মঙ্গলবার, ২৪ মে, ২০২২

ডোয়ার্ফি ✍️ডা: অরুণিমা দাস

 ডোয়ার্ফি
✍️ডা: অরুণিমা দাস

উহহু! কপালের বাঁদিকটা চিনচিন করে উঠলো ব্যথায়। উঠে বসতে গেলো বরফি,কিন্তু পারলোনা। শরীরটা বড্ড দুর্বল লাগছে ওর। পাশের বেডে থাকা এক বয়স্ক দাদু বললেন আহা উঠো না বাছা! অনেকটা কেটে গেছিলো তোমার, রক্তও বেরিয়েছিল অনেক। তাই এখন একটু দুর্বল লাগবে। সিস্টার মেডিসিন রেডী করছিল,ওদের কথা শুনে বরফির বেডের পাশে এসে বললো এখন একদম রেস্ট তোমার। কতগুলো সেলাই পড়েছে জানো! আমার আবার রেস্ট! হাসালে দিদি। সার্কাস দেখাতে দেখাতে জীবনটাই একটা সার্কাস হয়ে গেছে। এরম বোলোনা বরফি। সেদিন তুমি না থাকলে ওই বাচ্চাটাকে বাঁচানো যেত কি! সেদিনটা আর মনে করতে চাইনা দিদি। বাচ্চাটা রাস্তা পার করতে গিয়ে একটু হলেই ট্রাকের তলায় পড়ছিল। আমি খালি দৌড়ে গিয়ে ওকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দিয়েছিলাম। আর নিজে টাল সামলাতে না পেরে পাথরের ওপর মাথাটা ঠোক্কর খেয়ে গেছিলো। তারপর আর মনে নেই কিছু। তারপরেরটা আমি বলছি! বলতে বলতে ঘরে ঢুকলেন ডা: পল্লব। আরে আপনি স্যার? হ্যা বরফি আমি! আর শুধু আমিই নই সেদিন যে বাচ্চাটাকে বাঁচিয়ে ছিলে তার মা বাবা আর সে তিনজনেই এসেছে তোমার সাথে দেখা করবে বলে। তাই! আমার সাথে?চোখে মুখে বিস্ময় ফুটে উঠে বরফির। কেমন আছো আঙ্কেল? জিজ্ঞেস করে সেদিনের সেই বাচ্চাটা যাকে বরফি বাঁচিয়েছিল। বরফির চোখ দিয়ে অজান্তেই দু ফোঁটা জল গড়িয়ে পড়ে, এত সম্মান কেউ দেয়নি তাকে আজ পর্যন্ত। সার্কাসে সবাই ওই দেড় ফুট,কালার বয় এসব বলেই ডাকতো। ভালো আছি বাবু, তুমি কেমন আছো? আমিও ভালো আছি আঙ্কেল। আচ্ছা আঙ্কেল তোমার সেদিনকার জামা আর ওসব রঙিন চুল, টমেটোর মত লাল নাক ওগুলো কোথায় গো? ওহ ওগুলো! ওসবতো আমি সার্কাসে খেলা দেখানোর সময় পরিগো। এখন তো হাসপাতালে আছি,তাই ওসব পরিনি। বাবুর বাবা মা এগিয়ে এসে বললো কি বলে যে আপনাকে ধন্যবাদ দেবো বরফি আমরা জানিনা। সেদিন আপনি তুতুনকে না বাঁচালে আমাদের জীবনে আঁধার নেমে আসতো আজ। আপনার কাছে আমাদের কৃতজ্ঞতার শেষ নেই আর। না না এসব বলবেন না আপনারা,বরফি বললো। ছোটবেলা থেকে মা বাবা ছাড়া আছি তো,জানি কষ্টটা। আজ যদি আমি বামন না হয়ে সাধারণ মানুষের মতো চেহারার অধিকারী হতাম কেউ আর ঘেন্না করতো না আমায়। এরম বোলো না বরফি। তোমার এই রঙিন পোশাকের নিচে আছে একটা রঙিন মন যেটা দিয়ে তুমি সবাইকে আনন্দ দান করো, ডা: পল্লব বললেন। আচ্ছা শোনো বরফি এনারা কি বলছেন? তুতুনের বাবা বরফির হাত ধরে বললেন আমি তো বাড়ীর জন্য বেশী সময় দিতে পারি না, বাচ্চাটা একা একাই থাকে। ওর মাও তো নানান কাজে ব্যস্ত থাকে। তুমি ওর সর্বক্ষণের সঙ্গী হবে? আমাদের বাড়িতে থাকবে ওর গভর্নেস হয়ে? কিন্তু আমার সার্কাসের কাজ? আমার ওখানকার বন্ধুরা? ওদের ছেড়ে আমি কি করে থাকবো? বরফি বলে। অনেক আশা নিয়ে এসেছি গো আমরা,বরফি। মাফ করবেন আমায়, আমি আমার সার্কাস ছেড়ে কোথাও যাবো না,মন টিকবে না। এটাই এখন আমার ঘর বাড়ী সব হয়ে গেছে। কিরে ডোয়ার্ফি! আছিস কেমন? শুনলাম একদম হিরোর মত একটা বাচ্চার জীবন বাঁচিয়েছিস! মালিক আপনি? সার্কাসের মালিককে দেখে বরফি খুব অবাক হয়। দেখ কারা এসেছে! বলতে বলতে মালিকের পেছনে আরো তিন চারজন বেঁটে মানুষ ঢোকে। বরফি কে বলে তুই কি আমাদের ছেড়ে চলে যাবি রে? না না আমি তুতুনের বাবাকে বলে দিলাম আমার সার্কাস আর বন্ধুদের ছেড়ে গিয়ে কোথাও শান্তি পাবো না আমি। ডোয়ার্ফি, কাল তোর ছুটি হবে হাসপাতাল থেকে, আমরা এসে নিয়ে যাবো তোকে। এরপর একসপ্তাহ রেস্ট তোর, খেলা দেখাতে হবে না। পুরো সুস্থ হয়ে খেলা দেখাস না হয় আবার। মালিকের কথা শুনে বরফির বেশ ভালো লাগে,এদের ছেড়ে কিছুতেই সে শান্তি পাবে না অন্য জায়গায় গিয়ে। তুতুন মুখ ঝুলিয়ে বসেছিল, বরফি বললো কি হলো? কথা বলবেনা আমার সাথে? না আঙ্কেল তুমি তো আমার বাড়ী গেলে না! যাবো বাবু, তোমার ঠিকানা নিয়ে রাখলাম। যখন এখানে আসবো সার্কাস দলের সাথে ঠিক তোমার সাথে দেখা করে যাবো। আর এখন যতদিন সার্কাস থাকবে এখানে তুমি এসো মাঝে মাঝে,দেখা হবে,প্রমিস! কোনো মায়ায় আর জড়াতে চায়না বরফি, সেই বাঁধন ছিঁড়ে গেলে কষ্ট অনেক বেশি তাতে। তার চেয়ে ডোয়ার্ফি হয়ে রঙিন পোশাকে মানুষকে আনন্দ দেওয়ার কাজটাই বরং ভালো। মনের মাঝে বেজে উঠলো 
"জিনা ইহা, মরনা ইহা ইসকে ইসিভা জানা কাহান!
 জী চাহে জব হামকো আওয়াজ দো,হাম হ্যায় বহি, হাম থে যাহা।"

