শব্দ দিন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
শব্দ দিন লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

রবিবার, ৫ জুন, ২০২২

শিরোনাম - আধুনিকতা বর্জিত ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শব্দ-দিন
শিরোনাম - আধুনিকতা বর্জিত
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বর্তমান যুগে আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে সবকিছুতেই। কিন্তু এখনো কিছু মানুষ আছেন যাদের স্পর্শ করতে পারেনি আধুনিকতা, কোনো না কোনো ভাবে তারা অনাড়ম্বর জীবন যাপনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। আজ জেনে নেওয়া যাক সেরকম কিছু মানুষের কথা। আজ চোখ রাখা যাক ইন্দোনেশিয়ার এক অনামী গ্রাম যেখানে বাস করে তাংতু রা।
বেশ কিছু বছর আগে ইন্দোনেশিয়ার সরকার তাংতুদের গ্রামে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়ার উদ্যোগ নেন। কিন্তু আশ্চর্যজনকভাবে তাংতুরা ঐক্যবদ্ধ হয়ে সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র বিরোধিতা করে। এর ফলে আজও পার্শ্ববর্তী গ্রামগুলি বিদ্যুতের আলোয় আলোকিত থাকলেও তাংতুরা আলোকমেলা থেকে স্বেচ্ছায় নিজেদের বঞ্চিত করে রেখেছে।
সভ্যতার ধর্ম সময় যত এগোবে ততই নিত্য নতুন প্রযুক্তি এসে হাজির হবে। অবশ্যই তা গ্রহণ করার বাছবিচার থাকবে মানুষের কাছে। বিজ্ঞানের কাজ ই হলো কেবলমাত্র সামনের দিকে এগিয়ে যাওয়া। কিন্তু এই সময়ে দাঁড়িয়ে তথাকথিত সভ্য হয়েও এশিয়া মহাদেশে এমন একটি জনগোষ্ঠী আছে যারা যাবতীয় আধুনিক প্রযুক্তি বর্জন করে চলে। এমনকি আধুনিক প্রযুক্তির ছোঁয়া এড়িয়ে চলবে বলে এই জনগোষ্ঠীর সদস্যরা আজ পর্যন্ত কোন‌ও গাড়িতে ওঠেনি! এই বিশেষ জনগোষ্ঠী বাদুই নামে পরিচিত। এই জনগোষ্ঠীর মধ্যে তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ভাগ আছে আর তারা সকলেই যে আধুনিক প্রযুক্তি এড়িয়ে চলে তা নয়। কেবলমাত্র অতি রক্ষণশীল তাংতু বাদুইরা এই কঠোর সংযমের সঙ্গে আজও জীবন যাপন করে চলেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বানতেন প্রদেশের লিবাক রিজেন্সিতে বাদুই আদিবাসী গোষ্ঠী বাস করে। বাইরের দুনিয়ায় এদের বাদুই নামে ডেকে থাকলেও এরা নিজেদের কেনিকিস নামে পরিচয় দেয়। এদের মূল তিনটি ভাগ হলো তাংতু,পানামপিং এবং ডাংকা। এরমধ্যে তাংতু গোষ্ঠীটি লিবাক রিজেন্সির জঙ্গলের একেবারে মধ্যস্থলে বসবাস করে। এরা কাঠের তৈরি বাড়িতে থাকে এবং মূলত সাদা ও নীল রঙের পোশাক পড়ে এবং মাথায় সাদা রঙের পাগড়ি বাঁধে।
পানামপিং বাদুইরা তুলনায় অনেকটা কম রক্ষণশীল। তারা তাংতুদের আশেপাশের গ্রামগুলিতে থাকে। এদেরকে অতি রক্ষণশীল তাংতুরা অনেক সময় বাদুই বলে মনে করতে চায় না। তবে অতীতে নিষিদ্ধ থাকলেও বর্তমানে তাংতু ও পানামপিংদের মধ্যে বিবাহের প্রচলন ঘটেছে। ডাংকা বাদুইরা আসলে বাদুই নয়। তারা অন্য আদিবাসী গোষ্ঠী। কিন্তু এই অঞ্চলে এসে দীর্ঘদিন যাবৎ তাংতু ও পানামপিংদের সংস্পর্শে থাকার ফলে বাদুই সংস্কৃতির সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে উঠেছে। ডাংকারা নিজেদের বাদুই বলে পরিচয় দিলেও তাংতু ও পানামপিংরা তাদেরকে বাদুই বলে মনে করে না।
স্বেচ্ছায় অন্ধকারে থাকতে ভালবাসেন বাদুই জনগোষ্ঠীর মানুষ। এই আদিবাসী গোষ্ঠীর সর্বোচ্চ নেতাকে 'পুন' বলে সম্বোধন করা হয়। তাকে তিন গোষ্ঠীর বাদুইরাই মান্য করে চলে। মূলত তাংতু বাদুইদের থেকেই 'পুন' নির্বাচিত হন। বাদুইদের ধর্মের নাম 'সুন্দা উইউইটান'। তাদের মতে, প্রাচীনকালে এক দেবতা তাঁর নিজের জীবন দিয়ে তাদেরকে রক্ষা করেছিল। তাই সমস্তরকম ধর্মীয় আচার অনুষ্ঠানের আগে তারা ওই দেবতাকে স্মরণ করে থাকেন। তাংতু বাদুইরা মনে করেন, সেই দেবতা নিজের হাতে তাদের এই বাসস্থান গড়ে তুলেছিলেন, তাই তারা জঙ্গলের মধ্যবর্তী অঞ্চল ছেড়ে অন্য কোথাও যেতে চায় না। এই আদিবাসী গোষ্ঠীটি মনে করে জীবিতকালে যা কিছু ঘটছে সব‌ই পূর্বনির্ধারিত। তাদের ধারণা প্রকৃতির কোন‌ও কিছুই পরিবর্তন করা হল অনৈতিক কাজ। সেই জন্যই তারা বিদ্যুৎ,আধুনিক ইন্টারনেট, যানবাহন এগুলির কিছুই ব্যবহার করে না।
কিন্তু পানামপিংরা বিদ্যুৎ এর পাশাপাশি মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট, টেলিভিশন সব‌ই ব্যবহার করে। এমনকি অনেক পানামপিং বর্তমানে পুরানো লোকায়ত ধর্ম ছেড়ে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করছে।

এরকম ভাবেই সহজ সরল জীবন যাপনে অভ্যস্ত থাকুক এসব গোষ্ঠীর মানুষেরা। থাক সরলতার ছোঁয়া, আধুনিকতার মোড়ক দিয়ে নিজেদের আচ্ছাদিত না করে যদি এনারা ভালো থাকতে পারেন থাকুন। সত্যিই শিক্ষণীয় এনাদের জীবন যাত্রা। 
বিলাসবহুল জীবনের প্রতি নেই তাদের কোনো লোভ
আধুনিকতায় অভ্যস্ত মানুষেরা বিলাসিতা না পেলে দেখায় শুধু ক্ষোভ।

চেষ্টা করে দেখাই যাক না সরল অনাড়ম্বর জীবনে সাধারণ মানুষ ফিরতে পারে কিনা! ক্ষতি তো কিছুই নেই, আখেরে লাভই আছে এতে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
ছবি সৌজন্যে : গুগল

বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

ক্লিওপেট্রা ও অজানা কিছু ইতিহাস ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


 ক্লিওপেট্রা ও অজানা কিছু ইতিহাস
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মাত্র ৩৯ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে কখনো ছিলেন রাজকন্যা,কখনো বা পরাক্রমশালী রানী, আর কখনো তিনি ছিলেন প্রেয়সী। ক্লিওপেট্রাকে মনে করা হয় সম্মোহনী সৌন্দর্য্য ও ক্ষমতার স্বত্ত্বাধিকারী। রুপোলি পর্দায় তাঁকে রুপসী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে,পরমাসুন্দরী হিসেবে তার খুব বেশি খ্যাতি ছিল না। তবে তাঁর তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা, মন্ত্রমুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব, সহজাত রসবোধ,প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ও তা বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সর্বকালের সেরা মহিলাদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন। ক্লিওপেট্রাকে ঘিরে ইতিহাসে বিতর্ক আর রহস্যের যেন শেষ নেই। যেমন রহস্যময় তার জীবন ও রাজ্য শাসন,তেমনি রহস্যময় তার প্রেম। তাঁকে নিয়ে গল্প-কবিতা-উপন্যাসের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রও। উইলিয়াম শেক্সপিয়র, জর্জ বার্নাড শ,জন ড্রাইডেন, প্লুটার্ক, হেনরি হ্যাগার্ড, ড্যানিয়েল প্রত্যেকেই আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর চরিত্র। হ্যালিওয়েল তাকে 'দ্য উইকেডেস্ট উইম্যান ইন দ্য হিস্ট্রি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেম আর মৃত্যু এই নারীর জীবনে একাকার হয়ে গেছে। তিনি যেমন ভালোবাসার উদ্যাম হাওয়া বইয়ে দিতে পারতেন,তেমনি প্রয়োজনে মারাত্মক হিংস্র হতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করতেন না।
দান্তের মতে,লালসার শাস্তি হিসেবে তিনি নরকের দ্বিতীয় স্তরে দাউ দাউ করে পুড়ছেন। কারো কারো দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন 'সারপেন্ট অব দ্য নাইল'। অনেকে আবার তাঁর আবেদনময়ী দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফারাও রাজবংশের সর্বশেষ রাণী ক্লিওপেট্রা শুধুমাত্র মিশরীয় ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নামই নন, ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারীদের মধ্যেও তিনি একজন।

