অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
অণুগল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

বুধবার, ১৭ সেপ্টেম্বর, ২০২৫

আমার ডায়েরি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার ডায়েরি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সারাদিনের কাজের শেষে ডায়েরী লেখা অভ্যেস রিনির। ডিনার করে ডায়েরী টা খুলে বসলো ও। পাতা গুলো উল্টোতে গিয়ে একটা পাতায় গিয়ে চোখ আটকে গেলো ওর। ওর কলেজ জীবনের কিছু কথা নিয়ে লেখা ছিল।
পড়তে শুরু করলো ও। লেখা রয়েছে,
আশা করি তোমরা সকলে ভালো আছো। একসময় আমাদের চার জনের একটা দল ছিল। কলেজে পড়তে এসে তোমাদেরকে পেয়ে নিজেকে খুব লাকি ভেবেছিলাম। ভেবেছিলাম তিনটে বছর খুব আনন্দে কাটবে। কিন্তু মাস তিনেক পর বুঝতে পারলাম ভাবনা সব ভুল ছিল। তোমাদের ব্যবহারে নিজেকে খুব এলোমেলো লাগছিলো। তোমাদের মতো অতটা আধুনিক হতে পারিনি, না পোশাকে, না খাওয়াদাওয়া আর পানে। একটু একটু করে দূরে সরিয়ে দিচ্ছিলে আমায়। কোথাও খেতে বা ঘুরতে গেলে আমাকে আলাদা করে দিয়ে অনুভব করাতে বাধ্য করলে যে আমি ভিন্ন। বুঝতে পেরেছিলাম, আসতে আসতে সরে এলাম। কলমকে নিজের বন্ধু করলাম। দু একটা লেখা যখন সোশ্যাল মিডিয়াতে পোস্ট করতাম, হাসতে তোমরা। উল্টোপাল্টা মন্তব্যও করতে। কিন্তু দমে যাইনি আমি। হয়তো খুব ভালো লিখি না কিন্তু কলমকে বন্ধু করে খুব শান্তিতে আছি। আজও তোমাদের সাথে দেখা হলে হাসিমুখে কুশল বিনিময় করি। এটা আমার মা বাবার শেখানো আর আমি এটাকে ভদ্রতা বলে মনে করি । আজ তোমরা আমায় না ডাকলেও আর দুঃখ হয়না। নিজের জগতে আমি বেশ ভালো আছি। তোমাদের নেগেটিভ কথা আমার মধ্যে অনেক পজিটিভিটির সঞ্চার করেছে। তার জন্য আমি কৃতজ্ঞ তোমাদের কাছে। তোমরা তোমাদের মত করে ভালো থেকো ত্রয়ী। ঈশ্বরের কাছে তোমাদের সার্বিক মঙ্গল কামনা করি।
পুরোটা পড়ার পর চোখের কোলটা ভিজে এলো ওর। সত্যি এখন অনেক বেশী ভালো আছে ও। নিত্য দিনের অসম্মান হজম করার চেয়ে কলমের সাথে বন্ধুত্ব করে খুব শান্তিতে আছে ও। চিৎকার গুলো কলম দিয়ে বেরিয়ে যায় সহজেই। কষ্ট সব ধুয়ে মুছে যায় কালির স্রোতে। বুক ভরে একটা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলে রিনি। এরকম শান্তির জীবন যাপনের চেয়ে বড় কিছু হতে পারেনা। লোক দেখানো বন্ধুত্বের থেকে নিজেই নিজের বন্ধু হওয়া অনেক ভালো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

                                          


শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

জি ভরকে খাইয়ে আইসক্রিম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জি ভরকে খাইয়ে আইসক্রিম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এরম একটা বিষয় দেখে মনটা ছুট্টে চলে গেলো সেই মায়াভরা দিনগুলোতে। যখন নার্সারী স্কুলে পড়তাম,ছুটি হলেই দৌড়ে দৌড়ে গেটের বাইরে এসে ভ্যানকাকুর কাছে বায়না করতাম সবাই আইসক্রিম কিনে দেওয়ার জন্য। কাকু কিছুতেই কিনে দিতে চাইতো না। বলতো না বাবুরা,এসব খেতে নেই তোমাদের বাড়ি থেকে বকা দেবে আমায়। তারপর আমাদের সবাইকে ভ্যানে তুলে দরজা লক করে যে যার বাড়িতে ছেড়ে দেবার উদ্দেশ্যে রওনা দিতো। আর আমরা সবাই বাইরের দিকে আইসক্রিম গাড়িটার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকতাম। বাড়ি ফিরে দেখতাম দুপুরবেলায় কাকিমা জেঠিমা তাঁদের ছেলেমেয়েদের আইসক্রিম কিনে দিচ্ছেন। আমি আয়া মাসীর দিকে জুল জুল চোখে তাকিয়ে থাকতাম। মাসী বলতো বাবা বাড়ি আসার সময় নিয়ে আসবেন তোমার জন্য আইসক্রিম,মন খারাপ কোরোনা। গল্প বলতে বলতে দুপুরের খাবারটা খাইয়ে দিতো আমায় আর তারপর পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। আরেকটু বড় যখন হলাম,আলাদা বাড়িতে আমরা থাকতে শুরু করলাম। তখন ঠাকুমা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকতেন আর তারপর দাদুর বাড়ীতে চলে যেতেন। যেই গরমের ছুটি পড়তো দুপুরে ঠেলা গাড়ি নিয়ে আইসক্রিম ওয়ালা গেলেই ঠাকুমার আঁচলে টান পড়তো। আর ঠাকুমা আঁচলের খুঁট খুলে ১ টাকা দিতেন আমায়। সেই ১ টাকা নিয়ে দৌড়াতাম দরজা খুলে। কোনোদিন নারকেল,কোনোদিন অরেঞ্জ কোনোদিন পাইন অ্যাপেল আইসক্রিম খেতাম। সাথে টিভিতে দেখতাম অসওয়ার্ল্ড কার্টুন,ওর একটা গান খুব মনে পড়ছে,'আইসক্রিম আইসক্রিম আইসক্রিম, চলিয়ে জি ভরকে খায়ে আইসক্রিম'। বাড়িতে মা এসে বকা দিতেন মাঝে মাঝেই কিন্তু তাতেও দমে যেতাম না। এরপর আসতে আসতে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে উঠলাম,তখন স্কুল ছুটির পর টিউশন পড়তে যাবার তাড়া। তার মধ্যেও ফাঁকা পেলে এক দুদিন কুলফি আইসক্রিম কিনে রিক্সাতে উঠে আয়েশ করে খেতে খেতে বাড়ি ফিরতাম। আর যেদিন সাইকেলে ফিরতাম সেদিন এক হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে আরেক হাতে আইস ক্রিম খেতে খেতে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে ফিরতাম। তারপর যখন আরো বড় হলাম, যখন আইস ক্রিম খেতে কোনো প্রতিবন্ধকতা রইলো না আর তখন আর সেভাবে মন টানতো না আইসক্রিম খাবার জন্য। জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেছে এখন। বরং সেই ভ্যানকাকু,কাকিমা জেঠিমা এদের কথাগুলোও বেশি মনে আসে। মায়াভরা চোখে দাদা দিদিদের আইসক্রিমের দিকে তাকিয়ে থাকা দিনগুলো খুব বেশি করে মনে পড়ে। মাঝেমাঝেই ভাবি যদি সত্যিই টাইম মেশিন পেতাম আর সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আরেকবার ছোটবেলার দিনগুলো কাটাতে পারতাম। যেটা হবেনা সেটা ভেবে লাভ নেই বরং স্মৃতির পথ ধরেই মাঝে মাঝে ঘুরে আসি,আর তাতেই মন ভালো হয়ে যায় এক নিমেষে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

