শনিবার, ১৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৩

বোধবুদ্ধি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 বোধবুদ্ধি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

নেশায় বুদ হয়ে নন্দী ভৃঙ্গী দের নিয়ে মহাদেব ব্যস্ত কৈলাসে। মর্ত্যে শিব রাত্রি, সেই উপলক্ষ্যে কৈলাস সেজে উঠেছে। দুর্গা গোছাতে বসেছেন লাভ ম্যারেজের অ্যানিভার্সারী গুলোতে কি কি জিনিস পত্র পেয়েছিলেন সেইগুলো। কিন্তু এতো কোলাহল চলছে যে নিজের কাজ করতে পারছেন না মন দিয়ে। ওদিকে বৃষ আবার সকাল থেকে মুখ গোমড়া করে আছে, কিছুতেই স্নান করবেনা ঠান্ডায়। মহাদেব তাই তার জন্য গিজার লাগানোর কাজে বিশ্বকর্মাকে তলব করেছেন। নারদ আবার কৈলাস ফার্মেসি থেকে সর্দি কাশির ওষুধ এনে দুর্গাকে দিলেন। স্বামীর ঠান্ডা লাগবে জল গায়ে লেগে,তাই এই তৎপরতা। নন্দী মনের সুখে গাঁজা টানছে আর সাপ্লাই দিয়ে যাচ্ছে মহাদেবকে। হঠাৎ করে মাথায় জল পড়ায় নেশা কেটে গেলো। বেশ কিছুক্ষন জল পড়ার পর কেমন যেনো একটা অস্বস্তি বোধ হলো মহাদেবের,চামড়ায় কি সব বেরোচ্ছে যেনো! নন্দী ছুট্টে গিয়ে দুর্গাকে ডেকে আনলো। উনি হায় হায় করে এসে বললেন কি হলো এসব? নেশার ঘোর কেটেছে কিছুটা তখন মহাদেবের, বললেন আর কি গিন্নী? তোমার ভক্তরা মর্ত্যের জল দূষিত করেছে, তাই এসব হয়েছে। সব তো বড়ো বড়ো বাড়ী, কারখানা গড়তে ব্যস্ত। তা নালা নর্দমা সব বুজিয়ে ফেলে আবর্জনা সব যাবে কোথায়? চলো তোমায় ভালো করে সাবান দিয়ে স্নান করিয়ে দিই, দুর্গা বললেন। এই বছর যখন অক্টোবরে মর্ত্যে যাবো সবাইকে বলে আসবো পরিবেশ দূষণ যেনো রোধ করে। কারণ তোমার কিছু হলে আমি আর তো মর্ত্যেও পা রাখবো না। এই জন্যই তো তুমি আমার সেরা গিন্নী। এতো লোক আছে,এসব কি বলছো? লজ্জা বলে কিছু নেই তোমার! আরে ওসব নারী দের ভূষণ, আমার নেই ওসব। তুমি যে ভক্ত দের থেকে চোখ সরিয়ে স্বামীর সেবা করছো এটা কি কম বড়ো কথা! দুর্গা লজ্জা পেলেন। মহাদেব বললেন যারা এত কষ্ট করছে আমার মত স্বামী পাওয়ার জন্য তাদের জন্য একটাই আশীর্বাদ করি, সবাই যেনো মনের মানুষ পায় আর সুখী হয়। মুখে হাসি ফুটলো দুর্গার আর সমস্ত কৈলাস মহাদেবের জয়গানে মুখর হয়ে উঠলো। 

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...