#বিষয় - ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতা হল সঠিক বোধগম্যতার শত্রু।
# নাম- ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতা।
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
মানুষের ভেতরে নানা ক্রিয়া প্রতিক্রিয়ার প্রকাশেই মানুষ নামের পদবাচ্য,মানুষ নামের তাৎপর্য- মান+হুশ= মানুষ। মান ও হুশ থাকলেই মানুষ হবে না,এর জন্য কতকগুলি বাধা আছে। সেই বাধাগুলিই মান ও হুশের বিপরীতে নেগেটিভ দিক,আর তার বিপরীতে আছে পজিটিভ দিক। পার্থিব যা কিছু শক্তির উৎস এই পজিটিভ ও নেগেটিভ আধানের রহস্যে। পজিটিভ ও নেগেটিভ আধান যেমন বিদ্যুৎ প্রবাহে ও আলো উৎপাদনের শক্তি,তেমনই মানুষের মধ্যেও পজিটিভ ও নেগেটিভ গুণের আধান তার ভেতরের পরিচিতি সে মানুষ হিসেবে কোন ধরণের প্রতি আকৃষ্ট।
নেগেটিভ না থাকলে পজিটিভের অস্তিত্ব বোঝা যেত না,যেমন অন্ধকারই আলোর দিকদর্শী। মৃত্যু জীবনের রক্ষক ( জীবন রক্ষা করে চলতে হয় মৃত্যুর পাত্রে),সৎ অসতের,অমান্য থেকে মান্যতার দিকে প্রভৃতি সকল বিষয়ের বিপরীত দিকের ভাবসকলই জীবনের মূল চাহিদা। তার উপর দাঁড়িয়ে জীবনের লক্ষ্য - ঠিক ঠিক বিষয় নির্বাচন করে আত্মার উন্নতি ঘটানো। এখানেই নির্বাচনের হেরফেরেই রয়েছে মানুষের ভালোমন্দ বিচার- একে অপরের বিচার করে,নিজের বিচার নিজে করে,মানুষ সামাজিক বলে সমাজও বিচার করে। এই ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতাই জীবনকে বিশেষিত করে,এর ফলের উপর নির্ভর করে।
মানুষের মধ্যে থাকে বক্রতা,আত্মবিরোধ,প্রকৃতি-বিকৃতি,আর তা থেকেই জন্ম নেয় অহংকারের স্বরূপে রণংদেহী ভাব। রণপ্রিয়তা। তা থেকে মারামারি,রক্তারক্তি,হিংসা,প্রতিহিংসা আসে। পরমানু বোমা ফাটানোর রহস্য এসব নেতিবাচক প্রভাবের ফল। কান্ডকে 'চিরন্তনী শান্তি' রচনা পরমানু বোমার প্রতিষেধক রাষ্ট্রসংঘ তৈরির উপদেশ দিয়ে রেখেছিলেন বোমা ফাটানোর আগে। কান্টের *লজিক* বক্তৃতামালায় বলেছিলেন- *মানুষ সবার উপরে সত্য* বলে মানুষের ভাবার ক্ষমতা আছে - ক) মানুষ জানতে পারে। খ) মানুষ জানে কী করা উচিত। গ) আর ভবিষ্যতের ফল কী হতে পারে আশা করতে পারে। এই তিনটি শুভ বুদ্ধির অনিবার্য প্রশ্ন। তাই মান ও হুশের জন্ম দেয়।
মানুষের শারীরিক গঠন,তার জীবকোষের বিচিত্র অবয়ব সংস্থান,তার মস্তিষ্কে ও মেরুদন্ডে কাম-ক্রোধ-লোভের তাড়না থেকে সচেতনে অহংকার অহরহ জন্ম হতে থাকে। এক জটপাকানো স্নায়বিক শরীরী ভাষার জন্ম হয়। এর জট ছড়ানোর জন্য বিবেক মূল্যবোধ,নীতি নৈতিকতা সীমান্ত রক্ষী মতো কাজ করে। ক্রোধ, অভিমান, হিংসা,প্রতিহিংসা,অসহিষ্ণুতা শরীরের স্নায়বিক বিকৃতি। ব্যক্তিগত স্নায়বিক বিকৃতি থেকে সামাজিক ও রাষ্ট্রিক ক্ষমতার জাহির আসে। যেমন- প্যালেসটাইন-ইসরাইল দ্বন্দ্ব,কাশ্মীর সীমান্ত নিয়ে গন্ডগোল,আমেরিকা ও আলকালয়দা বিরোধ,আমেরিকার কৃষ্ণাঙ্গ অত্যাচার,ইরাকে শিয়া ও সুন্নীর মধ্যে প্রতিহিংসা - সবই ব্যক্তিগত স্তর থেকে গোষ্ঠীগত স্তরের পরিকল্পনায় বিপদে মানুষ নিরাপত্তার অভাব বোধ করে। মানুষের পাশে মানুষকে স্বার্থপর লাগে। সবই বিকৃত স্নায়বিক উত্তেজনা - ক্রোধ,হিংসা,অসহষ্ণুতা। ধর্মীয় বিভাজন সেই ধারার অঙ্গ,ধর্মান্তরীকরণ তারই অঙ্গ- আজ ধর্মীয় অসহিষ্ণুতা ভারতবর্ষের সহিষ্ণুতার ভিত্তি দুর্বল করে দিচ্ছে।
তাই মানুষের মধ্যে বৈষম্য- ক্রোধ, হিংসা,অসহিষ্ণুতা সন্ন্যাসী বা ভিক্ষুকের ও যোগীর জন্য নয়। অপরাধ আসে ক্রোধ,অসিষ্ণুতা থেকে। তাই মানুষের বিচার হয়। সাজা হয়। বিচারক মহামান্য আদালত। বিচারক ধর্মাবতার। ক্রোধে কংস বোন দেবকীকে কারাগারে অন্যায়ভাবে বন্দী করে নিজের মৃত্যুর পরোয়ানা নিজেই রচনা করে, দুর্যোধনের দ্রৌপদীর প্রতি অপমানের ফল কুরুক্ষেত্র, অতি দর্প বা অহংকারের জন্য রাবণের পতন,শয়তানের প্ররোচনায় আদম ও ইভের স্বর্গচ্যূতি, ম্যাগবেথের উচ্চাশার জন্য পতন, ওথেলোর সন্দেহপ্রবণতার জন্য দেশদিমোনাকে হারানো, রাজা কিংলিয়ারের অন্ধ সন্তানবাৎস্য,মীরজাফরের বিশ্বাসঘাতকতায় একটা দেশের ভবিষ্যত বদলে যায় - সবই অহংবুদ্ধির অশুভ পরিণাম। যথার্থই মানুষের ভালোমন্দভেদে ভিন্ন ভিন্ন ফল।
ক্রোধ ও অসহিষ্ণুতা মনুষ্যত্ব,মানবিকতা- এসবের বিপরীতে নেগেটিভ আধান। তার শক্তি অনুযায়ী মানুষের একটি শ্রেণি হয় গতিশীল। শুভবুদ্ধি সম্পন্ন মানুষ মনে করে এগুলো জীবনকে বিপথে চালিত করে। তাই বোধগম্যতার বিচারে পরিত্যক্ত তথা বর্জনীয়। কারণ এই সব নেগেটিভ দিকগুলিই তো জীবনকে পশ্চাৎগামী করে। এরা বিপদের জন্য শত্রু।
*********
তথ্য সমৃদ্ধ। খুব সুন্দর👌👌👌
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর দাদা👌👌💐💐
উত্তরমুছুনDarun darun fata fati
উত্তরমুছুনDarun darun fata fati
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর বলেছেন👌👌
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লেখা
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর
উত্তরমুছুনখুব ভাল লাগল।
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর উপস্থাপনা...💐💐
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুন🙏🙏👌👌
উত্তরমুছুন