কনফিউশন
✍️ ডা:অরুণিমা দাস
হ্যাঁরে হাসো সব রেডী তো? বেরোতে হবে তো এবার। হ্যা সরু দি সব রেডী। তা এই বড়ো ব্যাগটা নিয়েছিস কেনো? আরে এই ব্যাগেই তো তোমার ভক্তদের পাপ পূণ্যের হিসেব আছে। সবাই ওই অঞ্জলীর সময়ে এসে দেবী এই বছর পাশ করিয়ে দাও,পরের বছর ভালো করে পড়বো এসব বলবে আর তুমিও গলে যাবে এসব হবেনা। না রে হাসো, এবারে আমি স্ট্রিক্ট হয়ে গেছি,তাই ওসব কথায় ভুলবোনা ভেবেছি। হাসো বললো এই তো কদিন আগে ঘুরতে গেছিলাম ওখানকার হাল হকিকত দেখতে,তো কিছু বাড়িতে উঁকি মেরে দেখি কিছু খোকা খুকী ফোন নিয়ে ব্যস্ত,এক জায়গায় তো দেখি বই থেকে আলো ঠিকরে এক খুকীর মুখে পড়ছে,ভাবলাম লেডি বিদ্যাসাগর হবে বোধহয়! ওমা কাছে গিয়ে দেখি সে ট্যাবে ওয়েব সিরিজ দেখছে তাও বইয়ের মাঝে লুকিয়ে। এদিকে দুদিন পরে তার নাকি ফাইনাল পরীক্ষা। কিকরে বুঝলি যে ওর পরীক্ষা? তা তো খুব সহজ দিদি,ওনারা যে যেমন দাবী জানান আমিও ডায়েরীতে নোট করি। তাদের লিস্টও বানিয়েছি। কেউ বলছে কুল খেয়েছি ক্ষমা করে দাও দেবী! তোমায় আরো বড় কুল দেবো শুধু পাশটুকু করিয়ে দাও। কেউ আবার বইপত্রে ফুল রেখে দিয়েছে তোমার পুজোর,এসব করে তোমাকে ফুল বানিয়ে পাশ করে যাওয়ার ধান্দা। আর এই মামনি যে ট্যাব দেখছেন বইয়ের ভেতরে তিনি দুসপ্তাহ আগেই জানিয়েছেন পড়া ভালো হয়নি,এবারটা শুধু উতরে দাও দেবী। সেই দু সপ্তাহ হিসেব করেই বুঝেছি পরশু ওনার পরীক্ষা।
-বা হাসো তুই তো বেশ স্মার্ট হয়ে উঠেছিস দেখছি।
- হে হে,তা হয়েছি তোমার সাথে থেকে।
- আসলে কি বলতো? আমায় বোকা ওরা বানাচ্ছে,সে বানাক কিন্তু নিজেদের যেনো বোকা না বানায়। আর ওদের কি দোষ দেবো বলতো? এখন তো পড়াশোনা ধরন ধারণ এত চেঞ্জ হয়েছে ওরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছে পড়াশোনার প্রতি। আগেকার দিন কি আর আছে বল! ওদের উচিত বইপত্র আমার কাছে না দিয়ে ফোন ট্যাব জমা রাখা। কিন্তু বাবুদের তো ওসব ছাড়া চলবেনা। ওনারা আমায় দেখার নাম করে বাড়ী থেকে বেরোবেন তারপর বাইক করে ঘুরবেন নিজেরা আর ইচ্ছে হলে প্যান্ডেলে ঢুকে দয়া করে সেলফিতে আমায় জায়গা দেবেন। আমি নিজেই কনফিউজড হয়ে যাই আমি কি বিদ্যার দেবী নাকি প্রেমের দেবী! এদিকে বিশ্বকর্মাদা এসে বলে গেছেন মোবাইল জমা নাকি ওনার পুজোর দিন করা উচিত। উনি নাকি ওসব নিয়ে ডিল করেন। তাই আমিও বেশী কথা বাড়াইনি। যে যা ভালো বোঝে তাই করুক।
- তা ঠিক বলেছো দিদি।
- তার চেয়ে চল আমরা বরং পুজোটা ভালো করে কাটিয়ে আসি। ওদের জ্ঞানচক্ষু যাতে খোলে সেই আশীর্বাদ করি। হ্যা আর ফলমূল দেখে খেতে হবে বুঝলি! মৌচাক সিনেমার নীপা নাম শুনেছিলাম,
এখন নাকি সেই নামের ভাইরাস এসেছে শুনলাম। তাই সাবধানে থাকতে হবে সবাইকে। আর ওখানে নাকি বইমেলা শুরু হয়েছে, তাই যখন ফিরবো তোর এই বড়ো ব্যাগে বিভিন্ন স্বাদের বইপত্র নিয়ে ফিরবো।
হ্যা দিদি তাই চলো,প্যান্ডেল সব রেডী আমাদের আসার অপেক্ষায় সবাই বসে আছে।
সবাইকে জানাই সরস্বতী পুজোর শুভেচ্ছা ও শুভকামনা।
©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন