবাবুর কথা। বিউটি পার্লারে কাজ জোগাড় করে দেওয়ার নাম করে জামাইবাবু ওকে নিজের এক ক্লায়েন্টের হাতে তুলে দিয়েছিল,সেই থেকে শুরু ওর এসকর্ট জীবনের। বাড়ীতে কেউ কিছু জানতে পারলোই না। ইদানিং কয়েকদিন হলো জামাইবাবু ওকে বেশ কিছু টাকা চেয়ে ব্ল্যাকমেল করা শুরু করেছে। হুমকি দিয়েছে টাকা না দিলে বাড়ীতে জানিয়ে দেবে সব, তখন কোথায় থাকবে ওর মা ভাইয়ের সম্মান? ভাই আর স্কুলেও যেতে পারবেনা, মুখ দেখাতে ও পারবে না। প্রথম প্রথম কিছু টাকা দিলেও পরের দিকে জামাইবাবুর ডিমান্ড খুব বেড়ে যাচ্ছিল, আর পারছিলো না নন্দিনী। অনেক প্ল্যান করে জামাইবাবুর সাথে দার্জিলিং আসে নন্দিনী। এসব ভাবছিল বসে বসে,পাশের চেয়ারে এসে বসলো অমিত,ওর জামাইবাবু। নন্দিনীর দিকে তাকিয়ে বললো এককাপ চা হলে মন্দ হয় না বলো! নন্দিনী বললো নিশ্চয়ই! খুব ভালো হবে। তুমি বসো, আসছি কিছুক্ষনের মধ্যে চা বানিয়ে নিয়ে। অমিত নন্দিনীর কোমরে হাত রেখে বলল তোমার এই উষ্ণতা মাথা স্পর্শ যে আরো বেশি রিফ্রেশিং। নন্দিনী বললো আমি আসছি একটু ভেতর থেকে। কিছুক্ষণের মধ্যেই চা নিয়ে এসে হাজির হলো নন্দিনী। 
এক কাপ চা তুলে মুখের সামনে ধরলো অমিতের।
অমিত চা নিয়ে খেতে শুরু করলো। খাওয়ার কিছুক্ষণের মধ্যেই মনে হলো কিছুই যেনো মনে পড়ছে না, চোখ গুলো বন্ধ হয়ে আসছে। পায়ের তলা থেকে মাটি সরে যাচ্ছে। কেমন একটা অডিটরী আর ভিসুয়াল হ্যালুসিনেশন হচ্ছে, কেউ যেনো দাড়িয়ে আছে সামনের কুয়াশা ঘেরা পাহাড়টায়। সে যেনো হাত বাড়িয়ে ডাকছে ওকে। নন্দিনীর দিকে তাকিয়ে কিছু বলার চেষ্টা করে, পারে না! চেয়ার ছেড়ে দাড়িয়ে পড়ে অমিত, বারান্দা দিয়ে গিয়ে সামনের রাস্তায় নেমে পড়ে, এগোতে থাকে পাহাড়ি রাস্তার দিকে। নন্দিনী এগিয়ে যায় পেছন পেছন,একটা চাদর জড়িয়ে দেয় অমিতের গায়ে। হিস হিস করে বলে চলো জামাইবাবু, অনেকটা রাস্তা বাকি। হাঁটতে হাঁটতে খাদের কিনারায় পৌঁছে যায় অমিত। বুঝতেও পারে না কি অপেক্ষা করছে ওর জন্য! একটা ধাক্কা পেছন থেকে আর পাথরে পা পিছলে গিয়ে খাদের গভীরে হারিয়ে যায় অমিত। উফফ কি শান্তি! বুক ভরে মুক্তির স্বাদ নেয় নন্দিনী। ভাগ্যিস প্ল্যান করে চায়ের মধ্যে স্টুপিফায়িং এজেন্ট ধাতুরা স্ট্রামোমনিয়াম এর রুট ক্রাশ করে মিশিয়ে দিয়েছিলো। চা টা খাওয়ার পর আর নিজের মধ্যে ছিলো না অমিত। কনফিউশন আর হ্যালুসিনেশনের জন্য মনে হচ্ছিল কেউ ডাকছে ওকে আর সেই ডাক উপেক্ষা করতে না পেরে তলিয়ে গেলো অতল গহ্বরে। চুপচাপ হোটেলে ফিরে এলো নন্দিনী,সব কিছু গুছিয়ে নিলো। প্রমাণ সব লোপাট করে দিলো,এবার ফেরার পালা! আর কেউ ওকে ব্ল্যাকমেল করতে পারবে না। নিজের শহরে ফিরে আবার কাজগুলো শুরু করবে মা ভাইয়ের মুখের দিকে চেয়ে,কিন্তু কিছুতেই ওদের ওপর এই অন্ধকার জগতের ছায়া পড়তে দেবে না। যে ওকে টেনে নিয়ে এসেছিল অন্ধকার জগতে, তাকেই সে পাঠিয়ে দিলো অন্ধকারের ঠিকানায়। মন শান্ত করে স্টেশনের দিকে রওয়ানা দিলো নন্দিনী,নিজের শহর তিলোত্তমার জন্য মন যে তার টানছে খুব। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...