বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - অপেক্ষা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 শিরোনাম - অপেক্ষা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অপেক্ষা মানেই মনের কোণে একবিন্দু আশার আলো। অপেক্ষা মানেই বেঁচে থাকা,জীবনচক্রের চক্রবুহে থেকেও ভালো কিছু হবে,খারাপ সময়ে মনে করা ভালো দিন নিশ্চয়ই আসবে, সব বাধা কেটে কালো মেঘ সরে গিয়ে আবার সোনালী দিনের দেখা মিলবে। ছোটবেলার সময়ে বড়ো হবার অপেক্ষা,মাধ্যমিকের পর অপেক্ষা উচ্চমাধ্যমিকের, উচ্চমাধ্যমিকের পর অপেক্ষা কলেজে ভর্তির,কলেজ জীবন পেরিয়ে গেলে চাকরির অপেক্ষা। আবার বড়ো হয়ে গেলে কর্মব্যস্ত জীবন থেকে একটু সরে এসে ছুটি নিয়ে নিজেকে আনন্দ দেওয়া সেটাও একটা অপেক্ষা। চিকিৎসকের জীবনে অপেক্ষা রোগীর ভালো হয়ে ওঠার আর রোগীর বাড়ীর লোকের অপেক্ষা সুস্থ করে তাকে বাড়ী ফিরিয়ে নিয়ে যাওয়ার। সেনাবাহিনীর বাড়ীর লোকের অপেক্ষা কখন তাদের ঘরের ছেলে ঘরে ফিরবে অক্ষত অবস্থায়। বিদেশে থাকা লোকেদের অপেক্ষা কবে দেশে ফিরবে তারা। হুমায়ুন আহমেদের 'অপেক্ষা' উপন্যাসটিও বলে "অপেক্ষা মানুষের বেঁচে থাকার এক টনিক।" অপেক্ষা মানুষকে ধৈর্যশীল করে তোলে,নমনীয় করে তোলে আবার কোনো সময়ে কঠিন করে তোলে। অপেক্ষা বাঁচতে শেখায় আর বাঁচাতেও শেখায়। 

"অপেক্ষা করছে সবাই, আছে আশা নিরাশার দোলাচলে
সময় বদলে দিতে পারে সবকিছু ধৈর্য ধরে অপেক্ষা করলে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না করাই হয়তো ভালো। এমনও হতে পারে যে অনুভূতি প্রকাশের মাধ্যমে হয়তো শত্রুকে জিতিয়ে দেবার রাস্তা তৈরি করে দেওয়া হচ্ছে। কর্ম জীবনে অনেক কিছুই দেখা যায় আর বোঝাও যায় কিন্তু সেখানে খারাপ লাগার ব্যাপার গুলো সর্বসম্মুখে প্রকাশ না করাই হয়তো বুদ্ধিমানের কাজ। নিজের মতো কাজ করে এগিয়ে যাওয়া উচিত। আর সব সত্যি কথা বলতে পারলে কোনো মানুষই বন্ধু থাকবেনা, মুখোশ খুলে আসল রূপ বেরিয়ে পড়বে। যাদের থেকে বিপদের সম্ভাবনা রয়েছে সেখান থেকে দূরত্ব বজায় রাখাই শ্রেয়। আবার অনেকসময় কেউ ভালো কিছু করলো কিন্তু তাকে ধন্যবাদ দেওয়া হয়না, সেই অনুভূতি অন্যরকম হয়। তখন তাকে মনে মনে ধন্যবাদ জানানো যেতে পারে। অপ্রকাশের জন্য সেসব অনুভূতি যাতে মনের ভার না হয়ে ওঠে সেজন্য কিছু কথা লেখা থাক বরং খাতার পাতায়। এতে মনের ওপর চাপও পড়বে না আর অপ্রিয় সত্য বলে শত্রু বাড়ার সম্ভাবনাও কম থাকবে। অপ্রকাশের মাধ্যমে যে এক অন্যরকম ভালোলাগা আছে তার ছাপ থেকে যাক। টক্সিক মানুষদের কাছে অনুভূতি প্রকাশ না করে নিরাপদ দুরত্বে অবস্থান করাতে নিজের ভালো। আর নিজেকে কীভাবে ভালো রাখতে হবে এটা নিজে ছাড়া কারোর পক্ষেই জানা সম্ভব নয়। 

