রম্যরচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
রম্যরচনা লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

শুক্রবার, ২৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কনফিউশন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কনফিউশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

হ্যাঁরে হাসো সব রেডী তো? বেরোতে হবে তো এবার। হ্যা সরু দি সব রেডী। তা এই বড়ো ব্যাগটা নিয়েছিস কেনো? আরে এই ব্যাগেই তো তোমার ভক্তদের পাপ পূণ্যের হিসেব আছে। সবাই ওই অঞ্জলীর সময়ে এসে দেবী এই বছর পাশ করিয়ে দাও,পরের বছর ভালো করে পড়বো এসব বলবে আর তুমিও গলে যাবে এসব হবেনা। না রে হাসো, এবারে আমি স্ট্রিক্ট হয়ে গেছি,তাই ওসব কথায় ভুলবোনা ভেবেছি। হাসো বললো এই তো কদিন আগে ঘুরতে গেছিলাম ওখানকার হাল হকিকত দেখতে,তো কিছু বাড়িতে উঁকি মেরে দেখি কিছু খোকা খুকী ফোন নিয়ে ব্যস্ত,এক জায়গায় তো দেখি বই থেকে আলো ঠিকরে এক খুকীর মুখে পড়ছে,ভাবলাম লেডি বিদ্যাসাগর হবে বোধহয়! ওমা কাছে গিয়ে দেখি সে ট্যাবে ওয়েব সিরিজ দেখছে তাও বইয়ের মাঝে লুকিয়ে। এদিকে দুদিন পরে তার নাকি ফাইনাল পরীক্ষা। কিকরে বুঝলি যে ওর পরীক্ষা? তা তো খুব সহজ দিদি,ওনারা যে যেমন দাবী জানান আমিও ডায়েরীতে নোট করি। তাদের লিস্টও বানিয়েছি। কেউ বলছে কুল খেয়েছি ক্ষমা করে দাও দেবী! তোমায় আরো বড় কুল দেবো শুধু পাশটুকু করিয়ে দাও। কেউ আবার বইপত্রে ফুল রেখে দিয়েছে তোমার পুজোর,এসব করে তোমাকে ফুল বানিয়ে পাশ করে যাওয়ার ধান্দা। আর এই মামনি যে ট্যাব দেখছেন বইয়ের ভেতরে তিনি দুসপ্তাহ আগেই জানিয়েছেন পড়া ভালো হয়নি,এবারটা শুধু উতরে দাও দেবী। সেই দু সপ্তাহ হিসেব করেই বুঝেছি পরশু ওনার পরীক্ষা।
-বা হাসো তুই তো বেশ স্মার্ট হয়ে উঠেছিস দেখছি।
- হে হে,তা হয়েছি তোমার সাথে থেকে।
- আসলে কি বলতো? আমায় বোকা ওরা বানাচ্ছে,সে বানাক কিন্তু নিজেদের যেনো বোকা না বানায়। আর ওদের কি দোষ দেবো বলতো? এখন তো পড়াশোনা ধরন ধারণ এত চেঞ্জ হয়েছে ওরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে পড়াশোনার প্রতি। আগেকার দিন কি আর আছে বল! ওদের উচিত বইপত্র আমার কাছে না দিয়ে ফোন ট্যাব জমা রাখা। কিন্তু বাবুদের তো ওসব ছাড়া চলবেনা। ওনারা আমায় দেখার নাম করে বাড়ী থেকে বেরোবেন তারপর বাইক করে ঘুরবেন নিজেরা আর ইচ্ছে হলে প্যান্ডেলে ঢুকে দয়া করে সেলফিতে আমায় জায়গা দেবেন। আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে যাই আমি কি বিদ্যার দেবী নাকি প্রেমের দেবী! এদিকে বিশ্বকর্মাদা এসে বলে গেছেন মোবাইল জমা নাকি ওনার পুজোর দিন করা উচিত। উনি নাকি ওসব নিয়ে ডিল করেন। তাই আমিও বেশী কথা বাড়াইনি। যে যা ভালো বোঝে তাই করুক।
- তা ঠিক বলেছো দিদি।
- তার চেয়ে চল আমরা বরং পুজোটা ভালো করে কাটিয়ে আসি। ওদের জ্ঞানচক্ষু যাতে খোলে সেই আশীর্বাদ করি। হ্যা আর ফলমূল দেখে খেতে হবে বুঝলি! মৌচাক সিনেমার নীপা নাম শুনেছিলাম,
এখন নাকি সেই নামের ভাইরাস এসেছে শুনলাম। তাই সাবধানে থাকতে হবে সবাইকে। আর ওখানে নাকি বইমেলা শুরু হয়েছে, তাই যখন ফিরবো তোর এই বড়ো ব্যাগে বিভিন্ন স্বাদের বইপত্র নিয়ে ফিরবো।
হ্যা দিদি তাই চলো,প্যান্ডেল সব রেডী আমাদের আসার অপেক্ষায় সবাই বসে আছে।
সবাইকে জানাই সরস্বতী পুজোর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ২০ অক্টোবর, ২০২২

