সোমবার, ২৯ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - স্বনির্ভর✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - স্বনির্ভর
✍️ ডা:অরুণিমা দাস



আপন ভেবে যাকে কাছে টেনে নিলে 
ভেঙেচুরে তোমায় সে বরবাদ করলে।

নিজেই হয়ো নিজের ভরসা, বিশ্বাস থাক আপনার ওপর
ঠকালেও কেউ হবেনা কষ্ট, কারণ তুমি আত্মনির্ভর।

ভারসাম্য থাকুক ভাল আর মন্দের বিষয়ে
প্রকৃতি তো দেয় সব হিসেব চুকিয়ে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৫ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - সাহস✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সাহস
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ভয়বিহীন মানুষ কখনো হয়না। ভয় থাকে সকলের ভেতরে, সবরকম প্রতিকূল পরিস্থিতিতে সেই ভয়কে জয় করে এগিয়ে যাওয়াই সাহসিকতার পরিচয় প্রদান করে। আর এই পরিচয় প্রকাশের সকল উপাদানই সঞ্চিত রয়েছে সকল মানুষের মধ্যে, যে যেভাবে কাজে লাগাবে তার সেরকম বহিঃপ্রকাশ হবে। সারা জীবন কারোর অনুকূল পরিবেশে চলে না, নানা রকমের বাঁধা বিপত্তি চড়াই উৎরাই পেরিয়ে এগিয়ে যেতে হয়। চলার পথে হোঁচট খেলে মনে ভয় জন্মায়! পুরো পথটা ঠিক ভাবে চলতে পারবো তো? ভয়ের সাথে নিরাশা গ্রাস করে অনেক সময়ে। সবকিছুকে ছাপিয়ে এগিয়ে যাওয়ার জন্য যার দরকার সেটাই হলো সাহস। এগিয়ে চলুক সকলে সাহসের সঙ্গে।

"ভয় আর সাহস এই দুইয়ের ভারসাম্যে টিকে আছে সকলে
সাহসের সাহচর্যে লড়াই হোক,ভয় মাথাচাড়া দিয়ে উঠলে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস



বৃহস্পতিবার, ১৮ জুলাই, ২০২৪

ভিলেন ভার্সাস হিরো✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ভিলেন ভার্সাস হিরো
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সিনেমা আর বাস্তব জীবন এক নয়, সেটা বুঝতেই অনেকটা সময় লেগে যায় আমাদের। সিনেমার হিরো তারা অভিনয় করে মানুষের মনোরঞ্জন করে। তাদের অভিনয়টা মানুষকে আনন্দ দেয়। কিন্তু বাস্তব জীবন হয় সাদা কালো। বাস্তবে হিরোরা জয়ী হয়েছে এরকম খুব কমই শোনা গেছে। 
"নায়ক নেহী, খলনায়ক হু ম্যায়"! এই মন্ত্রে বাস্তব চলে। ভিলেনদের সামনে মাথা চাড়া দিয়ে উঠতে পারেনা নায়কেরা। জয় হয় ভিলেনেরই। সিনেমায় হিরো মানে সৎ,নির্দোষ মানুষ হয়। আর বাস্তবে হিরো মানে নিঃশেষিত নিপীড়িত মানুষ, তাই ভিলেন সহজেই তাদের কাবু করে ফেলে। এই স্বার্থপর দুনিয়া জুড়ে ভিলেনের রাজ চলে। ভিলেন সহজেই নিজের অসৎ কর্মের দ্বারা অন্যকে প্রভাবিত করে, নিজের আয়ত্তে রাখতে চায় সবকিছু। সেটা করতে গিয়ে মানুষের ক্ষতি করতেও তাদের বিবেকে বাঁধে না। হিরো হতে না পারার আক্ষেপ বাস্তবে ভিলেন এভাবেই পুষিয়ে নেয়। 

"ভিলেন সহজেই করবে কাবু দুনিয়াকে,হিরো যে হবে জিরো
বাস্তব জীবন তো সিনেমা নয়,তাই সামলে থেকে কাজ কোরো।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৫ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - যোদ্ধা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শিরোনাম - যোদ্ধা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

একাকী নির্জনে বসে বাড়ীর কথা পড়ছে মনে 
সুমধুর কিছু সময় যে কেটেছিল স্ত্রী ও সন্তানের সনে।

দেশের জন্য নিবেদিত প্রাণ, সমরে সে অগ্রগামী
বাড়ী থেকে বহু ক্রোশ দূরে,চোখের জল যে না থামি। 

যুদ্ধ নয় শান্তি চাই,ভাবা হোক দেশের সীমান্তে থাকা যোদ্ধার ব্যথা
তেরঙা পতাকার জন্য তার যে লড়াই!রাখবে কি মনে ইতিহাস সে কথা?

