সোমবার, ৩০ জুন, ২০২৫

বাংলার রূপকার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বাংলার রূপকার
✍️ ডা: অরুণিমা দাস 

সুদূর পাটনার বাকিপুর থেকে মহানগর কোলকাতা
হেঁটে পাড়ি দিলেন তিনি,ভরসা শুধু পায়ের পাতা।

সম্বল বলতে শুধু তখন পাঁচ টাকা পঁচিশ পয়সা
খাবার আর বাসস্থান জোগাতে সেটাই শুধু ভরসা।

মাতৃহারা ছিলেন তিনি,পিতাই ছিলেন সব
খুবই কষ্টের মধ্যে কেটেছিল তাঁর শৈশব।

কলকাতায় এসে করেন ডাক্তারিতে ভর্তির আবেদন 
থাকতেন কলেজ স্ট্রীটে,পয়সার টানাটানি ভীষণ।

পড়াশোনা শেষে শুরু করলেন তিনি প্র্যাকটিস
রোজগার হতো না মন্দ,কেবল খালি উনিশ বিশ।

বারোশো টাকা করে সম্বল,গেলেন তিনি বিদেশ
চূড়ান্ত সম্মান অর্জনে করলেন মনোনিবেশ।

ভারতীয় বলে জুটেছিল শুধুই প্রত্যাখ্যান
কিছুতেই কিন্তু হাল ছাড়েননি ডা:বিধান।

প্রায় বার তিরিশেক করে গেছিলেন টানা আবেদন
দুবছরে মেডিসিন,সার্জারির চূড়ান্ত ডিগ্রী করলেন অর্জন।

ফিরে এলেন তিনি দেশে,শুরু করলেন ডাক্তারি
মনে এলো প্রেমের জোয়ার,হলেন প্রেম পূজারী।

প্রেম যে তাঁর, মানল হার অর্থদণ্ডের বিচারে
প্রত্যাখিত হয়ে এলেন ফিরে,মন দিলে রোজগারে।

সাল যখন উনিশশো আটচল্লিশ,ছেড়ে দিয়ে ডাক্তারি
গ্রহণ করলেন মুখ্যমন্ত্রিত্ব,গড়লেন কল্যাণী সহ আরো উপনগরী।

দায়িত্বে ছিলেন যতদিন,করে গেছেন শুধু বাংলার উন্নয়ন
তাঁর কাছে থাকবে চিরঋণী বাংলার আপামর জনগন।

তিরোধানের পরে ঘরে মেলে এগারো টাকা পঁচিশ পয়সা
জীবনের সঞ্চয় শুধু ছয় টাকা আর মানুষের ভালোবাসা।

আজ তাঁর জন্ম ও মৃত্যুদিনে জানাই তাঁকে নমস্কার মানুষের হৃদয়ে অমর হয়ে থাকুন বাংলার রূপকার।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শুক্রবার, ২৭ জুন, ২০২৫