ঝোড়োবার্তার সংবাদ পরিবেশন✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ঝোড়োবার্তার সংবাদ পরিবেশন
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ঝোড়োবার্তা চ্যানেলের পক্ষ থেকে আমি মৌসম এসে গেছি আজকের বিশেষ বিশেষ সংবাদ গুলো নিয়ে। পেশ করছি আজকের বিশেষ আটটি গুরুত্বপূর্ণ খবর।

১. শিশুশিক্ষা বিভাগের পরিদর্শক জানিয়েছেন বাচ্চাদের রোজ স্কুলে এক ঘন্টা করে হাসির ক্লাস করাতে হবে। যে টিচার রামগরুড়ের মত না হেসে থাকবে তাদের পরেরদিন বাচ্চাদের হোমওয়ার্ক করে দিতে হবে।

২. যারা চুল পড়ার সমস্যায় ভুগছেন তাদের জন্য স্থায়ী সমাধান দিলেন বামদেব। প্রতিদিন দুবেলা একঘন্টা করে শীর্ষাসন করতে হবে। ভূমির সঙ্গে চুলের সংস্পর্শে মস্তিষ্কের উর্বরতা বাড়বে আর চুল গুলো স্ক্যাল্পে আটকে থাকবে। 

৩. পেট্রোল মন্ত্রী জানিয়েছেন তেলের দাম যে হারে বেড়ে চলেছে তাতে কদিন পর সকলে কোমরে দড়ি বেধে গাড়ীকে টেনে নিয়ে যাওয়া আসা করবে। এতে নিয়মিত হাঁটার অভ্যেস হবে, শরীর চাঙ্গা থাকবে আর গাড়ীগুলোর ইঞ্জিনও বিশ্রাম পাবে।

৪. বিয়ে নিয়ে নতুন আইন পাস হলো। বিয়ের পর স্বামী গিয়ে থাকবে শ্বশুর বাড়ী। মেয়েরা নিজের বাড়িতেই থাকবে আর স্বামীর ওপর কোনো মানসিক চাপ সৃষ্টি করলে স্বামীদের সন্ন্যাস গ্রহণের দীক্ষা দেওয়া হবে। আর স্ত্রীদের মৌনব্রতর মন্ত্রে দীক্ষিত করা হবে।

৫. কারেন্ট বিভ্রাটে বিয়ের আসরে বৌয়ের বদলে শ্বাশুড়ীর গলায় মালা পড়ালো জামাই। জামাইকে খুশি করতে শশুর সুইজারল্যান্ডের টিকিট কেটে দিলো। শ্বাশুড়ির সাথে হানিমুন ভেবে জামাই অজ্ঞান বিয়ের আসরে। জামাইয়ের বাবা বিদ্যুৎ দপ্তরের বিরুদ্ধে "শক খেলাম" ধারায় মামলা দায়ের করেছে। 

৬. রান্না ঘরে গ্যাসের কোনে রাখা ইদুর কিলার খেয়ে বিল্লুর দাঁত ভেঙে যাওয়ায় বিড়াল অ্যাসোসিয়েশন থেকে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে যে 
বাড়ীর মালিককে নতুন বাধানো দাঁতের পাটি বানিয়ে দিতে হবে বিল্লুকে। 

