বুধবার, ৩০ জুন, ২০২১
# নাম-দুর্নীতি। ✍ মৃদুল কুমার দাস।
মঙ্গলবার, ২৯ জুন, ২০২১
#নাম- মানবিকতা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
শুক্রবার, ২৫ জুন, ২০২১
#নাম- বিখ্যাত জীবন ও জীবন বিখ্যাত। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বৃহস্পতিবার, ২৪ জুন, ২০২১
#নাম -ক্ষান্তবাদ।✍ - মৃদুল কুমার দাস।
সোমবার, ২১ জুন, ২০২১
# পিথাগোরাস,জন্মকথা, বিবর্তন,মা ও নবজাজাতকের যত্ন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
শুক্রবার, ১৮ জুন, ২০২১
# নাম- সম্পর্ক ও জীবন। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ১৬ জুন, ২০২১
#নাম- আষাঢ়স্যদিবসা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস
#নাম- জামাইষষ্ঠী।✍ - মৃদুল কুমার দাস।
#গল্প-জামাই আদর #কলমে-সোমা দে।
রবিবার, ১৩ জুন, ২০২১
স্বর্গে করোনা(রম্য রচনা)সুদেষ্ণা দত্ত
স্বর্গে করোনা (রম্য রচনা)
সুদেষ্ণা দত্ত
মহিষাসুরের পর এক নতুন অসুরের আবির্ভাব হয়েছে—করোনাসুর।স্বাভাবিকভাবেই দেবতাকুলের সঙ্গে তার মোটে সদ্ভাব নেই।তারপর আবার এই অসুর দেবতাদের ভক্ত মানে বেছে বেছে মানুষগুলোকেই ধরছে।দুর্গার বাহনকে ধরতে গিয়েছিল,কিন্তু তার কেশর ফোলানোয় ব্যাটা ভয় পেয়ে গিয়েছে। এদিকে কে তাকে আগে দমন করে সেরার শিরোপা পাবে,তা নিয়ে গোষ্ঠীদ্বন্দ্ব। অশ্বিনী কুমার আবার বলেছেন,মাস্ক না পড়লে,হাত না ধুলে, ভ্যাক্সিন না নিলে এবং সামাজিক দূরত্ব বজায় না রাখলে, এই অসুরকে দমন করা মুস্কিল হি নেহি,নামুমকিন।
দেবরাজ ইন্দ্রের এখন গুরুত্ব অনেক কমে গিয়েছে।মানবকুল আর বিশেষ ডাকাডাকি করে না।তাই মাঝে মাঝেই ইদানীং মানবকুলকে জব্দ করার জন্য বজ্রপাত ঘটাচ্ছেন।তবে ভিড় এড়িয়ে তিনি থাকতে পারেন।কিন্তু যেহেতু দেবরাজ,কিছু দায়িত্ব তো থেকেই যায়।তাই আজ অমরাবতীতে চলছে দেব—দেবীদের ভ্যাক্সিনেশন।সামাজিক দূরত্ব বিধির দিকে নজর রাখার দায়িত্ব পড়েছে মিত্রের উপর।তিনি সবাইকে নিয়ে চলতে পারেন।
প্রজাপতি ব্রহ্মা বয়োজ্যেষ্ঠ বলে তাঁকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।হঠাৎ মিত্র শুনতে পান ‘নারায়ণ নারায়ণ’ ধ্বনি।চমকে ওঠেন আর ভাবেন ঝামেলা লাগল বলে!কারণ ইতিমধ্যে মা মনসা পুরোনো স্বভাব মত ফাঁকতালে লাইনে ঢোকার চেষ্টা করছিলেন।আবার ইন্দ্র বলে ওঠেন, “আমার বাড়ীতে ভ্যাকসিনেশনের ব্যবস্থা হয়েছে,আমার কিছু বাড়তি সুবিধা পাওয়া উচিত।আমাদের সাথে অপ্সরাদেরও ভ্যাকসিন হোক,নাহলে আমি নাচ দেখব কি করে!”মনসা মনে মনে ভাবেন, “পুরুষ মানুষ চিতাতেও সোজা হয় না বাপু।সবাই প্রাণ ভয়ে মরচে,আর ইনি একেবারে রসে টইটম্বুর—নাচ দেখবেন”!যথারীতি ঝামেলা লেগে গেল।মিত্র কুপন ধরিয়ে সবাইকে নির্দিষ্ট সময় বেধে দিলেন।