বুধবার, ১২ মে, ২০২১

# নাম- আমাদের পরিবার। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।

শুভ শব্দ আলোচনা-বাসর। 
  #বিষয় - পরিবার।
   # নাম- আমাদের পরিবার।     
        ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

         *পরিবার* কথাটি ব্যাপকার্থে এক তাৎপর্যবাহী শব্দ। বন্ধন কথাটিকে যথার্থ রূপ দিতে এই পরিবার কথাটির এসেছে। সৌর পরিবার আদি পরিবার। ন'টি গ্রহ তার সদস্য। এই ন'টি গ্রহ যে যার ভূমিকা নিয়ে সৌর পরিবারের একটি সার্কিট।  এমনি মহাবিশ্বে কত যে অগণিত পরিবার আছে তার ইয়ত্তা নেই। 
 আমাদের পৃথিবীতেও জীববৈচিত্র্যের উপর ভিত্তি করে অগণিত পরিবার। যে যার পৃথক পৃথক বৈশিষ্ট্য নিয়ে আইডেন্টিফায়েড। তারই একটা অংশ মানব সমাজ,পরিবার তার ভিত্তি। এক একটি পরিবার যুক্ত হয়ে সমাজ,রাষ্ট্র,বিশ্ব গঠিত। 
   আমাদের পরিবার একটা বিশেষ রূপের দিকটি বোঝায়। পরিবারের অনেক স্বরূপের একটি বিশেষ স্বরূপ। 
  পরিবার ব্যক্তি সীমায়,পরিবার বৃহত্তর সীমায়। আমার, আমাদের,তোমার, তোমাদের...পরিবারকে চিনতে এইসব পরিবারের আগে সর্বনামসূচক পদ পরিবারের ব্যক্তিবিশেষের পরিচয়। বাবা মা ভাই বোন কাকা কাকিমা,পিসি....একান্নবর্তী পরিবার। আবার পরিবার একান্ন না হয়ে অনুপরিবার এখন বর্তমানের প্রবণতা। আত্মীয়স্বজন নিয়ে পরিবারের পরিচয় ক্রমবর্ধিত।
 ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য থেকে ব্যক্তি পরিবার যেমন,তেমনি সমষ্টি সমণ্বয়ে পরিবার আরেক বৈশিষ্ট্যে বৈচিত্র্য। পরিবারের স্বরূপ - গৃহগত,বহির্গত। বহির্গত পরিবার সাধারণত সমাজ থেকে উঠে আসে। ব্যক্তিগত পরিবারের আচরণ সামাজিক পরিবারে প্রয়োগ দিয়ে কিছু কিছু স্বতন্ত্র বিধি প্রণয়ণের দ্বারা মাত্রা ভিন্ন ধরনের হয়। তবে পারিবারিক মূল্যবোধের ছকে পরিবার ভেতরের সংসার,পরিবার বাইরের সংসার। 
  ভেতরের পারিবারিক সংসারের চলার বিধি এক,বাইরের বিধি আরেক।  বাইরের বিধিতেই নব নব স্রষ্টা - 'আয় আরো বেঁধে বেঁধে থাকি।' (শঙ্খ ঘোষ)
    এই শুভবোধে আমরা প্রত্যেকেই কোন না কোনো মোটিভে পারিবারিক আবেগে চলমান। স্মরণে,মননে,চিন্তনে পরিবার আমাদের অস্তিত্বের ভিত্তি।
 আমার পরিবার নিয়ে আমার ব্যক্তিগত পরিয়।সেই পরিচয় সবার মাঝে উন্মুক্ত করতে আমার পরিবার বহুবচনে আমাদের পরিবার হয়ে যায়। লেখক ও লেখনী সেই পরিচয়ে আজ আনন্দের শত সহস্র ধারায় পরিবারের আবেগে সমুদ্রসম কল্লোলিত,পর্বতসম উচ্চশিখর পানে ধাবিত। আর এর সৌন্দর্য- কথা ও সুরে। সকলে সকলের মন প্রাণে অন্তর্বর্তী,এক আনন্দ নিকেতন। সকলের তরে সকলে, প্রত্যেকে পরের তরে - 'NOT ME BUT YOU' 
   প্রত্যেক পরিবার গঠনের একটা ইতিহাস থাকে। ঘটনা ছাড়া পরিবার হয় না। আমাদের 'লেখক ও লেখনী' পরিবারে একাধিক ব্যক্তিগত পরিবার সমণ্বিত।
 এই 'লেখক ও লেখনী' পরিবার গঠনেরও একটা ঐতিহাসিক চমক আছে। শুরুর দিনের কেলভিন চাকমা(বাংলাদেশ),অনিশা কুমার ও আমি ছাড়া আরও কয়েক জনের মিলিত প্রয়াসে,প্রতিলিপির সবাই বন্ধু ছিলাম, জুলাই মাসের বারো তারিখ কথা হয়। ১৪ জুলাই ২০২০ পরিবারের প্রতিষ্ঠা দিবস। যারা চলে গেছে তাদের কথা নাই বা বললাম। একটা দুঃখ আছে বলে মনে করা বৃথা, যেকোনো দুঃখ হৃদয়কে প্রসারিত করে না বলে তাই ,নাই বা বললাম। 
   একে একে পিউকে( পিয়ালী চক্রবর্তী,প্রতিলিপির ওয়ান্ডার ওম্যান নামে বিশেষ পরিচিত,আমি ওকে ধরে নিলাম আমার ছোট্ট বোন করে)পেয়ে খুব উচ্ছ্বসিত হয়েছিলাম - প্রতিলিপি ভাল লেখিকা বলে, অনিশা,সুদেষ্ণা,জিৎ চক্রবর্তী (জিতের সঙ্গে পরিচয়ের সূত্র সে চিরকাল মনে থাকার মতো),চুন্নি,মৌসুমী( আমার ছাত্রী - ব্যাঙ্গালোরবাসী) তারপর পারমিতা( পারো),প্রয়াতা পল্লবীকে আনে পিউ,সৌগতকে নেওয়ার জন্য বেশ অপেক্ষা করাটা ক্রমে ধৈর্য্য হারাচ্ছিলাম(কেন তা নাই বা বললাম,থাক না) লেখক বন্ধু খুব কাছের ছিলাম বলে,তারপর তো একে যে যেমন পেরেছে এনেছে,আবার অনেকে চলে গেছে,আবার পরিবারে ইনঅ্যাকটিভ অনেককে রিমুভ করে দিয়েছি। আমার বন্ধু বৈশালী ও রজত দু'জনে কি আমরা তিনজন তিনজনের পরিপূরক। তিথিকে নেওয়া নিয়ে খুব দ্বিধায় ভুগছিলেন,আর ওকে নিয়ে এখন আমার আনন্দ ও গৌরবের শেষ নেই। শ্রেয়া( শ্রী),সৃজনী (সৃজু)ও আমার গর্বের। ঈশিতা(ঈশু) কে নিয়ে মনের মধ্যে একটা ঘটনা আছে,পরিবারের যখন একটু টালমাটাল অবস্থা হচ্ছিল। সু,অনি, চুন্নি যেন ত্রিভুজের তিনটা বাহু। এলো শর্মিষ্ঠা ভট্ট(শর্মি) খুব ভাল লেখিকা হয়ে,আরাধনা(আরু) এলো দারুণ সঙ্গী হয়ে। পারমিতা অধিকারী সৌগতবাবুর বোন, ওর কাছে আমার মতো প্রিয় দাদা নাকি হয় না,কি বিনয়,এমনটি আমার কাছে দুর্লভ সম্মান। খুব সরল উচ্ছ্বসিত প্রাণ।  অঙ্কিতা(অঙ্কু),সোমা,মৌসুমী চন্দ্র মিষ্টির মতো  দুরন্ত পারফর্মারদের পেয়ে সত্যিই আমরা আপ্লুত। 
অস্মিতা ভট্টাচার্য - ম্যাগাজিনের প্রচ্ছদ তৈরি নিয়ে পিউ নিয়ে এলো,প্রথম প্রকাশিত হচ্ছে,প্রচ্ছদ কেমন হবে খুব দ্বিধায় ছিলাম,ও নিমেষে সমাধান করে ফেলল,ওই হলো ম্যাগাজিনের স্থায়ী প্রচ্ছদকারিনী। 
