মঙ্গলবার, ১৩ এপ্রিল, ২০২১

# নাম- 'মহাকাশ'। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

পঞ্চভূতের( ক্ষিতি,অপ,তেজ,মরুৎ ও ব্যোম) ব্যোম বা আকাশ একটি অন্যতম সদস্য। আকাশের রঙ লীল। আসলে ইথারকণার সমুদ্র। বায়ুমন্ডলের পর পর ক'য়েকটি স্তর আছে। যেমন- গ্যাসীয় উপাদানের উপর ভিত্তি করে বায়ু স্তর দুটি - হোমোস্ফিয়ার ( এখানে গ্যাসীয় উপাদানের নির্দিষ্ট একটির ঘনত্ব বেশী,যেমন অক্সিজেন,কার্বনডাই অক্সাইড) ভূপৃষ্ঠের থেকে শুরু। অন্যটি স্ট্রেটোস্ফিয়ার - এখানে বিভিন্ন গ্যাসীয় উপাদান থাকে।  
  গ্যাসীয় উপাদানের এই দুটি স্তর আবার তাপমাত্রা অনুযায়ী ছ'টি স্তর। যথা পর পর উর্ধগামী স্তরের শেষ স্তর স্ট্রেটোস্ফিয়ার,যাকে বলে তড়িৎচুম্বকীয় স্তর। আর এর পরের আকাশ সীমাহীন অনন্ত। অনন্তের লীলা। মহাবিশ্বের লীলা। আদি অন্তহীন। তাই বিগ ব্যাং। অনন্ত অন্ধকার। এই অন্ধকারের মাঝে গ্যালাক্সি ( গ্রহ, উপগ্রহ,নক্ষত্র) তে এক এক গ্রহ নক্ষত্রের ভর থেকে কত ধরনের শক্তি তৈরি হচ্ছে,বিশেষ করে যার ভর বেশী তার শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা বেশী, আকর্ষণ বলও তেমনি হয়। তবে শক্তি উৎপাদনের ক্ষমতা হারিয়ে গেলে কেবল বিপুল ভর নিয়ে অবস্থান করে,তাই ব্ল্যাক হোল। কোনো নক্ষত্র মহাকাশে ব্ল্যাক হোল হওয়া মানে তার আকর্ষণ বলের আয়ত্বে এলে সে মুহূর্তে তাকে গিলে ফেলে। কারো রেহাই নেই। এমনকি দুটি ব্ল্যাক হোল যদি সংঘর্ষ ঘটে তখন কি হবে? মহাকাশের গ্যালাক্সিতে এমন ঘটনা ঘটেছিল ১৩০কোটি আলোকবর্ষ দূরে, ১৩০ কোটি বছর আগে। অঙ্ক কষে তাই নিখুঁত হিসেব বেরিয়েছে। কী ঘটেছিল তখন?
   একটি ব্ল্যাক হোল বা কৃষ্ণগহ্বরের ভর সূর্যের ২৬ গুণ বেশী,ব্যাস ১৫৬ কিলোমিটার। আরেকটি সূর্যের ৩৯ গুণ বেশী,তারও ব্যাস ২৩৪ কিলোমিটার। দু'জনের সংঘর্ষ ঘটেছিল এক সেকেন্ডের এক পঞ্চমাংশ সময়ে। এর ফলে ভর দাঁড়িয়েছিল সূর্যের ভরের ৬১ গুণ বেশী,আর ব্যাস ৪০০কিলোমিটার। হিসেব বলছে সূর্যের ভরের ৬৫ গুণ বেশী শক্তির  ৪গুণ বেশী শক্তি গেল কোথায়? সেই শক্তি মহাকাশে ছড়িয়ে পড়েছিল। এই যে দুই কৃষ্ণগহ্বরের সংঘর্ষ ও এক হওয়ার দৃশ্য কেমন ছিল আমাদের অনুমানেও কুলোয় না।
এমনকি আস্ত সূর্যও ব্ল্যাক হোল-এর পেটে চলে যেতে পারে। আবার সূর্যও সব শক্তি হারিয়ে ব্ল্যাক হোল এ পরিণত হতে পারে। পরিসংখ্যান বলছে সূর্যের আগের থেকে শক্তি অনেক হ্রাস হয়েছে। সূর্যের জ্বালানি হাইড্রোজেন থেকে হিলিয়াম ও হিলিয়াম থেকে হাইড্রোজেন উৎপাদনের মাধ্যমে যে শক্তি মহাকাশে ছড়ায় সৌর পরিবারের সদস্যরা যে যার দূরত্ব অনুযায়ী ভাগীদার হয়। এই শক্তি মহাকাশে মহাকর্ষ তরঙ্গের মাধ্যমে সূর্য তার পরিবারকে শক্তি যোগান দেয়। এতো শুধু সূর্যের কর্মের কথা বললাম। অগণিত নক্ষত্রের কত লীলাই না হচ্ছে অনন্তে,আকাশ পেরিয়ে। অনন্ত বা বিগ ব্যাং নিয়ে ধারনা করতেই মাথা বেবাগ হয়ে পড়ে। সাম্প্রতিক গবেষণায় ধরা পড়েছে বিগ ব্যাং-এর যে গ্যালাক্সি অংশ থেকে যে নানা শক্তি উৎপাদিত হচ্ছে তার পরিমাণ মহাবিশ্বের কাছে মাত্র পাঁচ শতাংশ। অর্থাৎ বিগ ব্যাং-এর দৃশ্যমান গ্যালাক্সি মাত্র পাঁচ শতাংশ,বাকি পড়ঁচানব্বই শতাংশ অন্ধকার। তাহলে সহজেই অনুমেয় এই বিগ ব্যাং হল মহাবিস্ময়াতীত।
               *********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।


২টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...