তাতে ঝামেলা কিছুটা মিটল।কিন্তু এবার সমস্যা দেখা দিল অগ্নিদেব আর বরুণ দেবকে নিয়ে।অশ্বিনীকুমার অগ্নিদেবকে ভ্যাক্সিন দিতে নারাজ।তিনি অগ্নিদেবকে ভ্যাক্সিন দিতে গেলে জ্বলে—পুড়ে যাবেন।তখন রফা হল অগ্নিদেবকে ভ্যাক্সিন দেওয়ার সময় বরুণ দেব তাঁর কাজ করবেন,আবার বরুণ দেবের বেলায় ঠিক উল্টোটা—নাহলে ওনার ভ্যাক্সিন শরীরে প্রবেশের আগেই ধুয়ে যাবে।
এদিকে মহামায়াদের আসার সময় হয়ে গিয়েছে।কিন্তু তাঁদের দেখা নেই।গনু আগেই কুপন নিয়ে গিয়েছে।হঠাৎ একটা বুলেট এসে দাঁড়ায়।কেতোর বুলেট থেকে নামলেন মহামায়া।কিন্তু ভোলানাথ নামতে গিয়ে ছেঁড়া বাঘ ছাল সাইলেন্সারে আটকে সোজা পপাত চ,মমার চ !মহামায়া খেঁকিয়ে বললেন, “কতবার করে বললাম নতুন বাঘ ছালটা পর।কিন্তু বুড়ো শুনলে তো!বলে কিনা বাড়ী ফিরে ওটাকে বাতিল করবেন,তাই নতুন পরে আর কাচাকাচির ঝক্কিতে যাবেন না।এদিকে ধুলো,মাটিতে পড়ে ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ধরে আর কি”!হঠাৎ নারদ বলে ওঠেন, “না মা ও ভয় আপনি করবেন না।বাবা তো সবসময় ওই ছাইভস্মই মেখে থাকেন।ব্ল্যাক ফাঙ্গাস ভয়ে পালাবে”।মহামায়া তৃণয়ন দিয়ে নারদকে ভস্ম করতে যাচ্ছিলেন,এদিকে বাবারে,জ্বলে গেল রে,বলে চেঁচিয়ে ওঠেন মহাদেব।সাইলেন্সারে বেশ খানিকটা পা পুড়ে গিয়েছে বাবার।সিলভার এক্স লাগিয়ে দিলেন জামাই নারায়ণ।
আজ কেতো বেশ কেত মেরে বাবরি চুলে জেল লাগিয়ে ডেনিমের প্যান্ট শার্ট পরে এসেছে।ময়ূরে চেপে এলে তিনজনে আসতে পারতেন না।এদিকে পেট্রোল,ডিজেলের যা দাম!কিন্তু মহামায়ার অনেক দিনের বাসনা কেতোর আইবুড়ো নাম ঘুচুক।আজ যেহেতু ১৮ বছর বয়স থেকে সকলেই ভ্যাক্সিন নিতে পারবে,তাই অমরাবতীতে নিশ্চয় সুন্দরী মেয়েদের বন্যা বয়ে যাবে!তাই অনিচ্ছাসত্ত্বেও কেতোকে কিছু বলেননি।এদিকে কেতোকে দেখে প্রমীলা বাহিনী খুব ঝাড়ি মারছে।যা ঝাক্কাস হয়ে এসেছে,তায় এলিজেবেল ব্যাচেলর।তাই আজ কেতোর টি.আর.পি একেবারে রাজ্যসরকারের দেনার মতোই চড়চড় করে বাড়ছে।মহামায়ার বাকি ছেলেমেয়েরাও নিজের নিজের বাহনে এসে গিয়েছেন।লক্ষ্মী—সরস্বতী চিন্তা করছেন কোন ভ্যাক্সিন নেবেন কোভিশিল্ড না কোভ্যাক্সিন।অনেকেই বলছেন কোভ্যাক্সিন বেশি ভাল।এদিকে পুজোয় মামা বাড়ী গেলে কোভিশিল্ড না নিলে যদি আবার স্বর্গে ফেরার উপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।অগত্যা কোভিশিল্ড নেওয়ার সিদ্ধান্ত।
