।। লতা মঙ্গেশকর।।
(১৯২৯ – ২০২২)
শতবর্ষ থেকে একবছর দূরে 'মেরী আওয়াজ হি পেহচান হ্যায়' -এর কিন্নরকন্ঠী নাইটিঙ্গল, বহুকন্ঠের এককন্ঠী মেলডি লতাজীর জীবনাবসান ভারতীয় জীবনধারার কাছে মর্মান্তিক দুঃখের, কিন্তু সুখের বিষয় তিনি থেকে যাবেন প্রজন্মবিস্তারিত হয়ে।
সঙ্গীত জগতে প্রথম পদার্পণ মারাঠি ভাষায় গান দিয়ে। তারপর হিন্দি, বাংলা সহ ছত্রিশটি আঞ্চলিক ভাষায় তৎসহ পাশ্চাত্য সঙ্গীতে অবদান ভবি ভোলার নয়। তাঁর কন্ঠে ত্রিশ হাজার গান আছে,যা কোনো কন্ঠশিল্পীর নেই। বাঙালির প্রিয়জন। হেমন্ত-লতার যুগলবন্দী অনবদ্য ছিল। এমনকি হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে এমনই ঘণিষ্ঠ সম্পর্ক ছিল হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের মেয়ে রানুর জন্মের আগে স্ত্রী বেলা দেবীকে সাধ ভক্ষণ করিয়েছিলেন।
এমন আত্মীয় পেয়ে দুর্লভ সৌভাগ্যের অধিকারী হয়েছে বাঙালি। বাংলার তাঁতের শাড়ী,বাংলা কথাসাহিত্যের বিশেষ করে শরৎচন্দ্রের উপন্যাসের অন্ধ ভক্ত ছিলেন। শরৎচন্দ্র মারাঠা অনুবাদে পড়তেন। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সঙ্গে ছিল ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক। হেমন্ত মুখোপাধ্যায়ের সুরে সবচেয়ে বেশী গান গয়েছিলেন। এছাড়াও সুধীন দাশগুপ্ত,রবীন চ্যাটার্জি, সলিল চৌধুরীর সুরে গান গেয়েছিলেন। বাঙালি কানে তাঁর কন্ঠে গাওয়া গান বাঙালির কানে যেন অমৃতসুধা। যেমন ―
হেমন্ত মুখপাধ্যায়ের সুরে বন্দেমাতরম্ গান হয়ে গেছে কালজয়ী,কালজয়ী বাংলা গান –
একবার বিদায় দে মা...,সাতভাই চম্পা..., বৃষ্টি বৃষ্টি এ কোন অপরূপ সৃষ্টি...,অন্তবিহীন কাটে না যে দিন..., আমি চিরদিন তোমারই থাকব...,ও মোর ময়না গো...,ঘুমঘুম নিঃঝুম রাতের মায়ায়...
হিন্দিতে কালজয়ী গান ― সত্যম শিবম সুন্দরম...,আ গলে লাগ যা....
তাঁর কাছে বাঙালি মাত্রেরই ঋণ অপরিশোধ্য। ঋণ অন্তহীন। তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা।
।। সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় ।।
বাংলা সঙ্গীতের আকাশে সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় সন্ধ্যাতারা। বাবা নরেন্দ্র মুখোপাধ্যায়। মা হেমলতা দেবী। ছয় সন্তানের কনিষ্ঠ সন্ধ্যা। সঙ্গীত ঘরানায় মানুষ। মাও ভাল গান গাইতেন। তবে বাবার কাছে ভক্তিমূলক গান ― "প্রভু যে তুমি দাও দরশন" ― দিয়ে গানের ভূবনে যাত্রা শুরু করেন। মাত্র বারো বছরের সদ্য কিশোরী। এলেন কলকাতা বেতার ভবনে গল্পদাদুর