বুধবার, ২৭ এপ্রিল, ২০২২

এস্কিমোস লাভ টু লিভ ইন নর্থ পোল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস

এস্কিমোস লাভ টু লিভ ইন নর্থপোল
✍️ ডা:অরুণিমা দাস

উত্তরমেরু এলাকা মানুষের কাছে এক রহস্যময় জগৎ। সেখানে আকাশে থাকে অদ্ভুত রঙের অরোরা,আর বছরের দীর্ঘ সময় ধরে চলে আলো আঁধারের খেলা। বরফের তৈরি ইগলুতে বাস করে সেখানকার এস্কিমোরা। কেন তারা বাস করে প্রচণ্ড ঠাণ্ডা আর বরফের মধ্যে সে নিয়েও রয়েছে অনেক প্রশ্ন। এই ঠান্ডায় জমে বেঁচে থাকতে থাকতে তাদেরও তো ইচ্ছে করে নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে যেতে,কিন্তু যায় না তারা। আর কেনোই বা যায়না? সেই উত্তর খুঁজতে খুঁজতে হারিয়ে গেছিলাম ওদের দেশে,ওদের জীবনযাত্রা,খাদ্যাভ্যাস এসব পড়তে গিয়ে ওদের সাথে একাত্ম হয়ে পড়েছিলাম। ফিরে গেছিলাম স্কুল জীবনের দিন গুলোতে, ভূগোল ইতিহাসের সময়টাতে। যা জেনেছি সেটাই সংক্ষেপে লিখছি।

উত্তর মেরুর চারপাশে আলাস্কা,কানাডা,গ্রিনল্যান্ড ও রাশিয়া। উত্তর মেরু এক বিশাল এলাকা যার আয়তন প্রায় সম্পূর্ণ উত্তর আমেরিকার সমান। উত্তর মেরুতে বলতে গেলে সারা বছরই শীত থাকে ও শীতে তাপমাত্রা গড়ে মাইনাস ৪০ ডিগ্রিতে চলে আসে।উত্তর মেরু অঞ্চলে গ্রীষ্মকাল শুরু হয় জুলাই মাসের মাঝামাঝি এবং থাকে প্রায় আগস্টের শেষ পর্যন্ত। উত্তর মেরুতে গ্রীষ্মে জন্মে বিভিন্ন গাছপালা। উত্তর মেরু জোনের দক্ষিণাংশে আছে বরিল বনভূমি যা তাইগা বা স্নো ফরেস্ট নামেও পরিচিত।এতে ফার,লার্চ,মাউন্টেন অ্যাশ ও ফায়ারউইডের মতো বার্চ গাছ দেখা যায়। তবে আর্কটিক তুন্দ্রা এলাকায় বার্চ,উইলো,হিথ, লিঙ্গোনেবেরি,বাইবেরি,ব্লুবেরি,আর্কটিক পপি, কটনগ্রাস,লিঞ্চেন এবং মসেস নামের ঘাস দেখা যায়।

উত্তর মেরু এলাকার মানুষ কাঁচা বা খুব অল্প সেদ্ধ মাংস খেতে অভ্যস্ত। এভাবে মাংস খাওয়া হলে তাতে ভিটামিন সি পাওয়া যায়। পর্যাপ্ত শাক-সবজি পাওয়া না গেলেও এভাবে তারা ভিটামিন সি পেয়ে যায়। শীতকালে দীর্ঘদিন সূর্যের আলো পাওয়া না গেলেও গ্রীষ্মকালে এ এলাকায় সূর্যের আলো পাওয়া যায়। এ সময় পাওয়া সূর্যের আলোতে এবং বিভিন্ন খাবারের মাধ্যমে তাদের শরীরের ভিটামিন ডি এর চাহিদা মিটে যায়।

এস্কিমোরা কেন ঠান্ডা এলাকা ছেড়ে যায় না?এস্কিমোরা কেন প্রচণ্ড ঠাণ্ডা এলাকা ছেড়ে দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় চলে আসে না?এটা একটা সাধারণ প্রশ্ন,উত্তর টাও বেশ অন্যরকমের।এস্কিমোদের দক্ষিণের নাতিশীতোষ্ণ এলাকায় চলে যাওয়ার কোনো কারণ নেই। তারা নিজের এলাকাতেই বেশ আরাম করেই বেঁচে আছে। অন্য এলাকায় গেলেই বরঞ্চ তাদের বিভিন্ন সমস্যা দেখা দেয়।১৯৮০ সালে দুজন ডেনিস চিকিৎসক বেঙ ও ডাইবার্জ গ্রীনল্যান্ডে কাজ করার সময় লক্ষ্য করেন এস্কিমোরা হার্ট ডিজিস ইমিউনড সত্যি কথা বলতে তারা কোন এস্কিমোকেই হার্ট ডিজিসে আক্রান্ত হতে দেখেননি তারা।ডেনিস অধিবাসীদের তুলনায় এস্কিমোদের রোগের বালাই অনেক কম। শুধু হার্ট ডিজিস ই নয়,স্কিন ডিজিস এছাড়াও রিউম্যাটিক ডিজিস বা জয়েন্ট সংক্রান্ত সমস্যা বহুলাংশে কম বা খুব কম শতাংশ লোকের হয় বললেই চলে।
এতো ভালো যখন থাকা যায় উত্তরে,খামোখা শুধু গরম পাবার জন্য নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে গিয়ে লাভ টা কি! তাই তারা উত্তর মেরুতে জমে যাওয়া ঠান্ডায় অবস্থান করতেই সাচ্ছন্দ্যবোধ করে।

©️ রিজার্ভ ফর অরুণিমা দাস


1 টি মন্তব্য:

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...