শুভ হোক রথযাত্রা ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শুভ হোক রথযাত্রা
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ও জগু দাদা! তৈরি হলে তুমি? বেরুতে হবে তো! বাইরে আমাদের জন্য রথ অপেক্ষা করছে। সুভা জিজ্ঞেস করে তার আদরের জগু দাদাকে। 
- হ্যা রে, আরেকটু বাকী বোন। মুকুটটা পরে উত্তরীয়টা জড়িয়ে নিলেই হয়ে যাবে। যা যা তোর বলরাম দাদাকে তাড়া দে, সে তো অনেক সময় লাগায় তৈরি হতে!
- তাই বুঝি? বলরাম ধুতির কোঁচা ঠিক করে ঘরে ঢুকতে ঢুকতে বললো। 
- হ্যা গো তাই,জগু বললো।
- তাই বুঝি ঠুঁটো জগন্নাথ বলে লোকে? কই ঠুঁটো বলরাম তো বলে না। 
উফফফ। আর ঝগড়া করো না দাদারা,একটু দয়া করো। মাসী দুবার মিসকল দিয়ে ফেলেছে। ধরিনি কারণ বলতে পারবনা কখন বেরোবো! 
- তোর চুল টা খোলা কেনো রে সুভা? দুই দাদা একসঙ্গে জিজ্ঞেস করে।
- ইস! জানো না যেনো। ঠোঁট ফুলিয়ে বলে সুভা। 
তোমরাই তো আমার চুলে বেণী করে দাও। 
ওহ! ভুলে গেছি রে। নিজেদের কথা ভাবতে গিয়ে বেমালুম ভুলে গেছি। 
আয় দেখি বোস। দুই দাদা দুপাশের বিনুনী করে দিলো সুভার। খুব খুশি দুই দাদার আদরের বোন। সাথে একটা সেলফিও তুললো। 
এর মধ্যে সারথী এসে বললো চলুন প্রভু, এবার যাত্রা করা যাক। নয়তো যা দেখছি গুগল ম্যাপে, মাসী বাড়ী পৌঁছতে মাঝরাত হয়ে যাবে। 
হ্যা হ্যা চলো, যাত্রা শুরু করা যাক। বাড়ীর দরজা বন্ধ করে পুরোহিতের হাতে চাবি হ্যান্ডওভার করে রথে উঠে বসলো তিন ভাই বোন। সুভাকে আগলে রেখে বসে দাদারা বললো চলো সারথী এবার রথ এগিয়ে নিয়ে চলো। দুই দাদার মাঝে বসে ছোট্ট বোনটি দেখতে লাগলো রাস্তায় সার দিয়ে লোকজন দাঁড়িয়ে আছে, একটু রথের দড়ি ছোঁয়ার আশায়। দুই দাদা সকলকে প্রাণভরে আশীর্বাদ করছে। সুভা হোয়াটসঅ্যাপ স্ট্যাটাস দিলো, ফিলিং হ্যাপি, গোয়িং টু মাসী বাড়ী। 
তিন ভাই বোনের যাত্রা শুভ হোক। জয় জগন্নাথ।
সকলের জন্য রথযাত্রার শুভেচ্ছা ও ভালোবাসা রইলো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৬ জুন, ২০২৫

সময় বহিয়া যায়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 সময় বহিয়া যায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


নদীর স্রোতের প্রায়,সময় বহিয়া যায়। সময়কে ধরে রাখা কি যায়! ছোটবেলা থেকে বড়বেলা অনেক টা সময় পার হয়ে গেছে,জীবনে অনেক পরিবর্তন আসছে। আনন্দ আর নো টেনশন থেকে এখন ফুল অফ টেনশন আর লেগ পুল। শৈশবে দেখা মামাবাড়ির আমগাছটা এখন আর নেই,আছে শুধু তার স্মৃতি। এখন আর সেভাবে যাওয়া হয়না মামাবাড়ি। স্কুল জীবনের স্মৃতি বিজড়িত দিন গুলো মাঝে মাঝেই মনে করায় বড়ো হয়ে গেছি। বন্ধুরা কে কোথায় ছিটকে গেছে, তেমন কথা হয়না কারোর সাথে। নিজের জীবনে এত চাপ এত চিন্তা! প্রফেশনাল লাইফে এত লেঙ্গিবাজি, অনেক কিছু পরিবর্তন হয়ে গেছে। শৈশবের সরল সাধারণ জীবন যাপন এখন আর চলেনা, সব জায়গাতেই একটা প্রতিযোগিতা চলছে যেনো। 
   সমাজেও ঘটেছে আমূল পরিবর্তন। আধুনিকতার ছোঁয়া লেগেছে। যুদ্ধ বিবাদ এখন নিত্যকার সঙ্গী। বাজারদর আকাশছোঁয়া। মধ্যবিত্ত পরিবারের সদস্যদের বেশ সমঝে চলতে হয় এই অবস্থায়। এখন আর শিক্ষকদের সাথে ছাত্রদের আগের মতন সম্পর্ক নেই। পরীক্ষায় কম্পিটিশন হু হু করে বাড়ছে। সাথে বাড়ছে কোচিং সেন্টারদের রমরমা। বুঝে পড়ার প্রচেষ্টা কম, মুখস্থ করে উতরে যাওয়ার চেষ্টাই বেশী। পরিবর্তনই সংসারের নিয়ম। পরিবর্তন হতে হতে কখন যে জল গড়িয়ে গেছে অনেকদূর খেয়ালই নেই কারোর। সবাই নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত। আগের মতন কিছুই নেই আর, সব কেমন অন্যরকম হয়ে গেছে। 

"সময়ের ব্যবধানে ঘটেছে আমূল পরিবর্তন,
পাল্টেছে মানুষের চিন্তাধারা 
বদল হোক ভালোর জন্যই, তবেই হবে উন্নতি যে নজরকাড়া।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ জুন, ২০২৫

শরণার্থী✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শরণার্থী
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শরণার্থী মানেই অন্যের শরণ প্রার্থনা করে যারা। এককথায় উদ্বাস্তু বা রিফিউজি বলা হয় যাদের। নিজের ঘরবাড়ি ছেড়ে অন্য দেশে বা অন্য শহরে অস্থায়ী ভাবে বাস যাদের,তাদের মনে সর্বদা অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। এই অস্থায়ী ভাবে বাস করার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে, হতে পারে তা জাতিগত সহিংসতা,
রাজনৈতিক কিংবা ধর্মীয় নিপীড়ন, হয়তো কোনো প্রাকৃতিক দুর্যোগ। তবে যে কারণই হোক না কেনো শরণার্থীদের কষ্ট একমাত্র তারাই বোঝে। ঘরবাড়ি সব হারিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়ে বাস করা, অন্যের আশ্রয়তে থাকা যে কি মানসিক যন্ত্রণা দেয় সেটা অন্য কেউ তাদের হয়ে অনুভব করতে পারেনা কোনোদিন।  তবুও তারা নতুন পরিবেশে মানিয়ে নিতে চেষ্টা করে,নিজের দেশে ফেরার পথ হয়তো বন্ধ হয়ে যায় বা সেখানে তাদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখা মুশকিল হয়ে ওঠে। তাই অন্য দেশে স্থায়ী ঠিকানা তৈরি করতে বেশ দুর্ভোগ পোহাতে হয় তাদের। তবে অনেক রকম আইন রয়েছে যা তাদের মৌলিক মানবাধিকার বা মানবিক মর্যাদা রক্ষায় বলবৎ থাকে। ৭১ এর যুদ্ধ হোক কিংবা রোহিঙ্গা জাতি কিংবা প্রাকৃতিক দুর্যোগে,এভাবেই তারা নিজের স্থান ছেড়ে অন্য কোনো জায়গায় নিজেদের অবস্থান নিশ্চিত করতে প্রতিদিন প্রতিমুহূর্ত লড়াই করে চলে নিজের মনের সাথে,দ্বিধা দ্বন্দ নিয়ে নতুন জায়গায় নতুন ভাবে বাঁচতে শুরু করে।

"পুরোনো আস্তানার স্মৃতি বুকে নিয়ে মেলে ঠাঁই নতুন স্থানে
শরণার্থী দের মনে থাকা যন্ত্রণা শুধুমাত্র তারাই জানে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ জুন, ২০২৫

শ্রদ্ধাবান ✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 শ্রদ্ধাবান 
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

'শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম' এই ছোট্ট কথাটা এক লহমায় পৌঁছে দিল স্কুল জীবনের দিনগুলোতে। মিশন গার্লস স্কুল ছিলো আমার প্রাইমারী ও সেকেন্ডারি স্কুল। স্কুলের যে ব্যাজ ছিলো আমাদের, তাতে একটা লাইন লেখা থাকতো, 'শ্রদ্ধাবান লভতে জ্ঞানম' আর স্কুলে প্রার্থনার সময় বড় দিদিমনি সব কিছু বলতেন শ্রদ্ধা আর মনোযোগ না থাকলে কোনোদিন কিছু শিখতে পারবে না। লাইনগুলো আজ খুব মনে পড়ছে। সত্যিই শ্রদ্ধা না থাকলে জ্ঞান অর্জন করা খুব সহজ ব্যাপার নয়। আগেকার দিনে গুরুর প্রতি ছাত্রের শ্রদ্ধা আর এখনকার দিনে শ্রদ্ধা এই দুইয়ের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য রয়েছে। আজকাল কার ছাত্র ছাত্রীর মধ্যে ঔদ্ধত্যটা অনেক বেশী,শ্রদ্ধাভাব অনেকটাই কম। সেই ফল স্বরূপ আজকাল ওই তোতাপাখির মতো শিক্ষা শুধু মগজেই ঢুকছে,হৃদয়ঙ্গম হচ্ছেনা। সবাই শুধু ইঁদুর দৌড়ে সামিল হয়ে চলেছে,আসল শিক্ষা অর্জন হচ্ছেনা। মনে হয় ভাগ্যিস স্কুল জীবনটা আগেই কাটিয়ে এসেছি নয়তো এখন বিপদে পড়তাম। শ্রদ্ধা ছাড়া জ্ঞানার্জন অসম্ভব। গুরুর প্রতি,বিদ্যার প্রতি সব সময় শ্রদ্ধাবনত থাকা উচিত। শিখতে হয় মাথা নীচু করে,বাঁচতে হয় মাথা উঁচু করে। তাই অবনত মস্তকে শ্রদ্ধা নিবেদন ছাড়া জ্ঞানী হওয়া দুষ্কর। তাই আজকাল কার ম্যানার্স এ শ্রদ্ধা কথাটা অবশ্যই থাকা উচিত। 

"শ্রদ্ধা ও মনোযোগ থাকলে তবেই পৌঁছবে জ্ঞানের দরবারে
জ্ঞান লাভের অধিকারী শ্রদ্ধাবান ব্যক্তি, ভুলোনা কোনো প্রকারে।।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ জুন, ২০২৫

কনসিসটেন্সি✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 কনসিসটেন্সি
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

ছোটবেলায় ক্লাসে একটা কবিতা খুব পড়ানো হতো, "পারিবনা একথাটি বলিও না আর, একবার না পারিলে দেখো শতবার।" সেকথা মাথায় রেখে বলতেই হয় কোনো কাজে লেগে থাকলে শেষ পর্যন্ত সাফল্য ধরা দেবেই। আর তার জন্য লাগবে ধৈর্য্য আর অধ্যবসায়। ব্যাকরণবিদ পানিনিকে সবাই চিনি আর তাঁর সাফল্যের পেছনে ধারাবাহিকতা যে মুখ্য ভূমিকা রাখে সে গল্পও জানি আমরা। প্রথম প্রথম ব্যর্থ হয়ে তিনি শিক্ষা পেয়েছিলেন পুকুর ঘাটে পড়ে থাকা এক পাথরের থেকে,যেখানে রোজ কাপড় কাচার ফলে পাথরের ক্ষয় হতে দেখেন। তখন তার মাথায় আসে এভাবে নিজের বোধবুদ্ধিতে শান দিয়েই তিনি ব্যাকরণ বিদ্যা অর্জন করতে পারবেন। এভাবেই তিনি বিখ্যাত ব্যাকরণবিদ হয়ে উঠতে পেরেছিলেন। জীবনে সুযোগ হয়তো বেশি আসেনা সবসময় কিন্তু নিজের ইছেশক্তি আর ধারাবাহিকতা কাউকে খুব সহজে না হলেও শেষ পর্যন্ত বিজয়ীর মুকুট পরাতে পারে। এগুলোকে মাথায় রেখেই চলার চেষ্টা করা উচিত আর চেষ্টা করি। জীবনের প্রতি পদে হাঁটতে গিয়ে অনেক বাধা পেয়েছি,দাঁড়িয়েছি কিন্তু থেমে যাইনি। জানিনা আর কতদূর এগোতে পারবো কিন্তু চেষ্টা করে যাবো যতদিন পর্যন্ত সম্ভবপর হবে। 

"সাফল্য আসবেই,দেরীতে হলেও ধারাবাহিকতার হাত ধরেই
চলতে থাকো,দেখবে পৌঁছে যাবে উন্নতির শিখরে অচিরেই।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...