চিঠিপত্র - ল্যান্ডিং ইন ধরাধাম
লেটার টু ফ্যামিলি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
প্রিয় বাড়ীর সবাই উইথ নন্দী ভৃঙ্গি,
পৌঁছে গেছি আমি ধরাধামে। বৃষ্টি পড়ছে অল্প বিস্তর। তবে আবহাওয়া ভালোই। বাবাইকে এস এম এস করেছি কিন্তু তিনি যদি নেশায় ভুলে গিয়ে মাম্মাকে জানাতে ভুলে যায় তাই সবাইকে লিখছি এই চিঠি যাতে সবাই আমার পৌঁছনোর খবর জেনে যায়। এখানে তো এলাহী আয়োজন করেছে ভক্তরা। র্যাটস তো এক দৃষ্টে খাবার গুলো দেখছে খালি,আর ভাবছে কখন খেতে বসবে!এসেই আমি আগে শপিং মল গুলোতে ঘুরেছি বুঝলি সরু দিদি এই লক্ষী দিদিরা। তোমরা ঠিক বলতে,একটু মধ্যপ্রদেশটা কমাতে হবে নইলে ড্রেস গুলো ভুড়িতে এসে আটকে যাচ্ছে। নেক্সট ইয়ার পাক্কা ১৫ কেজি কমাবো ওজন। তবেই মডার্ন টি শার্ট গুলো পরা যাবে। তবে সব কিছুর মাঝেও থমথমে পরিবেশ। শিক্ষকদের মধ্যে একটা চাপা কষ্ট,শিক্ষার সঠিক পরিবেশের অভাব, ছাত্রছাত্রী গুলো তো খালি সেলফি তুলছে আর আমায় দেখার নাম করে টিউশন ফাঁকি দিয়েছে। ভেবেই ভালো লাগে আমরা কোনো স্মার্ট ফোন নিয়ে বড় হয়নি। নয়তো আমরাও এরকম লাগামছাড়া জীবন যাপনে ব্যস্ত হয়ে পড়তাম। সরু দিদি তোমাকেই কিছু একটা করতে হবে। এদের মাথায় একটু সুবুদ্ধি সফট্ওয়ারটা দিও প্লিজ। আর লক্ষী দিদি তুমি যখন আসবে পুজোতে একটু উদ্যোক্তাদের বলো কম খরচ করে বাকি টাকা যেনো একটু দুঃস্থ অসহায়দের কাজে লাগায়। আমাদের তো সাধারণ জীবন যাপনে অভ্যস্ত করেছে মাম্মা,তাই আমাদের লাক্সারি পোষায়না। এখানে ছোঁড়াগুলো যা সেজে গুজে ঘুরছে আমার তো ভয় লাগে কাতু টা আবার ওদের পাল্লায় পড়ে বিগড়ে না যায়। এই দেখো পৌঁছনোর খবর লিখতে গিয়ে কত কি লিখে ফেললাম। যাই একটু মোদক আর লাড্ডু খেয়ে আসি, পেট টা খিদে খিদে করছে। র্যাটসকে পাঠাই চিঠিটা পোস্ট করে দিতে। তোমরা সবাই ভালো থেকো। আমার জন্য চিন্তা করো না। সাবধানে ফিরে আসবো আমি পুজো শেষে। তারপর নেক্সট প্ল্যান হবে সবাই মিলে আসার। এখনকার জন্য টা টা বাই।
ইতি
তোমাদের প্রিয় গণু সোনা
তারিখ : ২৭.০৮.২০২৫