রবিবার, ৩০ মার্চ, ২০২৫

শিরোনাম - ইফতার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ইফতার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

আজ ঈদের শুভদিনে একটা ছোট্ট ঘটনা মনে পড়ে গেলো। তখন সবে ফার্স্ট ইয়ারে এমডি করতে ঢুকেছি,মাস নয়েক পর রমজান মাস শুরু হলো।হোস্টেলে আমাদের ফ্লোরে রোশনারা,ফিরোজা এরা রোজা রাখা শুরু করলো। আমাদের গার্লস গ্রুপ ও ছিল একটা। তো ফিরোজা আর রোশনারা বাদে যারা আমরা ইফতারে হামলে পড়তাম সুস্বাদু খাবার খেতে তারা ঠিক করলাম একটা রবিবার দিন যেদিন আমাদের কারোর কোনো ডিউটি থাকবেনা দিনের বেলায় তারাও ওদের দুজনের মতো খাবার না খেয়ে (যদিও আমরা এমনিতেই সবাই ডিউটি চক্করে ৮-৯ ঘণ্টা না খেয়েই থাকতাম) জল না খেয়ে ওদের সাথে ইফতারে খাবো একসাথে। তো যেমন কথা তেমন কাজ! সারাদিন নির্জলা আর খাবার ছাড়া কাটিয়ে দিয়ে ঠিক ইফতারের সময় খেতে বসা হবে সেই সময় মৌমি ভীষণ অসুস্থ হয়ে পড়লো,মাথা ঘোরাচ্ছে বলছিল, চোখে অন্ধকার দেখছে। ইফতার করা মাথায় উঠলো সবার,ওকে নিয়ে সকলে গেলাম মেডিসিন ওয়ার্ডে। আর এম ও স্যার বললেন ভেসোভ্যাগাল হয়ে গেছে। প্রচণ্ড ডিহাইড্রেটেড,এখুনি একে ফ্লুইড দাও আর মুখে কিছু খেতে দাও। পা দুটো একটু বালিশের ওপরে তুলে রাখুক। তারপর মোটামুটি স্টেবল হতে স্যার জিজ্ঞেস করলেন কি করে হলো এরকম? তখন ঐ ইফতার উপলক্ষ্যে সবার রোজা রাখার গল্প বললাম। স্যার হেসে বললেন পারিস ও ভাই তোরা! সব কটা যা একটা মিনারেল ওয়াটার বোতল কিনে জল খা। নয়তো বাকি গুলোও মাথা ঘুরিয়ে পড়বি সব। আর এত বেড কিন্তু নেই তোদের জন্য। সেদিন মৌমি একটু সুস্থ হতে স্যার বললেন দেখি কি কি অ্যারেঞ্জ করছিলি তোরা? তখন আবার হোস্টেলে ফোন করে ইফতারের সব খাবার হোস্টেলের ভিজিটিং রুমে আনানো হলো। স্যার ও খুব মজা করে খেয়েছিলেন সেদিন আমাদের সবার সাথে। আর বলেছিলেন দেখ ফিরোজা রোশনারা এরা প্রতি বছর রোজা রাখে, এদের অভ্যাস আছে আর এদের শরীরে বায়োলজিক্যাল ক্লকও এভাবে মানিয়ে নেয়। তোরা জল না খেয়ে গরমে থাকতে পারবি না, তাই এসব ওস্তাদি করতে যাস না। মৌমি আবার দুম করে সরি বলে ফেলেছিল। ফিরোজা ওকে জড়িয়ে বলেছিল কিসের সরি রে! তোদের এই কান্ড দেখে আমরা হতবাক। আমরা বললাম সত্যি খাবার ছাড়া থাকা গেলেও এতটা সময় জল ছাড়া থাকা অসহনীয়, জিভ ঠোঁট শুকিয়ে যাচ্ছিলো খুব কষ্ট হচ্ছিল। তোরা সত্যি খুব কষ্ট করে রোজা রাখিস রে! ফিরোজা বললো এখন এগুলো আমাদের অভ্যাস হয়ে গেছে। চল এরপর আর আমাদের কষ্ট বোঝার জন্য পাকামো মেরে তোদের জল আর খাবার না খেয়ে থাকতে হবে না! প্রমিস কর সবাই! মৌমি সহ আমরা সবাই প্রমিস করেছিলাম সেদিন। এখনো স্যারের সাথে দেখা হলে সেই দিনের কথা স্যার তুলবেন একবার হলেও। আজ ফিরোজা এসএস কে এম,রোশনারা মুর্শিদাবাদ,মৌমি ডায়মন্ড হারবারে,অর্চিতা ন্যাশনালে আর একজন এন আর এসে থাকলেও রমজান মাস শুরু হলে আর যে কোনো রকম উৎসবে সবাই আমরা ফোনের গ্রুপে মেতে উঠি এক অনাবিল আনন্দে,বুঝতেই পারিনা যে আমরা একে অপরের থেকে এতদূরে আছি, মনে হয় এই তো কালকের ঘটনা। এভাবেই স্মৃতির পাতায় জমে উঠছে কত কত গল্প।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৩ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫

জীবনের গল্প✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবনের গল্প
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকেই ডিউটি তে আলোচনা হচ্ছিলো যে জীবনটা আজকাল কেমন হয়ে গেছে। যন্ত্রের মতো আসছি ডিউটি করছি রাউন্ড দিচ্ছি হোস্টেল ফিরছি। ছোটবেলাটা বড্ড মনে পড়ে সবার। শিশু শল্য বিশেষজ্ঞ এক দিদি বললেন চল আজ ছোটবেলার কিছু গল্প হয়ে যাক। শিশু দের নিয়েই যখন তোদের আমাদের জীবন বেষ্টিত আছে হোক কিছু শিশুসুলভ গল্প। দিদি শুরু করলেন,স্কুল থেকে পুলকারে ফিরছেন তখন রেজাল্ট বের করে মনে পড়লো জি কে তে তো উতরাতে পারেননি। অত্যন্ত নিপুণতার সাথে এফ টাকে এ করে হাসিমুখে বাড়ি ফিরেছেন। আর রেজাল্ট মায়ের হাতে পড়তেই বেধড়ক মার,চোখে সর্ষেফুল দেখার মতো অবস্থা প্রায়। শুনে আরেকজন দাদাও শুরু করলেন ছোটবেলায় কুকুরের লেজে পটকা বেঁধে দিয়ে তাকে সারামাঠ ছোটানোর গল্প। আমারও এক দুটো গল্প বেরোলো। বন্ধুদের কথা শুনে বাড়ি থেকে পয়সা চুরি করে ব্যাগে জমানো আর সেটা দিয়ে আলুকাবলি,চুরমুর খাওয়া। একদিন ব্যাগ পরিষ্কার করতে গিয়ে ঝনঝন করা কয়েনের শব্দ শুনে সেই শব্দ গুলো তারপর পিঠে পড়েছিল। ম্যাথে ২৯ পেয়ে বাড়ীতে ৪০ বলা, তারপর মার্কশিট আসতেই আসল খেলা শুরু। জুতো,স্কেল,ঝাড়ু কিছুই বাদ যায়নি, সবগুলোর মার খেয়েছি। আরে দেখ গল্প করতে করতে ওটি শেষ হয়ে এলো রে, ব্লাড ও চালিয়ে দিয়েছি দিদি। এবার বাচ্চাকে রিভার্স করানোর পালা। এরকম গল্প মাঝে মাঝেই হলে মন্দ হয় না বল? দিদি বলল। আমরাও বললাম একদম, তবেই না এই স্মৃতিভরা মেঠোপথে দু একবার চক্কর মেরে আসার সুযোগ হবে। ছোটবেলায় মনে হতো বড়ো কবে হবো? আর এখন বড় হয়ে মনে হয় ছোটবেলা কি আবার ফিরে পাবো?

"জীবন চলছে নিজের মতো করে,ছোটবেলা ফিরে পেতে খুব ইচ্ছে করে আজকাল
স্ট্রেসফুল বড়বেলাটা বুঝিয়ে দিচ্ছে কঠিন বাঁধনে বাঁধতে হবে জীবনের সুর লয় তাল।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


সোমবার, ৯ ডিসেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম-রক্তের টানে✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম-রক্তের টানে
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সন্ধ্যে ছটা বাজে প্রায়। গাইনি ওটির বাইরে অস্থির ভাবে পায়চারী করছে অনিল আর ওর মা বাবা। ওটির মধ্যে অনিলের স্ত্রী রিক্তার সিজার চলছে। প্রায় আধঘন্টা পরে সিস্টার তোয়ালে মোড়া জ্যান্ত পুতুল এনে তুলে দিল অনিলের হাতে।ওর মা বাবা ছুটে এলেন,বললেন কী হয়েছে সিস্টার!ছেলে না মেয়ে? সিস্টার কিছুক্ষন চুপ করে রইলো,তারপর বললো স্যার এসে আপনাদের জানাবেন সবটা। বলে সিস্টার বাচ্চাটাকে অনিলের হাত থেকে নিয়ে চলে গেলো।কিছুসময় পরে ডা: ঘোষ বললেন আপনারা আমার চেম্বারে আসুন,কিছু কথা আছে। ওরা তিনজন গেলো ডা: ঘোষের চেম্বারে। ডা:ঘোষ জানালেন যে বাচ্চাটা জন্মেছে,অ্যাম্বিগুয়াস জেনিটালিয়া নিয়ে মানে ছেলের মত দেখতে হলেও ভেতরকার অঙ্গ গুলো মেয়ের মতো। একটা সেক্স চেঞ্জ অপারেশন করে হয়তো জিনিসটা ঠিক করা যাবে। অনিলের মা বললেন আচ্ছা বুঝেছি,তৃতীয় লিঙ্গের জন্ম দিয়েছে রিক্তা। আমি মেনে নেবোনা এই সন্তানকে,সাফ জানিয়ে দিলাম।অনিল কিছু বলতে যাচ্ছিলো! ওর মা বললো নয় ওই বাড়িতে আমি থাকবো নাহলে ওই পাপ থাকবে। এবার তুই ঠিক কর কি করবি? অনিল বুকের ওপর পাথর চাপা দিয়ে মায়ের আদেশ মেনে নেয়। নিজের মাকেই আজ তার কেমন যেন অচেনা লাগছে। কিকরে এরকম করতে পারে ওর মা? নিজের ছেলের অংশকে এভাবে অস্বীকার করতে পারছে মা?যেটা কোনোদিন মায়ের কাছে আশা করেনি কোনোদিন সে। কিন্তু মায়ের কাছে তখন মনুষ্যত্বের চেয়ে বংশমর্যাদা বেশী বড়ো হয়ে উঠেছিল।
এরপর বছর পনেরো কেটে গেছে।অনিলের কোনো সন্তান হয়নি আর। অনিলের মায়েরও বেশ বয়স হয়েছে। একদিন রাস্তা পার হবার সময় পাথরে হোচট খেয়ে পড়ে যান উনি। একটা গাড়ী এসে আচমকা ধাক্কা মারে। মাথা ফেটে বেশ রক্ত পড়ছে।রাস্তার লোকেরা জড়ো হয় কিন্তু কেউ ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যায়না। ভিড় ঠেলে এগিয়ে আসে এক মহানুভব,বলে আপনারা সরে যান,আমি ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাবো।ডাক্তার জানান বেশ গুরুতর চোট ওনার মাথায়,স্টিচ দিতে হবে আর এক ইউনিট রক্তও দিতে লাগবে। অনিলবাবুও এসে হাজির হন কিন্তু রক্তের গ্রুপ মেলেনা। সেই মহানুভব এগিয়ে এসে বলে আমারও এক গ্রুপ,আমি রক্ত দেবো। অনিলবাবু বললেন আপনার নাম?নীলাভ নিজের নাম বলে বললো আমি কিন্তু তৃতীয় লিঙ্গের মানুষ।অনিলবাবু একমুহূর্ত না ভেবেই নীলাভর রক্ত মাকে দেওয়ার জন্য রাজী হলেন। পরে যখন জ্ঞান ফিরলো অনিল বাবুর মায়ের,তখন জানতে পারলেন এক তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তি তাকে রক্ত দিয়েছে!শুনে মাথা নীচু করে রইলেন,হয়তো বছর পনেরোর আগের দিনটি মনে পড়ছিল তাঁর। পাশের বেডে শুয়ে থাকা  নীলাভর মুখের দিকে তাকিয়ে দেখলেন তিনি,আজ মনে হচ্ছে এ তার অনেক দিনের চেনা কেউ,আজ বড়ো আপন মনে হচ্ছে নীলাভকে তাঁর।ঈশ্বর ছাড়া কেউ জানলোনা যে এই নীলাভই সেই সন্তান। কিছুকিছু সম্পর্কের সমীকরণ ওলট পালট হয়ে গিয়েও শেষ অব্দি হঠাৎ করে একদিন সিড়িভাঙা অঙ্কের মত মিলে যায়,হয়তো সকলের অজান্তেই আর অচেনা মানুষকেও ভীষণ চেনা লাগে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



সোমবার, ১১ নভেম্বর, ২০২৪

শিরোনাম - ছেঁড়া তার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ছেঁড়া তার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস


দুর্গাপুজো শুরু হবার সময় মুখে যে হাসির রেশ ছিলো মাধবের আজ কালীপুজোর পরে সেই হাসি মিলিয়ে গেছে। কালীপুজোর প্যান্ডেলে ঢাক সহ বাকি জিনিস গোছাতে গোছাতে ভাবছিল একটা যদি স্থায়ী আয়ের ব্যবস্থা থাকতো তাহলে আজ এত কষ্ট থাকতো না জীবনে। তারপর প্যান্ডেলে সবাই বলাবলি করছিল এখন নাকি ডিজিটাল যুগ, ঢাকের বাদ্যি নাকি যন্ত্রে বাজানো যায়। এমনিতেই পুজো ছাড়া মাধবের কোথাও ডাক পড়েনা তার উপর যদি পুজোতেও আধুনিক যন্ত্রপাতি চলে আসে তার এই পেশাটাও চলে যাবে। কি ভাবে ছেলেটার পড়াশোনা চালাবে ভেবেই মনটা অস্থির হয়ে ওঠে। ঢাকটা যেনো তার দিকে করুনভাবে তাকিয়ে থাকে। মাধব তার পারিশ্রমিক বুঝে নিয়ে ঢাক কাঁধে করে বেরিয়ে পড়ে। যা পেয়েছে একমাসে সেই টাকায় বড়জোর আরেকটা মাস চলতে পারে। তারপর আবার সেই রোজের পয়সা রোজগারে ভিনদেশে নানা কাজে যাওয়া। এই কটাদিন ঢাকের যে বোল মনকে ভালো করে দেয় সেই ঢাক আবার পড়ে থাকবে নিঃসঙ্গ হয়ে। চোখ দুটোতে জল চিক চিক করে মাধবের। রাস্তায় যেতে গিয়ে পথের পাশে এক জায়গাতে চোখে পড়ে এক বহুরূপী খেলা দেখাচ্ছে,ভিড়ের মধ্যে মিশে সেই খেলা দেখতে দাঁড়ায় মাধব। খেলা দেখানোর শেষে বহুরূপী মাটি থেকে পয়সাগুলো কুড়িয়ে নিজের ঝুলিতে ভরছিলো। মাধবকে একা বসে থাকতে দেখে হাসিমুখে বলে কি হলো? বাড়ী যাবেনা? সবাই চলে গেলো তো! 
- যাবো,মনটা ভালো নেই। কাল থেকে অন্য কাজের খোঁজে বেরোতে হবে সেই নিয়ে ভাবছি। তুমি এত কষ্ট করে গান বেঁধে এই কটা টাকা পাও, তাও মুখে হাসি কি করে?
- আরে এর মধ্যেই ভালো থাকতে হয় ভাই। হাসতে ভুলে গেলে তো জীবনটা মলিন হয়ে যাবে। জীবনের তাল লয় বজায় রাখতে হলে হাসতে হবে যে রকম অবস্থায় থাকোনা কেনো। কাল থেকে পুজো হবেনা, ঢাক বাজাতে পারবেনা পয়সা আসবেনা ভেবে মন খারাপ কোরো না। কিছু তো কাজ আছে যেটা তুমি করে নিজেকে ভালো রাখতে পারবে। সেটাই করো। 
- মাধব ভাবে পয়সা উপার্জনের চাপে ভুলেই গেছে সে রান্নাটা ভালোই করে। মিড ডে মিলের কাজে নামতে মন তার চায়না কারণ ছেলে সেই স্কুলে পড়ে। কিন্তু এতো খারাপ লাগা তার থাকবেনা যদি নিজের ভালোবাসার কাজ টা সে মন দিয়ে করে। 
- ওঠো, এতো ভেবো না। দুপুর গড়িয়ে বিকেল হতে চললো।
হাসি মুখে মাধব উঠে পড়ে, বহুরূপীকে বিদায় জানিয়ে চলে নিজের বাড়ীর পথে। সে না হয় বহুরূপীর মতো খেলা দেখাবে না কিন্তু  নানা সাজে নিজেকে সাজিয়ে জীবনের ছন্দে নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যেতে পারবে। তার টা বোধহয় ছিঁড়বে না এবার, জোড়া লেগে নিজের মতো করে বেঁচে থাকার সুর তুলবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৭ জুন, ২০২৪

