বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

#নাম-হাতে হাত।✍️ - মৃদুল কুমার দাস।


  
  # নাম - *হাতে হাত।*
 ✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

     মাথায় হাত দিয়ে বসা অর্থে সর্বহারা,কেউ মাথায় হাত বোলাল মানে বোকা বানাল,মাথায় হাত দিয়ে কিছু জটিল মীমাংসার মনোসংযোগ,মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ...- এসব ব্যবহারিক জীবনকে অর্থবহ করতে হাত ও মাথার বিভিন্ন উপসর্গ।
   হাত পায়ে গেলে পায়ে ধরা তথা দয়া ভিক্ষা করা,পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা...এও জীবনের এক দশা। 
 আর হাতে হাত মেলালে করমর্দন  এক শিষ্ট আচার,হাতে হাত অর্থে দৃঢ় বন্ধন,হাতে হাত রাখা ভরসা দান,আর বন্ধুত্বে হাতে হাত রেখে চলা,বর কনের হাত ধরলে এক কথায় বলে পাণিগ্রহণ বা বিবাহ। শিশুর হাত আর তুলো এক। মেয়েদের হাত বড় সুন্দর,ছেলেদের কাছে খুব প্রিয় - জৈবিক আকর্ষণ পরুষালী হাত ও মেয়েলি হাত। আর লম্বা হাত মানে  ক্ষমতার প্রকাশ করে - এই কাজের পেছনে কারো লম্বা হাত না থাকলে হতে পারে না। বাঁ হাতের খেলা বলতে কাজটা সহজ,হাতের মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলী ঘর্ষণ দিয়ে একটা শব্দ সৃষ্টি করাতে নিজেকে জাহির করতে লাগে। তর্জনী দিয়ে দূরবর্তী দিক নির্দেশ ও কাউকে দোষারোপ করতে,তর্জনী হেলনে কি করতে আর বাকি থাকে। হাত মুঠো করে কড়ে আঙুল উঁচু করে একটা কাজ যে করবে তারই মূদ্রা সকলের জানা। আনন্দের প্রকাশ হাততালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কাউকে উৎসাহ দান হাততালি,একার দোষ হতেই পারে না;একহাতে তালি কি বাজে? নিশ্চয় নয়। হাতাহাতি বলতে মারপিট। যার হাত সমানভাবে চলে সে হয় সব্যসাচী। হাত ও পা থাকতে থাকতে যেন বিদায় নিই,মানে মৃত্যু হয় যেন। হাতের রেখায় থাকে ভাগ্য। হাতে খড়ি দিয়ে বিদ্যা লাভে যাত্রা হবে শুরু।
হাতই জীবনের মুখ্য ধারক ও বাহক। ছোট্টবেলায় সেই ছবি আজও সাথী,চিরসাথী - হারকিউলিস। পেশীবহূল পায়ে দাঁড়িয়ে, মাথার উপর বিশ্বকে পেশীবহূল দুই বাহু দিয়ে ধারণ,সেই তো জীবনের মহাভাষ্য।
   পরিশেষে বলি ভরসার হাত যে কোনো দুর্বলতাকে প্রতিহত করার হাত। জীবন মানে সুখ ও দুঃখময়। সুখে হাত ধরা এক,আর দুঃখে হাত ধরা আরেক। বন্ধুত্বের হাত ধরা,প্রণয়ের হাত ধরা,জৈবিক চাহিদা পূরণের হাত ধরা - এই তিন প্রকার হাত ধারণের কোনটি মহৎ। জীবনকে অর্থবহ করতে সহায়ক। হাত ধরার ধরণটাই বলে দেয় কে মহৎগুণে সিদ্ধ। এও এক আপেক্ষিকতাবাদে সিদ্ধ। ক্ষেত্রবিশেষে তার ফল নানা। এই যে হাতের এত রকম কার্যকারিতার কথা বললাম সব নিয়ে জীবনানুরাগ। জীবনশৈলী।
              ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

#নাম - ভীমরতি। ✍️- মৃদুল কুমার দাস।


  # বিষয়- *শব্দ।*
     # নাম।- *ভীমরতি।*
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

     ভীম মানে ভয়ংকর আর রতি অর্থ অনুরাগ,কাম,রমন,আকৃষ্ট ইত্যাদি। মনের এক ভাব - রতিভাব। কামের দেবতা মদন ও মদনের স্ত্রীর নাম রতি। পার্বতী নিজেকে মোহময়ী করতে কামদেব মদনের স্মরণপন্ন হলেন, পার্বতীর এই মোহময়ী রূপের পেছনে মদনের সাহায্য যে আছে তা শিব যোগবলে দেখে খুব রেগে গেলেন। আর বাবা রেগে গেলে যা হয় আরকি - মদনকে ভস্মীভূত করলেন। মদন ভস্মীভূত হওয়ায় এবার মদনের স্ত্রী রতির কী হবে? তাই নিয়ে রতির বিরহান্তিক হাহাকার। 
   শরীরে এই কাম ও রমন না থাকলে জীবনের কোনো অর্থ নেই। কালিদাসের 'অভিজ্ঞাণ শকুন্তলম'-এর দুষ্মন্ত-শকুন্তলার কাম ও রতি কাব্যকলা বা 'মেঘদূত' এর যক্ষ ও যক্ষ পত্নীকে নিয়ে রচিত কাব্যও তো কাম ও রতির কথা। এর সঙ্গে ভীমরতির সম্পর্ক ঠিক স্পষ্ট হল না।
  মহাভারতে পাই- পঞ্চপান্ডব বনবাসকালে, ভীম হিমালয়ে আপন গরজে রোজ দেহ চর্চা করেন। সেই স্থানে ঘুরতে ঘুরতে মদনের স্ত্রী রতি এসে পড়লেন। আর ভীমের বলিষ্ঠ বপু দেখে রতি ভীমের সঙ্গে কাম কলায় লিপ্ত হন। এদিকে মদন স্ত্রীকে খুঁজতে খুঁজতে ঐ স্থানে দেখতে পেয়ে এক ভয়ংকর শব্দ তথা ভীম শব্দে রতি উচ্চারণ করেন। তা থেকে ভীমরতি শব্দের নাকি সৃষ্টি। 
   আরেকভাবে অর্থ এরকম- ভীমরতি =ভীম + রতি,অর্থাৎ ভীম মানে ভীষণ,আর রতি মানে রাত্রি। ভীষণ রাত্রির অন্ধকারে কামকলা বিলাসের কামনা তথা উত্তেজনা এক প্রকার ভীমরতি। বয়স্ক পুরুষদের একটা সময় জৈবিক কামনা বৃদ্ধি পায়। বার্ধক্য উত্তেজনা থেকে রুচিবিকৃতি ঘটে। কেউ কেউ দমন করে রাখেন,কেউ কেউ তা পারেন না। তাদের এই স্বভাবকে ভ্রষ্টামী ও নষ্টামীর নামান্তর ভাবা হয়। এই স্বভাবকে প্রবল কটাক্ষ করতে ভীমরতি কথা দিয়ে বিদ্ধ করা হয়। মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' নামে একটি প্রহসন। বইটিতে পাই এক বৃদ্ধ বিয়ে পাগল। বৃদ্ধের বিয়ে পাগলামি দেখে ছেলের দল পথের ধুলো গায়ে ছুঁড়ে,নানা নিন্দা মন্দ শোনায়। তবুও বুড়োর ভয়ঙ্কর রতিভাব দূর হয় না। এই ভীমরতি ভাব থেকে চারিত্রিক অসংঙ্গতিকে তীব্র কটাক্ষ করতে,সামাজিক অবক্ষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে এ হেন নাটক মধুসুদন লিখেছিলেন। অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে কামনা ও রমনের এক ভীষণরকম দশা হল ভীমরতি।
  আরো কিছু কথা আছে বাকি। ভীমরতি বুদ্ধি নাশকে বোঝায়। অসতের পাল্লায় পড়লে অনুশোচনামূলক খেদোক্তি - "কি ভীমরতি হয়েছিল রে বাবা ও পাল্লায় পড়লাম!" 
  বার্ধক্যে পতিকে পত্নী বলেন- "এই বয়সে ভীমরতি রোগে ধরল নাকি!" কথাটার ধরণে পতি হাসেন, কারণ গিন্নির আজকাল কথাটা বলার অভ্যেস হয়ে গেছে।যদি বৃদ্ধ হয় এই কথাটা সংসার সামলাতে না পারলে শোনার অভ্যেস করতে হবে- আ মরণ ও  ভীমরতি - এই দুটি কথা। এও সুখি দাম্পত্যের লক্ষণ।
   সুতরাং ভীমরতি একটি বিশেষ ভাব যা কাম ও রমন,আচরনের অসংগতি স্বভাব,ব্যবহারিক জীবনের এক জীবনরসরসিকতা,এক স্থায়ী রসলাপ থেকে কুস্বভাবের ভর্ৎসনা কি নেই! বর্তমান শব্দটির মার্কেটিং দর দেখে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত স্যারেন্ডার করে বসে আছে। 
জয় বাবা ভীমরতি। তুমি রসেবসে থাকো। কারো পৌষমাস,কারো সর্বনাশ দিয়ে তোমার নিন্দায় তুমি তোমার মত,আবার বন্দনায় মদত সে কি আর বলতে! আবার বলি তোমার জয় হোক।
                ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

