বৃহস্পতিবার, ২৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

পাহাড় না সমুদ্র?✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পাহাড় না সমুদ্র?
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কোনটা বেশি প্রিয়? পাহাড় না সমুদ্র? চিরাচরিত তর্কের বিষয়। ছোটবেলায় ঠাকুমার কাছে গল্প শুনতে শুনতে কল্পনার রাজ্যে সারাদিন সমুদ্রে ভেসে বেড়াতাম। মনে হতো এই বুঝি জলপরী রা সমুদ্র থেকে উঠে এসে নিয়ে যাবে তাদের জলের রাজ্যে। আমিও ভেসে বেড়াবো সুখের আবেশে তাদের সাথে। মারমেইডরা আমার উইশ শুনবে। সব না পাওয়া গুলো পূর্ণ হবে আমার। বড়ো যখন হলাম আসতে আসতে, জীবন যখন কিছু কিছু সময় কঠিন হয়ে উঠতো, চোখের নোনাজল আর সমুদ্রের জলের মধ্যে ভীষণ মিল খুঁজে পেতাম। ঘন্টার পর ঘন্টা সমুদ্রের ধারে বসে যন্ত্রণা গুলো ভাসিয়ে দিতে দিতে একটা শান্তির অনুভূতি সৃষ্টি হতো। তাই সমুদ্রই বেশি টানে আমাকে। নির্জন সমুদের ধারে বসে শূন্য খাতায় চাওয়া পাওয়ার হিসেব রাখতে রাখতে ম্যাচিউর হয়ে উঠলাম আরও বেশি। সমুদ্রতটে বসে সূর্যোদয় আর সূর্যাস্ত দেখতে দেখতে মনে হতো জীবন তো আলো আঁধারির মিশেল। আজ খারাপ যাচ্ছে তো কাল ভালো হবে নিশ্চয়। এই রকম ভাবতে ভাবতে সমুদ্রের সাথে একাত্ম হয়ে যাই আজও। এক টুকরো সুখ খুঁজতে সমুদ্রের পাড়টা বেছে নিই তাই।

"জীবন সমুদ্রে ভেসে চলেছি, চেষ্টায় আছি তীর খোঁজার
আছে আলো আঁধারির মিশেল আর সুখ দুঃখের পারাবার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



আত্মসমালোচনা ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 আত্মসমালোচনা 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আজকাল লোকে আঙ্গুল দিয়ে অন্যের ভুলগুলো দেখিয়ে দিতে যে পারদর্শিতার প্রমাণ দেয় সেই পারদর্শিতা নিয়ে যদি নিজের ভুলগুলো ঠিক করে নেয় তাহলে জীবনে অনেক কিছু করতে পারবে। অন্যের ভুল ধরতে খুব ভালোই লাগে কিন্তু নিজের ভুল গুলো কেউ চোখেই দেখতে পায়না। 

নিজের ভুল ত্রুটি গুলো শুধরে নিয়ে নিজেকে সংশোধন করাটাই আসল লক্ষ্য হওয়া উচিত। জীবনে থেমে থাকলে চলবে না, এগিয়ে যেতে হবে। আর তার জন্য দুএকটা ভুল হতেই পারে। ভুলের কারণে এগিয়ে যাওয়ার পথ রুদ্ধ না হওয়াই উচিত। 

অপরের সমালোচনা করার থেকে আত্মসমালোচনা করে নিজের উন্নতি করাটাই উদ্দেশ্য হওয়া উচিত, নিজেকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া উচিত কিন্তু কারোর ক্ষতি করে নয়। নিজের জোরে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার আনন্দই আলাদা। অন্যের ভুল খুঁজে সময় অপচয় করার থেকে নিজেকে ত্রুটিমুক্ত করে এগিয়ে চলাই শ্রেয়।

"আত্মসমালোচনা করো, ভুল ত্রুটি সব নাও শুধরে
জীবনে তবেই এগিয়ে যাবে উন্নতির পথের তরে।।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

ছলনা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ছলনা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ছলনা যে মানুষ ঠকানোর শ্রেষ্ঠ হাতিয়ার 
নিরীহ সারমেয়ও যে পায়নি তার থেকে ছাড়।

অপেক্ষায় বসে আছে সে মালিকের পথ চেয়ে
গাড়ীর গন্তব্য হবে না পেছনে, এগোচ্ছে সামনে ধেয়ে। 

খুঁটিতে বাঁধা থাকে অবলা জীবটি একা
বল খেলার সঙ্গী যে দিয়েছে তাকে ধোঁকা। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২২ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

