বৃহস্পতিবার, ৩১ জুলাই, ২০২৫

বেদুইন✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 বেদুইন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

"ইহার চেয়ে হতেম যদি আরব বেদুইন!
চরণতলে বিশাল মরু দিগন্তে বিলীন।"

বেদুইন শব্দটা শুনে প্রথমেই মনে এলো রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের লেখা দুরন্ত আশা কবিতাটি। বেদুইনদের জীবনযাত্রা আর সব স্বাভাবিক মানুষের মতন নয়। বেদুইন মানে মরুভূমির অধিবাসী। এদের ঘর বাড়ি সবকিছুই মরুভূমিতে। পশুপালন করেই এদের জীবিকা নির্বাহ হয়। এদের জীবনযাত্রা দেখে মনে হয় মাঝে মাঝেই, যে বেদুইন হলেই ভালো হতো। যাযাবর বা জিপসি দের মত জীবন চলতো। আজ এখানে, তো কাল সেখানে। কোনো জায়গায় একটানা থাকতে হতো না। বেশ বিস্তৃত মরুভূমিতে আর খোলা আকাশের নীচে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে থাকা যেতো। সুখে থাকতে ভূতে কিলায় এরকম ভাবনা না এলে কেউ এরম ধরনের চিন্তা করে না। বেদুইনদের জীবনে কষ্ট ও অনেক। খোলা আকাশের নীচে থাকা তো খুব ভালো কথা নয়। মরুভূমির ওই ঠান্ডায় খোলা আকাশে থাকা খুব সহজ উপায় নয়। ১-২ দিন ভালো লাগবে তিনদিনের দিন মনে হবে না বাড়ীতেই আরামে ছিলাম। বেদুইন দের এই কষ্টকর জীবন যাত্রা থেকে শেখার আছে অনেককিছু। এরা কঠোর পরিশ্রমী,সাহসী হয়। এদের জীবন যাত্রা আমাদের মত সাধারণ মানুষের মনে কৌতুহলের উদ্রেক করে সর্বদাই। এদের নিয়ে বেশ কিছু লেখা ইতিহাসে বই রয়েছে। আজকের বিষয় এদের সম্বন্ধে জানতে আরো বেশি ঔৎসুক্য জাগায় মনেতে। দেখা যাক কোনোদিন মরুভূমিতে পাড়ি দিয়ে যদি বেদুইনদের সাথে সেলফি নিতে পারি!

"একঘেঁয়ে জীবন থেকে সরে এসে বেদুইন যদি হতে পারতাম 
খোলা আকাশের নীচে মরুতে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে থাকতাম।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

মঙ্গলবার, ২৯ জুলাই, ২০২৫

লেটার টু বৃষ্টি দি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 লেটার টু বৃষ্টি দি
✍️ ডা: অরুণিমা দাস


ও বৃষ্টিদি,

           অনেকদিন তো হলো তুমি এসেছো,এবার প্লিজ ফিরে যাও। গতবছর ঘটা করে বিয়ে হলো আমার মিস্টার ফ্রগের সাথে শুধু তোমায় আনার জন্য। এবছর তুমি এতবার এসে সাধারণ মানুষের জীবন অতিষ্ঠ করে তুলেছো যে তারা আমার সংসার ভেঙ্গে দেওয়ার জন্য ডিভোর্স প্ল্যান করছে। একবছর ফ্রগের সাথে সংসার,নিজেদের মধ্যে সখ্যতা ভালোবাসা এগুলো ছেড়ে সব ভুলে কি দূরে চলে যাওয়া যায় বলো? এবার প্লিজ একটু কম করে পড়ো। আমার সংসারটা ভেস্তে যেতে দিওনা। দয়া করো আমার ওপরে। নিজের বোন ভেবে একটু রক্ষা করে যাও আমায় আর আমার সংসার কে। মিস্টার ফ্রগকে ছেড়ে আমি এক মুহুর্তও থাকতে পারবনা। প্লীজ তুমি তোমার অঝোর ধারায় ঝরে পড়া বন্ধ করো। করুণা করো আমার ওপরে। আনিভার্সারী টা পালন করবো,তোমারও নিমন্ত্রণ রইলো,হালকা ধারায় এসো। 

                                                  ইতি
                                 বিনতি সহকারে মিসেস ফ্রগ

ঠিকানা - ছতরি লেন

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ২৪ জুলাই, ২০২৫

স্বপ্ন সফলে প্রয়াস✍️ ডা:অরুণিমা দাস

 স্বপ্ন সফলে প্রয়াস
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

'জিন্দেগী মে হার কর জিতনে ওয়ালো কো হি বাজিগর ক্যাহতে হ্যায়!'
জীবনে সফল সকলেই হতে চায়,তার জন্য স্বপ্নের জাল বুনতেও শুরু করে অনেকেই। কিন্তু শুধু স্বপ্ন দেখলেই হবেনা,তাকে বাস্তবায়িত করতে হবে। তার জন্য চাই শ্রম ও অধ্যবসায়। কঠোর শ্রমের পরও অনেক স্বপ্নই পূরণ হয়না,অধরা থেকে যায়। কিন্তু তাতে দমে গিয়ে সফলতার পথ থেকে পিছিয়ে আসা চলবেনা। বরং আত্মবিশ্লেষণ করে দেখতে হবে কোথায় গলদ ছিলো,কোথায় চেষ্টার খামতি ছিলো! এতে হয়তো পরিশ্রম অনেকটাই বাড়বে কিন্তু এর জন্য যে সফলতা আসবে তার আস্বাদ নিতে গিয়ে মনে হবে ঠিক সময়ে যদি উঠে না দাঁড়াতাম,নিজেকে অনুপ্রেরণা না দিতাম তাহলে হয়তো এই দিনটা দেখতে পেতাম না। স্বপ্ন সেটা নয় যেটা কেউ ঘুমিয়ে দেখে বরং স্বপ্ন সেটাই যেটা বাস্তবে রূপান্তর করতে গিয়ে করোর চোখের ঘুম উড়ে যায়। সাজানো গোছানো বাগান বাড়ীর স্বপ্ন সবাই দেখতে পারে কিন্তু যারা সেই বাড়িতে থাকতে পারে তারাই আসল স্বপ্ন সফলের বান্দা। হেরে গিয়ে পিছিয়ে আসা নয়, বরং সেখান থেকে শুরু করে আরো কয়েক ধাপ এগিয়ে যাওয়াই হলো জীবন। জীবন চলবে নিজের ছন্দে, তাল মেলাতে না পারলে বিশ্রাম নাও,অনুপ্রেরণামূলক বই পড়ো, ভিডিও দেখো কিন্তু নিজের এগোনোর গতি রুদ্ধ কোরোনা, নিজেকে হেরে যেতে দিওনা। স্বপ্ন পূরণের পথে এগিয়ে চলো,হারতে হারতে দেখবে একদিন ঠিক জিতে গেছো,বিজয়ীর মুকুট উঠেছে শিরে। 

"স্বপ্ন বিফলে হোয়োনা ম্রিয়মাণ, লড়াই চালিয়ে যেও দ্বিগুণ জেদে 
একদিন বিজয়ীর শিরোপা মিলবে দেখো,মিটবে  সফল হওয়ার খিদে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১৭ জুলাই, ২০২৫

