বৃহস্পতিবার, ২৪ এপ্রিল, ২০২৫

পাঠ প্রতিক্রিয়া বইয়ের নাম - বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে লেখক - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 পাঠ প্রতিক্রিয়া
 বইয়ের নাম - বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে
 লেখক - হিমাদ্রী কিশোর দাশগুপ্ত
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

সম্প্রতি পড়ে শেষ করলাম বিষ্ণুলোকে সন্ধ্যা নামে বইটি। অনেকদিন পর সম্পূর্ণ ভিন্নস্বাদের একটা গল্প পড়লাম। বইটি শেষ না হওয়া অবধি এক অমোঘ আকর্ষণ অনুভব করছিলাম যেই টানে ভাতঘুমের সুযোগ হেলায় দূরে সরিয়ে পুরোটা পড়লাম এক অদ্ভুত সুন্দর ভালোলাগা নিয়ে। 
গল্পের ঘটনাস্থল কম্বোডিয়ার আঙ্কোরভাট মন্দির যেখানে রয়েছে বিষ্ণুলোক,যেখানে ঠাঁই পেতে অনেক পূণ্য অর্জন করতে হয়। সেই মন্দিরের সংস্কার কার্যে ভারত থেকে এক প্রত্নতত্ত্ব বিদ তাঁর টিম নিয়ে উপস্থিত হন। কিন্তু তাদের কাজে বাঁধা দিতে অনেকেই পেছনে লেগেছিল। তাদের বেশিরভাগের মতলব ভালো ছিলোনা। এর আগে বলে নেওয়া যাক বর্মন রাজাদের কিছু কথা। রাজা মহাবর্মনের শাসনকালের পর হরিদেব আর ধরিন্দ্রী বর্মনের মধ্যে সিংহাসন দখলের এক ঠান্ডা যুদ্ধ চলছিল। চামদের সাথে ফন্দি করে কিভাবে রাজা উগ্রদেব ধরীন্দ্রি বর্মনকে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন আর সেই পরিকল্পনা সফল হতে দেননি চম্পা নামে একজন নর্তকী যাকে বিষ্ণুর স্বপ্নাদেশে প্রাণভিক্ষা দিয়েছিলেন রাজা ধরীন্দ্রি বর্মন। আবার এটাও বলা আছে গল্পে যে হরিদেব যাতে সিংহাসনে বসতে না পারেন তাই একপ্রকার তাকে পথ থেকে সরিয়ে দেন ধরীন্দ্রী বর্মন,তাও মাহুতের সাহায্য নিয়ে হাতির পায়ের তলায় পিষে দিয়ে। তারপর সেই মাহুতকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। মাহুতের মেয়ে ও স্ত্রী সেই বদলা নিতে উগ্রদেবকে প্ররোচিত করে রাজা ধরিন্দ্রী বর্মনকে সরিয়ে দেওয়ার জন্য। চম্পা নিজের প্রাণের বিনিময়ে ধরিন্দ্রীকে বাঁচিয়ে দেয়। কিন্তু তার প্রাণপুরুষ বনহির সাথে তার মিলন হয়না। সেই বনহি এই জনমে স্বাগত নামে জন্ম নেয় যে ওই প্রত্নতত্ত্ববিদের টিমে ছিলো। চম্পা মাঝে মাঝেই এক খাম মেয়ের রূপ ধরে এসে বিষ্ণুলোকের চাতালে বসে স্বাগতকে পূর্বজন্মের কথা গল্পের মতো করে বলতো। আর মন্ত্রমুগ্ধের মত স্বাগত শুনতো সেই গল্প হারিয়ে যেতো বনহির মধ্যে। উগ্রদেবের উত্তর পুরুষ হারুম চেষ্টা করে উগ্রদেবকে মুক্তি দিয়ে বিষ্ণুলোকে প্রবেশ করানোর কিন্তু শেষ পর্যন্ত উগ্রদেবের মুক্তি হয়না আর তার প্রবেশও হয়না বিষ্ণুলোকে। এর মাঝেই দুজন ব্যক্তির খুন হয় বিষ্ণু লোকে গুপ্তধনের সন্ধানে গিয়ে। তাই কম্বোডিয়া সরকার সংস্কারকার্য বন্ধ করিয়ে স্বাগতদের দেশে ফিরে যেতে বলেন। আর স্বাগত বিষ্ণুমন্দিরে দাঁড়িয়ে প্রতিজ্ঞা করে আর কোনোদিন এখানে সে আসবেনা কারণ এলেই চম্পার কথা তার মনে পড়বে আর নিজেকে সামলাতে পারবেনা। সব কিছু ভুলে যেতে চেষ্টা করবে স্বাগত। কিন্তু স্বাগত ভুলতে পারলেও এই গল্পের চিত্রপট পাঠকের মনে এক চিরস্থায়ী জায়গা করে নেবে বলে আশা রাখি। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...