বুধবার, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২১

#নাম - ভীমরতি। ✍️- মৃদুল কুমার দাস।


  # বিষয়- *শব্দ।*
     # নাম।- *ভীমরতি।*
✍️ - মৃদুল কুমার দাস।

     ভীম মানে ভয়ংকর আর রতি অর্থ অনুরাগ,কাম,রমন,আকৃষ্ট ইত্যাদি। মনের এক ভাব - রতিভাব। কামের দেবতা মদন ও মদনের স্ত্রীর নাম রতি। পার্বতী নিজেকে মোহময়ী করতে কামদেব মদনের স্মরণপন্ন হলেন, পার্বতীর এই মোহময়ী রূপের পেছনে মদনের সাহায্য যে আছে তা শিব যোগবলে দেখে খুব রেগে গেলেন। আর বাবা রেগে গেলে যা হয় আরকি - মদনকে ভস্মীভূত করলেন। মদন ভস্মীভূত হওয়ায় এবার মদনের স্ত্রী রতির কী হবে? তাই নিয়ে রতির বিরহান্তিক হাহাকার। 
   শরীরে এই কাম ও রমন না থাকলে জীবনের কোনো অর্থ নেই। কালিদাসের 'অভিজ্ঞাণ শকুন্তলম'-এর দুষ্মন্ত-শকুন্তলার কাম ও রতি কাব্যকলা বা 'মেঘদূত' এর যক্ষ ও যক্ষ পত্নীকে নিয়ে রচিত কাব্যও তো কাম ও রতির কথা। এর সঙ্গে ভীমরতির সম্পর্ক ঠিক স্পষ্ট হল না।
  মহাভারতে পাই- পঞ্চপান্ডব বনবাসকালে, ভীম হিমালয়ে আপন গরজে রোজ দেহ চর্চা করেন। সেই স্থানে ঘুরতে ঘুরতে মদনের স্ত্রী রতি এসে পড়লেন। আর ভীমের বলিষ্ঠ বপু দেখে রতি ভীমের সঙ্গে কাম কলায় লিপ্ত হন। এদিকে মদন স্ত্রীকে খুঁজতে খুঁজতে ঐ স্থানে দেখতে পেয়ে এক ভয়ংকর শব্দ তথা ভীম শব্দে রতি উচ্চারণ করেন। তা থেকে ভীমরতি শব্দের নাকি সৃষ্টি। 
   আরেকভাবে অর্থ এরকম- ভীমরতি =ভীম + রতি,অর্থাৎ ভীম মানে ভীষণ,আর রতি মানে রাত্রি। ভীষণ রাত্রির অন্ধকারে কামকলা বিলাসের কামনা তথা উত্তেজনা এক প্রকার ভীমরতি। বয়স্ক পুরুষদের একটা সময় জৈবিক কামনা বৃদ্ধি পায়। বার্ধক্য উত্তেজনা থেকে রুচিবিকৃতি ঘটে। কেউ কেউ দমন করে রাখেন,কেউ কেউ তা পারেন না। তাদের এই স্বভাবকে ভ্রষ্টামী ও নষ্টামীর নামান্তর ভাবা হয়। এই স্বভাবকে প্রবল কটাক্ষ করতে ভীমরতি কথা দিয়ে বিদ্ধ করা হয়। মধুসূদন দত্ত লিখেছিলেন 'বুড়ো শালিকের ঘাড়ে রোঁ' নামে একটি প্রহসন। বইটিতে পাই এক বৃদ্ধ বিয়ে পাগল। বৃদ্ধের বিয়ে পাগলামি দেখে ছেলের দল পথের ধুলো গায়ে ছুঁড়ে,নানা নিন্দা মন্দ শোনায়। তবুও বুড়োর ভয়ঙ্কর রতিভাব দূর হয় না। এই ভীমরতি ভাব থেকে চারিত্রিক অসংঙ্গতিকে তীব্র কটাক্ষ করতে,সামাজিক অবক্ষয় চোখে আঙুল দিয়ে দেখাতে এ হেন নাটক মধুসুদন লিখেছিলেন। অর্থাৎ বৃদ্ধ বয়সে কামনা ও রমনের এক ভীষণরকম দশা হল ভীমরতি।
  আরো কিছু কথা আছে বাকি। ভীমরতি বুদ্ধি নাশকে বোঝায়। অসতের পাল্লায় পড়লে অনুশোচনামূলক খেদোক্তি - "কি ভীমরতি হয়েছিল রে বাবা ও পাল্লায় পড়লাম!" 
  বার্ধক্যে পতিকে পত্নী বলেন- "এই বয়সে ভীমরতি রোগে ধরল নাকি!" কথাটার ধরণে পতি হাসেন, কারণ গিন্নির আজকাল কথাটা বলার অভ্যেস হয়ে গেছে।যদি বৃদ্ধ হয় এই কথাটা সংসার সামলাতে না পারলে শোনার অভ্যেস করতে হবে- আ মরণ ও  ভীমরতি - এই দুটি কথা। এও সুখি দাম্পত্যের লক্ষণ।
   সুতরাং ভীমরতি একটি বিশেষ ভাব যা কাম ও রমন,আচরনের অসংগতি স্বভাব,ব্যবহারিক জীবনের এক জীবনরসরসিকতা,এক স্থায়ী রসলাপ থেকে কুস্বভাবের ভর্ৎসনা কি নেই! বর্তমান শব্দটির মার্কেটিং দর দেখে সুপ্রিম কোর্ট পর্যন্ত স্যারেন্ডার করে বসে আছে। 
জয় বাবা ভীমরতি। তুমি রসেবসে থাকো। কারো পৌষমাস,কারো সর্বনাশ দিয়ে তোমার নিন্দায় তুমি তোমার মত,আবার বন্দনায় মদত সে কি আর বলতে! আবার বলি তোমার জয় হোক।
                ******
#কপিরাইট রিজার্ভ ফর মৃদুল কুমার দাস।

1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - অপ্রকাশিত অনুভূতি ✍️ ডা: অরুণিমা দাস কিছু অনুভূতি মনের গভীরে থাকাই শ্রেয়। সেটা হয়তো প্রকাশ করলে সমস্যা হতে পারে,তাই প্রকাশ না কর...