আসরে। প্রথম গান গাইলেন গীতিকার অজয় ভট্টাচার্যের কথায় ও সুরে – "যদি না ফুরাল গান/ করিল দুয়ারে লতা/ নয়নে আছে গো জল।" পেলেন হাতে পাঁচটি টাকা। প্রথম রোজগার। সে কি আনন্দ! সেই যে শুরু সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় মানেই "এ শুধু গানের দিন...।" সন্ধ্যা মুখোপাধ্যায় মানেই বাঙালির আবেগ,বাঙালির ভালবাসা।
১৯৪৬ এ গিরিন চক্রবর্তীর কথায় ও সুরে তের বছর দশ মাস বয়সে প্রথম রেকর্ড ― "তোমার আকাশে ঝিলমিল করে...।" ১৯৪৮ এ রাইচাঁদ বড়ালের সুরে 'অঞ্জনগড়' ও রবীন চট্টোপাধ্যায়ের সুরে 'সমাপিকা'য় প্রথম নেপথ্য গান গেয়ে সিনেমা জগতে উজ্জ্বল হয়ে উঠলেন। রবীন্দ্রসঙ্গীত,নজরুলগীতি, চলচ্চিত্রের আধুনিক গান একদিকে,অন্যদিকে উচ্চাঙ্গ সঙ্গীতের মধ্য দিয়ে অপ্রতিরোধ্য গতিতে ধেয়ে চললেন তিনি।
'অগ্নিপরীক্ষা', 'সবার উপরে','পথে হল দেরী' চলচ্চিত্রে নপথ্য কন্ঠে সুচিত্রা সেনের লিপে সে এক মণিকাঞ্চন যোগ যেন। ঠিক যেমন উত্তমকুমারের লিপে হেমন্ত মুখোপাধ্যায়। সলিল চৌধুরীর সুরে রকমারি সব গান ― "উজ্জ্বল এক ঝাঁক পায়রা..., ― কাটা কাটা ছন্দে সলিল যেভাবে ধরেন,সন্ধ্যা সেভাবে ছবি আঁকেন। 'সপ্তপদী'-র "এই পথ যদি না শেষ হয়..." কিংবা 'নায়িকা সংবাদ'–এ "কি মিষ্টি দেখো মিষ্টি..." কালজয়ী হয়ে আছে। তারাশঙ্কর বন্দ্যোপাধ্যায়ের লেখা – "মধুর মধুর বংশী বাজে..",বা যতীন্দ্রনাথ সেনগুপ্তের - "থই থই শাওন এল ওই...", 'মায়ামৃগ' ছবিতে – "ও বক বক বক বকম বকম পায়রা..", 'জয়জয়ন্তী ছবিতে – "আমাদের ছুটি ছুটি...", নচিকেতা ঘোষের সুরে ― "মায়াবতী মেঘে এল তন্দ্রা...", 'চিরদিনের' ছবিতে মান্না দে-র সঙ্গে দ্বৈত কন্ঠে– "আমি তোমার চিরদিনের..." আরো কত কত অজস্র গান বাঙালির শ্রুতিতে মুগ্ধতায় ভরিয়ে রেখেছিলেন। উস্তাদ বড়ে গোলামের কথায় ― "দেখো বেটা, এক ভাগ শিখনা হ্যায়,তিন ভাগ শুননা হ্যায়।"― এটাই তাঁর জীবনের মূলমন্ত্র ছিল। সারাদিন তিনি গান শুনতেন। রেওয়াজ করতেন। তিনি নশ্বর দেহে আর নেই, কিন্তু আছেন সুরের ঠিকানায় আম বাঙালির হৃদয়ে। তাঁর কাছে বাঙালি অন্তহীন ঋণী। তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা।
*****
।। 'শাঁওলি মিত্র' ।।
(১৯৪৮ ― ১৯২২)
