# নাম - *হাতে হাত।*
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।
মাথায় হাত দিয়ে বসা অর্থে সর্বহারা,কেউ মাথায় হাত বোলাল মানে বোকা বানাল,মাথায় হাত দিয়ে কিছু জটিল মীমাংসার মনোসংযোগ,মাথায় হাত দিয়ে আশীর্বাদ...- এসব ব্যবহারিক জীবনকে অর্থবহ করতে হাত ও মাথার বিভিন্ন উপসর্গ।
হাত পায়ে গেলে পায়ে ধরা তথা দয়া ভিক্ষা করা,পায়ে হাত দিয়ে প্রণাম করা...এও জীবনের এক দশা।
আর হাতে হাত মেলালে করমর্দন এক শিষ্ট আচার,হাতে হাত অর্থে দৃঢ় বন্ধন,হাতে হাত রাখা ভরসা দান,আর বন্ধুত্বে হাতে হাত রেখে চলা,বর কনের হাত ধরলে এক কথায় বলে পাণিগ্রহণ বা বিবাহ। শিশুর হাত আর তুলো এক। মেয়েদের হাত বড় সুন্দর,ছেলেদের কাছে খুব প্রিয় - জৈবিক আকর্ষণ পরুষালী হাত ও মেয়েলি হাত। আর লম্বা হাত মানে ক্ষমতার প্রকাশ করে - এই কাজের পেছনে কারো লম্বা হাত না থাকলে হতে পারে না। বাঁ হাতের খেলা বলতে কাজটা সহজ,হাতের মধ্যমা ও বৃদ্ধাঙ্গুলী ঘর্ষণ দিয়ে একটা শব্দ সৃষ্টি করাতে নিজেকে জাহির করতে লাগে। তর্জনী দিয়ে দূরবর্তী দিক নির্দেশ ও কাউকে দোষারোপ করতে,তর্জনী হেলনে কি করতে আর বাকি থাকে। হাত মুঠো করে কড়ে আঙুল উঁচু করে একটা কাজ যে করবে তারই মূদ্রা সকলের জানা। আনন্দের প্রকাশ হাততালি, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানে কাউকে উৎসাহ দান হাততালি,একার দোষ হতেই পারে না;একহাতে তালি কি বাজে? নিশ্চয় নয়। হাতাহাতি বলতে মারপিট। যার হাত সমানভাবে চলে সে হয় সব্যসাচী। হাত ও পা থাকতে থাকতে যেন বিদায় নিই,মানে মৃত্যু হয় যেন। হাতের রেখায় থাকে ভাগ্য। হাতে খড়ি দিয়ে বিদ্যা লাভে যাত্রা হবে শুরু।
হাতই জীবনের মুখ্য ধারক ও বাহক। ছোট্টবেলায় সেই ছবি আজও সাথী,চিরসাথী - হারকিউলিস। পেশীবহূল পায়ে দাঁড়িয়ে, মাথার উপর বিশ্বকে পেশীবহূল দুই বাহু দিয়ে ধারণ,সেই তো জীবনের মহাভাষ্য।
পরিশেষে বলি ভরসার হাত যে কোনো দুর্বলতাকে প্রতিহত করার হাত। জীবন মানে সুখ ও দুঃখময়। সুখে হাত ধরা এক,আর দুঃখে হাত ধরা আরেক। বন্ধুত্বের হাত ধরা,প্রণয়ের হাত ধরা,জৈবিক চাহিদা পূরণের হাত ধরা - এই তিন প্রকার হাত ধারণের কোনটি মহৎ। জীবনকে অর্থবহ করতে সহায়ক। হাত ধরার ধরণটাই বলে দেয় কে মহৎগুণে সিদ্ধ। এও এক আপেক্ষিকতাবাদে সিদ্ধ। ক্ষেত্রবিশেষে তার ফল নানা। এই যে হাতের এত রকম কার্যকারিতার কথা বললাম সব নিয়ে জীবনানুরাগ। জীবনশৈলী।
******
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন