#বিষয় - *জীবন যেরকম।*
#নাম -
বিখ্যাত জীবন ও জীবন বিখ্যাত।
✍ - মৃদুল কুমার দাস।
*"এ জীবন লইয়া কী করিব,এ জীবন লইয়া কী করিতে হয়।"* - এই কথাগুলি বঙ্কিমচন্দ্র বলেছিলেন। জীবন কেমন হওয়া উচিত যে যার নিজের জীবন সম্পর্কে জ্ঞান লাভ থেকে তার জীবন সেরকম হয়। প্রত্যেক জীবনের একটা দার্শনিক উপলব্ধি থাকে। যেমন-
জীবন মানে আর ক'দিন,যাকিছু এ জীবনেই আছে,পরজন্ম বলে কিছু নেই।
জীবন ও মৃত্যু আয়ুর এপার ও ওপার।
জন্মেছ যখন মৃত্যু একদিন হবে। মৃত্যুকে এতো ভয় কেন!
জীব সেবা শিব সেবা।
এমন কত কথাই না দার্শনিক আধারে জীবনকে তুলে ধরা হয়। জীবন দর্শনের মোড়কে ধরা থাকে,যেমন দেহ ত্বকের মোড়কে। সুন্দর ত্বক সুন্দর দেহ সৌষ্ঠব। সুন্দর দর্শন সুন্দর জীবন।
আবার এমনও বলা যায় জীবন মানেই দার্শনিক পাত্রে তেল বা জলের মত তরল পদার্থ। যে পাত্রেই রাখো সেই পাত্রের আকার নেবে।
সেই ধারায় এও এক দার্শনিক উপলব্ধির কথা - জীবন বিখ্যাত মানেই সুখ ও শান্তির জীবন। মৌলিক অধিকার নিয়ে জীবন সুন্দর। পারিবারিক সুখের জীবন। পারিবারিক সুখ ও শান্তি যার যার নিজস্ব। সে জীবনের কোনো বিখ্যাত হওয়া লাগে না। জীবন তার বিখ্যাত।নিজস্ব বৃত্তে যে যার শ্রেষ্ঠত্ব অর্জন করে দিন যাপন করে।
কিন্তু বিখ্যাত হতে গেলে ( বঙ্কিমচন্দ্র, রবীন্দ্রনাথ,শরৎচন্দ্র...) অনুশীলন চাই। জীবনে ফাঁকি দিয়ে কোনোদিন বিখ্যাত হওয়া যায় না। একজন লেখক না হয়েও লেখা পড়ার জন্য বিখ্যাত হওয়া যায়। লেখা পড়ায় তার আনন্দ। আর লেখকের অনেক দায়,ভাল লেখক হওয়ার। ভাল লেখক না হলে বিখ্যাত লেখক হতে পারবেন না। ফাঁকি দিয়ে বিখ্যাত হওয়া যায় না। বালজাক,তলস্তয়,ডিকেন্স,দস্তয়ভস্কি বিখ্যাত হয়েছেন লেখাকে ঘিরে প্রথম পশ্ন দিয়ে - 'কী লিখব?' গুস্তেভ ফ্লবেয়ার বলতেন 'কেমন করে লিখব?' এই প্রশ্নেই এদের বিখ্যাত হওয়া লুকিয়ে ছিল। যেমন আমাদের বঙ্কিমচন্দ্রের জীবন সম্পর্কে প্রশ্নই আমাদের জীবনকে এক লহমায় চিনিয়ে দেয়। জীবন নিয়ে যদি বঙ্কিমচন্দ্রের মত ভাবতে না শিখি তাহলে বিখ্যাত হওয়া,নিজেকে চিনতে না পারার অনেক দুর্বলতা থেকে যাবে। জীবন বিখ্যাত তার ন্যায়,নীতি,মূল্যবোধে। আর বিখ্যাত হওয়ার জন্য চলার অর্থ অন্য।
জীবন বিখ্যাত সবার,জীবনানুরাগী বলে- সবার উপরে মানুষ শ্রেষ্ঠ বলে। কিন্তু জীবন নিয়ে বিখ্যাত জীবন হতে গেলে অনেক পথ অতিক্রম করতে হয়। ঈশ্বরের কৃপার উপর অনেকে বিশ্বাস করে। মহামানব,মহান মণীষীর শিরোপায় তখন বিখ্যাত জীবনের জন্ম হয়। মানুষের দুবার জন্ম হয় - মানুষ মাত্রেই জন্মালে বিখ্যাত বা শ্রেষ্ঠ মান ও হুশের জন্য। আর দ্বিতীয় জন্ম তাকে বিখ্যাত হতে হয়। দেশে মানুষেমাত্রেই বিখ্যাত হওয়ার অভাব নেই,কিন্তু বিখ্যাত মানুষের অভাব আছে। সবাই বলতে পারে,লিখতে পারে ক'জন। তাই জীবন বিখ্যাত। কিন্তু বিখ্যাত জীবন লাভের জন্য চাই অনেক মেহনত।
ধন্যবাদ। শুভেচ্ছা।
*********
# কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।
অসাধারণ লেখা
উত্তরমুছুনসম্পূর্ণ সহমত দাদা।দারুন লেখা।
উত্তরমুছুনদারুণ বলেছেন 👏👏👏👏
উত্তরমুছুনঅসাধারণ বিশ্লেষণ...💐👌
উত্তরমুছুন