শনিবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২৫

জি ভরকে খাইয়ে আইসক্রিম✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জি ভরকে খাইয়ে আইসক্রিম
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এরম একটা বিষয় দেখে মনটা ছুট্টে চলে গেলো সেই মায়াভরা দিনগুলোতে। যখন নার্সারী স্কুলে পড়তাম,ছুটি হলেই দৌড়ে দৌড়ে গেটের বাইরে এসে ভ্যানকাকুর কাছে বায়না করতাম সবাই আইসক্রিম কিনে দেওয়ার জন্য। কাকু কিছুতেই কিনে দিতে চাইতো না। বলতো না বাবুরা,এসব খেতে নেই তোমাদের বাড়ি থেকে বকা দেবে আমায়। তারপর আমাদের সবাইকে ভ্যানে তুলে দরজা লক করে যে যার বাড়িতে ছেড়ে দেবার উদ্দেশ্যে রওনা দিতো। আর আমরা সবাই বাইরের দিকে আইসক্রিম গাড়িটার দিকে করুন চোখে তাকিয়ে থাকতাম। বাড়ি ফিরে দেখতাম দুপুরবেলায় কাকিমা জেঠিমা তাঁদের ছেলেমেয়েদের আইসক্রিম কিনে দিচ্ছেন। আমি আয়া মাসীর দিকে জুল জুল চোখে তাকিয়ে থাকতাম। মাসী বলতো বাবা বাড়ি আসার সময় নিয়ে আসবেন তোমার জন্য আইসক্রিম,মন খারাপ কোরোনা। গল্প বলতে বলতে দুপুরের খাবারটা খাইয়ে দিতো আমায় আর তারপর পরম স্নেহে মাথায় হাত বুলিয়ে ঘুম পাড়িয়ে দিতো। আরেকটু বড় যখন হলাম,আলাদা বাড়িতে আমরা থাকতে শুরু করলাম। তখন ঠাকুমা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত আমাদের সাথে থাকতেন আর তারপর দাদুর বাড়ীতে চলে যেতেন। যেই গরমের ছুটি পড়তো দুপুরে ঠেলা গাড়ি নিয়ে আইসক্রিম ওয়ালা গেলেই ঠাকুমার আঁচলে টান পড়তো। আর ঠাকুমা আঁচলের খুঁট খুলে ১ টাকা দিতেন আমায়। সেই ১ টাকা নিয়ে দৌড়াতাম দরজা খুলে। কোনোদিন নারকেল,কোনোদিন অরেঞ্জ কোনোদিন পাইন অ্যাপেল আইসক্রিম খেতাম। সাথে টিভিতে দেখতাম অসওয়ার্ল্ড কার্টুন,ওর একটা গান খুব মনে পড়ছে,'আইসক্রিম আইসক্রিম আইসক্রিম, চলিয়ে জি ভরকে খায়ে আইসক্রিম'। বাড়িতে মা এসে বকা দিতেন মাঝে মাঝেই কিন্তু তাতেও দমে যেতাম না। এরপর আসতে আসতে হায়ার সেকেন্ডারি স্কুলে উঠলাম,তখন স্কুল ছুটির পর টিউশন পড়তে যাবার তাড়া। তার মধ্যেও ফাঁকা পেলে এক দুদিন কুলফি আইসক্রিম কিনে রিক্সাতে উঠে আয়েশ করে খেতে খেতে বাড়ি ফিরতাম। আর যেদিন সাইকেলে ফিরতাম সেদিন এক হাতে সাইকেলের হ্যান্ডেল ধরে আরেক হাতে আইস ক্রিম খেতে খেতে বন্ধুদের সাথে গল্প করতে করতে ফিরতাম। তারপর যখন আরো বড় হলাম, যখন আইস ক্রিম খেতে কোনো প্রতিবন্ধকতা রইলো না আর তখন আর সেভাবে মন টানতো না আইসক্রিম খাবার জন্য। জীবনটা অন্যরকম হয়ে গেছে এখন। বরং সেই ভ্যানকাকু,কাকিমা জেঠিমা এদের কথাগুলোও বেশি মনে আসে। মায়াভরা চোখে দাদা দিদিদের আইসক্রিমের দিকে তাকিয়ে থাকা দিনগুলো খুব বেশি করে মনে পড়ে। মাঝেমাঝেই ভাবি যদি সত্যিই টাইম মেশিন পেতাম আর সেই দিনগুলোতে ফিরে যেতে পারতাম তাহলে আরেকবার ছোটবেলার দিনগুলো কাটাতে পারতাম। যেটা হবেনা সেটা ভেবে লাভ নেই বরং স্মৃতির পথ ধরেই মাঝে মাঝে ঘুরে আসি,আর তাতেই মন ভালো হয়ে যায় এক নিমেষে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম - বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে লেখক - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 পাঠ প্রতিক্রিয়া