বৃহস্পতিবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২১

#নাম- জ্ঞাণ - দর্শণ ও বিজ্ঞান। ✍- মৃদুল কুমার দাস।

সন্ধ্যার আলোচনা-বাসর।
#বিষয় - *দর্শন ও জ্ঞানের মধ্যে কি কোনো বিরোধ  আছে?*
  # নাম - *বিজ্ঞান ও দর্শন।*
  ✍ - মৃদুল কুমার দাস। 

   জ্ঞানের দুই জমজ- দর্শন ও বিজ্ঞান। বিশেষরূপে জ্ঞাণ বিজ্ঞান। আর দর্শন বা ফিলসফি শব্দের অর্থ  হল কোনো স্থিরতা নেই। কখনো অর্থ  আধ্যাত্মিক তত্ত্ব, কখনো প্রাকৃতিক জ্ঞাণতত্ত্ব, কখনও অর্থনীতি,ধর্মনীতি,কখনও বা বিচারবিদ্যা। ফিলসফির উদ্দেশ্য হল জ্ঞাণ। এই জ্ঞানের  উদ্দেশ্য  আলাদা। এর  উদ্দেশ্য নির্মাণ, মুক্তি, পারলৌকিক অবস্থা। দর্শন জ্ঞান হল সাধনার জ্ঞাণ। সে সাধনার গতি বিচিত্রগামী। আদি দৈবিক,আদি ভৌতিক, কখনও নৈতিক বা সামাজিক জ্ঞান। এসবই সংসারের সুখ, দুঃখ,আনন্দ থেকে আসে। জীবনের  নানা বৈচিত্র্যপূর্ণ গতির মূল্যায়নের নাম দর্শন। তাই সে নানা মতবাদভিত্তিক - হিন্দু,ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্মীয় মতবাদের পরিচয় হল দর্শন। দর্শনের নানা মত - *যত মত তত পথ।* জন্মান্তরবাদ একটি দার্শনিক মতবাদ। সাংখ্যদর্শণ,বেদ,বেদান্তের পরিচয় দর্শনে - হিন্দুদর্শণ। মার্কসীয় দর্শন যেখানে তত্ত্ব সেখানে দর্শন, আর যেখানে দ্বন্দ্বমূলক বস্তুবাদ সেখানে জ্ঞানের বিশেষরূপ তখন বিজ্ঞান। জ্ঞান কখনো দর্শন, আবার কখনো বিজ্ঞান। জ্ঞানের বিশেষ রূপ বিজ্ঞান। 
  তাহলে জ্ঞান হল নিজেকে জানার সোপান। যদি বলি *আকাশ কুসুম* তাহলে মুহূর্তে বুঝতে পারি আকাশ কী আর কুসুম কী। এই অর্থও শেষ  কথা হল না। অর্থের আরেক  উদ্ঘাটন আছে - অলীক কল্পনা। যদি বলি *অরণ্যে রোদন* অরণ্যে গিয়ে কোনো কান্না নয়,প্রান্তিক অর্থ হল- নিষ্ফল আবেদন। *দেশের  লজ্জা* বললে দেশের মানুষগুলোর লজ্জা। আবার যদি বলি গাছেরও খাব তলারও কুড়াব - এ হল ব্যবহারিক জীবনের দর্শন। আর গাছটি কেন এক্ষেত্রে এলো তাই জানাটাই হলো জ্ঞাণ।