শিরোনাম - দুরত্ব
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
আধুনিকতা মানেই অন্যরকম একটা ব্যাপার, উন্নতির পথে এগিয়ে যাবার সিড়ি তৈরি করে দেয় আধুনিকতা। আজকাল কেউ আর পুরোনো যুগে পড়ে থাকতে চাইছে না। সবাই আধুনিক হতে চাইছে। প্রকৃতি থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে উন্নয়নের পথে চলতে গিয়ে সংযোগ ছিন্ন হচ্ছে প্রকৃতি থেকে। আজকাল কেউ সবুজ পরিবেষ্টিত বাগান ঘেরা বাড়ী পছন্দ করেনা,বরং সুইমিং পুল,জিম যেখানে আছে সেরকম বহুতল ফ্ল্যাটে থেকে নিজের স্ট্যাটাস বাড়ানোকে আধুনিকতা তকমা দিয়েছে। আজকাল বাচ্চারা স্কুল থেকে ফিরে মাঠে গিয়ে খেলতে অস্বস্তি বোধ করে,কিন্তু ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভিডিও গেমে চোখ রাখতে কোনো কষ্ট হয়না তাদের। আধুনিকতা আসলে মানুষকে প্রকৃতির উপর নিয়ন্ত্রণ রাখতে শেখাচ্ছে কিন্তু তাদের জীবন যাপনকে অনিয়ন্ত্রিত করে তুলেছে। এটাও দেখা গেছে গত কয়েক বছরে বই পড়াতে আগ্রহ কমেছে। সেই জায়গায় ঘণ্টার পর ঘণ্টা নেটফ্লিক্স, প্রাইম এসবে চোখ থাকছে তাদের। এর সাথে যুক্ত হয়েছে আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। মানুষের ভাবনা শক্তির বিকাশ ঘটাতে না দিয়েই এই আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স তাকে স্পুন ফিড করছে। শুধু শারীরিক ভাবেই নয় মানসিক ভাবেও প্রকৃতি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে আধুনিকতার কবলে পড়ে। প্রকৃতির সৌন্দর্য উপভোগ করলে যেমন মানসিক স্বাস্থ্য ভালো থাকে,উদ্বেগ কম হয় সেটা আজকাল আর হয়না। মানুষ ভুগছে নেচার ডেফিসিট ডিসঅর্ডার ব্যাধিতে। আধুনিকতা মানুষকে বিলাসবহুল জীবন ধারণের সুযোগ দিলেও প্রকৃতির সঙ্গে দূরত্ব বাড়িয়ে দিয়েছে অনেকগুণ শারীরিক ও মানসিক দুভাবেই। তাই সময় থাকতেই নিজেদের ব্যাপারে যত্নশীল হওয়া উচিত ও প্রকৃতির সাথে ভারসাম্য রেখে চলা দরকার নয়তো একদিন প্রকৃতির রোষানলে পড়বো আমরা সবাই তখন প্রকৃতির ছুঁড়ে দেওয়া চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবার সাহস মানুষ পাবেনা, হেরে যাবে তখন আধুনিকতা।
"আধুনিকতা নিশ্চিত করেছে দুরত্ব,মানুষ আক্রান্ত নেচার ডেফিসিট ডিসঅর্ডারে
সমাধান হোক সময় থাকতে,যথাযথ ব্যবস্থা করো সামলে রাখতে প্রকৃতিরে।"