শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০২১

তাজমহল--অন্য চোখে(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


তাজমহল--অন্য চোখে

সুদেষ্ণা দত্ত

ভালবাসা কোন বাদশাহী ফরমান নয়—সে নিষেধ জানে না মানার।সাধারণ মানুষের মত বাদশা-বেগমদের জীবনেও কখনও তাজমহলের শ্বেত শুভ্র মর্মরের মত আসে পবিত্র প্রেম।কখনও যমুনার দূষণের মতই প্রেম হয় কলুষিত।তাজমহল—একদিকে যার স্থাপত্য শৈলী ভারতবর্ষের ইতিহাসকে অতিক্রম করে বিশ্বইতিহাসে স্থান করে নিয়েছে।আবার অন্যদিকে যার গম্বুজ,মিনার হাহাকার করে শোনায় অমানবিক যন্ত্রণার গাথা,ধ্বনিত হয় নারকীয় ইতিহাস। জীবদ্দশায় মমতাজ মহলের অধিকাংশ বসন্ত কেটে গিয়েছে কচি পাতার জন্মে প্রসব বেদনায়—আঁতুর ঘরে,আবার স্বামীর প্রতি নিবেদিত যৌবনার জীবনের পাতাও ঝরে গিয়েছে বসন্তের মত ।প্রেমের সময় কেটেছে গ্রীষ্মের ফুটিফাটা জমিকে বৃষ্টির ঊষরতায় ভরিয়ে দিতে।আর মৃত্যুর পর পুজো কেন কর,যদি বেঁচে থাকায় মর্যাদা দিতে না পার!মমতাজমহল কি দেখে গিয়েছিলেন তাঁর প্রেমের সৌধ!তবে কিসের এত আড়ম্বর!প্রায় আঠাশ ধরনের মহামূল্যবান পাথর ও সাদা মার্বেল পাথরে তৈরী হয়েছে তাজ।এর সঙ্গে আছে খোদাই করা রঙিন মূল্যবান পাথর।সম্রাট শাহজাহান যা পৃথিবীর নানা প্রান্ত থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।স্থাপত্যের নক্সা ও কৌশলে অনুসৃত হয়েছে সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ প্রক্রিয়া।সকাল—সন্ধ্যা—পূর্ণিমায় রাজপ্রেমিকের মতই বদলে যায় তাজমহলের রূপ।            কাটা পড়ছে শিল্পীর আঙ্গুল।ইটের পাঁজরে কাঁদছে ইতিহাস।জীবনের গোধূলিবেলায় বন্দী প্রেমিক নির্নিমেষ তাকিয়ে আছেন প্রেয়সীর সমাধি ক্ষেত্রের পানে।আকাশের নীল,যমুনার নীল তাজমহলের শিরায়—ধমনীতে ছড়িয়ে দিচ্ছে বিরহ বিষাদের,প্রেম—অপ্রেমের নীল গরল।বর্ষা—বসন্তেও এক অনন্য সাধারণ দৃশ্যপট আকাশ ও জলের বুকে রচনা করে তুলে ধরে প্রেমিকের বুকের বিরহের আকুতি।প্রেম মানে তো বিচ্ছেদ—বিরহও।তাই এই তাজমহল কোথাও স্থাপত্যের প্রাচুর্যের আশীর্বাদ।কোথাও শিল্পীর,প্রেমিকার জীবনের অভিশাপ।কিন্তু তবু প্রেমিকের মুখে বুঝি ধ্বনিত হয়— “স্মৃতিভারে আমি পড়ে আছি,ভারমুক্ত সে এখানে নাই।” এখানেই বুঝি শিল্পের জয়,প্রেমিকার জয়।এ সৌধ বুঝি বাদশার দম্ভেরও। 

 ©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত

ছবি সৌজন্য--গুগুল।

৮টি মন্তব্য:

  1. ভালো ভেবেছো, আর লেখো তো তুমি এমনিতেই ভালো, তাই যোগফল বেশ ভালো

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...