৭.  নট আউট আর নীল হিটের ডিফারেন্ট স্মেল ভালোবাসা জাগালো মিস মশা আর মিস্টার মাছির মধ্যে। বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হতে চলেছে তারা। বিবাহ বাসর - খাটের তলা। সবাইকে আমন্ত্রণ জানিয়েছেন তারা। 
বি. দ্র : দয়া করিয়া কেউ ওডোমস মেখে বিয়েতে আসবেন না।

৮. আজকাল গোলপোস্টে পোস্টের বদলে একটা করে চিয়ার সাজিয়ে রাখা হচ্ছে।কর্তৃপক্ষের কাছে কারণ জানতে চাওয়ায় সে বলে সারাদেশে যে ভাবে 'খেলা হবে' বাণী ঘুরছে তাতে স্ট্রাইকাররা আজকাল আর গোলপোষ্ট দেখতে পায়না। তাই গোলপোস্টের বদলে চিয়ার দেখলে তবে গোল করতে পারে।

বিশেষ আটটি খবর পেশ করলাম আপনাদের সামনে। নবম আশ্চর্যের জন্য চোখ রাখুন ঝোড়োবার্তা চ্যানেলে। নমস্কার। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস।

রবিবার, ৯ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম- কার্নিভাল লাইভ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম- কার্নিভাল লাইভ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিরে তোরা সব রেডী? উমা চেঁচিয়ে জিজ্ঞেস করলেন। আর দুটো মিনিট ঘুমোতে দাও না মা! কার্তিক বললো। হ্যা রাত জেগে গেম খেলে উনি এখন আর উঠবেন কি করে? তোর জামা কাপড় দেখ ভক্তেরা রেখে গেছে ওখান থেকে পরে নিস পছন্দ মতো। কার্নিভাল বলে কথা,নীল পাঞ্জাবী আর সাদা পাজামা পরিস বাবা! নইলে উনি রাগ করবেন। ওকে মাম্মি,আরেকটু ঘুমিয়ে ফ্রেশ হয়ে রেডী হচ্ছি। কথা না বাড়িয়ে উমা দেবী ছুটলেন বাকি তিনজনকে ডাকতে। সিংহটা আবার সকাল থেকে ফ্যাচ ফ্যাচ করে কাঁদছে,কার্নিভালে গিয়ে ছোট্ট ট্রাকে থাকতে হয় ওনাকে। তাতে আবার বাতের ব্যথা বাড়ে। অসুর তাই অনলাইনে ঝান্ডু বাম অর্ডার দিয়েছে, সে নাকি বিকেলে ডেলিভারি আসবে। কিন্তু তার আগে তো প্যান্ডেল ছাড়তে হবে। কাস্টমার কেয়ারে কল করে অসুর আর্লি ডেলিভারির জন্য রিকোয়েস্ট করছে। উমাদেবী বললেন হ্যাঁ রে মাথামোটা তুই অফলাইনে না কিনে অনলাইন কেনো অর্ডার করলি? আমি মাথা মোটা বলেই তো ত্রিশূলের খোঁচা খাই। আহা ওরম বলে না, তুই ওই খোঁচা ছাড়াও চারদিন কত ফল মিষ্টি খেতে পাস সেটা বল! নে ফোন রেখে রেডী হ! অসুর বললো হুম! 
ওদিকে লক্ষ্মী সরস্বতীর মধ্যে ঝামেলা শাড়ী নিয়ে। উমা দেবী ঢুকতে গিয়ে দেখেন ঝগড়া তুঙ্গে, তাও একটা নীল কাঞ্জিভরম নিয়ে। উনি ওদের থামাতে বললেন লক্ষ্মী তুমি তো কদিন পরে আবার অনেক গিফট পাবে,এই শাড়ী সরো কে দাও। ও আবার পরের বছর জানুয়ারিতে আসবে। আর একটা কথা,গাড়ী চলে আসবে ঘণ্টা তিনেকের মধ্যে, লাগেজ গুছিয়ে রেডী হও। মাসীমনি রাগ করবে টাইমে না পৌঁছলে। 
গণশা এই গনশা! রেডী হতে শুরু কর। হ্যা মাম্মি এই পিৎজাটা এসে গেলে খেয়ে রেডী হচ্ছি। আবার পিৎজা খাবি? এই যে লাড্ডু খেলি এক প্লেট! ওতে পেট ভরেনি গো! আর র‍্যাটস ও আমার লাড্ডু তে ভাগ বসিয়েছে। ইদুরটা এগিয়ে এসে বলে পিৎজা টা কতদূর গো গণেশ দা? 
উফফ! তোদের জ্বালায় আর পারিনে। কার্নিভালে খেতে পাবি তো! আর তোদের বাবা তো নন্দী ভৃঙ্গী কে বলে খাবার সব বানিয়ে রাখছে। ও কৈলাস যেতে অনেক দেরী হবে মাম্মি। খিদে পেয়ে যাবে। তাড়াতাড়ি কর তোরা রেডী হ! 
সব্বাইকে সামলে সুমলে উমা দেবী নিজে রেডী হলেন, মাস্ক নিতে বললেন সবাইকে। গাড়ী এসে গেলো, ভাইবোনেরা একটা গাড়ীতে আর অসুর, সিংহ সহ উমা দেবী একটা গাড়ীতে উঠলেন। বেশ সন্ধ্যে হয়ে এসেছে, রাস্তায় আলো জ্বলছে। কার্নিভালে ঢুকছে গাড়ী, মাসীমণি মঞ্চ থেকে হাই হ্যালো করছেন। সাথে আবার চ্যালাচামুন্ডারাও আছে। কিছুক্ষন পর দেখা গেলো লক্ষ্মীর সাথে হিসেবপত্র নিয়ে আলোচনা করতে গাড়িতে উঠে গেছেন মাসীমণি আবার। লক্ষ্মী ঘাড় নেড়ে বলছে হিসেবে গরমিল আছে মাসীমণি। সরস্বতী ওকে থামিয়ে কানে কানে বলছে মাসী কোনো ভুল করতেই পারে না,চল কার্নিভালে কনসেনট্রেট কর। এখানে বেফাঁস কিছু বললে বাড়ী ফিরতে পারবিনা। মাসী হিসেবের খাতা নিয়ে ব্যস্ত,মনে মনে ভাবছেন জল মেশানো কি ধরা পড়ে গেলো! সরস্বতী বললো আপনার কাজ নিখুঁত মাসীমণি, লক্ষ্মী কদিন ঘুমোয়নি, তাই মাথা কাজ করছেনা ওর। আমি ফিরে গিয়েই হাজার খানেক ল্যাপটপ পাঠিয়ে দেবো আপনাকে,শুনছি আজকাল আপনি ছাত্র ছাত্রী দের ল্যাপটপ দিচ্ছেন। ভালো উদ্যোগ, পড়াশুনো করুক সকলে। অশিক্ষার অন্ধকার দূর হোক। আপনি গাড়ী থেকে নেমে পড়ুন মাসীমণি, লোকজন দেখছে। যান মঞ্চে যান। মাসীকে ভুলিয়ে ভালিয়ে মঞ্চে পাঠানো হলো।
আরেকটা গাড়িতে উমা দেবীর সাথে অসুর আর সিংহ যাচ্ছে। সিংহটা চশমা পরে চারপাশের আলোর মেলা আর লোকজনের ভিড় দেখছে। বাম লাগিয়ে দিয়েছে অসুর,কোমর সিধে আছে সিংহের। 
অসুরকে উমাদেবী বললেন ভালোই হচ্ছে কার্নিভাল,গাড়িতে ঘুরছিস! কাজ করতে হচ্ছে না। কাল থেকে তো আবার দৌড়বি কাজে ৩৮১ দিনের প্রকল্পে, আজ মজা করে নে! হ্যা এই কদিন ভালোই কাটলো, তোমার সাথে আমিও সেবাযত্ন পেলাম। 
কথা বলতে বলতে কার্নিভালের শেষ হয়ে এলো প্রায়। ইউনেস্কোর লোকেদের সাথে সেলফি তুলে উমা দেবী চললেন তার সাঙ্গোপাঙ্গো দের নিয়ে স্বামীর ঘরে। যাওয়ার আগে মনভরে ভক্তদের আশীর্বাদ করে গেলেন। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...