তেল কারে কয়?✍️ ডা:অরুণিমা দাস

তেল কারে কয়?
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

একটা কথা আছে না, "বাটার লাগানে বালে কি হাত মে হামেশা চাক্কু রহতা হ্যায়।" কথাটা বাস্তবে সবসময় যুক্তিযুক্ত। যন্ত্রের কোনো অংশ শব্দ করে প্রতিবাদ জানালেই তাকে তেল দেওয়া হয় যাতে আর শব্দ না করে, কিন্তু তার সাথে এটাও সতর্কতার সঙ্গে দেখা হয় যাতে এটা আর পুনরাবৃত্তি না হয়। মুখ বুজে নিঃশব্দে কাজের বোঝা টেনে যাও, তাহলেই তুমি সবার চোখে সেরা। যেই না আওয়াজ করেছো তখনি জেনে নিও তোমার বদলের জন্য সবাই উঠে পড়ে লাগবে। তেল তোমায় ততদিন দেবে যতদিন তার নিজের স্বার্থ আছে। স্বার্থ ফুরিয়ে গেলে আর এক ফোঁটা তেল খরচ করতেও তার বিবেকে বাঁধবে। তখন বরং সে ভাববে পরিবর্তনের কথা, নতুন কাউকে আনলে সে বরং আগের লোকের থেকে ভালো কাজ দেবে। সবাই শুধু মুনাফা লোটার খেলায় মত্ত কেউ অন্যের ভালো চায় না। যতদিন পর্যন্ত তুমি সার্ভিস দিতে পারবে ততদিন পর্যন্ত তুমি সবার চোখে ভালো। যেদিন থেকে কলরব শুরু করবে সেদিন থেকেই তুমি বাতিলের খাতায়। যন্ত্র আর যন্ত্রাংশ একটি প্রতীক মাত্র, বর্তমান সময়ে এই ভাবেই সবকিছু চলছে। যুগের সাথে এসব বাতিল তালিকার সংখ্যা আরও বাড়বে বই কমবেনা।


"তেলের কদর বুঝবে, যতদিন পর্যন্ত মুখবুজে করে যাবে কাজ

পরিত্যক্ত ঘোষণা করবে সেদিন, যেদিন করবে তুমি আওয়াজ!"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস 


শুক্রবার, ১১ জুলাই, ২০২৫

চাওয়া পাওয়া✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 চাওয়া পাওয়া
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমি তো লাইব্রেরীতে ডিরেক্টর হতে চাইবো। দিন রাত বইয়ের মাঝে থাকবো। দুষ্প্রাপ্য বইয়ের সংগ্রহ যেখানে থাকবে সবচেয়ে বেশী। বুকওয়ার্মদের নিয়ে একটা বুকক্লাব বানাবো। সবাই ফোন ছেড়ে বইয়ের নেশায় যাতে বুঁদ হয়ে থাকে তার জন্য সক্রিয় প্রচেষ্টা চালাবো। দশতলা লাইব্রেরী হবে যার প্রতি কোণায় থাকবে ভিন্নস্বাদের বই যা মানুষকে এক অমোঘ আকর্ষণে আকর্ষিত করবে। সাথে থাকবে এলাহী খাওয়াদাওয়া করার জন্য ক্যাফে। একটা এনসাইক্লোপিডিয়া লিখবো যাতে সব রোগের চিকিৎসা থাকবে। সাথে 
আর একটা প্রাইভেট জেট বিমান রাখবো। যাতে চড়ে বিশ্ব ভ্রমণ করতে পারবো। যখন যেখানে ইচ্ছে চলে যাবো। আজ আরব সাগর তো কাল দুবাই। মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াবো। বই পড়া আর বিশ্ব ভ্রমণ করেই কাটিয়ে দেবো। আর প্লেনে যেতে যেতে যেখানে দেখবো মানুষের কষ্ট সেখানে নিজের সাধ্যমতো তাদের জন্য কাজ করার চেষ্টা করবো। 

"মাতাল চাওয়া পাওয়া গুলোকে গুরুত্ব দিও,উড়তে দিও স্বপ্নাবেশে 
কান দিও না লোকের কথায়, সে তো সদাই হাওয়ায় ভাসে।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ১০ জুলাই, ২০২৫

গুরুপূর্ণিমা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 গুরুপূর্ণিমা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

গুরুপূর্ণিমা সাধারণত প্রতি বছরের একটি নির্দিষ্ট দিনে, নির্দিষ্ট তিথিতে পালিত হয়। 'গুরু' শব্দের অর্থ যিনি জ্ঞানের আলোতে চালিত করে আধ্যাত্মিকতার বীজ মনে প্রোথিত করেন। ভক্ত ও গুরুর মধ্যে সেতুবন্ধন এই দিনটি। অনেকে মনে করেন এই দিনটি মহাভারত রচয়িতা ব্যাসদেবের প্রতি উৎসর্গীকৃত যিনি জ্ঞানের এক ভান্ডার ছিলেন তাই এই দিনটিকে ব্যাস পূর্ণিমাও বলা হয়ে থাকে। জন্মের পর পিতা মাতা আমাদের গুরু,আস্তে আস্তে যখন বড় হই আমরা তখন শিক্ষক আমাদের শিক্ষা দিয়ে জ্ঞানের আলোতে চালিত করেন। ছাত্ররা এই দিন তাদের শিক্ষকদের প্রতি সম্মান প্রদর্শন করে প্রার্থনা, আচার অনুষ্ঠান ও ভক্তির মাধ্যমে। যদিও গুরুকে সম্মান জানানোর কোনো বিশেষ দিন হয়না, তাও হিন্দুধর্ম মতে এই দিনটি সবার কাছে বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। এই দিনে গুরু মন্ত্র জপ করলে মন শুদ্ধ হয়, ঈশ্বরের কৃপা লাভের পথ প্রশস্ত হয়। তাই বৈদিক যুগ থেকেই গুরুকে শ্রদ্ধা জানাতে এই দিনটি পালিত হয়ে আসছে। এই দিনে গুরুকে সম্মান জ্ঞাপন করলে অক্ষয় আশীর্বাদ প্রাপ্তি হয়। 

"গুরুমন্ত্রে দীক্ষিত হয়ে গুরুকে করো সম্মান প্রদর্শন 
চলার পথে বাঁধা দূর হোক,গুরুই হোক ধ্যান জ্ঞান।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

বৃহস্পতিবার, ৩ জুলাই, ২০২৫

 শিরোনাম - সৌভাগ্য
 ✍️ ডা: অরুণিমা দাস


জীবনে সারাসময় ভাগ্য এক রকম থাকে না। কখনও ভালো বা কখনো খারাপ সময় চলে। তবে যে রকম সময় চলুক থেকে থাকা যাবেনা। চলতে থাকতে হবে। ভালো সময়ে খুশি মনে নিজের কাজ করে যেতে হবে। আর সময় যখন ভালো যাবে না, মনকে শান্ত রেখে নিজের দায়িত্ব পালন করে যেতে হবে। সৌভাগ্য দুর্ভাগ্য সব আপেক্ষিক ধারণা। নিজের চেষ্টায় ভাগ্য তৈরী হয়। তাই নিজের কাজটুকু ভালোভাবে করে যাওয়া উচিত যাতে জীবনে চলার পথে ভাগ্য সাথ না দিলেও মনে যেনো কোনো খেদ না থাকে। লড়তে লড়তেই এগোতে হবে। জ্যোতিষ বিশ্বাস না করলেও কোনো এক জ্যোতিষী আমায় বলেছিলেন সারা জীবন স্ট্রাগল করতে হবে,কোনো কিছুই সহজে আপনার জন্য আসবে না। ওনার এই কথা টা অক্ষরে অক্ষরে মিলেছে। তাই সৌভাগ্য কম সময়ের কি বেশী সময়ের এটা আর ভাবার সময় নেই আমার। শুধু নিজের কর্তব্য টুকু মন দিয়ে করার চেষ্টা করি। আর মনে হয় সকলেরই তাই করা উচিত। 

"নিজের কর্ম আর প্রচেষ্টায় সকলের ভাগ্য করে নির্ভর
তাই হাতের রেখায় নয়,বিশ্বাস রেখো আপন কর্মের উপর।"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...