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১১ জুলাই, ২০২৪

ভালোবাসা - সে তো অন্ধ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভালোবাসা - সে তো অন্ধ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

ভালোবাসলে মানুষ হয় অন্ধ,তাই বোধহয় কোথাও কেউ রসবোধ প্রয়োগে বলেছিল প্রেমে অন্ধ মানেই বাসের প্রতিবন্ধী সিট তার জন্য বরাদ্দ। দখিনা বাতাসের মতো যখন ভালোবাসা এসে মনকে ছুঁয়ে যায়,সব কিছু উজাড় করে দিতে ইচ্ছে করে তখন। সময়ের সাথে সাথে মানুষের মন বদলায়,বদলায় ভালোবাসার অনুভূতিগুলোও। সেরা জিনিস পাওয়ার জন্য হাতের নাগালে থাকা অনুভূতি গুলোকে ধীরে ধীরে পিষে মেরে ফেলা হয়। চাঁদ ছোঁয়ার অদম্য ইচ্ছেয় হারিয়ে যায় নক্ষত্রেরা। মানুষের আকাঙ্ক্ষা যখন গগনচুম্বী হয় পাশে থাকা ভালোবাসার মানুষের সাথে হঠকারিতা করতে দু বারও ভাবেনা। তখন বেরিয়ে আসে মানুষের আসল রূপ, খোলস খসে পড়ে। কিন্তু প্রকৃতি! সে তো অন্ধ নয়। সব কর্মের হিসেব নিকেষ করে খুব মনোযোগ দিয়ে। চোখে পরে থাকা ভালোবাসার পট্টিকে সরিয়ে বাস্তবকে চেনাতে থাকে মানুষকে। তাই পাতাঝরার মরশুমের মতন ভালোবাসা যখন টুপ করে খসে পড়ে তখনই উন্মীলিত হয় মানুষের জ্ঞানচক্ষু। ঠকে গিয়ে বরং দুচোখ ভরে আগলাতে চায় তার ভালোবাসাকে। সজল নয়ন থেকে ঝরে পড়া মুক্তোর মতো অশ্রুবিন্দু দান করে তাকে দৃষ্টিশক্তি যা আগের চেয়েও প্রখরতর হয়ে ওঠে কিন্তু তখন ভালোবাসা আর আসেনা ফিরে। চলে যায় দৃষ্টির বাইরে।

"ভালোবাসার আগমন দৃষ্টিকে করে ক্ষীণ,অন্ধ যে হয় মানুষ
যখন যায় চলে ভালোবাসা,চোখ তখন খোলে,ফিরে আসে হুঁশ।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