"কিছু অনুভূতি থাক একান্ত আপন,সযত্নে মনের কোণে 
সব কিছু বুঝেও প্রকাশ্যে তা ভুল করেও এনোনা টেনে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১২ মার্চ, ২০২৬

অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

অহিংসা-প্রতিবাদের শক্তি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

হিংসাত্মক প্রতিবাদের চেয়ে অহিংসার পথ অনুসরণ করা অনেকাংশে শ্রেয়। অপরপক্ষে যে থাকবে তার বিবেক জাগ্রত করতে হলে হিংসার পথ নয় বরং অহিংসভাবে প্রতিটি পদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত। অহিংসতার কাজের সাথে রেডিয়ামের অনেকটা সাদৃশ্য পাওয়া যায়। একটি মারাত্মক বৃদ্ধিতে মিশে থাকা কোষের ওপর রেডিয়াম ক্রমাগত নীরবে এবং অবিরামভাবে কাজ করে যতক্ষণ না এটি রোগাক্রান্ত কোষকে একটি সুস্থ কোষে রূপান্তরিত করে। একইভাবে এমনকি সামান্য পরিমাণ প্রকৃত অহিংসাও নীরব,সূক্ষ্ম ও অদৃশ্য উপায়ে কাজ করে এবং মনের মধ্যে জমে থাকা ক্ষোভ,হিংসা আর বিদ্বেষকে সমূলে উৎপাটন করতে সাহায্য করে। 
অন্যভাবে ভাবতে গেলে অহিংসাকে একটি মনস্তাত্ত্বিক বিজ্ঞানও বলা যায়। বিজ্ঞানের শব্দভাণ্ডারে 'ব্যর্থতা' শব্দটির কোনও স্থান নেই।
অহিংসার মূল তাৎপর্য হল,আমাদের মধ্যে থাকা অহিংসা আমাদের প্রতি আমাদের প্রতিপক্ষের মনোভাবকে নরম করে তুলবে,কঠোর নয়। এটা তার মনে একটি প্রতিক্রিয়াশীল সুরে আঘাত করবে। যদিও সেই আঘাতে তার শারীরিক কোনো ক্ষতি হবেনা,কিন্তু মননশীল চিন্তার উন্নতি হবে কয়েকগুণ। 
গান্ধীজির অসহযোগ আন্দোলন আর সত্যাগ্রহ আন্দোলন অহিংসা নীতির প্রয়োগ করার এক অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করে। তিনি অত্যাচারীর তরবারির ধার ভোঁতা করতে চেয়েছেন কিন্তু সেটা কোনো অস্ত্রপ্রয়োগে নয় বরং তার মনের পরিবর্তন ঘটিয়ে অহিংসতার মাধ্যমে তার হিংস্র মনোভাবকে নিষ্ক্রিয় করতে চেয়েছেন। 
আরও একটি অহিংসা সর্ম্পকিত উদাহরণ নিয়ে আলোচনা করে নেওয়া যাক। ১৯৬০-এর দশকে আফ্রিকান ও আমেরিকানদের সমতার জন্য লড়াই করা ছিল লুথার কিংয়ের মূল উদ্দেশ্য। ২০১৭ সালের হিসাবে কলম্বিয়া,ইয়েমেন, এল সালভাদর,পাকিস্তান এবং নাইজেরিয়া বিশ্বের শীর্ষ পাঁচটি সবচেয়ে বিপজ্জনক দেশ।
কলম্বিয়া মাদক পাচার এবং সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডের মুখোমুখি। পাকিস্তান একটি ধর্মীয় যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে যেখানে নিরীহ পথচারীরা ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। নাইজেরিয়া দুটি চরমপন্থী গোষ্ঠী বোকো হারাম এবং পশ্চিম আফ্রিকার আইসিস দ্বারা আতঙ্কিত। তবে সহিংসতা কেবল এই দেশগুলিতেই নয় বরং বিশ্বের একটি বিশাল অংশে একটি সাধারণ প্রবণতা। ক্যারিবিয়ান থেকে আফ্রিকা এমনকি এশিয়ার কিছু অংশেও সহিংসতা একটি মহামারী।
সহিংসতা একটি চলমান চক্র যা ভাঙা কঠিন,এবং লুথার কিং এর চেয়ে বেশি কেউ এটি বুঝতে পারেননি বলে মনে হয়। তিনি অহিংস কর্মকাণ্ডের শক্তি এবং সেই শক্তি সম্পর্কে প্রচার করেছিলেন। তিনি বুঝেছিলেন যে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ এবং অন্যান্য অহিংস প্রতিবাদ প্রকৃত পরিবর্তন আনতে পারে। 
বর্তমানে যেমন যুদ্ধকালীন পরিস্থিতিতে অহিংসা নীতির প্রয়োগ হলে অনেক ক্ষেত্রে হিংসা হানাহানি বন্ধ হবে এবং সাধারণ মানুষের জীবনযাপন সহজ হবে। 