এইভাবেই জীবনদর্শণ জ্ঞানের  সীমায় ধরা দেয়। জীবনদর্শণ মানেই জীবনের যথার্থ সত্যের সন্ধানে থাকা। সেই সন্ধান মানেই যতদিন বাঁচি ততদিন শিখি। যত ভুল তত শিক্ষা। জীবনের যেমন দর্শন আছে,মৃত্যুরও তেমনি দর্শন আছে। কী সেই দর্শন-মৃত্যুর পাত্র  থেকে জীবন উঠে আসে। জীবন  সরিয়ে নিলে মৃত্যু পড়ে থাকে। জীবন রক্ষা করে চলতে হয়,মৃত্যুকে রক্ষা করতে হয় না। এই রক্ষার জন্যই মৃত্যুকে এতো ভয় হয়। ভয় কারা করে? না অন্নপায়ী থেকে জীবন রক্ষা করতে হয় বলে,তা থেকে বাঁচার  আনন্দ আসে বলে তাই মৃত্যুকে সবাই ভয় পায়। ভয় তখন হয় না যখন মৃত্যুকে জয় করতে পারা যায়। রবীন্দ্রনাথ সেই মৃত্যুকে জয়ের  কথা দিয়ে রবীন্দ্রনাথ মৃত্যুদর্শণের কথা বলেছেন। তাই  একপ্রকার জ্ঞানের  কথা।
  উপদেশ একপ্রকার জ্ঞাণ। উপদেশ দিলে বলে বেশী জ্ঞাণ দিও না।
  আর জ্ঞাণের আরেক দিক বিজ্ঞান। আপেল নীচের  দিকে পড়া থেকে মাধ্যাকর্ষণ বল এলো। নিউটন যা বললেন বিশ্ব তাই মানল। জগদীশ চন্দ্র বসু উদ্ভিদের  প্রাণ আছে প্রমাণ দিলেন। এখন নিউটন যা বললেন তা যদি জগদীশ চন্দ্র বসু বলেছিলেন বলি,আর জগদীশ চন্দ্র বসু যা বলেছিলেন তা যদি বলি নিউটন বলেছিলেন, তাহলে জ্ঞাণ লাভ ভুল হয়ে গেল। এই বিশেষ জ্ঞাণ লাভটাই হল বিজ্ঞান। দুই বিজ্ঞানীর গবেষণার বিষয় নিয়ে জানাই হলো বিশেষ জ্ঞাণ তথা বিজ্ঞান। 
  এই জ্ঞাণ থেকে উদ্ভূত বিজ্ঞানের জন্য পাশ্চাত্যকে প্রাচ্য খুব  সমীহ  করে,আর প্রাচ্যের জ্ঞান থেকে উদ্ভূত দর্শণের জন্য পাশ্চাত্য প্রাচ্যকে খুব সমীহ করল। জ্ঞাণের বস্তুতান্ত্রিকতায় পাশ্চাত্য ভরকেন্দ্র,আর প্রাচ্যের ভরকেন্দ্র ভাববাদী দর্শণে। 
  সুতরাং বিরোধ কথাটি একদম আসেনা। দর্শণ ও জ্ঞাণ বিরোধ ভাবা নিরর্থক। জ্ঞাণই জগত ও জগতের সার। তার দুই অপত্য দর্শন ও বিজ্ঞান। 
                ********
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