ইদানীং গনু দুই বোনের বুদ্ধিতে মাস্ক,স্যানিটাইজারের দোকান দিয়েছে।কারণ কেতো ফুলবাবু, এদিকে বুলেটে পেট্রোল চাই ফুল ট্যাঙ্কি!স্বরস্বতীর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ থাকায় অভিভাবকরাও তাঁকে বিশেষ গুরুত্ব না দেওয়ায় আয় কমেছে।লক্ষ্মী ইদানিং একটা কোম্পানির ফিন্যান্স এডভাইজার নিযুক্ত হয়েছিলেন।কিন্তু ওয়ার্ক ফ্রম হোমের চক্করে তাঁর বেতনেও কোপ পড়ছে।তাই এই ভাবনা!দেবদেবীদের একাধিক হাত হওয়ায় স্যানিটাইজারের বাজার খুব ভাল।সমস্যা দেখা দিচ্ছে মাস্ক নিয়ে। ব্রম্ভা,কালী ,এমনকি গনুর নিজের জন্যও বিশেষ কায়দায় মাস্ক বানাতে হয়।মা কালী ফলহারিণী অমাবস্যার জন্য মর্ত্যে গিয়েছেন তাই আজ ভ্যাক্সিন নিতে আসতে পারেননি।নাহলে গনু,মা কালীর বিশেষ অর্ডার দেওয়া মাস্ক এখানেই দিয়ে দিতেন।
মা কালী দিন দুই হল মর্ত্য থেকে ফিরেছেন।তিনি জানেন গনু খেতে খুব ভালোবাসে আর অর্ডারী মাস্কও নেওয়ার আছে।তিনি মর্ত্য থেকে প্রচুর ফল,মিষ্টি এনেছেন।গনু এসে বলে বাপরে মাসী তোমার ঘরে পচা ফলের গন্ধে তো টিকতে পারছি না।মা কালী হেসে বলেন,তোর লম্বা শুঁড় তো,তাই তুই বেশি গন্ধ পাচ্ছিস।আমি তো কোন গন্ধই পাচ্ছি না রে গনু।গনু বলে গন্ধ পাচ্ছ না মানে!তবে কি....! বলেই দে দৌড়!ফ্যালফ্যাল করে মা কালী গনুর গমন পথের দিকে চেয়ে থাকেন।
ভক্তের ভগবান কি ভক্তের ডাক উপেক্ষা করতে পারেন!এই মহামারীর সময় নিজেরা সুরক্ষিত থাকুন,আর আমাদের দেব-দেবীদেরও শান্তিতে থাকতে দিন।মনে মনেই তাঁদের স্মরণ করুন।অযথা তাঁদেরও বিপদ বাড়াবেন না।নাহলে আমাদের রক্ষা করার কেউ থাকবেন না।মাস্ক,স্যানিটাইজার আর সামাজিক দুরত্বই হোক আপনার সুস্থতার চাবিকাঠি।
নিছক মজার উদ্দেশ্যে এই লেখা।কারোর ধর্মীয় আবেগকে আঘাত করা এই লেখার উদ্দেশ্য নয়।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য:গুগুল
শনিবার, ১২ জুন, ২০২১
বৃহস্পতিবার, ১০ জুন, ২০২১
De Ja Vu (ছোটোগল্প)
(C) All rights reserved for Subhrajit Chakravorty
বুধবার, ৯ জুন, ২০২১
# নাম- বজ্রগর্ভ প্রকৃতি। ✍ - শূদ্র।
সোমবার, ৭ জুন, ২০২১
রামায়ণে গন্ডগোল। (রম্যরচনা ) কলমে -- পারমিতা মন্ডল।
হনুমানের হতাশা(সুদেষ্ণা দত্ত)
হনুমানের হতাশা
সুদেষ্ণা দত্ত
রম্য রচনা
রাম—রাবণের কূটনীতিতে আমি হয়ে গেলাম ক্ষুদিরাম।লঙ্কায় আগুন ধরাতে গিয়ে লাভ তো কিছুই হল না।মাঝখান থেকে এখনও মুখপোড়া বদনাম নিয়ে ঘুরছি।ব্যাটা রাবণটার দশ মাথার বুদ্ধির সঙ্গে আমি এঁটে উঠব কেন!দিল আমার লেজে আগুন দিয়ে।লঙ্কা তো আমার চেনা জায়গা নয়,ধুত্তোর রামায়ণের যুগ!না আছে স্মার্ট ফোন,না আছে জিপিএস—খুঁজে পাব কি করে নদী, নালা,ঝর্ণা।বোকা আমি দিলাম লেজকে মুখে ঢুকিয়ে।উরিবাবা সে জ্বালা বলে বোঝানোর নয়।তোমরা যখন ঝাল লঙ্কার পকোড়া খেয়ে,তার উপর চা খেয়ে হুসহাস কর,এ তার থেকেও অনেক বেশি।মনে হচ্ছিল সিলভারএক্স খেয়ে ফেলি।