ক্লিওপেট্রার সংক্ষিপ্ত জীবনী - খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে প্রাচীন মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্ম ক্লিওপেট্রার।তার পুরো নাম ক্লিওপেট্রা সপ্তম ফিলোপেটর। মেসিডোনিয়ান বংশোদ্ভূত সপ্তম মিশরীয় রানী হওয়ায় তাকে এই পরিচিতি বহন করতে হয়। 
গ্রিক শব্দ kleos আর pater থেকেই ক্লিওপেট্রা। যার স্ত্রী বাচক অর্থ করলে দাঁড়ায় "গ্লোরী অফ দ্য ফাদার"। তার আগে আরো ছয়জন কিওপেট্রা ছিলেন। তার পূর্বপুরুষ টলেমি ছিলেন মহামতি আলেক্সান্ডারের একজন সেনাপতি। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে আলেক্সান্ডার মারা গেলে তার অন্যতম সেনাপতি টলেমি মিশরে স্বাধীন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। কিওপেট্রা এই বংশেরই শেষ শাসক। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মিসরে প্রায় ৩০০ বছরের মেসিডোনিয়ান শাসনের অবসান ঘটে। তার মায়ের দিকের পরিচয় অবশ্য পাওয়া যায় না। এ কারণে তিনি রোমানদের মতো শ্বেতাঙ্গ ছিলেন নাকি মিশরীয়দের মতো কৃষ্ণাঙ্গ তা জানা যায়নি।

অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ৫১ অব্দে রোম সম্রাট টলেমি অলেতিস মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তার বিশাল সাম্রাজ্য ১৮ বছর বয়সী কন্যা ক্লিওপেট্রা [ক্লিওপেট্রা-৭] ও ১o বছর(কারো কারো মতে ১২ বছর) বয়সী পুত্র টলেমি-১৩-কে উইল করে দিয়ে যান। সেই সঙ্গে মৃত্যুর সময় রোমান নেতা পম্পেকে রাজ্য ও তার সন্তানদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়ে যান। তখনকার মিশরীয় আইন অনুসারে দ্বৈত শাসনের নিয়মে রানী ক্লিওপেট্রার একজন নিজস্ব সঙ্গী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কাজেই ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করতে হয় তারই ছোটভাই টলেমি-১৩ কে, যখন টলেমির বয়স ছিল মাত্র ১০বছর (কারো কারো মতে ১২ বছর)। ফলে আইনগতভাবে রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পিত হলো ক্লিওপেট্রা এবং তার স্বামী (ওরফে ছোট ভাই) ত্রয়োদশ টলেমির উপর। ক্ষমতায় আরোহণের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও ক্লিওপেট্রা তার শাসন চালিয়ে গেলেন।
ধারণা করা হয় কিওপেট্রার বড় দুই বোনের একজন (ক্লিওপেট্রা ষষ্ঠ) শৈশবেই মারা গিয়েছিলেন ও অপরজনকে (বেরেনিস) টলেমি অলেতিস-ই হত্যা করেছিলেন। এ ছাড়া ক্লিওপেট্রার ছোট আরো দুটি ভাই ছিল।
সে সময়ের মুদ্রায় অঙ্কিত ক্লিওপেট্রার প্রসন্ন ভাব, গোলাকার দৃঢ় চিবুক,ধনুকের মতো ঢেউ খেলানো ভুরু যুগলের নিচে অনিন্দ্য সুন্দর চোখ, প্রশস্ত ললাট আর সুতীক্ষ্ম নাকের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা,সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব তাকে করেছিল তুলনাহীন। তবে ক্লিওপেট্রা ও টলেমি-১৩ এর মধ্যকার সুসম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। সিংহাসনে বসার মাস কয়েক পরেই দু’জনের মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরে। ক্লিওপেট্রাও সব সরকারি দলিলপত্র থেকে তার ভাইয়ের নাম মুছে ফেলতে থাকেন। এমনকি মুদ্রায় তার একক পোর্ট্রেট ও নাম সংযোজন করেন। তবে তিনিও টিকতে পারেননি। দুর্ভিক্ষ, বিশৃঙ্খলা, প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের ফলে ক্লিওপেট্রাকেও সরে যেতে হয় ক্ষমতা থেকে। কিন্তু তিনি দমে যাননি মোটেও ধারণা করা হয় বোন আরসিনোইকে নিয়ে আরব সৈন্যদের সহায়তায় তিনি সিরিয়ায় চলে যান এ সময়।
ক্লিওপেট্রার মৃত্যু ও সমাধি নিয়ে নানান মত রয়েছে, সাথে রয়েছে রহস্যও।
তাঁর সৌন্দর্যের প্রতিদ্বন্দ্বী তিনিই। চোখের চাহনি বুকে কাঁপন ধরায় অতি বড় সম্রাটেরও। তীব্র অথচ সূক্ষ্ম কামনার অট্টহাসি কিংবা ডুমুরের ডালিতে থাকা বিষাক্ত অ্যাম্পের ছোবলের কথা লেখা আছে ইতিহাসের পাতায়। মিশরের সেই রহস্যময়ী ক্লিওপেট্রা এখনও বিস্ময়। তাঁর জীবনের গল্প এখনও ছত্রে ছত্রে রহস্যে মোড়া। মৃত্যু, সে তো আরও গভীর রহস্যময়। কোথায় তাঁর সমাধি, সেটাও এত দিন অধরা ছিল। মিশরীয় সেই রহস্যের জট খুলছে একটু একটু করে। একদল গবেষকের দাবি, অচিরেই খোঁজ মিলতে পারে ক্লিওপেট্রার সমাধির। ক্লিওপেট্রা সাধারণ মানুষের কাছে একটা ধাঁধার মতো। ইতিহাসের এক একটা অধ্যায়, এক এক রকম ভাবে তুলে ধরেছে তাঁর বর্ণময় জীবনকে। ক্লিওপেট্রা সপ্তম থিয়া ফিলোফেটর ছিলেন মিশরের রানি। প্রাচীন মিশরের শেষ ফারাও। তাঁর জন্মের আগে ছিলেন ছ’জন ক্লিওপেট্রা। 

খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সাল। বন্দি ক্লিওপেট্রা বিষাক্ত অ্যাম্পের কামড় খেয়ে আত্মহত্যা করেন। কথিত আছে এই সাপ তাঁর কাছে ডুমুরের ঝুড়িতে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।এর পরের অধ্যায়টা পুরোপুরি রহস্যে মোড়া। সেই যে হারিয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রা, তাঁর কবরের খোঁজও মিলল না। জনশ্রুতি, অ্যান্টনির সঙ্গেই তাঁকে সমাধি দেওয়া হয়েছিল। অনেকের বিশ্বাস আলেকজান্দ্রিয়াতেই সমাহিত করা হয় ক্লিওপেট্রাকে। ৩৬৫ খ্রিস্টাব্দে সুনামিতে ধ্বংস হয় এই শহর। অনেকে আবার মানেন আলেকজান্দ্রিয়ার অদূরে নীল নদের অববাহিকায় ট্যাপোসিরিস ম্যাগনায় রয়েছে তাঁর সমাধি। এই দাবিতেই মান্যতা দিচ্ছেন গবেষকরা। কারণ সম্প্রতি সেখানে একটি সমাধি আবিষ্কার করেছেন পুরাতত্ত্ববিদরা। সেখানে রয়েছে ২০০০ বছরের পুরোনো দুটি মমি। এই মমি দু’টি সোনার পাতে মোড়া। পুরাতত্ত্ববিদদের দাবি, তৎকালীন মিশরীয় সমাজের উচ্চপদস্থদের এ ভাবে সমাহিত করা হত। এক্সরে করে দেখা গিয়েছে মমি দু’টির মধ্যে একটি পুরুষ। অন্যটি নারী। সোনার ওই পাতে কিছু গুবরে পোকার ছবি পাওয়া গিয়েছে। যা মিশরে পুনর্জন্মের প্রতীক। এর থেকে পুরাতত্ত্ববিদদের অনুমান, এগুলি তৎকালীন মিশরের কোনও ক্ষমতাশালী পুরোহিতের। যাঁদের সঙ্গে ক্লিওপেট্রার যোগাযোগ ছিল। মমির পাশে কিছু মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে, যা ক্লিওপেট্রার সময়ের। এই দলের প্রধান,লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরীয়বিদ্যার অধ্যাপক গ্লেন গডেনহো জানান, ২০০০ বছর পুরোনো ওই মমি দুটি। তাই সেগুলির পরীক্ষায় কিছুটা সময় লাগবে। তবে মমি দুটি যে ভাবে সোনার পাতে মোড়া ছিল, তাতে পরিষ্কার, সেগুলি তৎকালীন মিশরের কোনও ক্ষমতাশালী ব্যক্তির। টোপোসিরিস ম্যাগনায় ১৪ বছর ধরে খননকাজ চালাচ্ছেন ক্যাথলিন মার্টিনেজ। তিনিও আশাবাদী ওই এলাকায় অচিরেই খোঁজ মিলবে ক্লিওপেট্রার সমাধির। কারণ ওই এলাকার খুব কম অংশেই এখনও খননকাজ চালানো সম্ভব হয়েছে।এমনটা হলে ইতিহাসের সবচেয়ে চর্চিত একটা অধ্যায় স্পষ্ট হবে। ফিরে আসবেন সেই সুন্দরী, যাঁর সৌন্দর্যে মজে তামাম বিশ্ব। হয়তো জানা যাবে কী ভাবে হারিয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রা, পাঠকদের সামনে আসবে আরও অজানা ইতিহাস। অপেক্ষায় রইলাম জানার জন্য।


এই ইতিহাস সংক্ষেপে বলছিলেন বিমল বাবু তার সহকারী অমিত বাবুকে। আজ অফিসে বিমল বাবু তার স্বেচ্ছাবসরের চিঠি দিতে এসেছেন। অমিত বাবু বললেন আপনার তো একটাই মেয়ে, তার বিয়ের কথা ভাববেন না? চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন যে!
- আর বলবেন না, মেয়ের জন্যই তো চাকরি ছাড়ছি। 
- কেনো কেনো?
- মেয়ে এখন একটা বড়ো কোম্পানি তে জব করছে, সিনিয়র কনসালট্যান্ট। আমাকে আর ওর মাকে কলকাতায় ফেলে রাখবে না। মুম্বাই নিয়ে চলে যাবে। বলছে তোমরা যেমন ছোটবেলায় আমায় আগলে রেখে মানুষ করেছো এখন আমার দায়িত্ব তোমাদের আগলে রাখা। আর কদিন এরকম ছুটে দৌড়ে অফিস যাবে? দু বছর কম চাকরি করলে কিছু যাবে আসবে না। তাই আজ চাকরি ছাড়ার চিঠি দিয়ে পরশু চলে যাবো মুম্বাই। 
- ও আচ্ছা। আপনারই কপাল বিমল বাবু।
- কেনো? আপনার তো ছেলেকে নিয়ে খুব গর্ব, অনেক বড় চাকরি করে যে।
- হ্যা, তা করে। কিন্তু মনটা আপনার মেয়ের মতো বড়ো নয়। বলেই দিয়েছে নিজেরা নিজেদের সামলে রেখো। বছরে এক আধবার হয়তো আসবে, তাও যদি ক্লায়েন্টের দরকার হয় তবেই। 
- আমার মেয়েকে নিয়ে খুব গর্ব হয়। ছেলে না থাকার কোনো দুঃখই নেই আমার। সত্যিই 'সি ইস গ্লোরি অফ ফাদার।' আজ আসি, অফিসের বাকি কাজ গুলো করে নিই। পরশু না হয় যাওয়ার আগে আপনার সাথে দেখা করে নেবো।
- হ্যা, আসুন। খুব ভালো থাকবেন। আপনার মেয়ের নাম ক্লিওপেট্রা হলে কিন্তু বেশ হতো। 
- হা হা, ভালো বলেছেন। আসি। আবার দেখা হবে।
একগাল হাসি নিয়ে বিমল বাবু বেরিয়ে গেলেন অমিত বাবুর ডেস্ক থেকে।

গুগল, ক্লিওপেট্রা র জীবনী, হায়রোগ্লিফের দেশে বই থেকে কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছে। আর শেষ অংশটি  ক্লিওপেট্রার নামের সাথে মিল রেখে একটা ছোট গল্পের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।  
 
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২ ফেব্রুয়ারি, ২০২২

ব্যারাম কি নৌটাঙ্কি


 ব্যারাম কি নৌটাঙ্কি
✍️ডা: অরুণিমা দাস 

অনিতা দেবীর জীবনের অনেক পুরনো সমস্যাটা আবার নতুন করে দেখা দিয়েছে। মাঝ বয়স পার হবার পর মাথার চুল গুলো পত্র পাঠ বিদায় নিতে পারলেই বাঁচে,এরম অবস্থা হয়েছিল। একমাত্র ছেলে তার কষ্টটা বুঝেছিল। নেট সার্চ করে,বান্ধবী অর্ঘমার  সাথে কনসালট করে দোকান থেকে দামী অ্যান্টি হেয়ার ফল শ্যাম্পু কিনে দিয়েছিল মাকে। সেটা ব্যবহার করে প্রথম তিন চার মাস ভালোই ফল পেয়েছিলেন অনিতা দেবী। স্বামী সমীর বাবুর কানটাও আরামে ছিল কদিন, গিন্নীর ঘ্যান ঘ্যানানি শুনতে হয়নি কটা দিন। 
কিন্তু দিন কতক হলো রোজ অনিতা দেবী কাদো কাঁদো মুখ করে আয়নার সামনে দাঁড়াচ্ছেন আর নিজের চুল পড়া নিয়ে স্বামীর মাথা খাচ্ছেন। সমীর বাবু বললেন বয়স হচ্ছে, দু একটা চুল না হয় উঠেই গেছে। এতে কি আর এমন সমস্যা হলো!! অনিতা দেবী ঝাঁঝিয়ে উঠে বললেন নিজের তো মাথা পরিষ্কার, তাই খুব করে চাও যাতে আমার চুল গুলো উঠে যাক, তাই না!! বুঝি সব বুঝি, হিংসুটে লোক একটা। আর দু একটা চুল নয়, রোজ পঞ্চাশ টা করে চুল উঠছে। ওয়েটিং ফর সেঞ্চুরী, বললেন সমীর বাবু। কি বললে?? চেঁচিয়ে উঠলেন অনিতা দেবী। না কিছু না, এই ক্রিকেট দেখছি, কোহলির সেঞ্চুরি র কথা বলছিলাম আর কি!! তা ছেলেকে বল, হবু বৌমা অর্ঘমার সাথে কনসাল্ট করে আবার যদি কিছু সাজেস্ট করে। হ্যা আমার ছেলে আর হবু বৌমাই বোঝে আমার কষ্টটা। ওর দেওয়া শাম্পু ইউস করেই অনেকটা চুল পড়া কমেছিল। আবার যে কি হলো!! দেখি আজ মেয়েটাকে কল করবো, যদি নতুন কিছু আইডিয়া দেয়। দেখো ওরা ব্যস্ত মানুষ, সামনে আবার বিয়ে, ওদের এসব নিয়ে এখন বিরক্ত কোরো না গিন্নী। তুমি চাও ছেলের বিয়েতে আমি ফাঁকা মাথায় ঘুরে বেড়াই, তাই তো?? তোমার যা মন চায় করো, এই চুল পড়া ব্যমোর জন্য কিছুদিন পর তোমার ছেলে বৌমাও তোমাকে টা টা বলবে। এসব শুনে কিছুক্ষন ফ্যাচ ফ্যাচ করলেন অনিতা দেবী। 
 দুপুর বেলা লাঞ্চ করে যখন সমীর বাবু ঘুমিয়ে পড়েছেন, সেই সুযোগে হবু বৌমা অর্ঘমা কে ফোন লাগলেন অনিতা দেবী। ওপাশ থেকে মিষ্টি গলা ভেসে এলো, বলো উড বি মাদার ইন ল!! শোনো না তুমি কি ব্যস্ত!! না না এই ডিউটি সেরে বাড়ী ফিরছি, বল না তুমি। নিজের দুঃখের কথা সবিস্তারে বললেন অনিতা দেবী। অর্ঘমা শুনে বললো আমায় তো অভি বললো তোমার চুল এখন অনেক কম পড়ছে। অনিতা দেবী বললেন তোমার দেওয়া শ্যাম্পু আর সেরাম না কি সব! ব্যবহার করে অনেক কমেছিল চুল পড়া, কিন্তু জানো দিন ছয়েক হলো আবার সমস্যাটা বেড়েছে। ওই শ্যাম্পু ইউস করেও কিছু হচ্ছেনা আর। আর অভির বাবা কান দিচ্ছে না আমার কথায়। তুমি আর অভি ছাড়া কেউ বোঝে না আমার কষ্ট। আচ্ছা কেঁদো না তুমি, আমি একটু ফ্রেন্ডস দের সাথে কথা বলে নিই তারপর তোমায় জানাচ্ছি। আচ্ছা, বলে ফোন রেখে দিলেন অনিতা দেবী। যাক আসল জায়গায় সমস্যা বলে দিয়েছি, এবার সমাধান নিশ্চই দেবে অর্ঘমা। 
এদিকে অর্ঘমা বন্ধুদের সাথে কথা বলে জানতে পারলো যে প্রথম প্রথম শ্যাম্পু ভালো কাজ করলেও কিছুদিন পর রেজিস্ট্যানসের জন্য আবার পুরোনো অসুখ ফিরে আসে। ওর বন্ধু এবার ওকে দামী হারবাল শ্যাম্পু আর স্পেশাল হেয়ার কন্ডিশনার সাজেস্ট করে। অর্ঘমা সব নোট করে নেয় আর ফোন লাগায় হবু মাদার ইন ল কে। অনিতা দেবী ফোন ধরতেই অর্ঘমা বলে রেডী হয়ে নাও, আমি আধঘন্টার মধ্যে আসছি, তোমায় নিয়ে শপিং যাবো। আর তোমার সমস্যার জন্য নিউ সলিউশন পেয়েছি, রাস্তায় যেতে যেতে সব বলবো। আধ ঘন্টার মধ্যে গাড়ি নিয়ে হাজির অর্ঘমা। সমীর বাবুকে না জানিয়ে বেরিয়ে পড়লেন অনিতা দেবী। ডাইনিং টেবিলে রেখে গেলেন একটি চিরকুট। রাস্তায় যেতে যেতে অর্ঘমা অনেক সান্তনা দিল হবু স্বামীর মাকে। তারপর শপিং মলে গিয়ে দেদার কেনা কাটা। স্পেশাল শ্যাম্পু কন্ডিশনার সব কেনা হলো। সাথে নিজের কিছু সাজগোজের জিনিস, হেয়ার কেয়ার প্রোডাক্ট কিনলো অর্ঘমা। তারপর সোজা অনিতা দেবীকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে জিনিস পত্র পৌঁছে দিয়ে অর্ঘমা চলে গেলো নিজের বাড়ী। বাড়ি ঢুকতেই সমীর বাবুর একগাদা প্রশ্নের সম্মুখীন হলেন অনিতা দেবী। সব খুলে বলার পর সমীর বাবু বললেন সেই মেয়েটাকে বিরক্ত করলে তুমি!! আহা মেয়েটা খুব ভালো গো, আমার কষ্টটা বুঝেছে, এবারে সব অন্য জিনিস কিনে দিয়েছে। বললো এগুলো ইউস করো, চুল পড়ার সমস্যা কমে যাবে। রাতে অভি বাড়ি ফিরতেই অনিতা দেবী সব বললেন। শুনে অভি বললো, বেশ তো!! এবার তোমার বৌমা কে নিয়েই বেরিয়ে পড়তে পারো মাঝে মাঝে।রাতে অভি অর্ঘমাকে মেসেজ করলো আমার মায়ের এত টা খেয়াল করার জন্য অনেক ধন্যবাদ তোমাকে। 
পরদিন সকালে অনিতা দেবী চুলে শ্যাম্পু করে যখন আয়নার সামনে দাঁড়ালেন চুল আঁচড়াতে, চিরুনি বসাতেই গুচ্ছ গুচ্ছ চুল হাতে উঠে এলো। আস্তে আস্তে সব চুল গুলোই ঝড়ে গেলো। ঠিক তখনি তাঁর ফোনে অর্ঘমার নাম্বার ভেসে উঠলো, ফোন ধরে অনিতা দেবী কিছু বলার আগেই অর্ঘমা বললো শোন না মাম্মা,কাল ভুল করে আমার আর তোমার কসমেটিকস আর শ্যাম্পুর ব্যাগ এক্সচেঞ্জ হয়ে গেছিলো। তুমি কিন্তু ওই ব্যাগের কিছু ইউস করো না। অনিতা দেবী চেঁচিয়ে বললেন আগে বলবে তো??শ্যাম্পু করে চুল আঁচড়ানোর সময় আমার বাকি চুলগুলোও পড়ে গেছে সব। অর্ঘমা বললো কি বলছো!! তুমি এত সকালে শ্যাম্পু করেও নিলে!! ওহ গড।পাশ থেকে সমীর বাবু ফোনে বললেন শোনো অর্ঘমা,তোমার মাম্মা উচ্ছাসের সাথে হেয়ার রিমুভাল ক্রিমকে মাথায় লাগিয়েছেন নিউ ব্র্যান্ডেড শ্যাম্পু ভেবে।সব শুনে অর্ঘমা হাসবে না কাঁদবে বুঝতে পারলোনা। সমীর বাবু মুচকি হাসি দিয়ে অনিতা দেবীকে বললেন যে কটা চুল ছিলো,খোয়ালে তো!!এই জন্য বলতাম চুল উঠছে,চুল ঝরছে এই বাতিক গুলো ছাড়ো। যাইহোক এরপরের অবস্থা আরও করুন ছিল। অনিতা দেবী চুলের শোকে নাওয়া খাওয়া ত্যাগ করলেন। অভি অফিস থেকে ফিরে সব জানার পর বললো আচ্ছা আমি অর্ঘমার সাথে কথা বলছি, যতদিন না তোমার চুল গজাচ্ছে....আমাদের বিয়ে টা না হয় মার্চে না হয়ে নভেম্বরেই হবে।রাতে অর্ঘমা ফোন করলো অনিতা দেবীকে,বললো চিন্তা করো না মাম্মা,তোমার চুল গজানো অবদি আমরা অপেক্ষা করবো,অভি বলেছে আমায়। অনিতা দেবী এখন অপেক্ষা করছেন কবে তার মাথায় চুল গুলো গজাবে আর নভেম্বর মাসের জন্য, যখন তার বাড়ির লক্ষী হয়ে চিরদিনের মতো আসবে অর্ঘমা।
 
--- ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 🌞🌞🌞

বুধবার, ২৬ জানুয়ারি, ২০২২

প্রজাতন্ত্র দিবস

  প্রজাতন্ত্র দিবস
✍️ডা: অরুণিমা দাস


আজ যে প্রজাতন্ত্র দিবস,২৬ শে জানুয়ারির শুভেচ্ছা জানাই
উঠেছে সেজে যে চারিদিক তিন রঙ্গা পতাকায়।

আকাশ বাতাস মুখরিত হচ্ছে বন্দেমাতরম ধ্বনিতে
পথ ঘাট যে সরগরম,সকলে চলেছে প্রভাতফেরিতে।

দিল্লীর সুশোভিত ইন্ডিয়া গেট, কুচকাওয়াজে ব্যস্ত সেনাবাহিনী
প্রশস্ত রাজপথ সুসজ্জিত হয়েছে,সাথে বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রার প্রদর্শনী।

রাষ্ট্রের মহিমা প্রচারে সচেষ্ট সবাই,এগিয়ে চলে সাঁজোয়া গাড়ী
সংস্কৃতিমান ভারতের আরও উন্নতি হোক,এই কামনা সবারি।

প্রজাতন্ত্র দিবসের শুভ সকালে আমরা ভারতে সুনাগরিকরা
সুচারু, সুনিপুণ ভাবে হয়ে যাই বাধ্য প্রজারা।

--- ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...