"প্রতিবাদ হোক নম্র,কোনো হানাহানি আর অস্ত্র প্রয়োগ নয়
হিংস্র নয়, অহিংসতার নীতি প্রয়োগে কোমল হোক শত্রুর হৃদয়।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৫ মার্চ, ২০২৬

শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সিদ্ধান্তের দায়
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

সিদ্ধান্ত খুব ছোট্ট একটি শব্দ কিন্তু গভীরতা অনেক বেশী। সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে ভাবতে হয় অনেক কিছু, হয়তো কোনোকিছু বা সবার বিপক্ষে গিয়ে নিতে হয় কিংবা নিজের ভালো করতে নিতে হয়। সিদ্ধান্ত নিয়ে লিখতে গিয়ে কিছু টুকরো টুকরো ঘটনা মনে পড়ছে। সেগুলোকেই গুছিয়ে বলার চেষ্টা করছি। স্কুলজীবনে ব্যাকবেঞ্চার ছিলাম ফাইভ সিক্স অবদি। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা পাত্তাই দিতো না,কথা বলতে গেলে একটা অহংভাব বোঝা যেতো ওদের মধ্যে। নোটস চাইলে কিছু বাহানা দিয়ে এড়িয়ে যেতো। তাই আমরা কয়েকজন ব্যাক বেঞ্চাররা ঠিক করলাম নিজেরাই যা পারবো নোটস নেবো,কারোর কাছে চাইবোনা। সেই বন্ধুদের কিছুজন যারা আমরা শেষ দশে পাকাপাকি ভাবে থাকতাম তারা কিছুটা এগিয়ে এলাম। মিডল বেঞ্চার হলাম আমরা কিছুজন। সেই বন্ধুদের একজন আজ বেশ বড়ো মাপের গায়িকা, গান শুনে মনে একটা আলোড়ন সৃষ্টি হয়। প্রথম দশে থাকা বন্ধুরা এখন মাঝে মাঝে দেখা হলে নিজেরাই কথা বলে। সবার সাথে ভালোভাবেই কথা বলা হয়। যে যেমন ভাবে ভেবেছে সেরকম হয়েছে হয়তো। 
কলেজ জীবনে প্রবেশ করে সেকেন্ড ইয়ারে দুজন ভালো বন্ধু পেয়েছিলাম। সকলের সম্মিলিত চেষ্টায় এমবিবিএস এর ফাইনাল পরীক্ষার বৈতরণী গুলো উতরে যাওয়া যেতো। এরপর ইন্টার্নশিপে সবার পোস্টিং আলাদা ওয়ার্ডে হলো। তাও দিনের শেষে পাঁচ দশ মিনিট হলেও কথা বলার চেষ্টা চলতো। একজন বন্ধু ইন্টার্নশিপ শেষ করে মেডিক্যাল অফিসার হিসেবে জয়েন করলো,এখন কথা হলে যেমন ও বলে তখন তোদের সাথে একসাথে পড়ে পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনটা করে নিলেই হতো। ওকে বোঝানো হয় তখনকার সিদ্ধান্ত তোর যেটা ভালো মনে হয়েছিলো