বাপ কা বেটা সিপাহীকা ঘোড়া।রাবণের ছেলেটাও হয়েছে বাপের মতই বজ্জাত।কোথায় রামরা তোদের অতিথি,আতিথেয়তা করবি—বৈদেশিক সম্পর্কের উন্নতি হবে।দুটো পয়সা আসবে!তা না দিল লক্ষণকে শক্তিসেল মেরে।কে ওষুধ জোগাড় করবে!না,ছাই ফেলতে ভাঙা কুলো হনুমান!আবার পাড়ি অন্ধকারে অজানার উদ্দেশ্যে বিশল্যকরনী আনতে।আবার শর্ত আলো ফুটলে হবে না।পারবে না এই হনুমান।নিজেরা গেলেই তো পারতিস।রাম ছিল কিন্তু রামদেব তো ছিল না।এদিকে আমি কি ছাই বিশল্যকরনী চিনি!গায়ে গতরে খাটতে পারি তুলে নিলাম গন্ধমাদন।এদিকে সূর্যদেব উঁকি মেরেছেন।নিলাম বগলদাবা করে।সারা শরীর জ্বলে যাচ্ছে।গন্ধমাদনকে গ্যারেজ করে আমি ওষুধের দোকানে গেলাম।ও ব্যাটারাও কম নয় প্রেসক্রিপশন ছাড়া একটি ওষুধও দিল না।এদিকে আগেই বললাম রামদেব না থাকায় এন্টি বার্ন কোন ভেষজ গন্ধমাদনে ছিল কিনা তাও জানি না।আবার না ছিল পার্লার তাই কেমিক্যাল পিলিং টিলিং কি সব হয় তাই দিয়ে মুখটারও একটু বিউটিফিকেশন হল না। তোমরা তো বাপু খুব সঙ্কটমোচন,সঙ্কট মোচন কর।কিছু ওষুধ বিষুধ দাও বাপু যাতে জ্বালা পোড়াগুলো একটু কমে।
©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।
ছবি সৌজন্য--গুগুল
মহাকাব্য বিকৃত করার ধৃষ্টতা বা ইচ্ছা কোনোটাই আমার নেই।শুধু মজার জন্য লিখলাম।কেউ কিছু মনে করবেন না।কাউকে আঘাত করার উদ্দেশ্য আমার নয়।
রবিবার, ৬ জুন, ২০২১
#সুন্দরবন অভিযান #কলমে -সোমা দে।
মান্ডবী~অনিশা
শুক্রবার, ৪ জুন, ২০২১
#বিষয় - রম্যরচনা। # নাম- কৈশোর কেল্লা। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
বুধবার, ২ জুন, ২০২১
# নাম- রাজা রামমোহন রায় ও সংস্কারক। ✍ - মৃদুল কুমার দাস।
ভৌকাট্টা~অনিশা
# বিষয় - ছবি দেখে লেখা
# নাম- ভৌকাট্টা
# কলমে - অনিশা
"কষ্ট পেলে কেষ্ট মেলে", মায়ের বলা কথাটা ঘুড়ির মাঞ্জার সুতোয় হাত কেটে যাওয়ার পরে পলি বুঝল।
কলকাতায় মামার বাড়ি পড়তে এসে সে দেখল এখানে সবাই বিশ্বকর্মা পূজোর দিন ঘুড়ি ওড়ায়। পলির ছোটবেলাটা কেটেছে গ্রামের বাড়িতে। বেশ ভালো রকমের ডানপিটে অথচ মিষ্টি স্বভাবের মেয়ে সে। মিষ্টি স্বভাবের জন্য ডানপিটে হওয়া সত্বেও বকাবকি বেশী খেতে হয়নি কোনদিন। স্কুলে যেদিন অ্যানুয়াল পরীক্ষা শেষ হতো সেদিন থেকেই অঘোষিত ঘুড়ির লড়াই শুরু হয়ে যেত। সবার পরীক্ষা চলত, তাই কারুর ঘুড়ির সুতোই মাঞ্জা দেওয়া থাকত না। কয়েক দিনের মধ্যেই মাঞ্জা দেওয়া সুতো তৈরী। এরজন্য ও বন্ধুরা পলির দ্বারস্থ হতো। তখন সহজেই এত কাঁচের গুঁড়ো যোগাড় করা সহজ ছিল না। প্রয়োজনে পলি নিজের মেলা থেকে কিনে আনা কাঁচের চুড়ি গুলো ও ভেঙে ফেলত। কাটাকুটির খেলায় তাকে হারানো এত্ত সহজ নয়।
সেই পলি মামার বাড়িতে এসে এত তাড়াতাড়ি পাল্টে গেল? সবাই মিষ্টি স্বভাবটাই দেখতে পায়, ডানপিটে স্বভাব আর নেই। আসলে বেচারী কলেজ আর বাড়ির পড়াশোনা করতে করতেই হাঁফিয়ে ওঠে। বদ্ধ ফ্লাটে আর কি বা করবে!