বিখ্যাত বাবা ও মায়ের সন্তান বিখ্যাত হন,ব্যতিক্রম দু'একটি ছাড়া। বাবা শম্ভু মিত্র, মা তৃপ্তি মিত্রের একমাত্র সন্তান শা়ঁওলি মিত্র মাত্র চুয়াত্তর বছরে হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে শবদেহ হলেন। সিরিটি মহাশ্মশান যখন ত়াঁকে ধারণ করল তখন ত়াঁর পাশে ছিলেন একমাত্র মানসপুত্র সায়ক চক্রবর্তী ও মানসকন্যা অর্পিতা ঘোষ। তাঁর তাই নির্দেশ ছিল ইচ্ছাপত্রে - "তাঁর শবদেহকে যেন অযথা ফুলের মালার বোঝা বইতে না হয়। দাহ হওয়ার পর যেন সবাই জানতে পারে।" এমন ইচ্ছা পিতা শম্ভু মিত্রের মত,এও যেন পিতার কাছ থেকে নির্দেশ পাওয়া। বাপের বেটি তো! এই নীরবে চলে যাওয়াটা আমাদের কাছে অনুভূত হল তিনি বড্ড অকালে চলে গেলেন। বারে বারে নিজস্ব পরিসরে বিশ্বাস নিয়ে গড়া সম্পর্কের ভাঙন শাঁওলি মিত্রকে একা করে দিত। শাঁওলি মিত্র আমাদের রিক্ত করে কোন পরপারে চলে গেলেন তাঁর স্পষ্টতম ও মিষ্টতম বাংলা বলাটিকে নিয়ে।
ঋত্বিক ঘটকের 'যুক্তি তক্ক আর গপ্প' চলচ্চিত্রে বঙ্গবালা চরিত্র দিয়ে যাত্রা শুরু। মঞ্চে প্রথম পদার্পণ রবীন্দ্রনাথের 'ডাকঘর' নাটকের অমল চরিত্র রূপায়ণ দিয়ে। আর দেখতে দেখতে বাংলা নাট্যমোদি দর্শকের কাছে তিনি শাঁওলির চেয়ে 'নাথবতী অনাথবৎ' নামে বেশী আদরনীয় হয়ে গেলেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ অভিনয় - 'নাথবতী অনাথবৎ'–এর শুরু তবলাতরঙ্গ বেজে ওঠা দিয়ে। বাজছে মন্দিরা, মৃদঙ্গ। মঞ্চে সার বেঁধে বসা জুড়ির দলের দিকে মুখটি ফিরে তিনি। একটা কালো কাঠের জলচৌকির ওপরে দুলছে একটা লম্বা বেণী। একটি আলতারাঙা পায়ের নূপুর তাল রাখছে ছন্দে। জুড়ির দল গান ধরেছে, গানের শেষে কথক ঠাকরুণ পেন্নাম করে বলে উঠলেন ‘‘এক অভাগিনী মেয়ের কথা! রানি, কিন্তু রানি নয়!
'নাথবতী অনাথবৎ’ -এ এমন কুশলী অভিনয় দেখে নাট্য রসবেত্তা মাত্রেরই মনে বিস্ময়ের ঢেউ আছড়ে পড়ে। এই নাট্যবাংলার ইতিহাসে পেশাদার রঙ্গালয়ের বাইরে একমাত্র ‘নীলদর্পণ’ ছাড়া এত সাড়া-জাগানো অভিনয় আর হয়েছে কিনা সন্দেহ! একবার এক ঘটনা ঘটেছিল - মা তৃপ্তি মিত্র হঠাৎ অসুস্থ। তখন তিনি কলকাতার বাইরে নাথবতীর এক নাট্যশো শেষে সেই অবস্থায় মেকাপ না তুলে মাকে দেখতে ছুটে এলেন। মেক আপ তোলার সময়টুকু পর্যন্ত দিতে চাননা,কারণ পরের শো আছে বলে।
আর 'ডাকঘর' মঞ্চাভিনয় করার সময়ও ঘটনা যা ভোলার নয় - ছোটবেলা খুব অসুখে ভুগতেন। একবার তিনি জ্বরে শয্যাশায়ী। মা তৃপ্তি মিত্র 'ডাকঘর' নাটক বিছানায় দিয়ে বললেন- "তোকে অমলের অভিনয় করতে হবে।" সেদিন সেই নাটকটি পড়ে ছোট্ট শাঁওলি খুব কেঁদেছিলেন। অমলের অভিনয়ে খুব সাফল্য পেয়েছিলেন। নাটকে ডেডিকেটরাই এমন ইতিহাস গড়ার সুযোগের সদ্ব্যবহার করে থাকেন। মেয়ে শয্যাশায়ী,ওই পারবে অমলের ভেতরটা দেখতে, এটাই তো মোক্ষম সময়।
তাঁর মঞ্চসফল অভিনয় যেমন - 'পুতুল খেলা', 'একটি রাজনৈতিক হত্যা', 'হযবরল', 'কথা অমৃতসমান', 'লঙ্কাদহন', 'পাগলা ঘোড়া', 'পাখি', 'গ্যালিলিওর জীবন', 'যদি আর একবার'।
সংগীত নাটকের জন্য অ্যাকাদেমিক পুরস্কার পান ২০০৩ এ,২০০৯ এ পদ্মশ্রী,২০১২ তে পান বঙ্গবিভূষণ। রাজনীতি থেকে শত যোজন দূরে থাকতেন। কিন্তু সিঙ্গুর ও নন্দীগ্রাম আন্দোলনের আন্যতম মুখ হয়ে উঠেছিলেন। মহাশ্বেতা দেবী চলে যাওয়ার পর বাংলা অ্যাকাদেমির তিনি দায়িত্ব নিয়েছিলেন। আবার একসময় স্বেচ্ছায় দায়িত্ব ছেড়েও দেন। তাঁর সম্পর্কে সফল মঞ্চাভিনেত্রী ও জাতীয় পুরস্কারে ভূষিতা সুদীপ্তা চক্রবর্তী এই অকাল প্রয়াণকে ঘিরে স্মৃতিচারণা করতে গিয়ে বলেছেন - "অনেক আদর পেয়েছি। অনেক ভালবাসা। আদর করে কত কি খাইয়েছিলেন। আমি তাঁর বন্ধু বিপ্লবকেতন চক্রবর্তীর মেয়ে! অনেক কিছু শিখেছি। মঞ্চাভিনয়ের খুঁটিনাটি। অবাক চোখে তাকিয়ে দেখেছি ত়াঁর অভিনয় সেই ছোট্টবেলা থেকে। আমার নাটক দেখে ফোন করে খুব প্রশংসা করেছিলেন। আনন্দে কেঁদেই ফেলেছিলাম। বড় হয়ে একসঙ্গে সিনেমায় একটা কাজ করার আর্জি নিয়ে গিয়েছিলাম। রাজি হননি। তাই আর একসঙ্গে কাজ করার বা একদম সামনে থেকে অভিনয় দেখার সৌভাগ্য হল না।" আর সেই সাথে বাংলা নাট্যমোদি দর্শকও বাঁচবে শুধু 'নাথবতী আনাথবৎ'-এর স্মৃতি নিয়ে। বাংলার নাট্যমোদী দর্শকের হৃদয়ে চির অম্লান। চির ঋণী। তাঁকে বিনম্র শ্রদ্ধা।
*****
।। বাপি লাহিড়ী ।।
(১৯৫২ ― ২০২২)
সত্তরেই সঙ্গীত দুনিয়া হারাল তার ঝকঝকে তাজা তরুণ বাপি লাহিড়ীকে। তরুণই তো। সত্তর কোনো বয়স নাকি! গান শুনতে শুনতে যখন সকলে প্রবল উন্মাদনায় মত্ত, হঠাৎ জীবনের মঞ্চ ছেড়ে যাওয়া,আর গানের মঞ্চে সুর তাল থমকে গেলে দর্শককে যেমন বিমর্ষতা গ্রাস করে এও তাই― অকাল বিদায় কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী বাপির জন্য সমান বিমর্ষ।
বাবা অপরেশ লাহিড়ী ও মা বাঁশরী লাহিড়ী দুই গুনী শিল্পীর সন্তান বাপি লাহিড়ী। স্বনামধন্য হবেন এ আর বিচিত্র কি। কিন্তু স্বনামধন্য হতে কম কাঠ খড় পোড়াতে হয়নি। বাবার গলদঘর্ম পরিশ্রম ছিল। সে পরিশ্রম বৃথা যায়নি, কারণ পিতা বুঝতেন গুনের কদর। মাত্র চার বছরে ভাল তবলা বাজাতেন বাপি। গুরু সামতাপ্রসাদ। তারপর একে একে পিয়ানোসহ বেশ কিছু বাদ্যযন্ত্রে খুব দক্ষ হয়ে ওঠেন। ১৯৬৪ তে মাত্র তের বছর বয়সে বাবার গানে সুর করলেন বাপি। এর পর এল ১৯৬৮ তে 'দাদু' ছায়াছবিতে সঙ্গীত পরিচালনার সুযোগ। এই ছবিতে আরো অনেকে ছিলেন সঙ্গীত পরিচালক,যেমন