স্নেহ নিম্নগামী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 স্নেহ নিম্নগামী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

পৃথিবীতে প্রেম ভালোবাসা বা স্নেহ মমতা সব জীব জন্তুর মধ্যেই বিদ্যমান। আসলে এসবের জন্যই আমাদের সামাজিক বা পারিবারিক সম্পর্ক গড়ে ওঠে। তবে স্থান কাল বা পরিবেশ ভেদে স্নেহ ভালোবাসার প্রকৃতি ও  প্রকাশ  স্থানান্তরিত হয়।বাবা মায়ের আঁচল ছেড়ে যখন সন্তান সংসার জীবনে প্রবেশ করে, তারপর যখন তার ছেলে বা মেয়ে ভূমিষ্ঠ হয় তখন অপত্য স্নেহ গড়ে ওঠে ভীষণ রকম। নিজের বাবা মায়ের চেয়ে সন্তানের প্রতি ভালোবাসা টা বেশি হয়। বৃদ্ধ মা বাবার জায়গা তখন সন্তান রাই নিতে থাকে। তাই হয়তো মেয়েদের বাবা রা মা বলে সম্বোধন করে। 
আর দাদু ঠাকুমা দাদু দিদার কাছে তো নাতি নাতনী রাই জিয়ন কাঠি হয়ে ওঠে একসময়। তাদের অপত্য থেকে জন্মানো আরেক অপত্যের প্রতি তাদের স্নেহ, মায়া মমতা সব সময় বেশী হয়। তাই তো নাতি নাতনী দের রাতে ঘুম আসে রূপকথার গল্প শুনে নয়তো ব্যাঙ্গমা ব্যাঙ্গমির গল্প শুনে। স্নেহের নিম্নগামীতার কথা তাই সব ক্ষেত্রেই প্রযোজ্য। 

"পূর্বপুরুষের চেয়ে উত্তরসুরী প্রিয় বেশী যেহেতু স্নেহ নিম্নগামী
ঠাকুমা দাদুর ভালোবাসায় তাই নাতি নাতনীরা হয় গল্পপ্রেমী।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কর্মফল✍️ডা: অরুণিমা দাস

 কর্মফল
✍️ডা: অরুণিমা দাস

অন্যের ক্ষতি করে পারবে কি নিজের লাভ করতে?
অত সুখ দেয়নি যে বিধাতা তোমার বরাতে।

আজ যাকে বিপদে ফেলে ভাবছো তুমি থাকবে সুখে
ভুল সে ভাবনা, জীবন চলে সুখ দুখের নিরিখে।

কর্মফল যে পেতেই হবে সকলকে একদিন
হিসেব করেই ভাগ্য দেবে সেই ফল, রাখবেনা কোনো ঋণ।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪

কথা বনাম কাজ✍️ডা: অরুণিমা দাস

 কথা বনাম কাজ
✍️ডা: অরুণিমা দাস

ছোটবেলায় একটা কথা খুব শুনতাম,কথা কম কাজ বেশী। তখন অত আমল দিতাম না। এখন বড়ো হয়ে বুঝেছি বাচালতা করে খুব বেশী জ্ঞানের পরিচয় দেওয়া যায় না। ভেতর ফাঁপা আর বাইরে কথার চাকচিক্যে আর যায় হোক জ্ঞানী হিসেবে নিজেকে জাহির করা যায় না। আসল কথা হলো ভেতরটা কতটা সাজানো গোছানো! ভেতর মানে অন্তর গোছানো হলে বেশি কথার প্রয়োজন হয় না। এক দুটো কথাতেই নিজের জ্ঞানের পরিচয় দেওয়া যায়। যে যত বেশি সৃজনশীল,সহনশীল হবে সেটাই তাকে নির্ভীক করে তুলবে কারণ তার সহনশীলতা তাকে শেখাবে হারানোর কিছু নেই,আর হারালেও তার মধ্যে দিয়ে সে জ্ঞান অর্জন করবে। দ্বিতীয়বার সেই ভুল সে করবে না। তাই নিজেকে একটু রিজার্ভ রেখে নিজের কর্মদক্ষতাকে কাজের মধ্যে দিয়ে ফুটিয়ে তোলার মধ্যেই রয়েছে জ্ঞানীর আসল পরিচয়,বাকপটুতায় নয়। 

"কাজ বেশি কথা কম,জীবনের মূলমন্ত্র হোক সবার
জ্ঞানীর লক্ষণ থাকুক কাজে, কথা বেশী নয় আর।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...