কলেজে গিয়ে জানতে পারল এখানে বিশ্বকর্মা পূজোর দিন খুব ঘুড়ি ওড়ানো হয়। তাই বন্ধুরা কয়েক জন ঠিক করেছে অদ্বিতীর বাড়ি দুপুরে থাকবে। বিকেলে ওদের ছাদ থেকে পাড়ার সবার ঘুড়ি ওড়ানো দেখে সন্ধ্যার দিকে বাড়ি ফিরে আসবে। মামার কাছে পারমিশন নিয়ে পলি গেল অদ্বিতীর বাড়ি। সব বন্ধুরা এসে গেছে। পলিই সবার শেষে পৌঁছাল। ওদের বাড়িতে সবার সঙ্গে আলাপ পরিচয় হলো। অদ্বিতীর বাবার খুব ভালো লেগেছে পলিকে। বললেন, "মুখে কেমন সরলতার ছাপ। সদ্য গ্রাম থেকে এসেছে তো, তাই!" অদ্বিতী মজা করে হেসে বলল "হুম্, বলো গাঁইয়া।" অদ্বিতীর দাদা অনিমেষ বলে উঠলো, "স্টপ দিস ননসেন্স! সি ইজ্ সো ইনোসেন্ট!" একটু থমথমে হয়ে গেল পরিবেশটা। আসলে পলি জানে, বন্ধুরা পিছনে সবাই ওকে গাঁইয়া বলে।
দুপুরের খাওয়া দাওয়া শেষ হলে সবাই একটু ঘরে বসে আড্ডা দিল। তারপর ছাদে। ছাদে অদ্বিতীর দাদার বন্ধুরাও হাজির ঘুড়ি, লাটাই নিয়ে। তারপর শুরু হলো ঘুড়ির লড়াই।
আশেপাশে অনেক বাড়ি থেকেই ঘুড়ি উড়ানো হচ্ছে। অনিমেষ নিজে ঘুড়ি ওড়াতে পারে না। বন্ধুদের ইচ্ছেতেই ঘুড়ির লাটাই হাতে। কিন্তু প্রতিবেশীরা ছাড়বে কেন! একটার পর একটা ঘুড়ি কাটা যাচ্ছে। আর পাশের বাড়ির ছেলে মেয়েরা আনন্দে চিৎকার করছে, হুইসেল বাজাচ্ছে। পলির হাত নিশপিশ করছে। ভাবছে একবার যদি হাতে সুতো পাই, তবে ওদের এক্ষুনি চুপ করিয়ে দেব। এই হেরে যাওয়া দেখতে দেখতে ওদের বন্ধুদের আড্ডাও আর জমছে না। হঠাৎ অদ্বিতী বলে বসল, "এই যে গ্রামের মেয়ে। নিশ্চয়ই ঘুড়ি ওড়াতে পারিস!" অনিমেষের বন্ধুরাও শুনতে পেয়ে পলিকে অনুরোধ করল একটু সাহায্য করার জন্য। পলিও এই হেরে যাওয়া সহ্য করতে পারছিল না। যেন শুধু এই অনুরোধটুকুর অপেক্ষায় ছিল। এরপর পলির হাতে সুতো, আর অনিমেষের হাতে লাটাই। তার মন ফিরে গেল সেই ছোটবেলায়। সদ্য কিশোরীর মতো তার হাত সুতো টানছে, ছাড়ছে, খুশীতে লাফাচ্ছে। আর অনিমেষ! মুগ্ধ হয়ে তা দেখছে। হঠাৎ ভৌকাট্টা! আবার একটু পরেই আবার ভৌকাট্টা! এবাড়ির ছাদে তখন আনন্দোৎসব। বাড়ির সবাই ছাদে এসে গেছে।
কিন্তু পাশের বাড়ির পরাজিত সৈনিকরা এত সহজেই ছেড়ে দেবে? শুরু হলো সুর করে টিপ্পনী কাটা। "কে তুমি পল্লিবালিকা, বাঁচালে ওদের গ্রাম থেকে এসে!!" "কে তুমি নন্দিনী, আগে তো দেখিনি!" রাগে গর্জে উঠলো অনিমেষ। অনেক হয়েছে, দরকার নেই কারুর ঘুড়ি ওড়ানোর। পলির হাত থেকে কেড়ে নিতে গেল সুতো। আর মাঞ্জা দেওয়া সুতোয় পলির নরম হাত কেটে রক্ত বেরিয়ে গেল। ছুটে এসে ওর রক্তাক্ত হাতটা ধরে ফেলল অনিমেষ। পলি দেখল অনিমেষের চোখে জল। সেই চোখে অনুশোচনা, আবেগ ও ভালোবাসায় একাকার হয়ে গেছে।
