মঙ্গলবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২১

# একরুম ফ্ল্যাট # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

সুপ্রভাত 💟💟💟💟বন্ধুরা
#শব্দ লিখন - কাবাব মে হাড্ডি # নাম - *একরুম ফ্ল্যাট* # লেখায় - ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট যদিও কথাটি পুরো হিন্দি। তবু আমরা বাঙলায় ফ্রেজ হিসেবে ভালোই ব্যবহার করি। বন্ধুমহলে তো চলেই এমন মিশিল ভাষার চল। আজকাল "বিন্দাস" কথাটি ও দেখি... বন্ধু মহলে ভাষায় এক চমক থাকে সর্বদা। যেমন "ব্যাপক" "ঢপ মারিস না" " কি দিলি" কিংবা " চুলকে দিলি" । এখন এই কাবাব কি সেটাই বলি..... কাবাব মাংসের ছোট কুঁচি টুকরো দিয়ে তৈরি খাদ্য। যাতে সামান্যতম হাড় থাকে না। মুসলিম রাজত্বকালে এই খাদ্য ভারতে আসে এবং সমৃদ্ধি পায়। মোলায়েম এই চপ আকারের খাদ্যে হাড়ের টুকরো অস্বস্তিকর ও খাদ্য রসে ছন্দপতন ঘটায়। খাদ্যের ওপর করা মানুষের গুরুত্বপূর্ণ থিসিস প্রবচন হিসেবে ব্যবহার করতে শুরু করল। এখন এ নিয়ে ছোট্ট একটি অনুগল্প বলি। ************ প্রায় আট নয় মাস পর মিতালী ফিরছে। চাকরির খাতিরে বিয়ের পর থেকেই দুই রাজ্যে দুজন। এমন করে দেখা করে দুজন। এবারে মিতালীর পালা, আসছে সে। শুভেন্দু স্বপ্নের জাল বোনে। কি করবে কি দেবে কোথায় বেড়াবে। সব থেকে বেশি রঙিন স্বপ্ন বেডরুম ঘেসে। এক রুমের ঘরে দুজনের জন্য তার সুন্দর গোছানো গোছানো ভাব। প্রথমে ভেবেছিল এত ছোট , দু রুমের যদি ফ্ল্যাট পাওয়া যায়। মিতালীর এই জঙ্গল ঘেষা নিরিবিলি ঘরটি কি যে পছন্দ। বলে দু রুমে দুরত্ব নাকি বেড়ে যায়। অবশ্য দু রুমের বিষয়ে বাস্তববাদী একটা যুক্তি আছে শুভেন্দুর। আর মিতালী এখানে পৌঁছে দুদিনের মাথায় বুঝতে পারলো। শ্বশুর বাড়ি ও বাপের বাড়ীর বাবামা ও ভাই বোন তাকে সারপ্রাইজ দিতে যখন হাজির হল। আর মাত্র দুদিন বাকি মিতালীর চলে যাবার, বন্ধুর বিয়ের নাম করে দু রাত কাটালো হটেলে । হটেলের খাটে নিশ্চিন্ত পিঠ ঠেকিয়ে শুভেন্দু বলল... " কাবাব মে হাড্ডি" । কপট চোখ পাকায় মিতালী। 🤭🤭

সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০২১

#নাম-নষ্ট মেয়ের গদ্য কথা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ অনুগল্প বাসর। 
 # বিষয় - *অনুগল্প।*
   # নাম- 
    *নষ্ট মেয়ের গদ্য কথা।*
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