অনাদর✍️ ডা:অরুণিমা দাস

অনাদর
✍️ ডা:অরুণিমা দাস 

ঠাকুমার অসুস্থতার খবর শুনে রিমি অফিসের কাজ ছেড়ে দিয়ে তাড়াতাড়ি ট্রেনে উঠে বসে। জানলার ধারে সিট পেয়ে গা এলিয়ে দেয় তাতে। অনেক কথা মনে পড়ে যায় ওর। ছোটবেলায় রিমি মায়ের কাছে শুনেছিল যে সে হয়েছিল যখন তার ঠাকুমা মুখ দেখতে পর্যন্ত আসেনি। কারণ তিনি চেয়েছিলেন যে তার নাতি হোক। নাতনী হোক সেটা চাননি তিনি। রিমির পর যখন ভাই জন্মালো ছয় বছর পরে তখন ঠাকুমা ওর মাকে একটু ভালো চোখে দেখতো। তবে বাড়ীতে মাছ মাংস বা ভালো খাবার এমনকি পুজোর জামাকাপড় সবই বরাদ্দ ছিলো ভাইয়ের জন্য। রিমি এগুলো দেখে খুব কষ্ট পেতো,কিন্তু মুখ ফুটে কিছু বলতোনা। ভাই সবার আদর পেয়ে বিগড়ে যেতে শুরু করলো,রিমি প্রথমে কিছু বলতে গেলেও মেয়ে বলে তার কথার কোনো মূল্য দেওয়া হয়নি। এভাবে যেতে যেতে একদিন ভাই ধরা পড়লো ড্রাগ পাচার করতে গিয়ে। সেবারে বাবা আর ঠাকুমা গিয়ে ভাইকে ছাড়িয়ে আনলো কোনরকমে। আর সব দোষ গিয়ে পড়লো রিমির মায়ের ওপর। মেয়েকে দেখতে গিয়ে ছেলেকে মানুষ করার দিকে তার নজর নেই এই অভিযোগ এলো। রিমির মা কেমন যেনো চুপ করে গেলো। রিমি তখন গ্র্যাজুয়েশন শেষ করে চাকরীর পরীক্ষাগুলো দিচ্ছে। চাকরী যখন পেলো তখন সে কারোর তোয়াক্কা না করে মাকে নিয়ে আলাদা হয়ে গেলো। যেখানে তার আর মায়ের কোনো মূল্য নেই সেখানে না থাকাই শ্রেয়। এদিকে ঠাকুমার আসকারা পেয়ে ভাইয়ের দৌরাত্ম্য বাড়তে লাগলো। বাবা নিজের মান সম্মান বাঁচাতে একদিন ঘর ছাড়লেন। ঠাকুমার তখন বোধহয় একটু টনক নড়েছিল,নাতিকে শাসন করতে শুরু করলেন কিন্তু সেটা অনেক দেরী হয়ে গেছিলো। নাতি তখন হাতের বাইরে চলে গেছে। মুখের ওপর শুনিয়েছিল যাওনা নিজের নাতনিকে নিয়ে থাকো,সে তো চাকরী করে সেখানে গিয়ে থাকো যাও। সেদিনের পর থেকে ঠাকুমা আর কিছু বলেননি নাতিকে। হয়তো বুঝেছিলেন একসময় অন্যায় করেছেন। দিনের পর দিন অবহেলায় অযত্নে অসুস্থ হয়ে পড়েছিলেন। রিমির মা খবর পেয়ে রিমিকে বলেন ওখানে গিয়ে থাকবেন বলে। বলেন উনি ভুল করেছেন বলে আমরাই বা ভুল করবো কেনো! রিমি প্রথমে গররাজি হলেও পরে মায়ের জেদের কাছে হার মেনে ঠাকুমার কাছে ফিরে যায়। বছর তিনেক ধরে সে,মা আর ঠাকুমা একসাথে থাকে। আজ মায়ের ফোন পেয়েই দৌড়ে দৌড়ে আসছে রিমি। শেষ স্টেশন এসে গেছে,নামুন ম্যাম। টিটির ডাকে ঘোর কাটে রিমির। পুরোনো কথা ভাবতে ভাবতে কোথায় যে হারিয়ে গেছিলো সে, বুঝতেই পারেনি। স্টেশনে নেমে একটা রিক্সা ধরে বাড়ীর পথে পা বাড়ায় সে। বাড়ী পৌছে দেখে যে ঠাকুমা শুয়ে আছে, মা বসে আছে বিছানায়। মুখটা ঠাকুমার কানের কাছে নিয়ে এসে বলে কি করো তুমি?ওষুধ গুলো খাওনা কেনো? 
-কাঁপা কাঁপা গলায় বলে অনেক ভুল করেছি, আর বাঁচতে ইচ্ছে করে না রে দিদি। সেগুলো মনে পড়লে মনে হয় আমার আর থাকা উচিত নয় এই দুনিয়ায়।
-যা হয়ে গেছে সেগুলো মনে করে নিজেকে কষ্ট দিয়ে কি লাভ? আসলে কি জানো! অনাদরে বেড়ে ওঠা গাছেরাই কিন্তু ছায়া দেয়। আর সযত্নে লালন করা গাছেরা আগাছার মতো জাপটে ধরে কিন্তু ভালো কিছু করতে পারেনা। 
যতদিন আমার সাথে থাকবে পুরোনো কোনো কথা মনে করবে না, কথা দাও সময় মতো ওষুধ খাবে, খাবার খাবে। 
-সব করবো দিদি। আমার কথাটাও শুনতে হবে তোমায় এবার।
-কি কথা? শোনার মত হলে নিশ্চই শুনবো।
-কতদিন আর আমাদেরকে আগলে রাখবি? এবার নিজের একটা সংসার কর। 
-ওসব করে কি হবে ঠাকুমা? মায়ের কষ্ট তো দেখেছি আর ওসব ভালো লাগেনা গো। 
-সবার কপাল এক হয় না দিদি। আমার যে বড়ো ইচ্ছে তোর কোলে আবার মেয়ে হয়ে জন্মাতে। জানি তুই আমায় কোনোদিন অবহেলা করবিনা। 
রিমির চোখে জল চিকচিক করে। ঠাকুমার হাতে হাত রেখে বলে সত্যি আসবে তো! আমি রাখবো তোমার কথা। আর আমার মেয়ে হয়ে এলে কোনোদিন অনাদর হবেনা তোমার। ঠাকুমা শীর্ণ হাত দুটি দিয়ে জড়িয়ে ধরে রিমি আর ওর মায়ের হাত। এই মুহুর্তের সাক্ষী রইলেন শুধু ঈশ্বর। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বোধবুদ্ধি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বোধবুদ্ধি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নেশায় বুদ হয়ে নন্দী ভৃঙ্গী দের নিয়ে মহাদেব ব্যস্ত কৈলাসে। মর্ত্যে শিব রাত্রি, সেই উপলক্ষ্যে কৈলাস সেজে উঠেছে। দুর্গা গোছাতে বসেছেন লাভ ম্যারেজের অ্যানিভার্সারী গুলোতে কি কি জিনিস পত্র পেয়েছিলেন সেইগুলো। কিন্তু এতো কোলাহল চলছে যে নিজের কাজ করতে পারছেন না মন দিয়ে। ওদিকে বৃষ আবার সকাল থেকে মুখ গোমড়া করে আছে, কিছুতেই স্নান করবেনা ঠান্ডায়। মহাদেব তাই তার জন্য গিজার লাগানোর কাজে বিশ্বকর্মাকে তলব করেছেন। নারদ আবার কৈলাস ফার্মেসি থেকে সর্দি কাশির ওষুধ এনে দুর্গাকে দিলেন। স্বামীর ঠান্ডা লাগবে জল গায়ে লেগে,তাই এই তৎপরতা। নন্দী মনের সুখে গাঁজা টানছে আর সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে মহাদেবকে। হঠাৎ করে মাথায় জল পড়ায় নেশা কেটে গেলো। বেশ কিছুক্ষন জল পড়ার পর কেমন যেনো একটা অস্বস্তি বোধ হলো মহাদেবের,চামড়ায় কি সব বেরোচ্ছে যেনো! নন্দী ছুট্টে গিয়ে দুর্গাকে ডেকে আনলো। উনি হায় হায় করে এসে বললেন কি হলো এসব? নেশার ঘোর কেটেছে কিছুটা তখন মহাদেবের, বললেন আর কি গিন্নী? তোমার ভক্তরা মর্ত্যের জল দূষিত করেছে, তাই এসব হয়েছে। সব তো বড়ো বড়ো বাড়ী, কারখানা গড়তে ব্যস্ত। তা নালা নর্দমা সব বুজিয়ে ফেলে আবর্জনা সব যাবে কোথায়? চলো তোমায় ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দিই, দুর্গা বললেন। এই বছর যখন অক্টোবরে মর্ত্যে যাবো সবাইকে বলে আসবো পরিবেশ দূষণ যেনো রোধ করে। কারণ তোমার কিছু হলে আমি আর তো মর্ত্যেও পা রাখবো না। এই জন্যই তো তুমি আমার সেরা গিন্নী। এতো লোক আছে,এসব কি বলছো? লজ্জা বলে কিছু নেই তোমার! আরে ওসব নারী দের ভূষণ, আমার নেই ওসব। তুমি যে ভক্ত দের থেকে চোখ সরিয়ে স্বামীর সেবা করছো এটা কি কম বড়ো কথা! দুর্গা লজ্জা পেলেন। মহাদেব বললেন যারা এত কষ্ট করছে আমার মত স্বামী পাওয়ার জন্য তাদের জন্য একটাই আশীর্বাদ করি, সবাই যেনো মনের মানুষ পায় আর সুখী হয়। মুখে হাসি ফুটলো দুর্গার আর সমস্ত কৈলাস মহাদেবের জয়গানে মুখর হয়ে উঠলো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ জানুয়ারি, ২০২৩

