শিরোনাম - এক রাউন্ড গুলি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
গল্পটা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময়কার। এক ভারতীয় ছেলে অমৃতাংশু চৌধুরী ডাক্তারী পড়তে জার্মানিতে যায়, যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে তার তৃতীয় বর্ষ। কলেজের প্রফেসর লর্ড ব্যারন খুব স্নেহ করতেন তাকে। ব্যারন ছিলেন খাঁটি জার্মান। তখন কার সময়ে ইহুদী আর জার্মানদের মধ্যে খুব ভালো সম্পর্ক ছিলো না। জানা সত্ত্বেও ব্যারন তার বাড়িতে স্টেলা নামক ইহুদীকে তার দুই ছেলের গভরনেস হিসেবে রেখেছিলেন। মাতৃহারা দুই ছেলে আবেল আর হানস কে স্টেলা মায়ের স্নেহেই বড়ো করে তুলেছিল। ব্যারণের বাড়িতে শু (অমৃতাংশুর নাম) এর যাতায়াত ছিলো ভালই। এই সূত্রেই স্টেলার প্রেমে পড়ে সে। ব্যারন খুব ভরসা করতেন স্টেলা কে,তাই ইহুদী জার্মান দ্বন্দ্ব চলাকালীন বাইরের কাউকে জানতে দেন নি স্টেলা ইহুদী। কিন্তু ব্যারনের বাড়ির বাকি কাজের লোকরা জার্মান ছিলো। তাদের মধ্যে মারিয়া স্টেলাকে দু চোখে দেখতে পারতো না ইহুদী বলে। শু আর স্টেলার সম্পর্ক ভালো চোখে দেখত না সে। একদিন হিংসার বশবর্তী হয়ে মারিয়া জার্মান ক্যাম্পে জানিয়ে দেয় স্টেলার কথা,সে যে ইহুদী সেই কথা জানিয়ে দেয়। ব্যারন কোনো ভাবে তা জানতে পেরে স্টেলাকে বাঁচানোর জন্য ছেড়ে আসেন প্রিয় ছাত্র শু এর কাছে। কিছু টাকা আর নার্সের পোশাক স্টেলার সাথে দিয়ে দেন যাতে শু ডাক্তার আর স্টেলা তার সহকারী নার্স সেই পরিচয়ে তারা বার্লিনে পালিয়ে যেতে পারে যুদ্ধ শিবিরে আহত সৈনিক দের সেবা করতে পারে। স্টেলা কেও এভাবে জার্মান আক্রমণ থেকে বাঁচাতে পারবেন ব্যারন। স্টেলার কাছে তিনি কৃতজ্ঞ কারণ তার দুই ছেলেকে স্টেলা আপন করে নিয়েছিল। ব্যারন নিজে সব ঝুঁকি নিয়ে শু আর স্টেলা কে পৌঁছে দিতে গিয়েছিলেন বার্লিন গামী ট্রেনে। চারিদিকে যুদ্ধ কালীন তৎপরতা, যে কোনো সময়ে বোম পড়তে পারে। স্টেশনে ঢোকার মুখে একটা বোম ফেলে জার্মানি। তারপর শুরু হয় গুলির খেলা। এক রাউন্ড গুলি চলার পরে শু আর খুঁজে পায় না স্টেলাকে, স্টেশনেই অজ্ঞান হয়ে পড়ে। একুশ দিন পর যখন শু এর জ্ঞান ফিরে আসে নিজেকে আবিষ্কার করে এক সেনা হাসপাতালে। উঠে বসতে গিয়ে দেখে একটা পা খোয়া গেছে তার। রাউন্ডে ডাক্তার বাবু তার ছুটি ঘোষণা করেন। ক্রাচ পায়ে বেরিয়ে পড়ে সে স্টেলার খোঁজে। সমস্ত সেনা শিবির খুঁজে ফেলে তন্ন তন্ন করে। কোথাও পায় না তার স্টেলা কে। ব্যারনের বাড়ী গিয়ে দেখে কেউ দখল নিয়েছে সেই বাড়ীর। বোম আর গুলির খেলায় শু হারিয়ে ফেলে স্টেলা কে কিন্তু বিশ্বাস রাখে কোনো না কোনোদিন স্টেলা ঠিক ফিরে আসবে, যেদিন যুদ্ধ শেষ হবে, পৃথিবী শান্ত হবে।
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন