মঙ্গলবার, ২৭ জুন, ২০২৩

শিরোনাম - পজিটিভিটি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - পজিটিভিটি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পজিটিভ ভাবো সদা,নো নেগেটিভ ভাবনা
বিপদে পড়লেও কভু পিছু হটো না।

চড়াই উৎরাই জীবনের পথ,
আনন্দ যে এই পথ চলাতেই 
থেমো না,শুধু চলো ভালোমন্দ উভয় গ্রহন করেই।

জয় যে হবেই একদিন,জেতার পথ যে নয়কো সোজা
বিজয় পতাকা উত্তোলন করে সেদিন তুমি হবে রাজা।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ২১ জুন, ২০২৩

শিরোনাম - এক রাউন্ড গুলি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - এক রাউন্ড গুলি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

গল্পটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। এক ভারতীয় ছেলে অমৃতাংশু চৌধুরী ডাক্তারী পড়তে জার্মানিতে   যায়, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার তৃতীয় বর্ষ। কলেজের প্রফেসর লর্ড ব্যারন খুব স্নেহ করতেন তাকে। ব্যারন ছিলেন খাঁটি জার্মান। তখন কার সময়ে ইহুদী আর জার্মানদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো না। জানা সত্ত্বেও ব্যারন তার বাড়িতে স্টেলা নামক ইহুদীকে তার দুই ছেলের গভরনেস হিসেবে রেখেছিলেন। মাতৃহারা দুই ছেলে আবেল আর হানস কে স্টেলা মায়ের স্নেহেই বড়ো করে তুলেছিল। ব্যারণের বাড়িতে শু (অমৃতাংশুর নাম) এর যাতায়াত ছিলো ভালই। এই সূত্রেই স্টেলার প্রেমে পড়ে সে। ব্যারন খুব ভরসা করতেন স্টেলা কে,তাই ইহুদী জার্মান দ্বন্দ্ব চলাকালীন বাইরের কাউকে জানতে দেন নি স্টেলা ইহুদী। কিন্তু ব্যারনের বাড়ির বাকি কাজের লোকরা জার্মান ছিলো। তাদের মধ্যে মারিয়া স্টেলাকে দু চোখে দেখতে পারতো না ইহুদী বলে। শু আর স্টেলার সম্পর্ক ভালো চোখে দেখত না সে। একদিন হিংসার বশবর্তী হয়ে মারিয়া জার্মান ক্যাম্পে জানিয়ে দেয় স্টেলার কথা,সে যে ইহুদী সেই কথা জানিয়ে দেয়। ব্যারন কোনো ভাবে তা জানতে পেরে স্টেলাকে বাঁচানোর জন্য ছেড়ে আসেন প্রিয় ছাত্র শু এর কাছে। কিছু টাকা আর নার্সের পোশাক স্টেলার সাথে দিয়ে দেন যাতে শু ডাক্তার আর স্টেলা তার সহকারী নার্স সেই পরিচয়ে তারা বার্লিনে পালিয়ে যেতে পারে যুদ্ধ শিবিরে আহত সৈনিক দের সেবা করতে পারে। স্টেলা কেও এভাবে জার্মান আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারবেন ব্যারন। স্টেলার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ কারণ তার দুই ছেলেকে স্টেলা আপন করে নিয়েছিল। ব্যারন নিজে সব ঝুঁকি নিয়ে শু আর স্টেলা কে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বার্লিন গামী ট্রেনে। চারিদিকে যুদ্ধ কালীন তৎপরতা, যে কোনো সময়ে বোম পড়তে পারে। স্টেশনে ঢোকার মুখে একটা বোম ফেলে জার্মানি। তারপর শুরু হয় গুলির খেলা। এক রাউন্ড গুলি চলার পরে শু আর খুঁজে পায় না স্টেলাকে, স্টেশনেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একুশ দিন পর যখন শু এর জ্ঞান ফিরে আসে নিজেকে আবিষ্কার করে এক সেনা হাসপাতালে। উঠে বসতে গিয়ে দেখে একটা পা খোয়া গেছে তার। রাউন্ডে ডাক্তার বাবু তার ছুটি ঘোষণা করেন। ক্রাচ পায়ে বেরিয়ে পড়ে সে স্টেলার খোঁজে। সমস্ত সেনা শিবির খুঁজে ফেলে তন্ন তন্ন করে। কোথাও পায় না তার স্টেলা কে। ব্যারনের বাড়ী গিয়ে দেখে কেউ দখল নিয়েছে সেই বাড়ীর। বোম আর গুলির খেলায় শু হারিয়ে ফেলে স্টেলা কে কিন্তু বিশ্বাস রাখে কোনো না কোনোদিন স্টেলা ঠিক ফিরে আসবে, যেদিন যুদ্ধ শেষ হবে, পৃথিবী শান্ত হবে। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ১৩ জুন, ২০২৩

গ্রন্থালোচনা

বিষয় - গ্রন্থালোচনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমার পড়া প্রিয় বই- অগ্নীশ্বর
লেখক- বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায় (বনফুল)


আমার পড়া সব বইয়ের মধ্যে অন্যতম প্রিয় একটি বই হলো বলাই চাঁদ মুখোপাধ্যায়ের (বনফুল) লেখা "অগ্নীশ্বর "। অগ্নীশ্বর লেখাটি তাঁর এক অনবদ্য সৃষ্টি। এই নামে সত্যিই কেউ ছিলেন কিনা সেটা গবেষণা সাপেক্ষ। তবে বনফুল নিজেই এর উত্তর দিয়েছিলেন। বনফুল সৃষ্ট অগ্নীশ্বর মুখোপাধ্যায় ছিলেন মেডিক্যাল কলেজের শিক্ষক চিকিৎসক (১৮৮৫-১৯৬৫)। আসল নাম ছিল বনবিহারী মুখোপাধ্যায়। বনফুলের সঙ্গে তাঁর আলাপ হয়েছিল রেলওয়ে মেডিক্যাল অফিসার পদে থাকার সময়। বনবিহারী চিকিৎসাশাস্ত্র আর সাহিত্য চর্চা সমান ভাবেই করতেন।  দৃঢ়চেতা মনোভাবের মানুষ ছিলেন তিনি। বনফুলের লেখায় তার যে ব্যক্তিত্বের ছবি পাঠক মনে ফুটে উঠেছে টা অকল্পনীয় হলেও কিছুটা বাস্তবতাও রয়েছে তার মধ্যে।

বইটি পড়ে আমার অনুভূতি খুব ছোট্ট করে লেখার মাধ্যমে ব্যক্ত করার চেষ্টা করছি।

অগ্নীশ্বর নাম টির মধ্যেই বোঝা যায় তিনি আগুনের মতোই উজ্জ্বল আর প্রখর ছিলেন। এইটুকুই মিল ছিল তার সাথে অগ্নির। তাঁর হৃদয়ের অন্ত:স্থলে একটা পরোপকারী, নিঃস্বার্থ, রোগী প্রেমিক মানুষ সর্বদা বিরাজ করত। কুসংস্কারের ঘোর বিরোধী ছিলেন তিনি। বাইবেলে মানুষকে ডিভাইন বললেও তাঁর চোখে মানবজাতি ছিল বোভাইন, পেজোমি আর বোকা বদমায়েশি র মিশেল। 
সব রোগী রোগিনী রা তার কাছে সমান ছিল। উচ্চ পদকর্তা রা ভাবতেন তাদের পদ মর্যাদার জোরে অগ্নীশ্বর কে দিয়ে স্পেশাল ট্রিটমেন্ট আদায় করাবেন, কিন্তু তা কোনোভাবেই সম্ভবপর ছিল না। রেলওয়ের হসপিটাল ছিল চেরিটেবল হসপিটাল, তাই কোনো কর্তা তাঁর কাছে স্পেশাল অ্যাটেনশন চাইলে বলতেন এই হসপিটালে লোকে ওষুধ ভিক্ষা করতে আসেন, আপনিও সেই জন্য এসেছেন। এর চেয়ে বেশি কিছু দাবী করবেন না। 
তাঁর রোগ নির্ণয়ের পদ্ধতি আর চিকিৎসা পদ্ধতি সত্যিই প্রশংসার দাবী রাখে। যে ভাবে তিনি তার চিকিৎসা নৈপুণ্যের জোরে মানুষের হৃদয়ে জায়গা করে নিয়েছিলেন তা সত্যিই মাখনের তালের মধ্যে ছুরির মতো। 
রেলওয়ের দুঁদে ইঞ্জিনিয়ার যোগেশ রক্ষিত কে যেভাবে উপহাসের পাত্র করেছিলেন,তাতে হাসা র ছিল না কোনো মানা। রেলওয়ের ডি টি এস স্কট সাহেবকে তার  উদ্ব্ত্যের জন্য নাকানি চোবানি খাইয়ে ছেড়েছিলেন। অগ্নীশ্বর কে মিস্টার স্কট তার স্ত্রী কে দেখার জন্য টেলিগ্রাম করেছিলেন, কিন্তু তাতে প্লীজ লেখা না থাকার জন্য অগ্নীশ্বর যান নি আর হসপিটালে অ্যাপেন্ডিক্স এর অপারেশন করাটা তাঁর কাছে বেশি ইমার্জেন্সী মনে হয়েছিল। তাই পাঠিয়েছিলেন তাঁর সাব অ্যাসিস্ট্যান্ট সার্জন ডাঃ লতিফকে। মিস্টার স্কট যে দুর্ব্যবহার করেছিলেন ডা: লতিফের সাথে সেটা অগ্নীশ্বর ভোলেন নি। কিছুদিন পর বদলা নিয়েছিলেন ঠিকই তিনি। রেলের কর্মচারী দের আনফিট সার্টিফিকেট দিয়ে রেলের কর্মব্যবস্থা কে মুখ থুবড়ে মাটিতে ফেলে দিতে পিছপা হন নি। স্কট আই জি সাহেব কে অভিযোগ করলেও অগ্নীশ্বরের বিরুদ্ধে কোনো স্টেপ নেওয়া হয়নি। এরকমই দোর্দন্দপ্রতাপশালী ব্যক্তি ছিলেন অগ্নীশ্বর।

এবার বলি অগ্নীশ্বরের সাহিত্য চর্চা নিয়ে। বনফুল কে তিনি উপহার দিয়েছিলেন " *আধুনিক পঞ্চকন্যা* " লেখাটি, যেটা বনফুল পড়েছিলেন এফ আর সি এস করতে স্কটল্যান্ড যাওয়ার সময় জাহাজে বসে।লেখাটিতে পুরাকালের পাঁচ জন নারীর যেমন উল্লেখ ছিল তার সাথে অগ্নীশ্বরের বাস্তব জীবনে দেখা পাঁচ জন নারীরাও স্থান পেয়েছিল। বাস্তবের পাঁচ নারীর প্রত্যেকের ঘটনাই মনে আঁচড় কেটেছিল। এই পাঁচজনের মধ্যে সুছন্দা চরিত্র টি অন্যতম ছিল আমার কাছে। 

বিদেশ থেকে ফিরে বনফুল অনেক খোঁজ করেছিলেন অগ্নীশ্বর এর, কিন্তু পাননি তার সন্ধান। 
অগ্নীশ্বরের ছেলের সাথে যোগাযোগ করে একটি চিঠির দেখা মেলে যাতে লেখা ছিল সংসারের গণ্ডিতে আবদ্ধ থাকতে চাননি তিনি। তাই ছেলের হাতে সব দায়িত্ব ছেড়ে তিনি গড্ডালিকা প্রবাহে গা ভাসিয়ে দিলেন। বনফুলের চোখে যেমন অগ্নীশ্বর অমর, আমার চোখেও তাই। এরকম দৃঢ়চেতা, মহানুভব আত্মার বিনাশ কোনোদিন ই হয় না, হবেও না।
শেষ করবো অগ্নীশ্বরের কিছু উক্তি দিয়ে। পা সবারই আছে, তা বলে সেটা সবাইকে চাটতে হবে এমন কোথাও লেখা নেই।
আর একটি উক্তি ছিল - উপকার হলো "a sort of exhibitionism" তাই যখন চাগাড় দেয় তখন বে - এক্তার করে দেয়। তাই যথাসাধ্য লুকিয়ে করি।

অগ্নীশ্বর কে আদর্শ করে তাই পথ চলার চেষ্টা করি।
 
--- ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 😊

পাঠ প্রতিক্রিয়া ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পাঠ প্রতিক্রিয়া
✍️ ডা:অরুণিমা দাস
বইয়ের নাম - জাল
লেখক - মোহাম্মদ নাজিমুদ্দিন

সম্প্রতি পড়ে শেষ করেছি জাল নামের গল্প বইটি। থ্রিলার প্রেমীদের জন্য আদর্শ একটি বই। কিভাবে একজন নামকরা ব্যারিস্টার কে মিথ্যে খুনের অভিযোগে ফাঁসানো হয়েছে আর এক্স ডিবি কে এস কে এর ক্ষুরধার বুদ্ধি আর জটিল পাসলস সলভ করার নৈপুণ্যতায় ব্যারিস্টার রক্ষা পায় শেষ অব্দি সেটাই গল্পের মূল বিষয়। আরও কিছু বিশেষ চরিত্র হলো ডা: মামুন, রফিক, মাহবুব এনারা। আসল খুনি কে ছিলো! খুঁজে বের করতে গিয়ে নাজেহাল হন ডিবি ইনভেস্টিগেটর আমিনুল আর তার সহকারীরা। তাই মাঝে মধ্যে শরনাপন্ন হতেন কে এস কে এর কাছে। এদিকে ব্যারিস্টার নিজেও আলাদা ভাবে কে এস কে এর কাছে যান নিজেকে উদ্ধার করার জন্য। ব্যারিস্টার জানায় একটা জালে তিনি ক্রমাগত আটকা পড়ে চলেছেন। শেষ পর্যন্ত বুদ্ধির জোরে কে এস কে উদ্ধার করেন ব্যারিস্টার কে জাল থেকে। দুর্দান্ত এক থ্রিলার, আর টানটান উত্তেজনায় ভরপুর এই বইটি। আশা করি সকলের ভালো লাগবে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...