শিরোনাম - লড়াকু
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
রাশিয়ার ভেলাচিনকোভা শহর, একটি প্রাইমারী স্কুলে পেরেন্ট টিচার মিটিং চলছে। মিটিংয়ের মধ্যমণি এলেনা মাথা নিচু করে চুপ হয়ে বসে আছে। স্কুলে আর আসতে চায় না ও, বাড়িতে জানিয়েছে সেটা। মিডটার্ম পরীক্ষায় রেজাল্ট খুবই বাজে হয়েছে ওর। ফ্রেন্ডস কেউ ভালো করে কথা বলে না। আরও বেশি যেনো কুকড়ে গেছে মেয়েটা। ওর বাবা মাকে হেড মিস্ট্রেস বলছেন 'ভেরি পুওর পারফরম্যান্স,সি হ্যাস ডাল ব্রেন টোটালি'! নো নীড টু সেন্ড হার স্কুল এনিমোর। এলেনার মা মারিয়া আর থাকতে না পেরে বলে ওঠে ইউ ক্যান্ট ডু লাইক দিস ম্যাম, হার ব্রেন ইস নট ডাল। আই চ্যালেঞ্জ ইউ সি ক্যান ডু বেটার রেজাল্ট ইন দ্য ফাইনাল এক্সাম। এটা বলে এলেনা কে নিয়ে বেরিয়ে যায় মারিয়া,পিছন পিছন আসতে থাকে জেমস,এলেনার বাবা। মারিয়া কে বলে ইউ হ্যাভ ডান রং। এভাবে ওকে নিয়ে চলে এলে, এটা ঠিক নয়। মারিয়া বলে যা করেছি ঠিক করেছি। বাড়ি গিয়ে এলেনা কে ভালো করে জিজ্ঞেস করতেই কেঁদে ফেলে এলিনা, জানায় নিজের সমস্যার কথা। ওয়ার্ড চিনতে ওর প্রবলেম হয়, মনে হয় যেনো ওয়ার্ড গুলো ড্যান্স করছে। আর ম্যাথস ক্যালকুলেশন করতেও প্রবলেম হয়। মারিয়া জেমস কে বললো এই যে প্রবলেম গুলো হচ্ছে ওর টিচাররা বুঝতে পারছে না নয়তো বুঝতে চাইছে না।
জেমস বললো আমাদের কী করা উচিত? মারিয়া বললো চলো ডক্টর দেখাই ওকে। ইচ্ছে করে তো ও আর এরকম করছে না। প্রথমে ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান কে দেখানো হলো এলেনা কে। উনি সব শুনে বললেন নিউরো মেডিসিন কাউকে দেখানো হোক। জেমস হাল ছেড়ে দিচ্ছিল, বললো ব্যর্থ হবো মারিয়া, এলেনা কে সুস্থ কী করা যাবে? মারিয়া বললো চেষ্টা তো করে দেখি। নিউরো ডক্টর এলেনার সিম্পটম দেখে কতো গুলো টেস্ট করতে দিলেন। ফাইনালি ডায়াগনসিস হলো ডিসলেক্সিয়া উইথ ডিসগ্রফিয়া অ্যান্ড ডিসক্যালকুলিয়া। বয়স যত বাড়ে তত এই প্রবলেম গুলো বাড়ে। ছোটবেলায় বোঝা যায় না যে প্রবলেম গুলো কতটা সিভিয়ার! নিউরো ডক্টর এলেনাকে 'সেন্টার ফর অ্যাসিসট্যান্স ফর চিলড্রেন উইথ লার্নিং ডিফিকাল্টিসের' বৈজ্ঞানিক পরিচালক ও রাশিয়ান ডিসলেক্সিয়া অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ডরোথির সাথে যোগাযোগ করতে বলেন। মেডিসিনের থেকেও বেশি ওর স্পীচ থেরাপি আর রাইটিং ইমপ্রুভমেন্ট এর দরকার ওর। ডরোথির সাথে এলেনা কন্ট্যাক্ট করে অ্যাপয়েন্টমেন্ট নেয় রেগুলার থেরাপি চলতে থাকে এলেনার। মাস তিনেক পর বেশ ভালো উন্নতি হয় ওর অবস্থার। স্কুল টিচাররা ওর অবস্থা বুঝতে পারার পর এখন আর তাড়িয়ে দেওয়ার কথা বলে না। ফ্রেন্ডস দের মত এলেনাও সব ওয়ার্ড চিনতে পারে,তবে ধীরে ধীরে। শুধু মাত্র মারিয়া হাল ছেড়ে দেয়নি বলেই এলেনার জীবন ব্যর্থতার আঁধারে পর্যুবসিত হয়ে যায়নি। নতুন করে জীবনে চলার শক্তি পেয়েছে এলেনা। এভাবেই এগিয়ে যাক ও নিজের উদ্দেশ্য সফল করার লক্ষ্যে আরও একধাপ।