শনিবার, ২৮ অক্টোবর, ২০২৩

আরাধনা রাইট ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আরাধনা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কোজাগরী পূর্ণিমা, চাঁদের আলোয় আলোকিত গগন
আলপনা দিয়ে লক্ষ্মীর পদচিহ্ন,হোক দেবীর আগমন।

দেবী বিরাজ করুন ঘরে ঘরে,সব দুঃখ ঘুচুক
মঙ্গল কামনা করে জনে জনে পুজোয় মাতুক।

মিষ্টান্ন ফলমূল সাজিয়ে প্রসাদের থালা করুক নিবেদন
সম্মুখে বসি পড়ে পাঁচালী,শুনেন যে লক্ষী নারায়ণ।

আশীষ দিও সবারে, গৃহ হোক ধনধান্যে পরিপূর্ণ
মনস্কামনা পূরণ কোরো সকলের,অভাব যেনো হয় নগণ্য।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


মঙ্গলবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৩

শুভ বিজয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শুভ বিজয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

প্রথমা থেকে নবমী, আকাশে বাতাসে পুজোর রেশ
দশমীর আগমন জানান দিলো পুজো এবার হবে শেষ।

চলছে দশমী পুজো, মেঘে মেঘে কাটছে যে বেলা
যাবার সময় এবার উমার,সাজছে যে বরণডালা।

নীলকন্ঠ পাখি উড়ে চলে কৈলাসে, উমা আসার খবর দিতে
মহাদেব ভীষণ খুশী,চারদিন শেষে গিন্নি আসছে তার মর্ত্য হতে। 

মনভরা বিষাদে সকলে জানাচ্ছে বিদায়,বিজয়ার শুভেচ্ছা রইল 
আগামী বছরের অপেক্ষা শুরু,উমাদেবী কৈলাসে ফিরলো।