টার্গেট✍️ ডা: অরুণিমা দাস

টার্গেট
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পছন্দের খেলা ছিলো দুটো, ক্রিকেট আর ক্যারম। একটা আউটডোর গেম আর একটা ইনডোর গেমস। যাইহোক টিভি তে যখন ক্রিকেট ব্যাট নিয়ে শচীন কে নামতে দেখতাম মাঠে, বেশ একটা অন্য রকম অনুভুতি হতো। আর নিজে যখন বাড়ির পাশের মাঠে খেলতে যেতাম আমার বন্ধুদের শর্ত দিতাম আমি শুধু ব্যাট ই করবো, বল করবো না। ওরা মাঝে মাঝেই প্রতিবাদ করতো, আমি শুনতাম না। আরও বলতাম যেদিন আমি খেলতে আসবো না সেদিনও আমার এম আর এফ ব্যাটটা দিয়ে ওদের খেলতে দেবো। কিন্তু যেদিন আসবো সেদিন ব্যাট আমার, যতক্ষণ ইচ্ছে ব্যাট করবো কিন্তু বল করবো না। বাড়িতে সবাই আমার এসব দুষ্টুমির জন্য বকা দিতো কিন্তু আমি গায়ে মাখতাম না। বন্ধুরা নাম দিয়েছিল হিটলার শচীন। বড়ো হবার পর ওদের বলেছিলাম ব্যাটটা কে মনে করি জীবনের হাল, কোনোদিন কোনো অবস্থাতেই ওটা ছাড়বো না। শচীন হতে পারবোনা হয়তো কোনোদিন কিন্তু জীবনের ইনিংস গুলো খেলতে হয়তো পারবো বা পারতে হয়তো হবেই। বন্ধুরা চুপ করে শুনেছিল। আজও দেখা হলে বলে ওই দিন গুলো খুব মিস করি, আমিও বলি সত্যি খুব মিস করি রে দিন গুলো। আজও গুছিয়ে রাখা আছে সেই ব্যাট টা। সময় পেলে ক্রিজে নেমে পড়ি।
আর ক্যারম টাও সময় পেলে খেলতে বসে পড়ি কলেজ কমন রুমে। ছোটবেলায় লাল গুটি জালে না পড়া অবদি খেলতাম। অন্য কেউ লাল গুটি ফেলে দিলে আমি আবার সেটা তুলে বোর্ডে রাখতাম আর টার্গেট করতাম ওটা ফেলার। সবাই হাসতো কিন্তু আমি আজও ভাবি ওই লাল গুটির মতন জীবনের টার্গেট পূরণ না করা অবদি লড়ে যাওয়া উচিত সবারই। আজকাল কার দিনে সময়ের অভাবে মাঠে নেমে খেলা ধুলা অনেক কমে গেছে। বাচ্চা রা পাহাড় প্রমাণ সিলেবাস শেষ করতে করতে হাপিয়ে উঠেছে, কিন্তু বিকেলে ১-২ ঘণ্টা নিয়ম করে খেলতে দেওয়া উচিত ওদের। প্রকৃতির সাথে একটা সংযোগ হবে এতে,জীবনের লড়াই টাও কিছুটা হলেও বুঝতে পারবে ওরা।

"হাতে থাক ব্যাট আর লড়তে থাকি জীবনের লড়াই
চলার পথ ক্রিজ হোক,সবার সাপোর্ট থাকা চাই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


সোমবার, ১৯ ডিসেম্বর, ২০২২

শিরোনাম - ঘুঙুর✍️ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - ঘুঙুর
✍️ডা: অরুণিমা দাস