  আমার রুক্মিনী। রুক্মিনী সাধুখাঁ। রুক্মিনীর জন্মের কুলকুন্ডলী ধীমান গণৎকার গণনা করেছিলেন,শুধু বাবা মায়ের কাছে রুক্মিনী শুনেছিল,চোখে দেখার আগেই তাঁর মৃত্যুর পরোয়ানা এসেছিল বলে তিনি চলে গেছেন। রুক্মিনীর খুব ইচ্ছে হচ্ছিল দু'চোখ ভরে দেখতে ধীমান গণৎকারকে। কারণ  কুন্ডলিনীতে সব ইচ্ছে পূরণের কথা লিখে গেছেন বলে। রুক্মিনীকে দেখে বেশ শিক্ষা হয়ে গেছে সব ইচ্ছে পূরণ হয় না। তাই নিয়ে সুখ দুঃখের তুলনা করে বাঁচতে হয়। তা থেকে অতৃপ্তির জন্ম হয়। তা থেকে অসুখী হতে হয়। 
 কলকুন্ডলিনী অনুযায়ী আমি নাকি খুব বড় ঘরের গৃহিনী হব। বাবাতো ঐ দিনমজুর,দীনবন্ধু সাধুখাঁ। কি করে বড় ঘর হবে মাথায় ঢোকে না বাবার। তবু অন্ধ বিশ্বাস হয়,ধীমান গণৎকারের গণণা বৃথা না হওয়ার। 
  রুক্মিনীর উপরে দু'দাদা। পয়সার অভাবে বেশীদূর পড়াশোনা করতে পারেনি। তারাও দিনমজুর। নিত্য অভাবের সংসার। তার উপর রুক্মিনী বোঝা।  বিয়ের পণের খরচ নিয়ে বাবার খুব দুশ্চিন্তা। ভাল বর পেতে খরচ লাগে। কিন্তু গণৎকার বলে গেছেন আমার বর ভাগ্য নাকি খুব ভাল। হলও তাই। একদিন উত্তরপ্রদেশের এক ছোঁড়ার সঙ্গে যোগাযোগ হল। দেখতে যেন দেবদূত। কি যেন অফিসে চাকরী করে। কর্তার সিং। ননবেঙ্গল। সম্পর্ক এনেছিল ঘটক কালিনাথ বিষই। কালিনাথের খুব সুনাম। কত মেয়ে বাইরে পার করে দিয়েছেন। তারা দিব্যি ঘর করছে। বাপের বাড়ী আসে যায়। এমন সফল ঘটকের কথায় দীনবন্ধু এক পায়ে খাড়া। খরচাপাতিও ততটা লাগবে না। আবার ছেলের বায়না মেয়ের বাপের কোনো খরচ করতে দেবে না,বরং কিছু নগদ দিয়ে বিয়ে করে নিয়ে যাবে। এমন প্রস্তাবে কোন কন্যদায়গ্রস্থ পিতাই বা রাজী হবে না! 
  পাড়ার দু'চারজনকে পেট পুরে খাইয়ে সামান্য বাবা তার অসামান্য মেয়েকে এক উত্তরপ্রদেশের পাত্রের হাতে তুলে দিলেন। রুক্মিনীর মামারা আপত্তি করেছিল,এতো তাড়াহুড়োর কি আছে। দু'চার দিন যাক,ততদিন ছেলের সব খবর নেওয়া যেতেই পারে। তারপর নাহয় বিয়ে। বাপের কথা "ছেলের সময় কই। চলে যাবে। ছুটি নেই।" আর মায়ের কোনো গুরুত্ব নেই। চলে গেল রুক্মিনী!
  রুক্মিনী অষ্টমঙ্গলায় আসার  অপেক্ষায় মায়ের দু'চোখ পথের দিকে চেয়ে থাকে। চেয়ে চেয়ে সন্ধ্যা,রাত,পরের দিন,দু'দিন,চারদিন যায়,রুক্মিনী আর আসে না। থানা পুলিশ হয়। শেষে পুলিশ যখন উদ্ধার করে আনে তখন রুক্মিনী হয়ে গেছে নষ্ট মেয়ের নষ্ট গদ্য। এঘাটে ও ঘাটে চালান হয়ে শেষে পুলিশের হাতে যখন উদ্ধার হলো রুক্মিনী অনেক হাত ঘুরে নষ্ট। গাঁ ঘরে আর তার স্থান নেই। চারদিকে ছিঃ! ছিকার! রুক্মিণী লজ্জায় মুখ ঢাকে। "ও নবীন কাকা"-যে নবীনকাকার ভুবনভোলানো আদর ছিল,তিনি মুখ ফিরিয়ে নেন।লজ্জার ঘেন্নায় রুক্মিনী মাটিতে মিশে যায়। এই তার জন্মভূমি,এই আকাশ,বাতাস গাছপালা,সবাইকে কেমন পর পর লাগে। মনে হয় এরা আর কেউ রুক্মিনীকে চেনে না। সবাই মুখ ফেরায়। 
   একদিন রাতের অন্ধকারে রুক্মিনী গাঁটে কটা কড়ি বেঁধে সবার অজান্তেই ট্রেনে পাড়ি দিয়ে সেই আস্থানায় আবার ফিরে যায়। বাইরে সেই বৃষ্টি, বজ্র-বিদ্যুৎ! রুক্মিনীর কুলকুন্ডলিনী তাতেই যেন ধুয়ে মুছে গেছে। এখন সেই আবার নতুন করে নিজেই সে লিখবে। মুছে ফেলে ফেলে আসা জীবন। 
  লোকে বলে সে এখন নষ্ট। বাবুদের মদের গ্লাসে মদ ঢালে,নিজেও খায়,বাবুদের খুশী করে। কথায়,আবার কায়দায় গাঁয়ের সেই মাটির গন্ধের বদলে এখন পারফিউম ঢালে,কথায় যত অশিষ্ট ততই বাবুদের নাকি খুব পছন্দ! রুক্মিনী দর এখন নষ্ট মেয়ের গদ্যকথায়।
         *******
 @ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