 ©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৯ মে, ২০২২

গল্পঃ শীতোষ্ণতা। ✍️ নন্দিনী তিথি


এককালে এক অজ্ঞাত মরুভূমির এককোণে একটা বসতি গড়ে উঠেছিলো। একে অন্যকে ভালোবেসে নিজ নিজ বাড়ি ছেড়েছিল দু'জন তরুণ-তরুণী। তখন এই অজানা মরুভূমিই তাঁদের আশ্রয় দিয়েছিল। এরপরে এখানে থেকেই একে অন্যের হাত ধরে শুরু হয় তাঁদের পথ চলা। প্রতিদিন ভোর হতেই দু'জনে চলে যেতো কাজে আর বাড়ি ফিরতো সন্ধ্যে নামার আগে কোনো কোনো দিন সন্ধ্যে ঘোরও হয়ে যেতো। তাঁদের এই নিরলস পরিশ্রমের কারণ ছিলো দু'টো- ১. পেটের চাহিদা মেটানো এবং  ২. সাথে দু'টো টাকা জমানো।

এইভাবেই ওদের জীবন শুরু হলো, এবং চলতে লাগলো। ঋতু পরিবর্তনে ওদের প্রায়শই সমস্যায় পরতে হতো। সবথেকে যে সমস্যাটা বেশি হতো- গ্রীষ্মকালে ওদের মরুভূমির পাশে থাকাটা খুব কষ্টকর হয়ে যেতো। বিশেষ করে তরুণী আশার। কিন্তু তরুণ সুভাষ কিছুতেই গরমের কাছে হার মানতো না। ছোটবেলা থেকেই প্রতিনিয়ত মেডিটেশন ছিলো ওর সঙ্গী। এইসময় আশাকে সঙ্গে নিয়ে যতক্ষণ পারতো মেডিটেশনে বসতো আর চলে যেতো "মনের বাড়িতে"। মনের বাড়িতে তাদের বাড়িটি হতো তুষারের তৈরি, রোদ্রের তাপকে বানিয়ে নিতো বরফের শীতলতা। চারিপাশে থাকতো বৃষ্টির মুখরতা, মনের বাড়িতে গিয়ে রোদ্রের দুপুরকে বানিয়ে নিতো শীতের দুপুর, এবং সোয়েটার খুলে নদীতে নামতো শীতে কাঁপতে কাঁপতে। মেডিটেশনে মনের বাড়িতে গিয়ে ওরা গ্রীষ্মকালকে বর্ষাকাল, বসন্তের চিরিচিরি হাওয়া মাখানো দিন, এবং মাঝেমধ্যে শীতকালের কনকন শীতার্ত মানুষ বানিয়ে নিতো নিজেদেরকে। আর এই মেডিটেশন করার পর প্রতিবেলা তরুণ সুভাষবাবু তরুণী আশাকে বলতো আমাদের মেয়ে সন্তান হলে না আমরা ওর নাম রাখবো 'শীতষ্ণতা' ঠিকাছে আশা! আশা ওর কথা শুনে প্রত্যেকবারই একখানা মিঠামাখা হাসি দিয়ে বলতো- হুম। প্রথমে প্রায় ছ'মাস ওরা অন্যান্য কোনো বসতির সাথেই আলাপী তথা পরিচিত হয়ে উঠতে পারেনি। কারণ ওদের লক্ষ্য ছিলো নিজেদের পায়ে দাঁড়ানো মানে স্বচ্ছলতা। পরে ওদের একটু উঠে দাঁড়ানোর পরে আস্তে আস্তে ওদের পরিচিতি বাড়লো, সবাই ওদের ভালো জানতে শুরু করলো। তরুণ সুভাষকে সবাই একটু অন্যরকম ভালোবাসত। কোনো দরকারি কাজ বা কোনো আচার- অনুষ্ঠানের মিটিং, কোনো বড় দায়িত্ব নেয়ার ব্যাপারে, কোনো‌‌ কাজের যুক্তিসংহত পরামর্শ যেন তাঁকে ছাড়া হতোই না।

এইভাবে ওদের জীবন অতিবাহিত হতে লাগলো। এরই মাঝে চলে এলো ওদের ভালোবাসার প্রথম সন্তান। আনন্দে ওরা দিশেহারা, ফুটফুটে উজ্জ্বল শ্যামলা বর্ণের একটা ফুল যেন ওদের ঘরে এসে আলোকিত করলো, পরিপূর্ণতা আনলো জীবনের। নাম রাখলো চড়ুই। দুষ্টমিতে একশো'তে একশো ছিলো তাঁদের চড়ুই, কিন্তু ছোটবেলা থেকেই ওর মধ্যে একটা ব্যক্তিতের স্পর্শ লক্ষ্য করা গিয়েছিল। ধীরে ধীরে ওদের আরো দু'টো সন্তান এলো প্রথমে মেয়ে পরে আবারও একটা ছেলে। ওদের নাম রাখলো- পূর্ণতা আর নিপুণ। ওদের পরিবার এবার একদম পরিপূর্ণ। সবগুলোই বেশ মেধাবী ছিলো। লেখাপড়া ছাড়া অন্য কোনোকিছুতে নিপুণের মন নেই। সবথেকে শান্ত স্বভাবের ছেলে, একদম মায়ের স্বভাব পেয়েছে। পূর্ণতা! লেখাপড়ায় ভালো, কথাবার্তায় সে স্পষ্টবাদী,  স্বাধীনচেতা মনোভাবের। কিন্তু একটু বেশি একগুঁয়েমি স্বভাবের। আর চড়ুইয়ের কথা বলতে! সে যেমন দুষ্টুমিতে হাফেজ তেমন লেখাপড়ায় তেমনি বুদ্ধিমত্তায়, সামাজিকতায়। মানুষ কথায় বলে প্রথম তথা বড় সন্তান একটু হ্যাবলা স্বভাবের হয় কারণ তাঁরা সবার থেকে একটু বেশিই আদর পায়। আর উচ্ছন্নে যায়। কিন্তু চড়ুইয়ের ক্ষেত্রে পুরো উল্টো ব্যাপার।

সবথেকে মেধাবী ছিলো চড়ুই। ওকে নিয়ে ওদের অনেক আশা। কিন্তু দিন দিন ওরা বড় হতে লাগলো, খরচ ডাবল থেকে ডাবল হচ্ছিল। তিনটা ছেলেমেয়ের খরচ চালাতে গিয়ে ওদের সংসার টানাপোড়েনের মধ্যে দিয়ে চলতে লাগলো। আর পেরে উঠছিলো না ওরা, কোথা দিয়ে ওদের লেখাপড়ার খরচ চালাবে! চড়ুই মেডিক্যালে, পূর্ণতা মেট্রিকে গ্লোল্ডেন পেয়ে সদ্য ইন্টারে ভর্তি হলো। ভর্তি হতে অনেক খরচ, আবার বিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী, প্রাইভেট না পড়লেই নয়। আর ছোটটা নিপুণ সে কেবল দশম শ্রেণীতে উত্তীর্ণ হয়েছে। এত্তো খরচ কোথা দিয়ে চালাবে, এই নিয়ে বাবু সুভাষের দিন রাত্রি ঘুম নেই চোখে। লেখাপড়া বন্ধ হয়ে যাওয়ার পথে প্রায়। সবে গড়ে ওঠা স্বপ্নগুলো যেন ভূমিকম্প লেগে শেষ হয়ে যাওয়ার পথে। এমতাবস্থায় চিন্তায় দিশেহারা হয়ে বাবু সুভাষ এই অবস্থা থেকে মুক্তি পাওয়ার কোনো উপায় খুঁজে না পেয়ে অবশেষে ঠিক করলো চড়ুইকে বিয়ে দেবে, এই চিন্তা মাথায় চাপালো। বাবার অবস্থা দেখে চড়ুইও মুখ বুঝে বাবার সিদ্ধান্তে মত দিলো। অনেক প্রস্তাব ভেঙ্গে যাওয়ার পর অবশেষে রায় বংশের একমাত্র মেয়ে একতার সঙ্গে  চড়ুইয়ের বিয়ে ঠিক হলো। দিন ঠিক করে ভালোভাবে বিয়ে কার্য সম্পন্ন হলো। সৃষ্টিকর্তা নিজেই বোধহয় এমন মর্যাদাশালী পরিবারের সঙ্গে বাবু সুভাষের পরিবারকে মিলিয়ে দিয়েছেন। এমন মেয়ে যেন পৃথিবীতে লাখে একটা। তার স্বভাবের পরিচয় দিতে গেলে তা বরফের মতো শান্ত, আচরণ তার বিজ্ঞ বিচারকের মত নৈপুণ্য, কথাবার্তায় যেন সে মায়া আর ভালোবাসার মন ভুলানো অধিকারী, হাঁটাচলায় মায়াবতী লক্ষ্মী, হাত পায়ের গঠন তা ঈশ্বর বোধহয় একটু বেশিই স্বযত্নে বানিয়েছেন। এখন আর তার গুনের বর্ণনায় না গিয়ে এবারে ক্ষ্যান্ত হই। কিন্তু একতার চেহারার গঠন ভালো হলেও অতটা সুন্দরী ছিলো না। বাবু সুভাষ যেন আজ ঈশ্বরের কাছ থেকে সেই মেয়েকে পেয়েছেন, যেখানে প্রতিদিন মেডিটেশনের পরে স্ত্রী আশাকে বলতো আমাদের মেয়ে হলে তাঁর নাম রাখবো 'শীতোষ্ণতা'। সেই শীতোষ্ণতাকে। আনন্দের অশ্রু ঝরিয়ে বরণ ডালা সাজিয়ে দু'জনে মিলে একতার হাতে চুমু খেয়ে বললো- "আয় মা শীতোষ্ণতা, তুই আমাদের সেই স্বপ্নের বাড়ির মেয়ে যার নাম কত বছর আগে ঠিক করে রেখেছিলাম। আজ এতো দিন ‌পরে  ঈশ্বর পাঠালো, কাছে পেলাম তোকে আমরা। 

আনন্দের জোয়ারে ভেসে যাচ্ছিলো সুভাষ আর আশার পরিবার। সবার চোখে বৃষ্টির মতো অশ্রু ঝরেছিলো সেদিন। সবাই আজ প্রতিষ্ঠিত, চড়ুই ডাক্তার হয়ে সে দুঃস্থ অসহায়দের পাশে দাঁড়িয়েছে, পূর্ণতা একজন ভার্সিটির আদর্শবান শিক্ষিকা হয়ে ভালোবাসার মানুষকে বিয়ে করে সুখে সংসার করছে, ভদ্র ছেলে নিপুণ সদ্য ইঞ্জিনিয়ারিং পাশ করে বেরিয়েছে। আর সবার আদরের রায় বংশের মেয়ে শীতোষ্ণতা(একতা) আজ ব্যাংকার এবং আশা সুভাষের কাছে থেকে তাদেরকে নাতিশীতোষ্ণতার মহিমায় ভরিয়ে রাখছে। 

বিশ্বেতে শান্তির পরিবার আজ আশা-সুভাষের পরিবার। আর বিরাজমান রবে চিরকাল।

Copyright © All Rights reserved Nandini Tithi.

বুধবার, ১৮ মে, ২০২২

ক্লিওপেট্রা ও অজানা কিছু ইতিহাস ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


 ক্লিওপেট্রা ও অজানা কিছু ইতিহাস
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

মাত্র ৩৯ বছরের সংক্ষিপ্ত জীবনে কখনো ছিলেন রাজকন্যা,কখনো বা পরাক্রমশালী রানী, আর কখনো তিনি ছিলেন প্রেয়সী। ক্লিওপেট্রাকে মনে করা হয় সম্মোহনী সৌন্দর্য্য ও ক্ষমতার স্বত্ত্বাধিকারী। রুপোলি পর্দায় তাঁকে রুপসী হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও আধুনিক ইতিহাসবিদদের মতে,পরমাসুন্দরী হিসেবে তার খুব বেশি খ্যাতি ছিল না। তবে তাঁর তীক্ষ্ম বুদ্ধিমত্তা, মন্ত্রমুগ্ধকর ব্যক্তিত্ব, সহজাত রসবোধ,প্রচণ্ড উচ্চাভিলাষ ও তা বাস্তবায়নের অদম্য ইচ্ছাশক্তির জোরে তিনি সর্বকালের সেরা মহিলাদের মধ্যে স্থান করে নিয়েছেন। ক্লিওপেট্রাকে ঘিরে ইতিহাসে বিতর্ক আর রহস্যের যেন শেষ নেই। যেমন রহস্যময় তার জীবন ও রাজ্য শাসন,তেমনি রহস্যময় তার প্রেম। তাঁকে নিয়ে গল্প-কবিতা-উপন্যাসের পাশাপাশি নির্মিত হয়েছে চলচ্চিত্রও। উইলিয়াম শেক্সপিয়র, জর্জ বার্নাড শ,জন ড্রাইডেন, প্লুটার্ক, হেনরি হ্যাগার্ড, ড্যানিয়েল প্রত্যেকেই আলাদাভাবে ফুটিয়ে তুলেছেন তাঁর চরিত্র। হ্যালিওয়েল তাকে 'দ্য উইকেডেস্ট উইম্যান ইন দ্য হিস্ট্রি' হিসেবে অভিহিত করেছেন।
প্রেম আর মৃত্যু এই নারীর জীবনে একাকার হয়ে গেছে। তিনি যেমন ভালোবাসার উদ্যাম হাওয়া বইয়ে দিতে পারতেন,তেমনি প্রয়োজনে মারাত্মক হিংস্র হতেও বিন্দুমাত্র দ্বিধাবোধ করতেন না।
দান্তের মতে,লালসার শাস্তি হিসেবে তিনি নরকের দ্বিতীয় স্তরে দাউ দাউ করে পুড়ছেন। কারো কারো দৃষ্টিতে তিনি ছিলেন 'সারপেন্ট অব দ্য নাইল'। অনেকে আবার তাঁর আবেদনময়ী দিকটিকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন। ফারাও রাজবংশের সর্বশেষ রাণী ক্লিওপেট্রা শুধুমাত্র মিশরীয় ইতিহাসের এক বিস্ময়কর নামই নন, ইতিহাসের সবচেয়ে বিখ্যাত নারীদের মধ্যেও তিনি একজন।

ক্লিওপেট্রার সংক্ষিপ্ত জীবনী - খ্রিস্টপূর্ব ৬৯ সালে প্রাচীন মিসরের আলেকজান্দ্রিয়ায় জন্ম ক্লিওপেট্রার।তার পুরো নাম ক্লিওপেট্রা সপ্তম ফিলোপেটর। মেসিডোনিয়ান বংশোদ্ভূত সপ্তম মিশরীয় রানী হওয়ায় তাকে এই পরিচিতি বহন করতে হয়। 
গ্রিক শব্দ kleos আর pater থেকেই ক্লিওপেট্রা। যার স্ত্রী বাচক অর্থ করলে দাঁড়ায় "গ্লোরী অফ দ্য ফাদার"। তার আগে আরো ছয়জন কিওপেট্রা ছিলেন। তার পূর্বপুরুষ টলেমি ছিলেন মহামতি আলেক্সান্ডারের একজন সেনাপতি। খ্রিষ্টপূর্ব ৩২৩ সালে আলেক্সান্ডার মারা গেলে তার অন্যতম সেনাপতি টলেমি মিশরে স্বাধীন রাজবংশ প্রতিষ্ঠা করেন। কিওপেট্রা এই বংশেরই শেষ শাসক। তার মৃত্যুর মধ্য দিয়ে মিসরে প্রায় ৩০০ বছরের মেসিডোনিয়ান শাসনের অবসান ঘটে। তার মায়ের দিকের পরিচয় অবশ্য পাওয়া যায় না। এ কারণে তিনি রোমানদের মতো শ্বেতাঙ্গ ছিলেন নাকি মিশরীয়দের মতো কৃষ্ণাঙ্গ তা জানা যায়নি।

অধিকাংশ ইতিহাসবিদের মতে খ্রিস্টপূর্ব ৫১ অব্দে রোম সম্রাট টলেমি অলেতিস মারা যান। মারা যাওয়ার আগে তার বিশাল সাম্রাজ্য ১৮ বছর বয়সী কন্যা ক্লিওপেট্রা [ক্লিওপেট্রা-৭] ও ১o বছর(কারো কারো মতে ১২ বছর) বয়সী পুত্র টলেমি-১৩-কে উইল করে দিয়ে যান। সেই সঙ্গে মৃত্যুর সময় রোমান নেতা পম্পেকে রাজ্য ও তার সন্তানদের দেখাশোনা করার দায়িত্ব দিয়ে যান। তখনকার মিশরীয় আইন অনুসারে দ্বৈত শাসনের নিয়মে রানী ক্লিওপেট্রার একজন নিজস্ব সঙ্গী থাকা বাধ্যতামূলক ছিল। কাজেই ক্লিওপেট্রাকে বিয়ে করতে হয় তারই ছোটভাই টলেমি-১৩ কে, যখন টলেমির বয়স ছিল মাত্র ১০বছর (কারো কারো মতে ১২ বছর)। ফলে আইনগতভাবে রাজ্য পরিচালনার দায়িত্বভার অর্পিত হলো ক্লিওপেট্রা এবং তার স্বামী (ওরফে ছোট ভাই) ত্রয়োদশ টলেমির উপর। ক্ষমতায় আরোহণের পর নানা প্রতিকূলতার মধ্য দিয়েও ক্লিওপেট্রা তার শাসন চালিয়ে গেলেন।
ধারণা করা হয় কিওপেট্রার বড় দুই বোনের একজন (ক্লিওপেট্রা ষষ্ঠ) শৈশবেই মারা গিয়েছিলেন ও অপরজনকে (বেরেনিস) টলেমি অলেতিস-ই হত্যা করেছিলেন। এ ছাড়া ক্লিওপেট্রার ছোট আরো দুটি ভাই ছিল।
সে সময়ের মুদ্রায় অঙ্কিত ক্লিওপেট্রার প্রসন্ন ভাব, গোলাকার দৃঢ় চিবুক,ধনুকের মতো ঢেউ খেলানো ভুরু যুগলের নিচে অনিন্দ্য সুন্দর চোখ, প্রশস্ত ললাট আর সুতীক্ষ্ম নাকের চমৎকার সমন্বয় দেখা যায়। প্রখর বুদ্ধিমত্তা আর যেকোনো পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেয়ার ক্ষমতা,সম্মোহনী ব্যক্তিত্ব তাকে করেছিল তুলনাহীন। তবে ক্লিওপেট্রা ও টলেমি-১৩ এর মধ্যকার সুসম্পর্ক স্থায়ী হয়নি। সিংহাসনে বসার মাস কয়েক পরেই দু’জনের মধ্যকার সম্পর্কে চিড় ধরে। ক্লিওপেট্রাও সব সরকারি দলিলপত্র থেকে তার ভাইয়ের নাম মুছে ফেলতে থাকেন। এমনকি মুদ্রায় তার একক পোর্ট্রেট ও নাম সংযোজন করেন। তবে তিনিও টিকতে পারেননি। দুর্ভিক্ষ, বিশৃঙ্খলা, প্রাসাদ ষড়যন্ত্রের ফলে ক্লিওপেট্রাকেও সরে যেতে হয় ক্ষমতা থেকে। কিন্তু তিনি দমে যাননি মোটেও ধারণা করা হয় বোন আরসিনোইকে নিয়ে আরব সৈন্যদের সহায়তায় তিনি সিরিয়ায় চলে যান এ সময়।
ক্লিওপেট্রার মৃত্যু ও সমাধি নিয়ে নানান মত রয়েছে, সাথে রয়েছে রহস্যও।
তাঁর সৌন্দর্যের প্রতিদ্বন্দ্বী তিনিই। চোখের চাহনি বুকে কাঁপন ধরায় অতি বড় সম্রাটেরও। তীব্র অথচ সূক্ষ্ম কামনার অট্টহাসি কিংবা ডুমুরের ডালিতে থাকা বিষাক্ত অ্যাম্পের ছোবলের কথা লেখা আছে ইতিহাসের পাতায়। মিশরের সেই রহস্যময়ী ক্লিওপেট্রা এখনও বিস্ময়। তাঁর জীবনের গল্প এখনও ছত্রে ছত্রে রহস্যে মোড়া। মৃত্যু, সে তো আরও গভীর রহস্যময়। কোথায় তাঁর সমাধি, সেটাও এত দিন অধরা ছিল। মিশরীয় সেই রহস্যের জট খুলছে একটু একটু করে। একদল গবেষকের দাবি, অচিরেই খোঁজ মিলতে পারে ক্লিওপেট্রার সমাধির। ক্লিওপেট্রা সাধারণ মানুষের কাছে একটা ধাঁধার মতো। ইতিহাসের এক একটা অধ্যায়, এক এক রকম ভাবে তুলে ধরেছে তাঁর বর্ণময় জীবনকে। ক্লিওপেট্রা সপ্তম থিয়া ফিলোফেটর ছিলেন মিশরের রানি। প্রাচীন মিশরের শেষ ফারাও। তাঁর জন্মের আগে ছিলেন ছ’জন ক্লিওপেট্রা। 

খ্রিস্টপূর্ব ৩০ সাল। বন্দি ক্লিওপেট্রা বিষাক্ত অ্যাম্পের কামড় খেয়ে আত্মহত্যা করেন। কথিত আছে এই সাপ তাঁর কাছে ডুমুরের ঝুড়িতে লুকিয়ে নিয়ে যাওয়া হয়েছিল।এর পরের অধ্যায়টা পুরোপুরি রহস্যে মোড়া। সেই যে হারিয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রা, তাঁর কবরের খোঁজও মিলল না। জনশ্রুতি, অ্যান্টনির সঙ্গেই তাঁকে সমাধি দেওয়া হয়েছিল। অনেকের বিশ্বাস আলেকজান্দ্রিয়াতেই সমাহিত করা হয় ক্লিওপেট্রাকে। ৩৬৫ খ্রিস্টাব্দে সুনামিতে ধ্বংস হয় এই শহর। অনেকে আবার মানেন আলেকজান্দ্রিয়ার অদূরে নীল নদের অববাহিকায় ট্যাপোসিরিস ম্যাগনায় রয়েছে তাঁর সমাধি। এই দাবিতেই মান্যতা দিচ্ছেন গবেষকরা। কারণ সম্প্রতি সেখানে একটি সমাধি আবিষ্কার করেছেন পুরাতত্ত্ববিদরা। সেখানে রয়েছে ২০০০ বছরের পুরোনো দুটি মমি। এই মমি দু’টি সোনার পাতে মোড়া। পুরাতত্ত্ববিদদের দাবি, তৎকালীন মিশরীয় সমাজের উচ্চপদস্থদের এ ভাবে সমাহিত করা হত। এক্সরে করে দেখা গিয়েছে মমি দু’টির মধ্যে একটি পুরুষ। অন্যটি নারী। সোনার ওই পাতে কিছু গুবরে পোকার ছবি পাওয়া গিয়েছে। যা মিশরে পুনর্জন্মের প্রতীক। এর থেকে পুরাতত্ত্ববিদদের অনুমান, এগুলি তৎকালীন মিশরের কোনও ক্ষমতাশালী পুরোহিতের। যাঁদের সঙ্গে ক্লিওপেট্রার যোগাযোগ ছিল। মমির পাশে কিছু মুদ্রাও পাওয়া গিয়েছে, যা ক্লিওপেট্রার সময়ের। এই দলের প্রধান,লিভারপুল বিশ্ববিদ্যালয়ের মিশরীয়বিদ্যার অধ্যাপক গ্লেন গডেনহো জানান, ২০০০ বছর পুরোনো ওই মমি দুটি। তাই সেগুলির পরীক্ষায় কিছুটা সময় লাগবে। তবে মমি দুটি যে ভাবে সোনার পাতে মোড়া ছিল, তাতে পরিষ্কার, সেগুলি তৎকালীন মিশরের কোনও ক্ষমতাশালী ব্যক্তির। টোপোসিরিস ম্যাগনায় ১৪ বছর ধরে খননকাজ চালাচ্ছেন ক্যাথলিন মার্টিনেজ। তিনিও আশাবাদী ওই এলাকায় অচিরেই খোঁজ মিলবে ক্লিওপেট্রার সমাধির। কারণ ওই এলাকার খুব কম অংশেই এখনও খননকাজ চালানো সম্ভব হয়েছে।এমনটা হলে ইতিহাসের সবচেয়ে চর্চিত একটা অধ্যায় স্পষ্ট হবে। ফিরে আসবেন সেই সুন্দরী, যাঁর সৌন্দর্যে মজে তামাম বিশ্ব। হয়তো জানা যাবে কী ভাবে হারিয়ে গেলেন ক্লিওপেট্রা, পাঠকদের সামনে আসবে আরও অজানা ইতিহাস। অপেক্ষায় রইলাম জানার জন্য।


এই ইতিহাস সংক্ষেপে বলছিলেন বিমল বাবু তার সহকারী অমিত বাবুকে। আজ অফিসে বিমল বাবু তার স্বেচ্ছাবসরের চিঠি দিতে এসেছেন। অমিত বাবু বললেন আপনার তো একটাই মেয়ে, তার বিয়ের কথা ভাববেন না? চাকরি ছেড়ে দিচ্ছেন যে!
- আর বলবেন না, মেয়ের জন্যই তো চাকরি ছাড়ছি। 
- কেনো কেনো?
- মেয়ে এখন একটা বড়ো কোম্পানি তে জব করছে, সিনিয়র কনসালট্যান্ট। আমাকে আর ওর মাকে কলকাতায় ফেলে রাখবে না। মুম্বাই নিয়ে চলে যাবে। বলছে তোমরা যেমন ছোটবেলায় আমায় আগলে রেখে মানুষ করেছো এখন আমার দায়িত্ব তোমাদের আগলে রাখা। আর কদিন এরকম ছুটে দৌড়ে অফিস যাবে? দু বছর কম চাকরি করলে কিছু যাবে আসবে না। তাই আজ চাকরি ছাড়ার চিঠি দিয়ে পরশু চলে যাবো মুম্বাই। 
- ও আচ্ছা। আপনারই কপাল বিমল বাবু।
- কেনো? আপনার তো ছেলেকে নিয়ে খুব গর্ব, অনেক বড় চাকরি করে যে।
- হ্যা, তা করে। কিন্তু মনটা আপনার মেয়ের মতো বড়ো নয়। বলেই দিয়েছে নিজেরা নিজেদের সামলে রেখো। বছরে এক আধবার হয়তো আসবে, তাও যদি ক্লায়েন্টের দরকার হয় তবেই। 
- আমার মেয়েকে নিয়ে খুব গর্ব হয়। ছেলে না থাকার কোনো দুঃখই নেই আমার। সত্যিই 'সি ইস গ্লোরি অফ ফাদার।' আজ আসি, অফিসের বাকি কাজ গুলো করে নিই। পরশু না হয় যাওয়ার আগে আপনার সাথে দেখা করে নেবো।
- হ্যা, আসুন। খুব ভালো থাকবেন। আপনার মেয়ের নাম ক্লিওপেট্রা হলে কিন্তু বেশ হতো। 
- হা হা, ভালো বলেছেন। আসি। আবার দেখা হবে।
একগাল হাসি নিয়ে বিমল বাবু বেরিয়ে গেলেন অমিত বাবুর ডেস্ক থেকে।

গুগল, ক্লিওপেট্রা র জীবনী, হায়রোগ্লিফের দেশে বই থেকে কিছু তথ্য নেওয়া হয়েছে। আর শেষ অংশটি  ক্লিওপেট্রার নামের সাথে মিল রেখে একটা ছোট গল্পের রূপ দেওয়ার চেষ্টা করেছি মাত্র।  
 
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বুধবার, ১১ মে, ২০২২

পথের ডাক

দিগন্ত বিস্তৃত মেঘলা আকাশ

বৃষ্টিভেজা ফাঁকা রাস্তা

সঙ্গে চারিপাশে অসংখ্য বৃক্ষের মেলা…

মন বলে চল পালাই কোথা..

কোনো এক অদৃশ্য ডাকের হাতছানি।

যা লুকিয়ে আছে ঐ পথের বাঁকে র পরে..

আমি আসছি,হে পথ আমি তোমার পথিক,


তোমার ডাকে সারা দিতে আমি আসছি..।।


🙏🙏🙏🙏

রবিবার, ১ মে, ২০২২

মে দিবস(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


মে দিবস(সুদেষ্ণা দত্ত)

মে দিবস–অর্থাৎ শ্রমিক দিবস(১লা মে)।শ্রমিকরা নানা দাবিদাওয়া ও অধিকার আদায়ের জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।বিশ্বের আপামর শ্রমিককে শ্রদ্ধা নিবেদনেই আজকের এই দিনের মাহাত্ম্য লুকিয়ে আছে।শ্রমিক দিবসের গুরুত্ব,কেন এই দিনের নির্বাচন এসব মাথা ভারী করা লেখনীর ভার আমার কলম বইতে পারবে না।তাই সে গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

            যিনি শ্রম দান করেন,তিনিই শ্রমিক।প্রত্যেকের নিজের মত করেই কিছু চাহিদা,আশা থাকে।আকাশের বুকে সজল মেঘ বৃষ্টির ভার বয়ে বারি ধারা ঝরে স্নিগ্ধ করে আমাদের।পাহাড় তার বুকে নদীকে বয়ে বেড়ায়।বৃক্ষ ফল দান করে আমাদের খাদ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করে।ফুল দান করে,করে প্রকৃতির সৌন্দর্যায়ন(বানান নিল না)।কিন্তু সেই বৃক্ষের মালিকানা যে আমাদের তাই ছেদনেও পড়ে না চোখের দু’ফোঁটা জল,নেই শাস্তির বিধান!কেউ দেয় উষ্ণতা,কেউ দেয় শীতলতা।কিন্তু মা-বাবা বা গুরুজনদের অবজ্ঞা করলে যেমন ভবিষ্যতে পস্তাতে হয়,তেমনই এই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করলে সেও ধারণ করে ভয়াল রূপ।তার নেই কোন অর্থ বা স্বার্থের দাবি।তার দাবি খুব কম,তুমি আমায় এক বিন্দু দিলে,আমি তোমায় এক কাঁড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব।কিন্তু হায়...

              দেহের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনেক সময় বিশ্রাম পেলেও,একবার ভাবুন হৃৎপিন্ড যদি আট ঘণ্টা কাজের দাবি জানাত,আমাদের কী অবস্থা হত।কিন্তু আমরা অতিরিক্ত তেল-মশলা খেয়ে,ব্যায়াম বর্জন করে তার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করি।তখন সেও অবাধ্য সন্তানের মতই সময়ের আগেই তার ঘড়ি ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

              নারী-তিনি যখন মা বা স্ত্রী বা সন্তান,পরিবারের ধারণকারিণী,পুরুষ-তিনি যখন সন্তান,বাবা বা স্বামী পরিবার বহনকারী-কখনও হয়তো নদীর মজে যাওয়ার মতই এই সম্পর্কেও পলি পড়ে।কিন্তু অনেকসময়ই স্নেহ,মমতা,ভালবাসা,কর্তব্য দিয়ে সংসার তটিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায় দাবিহীন।শুধু দাবি একটু ভালবাসা-সহানুভূতির।যে কোন ক্ষেত্রে একে অপরকে বুঝলে বোঝা না হয়ে বোঝাপড়া সহজ হয়।মালিক-শ্রমিক না ভেবে সকলের তরে সকলে আমরা ভাবলে বোধহয় শ্রমিক দিবসের প্রয়োজন হয় না।

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি-সংগৃহীত

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...