     পারো একদিন খুব অভিমান করে আর আসবে না বলে চুপ  হয়ে গেল,কেননা শব্দদিনে বেশ কঠিন শব্দ হয়ে গেছে,ও না লিখতে পেরে ক্ষোভ প্রকাশ করছিল বলে একটু বকে ছিলাম। অভিমান ভাঙিয়ে আনতে বেশ কষ্ট হচ্ছিল। আর যখন এলো রুদ্ধপ্রাণের আগল খুললে যা হয় আরকি! আজ ওর গুরুত্ব ও নিজেই। সৌগত বাবুর কথায় লেডি শিবরাম। এখুনি অভিমানে অভিযোগ করল বলে - "আমি আর কে?" সরল মন নিয়ে আমাকে সবসময় ঘিরে থাকে। আর প্রসেন আমার খুব প্রাণের সাথী। বিমানের মতো ভাই আর পেলাম কই! রাজনন্দিনী ছাত্রী বলে ও একটু দুরত্ব রেখে চলে। ও কালচারাল গ্রুপের একজন সেরা পারফর্মার,ওকে পাশে রাখলে বুকে বল পাই। অনিন্দ্য তুলনা অনিন্দ্যই। শুভ ভট্টাচার্য,আবীর মহাপাত্র চাকরী ও সংসারের ব্যস্ততায় একটু কম এলেও ওরা আছে। 
     আর যাঁর কথা অবশ্যই বিশেষভাবে স্মরণ করার মতো তিনি শ্রদ্ধেয় সবার মাতাজি শিপ্রা ঘোষ। সৌগত বাবুর সৌজন্যে এলেন। ইনি প্রতিলিপিতে মাতাজি খ্যাত,আমাদের পরিবারে সেই আবেগে যেন আরও সমৃদ্ধি নিয়ে এলেন। কথনে সবাইকে স্নিগ্ধ হাসিতে রাখেন,লিখনে সবার খুব আন্তরিক লাগে,রিভিউ দানে কি মুক্তচিত্ত। 
   পরিবারের সেরা পারফরম্যান্স ত্রৈমাসিক পত্রিকা প্রকাশ। পরিবারের নিজস্ব ব্লগের ভিউয়ার পনরো হাজার ছাড়িয়ে গেছে। ফেসবুকে আমাদের সাধ্যমত লেখালেখিতে কেউ কম নই। সদ্য ইউটিউব এ আমরা পারফর্ম করতে শুরু করেছি।
  সর্বোপরি সাপ্তাহিক কর্মসূচী অনুযায়ী আমরা আলোচনায় যেভাবে সক্রিয় থাকি,সেই সক্রিয়তা দেখে যে কেউ প্রসংসায় পঞ্চমুখ হয়ে বলেন - "অনেক গ্রুপ দেখেছি,এমন সক্রিয় খুব একটা দেখিনা।"
  সবাই খুব প্রানের। সবাই খুব প্রাণিত। এমন পরিবার কোথাও পাবে নাকো, সেই তো মোদের লেখক ও লেখনী পরিবার, আর কি চাই, সবার সেরার সেরা আমাদের পরিবার।
                           *********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস। 

১১টি মন্তব্য:

  1. সমৃদ্ধ হলাম।নগন্য আমি এই পরিবারে স্থান পেয়ে ধন্য হয়েছি দাদা।আমার এই পরিবার আমার গর্ব।

    উত্তরমুছুন
  2. খুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।

    উত্তরমুছুন
  3. আমাদের অসাধারণ পরিবার নিয়ে লেখা অসাধারণ।

    উত্তরমুছুন
  4. আপনার লেখনীর জোরে নিজেকে খুঁজে পেলাম এই পরিবারের একজন হিসাবে। অনেক ধন্যবাদ আপনাকে 🙏🌷

    উত্তরমুছুন
  5. মনে ধরার মতো লেখা।
    পরিবারের সবার জন্য অনেক অনেক শুভেচ্ছা ও শুভকামনা..💐👌

    উত্তরমুছুন
  6. কি অসাধারণ বললেন 💖💖💖💖💖💖💖💖💖💖💖🙏

    উত্তরমুছুন
  7. স্বয়ং সম্পূর্ণ পারিবারিক বন্ধনের এক রূপকথা।
    অতুলনীয়।ভী ভী ভালোলাগা।
    ❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️❣️

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...