নিয়েছিলি,এখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন কর। ও বলতো এই বয়সে আবার পড়াশোনা! এম সি কিউ করা কি পোষাবে! যাইহোক ও সিদ্ধান্ত নিলো আবার পড়া শুরু করবে। পোস্ট গ্র্যাজুয়েট এন্ট্রান্স এক্সামও দিয়েছে সদ্য। দেখা যাক কি হয়! সিদ্ধান্ত কোন দিকে নিয়ে যায় ওকে। আশা করি ভালোই হবে। সুমন ছিলো আরেকজন খুব ভালো বন্ধু,ইন্টার্নশিপের পর যখন পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন এর পরীক্ষা দিচ্ছি আমরা সবাই,ও পেলো পাবলিক হেলথ নিয়ে এম ডি করার সুযোগ। সবাই বললো এই সাবজেক্ট না নিয়ে ক্লিনিক্যাল কিছু নে। সুমন বললো না আবার ওই চব্বিশ সাবজেক্ট পড়ে পরীক্ষা দেওয়া অসম্ভব। পাবলিক হেলথ নিয়ে পড়লো সুমন। এখন বিভিন্ন অর্গানাইজেশনের সাথে প্রজেক্ট এ লিড করে সুমন আর দু বছরে একবার বিদেশ সফর করতেই হয়,
অর্গানাইজেশনের কাজে। কাজও হয় বিদেশ ঘোরাও হয়ে যায়। ও যে সিদ্ধান্ত নিয়েছিল তার দায় ওর। যারা বড় বড় কথা বলেছিল তাদের দায়ও তাদের নিজস্ব। সুমন যে বছর চান্স পেয়েছিল সেই বছর আমি কোনো সাবজেক্ট নিতে পারিনি। আবার পরীক্ষা দেবার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম। তার দায় ও আমার,আজ তা বুঝতে পারি। তারপর এম ডি করতে ঢুকে বন্ধুদের স্বরূপ চিনে তাদের থেকে দূরে সরে এসে কলম তুলে নিয়েছিলাম,আমার সেই সিদ্ধান্তের দায়ও আজ আমার। আর কলম তুলে নিয়েছিলাম বলেই আজ সবার কথাগুলো একজায়গায় লেখার চেষ্টা করছি। কলমকে বন্ধু করেছিলাম বলে লেখক ও লেখনী গ্রুপে যুক্ত হতে পেরেছি। চেষ্টা করি নিয়মিত লেখারও। সব রকম সিদ্ধান্ত, ভুল ঠিক যাই হোক দায়ভার সিদ্ধান্ত গ্রহণকারীকেই নিতে হয়,আর সাথে নিতে হয় নিজেকে ভালো রাখার দায়িত্ব।

"ছোট্ট একটি শব্দ, কিন্তু বেশ কয়েক গুণ বেশি তার গভীরতা 
পরিণত হোক চিন্তাধারা,গ্রাস না করুক সিদ্ধান্তহীনতা।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নববর্ষের প্রথম দিনে অঙ্গীকার ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বছরের শুরু মানেই রেজোলিউশন নেওয়া যে এই করবো,সেই করবো। এখন তো আবার দুবার করে রেজোলিউশন নেওয়...