গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান
গল্প লেবেলটি সহ পোস্টগুলি দেখানো হচ্ছে৷ সকল পোস্ট দেখান

সোমবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম - নীল পূর্বরাগ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - নীল পূর্বরাগ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ছেলেকে নিয়ে গ্যাংটক বেড়াতে এসেছে রিনিতা। ছেলেই ওর সব।আজ ছবছর হলো স্বামী প্রতীকের সাথে ডিভোর্স হয়ে গেছে ওর।দিন রাত সংসারে অশান্তি লেগে থাকত রিনিতার চাকরি করা নিয়ে। প্রতীক বলতো," আমার এত ইনকাম,এর পরও তুমি কেনো চাকরি করবে?"না এরপর আর কোনো ঝামেলায় জড়াতে চায়নি রিনিতা।রোজকার অশান্তিতে ছেলেটা ভয়ে কুঁকড়ে থাকতো।ছেলের শৈশবকে নষ্ট হতে দিতে চায়নি রিনি।প্রতীককে মুক্তি দিয়েছিল।এখন তার জীবনের একটাই লক্ষ্য,ছেলে শুভমকে মানুষ করা। 
"মা মা,খুব পেট ব্যথা করছে,বমি বমি লাগছে।",শুভম বললো রিনিতাকে।অতীতের পাতা থেকে চোখ সরিয়ে রিনি চোখ রাখলো ছেলের মুখের দিকে,শুকিয়ে গেছে শুভর চোখ মুখ।গাইড কে জিজ্ঞাসা করলো কাছাকাছি যদি কোনো ওষুধের দোকান পাওয়া যায়।গাইড বললো," না ম্যাডাম,তবে মন্তেসরি আছে,ওখানে আপনি ওকে নিয়ে একটু বসতে পারেন। এই পাহাড়ি রাস্তায় এতটা জার্নি করে এসে ওর শরীরটা খারাপ লাগছে হয়তো।" গাইডের সাথে রিনিতা শুভমকে নিয়ে পৌঁছলো মন্তেসরিতে।রিনিতাকে আসতে দেখে কিছু সন্ন্যাসীরা এগিয়ে এলেন।রিনিতা ছেলের অসুস্থতার কথা বললো।ওনারা ওদের দুজনকে নিয়ে মঠের অধ্যক্ষের ঘরে নিয়ে গিয়ে বসালেন। 
শুভমকে দেখে এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন উনি। অবিকল নিজের ছোটবেলা যে!রিনিতা অধ্যক্ষের দিকে তাকিয়ে চমকে উঠলো!বলে উঠলো,"শুভ তুমি এখানে?" সেই সন্ন্যাসী বললেন,
" আপনার ভুল হচ্ছে ম্যাডাম, আমি এখানকার প্রধান বেদানন্দ মহারাজ।" 
"তুমি এখানে কি করে শুভ?","কে শুভ ম্যাডাম? আমি চিনি না এই নামের কাউকে।"  রিনিতা বললো," আমি সেদিন খুব বড়ো ভুল করেছিলাম তোমায় ছেড়ে চলে এসে।"
" কিসের ভুল ম্যাডাম? তখন যে এই বেদানন্দ ওরফে শুভ বেকার ছিল,আপনি টাকার মাপকাঠি তে বিচার করেছিলেন ভালোবাসাকে,চলে গেছিলেন নিজের বাবা মায়ের পছন্দের ধনী ছেলেকে বিয়ে করে।সেদিন থেকে শুভ নামটা আমি ঘেন্না করি।আর এই মঠে এসে আমি খুব শান্তিতে আছি।" রিনিতা বললো,"জানো শুভ,শুভম তোমারি সন্তান।প্রতীকের সাথে বিয়ের আগেই আমি বুঝতে পেরেছিলাম সন্তান আসার কথা,কিন্তু বাবার ভয়ে কিছু বলতে পারিনি কাউকে।প্রতীক বিয়ের পর থেকে নিজের ব্যাবসা,পার্টি নিয়ে ব্যস্ত থাকতো।ও তাই বুঝতে পারেনি যে শুভম ওর সন্তান নয়। একসময় আমার সব স্বাধীনতা কেড়ে আমায় ঘরে বসিয়ে দিতে চেয়েছিল প্রতীক।তারপর অশান্তি চরমে ওঠে।আমরা এখন আলাদা থাকি ডিভোর্সের পর।" সব শুনে বেদানন্দের খুব ইচ্ছে হলো শুভমকে একবার জড়িয়ে ধরতে।কিন্তু না,সন্ন্যাসীদের পূর্বরাগের কোনো কথা মনে রাখতে নেই।নিজের ফার্স্ট এইড বক্স থেকে বমি কমানোর ওষুধ আর জল এগিয়ে দিলেন শুভমের দিকে।রিনিতাকে বললেন,"এটা খেয়ে ছেলে সুস্থ হলে,ওকে নিয়ে চলে যাবেন এখান থেকে।" বলেই রুম থেকে বেরিয়ে গেলেন খুব তাড়াতাড়ি,হয়তো চোখের জল লুকোতে চাইছিলেন।রিনিতা অপরাধীর মত মুখ করে বেরিয়ে গেলো ছেলেকে নিয়ে।গাড়িতে উঠে বসলো। গাইড কিছুক্ষন পর এসে বললো," ম্যাডাম এই ওষুধটা আপনার জন্য বেদানন্দজী পাঠিয়েছেন,আর সাথে একটা চিরকুট।" চিরকুটটা খুলে দেখলো লেখা আছে,"গাড়ীর ঝাঁকুনিতে তোমারও তো বমি হয় রিনি,খেয়ে নিও ওষুধটা।"
      রিনিতা দুহাতে মুখ চেপে কাঁদতে লাগলো,শুভম জড়িয়ে ধরলো মাকে।আর গাড়িটা চোখের আড়াল না হওয়া পর্যন্ত এক দৃষ্টে তাকিয়ে রইলেন বেদানন্দজী।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২২

শিরোনাম - ত্রাতা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - ত্রাতা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


স্ত্রী সরমা দেবী চলে যাওয়ার পর থেকে রমেশ বাবু একাই থাকেন। একমাত্র ছেলে অনীক কর্মসূত্রে বিদেশে থাকে। বাবাকে অনেক অনুরোধ করেও নিজের কাছে নিয়ে যেতে পারেনি অনীক। সরমা দেবীর স্মৃতি আকড়েই জীবনের বাকি দিন গুলো নিজের হাতে তৈরি বাড়ীতেই কাটাতে চান রমেশ বাবু। সামনে একফালি বাগানও আছে। নিজেদের মনের মত করে বাড়িখানি বানিয়েছিলেন সরমা দেবী আর রমেশবাবু। কিন্তু কদিন ধরেই পাড়ার এক মস্তান ছেলে এসে রমেশ বাবুকে হুমকি দিচ্ছে বাড়িটা প্রোমোটারকে দিয়ে দেওয়ার জন্য। ভালো পজিশন আছে, অনেক দাম পাওয়া যাবে। রমেশ বাবু বলেছেন প্রাণ থাকতে এই বাড়ী কাউকে দেবেন না। মস্তান বলে গেছে ভালো করে ভাবুন, সময় দিলাম তিন দিন। রমেশ বাবু পাত্তা দেননি অত বেশী। সেদিন রাতেই খেয়েদেয়ে ছেলের সাথে ফোনে কথা বলে ঘুমোতে গেলেন রমেশ বাবু। বেশ গুমোট ছিলো, জানলা গুলো খুলে দিলেন উনি। দমকা হাওয়া দিতে শুরু করলো হঠাৎ করেই, গুমোট ভাবটা কিছুটা হলেও কমলো। খানিক পরে ঝমঝম বৃষ্টি নামলো। স্বস্তির নিঃশ্বাস নিলেন রমেশ বাবু। গরমে টেকা দায় হয়ে যাচ্ছিলো। পুরনো আমলের ঘড়িতে তখন ঢং ঢং করে বারোটা বাজার শব্দ হলো। বৃষ্টির তেজ ক্রমশ বাড়তে লাগলো, সহসা লোডশেডিং হয়ে গেলো। হঠাৎ করে বিদ্যুতের ঝলকানি আর কানে চাপা দেওয়ার মতো কড় কড়াত করে আওয়াজ। রমেশবাবু বিছানায় উঠে বসে রইলেন। ঘুম আসছেনা কিছুতেই, আলো টাও নেই। টেবিলে এসে বসলেন, মোমবাতিটা জ্বালিয়ে একটা ম্যাগাজিন খুললেন। পড়তে পড়তে কখন টেবিলে মাথা রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন নিজেও জানেননা। কিছুক্ষন পর দরজায় কড়া নাড়ার আওয়াজে ঘুমটা ভেঙ্গে গেলো ওনার। ভাবলেন এতো রাতে কে এলো রে বাবা! হাওয়ার ধাক্কা ভেবে আবার বইতে মনোনিবেশ করলেন। নাহ এবারে আর কড়া নাড়ার শব্দ নয়, কেউ যেনো জোর ধাক্কা মারছে দরজায় আর চেঁচিয়ে বলছে দরজা খোল বুড়ো! তোর বাড়ি কি করে আগলাস আমিও দেখবো! বেরিয়ে আয় বাইরে। রমেশ বাবু গলা শুনে বুঝলেন সেই মস্তান এসেছে যে হুমকি দিয়ে গেছিলো। বুকে সাহস নিয়ে রমেশ বাবু দরজা খুলে দিলেন। মস্তান তার সঙ্গীদের নিয়ে ঘরে ঢুকলো। রমেশ বাবু কিছু বলার আগেই ওনার গলায় ছুরি ধরে মস্তান একটা কাগজ দেখিয়ে  বললো এই কাগজে সই করে দে চটপট, বাড়িটা আমাদের চাই। একি অন্যায্য দাবী তোমাদের? এসব ঠিক করছোনা তোমরা! ঠিক ভুল পরে শেখাবি আগে সই কর। না প্রাণ থাকতে এই বাড়ী আমি কাউকে দেবো না! তাই নাকি? নে তাহলে মর তুই! ছুরিটা চালাতে যাবে রমেশ বাবুর গলায় এমন সময় ছুরিটা হাত থেকে পড়ে গেলো মস্তানের। মস্তান নীচু হয়ে ছুরিটা তুলতে যাবে, কেউ যেনো ধারালো কিছু রাখলো ওর পিঠের ওপরে। মস্তান ঘাড় ঘুরিয়ে পরে সোজা হয়ে উঠতে যায় কিন্তু পারে না! ঝোড়ো বাতাস বয়ে যায় বাড়ীর মধ্যে দিয়ে, রমেশ বাবু তখন মস্তানের হাত থেকে নিজেকে ছাড়িয়ে একটু ধাতস্থ হতেই দেখে দশভূজা দেবীর পায়ের তলায় শুয়ে আছে মস্তান, পিঠে ত্রিশূল খোঁচা মারছে ওর। স্ত্রী সরমা যখন পুজো আচ্চা করতেন অতটাও গুরুত্ব দিতেননা রমেশ বাবু। নাস্তিক গোছের মানুষই ছিলেন তিনি। আজ এই দৃশ্য দেখে ভাবেন একি স্বপ্ন না সত্যি! স্ত্রীর ভক্তির জোরেই আজ কি এই অভাবনীয় ঘটনার সাক্ষী হচ্ছেন তিনি? দুটো হাত নিজের অজান্তেই কপালে চলে আসে, প্রণাম জানান তাঁর রক্ষা কারীনিকে। ওদিকে মস্তান তখন ভয়ে চুপ,বাইরে কুকুরের চিৎকার শোনা যাচ্ছে, মনে হচ্ছে তারাও পারলে মস্তানকে ছিড়ে খেয়ে ফেলবে। দশভূজার পায়ের তলা থেকে ফুটবলের মতো গড়িয়ে এসে মস্তান রমেশ বাবুর পায়ের কাছে এসে পড়ে। ক্ষমা চায় ওনার পায়ে ধরে! মুখে ভয়ের ছাপ স্পষ্ট! রমেশ বাবু বলেন আর কোনোদিন এপথে এসো না! সৎ উপায়ে চলার চেষ্টা করো। মস্তান চুপ থেকে খানিক পরে দৌড় লাগায় সেখান থেকে। অদ্ভুত ভাবে তখন দশভূজার মূর্তি মিলিয়ে যায় সেখান থেকে। রমেশ বাবু তখনো ঘোরের মধ্যে ছিলেন। দিনের আলো ফুটলে,পাখির ডাকে ওনার সম্বিত ফেরে। নাকে আসে শিউলির সুবাস,মাটির দিকে তাকিয়ে দেখেন কে যেনএকগুচ্ছ শিউলি রেখে গেছে ঘরের মধ্যে। দূর থেকে কানে ভেসে আসে "আশ্বিনের শারদ প্রাতে...।" বিড়বিড় করে রমেশ বাবু বললেন দেবীপক্ষ শুরু তবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - দুরত্ব ✍️ ডা: অরুণিমা দাস আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আ...