 বইয়ের নাম - বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে
 লেখক - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে বইটি। অনেকদিন পর সম্পূর্ণ ভিন্নস্বাদের একটা গল্প পড়লাম। বইটি শেষ না হওয়া অবধি এক অমোঘ আকর্ষণ অনুভব করছিলাম যেই টানে ভাতঘুমের সুযোগ হেলায় দূরে সরিয়ে পুরোটা পড়লাম এক অদ্ভুত সুন্দর ভালোলাগা নিয়ে। 
গল্পের ঘটনাস্থল কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দির যেখানে রয়েছে বিষ্ণুলোক,যেখানে ঠাঁই পেতে অনেক পূণ্য অর্জন করতে হয়। সেই মন্দিরের সংস্কার কার্যে ভারত থেকে এক প্রত্নতত্ত্ব বিদ তাঁর টিম নিয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু তাদের কাজে বাঁধা দিতে অনেকেই পেছনে লেগেছিল। তাদের বেশিরভাগের মতলব ভালো ছিলোনা। এর আগে বলে নেওয়া যাক বর্মন রাজাদের কিছু কথা। রাজা মহাবর্মনের শাসনকালের পর হরিদেব আর ধরিন্দ্রী বর্মনের মধ্যে সিংহাসন দখলের এক ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল। চামদের সাথে ফন্দি করে কিভাবে রাজা উগ্রদেব ধরীন্দ্রি বর্মনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন আর সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেননি চম্পা নামে একজন নর্তকী যাকে বিষ্ণুর স্বপ্নাদেশে প্রাণভিক্ষা দিয়েছিলেন রাজা ধরীন্দ্রি বর্মন। আবার এটাও বলা আছে গল্পে যে হরিদেব যাতে সিংহাসনে বসতে না পারেন তাই একপ্রকার তাকে পথ থেকে সরিয়ে দেন ধরীন্দ্রী বর্মন,তাও মাহুতের সাহায্য নিয়ে হাতির পায়ের তলায় পিষে দিয়ে। তারপর সেই মাহুতকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। মাহুতের মেয়ে ও স্ত্রী সেই বদলা নিতে উগ্রদেবকে প্ররোচিত করে রাজা ধরিন্দ্রী বর্মনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। চম্পা নিজের প্রাণের বিনিময়ে ধরিন্দ্রীকে বাঁচিয়ে দেয়। কিন্তু তার প্রাণপুরুষ বনহির সাথে তার মিলন হয়না। সেই বনহি এই জনমে স্বাগত নামে জন্ম নেয় যে ওই প্রত্নতত্ত্ববিদের টিমে ছিলো। চম্পা মাঝে মাঝেই এক খাম মেয়ের রূপ ধরে এসে বিষ্ণুলোকের চাতালে বসে স্বাগতকে পূর্বজন্মের কথা গল্পের মতো করে বলতো। আর মন্ত্রমুগ্ধের মত স্বাগত শুনতো সেই গল্প হারিয়ে যেতো বনহির মধ্যে। উগ্রদেবের উত্তর পুরুষ হারুম চেষ্টা করে উগ্রদেবকে মুক্তি দিয়ে বিষ্ণুলোকে প্রবেশ করানোর কিন্তু শেষ পর্যন্ত উগ্রদেবের মুক্তি হয়না আর তার প্রবেশও হয়না বিষ্ণুলোকে। এর মাঝেই দুজন ব্যক্তির খুন হয় বিষ্ণু লোকে গুপ্তধনের সন্ধানে গিয়ে। তাই কম্বোডিয়া সরকার সংস্কারকার্য বন্ধ করিয়ে স্বাগতদের দেশে ফিরে যেতে বলেন। আর স্বাগত বিষ্ণুমন্দিরে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করে আর কোনোদিন এখানে সে আসবেনা কারণ এলেই চম্পার কথা তার মনে পড়বে আর নিজেকে সামলাতে পারবেনা। সব কিছু ভুলে যেতে চেষ্টা করবে স্বাগত। কিন্তু স্বাগত ভুলতে পারলেও এই গল্পের চিত্রপট পাঠকের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নেবে বলে আশা রাখি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

