বিশ্বকর্মা পুজো স্পেশাল
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
ও বিশু দা,সব রেডি তো? গাড়ী টা ঠিক আছে কিনা চেক করে নিয়েছো? হাতিয়া বলে উঠলো।
- হ্যা চেক করে নিয়েছি সব। তোর ওপর কোনো দায়িত্ব দিয়ে কি আর আমি নিশ্চিন্ত হতে পারি?
- এরকম করে বললে তো? জানো আমি কি করছিলাম?
- কি রাজকার্য করছিলে শুনি? নিজের খাবার গুলো প্যাক করছিলে! এই তো?
- না গো বিশু দা! আমি তোমার জন্য অনলাইনে এস্পেশাল মাঞ্জা দেওয়া সুতো অর্ডার দিচ্ছিলাম। ডেলিভারির ঠিকানা মর্ত্যে দিয়েছি।
- বা বেড়ে বুদ্ধি হয়েছে তো তোর! ডায়েট টা করতে বলেছিলাম ওই জন্য। বুদ্ধি খোলতাই হচ্ছে তোর।
- ডায়েট তো সেরকম করিনি বিশু দা! সরস্বতী দি বলেছিল অনলাইনে অর্ডার টা দিতে। দিদি তো এসব অনলাইন জিনিস গুলো ভালো বোঝে।
- হ্যা তুমি তো আবার দিদি ভক্ত। তা তোমার দিদির এসব অনলাইনে কাজ করার যে সফটওয়্যার সেটা কিন্তু বানায় তোমার এই বিশু দা। বুঝেছ?
- হাতিয়া ঘাড় নেড়ে বললো হ্যা দাদা!
ওদের কথার মাঝে বিশু দাদার ফোনে একটা কল আসে। ফোন খুলে দেখে মা দুর্গার ফোন। বিশু দা বলে হ্যা মা বলুন, এই তো বেরোবো একটু পরেই। আপনার কোনো চিন্তা নেই। কাল গনু আসবে তো! ওর জন্য সব প্যান্ডেল রেডী কিনা, নিরাপত্তা কেমন থাকবে ওর সব দেখে নেবো আজ রাতের দিকে। ওকে খালি অ্যান্টাসিডটা গুছিয়ে পাঠিয়ে দেবেন। আহা! বাছা আমার একটু খেতে না হয় ভালোইবাসে, তা বলে এরকম বলবে তুমি বিশ্বকর্মা? না মা সেটা নয়, সাবধান থাকা ভালো। আপনি কি রাগ করলেন? না বিশু রাগ করিনি। তবে হ্যা বাপু মর্ত্যে গিয়ে আবার বেশি ঘুড়ি লাটাই নিয়ে ব্যস্ত হয়ে যেওনা! ওসব মাঞ্জা সুতো দিয়ে যেনো আমার কোনো ভক্তের ক্ষতি না হয় দেখো। আচ্ছা মা খেয়াল রাখবো। তাহলে বেরিয়ে পড়ো এবার। সাবধানে যেও বাছা। পৌঁছে সরু কে একটা মেসেজ করে দিও। হ্যা মা মেসেজ করে দেবো। রাখি এখন।
এই হাতিয়া চল চল। গাড়ীতে উঠি। ওখানকার যা রাস্তা ঘাট পৌঁছতে অনেক সময় লাগবে। ভক্তরা না খেয়ে রয়েছে সব।
-ছাড়ো তো বিশু দা! রাতে তো সব ছাইপাশ খেয়ে পড়ে থাকবে তোমার ভক্ত রা! মাইকের শব্দ আর ওদের উদ্দাম নাচে আমার ঘুমটাই মাটি হবে। সে যাই হোক,ফিরে এসে ঘুমিয়ে নেবো।
-হ্যা সে যা পারিস করিস,এখন চল বেরোই আমরা। প্যান্ডেলে সকলে অপেক্ষা করছে।
- চলো বিশু দা।
একটা বছরের অপেক্ষার পর বেশ ভালোই লাগে খাতির যত্ন পেতে। কি বলো?
-ভালো বলেছিস হাতিয়া।
বিশুদা আর হাতিয়া গাড়ীতে উঠে রওনা দিলো মর্ত্যের পথে। ভালো কাটুক বিশ্বকর্মা পুজো সকলের।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন