#বিষয় - জীবন যেরকম।
#নাম-
*গৃহীজীবনের বুদ্ধত্ব*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুদ্ধত্ব লাভ জীবনের বিশেষ সাধনার স্তর থেকে আসে। বুদ্ধত্ব লাভ মানে বোধি লাভ। গৌতম ওরফে রাজকুমার সিদ্ধার্থ রাজসিংহাসন ছেড়ে ছিলেন বোধি লাভের জন্য। বোধিলাভ থেকে তিনি ভগবান বুদ্ধ হয়েছিলেন। সংসার ছেড়েছিলেন। তাঁর প্রচারিত ধর্মের নাম বৌদ্ধধর্ম। আর শিষ্য সম্প্রদায় নিয়ে সংঘ। সংঘের সদস্যগণ হলেন বৌদ্ধ ভিক্ষুক ও ভিক্ষুনী। বুদ্ধ সংসারী মানুষের মধ্যে তাঁর ধর্ম প্রচারকে শিক্ষার অঙ্গ করেছিলেন। সংসারী মাত্রেই সুখ ও দুঃখের শিকার হন - সকল দুঃখের মূলে তিনি *তহ্না বা তৃষ্ণা*-কে দায়ী করেছিলেন। অহরহ পাপ করে - তহ্না থেকেই মূলতঃ আসে,তা থেকে মুক্তির জন্য অনুশোচনা নেই বলে সংসারী মানুষ অনন্ত দুঃখের কবলে পড়েন। এই দুঃখ থেকে মুক্তির জন্য বুদ্ধ অষ্টাঙ্গিক মার্গের( সৎ কর্ম, সৎ চেষ্টা,মিথ্যা না বলা,প্রাণি হত্যা না করা ...) কথা বলেছিলেন। সংসারী বা গৃহী মানুষের মনে শান্তির জন্য - বুদ্ধং শরণম্ গচ্ছামি,সংঘং শরণম্ গচ্ছামি - বুদ্ধের শিষ্যগণ বুদ্ধের শরণাপন্ন হতে বলেছিলেন। আর বুদ্ধের প্রচারিত বৌদ্ধধর্ম সংসারী মানুষের শান্তির আশ্রয়। গৃহী মানুষ সাংসারিক বন্ধনে থেকেও সাংসারিক মুক্তির পথ দেখিয়েছেন। গুরুই সেই পথ দেখান। গুরুবাদী চেতনা বৌদ্ধধর্মে পাই - গুরুই একমাত্র মুক্তির পথ বলে দিতে পারেন। মোহমুক্ত জীবন গৃহী লাভ করলে সংসারে থেকে সন্ন্যাসীর জীবনযাপন করেন। সংসার ভিন্ন জীবন হয় না। সংসারের মধ্যে থেকে মোহমুক্ত জীবনযাপনই শান্তির পথ। তাই সাংসারিক যোগ। ঠাকুর শ্রাশ্রীরামকৃষ্ণ বলতেন মোহমুক্তই সংসারে বিষয়ী হয়েও বিষয়মুক্ত করে। দুধ ও জলের মিশ্রণ থাকলেও হাঁস যেমন দুধটুকু আলাদা করে খেতে জানে,ঠিক তেমনই বিষয়ী লোক বিষয়ের মধ্যেও মোহ বাসনা আলাদা করে চলতে পারেন যিনি তিনিই তো সাংসারিক সন্ন্যাসী। যেমন দেবেন্দ্রনাথ ঠাকুরের সঙ্গে সাক্ষাত করতে গিয়ে ঠাকুর দিব্যদৃষ্টিতে ঠাকুরবাড়ির অন্দরমহল পর্যন্ত দেখে ফেলেছিলেন। আর ঠিক অব্যবহিত পরে ঠাকুরবাড়ি থেকে বেরিয়ে মথুরবাবুর কাছে দেবেন্দ্রনাথ যে কত বড় গৃহী সন্ন্যাসী ছিলেন সেই প্রশংসা করেছিলেন। ঠাকুরের আরেক ভক্তশিষ্য শ্রীমহেন্দ্র গুপ্ত ওরফে শ্রীমও (মাষ্টার)একজন শ্রেষ্ঠ গৃহী সন্ন্যাসী ছিলেন। বিদ্যাসাগরকেও ঠাকুর একই সংশাপত্র দিয়েছিলেন। কিন্তু বঙ্কিমচন্দ্রের বিষয়ের প্রতি বড্ড টান দেখে দেবেন্দ্রনাথ, শ্রীম,বিদ্যাসাগরের ধারায় ফেলতে কুন্ঠা প্রকাশ করেছিলেন।
গৃহী হলে বুদ্ধত্ব লাভ- অষ্টাঙ্গিক মার্গের আটটি নিয়ম হুবহু মানতে পারা সম্ভব না হলেও তার শরণাপন্ন হয়ে চললে ঐ পথেই গৃহীর বুদ্ধত্ব সম্ভব। স্বামীজীর রামকৃষ্ণধর্ম সাংসারিক মানুষের জন্য - মূলমন্ত্র সেবা - জীব সেবা শিব সেবা। স্বামীজীর সেবার আদর্শে বুদ্ধের প্রভাব লক্ষণীয়।
তাই বুদ্ধত্ব লাভ একটি সাধনার পথ। শান্তির পথ। শত তীর্থ ও ধর্ম কর্ম করলেও শান্তি পাওয়া যায় না,যদি মন মোহমুক্ত না হয়। তাই গৃহীর বুদ্ধত্ব লাভের একমাত্র উপায়। বুদ্ধত্ব লাভের মত ও পথ গৃহীর জন্য সদা অপেক্ষায়। এজন্য দেহ ও মনকে যোগ্য করে তুলতে হয়। তার জন্য সাধনার পথে আসতে হয়। কিছুদিন সাধনায় ব্রত নিলাম,হঠাৎ একদিন সাধনার পথ কঠিন বলে আগের ভোগ,বাসনা অনেক সহজ ও শ্রেয় জ্ঞাণ করে ফিরে এলাম- এ হেন দোলাচল মনোভাবের জন্য বরং মোহমুক্তি কি,মোহজনিত দুঃখই বেশি আসে। তাই ধর্মের পথে,সাধনার পথে থাকলে দোলাচল চলবে না,যেমন সাঁকোয় চড়লে ডান ও বাম হতে নেই,লক্ষ্য স্থির রেখে এগিয়ে যেতে হয়,এও ঠিক তেমনি।
তাই পরিশেষে বলি সংসারে থেকে বুদ্ধত্ব লাভ জীবনের কাছে সবচেয়ে শ্রেষ্ঠ পাওয়া। তাই জীবনকে পেতে হয়,পলে জীবন পরমানন্দের পথে চালিত হয়। জন্ম সার্থক হয়।
********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনঅতুলনীয় প্রকাশ👌👌👌
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা 👌👌👌🌹🌹🌹
উত্তরমুছুনঅসম্ভব সুন্দর বলেছেন 👏👏👏একদম মন ভরে গেলো🙏🙏🙏🙏🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনতাই তো গৃহ আর বুদ্ধত্ব দুই নৌকায় পা । সর্বদাই অতুলনীয় লেখি।
উত্তরমুছুনতাই তো গৃহ আর বুদ্ধত্ব দুই নৌকায় পা । সর্বদাই অতুলনীয় লেখি।
উত্তরমুছুনউত্তর দিনমুছুন
খুব ভালো লাগলো। দারুন
উত্তরমুছুনঅনেক অনেক শুভেচ্ছা দাদা💐👌💐👌
উত্তরমুছুন