তখনই মনে পড়লো মায়ের কথা। ভাবতেই মনে মনে লজ্জা পেল সে। ঈশ্, কে আমার কেষ্ট ঠাকুর রে!
ঘুড়ির চিঠি (অণুগল্প)-শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী
বিষয়:অণুগল্প
কলমে: শুভ্রজিৎ চক্রবর্তী
ঘুড়ির চিঠি
ঘুড়ি কেটে গেলে কেউ খুশি হয়, সেটা অজয় কে দেখেই প্রথম জানলো পারমিতা। "আন্টি, আজকে আবার আমার ভোঁ কাট্টা গেছে" বলে একটা নির্মল হাসি দেয় অজয়। বছর আটের অজয়কে এর আগে কোনদিন জিজ্ঞেস করা হয় নি পারমিতার যে এতে খুশির কি হয়েছে।
কিন্তু আজকে যখন কারণটা জানতে পারলো, পারমিতার হৃদয়টা মোচড় দিয়ে উঠলো। অজয়ের মা, সুনীতা পারমিতার ঘরে কাজ করে গত ৪ মাস ধরে। এক হাজার টাকা মাইনে বাড়াতে, ছ-শো টাকাতে ঘর মোছার কাজের লোক হিসেবে সুনীতাকে রেখেছে পারমিতা। বেসরকারি স্কুলে পড়িয়ে যৎসামান্য মাইনে পায় পারমিতা। অল্প বয়সে বিধবা হলেও, আর বিয়ে করতে পারেনি সে। স্বামী জয়দীপের জায়গায় কাউকে কল্পনা করতে পারেনি সে। জয়দীপের কেনা ফ্ল্যাটেই থাকে পারমিতা। অজয়কে দেখে কিরকম একটা মায়া জেগে উঠেছিলো তার মনে।
সুনীতার সাথে প্রায় দিনই অজয় আসে পারমিতার ফ্ল্যাটে। ওর চোখে মুখে একটা দ্যুতি আছে। একটা বুদ্ধিদীপ্ত চাউনি আছে। পারমিতা জিজ্ঞেস করে, "ঘুড়ি ভোঁ কাট্টা গেলে কি হয়?" চোখ মুখ নাচিয়ে অজয় উত্তর দেয়, "ও মা! তুমি জানোনা বুঝি? এত বড়ো হয়েছে আর এটাও জানোনা?" পারমিতার চোখে করুণা মাখা হাসির চমক দেখা যায়। মাথা নাড়িয়ে পারমিতা না বলে। "আরে, ঘুড়ি যখন কেটে যায়, সেটা আকাশে মিলিয়ে যায়। আমার বাবা আকাশে চলে গেছে তো, তাই আমি ঘুড়িতে বাবাকে চিঠি লিখি। তাড়াতাড়ি আসার জন্য বলি আর আসার সময় খাসীর মাংস নিয়ে আসতে বলি।" শুনে পারমিতা চোখের জল ধরে রাখতে পারেনা। "তুই খাসীর মাংস খেতে ভালোবাসিস?"- জিজ্ঞেস করে পারমিতা । "হ্যাঁ গো, খুব ভালবাসি " - বলে সম্মতি জানায় অজয়।
"আমি জানি, আমার জন্মদিনের আগে বাবা নিশ্চয়ই আসবে" যোগ করে অজয়। পারমিতা ঠিক করে, যে ভাবেই হোক, অজয়কে একদিন ও খাসীর মাংস খাওয়াবে।
