বৃহস্পতিবার, ১৫ জানুয়ারি, ২০২৬

মাঠের আত্মকথা✍️ ডা: অরুণিমা দাস

 মাঠের আত্মকথা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস

আমি এক ফাঁকা মাঠ এখন, একাই রয়েছি কয়েক বছর হলো। আগে কিন্তু এরকম ছিলো না জানেন! সকাল বিকেল হই হই করতো এখানে বাচ্চা আর বুড়োদের দল। বাচ্চারা খেলতে আসতো,কেউ ব্যাট বল কেউ ডাং গুলি কেউ বা কবাডি হাডুডু। তাদের লাফালাফিতে হাসির কলতানে সবসময় মুখর হয়ে থাকতাম। ধীরে ধীরে ওদের আসা কমতে লাগলো আর সাথে কমতে লাগলো আমার পরিসীমাও। এখন আমি অনেকটা ছোটো হয়ে গেছি, একপাশে আমার বুক ফুঁড়ে উঠে এসেছে বড় বড় ফ্ল্যাট বাড়ি তো আরেকপাশে জমেছে আবর্জনার স্তূপ। বাচ্চা গুলো আর আসেনা, লাফিয়ে বেড়ায় না। তারা সব দামী দামী মোবাইল ফোন নিয়ে ব্যস্ত, ব্যাট বল ডাঙ গুলি এগুলো ওদের কাছে পুরোনো যুগের খেলা হয়ে গেছে। ফ্ল্যাটের ব্যালকনিতে বসে যখন ফোন ঘাটে তারা, ভিডিও গেম খেলে কখনো বা ভারী ব্যাগ পিঠে করে স্কুল টিউশন ছুটছে। তখন কত ইশারা করে বলি ওদের, যে আয় তোরা খেলতে আয়, একা থাকতে আর ভালো লাগেনা। কানে কি যায় তাদের এসব কথা! সব মনোযোগ তখন স্ক্রীনের দিকে। আজকাল সবাইকে কেমন অচেনা লাগে, মুখ ঘুরিয়ে চলে যায় সবাই। কেউ দু দণ্ড এসে বসেও না। কাকে বলি আর মনের কথা তাই লিখে চলি ফাঁকা বুকের ওপর নিজের জীবনের কথা। 

"বড্ড ফাঁকা মাঠ আজ, খেলা ধুলা সব মোবাইলে বন্দী
আবার যাতে ভরে ওঠে এই প্রান্তর, জানা কি রয়েছে কোনো ফন্দি?"

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস

কোন মন্তব্য নেই:

একটি মন্তব্য পোস্ট করুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...