©️রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ অক্টোবর, ২০২৩

মর্ত্যে আগমন লাইভ

মর্ত্যে আগমন লাইভ
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

কিরে তোরা সকলে তৈরী হলি? উমা দেবী শাড়ির আঁচল ঠিক করতে করতে বলেন। মা আমার বাটার ফ্লাই ক্লিপ টা খুঁজে পাচ্ছি না! কোথায় রেখেছো গো? লক্ষ্মীর কথায় উমাদেবী ভ্রু কুঁচকে বললেন দেখো গে যাও তোমায় ভাইবোনদের ঘরে। আমি কি সব কিছুর ঠেকা নিয়ে বসে আছি? লক্ষ্মী চুপ করে সরে গেলো। কার্তিক চন্দ্র এসে বললো হাই মাম্মা! হেয়ার ট্রিটমেন্ট করিয়েছি দেখো তো কেমন হয়েছে? উমা দেবী একবার তাকিয়ে চমকে উঠে বললেন ওগো শুনছো দেখে যাও তোমার ছেলের কাণ্ড! ওদিকে উনি তো ছয় দিনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন, গঞ্জিকা সেবনের সব জিনিস পত্র সংগ্রহ করছে নন্দী ভৃঙ্গী। গিন্নীর ডাক শুনে জটা জুটো সামলে দৌড়ে এসে বললেন কি হয়েছে উমা? 
কি হয়েছে মানে? দেখো কাতু কি করেছে? চুলটাকে রংচং দিয়ে নষ্ট করেছে। এসব ওই মর্ত্যের ছোড়া গুলোকে দেখে শিখে এসেছে নিশ্চয়ই। না না মাম্মা, কার্তিক বললো। এই ট্রিটমেন্টটা আমায় বিশু মামা বলেছেন। এতে নাকি চুল ভালো থাকে। তোমার বিশু মামা কে দেখছি, ফিরে আসি মর্ত্য থেকে। বাবা খুব বাজে লাগছে কি? না রে, মডার্ন হবি, কিন্তু মন যেনো নিষ্পাপ থাকে। খালি একটু সজারুর কাটার মত লাগছে তোর মাথাটা। ওহ বাবা, ওটাকে স্পাইক বলে। যাক গে আমি তো ছাই মেখে থাকা মানুষ,অত বুঝিনা বাপু। তোদের সাজতে দেখলে আমার খুব ভালো লাগে রে! কোথায় একটু শাসন করবে তা নয়! উনি আরো তোল্লাই দিচ্ছেন ছেলে কে! আরে গিন্নি চটছো কেনো? আমাদের ছেলে মেয়ে গুলো তো আর অবাধ্য নয়। কদিন একটু মামাবাড়ি গিয়ে আনন্দ করে আসুক না। দাড়াও তোমার আর দুজন বাচ্চার খোজ নিই। তারা কে কি করছে! গনু বাবা কোথায় তুই? এই তো আমি প্রায় তৈরী মা! তোর চোখে এটা কি বাবা? কেনো মা সানগেলাস! ইদুর টা ফিচ ফিচ করে বলে। সেটা কি রে গনু? আরে মাম্মা এটা টাইটান থেকে করানো স্পেশাল সানগ্লাস। ওই মর্ত্যে গিয়ে রোদে রোদে ঘুরে যাতে চোখের ক্ষতি না হয় কিনেছি অনলাইন অর্ডার দিয়ে। তোদের পাশে আমিই বোধয় বড্ড সেকেলে লাগবো। না মা একদম না! তুমি যাই পরো না কেনো ইউনিক লাগে সব সময়, সরু এসে বললো। দেখো তো মা এই হেড ফোন টা কেমন হয়েছে? উমা দেবী বললেন এসব কেনো সরু? আরে মা মর্ত্যে ওই তোমার ভক্তদের ওসব হিন্দি গানের মাইকের শব্দে আমার মাথা ধরে যায়। তাই এই হেড ফোন কানে দিয়ে একটু ইনোভেটিভ কিছু শুনবো মোবাইলে। আচ্ছা আচ্ছা বুঝেছি। তোরা সব ব্যাগপত্র গুছিয়ে নে। অসুর টা ক্যাব বুক করছে। এসে গেলে আমরা রওনা দেব। বলতে বলতে অসুর এসে বললো মা জননী ক্যাব আসতে আধ ঘণ্টা মতো লাগবে। সিংহ কে দেখেই লক্ষ্মী ছুটে এসে বললো এই তুমি আমার ক্লিপ টা মাথায় নিয়েছো কেনো? বা রে! গরমে আমার কেশর গুলো এদিক ওদিক ছড়িয়ে থাকে,কষ্ট হয় না! তাই এটা দিয়ে সেট করলাম কেশর গুলোকে। এখন বেশ আরাম লাগছে। দেখো না মা! এই বনু চল আমার থেকে ক্লিপ নিবি। সরু বললো। সবার কথার শেষে শিবজী বললেন যাও সবাই সব কিছু দেখে নাও। বাবার কথায় সবাই যে যার ঘরে গেলো। উমা দেবী কে বললেন সাবধানে যেও, তোমায় ছাড়া ঘর টা ফাঁকা ফাঁকা লাগবে। ঢং যত, আমি বেরোলেই তো নন্দী ভৃঙ্গিকে নিয়ে গাঁজা সেবন করতে বসবে। আমার কথা কি ভাবো! ভাবলে এসব করতে না! আচ্ছা কম খাবো না হয়, ছাড়তে তো পারবোনা। যাও তোমার ভক্তরা সব অপেক্ষা করছে, সবাইকে এই কটাদিন হাসিখুশীতে মাতিয়ে রেখে আবার ফিরে এসো কৈলাসে। এই বুড়ো অপেক্ষা করবে তোমার জন্য,ছেলে মেয়েদের জন্য। ওই দেখো হর্নের আওয়াজ, ক্যাব বোধয় এসে গেলো। যাও যাও গিন্নী। হ্যা আসি,তুমিও নিজের খেয়াল রেখো। চার ছেলে মেয়ে অসুরদের নিয়ে উমা দেবী উঠলেন গাড়ীতে। শিবজি সকলকে হাসিমুখে সি অফ করলেন। গাড়ী এগিয়ে চললো কৈলাশ থেকে মর্ত্যের পথে।

মা দুর্গা আসছেন বাপের বাড়ী, সকলে তৈরী হয় ওনাকে সাদরে গ্রহণ করার জন্য। শুভ হোক শারদীয়া। খুব ভালো কাটুক পুজো সকলের। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ অক্টোবর, ২০২৩

মনে ভক্তি রবে✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মনে ভক্তি রবে
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ভক্তি যেমন মানুষকে উন্নতির শিখরে নিয়ে যায়, তেমন অহংকার মানুষকে এক লহমায় পতনের দিকে ঠেলে দেয়। ভক্তি দ্বারা সব কিছু করা যায়, মনে ভক্তি থাকলে যে কোনো কাজ সুষ্ঠ ভাবে সম্পন্ন হয়। আর অহংকার বাসা বাঁধলে কাজের থেকে অকাজ হয় বেশি। সামান্য একটা পাতা যেমন ঈশ্বরের অঙ্গুলিহেলন ছাড়া স্থানান্তরিত হতে পারেনা তেমনি মানুষকেও ঈশ্বরই চালনা করেন। ভক্তি আর অহংকার দুটোই মানুষের নিজস্ব, এবার কোনটা প্রয়োগে নিজের ভালো হবে সেটা নিজেকেই বুঝে নিতে হবে। মনে অহংকার বাসা বাঁধলে তখন মানুষ আর মানুষ থাকে না। নিজেকে পীর ভাবতে শুরু করে,আত্মবিশ্বাসী হবার চেয়ে ওভার কনফিডেন্ট হয়ে পড়ে আর ঠিক তখনি ভুল হয় কাজে। বুঝতে পারে না যে সব কিছুর নিয়ন্ত্রক হলো মন,সেই মনের শুদ্ধতা না থাকলে ভক্তি ভাব না থাকলে প্রতিপদে হেরে যেতে হবে। তাই ভক্তি আর নিষ্ঠা সহকারে সব কাজ করা উচিত, অহংকার ত্যাগ করা উচিত। 

"হৃদ মাঝারে থাকুক ভক্তি সদা,দূর হোক অহংকার
সফলতা ধরা দেবে,বাজবে মনে খুশির ঝঙ্কার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ অক্টোবর, ২০২৩

মোকাবিলা

শিরোনাম-মোকাবিলা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

বিপদ যখন আসার সংকেত দেয় মানুষের তখনি সতর্ক হওয়া উচিত। মনে মনে তৈরী হতে হবে যাতে বিপদকে দূর হটানো যায়। বিপদ যখন আসে শক্তি যেনো থাকে সাথে সেই বিপদ থেকে উদ্ধার পাওয়ার। জীবনের পথ পুরো সুগম কোনোদিন নয় কিন্তু পুরোটাই কণ্টকাকীর্ণ এমনটাও নয়। বিপদের আঁধারে ভয় পেয়ে পিছিয়ে আসা কোনোদিনই উচিত নয়। সর্বশক্তিমান ঈশ্বর শক্তি দিন যাতে দৃঢ়চেতা হয়ে সেই বিপদের মোকাবিলা করে বিপদ কাটিয়ে উঠতে পারে সকল মানুষ। বাঁধভাঙা দুঃখের দিনে আশার প্রদীপ নিভে যেনো না যায়। বুক চিতিয়ে লড়াই করার শক্তি যেনো সকলের থাকে। চক্রাকারে আবর্তিত সময় ঠিক বিপদ কাটিয়ে ভালো দিন নিয়ে আসবে। ভরসা রাখতে হবে শুধু সময়ের ওপর। সময়ের চেয়ে বলবান কেউ নয় কোনোদিন, বিপদও নয়।

"বিপদ যতই আসুক জীবনে,লড়তে হবে সাহস নিয়ে
মোকাবিলা করতে ডর পিছে ফেলে,যাও এগিয়ে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...