পাওনার পাকে
সুদেষ্ণা দত্ত
অভিরাম বাবুর বাড়ীতে কান্নার রোল উঠেছে।পাড়াপ্রতিবেশীরাও সন্ধ্যা বেলা সেই শুনে ওনার বাড়িতে উপস্থিত।কিছুক্ষন আগেই হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে গত হয়েছেন ব্যবসায়ী অভিরামবাবু।এদিকে অভিরামবাবু দেখছেন দুজন সিং ওয়ালা ষন্ডামার্কা কালো,মোটা লোক তাঁকে কোথাও নিয়ে চলেছে।তিনি বেশ হাল্কা বোধ করছেন,যেন হাওয়ায় ভেসে চলেছেন।চুলগুলো উড়ে এসে মুখে লেগে সুড় সুড়ি দেওয়ায় এমন জোরে হেঁচে উঠেছেন যে লোক দুটো তাকে এক ধমক দিল যাত্রায় ব্যাঘাত ঘটছে বলে।একজন তো বিরক্তিতে বলে উঠল লোকটা কি খেত বলত—সিমেন্ট,না পাথর,নাকি তুলোর বস্তায় জল পড়েছে!এমনিতে বিশাল বপু অভিরামবাবু গজগমনই করেন।লোক দুটো আর এক কালো মোষের মত লোকের সামনে নিয়ে গিয়ে বলল ৪২ নম্বর দ্বারকা নাথ লেনের অভিরাম বাবুকে তারা নিয়ে এসেছে।অভিরামবাবু এতক্ষনে অনুধাবন করলেন তিনি মারা গিয়েছেন এবং যমরাজের সামনে দাঁড়িয়ে আছেন।এদিকে চিত্রগুপ্তেরও ডাক পড়েছে।কিন্তু পক্ককেশ পাকা দাড়ি চিত্রগুপ্ত তাঁর জাবদা খাতা দেখে জানান এ লোক সে লোক নন।তবে ভুল কোথায়! সবার মাথায় আকাশ ভেঙে পড়ে।চিত্রগুপ্ত যম দূতদের বলেন তৎক্ষণাৎ অভিরামবাবুকে মর্ত্যে ফিরিয়ে দিতে হবে।ভুল ধরা পড়ল যখন জানা গেল,মর্ত্যের মত সব জায়গায় অনভিজ্ঞ চুক্তিভিত্তিক কর্মচারী রাখা হচ্ছে।সেই ব্যক্তি স্বল্প শিক্ষিত।তিনি সবটা খেয়াল না করে চিরকুটে লিখে দিয়েছিলেন ৪২,ওটা হবে ৮২।চিত্রগুপ্ত অভিরামবাবুকে জানান মর্ত্যে তাঁর ১১.৫০ টাকা পাওনা আছে।যতদিন না তিনি সে টাকা ফেরত পাচ্ছেন ততদিন তিনি মরতে পারবেন না।অভিরাম বাবু স্বর্গপুরীর অনেক গল্প শুনেছেন।তিনি আর রোজকার তেল,নুনের হিসেব আর গিন্নীর খিটখিটের মাঝে মর্ত্যে ফিরতে চান না।কিন্তু তা বললে শুনছে কে!যমালয়েরও কিছু আইন-কানুন আছে। এদিকে অভিরামবাবু আবার দেহ ধারণ করেছেন।সমবেত লোকজন তা দেখে স্বাভাবিকভাবেই পগার পার।অভিরাম বাবু মাথা চুলকেও মনে করতে পারছেন না কার কাছে তাঁর ১১.৫০ টাকা পাওনা আছে।মোবাইলের দোকানে গিয়ে খোকনকে জিজ্ঞেস করতেই সে কোনো মতে পাওনা নেই বলেই ভয়ে ঝাঁপ নামিয়ে দেয়।ওষুধের দোকানদারও একই ভূমিকা নেন।মুদিখানার দোকানদার রতুকে অনেক কষ্টে বোঝাতে সক্ষম হন তিনি ভূত নন, তিনি জীবিত।কিন্তু ততক্ষণে রতুর দাঁত-কপাটি লেগে গিয়েছে। বাড়ীতে ফিরেও এক অবস্থা।কেউ দরজা খোলে না।শেষে গিন্নীকে একটা দামি শাড়ির টোপ দেওয়াতে দরজা খুললে, তিনি বোঝাতে পারেন তিনি মারা যাননি।এদিকে দিন চলে যায়।তিনি কিছুতেই জানতে পারেন না,কোথায় তাঁর পাওনা আছে।মনে অস্বস্তি চলতে থাকে।প্রত্যহ নানা জায়গায় খোঁজ নেন।গিন্নীও স্বামীর নব জন্ম হওয়ায় তাঁকে আর খিটখিট করেন না।এদিকে গিন্নী যম পুরীর কোন ঘটনাই জানেন না।একদিন তিনি দিবা নিদ্রা দিচ্ছেন মনে করে গিন্নী পাশের বাড়ীর রমলা বৌদিকে একটা শাড়ী দেখিয়ে গল্প করছেন যে,ভাই চারদিকের যা পরিস্থিতি দোকান বাজার যাওয়া তো বন্ধই হয়ে গিয়েছে।তাই অনলাইনে এই শাড়ীটা কিনেছি।ডেলিভারি চার্জ নিল ১১১.৫০টাকা।কর্তাকে না বলে কোনদিন একটা টাকাও এধার ওধার করিনি।কিন্তু এই মাগ্গি গণ্ডার বাজারে চাইতে কেমন লজ্জা করল।তাই ১১.৫০ টাকা ওনার পকেট থেকেই দিলাম।আঁতকে উঠলেন অভিরামবাবু।ভাবলেন যমরাজ শুনতে পেলেন না তো!পরক্ষণেই ভাবলেন এই টাকা তো পাওনা নয়,এই টাকার উপর স্ত্রীর অধিকার আছে।তিনি জানেন যে এই টাকা তিনি কোন দিনই ফেরত পাবেন না।একেই যদি চিত্রগুপ্ত পাওনা বলেন,তবে এজন্মে আর তাঁর মৃত্যু হল না।মনের ভার লাঘব হয়েছে এতদিনে।জোরে জোরে নাক ডাকতে লাগলেন অভিরাম বাবু।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য--গুগুল

দুর্দান্ত লিখেছো সু 💕🌷🎉
উত্তরমুছুনদারুণ দারুণ
উত্তরমুছুনBesh bhalo
উত্তরমুছুনGolpo plot gulo sotti valo. 💗
উত্তরমুছুন☺️☺️☺️... Darun...
উত্তরমুছুনকি অপূর্ব লেখা ।নতুনত্ব খুঁজে পেলাম ।❤❤
উত্তরমুছুনদারুণ!দারুণ! অসাধারণ লিখেছিস। 👌👌👍👍❤❤❤⚘⚘⚘
উত্তরমুছুন