সোমবার, ১৪ এপ্রিল, ২০২৫

শিরোনাম - স্বাগতম ১৪৩২ ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - স্বাগতম ১৪৩২
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নববর্ষের হরষে বৈশাখের আগমনী বার্তা,জানাও তারে সাদর সম্ভাষণ 
মাস ও বচ্ছর পয়লাতে চলছে হালখাতা ও বর্ষবরণের আয়োজন।

প্রস্তুতি সব সম্পন্ন প্রায়,সকলেই যে আনন্দে আত্মহারা 
বাংলা টু নিউইয়র্ক টাইমস স্কোয়ার,আসন্ন মুহূর্তের জন্য চলে মহড়া।

একটি বছর ঘুরে এলো যে ১৪৩২ সন,নতুন আরেক বছর
সম্ভাবনায় পূর্ণ এই বর্ষে সবার প্রতি রইলো শুভেচ্ছা নিরন্তর।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


রবিবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২৫

জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 জীবন - এক রঙ্গমঞ্চ
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

জীবন নামক নাট্যশালায় সকলেই ব্যস্ত নিজের নিজের চরিত্রে দক্ষতার সাথে অভিনয় করার কাজে। কেউ ভালো থাকার অভিনয়ে পারদর্শী কেউ বা ভালো সাজার জন্য প্রাণপণ চেষ্টা করে চলেছে নিখুঁত অভিনয়ের। টিকে থাকার জন্য প্রতিদিনের সংগ্রাম চলছে, চলবে। এর নেপথ্যে থাকা মানুষেরা নিজেদের অবস্থান সঠিক রেখে নাটকের প্রতিটি অঙ্ক মন দিয়ে বাস্তবায়িত করার চেষ্টায় মগ্ন। এই নাটকের দর্শক শুধু ঈশ্বরই নন, দর্শক তার চেনাজানা সকলে। তুখোড় পারফরমেন্স যার হবে সেই মানুষের মনে জায়গা করে নেবে। তার জন্য এমন কাজ করা উচিত জীবনে,যাতে সকলের ভালো হয়,কারোর অনিষ্ট চিন্তা যেনো মনে না আসে। পাপ পুণ্যের পুরো হিসেব নিকেষ এই দুনিয়াতেই করতে হবে, তাই ভালো মানুষ সাজার থেকে ভালো মানুষ হয়ে থাকাটাই শ্রেয়। মানুষ বেঁচে থাকে তার কাজের মধ্যে দিয়ে, তাই কাজ অর্থাৎ অভিনয় এমন করতে হবে যেটা সারাজীবন ধরে মনে রাখবে সকলে, এমনকি নাটকের শেষ দৃশ্যের পরেও। সুস্থ ভাবে বাঁচো, পাশের সকলে সুস্থ ভাবে বাঁচতে দাও। 

"ভালো মানুষ সাজার থেকেও বেশি দরকার ভালো মানুষ হওয়ার
জীবনের নাট্যমঞ্চে অভিনয়ের সুযোগ পেয়ে, কোরো সেটার সদ্ব্যবহার।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ এপ্রিল, ২০২৫

শিরোনাম - সংসার✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - সংসার
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সংসার মানেই সকলের যৌথ কন্ট্রিবিউশন দ্বারা রোজ সকাল থেকে রাত অতিবাহিত করা। সংসার নামক গাড়িতে চড়ে নারী পুরুষ উভয়েই মন দিয়ে চালানোর অদম্য চেষ্টা করে। সংসারের জাঁতাকলে পিষ্ট সবাইকেই হতে হয়। চাপে সকলেই থাকে কিন্তু যেখানে নিজেদের মধ্যে আন্ডারস্ট্যান্ডিংটা ঠিক থাকে সেখানে কষ্টটা বোধহয় একটু কম থাকে। বাড়ীর পুরুষের মাথায় থাকে আয় করে সকলের প্রতি কর্তব্য পালন করা,আর নারী যদি শুধু গৃহিণী হয় তার ওপর ভার থাকে সকলের সব আবদার পূরণ করা হাসিমুখে,আর নারী যদি বাইরে ঘরে দুদিকের কাজে নিয়োজিত হয় তখন চাপ একটু বেশীই এসে পড়ে। কেউ কেউ হয়তো নিজের শখ আহ্লাদ বিসর্জন দিয়ে সবার মুখে হাসি ফোটাতেই কাটিয়ে দেয় সারাজীবন। তারপরও হয়তো যোগ্য মর্যাদাটুকু পায়না। তবে জীবন সব হিসেব নিকেশ কড়ায় গন্ডায় মিটিয়ে দেয় এই ভরসাতেই সে সংসারের জন্য নিজের সবটুকু দিয়ে দেয়। সংসারের চাপে নারী যেমন দশভূজা হয়ে ওঠে তেমনি পুরুষরাও দশভূজ হয়ে যায়। দুজনে হাতে হাত মিলিয়ে সব ঝড় ঝাপটা কে সামাল দেয়। নিত্যদিনের চাপের মাঝেও একে অপরের প্রতি সহানুভূতিশীল হয়ে থাকলে জাঁতাকলও বোধহয় মাঝেমাঝে রেহাই দেয় রোজনামচা থেকে,তখন সপ্তাহান্তে দু একদিনের জন্য থোড় বড়ি খাড়া জীবন থেকে একটু দূরে কোথাও ছুটি কাটিয়ে আসা যায় সপরিবারে। তারপর আবার ফুল এনার্জি নিয়ে জাঁতাকলে পিষ্ট হতে সবাই নিজেকে নুইয়ে দেয়। 

"সংসারের জাঁতাকলে পিষ্ট হয়েও একে অপরের প্রতি থেকো সহানুভূতিশীল 
চাপ কম হবে এতে,দেখবে জীবন হবে খুবই সহজ ও সরল।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...