কালীপদ সেন,অনিল দত্ত সুবোধ রায় প্রমুখ। এর পর ১৯৭২ এ 'জনতার আদালত' ছবিতে এককভাবে সঙ্গীত পরিচালনা করলেন,যাতে গান গাইলেন অপরেশ লাহিড়ী ও বাঁশরী লাহিড়ী,এস প্রসাদ ও অমর পাল। কিন্তু বাবার কাছে মনের মত প্রত্যাশিত খ্যাতি আসছিল না দেখে বোম্বাই নিয়ে গেলেন। শুরু হল নতুন পর্ব। বাবার ছেলের জন্য খুব পরিশ্রম করলেন। কেননা বাপির প্রতিভার প্রতি বাবার অগাধ আস্থা ছিল বলে। আর সেই সূত্রে অচিরে ফল এল গানের কম্পিজিশন ঝোঁক থেকে। ১৯৭৩ এ প্রথম 'নানহা শিকার' হিন্দি ছবিতে সুরারোপ করলেন। ১৯৭৪ এ 'এক লড়কি বদনাম সি' ছবিতে কিশোরকুমার ও লতার গলায় – "রহে না রহে চাহে হাম অওর তুম...", ১৯৭৬ এ 'দিল সে মিলা দিল' ছবিতে – "ইয়ে ন্যায়না ইয়ে কাজল...", ১৯৭৭ এ 'আপ কি খাতির' ছবিতে– রবীন্দ্রসঙ্গীত "ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে.." গানটির আদলে লতার গলায় গাওয়ালেন ― "রাজা মেরে তেরে লিয়ে...", ১৯৭৮ তে 'কলেজ গার্ল' ছবিতে কিশোরকুমারের গলায় গাওয়ালেন ― "পেয়ার মাঙ্গা হ্যায় তুমহি সে...", ১৯৭৯ তে 'মনোকামনা' ছবিতে নিজেই গাইলেন ― "তুমহারা পেয়ার চাহিয়ে...", ১৯৮১ তে 'জোস' ছবিতে আশা ভোঁশলেকে দিয়ে গাওয়ালেন ― "সব কুছ তো হ্যায়..." ইত্যাদি। এ তো গেল সঙ্গীত পরিচালক হিসেবে বাপির জনপ্রিয়তার কথা।
এর পর বাপি লাহিড়ীর হাত ধরে এল ডিস্কো জমানা। ১৯৮২ তে 'ডিস্কো ড্যান্সার' দিয়ে শুরু। সে এক উন্মাদনা বলে উন্মাদনা! একই ঘরানার 'ড্যান্স ড্যান্স' ছবিটিও। ঊষা উত্থুপের গলায়― "হরি ওম হরি..",সালমা আগার গলায় – "ঝুম ঝুম ঝুম বাবা..." সঙ্গীত পরিচালনার সে এক নতুন যুগ। 'নমক হালাল' ছবির কিশোর কন্ঠে ― "পগ ঘুঙ্গরু..." - এতে কাওয়ালির বিচিত্র প্রয়োগ লক্ষনীয়। এই ছবিতে আশা ভোঁশলের গলায় ―"জওয়ানি জানেমন..." আবার অন্য আঙ্গিকে। 'শরাবি' ছবিতে – "দে দে পেয়ার ...",গুন্ডে' ছবির ― "তু নে মারি এন্ট্রিয়াঁ...", 'ডার্টি পিকচার'- এ "উলাল্লা উলাল্লা..." বাপি জনপ্রিয়তায় অপ্রতিদ্বন্দ্বী। ১৯৮১ তে বিভূতি মুখোপাধ্যায়ের কথায় নিজের সুরে যে গানটি ― "আমি বিশ্বাস করি সঙ্গীতে/ তাই বিশ্বাস করি ভগবান/আমি এই পৃথিবীতে জন্মে জেনেছি /সঙ্গীত জীবনের আরেক নাম..." এটাই তাঁর জীবনের যেন মূলমন্ত্র। সঙ্গীত সম্পর্কে আসল উপলব্ধি। তিনি সমগ্ৰ দেশের স্বনামধন্য, বাঙালির জন্যও। তাঁকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা। বিদেহী আত্মার রইল শান্তি কামনা।
*******
কোন মন্তব্য নেই:
একটি মন্তব্য পোস্ট করুন