বুধবার, ২২ সেপ্টেম্বর, ২০২১

#গল্প-বেকার জীবন #কলমে -সোমা দে।

বিষয় -গন্ধ
শিরোনাম-বেকার জীবন। 
কলমে -সোমা দে। 
তারিখ -22/9/2021

অভি ঘোষ। পাড়ায় সবথেকে ব্রিলিয়ান্ট স্টুডেন্ট। মাধ্যমিক থেকে শুরু করে এম. এসসিতে তাঁর রেজাল্ট দারুণ। পাড়ার সব কাজে এক নম্বর। কিন্তু অভির যে একটাই দুঃখ, অভির বয়সী পাড়ার সকলেই যে চাকরী করে। এখানেই যে অভি সবার থেকে পিছিয়ে। যেখানেই ইন্টারভিউ দিতে যায় সেখানেই সবার এক কথা, "তুমি তো এতো শিক্ষিত। তোমার  তো আরো ভালো নামকরা কোম্পানিতে কাজ করা উচিৎ। " সব জায়গায় সবাই অভির প্রশংসায় পঞ্চমুখ কিন্তু কাজটি দেওয়ার বেলায় শুণ্য। সকলকে এত করে কাজ দেওয়ার কথা বলাতে পাড়ার সকলে অভিকে একটি কাজ দিয়েছে বটে।লোকের বাড়ি পরিস্কারের কাজ। এতে তাঁর কোনরকমে দিন চলে যায়। কিন্তু অভির বাবা -মা এতে নয় যে সন্তুষ্ট। তাই তাঁরা থাকে না অভির কাছে। তাঁরা থাকে অভির বড় ভাইয়ের কাছে। ছোট ভাইয়ের দায়িত্ব নিতে তারা পারবেনা। অভির বাবা -মা রাখেনা যে তাঁর কোন খোঁজ। ছোট ছেলে যে বেকার। সে যে লোকের বাড়ি পরিষ্কারের কাজ করে। 

একদিন অভি রাতে নিজের ঘরে শুধু সাদা ভাতখানি রান্না করে সামনে নুন লঙ্কা নিয়ে বসেছে।খাবে বলে। কারন কিছুদিন ধরেই বাড়ি পরিস্কারের কাজটি ঠিক পাচ্ছিলনা। তাই আগে যা টাকা আয় করে ছিল তা দিয়ে এখন ঐ সেদ্ধ ভাতই জোটে। সেদিনকে অভির পাশের বাড়িতে ছিল বিয়ে। বেশ রকমারি খাবারের গন্ধ চারিদিকে ছড়িয়ে গেছে। সেইসময় অভি সাদা ভাত নিয়ে বসেছে খাবে বলে। এমন সময় নাকে সেই রকমারী খাবারের গন্ধ পেয়ে তাঁরও খুব ইচ্ছে করছিল তাঁর সেই সাদা ভাতখানির সঙ্গে একটু মাছ, মাংস খাবার। চোখে জল চলে এল অভির। পরমুহুর্তেই  চোখের জল মুছে অভি দীর্ঘনিশ্বাসের মাধ্যমে সেই রকমারি খাবারের গন্ধ নিয়ে তাড়াতাড়ি সেই সাদা ভাতখানি আনন্দের সঙ্গে খেয়ে নিল। খাওয়া শেষ করে সে মনে মনে ভাবল, এইরকম খাবারের গন্ধ যদি রোজ তাঁর খাবার সময় ভেসে আসে তাহলে খাওয়াটা বেশ পরিপূর্ণ হয়। 

পরবর্তী কালে অভি কষ্টের ফল হিসেবে কেষ্টকে পেয়েছে। অর্থাৎ যোগ্যতাবলে একটা ভালো কোম্পানিতে কাজ পেয়েছে। এখন যে তাঁর নেই কোন অর্থের অভাব, নেই কোন খাদ্যের অভাব। এখন সে যে বাবা-মা, দাদার কাছে খুব প্রিয় একজন মানুষ। এখন সবাই কতো খোঁজ নেয়। কিন্তু অভি যে ভোলেনি সেই দিনের কথা। 

@কপিরাইট রিজার্ভ ফর সোমা দে। 

শনিবার, ১৮ সেপ্টেম্বর, ২০২১

MAY I COME IN , MA'AM

ঠান্ডা কনকনে হওয়া , আজ সারাদিন বৃষ্টি পড়েছে । জানলাটা খুলে চাদর গায়ে দিয়ে শুয়ে পরলাম । পা দুটো অবশ লাগছে , সবদিনই পরিশ্রম হয় কিন্তু আজ যেনো একটু বাড়াবাড়ি করে ফেলেছি । আমার এই জোরজবরদস্তির খাটুনিতে সবার আপত্তি কিন্তু কাউকে বোঝাই না আসলে বোঝাবার প্রয়োজন বোধ করি না যে .... এই যন্ত্রণাই এখন বেঁচে থাকার রসদ। 

তিন তিনটে বছর হয়ে গেলো। একসাথে ভিক্টোরিয়া মেমোরিয়ালে বসে সূর্যাস্ত দেখা , ফাঁকা রাস্তায় ক্লান্ত শরীর বয়ে হাঁটা , কিছু নির্জন গলিতে অনুভূতির আনাগোনা ....
সবকিছুর স্মৃতি এখন তোমার কাছে ঝাপসা । 

শুয়ে শুয়ে চোখের কোন দিয়ে মনের আর্তনাদ গুলো নিঃশব্দে গড়িয়ে পরছে । কিছু বছর আগেই যার গভীর ,আকাঙ্খিত, দৃষ্টি দেখে আমার সব কষ্ট দূর হয়ে যেত সেই আজ ... হা হা । তুমি বরাবরই নিজের প্রতিষ্ঠার বিষয়ে সতর্ক ছিলে কিন্তু এতটা , সেটা হয়তো বুঝতে পারিনি সেদিন । 
ভোরের আলো মুখে পড়তে চোখ খুললো । তৈরি হয়ে আবার সেই নিত্য জীবনযুদ্ধে চলে এলাম । 
ও বলা হয়নি , চাকরি পেয়ে দরিদ্র পরিবারের মেয়ের সাথে না থাকতে চাওয়া মানুষটার গম্ভীর গলায় নিজের নাম শুনে ভারী তৃপ্তি হতো , সে এখনো ডাকে পার্থক্য শুধু ..... 

ঠিক সেই সময় , office cabin এর door knock করে গম্ভীর গলায় একজন বলে উঠলো : 
 " MAY I COME IN , MA'AM "
ভিতরে এলো এক গভীর , আকাঙ্খিত দৃষ্টি । 


Picture #collected 

শুক্রবার, ১০ সেপ্টেম্বর, ২০২১

ভাগ্যিস তুমি প্রেমিক হওনি ।

বরাবরই ভালোবাসার জন্য একজন আদর্শ প্রেমিক চেয়েছি । কিন্তু তুমি প্রেমিক হয়ে উঠতে পারোনি । তুমি বন্ধু হয়ে আমার হাসির কারণ হয়ে উঠেছ , কিন্তু প্রেমিক হয়ে সবার সামনে আমার উৎকট হাসি বন্ধ করে গম্ভীর থাকতে বলোনি ।  তুমি শিক্ষক হয়ে আমাকে নিজের লড়াই নিজেই লড়তে শিখিয়েছ , প্রেমিক হয়ে শুধু প্রতিশ্রুতি দিয়ে থেমে যাও নি । তুমি পাহাড়াদারের মতো আমার সম্মান রক্ষা করেছ , প্রেমিক হয়ে স্পর্শ করতে  চাওনি কখনো । সঙ্গী হয়ে দুঃখের কারণ খুঁজে তার সমাধান করেছ , প্রেমিক এর মতো খালি সান্তনা দাওনি । বটবৃক্ষ হয়ে আমায় প্রখর রোদ থেকে বাঁচিয়ে রেখেছ , প্রেমিক এর মতো আমাকে তপ্ত রোদে কখনো অপেক্ষা করাও নি । তুমি আমার স্বাধীনতা হয়ে আমাকে আত্মবিশ্বাসী করে তুলেছ , প্রেমিক হয়ে আমার পোশাক পড়ার ধরণ নিয়ে প্রশ্ন তোলোনি । তুমি মুক্ত আকাশ হতে পেরেছ , বদ্ধ সোনার খাঁচা হওনি । এখন মনে হয়, ভাগ্যিস তুমি প্রেমিক হওনি । নাহলে হয়তো বুঝতাম না.... ভালোবাসা কাকে বলে ।।প্রেমিক

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...