বেশ কিছুদিন হলো বিয়ে হয়েছে তনুজা আর সৌরভের। দেখাশোনা করেই বিয়ে,তাই সম্পর্কটা মজবুত করার চেষ্টা দুজনের মধ্যে সমান ভাবে আছে। তনুজা মনে মনে স্বামীর যে ছবি এঁকে রেখেছিল তার সাথে সৌরভকে মেলানোর চেষ্টা করে। আগের সম্পর্কটা ভেঙ্গে যাওয়ার পর খুব ভেঙে পড়েছিল তনুজা। ওর ঠাকুমা বলেছিলেন মনের মানুষ যে হয় সে কখনোই ছেড়ে যাবে না তোকে,সে তোকে বুঝবে,তোর পাশে থাকবে। আর এই ছেলে বোধহয় তোর মনের মানুষ ছিলোনা। মনের মানুষের সাথে সম্পর্ক এতো ঠুনকো হবে না সে সেটা ভেঙে দেওয়া খুব সহজ হবে। সেদিন চুপ করে শুনেছিল তনুজা। তারপর থেকে মা বাবার ওপর বিয়ের ভার ছেড়ে দিয়েছিলো। 
এই কদিনে সৌরভের সঙ্গে বেশ একটা মনের মিল গড়ে উঠেছে ওর। সৌরভ পেশায় সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, আর সাথে একটা ক্লাউড কিচেন চালায়, দুঃস্থ বাচ্চাদের খাবার সার্ভ করে। বিয়ের পর তনুজা এর মধ্যে ইনভলভড হতে চেয়েছিল কিন্তু সৌরভ বলেছিলো কটাদিন একটু রিল্যাক্স করে নাও তারপর এসব করো। সৌরভ যখন অফিসে থাকতো,তনুজা লাঞ্চের পর বিশ্রাম নিয়ে ডান্স প্রাকটিস করতো টেপ চালিয়ে। একসময়  ওর খুব ইচ্ছে ছিলো ভালো ড্যান্সার হবে। কিন্তু বাড়ীর কারোর সায় না থাকায় ওর স্বপ্ন পূরণ হয়নি। সৌরভকে এসবের বিন্দুমাত্র বলেনি কোনোদিন। ভাবতো ও এসব মেনে নেবে কিনা! বিয়ের পর তনুজার প্রথম জন্মদিনে খুব বড়ো আয়োজন করেছে সৌরভ। তনুজার বাপের বাড়ীর সবাই আমন্ত্রিত। একফাঁকে সৌরভ তনুজাকে ডেকে বললো রুমে যাও, একটা দারুণ সারপ্রাইজ আছে তোমার জন্য। তনুজা বেডরুমে এলো,লাইট জ্বালতেই দেখলো,একি! বিছানায় সুন্দর করে সাজানো রয়েছে নাচের পোশাক আর এক জোড়া ঘুঙুর। আনন্দে তনুজার চোখে জল চলে এলো। দেখি পা দুটো দেখি! ঘুঙুরটা পরিয়ে দিই। তনুজার পা টা নিয়ে ঘুঙুর পরিয়ে দিলো সৌরভ। এসব তুমি কি করে জানলে? তনুজা জিজ্ঞেস করে। সৌরভ বলে জানিনা আমি তোমার মনের মানুষ হয়ে উঠতে পারবো কিনা! তবে তোমার ইচ্ছে অনিচ্ছের কথা এটুকু তো জানতেই পারি বলো। একদিন দুপুরে অফিস থেকে ফিরে দেখি তুমি ডান্স প্রাকটিস করছো, বাড়ীতে আর ঢুকিনি, মুগ্ধ হয়ে নাচ দেখছিলাম। তারপর তোমার মায়ের সাথে কথা বলে জানতে পারি যে তুমি ডান্স খুব ভালবাসতে। আজ তাই তোমার জন্মদিনে উপহার দিলাম যাতে তোমার স্বপ্নপূরণ হয়। আর এই নাও ক্লাসিক্যাল ডান্স স্কুলে ভর্তির ফর্ম, ফিল আপ করে নিও। আমি জমা দিয়ে আসবো। এখন চলো কেকটা কাটবে, সবাই অপেক্ষা করছে। আজ ঠাকুমার কথাগুলো খুব মনে পড়ছে তনুজার, মনের মানুষ সেই হয় যে না বলা সত্ত্বেও মনের সব কিছু বোঝে। সৌরভ বললো কি ভাবছেন ম্যাডাম? চলুন। হ্যা আসছি, বলে সৌরভের কানের কাছে মুখ নিয়ে গিয়ে তনুজা বললো "আমার প্রাণের মানুষ আছে প্রাণে, তাই হেরি তায় সকল খানে।" সৌরভ বললো বাকিটা শোনার অপেক্ষায় রইলাম। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শনিবার, ১ অক্টোবর, ২০২২

পুজোর স্মৃতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

বিষয় - অণুগল্প
পুজোর স্মৃতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পুজো মানেই কাশফুল, শিউলি আর শরতের
আকাশে মেঘের আনাগোনা। ছোটবেলায় স্কুলে পুজোর ছুটি পড়ার আগে তিন দিন ধরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান হতো। তখন বোধহয় ক্লাস নাইনে পড়ি, নাটকের মহড়া চলছে একদিন, সবাই যে যার পাঠ মুখস্থ করতে ব্যস্ত। কিন্তু আমার এক বন্ধু পিউ ওর কিছুতেই পাঠ আর মনে থাকছে না। নাটকের নাম ছিলো 'চোখে আঙুল দাদা' আর ওর চরিত্র ছিলো চোখে আঙুল দাদার অভিনয়। খুব চিন্তায় পড়ে গেছে সবাই এমন সময় আমাদের ক্লাসের মাতব্বর থুড়ি মনিটর ডোনা বললো চাপ নিস না,আমি স্টেজের পিছন থেকে প্রম্পট করবো তুই খালি স্মার্টলি পাঠ গুলো বলে যাবি। পিউ এসব শুনে শান্ত হলো কিছুক্ষন। তারপর হঠাৎ করে বললো যদি টেনশনে শুনতে না পাই! উফফ থাম তো! সব পাবি, ডোনা বললো। 
এরপর নির্ধারিত দিনে স্টেজে নাটকের জন্য সবাই রেডী, ড্রেস পরে ঘুরে বেড়াচ্ছে এদিক ওদিক। নাচ গান কবিতা এসব হবার পর ম্যাম নাটকের জন্য ঘোষণা করলেন। সবাই স্টেজের দিকে তাকিয়ে। পিউ কে আমরা ভরসা দিলাম সকলে, ডোনা এসে পিঠ চাপড়ে বললো যা চিন্তা করিস না, ম্যায় হুঁনা! পিউ মানে চোখে আঙুল দাদা স্টেজে উঠলো, প্রধান চরিত্র ওর। প্রথম কিছুক্ষন ভালোই চলছিল, ডোনা মাঝে প্রম্পট করতে গিয়ে চোখে আঙুল দাদার জায়গায় ওর তৈরী দানবের যে ডায়ালগ সেটা বলতে লাগলো। পিউ ও সেগুলো বলতে থাকলো, স্টেজের বাইরে চাপা গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, ম্যাম বলছেন কি সব বলছো পিউ? এটা তো দানবের ডায়ালগ! পিউ ভয়ে কেঁদে ফেললো। আর দানব টা মাটি থেকে উঠে ওর গলা টিপে বললো এই আমার ডায়ালগ বলছিস কেন তুই? তুই তো চোখে আঙুল দাদার পাঠ করছিস! পিউ বললো সুমনা (দানবের ভূমিকায় ছিলো) তুই এরকম করছিস কেনো? ভুলে গেছি আমি সব পাঠ, আর ডোনা পর্দার আড়াল থেকে আমাকে এটাই বলছিলো। যাইহোক পরিস্থিতি সামাল দিতে ম্যাম স্টেজে উঠে ওদের দুজন কে শান্ত করলেন। ডোনা কে ডেকে খুব বকলেন, বললেন তোমাদের এসব অসুবিধে আমায় বললে আরো বেশি করে রিহার্সাল করাতাম তোমাদের। বড়ো হয়ে গেছো বলে ছেড়ে দিয়েছিলাম তোমাদের নিজের মতো করে। আমার ভরসাটা তোমরা রাখলে না। এরপর নাটকটা আর হয়নি, নাটকের সবাই নিজের মতন করে নাচ গান করেছিল যে যেটা পারে। এসব ঘটনা গুলো মনে পড়লে আজও হাসি পায়। ম্যাডামের সাথে দেখা হলে উনিও হাসেন এসব মনে করে। বলেন এগুলোও তো স্কুলের স্মৃতি রে! এগুলো আকড়ে বেঁচে থাকার দিন এখন। সত্যিই দিনগুলো খুব ভালো ছিল, পুজোর আগে এসব অনুষ্ঠান এখন আর হয়না, তাই স্মৃতি হাতড়ে এই লেখাটা লিখে ফেললাম।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২২ আগস্ট, ২০২২