রবিবার, ২৫ এপ্রিল, ২০২১

# অনুগল্প : টুসি।। # লেখায় : শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।।।।

☘️☘️☘️☘️☘️☘️ অনুগল্প।।
*টুসি* ©শর্মিষ্ঠা ভট্ট টুসিকে নষ্ট মেয়ে বলে সবাই।শিলিগুড়ির কলোনীতে বড়ো হতে হতে জৈবিক চাহিদাগুলো কেমন যেন গা সওয়া হয়ে গিয়েছিল। এই যেমন বেড়ার ফাঁক বা কাপড়ের দেওয়ালের এপার ওপার রাতে দেখা। অভ্যাস হয়ে গিয়েছিল আগোলহীন উঠানে গামছায় চানটা , এমন ভাবে পথ চলতে সিটি শোনা। দাদা কাকাদের অপরিচিত আদর। মন বলে পদার্থ কি টুসি জানে না, মানে চেতনায় পরত পড়েছে। ওই যাকে মোটা চামড়া বলে। কলকাতার মোড়ে রমেনের সাথে দেখা হতে সঙ্কুচিত হয়ে ছিল প্রথমে, পরে স্বাভাবিক। অনেক দিনের চা বাগান পাহাড়ি হাওয়া ছোট ঝর্না আর দুপুর মনে পড়ে গেল। রমেনকে অবশেষে বলেই দিল সন্ধ্যায় তার বাসায় রঙিন আড্ডা বসে, পারলে আসতে পারে। সংসারী মানুষকে এসব যায়গায় না এলেই ভালো। এটাও বলতে ভুলল না। বুড়ো বরটাকে সারাতে এটুকুই তার ভাগ্য বলে সে ভেবেনিয়েছে। তবু রমনের পথের দিকে তৃষার্থের মত চেয়ে র ই ল। মনের গভীরে হাতড়ে মরে টুসি আজও। সেই চা বাগান সেই....... এই চড়া দুপুরে সিনেমা হলের সামনে রঙচঙে জরির স্বল্প মূল্যের শাড়ী পরে খদ্দেরের অপেক্ষায় দাঁড়ানো নষ্ট মেয়েটার মনে মনে একটা গান কেন বাজে! ...... আমার ভেতরে বাহিরে অন্তরে অন্তরে আছো তুমি হৃদয় জুড়ে।।। _____________________🪶

