# বিষয় - অনুগল্প।
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
শ্রীমধুসূদন পাকড়াশী। শ্রী তার বাবার দেওয়া। বাবা শ্রী ডাকবেন বলে। সার্টিফিকেটে শ্রীমধুসূদন।
বয়স পঁয়ত্রিশের কোঠায়। স্ত্রী শুশীলা। সত্যিই শুশীলা। তরল পদার্থের মতো। যে পাত্রে রাখো তার মত রূপ নেবে। বললে বলে - "কী হবে, তুমি যা চাও তাই হয়ে! আমি যা তুমি তাই ভাবো। তুমি যা আমাকে নিয়ে ভাববে আমি তা হতে পারব না। তুমিই তো সব। তোমাকে আশ্রয় করে বেয়ে চলা স্ত্রীর ধর্ম।" একদম সোজাসাপটা জবাব। শুশীলার এই নির্ভরতা নিয়ে বাঁচা পছন্দ না হলেও কিছুই করার নেই। শুশীলা যা তাই থাকুক। বেশী ঘাটাঘাটি করলে যদি হিতে বিপরীত হয়ে যায়। ও যা চায় তাই হোক। তবে আফশোস থেকে গেল অফিসের রমনীকান্ত বউ নিয়ে যেভাবে কোলাব্যাঙের মত গাল ফুলিয়ে গল্প দেয় শ্রীমধুসূদন ওখানেই মনে মনে হালকা। আফশোসের শেষ নেই। মনের অবচেতনে রমনীর কাছে হতাশার কথা বলেও ফেলে। রমণী তখন বৌয়ের গর্বে আত্মহারা হয়ে বলে - "ভাগ্য এসব জানিস তো। ভাগ্য। মনে কিছু করিসনা। ভগবান সকলকে যেকোনো একটা দিকে ঘাটতি রাখেন। যেমন", এই বলতে গিয়ে রমণীকান্ত থেমে যায়। মনে মনে ভাবে ঘরের কথা বাইরে আনা সে লক্ষ্মণের গন্ডী অতিক্রম করার মতো বিপদ। প্রসঙ্গ বদলে রমণীকান্ত বলে - "চা চলবে?" এই বলে চায়ের অর্ডার দেয় অফিসের বলাইয়ের ক্যান্টিনবয় ভোলাকে। চা আসতে আসতে দেশ,রাজনীতির টুকিটাকি কথা,চা পানের ঝড়ো গতির তুলে বিদায় নিতে নিতে বলল- "কাল সুদের কটা টাকা দিবি রে।" রমণীর ঘাড় নেড়ে সম্মতি জানানো ও হ্যাঁ শোনানোর আগেই শ্রীমধুসূদন উধাও।
শ্রীমধুসূদনের সুদের ব্যবসা ছিল। অফিসের লোকেরা নিত। তবে চটা সুদে নয়। লোকের অভিশাপ লাগবে বলে। মনে করত দুঃসময়ে পড়েছে, ধার দেওয়া মানবিক কর্তব্য। সামান্য সুদ না নিলে ওদের শোধের বালাই থাকবে না। আর ধর্মও বজায় থাকবে না,খালি হাতে দেওয়া টাকার কাছে নিজেকে অপরাধী হতে হবে,একটু প্রফেশনাল না হলে লোকে তো বোকা ভাববে। শরীরটা ইদানিং একটু বেগড়বাই লাগছে।
শুশীলাদেবীকে রাতে শুতে শুতে কত রাত বলেছে "কাকে কত টাকা দিয়েছে। শুশীলাদেবীর এসব শোনার ততটা ভাল লাগত না। আবার না শুনলে তার প্রিয় শ্রীমধু যদি রাগ করে তাই শোনার ভান করত। শুনতে শুনতে কখন ঘুমিয়ে যেত শ্রীমধু টেরও পেত না। গায়ে ঠেলা দিয়ে বুঝতে পারত যেন অর্জুনের পাশে শুভদ্রা ঘুমোল। ঋণ গ্রহীতাদের কাছে পাওনা টাকার হিসেব যে সে এতক্ষন বলেছে শুনেছে তো। পেটের অভিমন্যু অন্তত শুনতে পাবে। কিন্তু সুশীলা যদি ঘুমিয়ে যায়,তাহলে তো অভিমন্যুর মতো ব্যূহ কেটে বেরনো অধরা থাকবে। এই রাতের শয্যায় তাই ত বলা। কি উপযুক্ত সময় শিখিয়ে পড়িয়ে নেওয়ার। শ্রীমধুসূদনের এসব ভাবের গতি সোকেশে সাজানো দামী ওয়াইনের মতো। সুশীলার কাছে এসবের দর নিয়ে শ্রীমধুসূদনের সন্দেহ হয়।সন্দেহ হলেও কিছুই করার নেই। শুশীলা যা তাই মানাতে হবে,অগ্নিসাক্ষী করা সাতপাকে বাঁধা পড়া বউ যে।