শিরোনাম - সহানুভূতি ✍️ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সহানুভূতি
✍️ডা: অরুণিমা দাস

কি এমন হয়েছিলো যে কপালে এমন ক্ষত হলো? ডা: ঘোষ ব্যান্ডেজ করতে করতে জিজ্ঞেস করলেন মনামিকে। ওই নিজেদের মধ্যে একটু কথা কাটা কাটি, মিসআন্ডারস্ট্যান্ডিং এসব আর কি! আপনাদের তো রিসেন্ট বিয়ে হয়েছে, এর মধ্যেই এতো আন্ডারস্ট্যান্ডিং এর প্রবলেম? মনামি বললো আসলে আমার হাসব্যান্ড সুনন্দ প্রতি মাসের শেষের দিকে কোথাও একটা যায়,বেশ কিছু টাকা উড়িয়ে আসে। আমার এক বন্ধু ওকে দেখেছে খারাপ এলাকায়। আচ্ছা, তাই নাকি? আপনি কোনোদিন ওনার কাছে জানতে চান নি উনি কোথায় যান? কি করেন টাকা নিয়ে? জানতে চাইলেই বলে আমার ওপর ভরসা রাখো,আমি কোনো বাজে কাজ করছি না! গতকাল আমি জোর করে জানতে চাই ওর কাছে, কোথায় যায়? কি করে? কার সাথে সম্পর্ক ওর যে ওই এলাকায় যেতে হয়? এসব শুনেই সুনন্দ রেগে গিয়ে আমাকে ধাক্কা মারে আর টেবিলের কোণে মাথাটা লেগে কপালটা কেটে যায় আমার। অন্যের কথায় স্বামীকে ভুল বুঝলে তুমি? সুনন্দ ডা: ঘোষের চেম্বারে ঢুকতে ঢুকতে বলে। আরে আপনি? আসুন বসুন। ডা: ঘোষ বললেন সুনন্দকে। হ্যা বসছি, আপনি তাহলে পরের মাস থেকে যাচ্ছেন তো ওখানে? হ্যা নিশ্চই যাবো,এতো ভালো কাজের সুযোগ পেয়েছি, আমি অবশ্যই যাবো। মনামি হা করে সুনন্দ আর ডা: ঘোষের কথা শোনে। সুনন্দ কে ডা: ঘোষ বলেন ওনাকে আর অন্ধকারে রেখে লাভ নেই। বলে দিন সব কথা। কি কথা সুনন্দ? মনামি জানতে চায়। সুনন্দ বলতে শুরু করে - আমি একদিন অফিস থেকে ড্রাইভ করে ফিরছিলাম, এক ভদ্রমহিলা আমার গাড়ির সামনে এসে পড়েন আচমকা। আমি ব্রেক কষে গাড়ী থামিয়ে দিই, উনি একটুর জন্য রক্ষা পান। গাড়ি থেকে নেমে যখন ওনার কাছে যাই, ওনার সাজ পোশাক আমার খুব উগ্র মনে হয়েছিলো। কথাবার্তাও লো কোয়ালিটির। আমায় বলছিলো তুই আজ আমার রাতের খদ্দের। আমি চমকে উঠে বলি কি বলছেন এসব? উনি বললেন এই লাইনে অনেকদিন আছি। কারোর অতিরিক্ত লালসার স্বীকার হয়ে দুটো বাচ্চা জন্ম দিয়েছি। আজকাল শুধু বাচ্চা দুটোর জন্য নিজেকে সাজিয়ে পেশ করি খদ্দেরের কাছে। সব শুনে আমার চোখ দিয়ে জল গড়িয়ে পড়ছিলো তখন। সামলে নিয়ে বললাম উঠুন গাড়িতে, আপনার বাচ্চাদের দেখে আসি চলুন। গিয়ে দেখি ওই নোংরা পরিবেশে বাচ্চা গুলো ভালো নেই। ওনাকে বলি বাচ্চাগুলোকে অন্য জায়গায় রাখুন, ওদের পড়াশোনা থাকার খরচ আমি দেবো প্রতি মাসে। এই অন্ধকার জায়গা থেকে ওদের সরিয়ে নিয়ে যান, নয়তো ওদের জীবন শেষ হয়ে যাবে। আপনি কেনো এত করছেন বাবু ওদের জন্য? কেউ তো হয় না ওরা আপনার। মুখে বললাম সব প্রশ্নের উত্তর হয় না! মনে মনে ভাবলাম আমিও তো অনাথ আশ্রমে মানুষ হয়েছি,আমার মাও এরকম কেউ ছিলেন হয়তো! আমি বুঝি বাচ্চা গুলোর কষ্ট টা, তাই আমি চাই না ওরা এভাবে নোংরা পরিবেশে থাকুক। এতোটা বলে সুনন্দ থামলো। 
মনামির চোখে জল! সুনন্দর হাত ধরে বললো খুব ভুল হয়ে গেছে আমার, আমি তোমায় ভুল বুঝেছিলাম। তুমি অনেক বড়ো মনের মানুষ। তোমাকে স্বামী হিসেবে পেয়ে আমি ধন্য। ডা: ঘোষ চেম্বার ছেড়ে বেরিয়ে যাচ্ছিলেন, সুনন্দ বললো পরের মাস থেকে আমি যেখানে যাই, ওখানকার মানুষদের চিকিৎসার জন্য আপনি যাচ্ছেন তো? ডা:ঘোষ বললেন নিশ্চয়ই যাবো, ওনারা এই সমাজের অঙ্গ, ওনাদের ভালো থাকাটা দরকার। আমি আছি আপনার পাশে। থ্যাংক ইউ ডা:ঘোষ, সুনন্দ বললো। 
ওই অন্ধকারে কেউ নিজের ইচ্ছেয় নিমজ্জিত হয় না,পরিবেশ পরিস্থিতি বাধ্য করে। মনামি বললো সরি সুনন্দ ভেরি সরি! ইটস ওকে, চলো বাড়ি যাই, আমাদের সম্পর্ক টা রিনিউ করে আবার নতুন করে শুরু করি। মনামি এগিয়ে চলে সুনন্দর হাত ধরে,সব ভুল বোঝাবুঝিকে দূরে সরিয়ে রেখে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...