রবিবার, ৭ জুলাই, ২০২৪

শুভ রথযাত্রা✍️ ডা:অরুণিমা দাস

শুভ রথযাত্রা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও জগু দাদা! তৈরি হলে তুমি? বেরুতে হবে তো! বাইরে আমাদের জন্য রথ অপেক্ষা করছে। সুভা জিজ্ঞেস করে তার আদরের জগু দাদাকে।
- হ্যা রে, আরেকটু বাকী বোন। মুকুটটা পরে উত্তরীয়টা জড়িয়ে নিলেই হয়ে যাবে। যা যা তোর বলরাম দাদা কে তাড়া দে, সে তো অনেক সময় লাগায় তৈরি হতে!
- তাই বুঝি? বলরাম ধুতির কোঁচা ঠিক করে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো।
- হ্যা গো তাই,জগু বললো।
- তাই বুঝি ঠুঁটো জগন্নাথ বলে লোকে? কই ঠুঁটো বলরাম তো বলে না।
উফফফ। আর ঝগড়া করো না দাদারা,একটু দয়া করো। মাসী দুবার মিসকল দিয়ে ফেলেছে। ধরিনি কারণ বলতে পারবনা কখন বেরোবো!
- তোর চুল টা খোলা কেনো রে সুভা? দুই দাদা একসঙ্গে জিজ্ঞেস করে।
- ইস! জানো না যেনো। ঠোঁট ফুলিয়ে বলে সুভা।
তোমরাই তো আমার চুলে বেণী করে দাও।
ওহ! ভুলে গেছি রে। নিজেদের কথা ভাবতে গিয়ে বেমালুম ভুলে গেছি।
আয় দেখি বোস। দুই দাদা দুপাশের বিনুনী করে দিলো সুভার। খুব খুশি দুই দাদার আদরের বোন। সাথে একটা সেলফিও তুললো।
এর মধ্যে সারথী এসে বললো চলুন প্রভু, এবার যাত্রা করা যাক। নয়তো যা দেখছি গুগল ম্যাপে, মাসী বাড়ী পৌঁছতে মাঝরাত হয়ে যাবে।
হ্যা হ্যা চলো, যাত্রা শুরু করা যাক। বাড়ীর দরজা বন্ধ করে পুরোহিতের হাতে চাবি হ্যান্ডওভার করে রথে উঠে বসলো তিন ভাই বোন। সুভাকে আগলে রেখে বসে দাদারা বললো চলো সারথী এবার রথ এগিয়ে নিয়ে চলো। দুই দাদার মাঝে বসে ছোট্ট বোনটি দেখতে লাগলো রাস্তায় সার দিয়ে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে, একটু রথের দড়ি ছোঁয়ার আশায়। দুই দাদা সকলকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করছে। সুভা হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দিলো, ফিলিং হ্যাপি, গোয়িং টু মাসী বাড়ী।
তিন ভাই বোনের যাত্রা শুভ হোক। জয় জগন্নাথ।
সকলের জন্য রথযাত্রার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস




বৃহস্পতিবার, ৪ জুলাই, ২০২৪

জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন নামক নাট্যশালায় সকলেই ব্যস্ত নিজের নিজের চরিত্রে দক্ষতার সাথে অভিনয় করার কাজে। কেউ ভালো থাকার অভিনয়ে পারদর্শী কেউ বা ভালো সাজার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে নিখুঁত অভিনয়ের। টিকে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম চলছে, চলবে। এর নেপথ্যে থাকা মানুষেরা নিজেদের অবস্থান সঠিক রেখে নাটকের প্রতিটি অঙ্ক মন দিয়ে বাস্তবায়িত করার চেষ্টায় মগ্ন। এই নাটকের দর্শক শুধু ঈশ্বরই নন, দর্শক তার চেনাজানা সকলে। তুখোড় পারফরমেন্স যার হবে সেই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। তার জন্য এমন কাজ করা উচিত জীবনে,যাতে সকলের ভালো হয়,কারোর অনিষ্ট চিন্তা যেনো মনে না আসে। পাপ পুণ্যের পুরো হিসেব নিকেষ এই দুনিয়াতেই করতে হবে, তাই ভালো মানুষ সাজার থেকে ভালো মানুষ হয়ে থাকাটাই শ্রেয়। মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্যে দিয়ে, তাই কাজ অর্থাৎ অভিনয় এমন করতে হবে যেটা সারাজীবন ধরে মনে রাখবে সকলে, এমনকি নাটকের শেষ দৃশ্যের পরেও। সুস্থ ভাবে বাঁচো, পাশের সকলে সুস্থ ভাবে বাঁচতে দাও। 

"ভালো মানুষ সাজার থেকেও বেশি দরকার ভালো মানুষ হওয়ার
জীবনের নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে, কোরো সেটার সদ্ব্যবহার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১ জুলাই, ২০২৪

শিরোনাম - বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

স্মরণে মননে ডা: বিধান চন্দ্র রায়                          শিরোনাম - বাংলার রূপকার ডা:বিধান চন্দ্র রায় 
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে কোলকাতা
পায়ে হেঁটে এলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন তাঁর সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতো না মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করতে মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই কিন্তু হাল ছাড়েননি ডা:বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করলেন টানা আবেদন
দুবছরে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরলেন দেশে,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম তাঁর মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যখিত হয় এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...