ঈদের চাঁদ
✍️ডা:অরুণিমা দাস
কই রে! কই গেইল্যি রহিমের মা! আয় বাইরে আইস্যা দেইখ্যা যা কি আনছি! আব্দুল ডাক দেয় তার বিবি হালিমাকে। বাড়ীর মধ্যে থেকে হালিমা বেরিয়ে আসে,বলে এত চেঁচাও ক্যান্? কও কি হইছে কি? আবদুল বলে আজ এক জায়গায় মজুরের কাম কইরা বেশ কিছু ট্যাহা পাইছিরে বিবি। তাই রহিমের লাইগ্যা কিছু ফল আর মাংস আনছি। ইফতারে তো কুনোদিন ছেলেটারে ভালো কিছু খেতে দিতে পারি নাই রে। আগে বসো দাওয়ায়,খানিক সময় জিরোয় লও দেখি। খালি কাম আর কাম! দিন দিন শরীল খান ভাইঙ্গা পড়তাসে,সে দিকে খেয়াল আছে তোমার? আরে এতো কষ্ট কইরা রহিম রে পড়াইতাসি, ও বড়ো হইলে আমাদের কষ্ট কমবে রে। হ্যা আব্বু,আমি বড়ো হই,অনেক বড় চাকরী করুম,তোমারে আর আম্মুরে শহরে নে যাবো। কুনো কষ্ট থাকবেনা আর আমাদের। আল্লাহর কাছে দোয়া করি বাপ,তোর কথাখান যেনো সইত্য হয়। এর মাঝেই হালিমা ফল আর লেবুর জল এনে হাজির করে, বলে চলো নামাজ পইর্যা ইফতার কইর্যা লও। আমি তারপর খাইয়া মাংস রান্না কইরবো। রহিম ভালোছেলের মত ফল আর সরবত খেয়ে নেয়। তারপর দাওয়ায় গিয়ে পড়তে বসে। উঠোনে হালিমা রান্না করতে যায়,আব্দুল ওখানে গিয়ে বসে। হালিমা বলে এই মাসে যে ঘরখান সারাইবে বলছিল, খেয়াল আছে তোমার? হ,আছে রে। এক খান ঘরই তো মোদের, কইষ্ট হয় রে জানি। সেটাও ভাইঙ্গা পড়সে। সেই ঘরেই রাতে রহিম পড়ে, আমরা কথা বইললে ওর অসুবিধা হয় রে,জানি। গরম কাইলটা ভাবতাসি আমরা দুজন বাইরে উঠানে মাদুর বিছায়া শুইয়া পড়বো। ঘরখান ছোট তো কি হইছে বল? খোদা এত বড় আকাশ দিছে, তার নিচেই শুইয়্যা আমরা গল্প করে কাটাইয়া দিবো। কি বলিস বিবি? হ,বুঝছি!টাকার টানাটানি যা। এই সময়ে তুমিই বা কোথায় টাইক্যা পাইবে বলো? রোজতো কাম ও জুইট্যে না তোমার। আরও কিছু পয়সা জমাইরে, শীত আইস্যার আগেই ঘরটা ঠিক কইরা দিবো,কইথ্যা দিলাম। আল্লাহর দয়ায় আজ রহিমের মুখে ফল তুইল্যা দিতে পারসি যখন, ওনার দয়াতেই একদিন ঘরটাও সাইর্যা ফেলাইবো দেখিস। হ তাই যেনো হয়, রোজ তো তাই দোয়া করি। এখন না হয় ঈদের চাঁদ দেইখ্যার অপেক্ষায় আকাশের নিচেই রাতে ঘুমাইয়া পইড়বো। দুরে কোথাও থেকে গান ভেসে আসে ওদের কানে, "নীড় ছোট ক্ষতি নেই, আকাশ তো বড়ো।"
স্বপ্ন সত্যি হোক হালিমা আর আবদুলের। শীতের আগে যেনো ঘর ঠিক করে নিতে পারে ওরা আর রহিম মানুষের মতো মানুষ হোক, এই প্রার্থনাই করি ঈশ্বরের কাছে। খুব ভালো কাটুক ওদের রমজানের বাকী কটা দিন আর খুশিতে ভরে উঠুক ঈদ।
✍️✍️✍️✍️✍️✍️
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন