শিরোনাম - ম্যাজিক অফ মেলোডি
✍️ডা:অরুণিমা দাস
গান আমাদের জীবনের সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে আছে। গানের লিরিক্স গুলো শুনতে শুনতে তার সাথে একাত্ম হয়ে গেলে জীবনের মানে অন্য রকম হয়ে যায়। বুদ্ধিভিত্তিক অংশ সেরিব্রাম গানের কথার সাথে আগেকার স্মৃতি, জ্ঞান,চরিত্র ও ঘটনাকে তুলনা করে, শরীরের চলাফেরা নিয়ন্ত্রণের অংশ সেরেবেলাম শরীরকে স্থির করে অথবা গানের বাজনার সাথে চালনা করে এবং হৃদস্পন্দন নিয়ন্ত্রণ করে। প্রতি মুহূর্তে গান আমাদের বাঁচার অনুপ্রেরণা যোগায়। কাজে এনার্জি পেতে গান দরকার। মানুষের মনে সুখানুভূতি সৃষ্টির অন্যতম কৌশল হলো সঙ্গীত। সুর আমাদের হৃদয়কে উদ্বেলিত করে তোলে,মনোযোগ দিতে সাহায্য করে এবং স্মৃতিশক্তি হ্রাস রোধ করে।
নিউরোলজিস্টদের মতে, মস্তিষ্ক কাজ করে ছন্দের মাধ্যমে। গান শোনার ফলে মস্তিষ্কে আলফা ও থিটা তরঙ্গ উৎপন্ন হয়। আলফা ও থিটা স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধিতে সহায়ক এবং থিটা তরঙ্গ প্রবাহের ফলে কর্টিসল হরমোনের প্রবাহ হ্রাস পায়। এই কর্টিসল স্ট্রেস হরমোন হিসেবে পরিচিত,যা মনোসংযোগ ব্যহত করে,দুঃখ ও দুশ্চিন্তার অনুভূতি জাগায়। তাই সুর শোনার ফলে মানসিক চাপ হ্রাস পায়। ছোট বেলায় গান চর্চা করলে ঐ ব্যক্তির শব্দপ্রক্রিয়া করার ক্ষমতা সাধারণের তুলনায় বেশি হয়ে থাকে।সুর মানুষকে শান্ত ও ধীরস্থির করে তোলে। তবে গান শোনার চেয়ে বাদ্যযন্ত্র বাজানোর ফলে মস্তিষ্ক আরও বেশি তৎপর হয়ে থাকে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে উচ্চমানের গীত সৃষ্টির সময় মস্তিষ্কের অল্প অংশ সক্রিয় থাকে,নিউরাল কানেকশন কম থাকে। ফলে বাড়তি শক্তি জমা হয় এবং এই শক্তি ব্যবহার নিউরাল সার্কিটকে আরো সক্রিয় করে তোলে ও সঙ্গীত মস্তিষ্ককে ক্ষুরধার করে তোলে।
সার্বিক জনসংখ্যার তিন থেকে পাঁচ শতাংশ মানুষ সঙ্গীত ঘৃণা করে,একে বলা হয় মিউজিক্যাল অ্যানহেডোনিয়া। এ ধরনের মানুষের মস্তিষ্কের রিওয়ার্ড সিস্টেমের সাথে শ্রবণ অংশের যোগাযোগ কম।
সঙ্গীত শিল্পের চমৎকার একটি মাধ্যম হলেও এর ক্ষতিকর কিছু দিক রয়েছে
কিছু গান মানুষকে আত্মহত্যার দিকে প্ররোচনা দেয় বলে জানা গেছে। Gloomy Sunday নামক একটি গান এই কারণে বহুল আলোচিত। অতিরিক্ত হেভি মেটাল শুনলে স্মৃতিশক্তি বাড়ার বদলে কমতে থাকতে পারে। সঙ্গীত কখনো কখনো হিংস্রতা উদ্বুদ্ধ করতে পারে।
বর্তমানে অ্যালজাইমার্স রোগের একমাত্র প্রতিকার মিউজিক থেরাপি। অটিজমে এর ব্যবহার করা যায় কিনা তা নিয়ে গবেষণা চলছে। ডিপ কোমায় থাকা রোগীদের ক্ষেত্রে বর্তমানে মিউজিক থেরাপি দেয়া হয়ে থাকে।
এই জন্যই
বলা হয়ে থাকে গান মানুষের শরীরের জন্য একটি যাদু। যে যাদু হঠাৎ করে পৃথিবীর সব জরাজীর্ণতা,ক্লান্তি,অবসাদ,চাপ ও দুশ্চিন্তাকে প্রশমিত করে মনকে ফুরফুরে করে এবং কাজের জন্য আবার মনকে সজীব ও সতেজ করে।
সঙ্গীত মস্তিষ্কের ব্যায়াম। সুর,বাজনা ও কথার সাথে মস্তিষ্কের প্রায় সব অংশ উদ্দীপ্ত হয়।
"সঙ্গীতের মূর্ছনায় রয়েছে যে ম্যাজিক অফ মেলোডি
গানে জীবন হবে চাপমুক্ত,হবে না কোনো ট্র্যাজেডি।"
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন