শুভ আধ্যাত্মিক আলোচনা-বাসর।
# বিষয় - *আধ্যাত্মিক।*
# নাম-
*বিশ্বাসে মিলায় বস্তু তর্কে বহু দূর।*
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বিশ্বাস মানুষের সামগ্রিক সত্তা। বিশ্বাস মানুষের চৈত্য শক্তির একটি গুণ। যার যত বিশ্বাসের শক্তি তার তত চৈত্য শক্তি। বিশ্বাস ছাড়া জীবনের এক পাও চলার উপায় নেই। এই বিশ্বাসের উৎস কোথায়? এর উৎসে আছে হৃদয়ের এক মহান অদৃশ্য শক্তি। এক মানসিক অবস্থা। মনের এক অভিব্যক্তি। মনের বল আনে। একে আঙুল দিয়ে দেখানো যায় না,যেমন মনকে। মনোলোকের আসনে জ্ঞান,ভক্তি,কর্মে অহরহ সম্পৃক্ত। কথার পিঠে সওয়ার হয়ে প্রাণে প্রাণে,বস্তুতে বস্তুতে,প্রাণে বস্তুতে আসে যায়। এই আসা ও যাওয়ার মধ্যে বিশ্বাসের লীলা চলে। বিশ্বাস আছে যদি হয়,তাকে শক্তিশালী করে বিশ্বাসহীনতা বলে আরেক বিশ্বাসের শরিক। বিশ্বাস ও অবিশ্বাস দুই বিপরীত ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া। বিশ্বাস নিয়ে বাঁচা যেমন সত্য,অবিশ্বাস আরেক সত্য। যা বিশ্বাসের ধারণ করতে সহায়ক। যত অবিশ্বাস তত বিশ্বাস। যত অবিশ্বাস তত বিশ্বাস। এখন এই বিশ্বাস কেমন? একটা উদাহরণ হয়ে যাক- ভগবানেকে যে আহার দেওয়া হয় তিনি যদি সশরীরে খেতেন তাহলে পৃথিবীতে খাদ্যে টান পড়ত। তিনি খান না বলে তাকে খাওয়ার দেখিয়ে খাই। সেই খাওয়ারকে ভক্তিযোগে এক অলংকৃত শব্দ দিয়ে প্রকাশ করি - নাম *প্রসাদ।* ভগবান এই যে সশরীরে খেলেন না,তা থেকে বিশ্বাসের দ্বন্দ্বমূলক ভাববাদে বললাম তিনি আছেন গোপনে,আর দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদে বললাম তিনি যে আছেন বুঝব কী করে,তা থেকে কূট প্রশ্ন,প্রশ্ন থেকে তর্ক। ভগবান আছেন,ভগবান নেই,তিনি যে আছেন বুঝব কি করে? সংশয় থেকে স্বামীজী ঠাকুরের কাছে সংশয় নাশ করেছিলেন। সংশয় নাশ করতে হলে শর্ত ভগবানকে ডাকার মত মনের গভীর ভক্তি ও বিশ্বাস থাকলে তিনি দেখা দেন। ধরা দেন। তাহলে তাকে পেতে হলে চাই বিশ্বাসের শক্তি। এই বিশ্বাসের শক্তি তাঁদেরই বেশী হয় যাঁদের অন্তঃকরণ সরল,অকপট ও ঋজু, বৌদ্ধিক জটিলতাহীন। তবে যাঁরা নিজেদের খুব যুক্তিবাদী,বস্তুবাদী বলে মনে করেন তাঁদের মধ্যে ভগবানে বিশ্বাস আসা বেশ কঠিন। মার্কসবাদীরা বস্তুবাদে বিশ্বাসী বলে ভগবানে বিশ্বাস করেন না,ধর্ম-ভগবানকে আফিমের নেশা বলেন। তবে এও সত্য কোনো বুদ্ধিজীবী যদি বিশ্বাসের অধিকারী হন তাহলে তিনি অত্যন্ত শক্তিশালী হন। কেননা বিশ্বাস আনে ইচ্ছাশক্তি। ইচ্ছাশক্তি থেকে আসে সংকল্পশক্তি। সংকল্প থেকে আসে দৃঢ়তা। আর বিশ্বাসের ফল ইচ্ছাশক্তি, দৃঢ় সঙ্কল্প আসে। এরা বিশ্বাসকে আরো উঁচুতে তুলে ধরে।
বিশ্বাসের সঙ্গে তর্ক জুড়ে বসে কেন? কেন আবার, অবিশ্বাস নিয়ে আসে তার স্যাঙাৎ তর্ককে। ভগবান সশরীরে খান না,যদি খেতেন পৃথিবীতে খাদ্যের টান যদি হত,সচোক্ষে দেখা যেত, তখন ভগবানে বিশ্বাস আনা যেত। কিন্তু তা হয়না বলেই তো এত তর্ক।
বিশ্বাসের ফল কিছু হাতে নাতে লাভ হয়,জল নিচের দিকে গড়ায়,দুয়ে দুয়ে চার,চাকা গড়ালে গতি আসবে,আগুনে হাত দিলে হাত পুড়বে,শরীর চর্চা করলে সুস্বাস্থের অধিকারী হওয়া যায় - এ সব বিশ্বাস থেকে এসেছে জ্ঞান। কিন্তু দইয়ের ফোঁটা নিয়ে পরীক্ষায় বসতে,জোড়া শালিক দেখলে সৌভাগ্য,কামড় খেলে প্রিয়জন মনে করছে বলে ভাবা,ভগবান সব দেখছেন, তাঁরই সংসার- এসব বলা মানে শুধুই তর্ক বাঁধে বিশ্বাস ও অবিশ্বাসের সংশয় থেকে।
তাই যখন আমাদের বিশ্বাসের দৌড় জ্ঞানের সীমাবদ্ধতায় আটকে যায় তখন বিশ্বাসের হাতে ছেড়ে দিয়ে তর্ককে এড়ানোর কথা বলি - *তর্ক বহুদূর!*
অসাধারণ অপূর্ব অনবদ্য ব্যাখ্যা 🙏🙏🙏🙏🙏
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর লিখেছেন দাদা।
উত্তরমুছুনখুবই গুরুত্বপূর্ণ লেখা। অসাধারণ
উত্তরমুছুনখুব সুন্দর যুক্তিপূর্ণ বিশ্লেষণ...💐💐💐
উত্তরমুছুনদারুন।
উত্তরমুছুন