কিন্তু শুশীলা শুনেও শোনে না বা শোনার ভান করে। শ্রীমধুসূদন শুশীলার সে মনের খবর রাখে না,বা নাগাল পায় না। শুশীলা শুধু বলে - "হ্যাঁ,হ্যাঁ, ওসব ঠিক আছে। দু'একটা নাম সতীশ,সুভাষ নিজের নামের বর্ণের সাথে মিল যাদের ছিল তাদের নাম যখন বলত শ্রীমধুসূদন বুঝে নিত ট্রেনিং ঠিক আছে।
হঠাৎই একদিন শুশীলার শ্রীমধু অফিসে স্ট্রোক। সেদিন তার প্রিয় শোল অম্বল দিয়ে পেট পুরে ভাত খেয়ে অফিসে গিয়েছিল। ভেতরে অ্যাসিডের ভয়ঙ্কর বিস্ফোরণে বাড়ী ফিরে লাশ হয়ে। শকসন্তপ্ত পরিবারের পাশে কত কত মানুষ দাঁড়ালো। শ্মশানযাত্রা পারলৌকিক ক্রিয়া সম্পন্ন হল। এরপর যা হয়। বাপের বাড়ির শুশীলার ভাইয়েরা দাঁড়ালো। শুশীলা অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে ডাইং হারনেস চাকরী জুটল। সতীশ,সুভাষের কাছে পাওনা টাকা কিছুটা উদ্ধার হলো। বাকি সবের টিকি পাওয়া যায়নি। ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে মাত্র হাজার পড়ে। ও.টি. পি.নং বলে দিয়ে প্রতারকের পাল্লায় পড়ে উনপঞ্চাশ হাজার জলে গেছে। সে কথা বলার দুঃখের বোঝায় শ্রীমধুসূদন ক'দিন খুব মন মরাও ছিল। সেকথা রমণীকান্তকে একান্তে বলেছিল। মনের দুঃখ ভুলতে। কাউকে বলতে না বলেছিল শ্রীমধুসূদন। এই দুঃসময়ে রমণী শুশীলার কাছে বড়ই উপকারী বন্ধু বলে গায়ে পড়ে দরদ দেখানোর চেষ্টা করে। শ্রীমধুসূদন রমণীকেই বেশী ধার দিয়েছিল। বিবেকহীন। অকৃতজ্ঞ তাকে বলবেন বা কে ! শ্রীমধুসূদন নেই তো।
শুশীলা দেড় বছরের ছেলে অঙ্কনকে নিয়ে সব ভুলতে চায়। তবে যেই তাকে সহানুভূতি ও দরদভরা কথা বলতে আসে,তাকে দেখে শুশীলার কেবল মনে হয় - ইনিও একজন প্রতারক নিশ্চয়!
********
@ কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
অসাধারণ
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤⚘⚘
মুছুন👌👌👌👌
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤⚘⚘
মুছুনঅসাধারন লেখনী।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤⚘⚘
মুছুনঅতি বাস্তব।ঘর পোড়া গরু যে সিঁদুরে মেঘকে বড় ভয়।
উত্তরমুছুনএই মন্তব্যটি লেখক দ্বারা সরানো হয়েছে।
মুছুনআমাদের সমাজের বাস্তব চিত্র তুলে ধরেছেন। আমরা অনেক সময় জেনে বুঝে ও কিছু করতে পারি না।
মুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤⚘⚘
মুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।❤❤⚘⚘
মুছুনঅসাধারণ👏✊👍👏✊👍👏✊👍👏✊👍
মুছুনদাদার জন্য শুভকামনা...👌👌👌
উত্তরমুছুন