কিন্তু ঢাকুরিয়ার দু কামরার ফ্ল্যাট বাড়ির সোসাইটির বিল দিতেই পরমিতা হিমশিম খাচ্ছে। তবুও ভাবে, "নিজের সন্তান হলে কি করতাম"? টাকা বাচিয়ে একদিন খাসীর মাংসের আয়োজন করতে হবে। তিনটে প্রাণী খাবে। পাছে ভয় পায় পারমিতা, ছোট্টো শিশুর মনে আবার করুণার ভিক্ষে ভেবে দুঃখ না হয়। ছক কষে পারমিতা, বাবার পাঠানো মাংসই খাবে অজয়।
মাইনে পেয়ে এক কেজি খাসীর মাংস আর একটা ঘুড়ি কেনে পরমিতা। ঘুড়িতে লেখে "বাবা অজয়, আমি জরুরী কাজে আটকে আছি, আসতে দেরি হবে। তোমার জন্য মাংস পাঠিয়েছি, খেয়ে নিও। আমি এলে আবার আনবো মাংস।" কিন্তু সেদিন সুনীতা একা কাজে এলে পারমিতা জানতে পারে যে অজয়ের জ্বর হয়েছে। পারমিতা ঠিক করে যে মাংস বানিয়ে নিজেই নিয়ে যাবে অজয়ের কাছে।
বিকেল বিকেল মাংস নিজের হাতে রান্না করে ঘুড়ি হাতে নিয়ে পারমিতা চলে যায় পাশের পঞ্চানন তলার বস্তিতে। খুজে পেয়ে যায় সুনীতার ঘর। ছোট্টো দশ বাই দশের ঘর, ঘরে আসবাব বলতে শুধু একটা খাট। খাটের তলায় রান্না - খাওয়ার জোগাড় । খাটের ওপর সুনীতা বসে আছে। কোলে মাথা রেখে শুয়ে আছে ছোট্টো অজয়। "অজয়, উঠে দেখ আমি কি এনেছি। তোর বাবা ঘুড়ি পাঠিয়েছে, কিন্তু ভুল করে সেটা আমার ঘরে চলে এসেছে। সাথে খাসীর মাংসও পাঠিয়েছে। তাড়াতাড়ি ওঠ । আজকে আমিও তোর সাথে খাবো ।" অজয় সাড়া দেয় না। সুনীতার চোখে শীতল চাউনি। স্থির চক্ষু। কোলে শুয়ে আছে অজয়ের নিথর দেহ। জাপানিস এনকেফেলাইটিসের প্রকোপে দুদিনের জ্বর থেকে আর উঠতে পারেনি অজয়। চলে গেছে ওর বাবার কাছে, আকাশের দেশে, যেখানে যেতে পারে শুধু ঘুড়ির চিঠি।
সমাপ্ত
All rights reserved for © Subhrajit Chakravorty
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস
শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...
-
ঘোষ বুড়ী ©সুদেষ্ণা দত্ত গ্রামের নাম সুন্দরগ্রাম--বাংলা মায়ের কোল ঘেঁষা সুজলা,সুফলা,শান্তির নীড় ঘেরা এক গ্রাম।গ্রামের অধিকাংশ লোকই কৃষি...
-
আমার অকাজের লিস্টি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস ২০২৫ এ পড়ে ফেলা বইগুলোর তালিকা তৈরী করেই ফেললাম। ভিন্ন স্বাদের সব বইগুলো। মন ভালো করে দেয়। তালিকা...
-
অণু গল্প ----সাথী হারা। কলমে-- পারমিতা মন্ডল। দীঘার সমুদ্রে একা একা হেঁটে চলেছে সৈকত । এই বালুকাবেলায় , রামধনু রং আকাশের দিকে তাকিয়ে মনটা বড়...