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

তাজমহল--অন্য চোখে(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


তাজমহল--অন্য চোখে

সুদেষ্ণা দত্ত

ভালবাসা কোন বাদশাহী ফরমান নয়—সে নিষেধ জানে না মানার।সাধারণ মানুষের মত বাদশা-বেগমদের জীবনেও কখনও তাজমহলের শ্বেত শুভ্র মর্মরের মত আসে পবিত্র প্রেম।কখনও যমুনার দূষণের মতই প্রেম হয় কলুষিত।তাজমহল—একদিকে যার স্থাপত্য শৈলী ভারতবর্ষের ইতিহাসকে অতিক্রম করে বিশ্বইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।আবার অন্যদিকে যার গম্বুজ,মিনার হাহাকার করে শোনায় অমানবিক যন্ত্রণার গাথা,ধ্বনিত হয় নারকীয় ইতিহাস। জীবদ্দশায় মমতাজ মহলের অধিকাংশ বসন্ত কেটে গিয়েছে কচি পাতার জন্মে প্রসব বেদনায়—আঁতুর ঘরে,আবার স্বামীর প্রতি নিবেদিত যৌবনার জীবনের পাতাও ঝরে গিয়েছে বসন্তের মত ।প্রেমের সময় কেটেছে গ্রীষ্মের ফুটিফাটা জমিকে বৃষ্টির ঊষরতায় ভরিয়ে দিতে।আর মৃত্যুর পর পুজো কেন কর,যদি বেঁচে থাকায় মর্যাদা দিতে না পার!মমতাজমহল কি দেখে গিয়েছিলেন তাঁর প্রেমের সৌধ!তবে কিসের এত আড়ম্বর!প্রায় আঠাশ ধরনের মহামূল্যবান পাথর ও সাদা মার্বেল পাথরে তৈরী হয়েছে তাজ।এর সঙ্গে আছে খোদাই করা রঙিন মূল্যবান পাথর।সম্রাট শাহজাহান যা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।স্থাপত্যের নক্সা ও কৌশলে অনুসৃত হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রক্রিয়া।সকাল—সন্ধ্যা—পূর্ণিমায় রাজপ্রেমিকের মতই বদলে যায় তাজমহলের রূপ।            কাটা পড়ছে শিল্পীর আঙ্গুল।ইটের পাঁজরে কাঁদছে ইতিহাস।জীবনের গোধূলিবেলায় বন্দী প্রেমিক নির্নিমেষ তাকিয়ে আছেন প্রেয়সীর সমাধি ক্ষেত্রের পানে।আকাশের নীল,যমুনার নীল তাজমহলের শিরায়—ধমনীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিরহ বিষাদের,প্রেম—অপ্রেমের নীল গরল।বর্ষা—বসন্তেও এক অনন্য সাধারণ দৃশ্যপট আকাশ ও জলের বুকে রচনা করে তুলে ধরে প্রেমিকের বুকের বিরহের আকুতি।প্রেম মানে তো বিচ্ছেদ—বিরহও।তাই এই তাজমহল কোথাও স্থাপত্যের প্রাচুর্যের আশীর্বাদ।কোথাও শিল্পীর,প্রেমিকার জীবনের অভিশাপ।কিন্তু তবু প্রেমিকের মুখে বুঝি ধ্বনিত হয়— “স্মৃতিভারে আমি পড়ে আছি,ভারমুক্ত সে এখানে নাই।” এখানেই বুঝি শিল্পের জয়,প্রেমিকার জয়।এ সৌধ বুঝি বাদশার দম্ভেরও। 

