বৃহস্পতিবার, ২৮ মে, ২০২৬
শিরোনাম - হাতিয়ার✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শুক্রবার, ২২ মে, ২০২৬
শিরোনাম - এক যে ছিল রাজা✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - এক যে ছিল রাজা
✍️ ডা: অরুণিমা দাস
অস্থির ভাবে পায়চারি করছিলেন রাজা। বড় হতাশ লাগছে তাঁর। মানুষই যদি বিরোধিতা করে,তাহলে তিনি লড়বেন কাদের নিয়ে? কি ভাবে সমাজ এগোবে? এমন সময় দারোয়ান এসে বলল একজন গেঁয়ো ব্রাহ্মন দেখা করতে চাইছে। একটু বিরক্ত হয়ে তিনি বললেন,এখন আমার সময় নেই বলে দে। দারোয়ান বলল,বলেছি। কিন্তু উনি যেতে চাইছেন না। তখন রাজা বললেন,পাঠিয়ে দে।
এক ব্রাহ্মন ঘরে ঢুকলো। খাটো ধুতি,গায়ে নামাবলি,মাথায় টিকি।
আমি নদীয়ার মহাদেব ভট্টাচার্য। সেদিন ছিল বৈশাখ মাস। টোল থেকে ফিরতেই অপর্ণা এসে ঝাঁপিয়ে পড়লো কোলে। ওর মা ডাকলো ঘর থেকে। ভেতরে যেতে বলল,মেয়ের তো ৭ বছর বয়স হোল। আমি বললাম,পাত্র পাচ্ছি কই? যার কাছেই যাই। ১০০০ টাকার কমে পন নেবেনা কেউ। একজন কুলীন ব্রাহ্মন,বয়সটা ৭০ এর ঘরে। ৫০ টাকায় কন্যা উদ্ধার করেন তিনি। নিজের মনের সঙ্গে অনেক লড়াই করে অপুর সাথে বিবাহ দিলাম। গতকাল নারায়ন বন্দ্যোপাধ্যায় দেহ রেখেছেন। যথাবিহিত বিধি অনুসারে কন্যাকে সতী করার নির্দেশ দিয়েছেন তারা। ভেবেছিলাম,পত্র ছিঁড়ে ফেলবো। কিন্তু পত্রবাহক গ্রামের মাতব্বরদের জানিয়েই এসেছেন আমার বাড়ি। কোন উপায় ছিলনা। রাজা বলে উঠলেন তারপর?
তারপর মেয়েকে সাজালাম জ্বলে উঠলো চিতা। মেয়ে বলল বাবা,বাড়ি চলো। আগুনে আমার বড় ভয়। আমি বললাম,আমার গলাটা একবার ছাড় মা। কচি হাত দুটো গলাটা ছাড়তেই ছুঁড়ে দিলাম অগ্নিকুণ্ডে। আগুনের মধ্যে থেকে একটা রিনরিনে গলা পাওয়া গেল,বাবাআআআআ।
সেই ডাক আমি ভুলতে পারিনি। তারপর থেকে একদিনও রাত্রে ঘুম হয়নি। উঠতে বসতে খেতে শুতে শুধু এক আওয়াজ। বাবাআআআআআ। আমি পারিনি তাকে বাঁচাতে। আপনি পারেন। পায়ে ধরি আপনার। মেয়েগুলোকে বাঁচান। কতো মেয়ে ঘরে ঘরে আপনার মুখ চেয়ে আছে বাঁচার অপেক্ষায়। আছি আমরা,মেয়ের বাপ মায়েরা। বলতে পারিনা সমাজের ভয়ে,একঘরে হয়ে যাবার ভয়ে। কিন্তু আপনি পারবেন সেই দৃঢ়তা আছে আপনার মধ্যে।
উঠে দাঁড়ালেন রাজা রামমোহন রায়। বললেন,আমায় আপনি শক্তি দিলেন। পারতে আমাকে হবেই। এখানে না হলে ব্রিটেন যাবো। প্রিভি কাউন্সিলে দরবার করবো। তারপর তো
বাকিটা ইতিহাস। সেই যুগে দাঁড়িয়ে তাঁর সেই লড়াই কতোটা কঠিন ছিল বলে বোঝানো যাবেনা। কলকাতার রাজ পরিবার থেকে ভারতের পণ্ডিত সমাজ সকলে ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। কম নিন্দা অপমানের ঝড় বয়নি তাঁর ওপর দিয়ে। কিন্তু বটবৃক্ষের মতো অটুট আর উচ্চশির ছিলেন তিনি। রামমোহন রায়,ভারতের 'প্রথম আধুনিক মানুষ'। আজ ২২ শে মে তাঁর জন্মদিনে প্রনাম জানাই তাঁকে। হে মহামানব,লহ প্রণাম।🙏🙏🙏
বৃহস্পতিবার, ২১ মে, ২০২৬
শিরোনাম - অপরাধবোধ✍️ ডা: অরুণিমা দাস
বৃহস্পতিবার, ১৪ মে, ২০২৬
শিরোনাম - সংবেদনশীলতা✍️ ডা: অরুণিমা দাস
বৃহস্পতিবার, ৭ মে, ২০২৬
শিরোনাম - দুরত্ব✍️ ডা: অরুণিমা দাস
বন্ধ ঘরের জানালা✍️ ডা: অরুণিমা দাস
বন্ধ ঘরের জানালা ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ফাইনাল পরীক্ষার শেষে তিন্নি আর ওর ভাই টুবাই এসেছে মামাবাড়িতে। এসে দাদু দিদা মামা মামীদের আদর যত্নে ওরা ...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...