রবিবার, ১ মে, ২০২২

মে দিবস(সুদেষ্ণা দত্ত)

 


মে দিবস(সুদেষ্ণা দত্ত)

মে দিবস–অর্থাৎ শ্রমিক দিবস(১লা মে)।শ্রমিকরা নানা দাবিদাওয়া ও অধিকার আদায়ের জন্য নানা কর্মসূচি গ্রহণ করেছিলেন।বিশ্বের আপামর শ্রমিককে শ্রদ্ধা নিবেদনেই আজকের এই দিনের মাহাত্ম্য লুকিয়ে আছে।শ্রমিক দিবসের গুরুত্ব,কেন এই দিনের নির্বাচন এসব মাথা ভারী করা লেখনীর ভার আমার কলম বইতে পারবে না।তাই সে গতিপথ পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

            যিনি শ্রম দান করেন,তিনিই শ্রমিক।প্রত্যেকের নিজের মত করেই কিছু চাহিদা,আশা থাকে।আকাশের বুকে সজল মেঘ বৃষ্টির ভার বয়ে বারি ধারা ঝরে স্নিগ্ধ করে আমাদের।পাহাড় তার বুকে নদীকে বয়ে বেড়ায়।বৃক্ষ ফল দান করে আমাদের খাদ্যভান্ডার সমৃদ্ধ করে।ফুল দান করে,করে প্রকৃতির সৌন্দর্যায়ন(বানান নিল না)।কিন্তু সেই বৃক্ষের মালিকানা যে আমাদের তাই ছেদনেও পড়ে না চোখের দু’ফোঁটা জল,নেই শাস্তির বিধান!কেউ দেয় উষ্ণতা,কেউ দেয় শীতলতা।কিন্তু মা-বাবা বা গুরুজনদের অবজ্ঞা করলে যেমন ভবিষ্যতে পস্তাতে হয়,তেমনই এই প্রকৃতির বিরুদ্ধাচরণ করলে সেও ধারণ করে ভয়াল রূপ।তার নেই কোন অর্থ বা স্বার্থের দাবি।তার দাবি খুব কম,তুমি আমায় এক বিন্দু দিলে,আমি তোমায় এক কাঁড়ি দিয়ে ভরিয়ে দেব।কিন্তু হায়...

              দেহের অনেক অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ অনেক সময় বিশ্রাম পেলেও,একবার ভাবুন হৃৎপিন্ড যদি আট ঘণ্টা কাজের দাবি জানাত,আমাদের কী অবস্থা হত।কিন্তু আমরা অতিরিক্ত তেল-মশলা খেয়ে,ব্যায়াম বর্জন করে তার প্রতি বিমাতৃসুলভ আচরণ করি।তখন সেও অবাধ্য সন্তানের মতই সময়ের আগেই তার ঘড়ি ঘরে তালা ঝুলিয়ে দেয়।

              নারী-তিনি যখন মা বা স্ত্রী বা সন্তান,পরিবারের ধারণকারিণী,পুরুষ-তিনি যখন সন্তান,বাবা বা স্বামী পরিবার বহনকারী-কখনও হয়তো নদীর মজে যাওয়ার মতই এই সম্পর্কেও পলি পড়ে।কিন্তু অনেকসময়ই স্নেহ,মমতা,ভালবাসা,কর্তব্য দিয়ে সংসার তটিনীকে এগিয়ে নিয়ে যায় দাবিহীন।শুধু দাবি একটু ভালবাসা-সহানুভূতির।যে কোন ক্ষেত্রে একে অপরকে বুঝলে বোঝা না হয়ে বোঝাপড়া সহজ হয়।মালিক-শ্রমিক না ভেবে সকলের তরে সকলে আমরা ভাবলে বোধহয় শ্রমিক দিবসের প্রয়োজন হয় না।

 

©কপিরাইট রিজার্ভড ফর সুদেষ্ণা দত্ত।

ছবি-সংগৃহীত

৪টি মন্তব্য:

  1. অসংখ্য ধন্যবাদ এমন লেখনীর জন্য👍

    উত্তরমুছুন
  2. খুব সুন্দর .... মন ছুঁয়ে গেলো..

    উত্তরমুছুন
  3. ছোট্ট পরিসরে মধ্যে অনেক গভীর কথা লিখলে তুমি সুদেষ্ণা।এইরকম সংবেদনশীল মন নিয়ে পারস্পরিক সম্পর্ক গুলি যদি আমরা পরিচর্যা করতে পারতাম তাহলে বোঝাপড়া সত্যিই অনেক সহজ হয়ে যেত।আশীর্বাদ রইল।

    উত্তরমুছুন
  4. দুঃখিত।পরিসরের মধ্যে।

    উত্তরমুছুন

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল✍️ ডা: অরুণিমা দাস

শিরোনাম - সোশ্যালি আনসোশ্যাল ✍️ ডা: অরুণিমা দাস বর্তমানে অতিরিক্ত কর্মব্যস্ততার কারণে একটু বেশি সময় কাজে দেওয়ার জন্য হয়তো একের প্রতি অন্য...