 ©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি সৌজন্য--গুগুল।

মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

# নাম- 'মহাকাশ'। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

পঞ্চভূতের( ক্ষিতি,অপ,তেজ,মরুৎ ও ব্যোম) ব্যোম বা আকাশ একটি অন্যতম সদস্য। আকাশের রঙ লীল। আসলে ইথারকণার সমুদ্র। বায়ুমন্ডলের পর পর ক'য়েকটি স্তর আছে। যেমন- গ্যাসীয় উপাদানের উপর ভিত্তি করে বায়ু স্তর দুটি - হোমোস্ফিয়ার ( এখানে গ্যাসীয় উপাদানের নির্দিষ্ট একটির ঘনত্ব বেশী,যেমন অক্সিজেন,কার্বনডাই অক্সাইড) ভূপৃষ্ঠের থেকে শুরু। অন্যটি স্ট্রেটোস্ফিয়ার - এখানে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান থাকে।  
  গ্যাসীয় উপাদানের এই দুটি স্তর আবার তাপমাত্রা অনুযায়ী ছ'টি স্তর। যথা পর পর উর্ধগামী স্তরের শেষ স্তর স্ট্রেটোস্ফিয়ার,যাকে বলে তড়িৎচুম্বকীয় স্তর। আর এর পরের আকাশ সীমাহীন অনন্ত। অনন্তের লীলা। মহাবিশ্বের লীলা। আদি অন্তহীন। তাই বিগ ব্যাং। অনন্ত অন্ধকার। এই অন্ধকারের মাঝে গ্যালাক্সি ( গ্রহ, উপগ্রহ,নক্ষত্র) তে এক এক গ্রহ নক্ষত্রের ভর থেকে কত ধরনের শক্তি তৈরি হচ্ছে,বিশেষ করে যার ভর বেশী তার শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বেশী, আকর্ষণ বলও তেমনি হয়। তবে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে গেলে কেবল বিপুল ভর নিয়ে অবস্থান করে,তাই ব্ল্যাক হোল। কোনো নক্ষত্র মহাকাশে ব্ল্যাক হোল হওয়া মানে তার আকর্ষণ বলের আয়ত্বে এলে সে মুহূর্তে তাকে গিলে ফেলে। কারো রেহাই নেই। এমনকি দুটি ব্ল্যাক হোল যদি সংঘর্ষ ঘটে তখন কি হবে? মহাকাশের গ্যালাক্সিতে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৩০কোটি আলোকবর্ষ দূরে, ১৩০ কোটি বছর আগে। অঙ্ক কষে তাই নিখুঁত হিসেব বেরিয়েছে। কী ঘটেছিল তখন?
   একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ভর সূর্যের ২৬ গুণ বেশী,ব্যাস ১৫৬ কিলোমিটার। আরেকটি সূর্যের ৩৯ গুণ বেশী,তারও ব্যাস ২৩৪ কিলোমিটার। দু'জনের সংঘর্ষ ঘটেছিল এক সেকেন্ডের এক পঞ্চমাংশ সময়ে। এর ফলে ভর দাঁড়িয়েছিল সূর্যের ভরের ৬১ গুণ বেশী,আর ব্যাস ৪০০কিলোমিটার। হিসেব বলছে সূর্যের ভরের ৬৫ গুণ বেশী শক্তির  ৪গুণ বেশী শক্তি গেল কোথায়? সেই শক্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই যে দুই কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ ও এক হওয়ার দৃশ্য কেমন ছিল আমাদের অনুমানেও কুলোয় না।
এমনকি আস্ত সূর্যও ব্ল্যাক হোল-এর পেটে চলে যেতে পারে। আবার সূর্যও সব শক্তি হারিয়ে ব্ল্যাক হোল এ পরিণত হতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে সূর্যের আগের থেকে শক্তি অনেক হ্রাস হয়েছে। সূর্যের জ্বালানি হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম ও হিলিয়াম থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদনের মাধ্যমে যে শক্তি মহাকাশে ছড়ায় সৌর পরিবারের সদস্যরা যে যার দূরত্ব অনুযায়ী ভাগীদার হয়। এই শক্তি মহাকাশে মহাকর্ষ তরঙ্গের মাধ্যমে সূর্য তার পরিবারকে শক্তি যোগান দেয়। এতো শুধু সূর্যের কর্মের কথা বললাম। অগণিত নক্ষত্রের কত লীলাই না হচ্ছে অনন্তে,আকাশ পেরিয়ে। অনন্ত বা বিগ ব্যাং নিয়ে ধারনা করতেই মাথা বেবাগ হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ধরা পড়েছে বিগ ব্যাং-এর যে গ্যালাক্সি অংশ থেকে যে নানা শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে তার পরিমাণ মহাবিশ্বের কাছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ বিগ ব্যাং-এর দৃশ্যমান গ্যালাক্সি মাত্র পাঁচ শতাংশ,বাকি পড়ঁচানব্বই শতাংশ অন্ধকার। তাহলে সহজেই অনুমেয় এই বিগ ব্যাং হল মহাবিস্ময়াতীত।
               *********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।


শুক্রবার, ৯ এপ্রিল, ২০২১

# বিষয় - পত্র। # নাম- স্বপ্ন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

প্রিয়,
        শূদ্রক,আশা করি ভাল আছিস। এই তো গত দু'দিন আগে তোকে পত্র লিখলাম।  তুইও উত্তর দিলি। এখন সোস্যাল মিডিয়ায় পত্র লেখা খুব সুবিধা হয়েছে। যোগাযোগ নিমেষে হচ্ছে। তোকে বলেছিলাম না,ইদানিং আমার স্বপ্ন দেখার একটা কেমন একটা যেন অভ্যাস হয়ে গেছে। স্বপ্নে মন নাকি ভিন্ন হয় বলে শুনেছি। কিন্তু আমার ক্ষেত্রে সম্পূর্ণ উল্টো। যতসব উদ্ভট স্বপ্ন। মন ভাল করবে কি উল্টে খারাপ হয়ে যাচ্ছে। মাঝে মধ্যে স্বপ্নের মধ্যে শরীর শূন্য লাগে। ভূত,রাক্ষস-খোক্কস,জন্তু-জানোয়ার - সবাই যেন আমাকে গ্রাস করতে তেড় আসে। স্বপ্ন মনকে ফুরফুরে করবে কি এত দেখছি রীতিমত মনের উপর চাপ! স্বপ্নের জন্য জীবনকে বোঝা লাগছে। কোথায় ছেঁড়া কাঁথায় শুয়ে লাখটাকার স্বপ্ন দেখব,হাওয়ায় খপাখপ টাকা ধরব,হাওয়ায় টাকা বানাব,জাদুগরের মত। এই ভাবতে ভাবতে একদিন তো স্বপ্নে এসেই গেল,তোকে বলা হয়নি,ভুলে গেছি বলতে,সে এক মাতালের পাল্লায় পড়েছি। বলে কিনা - " মদ খাব,পয়সা নেই। হাওয়া থেকে পয়সা ধরে দাও। তুমি তো জাদুগর। সেদিন তো হাওয়াতে টাকা তৈরী করে খপাখপ ধরছিলে। আজ মদ খাব টাকা দাও। পড়লাম মহাফাঁপরে। আর সরে পড়তে গেলে বেদম মার খাওয়াও ছিল। ঐ একদিন।  কবে সে আর মনে নেই।  তবে আজও ঐ অপ্রস্তুত অবস্থার ধরন মনে করলে হেসে মরি। বাদ দে সেসব। এখন যে সমস্যার জন্য লেখা,গতকাল স্বপ্ন হলেও বাস্তব সত্য ও তা থেকে নিরুপায় লাগছে বড্ড! স্বপ্নে দেখা দেশে হাজির। স্বপ্ন হলেও সত্যি। কোনো অভাব নেই,কিন্তু এই একটাই অভাব সবচে ছাপিয়ে আমাকে খুব চিন্তায় ফেলেছে। সব পেয়েছির দেশ,এমন স্বপ্নের দেশ।  কিন্তু আমি অস্থির চিন্তায়। এখানকার ভাষা একটুও বুঝতে পারছি না। কি করা যায় বলতো। এখুনি বল। আমার বোন পিউয়ের পরামর্শ নিতে বলল "দাদা,দেশটার নাম কী? বলুন। তাহলে ভেবে দেখব।" "বলতে বলতে নেট গেল কেটে। আই এস ডি কলের ক্যাপাসিটি শেষ। তোকেও ফোন করব সে উপায় নেই। কি কিম্ভূত কিমাকার এদের ভাষা। স্বপ্নও যে এমন নিষ্ঠুর হয় এই মুখোমুখি হলাম প্রথম। তা বলে ফেললি তো ফেল এক বিদঘুটে দেশে। কি সব বিচিত্র নিয়ম এখানকার। কার কাছে যে উপায় হয়। ইংরেজি ভাষা এখানে বললে শূলে চড়িয়ে দেবে। ভোলাপুক বা এসপারেন্ত ভাষার এরা নামও শোনেনি। কি তাজ্জব জায়গা রে বাবা!তো পরামর্শের অপেক্ষায় থাকলাম।
    এমন অবস্থায় তুই পড়েছিলি বলে একদিন অভিজ্ঞতা শেয়ার করেছিলি। কিন্তু তারা তো ইংরেজি বিকল্প হিসেবে চল ছিল।  কিন্তু এখানে তা নেই। তাই মহাফাপর। অঙ্গভঙ্গি করেও যে বোঝার সে উপায়ও নেই। ভয় হয়। কোন অঙ্গভঙ্গির কী মানে করে। শেষে না উগ্রপন্থী ভেবে না লাশ করে দেয়। এমন উদ্ভট দেশ স্বপ্নে দেখেছিলাম,স্বপ্নই সেই সাধ পূরণ করল,তবে চাওয়ার সম্পূর্ণ বিপরীতে,যা আমার জীবনের জেরবার অবস্থা। মোটামুটি টিকে থাকার অবস্থা।"
             ******
  এক সপ্তাহ পরে শূদ্রকের পরামর্শ পৌঁছল। তার পরামর্শ ছিল "তোর কাছে যাচ্ছি। ঐ দেশের ভাষা আমার জানা। ততক্ষণ তুই কোথাও বেরোস না। কেউ কিছু বললে,ইঙ্গিতে ভি আকারে দুটো আঙুল দেখা। ওরা ওটা খুব বোঝে। ওটার মানে আমি ভিন দেশী। তোমাদের অতিথি। তখন  ওরা তোর প্রতি খুব দরদী হবে। আপ্যায়ন করবে।"
যেমন বলা তাই করা। আর অমনি সব ঠিকঠাক হয়ে গেল। যেন শূদ্রক আলিবাবা,আমার অবস্থা কাশিমবাবার মত।
  ব্যাস স্বপ্ন শেষ। ঘুম ভেঙে বিছানায় চিৎ, পাখা বনবন ঘুরছে। আর বউ উঠে যেতে যেতে বলছে দুধের সঙ্গে একটা চারশ' ওজনের টক দইয়ের প্যাকেট নিও। বিরিয়ানি হবে। নীচে পেপারওয়ালা হাঁক - বর্তমান...
কোথায় স্বপ্ন, আর কোথায় আমি পদ্মপুকুর এলাকার স্বপ্নবিলাস সাধুখাঁ। এই গত রাতের স্বপ্নের অভিজ্ঞতার কথা তোকে জানালাম। উত্তর দিস।
           ইতি
            তোর স্বপ্নবিলাস।
         ***********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।


বৃহস্পতিবার, ৮ এপ্রিল, ২০২১

# ওয়ান ড্রপ ওনলি # শর্মিষ্ঠা ভট্ট

*সময়ের সমুদ্রে আছি,কিন্তু একমুহূর্ত সময় নেই*-- আজকের বাক্য।সৌজন্যে--পিয়ালী।
# নাম : *ওয়ান ড্রপ ওনলি* 


 সত্যি সকাল থেকে এক একটি ঢেউ যা আছড়ে পড়ছে! বালু চরে আছড়ে ফেলছে, অসহায় গোপা। এখুনি অফিস, সিঙ্গল মাদার সে। হ্যাঁ ও দেবরাজের কাছে জোর করেই ধ্রু কে চেয়েছিল। তখন পয়ত্রিশ পেরিয়েছে। বিয়ে করার ইচ্ছা ছিল না। নতুন করে কারো জীবনে আবার জুড়তে সে চায়নি। সময় সত্যিই একটুও ছিল না। তবু একটা শিশু মন চাইছিল। তাই ওরা যখন ভ্রুণটি ত্যাগ করবে ভেবেছিল, ওর বন্ধু দেবরাজ ও তার স্ত্রী। ও জোর করে নিজের মধ্যে স্থান দিয়েছে। একটু করে সুখানুভূতি নিয়েছে মাতৃত্বের। দেবরাজের বৌ অসুস্থ ছিল, এখন নেই। দেবরাজ মাঝে সাঝে অনেক খেলনা নিয়ে দেখে যায়। ইতিমধ্যে ওর বিদেশে যাওয়া। ফিরে এসে বাচ্ছার স্কুল সব সামলে একটু থিতু। তবু রোজকার ছোটা তো আছেই। আর ধ্রু র মুখের দিকে চেয়ে সময়ের সমুদ্রে লাফিয়ে পড়েছে সে, একটুও সময় নেই। কার ও জন্যই নেই। দেবরাজ অনেক বলে ব্যর্থ হয়ে আগামী রবিবার বিয়েটা সারছে। কফি আর ল্যাপটপে চোখ রেখে ভাবে.... সত্যি কি একটুও সময় , এক আঁচলা দিতে পারতো না দেবরাজকে! সময় নেই ভাবার..... ধ্রু র ফুটবল সজোরে এসে কফি কাপ চুরমার করেছে। ছুটছে লোপা।।। ©কপিরাইট সর্তাধিকারী শর্মিষ্ঠা ভট্ট।।

মঙ্গলবার, ৬ এপ্রিল, ২০২১

# নাম- মানুষ ও ধর্ম। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ চিত্র আলোচনা-বাসর। 
# বিষয় - *চিত্র।*
 # নাম- *মানুষ ও পৃথিবী।* 
   ✍ - মৃদুল দাস। 

  মহাবিশ্বের একটা বিন্দুর ভগ্নাংশ বিচারে একের পিঠে শূন্য বসাতে বসাতে যখন ক্লান্ত হবে তখন ভেবো মহাবিশ্বের কাছে পৃথিবী তাই। আর মহাবিশ্বের হাতে তৈরী পৃথিবীও পদে পদে মহাবিস্ময়! অন্ধকার থেকে পঞ্চভূত এল। পঞ্চভূতই  নিয়ে এল প্রাণ। এই প্রাণের প্রকৃতি দু'ধরনের - এক উদ্ভিদ,দুই মানুষ। আর তৃতীয় পক্ষ জড়,যে কিনা দুই প্রাণের অনুঘটক। 
  এই দুই প্রাণের ধরনে স্রষ্টা গুণ দিলেন যেন নিজের মত করে - উদ্ভিদ তোমার চলন থাকবে, গমনহীন। মানুষ তোমার চলন-গমন দুই থাকবে। তবে তোমার প্রাণের দায় গাছেদের। কোনোদিন গাছেদের সঙ্গে দুর্ব্যবহার করলে,তার প্রাণ নাশে উদ্যত হলে তার প্রতিবাদের শক্তি দিলাম না,আখেরে তোমার ক্ষতি যে হবে তাই দিলাম। তোমাকে বুঝে চলতে হবে। এই বিধি না মানলে তোমার ধ্বংসের জন্য তুমিই দায়ী থাকবে।
   কিন্তু চোরা না শোনে ধর্মের কাহিনী। তার প্রাণের বিকাশে কত ঘটনাই না ঘটাতে থাকল। বিশ্বস্রষ্টার সাবধান বাণী হল উপেক্ষিত। মানবসভ্যতা যত দিন গড়াতে লাগল নিজের চাহিদা থেকে ক্ষমতা,ক্ষমতা থেকে পরস্পর বিবাদ কেবল শ্রেষ্ঠত্ব নিয়ে। প্রগতিশীলতার নামে কত সব বিচিত্র কর্মপন্থার আমদানি করল। সব ধারণ থেকে এলো ধর্ম - আর ধর্মের ভিত্তিতে নিজেদের চিনতে গিয়ে আজ তাই পৃথিবীর বড় বিপদ। এমনকি ধর্মের শ্রেষ্ঠত্ব নিয়েও বিশ্ব ধর্মসম্মেলন সে তো ধর্মকে মদত দেওয়া ছাড়া কি-ই বা ছিল! তা একটা লোকদেখানো ভাব ছিল বলে বিপদ বেশী ছিল,তা বোঝার জো ছিল না। আর তাই নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারল - ধর্মের জন্য মানুষ, মানুষের জন্য ধর্ম নয়,তাই সগর্বে ঘোষণা থেকে বিপদ দিনে দিনে বাড়ল বই কমল না। ধর্ম থেকে এলো যত জটিল সমীকরন। এমনকি হানাহানি,কাটাকাটি পর্যন্ত। অশিক্ষা এই ধর্মের নামে সাম্প্রদায়িকতা,জাতপাত বর্ণবৈষম্য ভেদাভেদ -  ভাইকে ভাই শত্রু করে।  
   মানুষের পৃথিবী একথা মানুষ আর মানে না। মানে ধর্ম দিয়ে মানুষ মানতে হবে। মানব ধর্মের চেয়ে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্ম বড়। ইসলাম, খ্রিস্টান, হিন্দু,বৌদ্ধ,জৈন...পৃথিবী নানা ধর্মের গন্ডিতে যে যার নিজেকে শ্রেষ্ঠ ভাবে। তাই তার ভোগ। সে ভোক্তা। বিশ্বের মধ্যে ভারতবর্ষ তারইএকটি ক্ষুদ্র সংস্করণ। ধর্মের অধিকার থেকে তার গণতান্ত্রিক দায়বদ্ধতা এসেছে নিজেকে রক্ষার জন্য। যদি না ধর্মের এতো গুরুত্ব থাকত অধিকার রক্ষার জন্য এত ভাবতে হত না। পেছনে এত কাড়িকাড়ি অর্থ খরচ হত না। কিন্তু ধর্মের নামে যে অর্থ উপার্জন একটা শ্রেণির খাই খরচ,ভোগের আকাঙ্খাপূরণ। 
 পৃথিবী সৃষ্টির সময় তো এতসব ছিল না। কেন এসব এল। এই মানুষের তৈরী এক নকল গড়। ধর্মের নামে পরিচয় যে যার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের মর্যাদা। এক থেকে আরেকের পরিচয় আলাদা। তা থেকে এসেছে পরিচয়ের প্রতিযোগিতা। বর্ণবৈষম্য আনল অহংকার- তুমি সাদা আমি কালো।
  কিন্তু পৃথিবী আসলে বেঁচে আছে মাবধর্মের জন্য। ধর্মের ভিত্তিতে বাঁচার চেয়েও তা অনেক বড়। কেননা সভ্যতার বিকাশ মানবধর্মের হাত ধরে।  ধর্ম, জাত,পাতের উর্ধে। ওরা কাজ করে নগরে প্রান্তরে বলে পৃথিবী বেঁচে আছে। তাদের জন্য বাঁচবে। আর ধর্মের বিলাসিতায় বাঁচাটাই আসলে মিথ্যা তখনই মনে হয়,যখন ভাবব - ধর্মের জন্য বাঁচা নয়,বাঁচার জন্য ধর্ম,সে মানবধর্ম।
   
             ******
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল দাস।

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...